14/05/2022
19 Century Novel
Jane Eyre
Charlotte Bronte
4Th Year
এই উপন্যাসের মূল চরিত্র হচ্ছে জেন আইর। এই উপন্যাসটি যখন শুরু হয় তখন তার বয়স ১০ বছর। তার মামার মৃত্যুর পরে, মৃত মামার শেষ ইচ্ছা মতে, তাকে তার মামি এবং মামাতো ভাই বোনদের সাথে বসবাস করতে দেখা যায়।
জেন আইর ছিলেন একজন অর্ফান অর্থাৎ তিনি এতিম ছিলেন। তার জন্মের পর তার বাবা-মা টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।এরপর তার মামা মিস্টার রেড তাকে গেটসেড হল অর্থাৎ তার মামার বাড়িতে নিয়ে আসেন। ওই বাড়িতে একমাত্র তার মামাই তার প্রতি সিমপ্যাথেটিক ছিলেন। জেনের মামা মারা যাওয়ার পর তার মামি সারা রেড তার উপর নির্মম অত্যাচার করত কারণ তিনি জেনকে একদমই পছন্দ করতেন না এবং তিনি তাকে বোঝার মত ট্রিট করতেন। তার সন্তানদেরকে তিনি জেনের সাথে মিশতে দিতেন না। তার মামি এবং মামাতো ভাই বোনরা (এলিজা রেড, জর্জিয়ানা রেড, জন রেড) জেনের সাথে খুব খারাপ আচরণ করত। একমাত্র ওই বাড়িতে ব্রেছি নামক একটা মেড সার্ভেন্ট জেনের প্রতি একটু সহানুভূতি দেখায় কিন্তু সেও সুযোগ পেলে জেনের সাথে খারাপ আচরণ করত। গেটসেড হলে একটা ডল ও কিছু বইয়ের সাথে জেনের সময় কাটত।
একদিন জেনের মামি জেনকে শাস্তিস্বরূপ যে রুমে তার মামা মারা গিয়েছিল, সেই রুমে আটকে রাখেন। এতে করে জেন বেশ ভয় পায় এবং সে দাবি করে সে তার মামার ভূত দেখতে পেয়েছে ,এই বলে সে মূর্ছা যায়।
লয়ড নামক একজন ওষুধ বিক্রেতার সাথে জেন গেটসেড হলে তার দুরবস্থার কথা জানায়। যার ফলে সে ওষুধ বিক্রেতা জেনের মামীর সাথে কথা বলেন এবং বলেন যে জেনকে স্কুলে দেওয়া দরকার। তার মামি বেশ খুশি হয়েই সেই ওষুধ বিক্রেতার কথামতো , মিস্টার ব্রোকলিঃহারস্টের সহায়তায়, জেনকে লো উড স্কুলে ভর্তি করে দেন। এই ব্রোকলিঃ হারস্ট ছিলেন লো উড স্কুলের ম্যানেজার। তিনি এই স্কুলের সব কিছুই দেখাশোনা করতেন। তিনি ছিলেন নিষ্ঠুর প্রকৃতির একটা লোক। জেনের মামি তাকে বলেছিলাম জেন একজন প্রতারক এবং সেই সাথে জেন মাঝে মাঝে মিথ্যা কথা বলে। এই কথা শোনার পরে জেন তার মামি কে বলেছিল," সে কখনোই আর তাকে মামী বলে ডাকবে না ,এমনকি সে লো উড স্কুলের সবাইকে বলবে তার মামি এবং মামাতো ভাই বোনেরা তার উপর কি নিষ্ঠুর আচরণ করেছিল"। লো উড স্কুলে জেন আরেকটা নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হল। ওই স্কুলে মোট ৮০ জন মেয়ে লেখাপড়া করতো। তাদের সবাইকে পাতলা কাপর, খুবই নিম্নমানের খাবার, আর কোল্ড রূমে থাকতে দেওয়া হতো। এতে করে প্রতি বছরই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই মারা যেত। জেন লো উড স্কুলে হেলেন Burns নামক তার থেকে কিছুটা বড় একজনের সাথে বন্ধুত্ব করেছিলাম। এবং তাকে সহায়তা করত মিস টেম্পেল নামক ওই স্কুলের একজন সুপারিনটেনডেন্ট। ওই স্কুলে যেহেতু প্রায়ই টাইফয়েড প্রাদুর্ভাবে অনেকে মারা যেত, সেহেতু একদিন হেলেন Burnsও টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জেনের কাঁধে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরলো। এর পরে ছয় বছর ছাত্র জীবন এবং দুই বছর টিচার হিসেবে লো উড স্কুলে থাকার পর, জেন সিদ্ধান্ত নিল নতুনভাবে তার জীবনটা সে অনুসন্ধান করবে। যেহেতু মিস টেম্পেল বিয়ে হওয়ার পর অন্যত্র চলে যায় সেহেতু তার করা গভারনেসের চাকরিটা সে জেন দিয়ে যায়। গভর্নেস এর চাকরিটা করবার জন্য জেন Thornfield Hall এ যায়। সেখানে এডেল ভ্যারেন্স নামক একজন এতিম মেয়েকে সে শিক্ষা দিতে থাকে। একদিন তার সাথে আলাপ হয় Thornfield Hall এর মালিকের সাথে। যার নাম এডোয়ার্ড ফেয়ারফ্যাক্স রচেস্টার। তাদের দুইজনের আলাপ হওয়ার পর তারা একসাথে অনেকগুলো সন্ধ্যা কাটায়।একদিন রচেস্টারের বাসায় আগুন লেগে যায় ওই সময় জেন তাকে বাঁচায় , এর পরে জেন রচেস্টারের প্রতি তার একটা অনুভূতি টের পাই। সে বুঝতে পারে সে রচেস্টারের প্রেমে পড়েছে। এর কিছুদিন পরে রচেস্টার দূরবর্তী একটা পার্টির উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়। এবং বেশ কিছুদিন পরে সে হোল পার্টি নিয়ে ফিরে আসে। যার ভিতর একটা মেয়ে ছিল যার নাম ব্লান্স ইনগ্রাম। যখন জেন দেখল রচেস্টারের সাথে ব্লান্স বেশ ঘনিষ্ঠ সময় কাটাচ্ছে তখন জেন ব্লান্সকে হিংসা করতে থাকে। কারণ ব্লান্স ছিল অনেক নিষ্ঠুর প্রকৃতির একটা মায়ে , হার্ট বলে তার কিছু ছিল না এবং সে নিজেকে অনেক ধনী ভাবত, প্রকৃতপক্ষে সে একদমই ধনী ছিল না।
জেন একদিন তার মামীর একটা চিঠি পাই। যেখানে সে জানতে পারে তার মামি স্ট্রোক করেছে এবং তার মুমূর্ষ অবস্থায় সে জেনকে ডাকছে। জেন তার মামিকে দেখার উদ্দেশ্যে আবারো গেটসেড হলে ফিরে যায়। সেখানে ফিরে সে তার চাচা জন আইরের কথা জানতে পারে। সে তার মামীর কাছে এও জানতে পারে যে, তার চাচা তাকে তার চাচার কাছে ফিরে যেতে বলেছেন এবং তার সম্পত্তির মালিক হতে বলেছেন। কিন্তু তার মামি তার চাচিকে জানাই জেন অনেকদিন আগেই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে লো উড স্কুলে মারা গিয়েছে। এর কিছুদিন পরেই তার মামি মারা যান। তারপর তার মামীর অন্তষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবার পর জেন আবারও Thornfield Hall এ ফিরে আসে। এরপর যখন সে রচেস্টারের সাথে আবারো মিট করে তখন রচেস্টার তাকে বলে, সে কতখানি তাকে মিস করেছে, তার অবর্তমানে এবং এক পর্যায়ে রচেস্টার তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং জেন বেশ খুশিমনে তা একসেপ্ট করে নেয়।
রচেস্টার ও জেনের বিয়ের দিন যখন জেন বিয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল ওই সময় দেখা যায় কেউ একজন তার বিয়ের ওড়নাটা ছিড়ে দুই ভাগ করে ফেলেছে। এবং বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কিছুক্ষণ আগে মিস্টার মেশন নামক একজন আইনজীবী এসে বলে যে রচেস্টার পুনরায় বিয়ে করতে পারবে না কারণ পূর্বে তার একবার বিয়ে হয়েছিল তার বোন বার্থা মেশনের সাথে। এই ঘটনা শোনার পর জেন আর রেজিস্টারকে বিয়ে করতে চায় না। যদিও রচেস্টার তাকে বলেছিল চলো আমরা ফ্রান্সের দক্ষিণ দিকে চলে যায়। এবং সেখানে আমরা হাজবেন্ড ওয়াইফ এর মতো জীবন যাপন করি। কিন্তু জেন সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এবং ওই দিনই মাঝ রাতে যতটা সম্ভব দূরে চলে যায়। পথিমধ্যে সে তার জমানো সবটুকু টাকা হারিয়ে ফেলে এবং শেষপর্যন্ত খাবার কেনার জন্য তার গ্লাভস ও রুমালকে বিক্রয় করতে চাই। কিন্তু কিন্তু সেগুলো সে বিক্রি করতে পারে না, আন সাকসেসফুল হয়!
এরপর খুবই ক্ষুধায় ক্লান্ত হয়ে মেরি ও ডায়ানা রিভার্সের বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়ায়। মেরি ও ডায়ানা রিভার্স হলেন দুই বোন। তাদের একজন ধর্মযাজক ভাইও ছিলেন যার নাম সেন্ট জন রিভার্স। মেরি ও ডায়ানার সাথে জেনের বেশ সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রথমদিকে জন রিভার্সের সাথে সে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখত। যখন মেরি ও ডায়না গভারনেসের চাকরি নিয়ে দূরে চলে গেল। তখন জন রিভার্সের সাথে জেনের একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জেন একপর্যায়ে জন রিভার্স এর কাছে জানতে পারে, তারা হলেন চাচাতো ভাইবোন অর্থাৎ জন আইরের ভাতিজা, ভাতিজী তারা।এবং জেন আরো জানতে পারে, জন আইর মৃত্যুর আগে তার জন্য ২০ হাজার পাউন্ড রেখে গিয়েছে এবং জেন সিদ্ধান্ত নেয় তারা সবাই মিলে সে অর্থ ভাগাভাগি করে নেবে কিন্তু তা আর হয়ে ওঠে না। জেনের সাথে ভালো সম্পর্কের সূত্র ধরেই জন রিভার্স জেনকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কারণ জন রিভার্স মনে করেছিল জেন একজন ভালো মিশনারি ওয়াইফ হবে এবং সে জেনকে তার সাথে ইন্ডিয়া ভ্রমণে যেতে বলে। কিন্তু জেন তার সাথে ইন্ডিয়াতে যেতে চাইলেও তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর জেন আবারো Thornfield Hall এ ফিরে আসে। এসে জানতে পারে রচেস্টার তার পূর্বের ওয়াইফ বার্থাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের একটি হাত ও একটা চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন(বার্তা রচেস্টারের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে নিজে আত্মহত্যা করে)। জেন রচেস্টারকে জানাই সে কখনো আর তাকে ছেড়ে যাবে না। এর ফলে রচেস্টার জেনকে আবারো বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং জেন তা একসেপ্ট করে নেয়।এই ঘটনার কিছুকাল পরে রচেস্টার ও জেনের একটি পুত্র সন্তান হয় এবং রচেস্টার তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবার কারণে তার পুত্র সন্তানকে দেখতে পায়।
It's all about Jane Eyre. Hope you all like it.