30/01/2024
ট্রান্সজেন্ডার
এক ধূর্ত শৃগাল চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে লেজ হারিয়ে তার শৃগাল স্বজাতির নিকট এসে বলল যে লেজ একটি বোঝা যা বহন করতে ঝামেলা। তাই তারা সবাই লেজ কেটে ফেলুক। বর্তমান পৃথিবীর পাশ্চাত্যের তথাকথিত সভ্য, ভদ্র সমাজের ঠিক এই শৃগালের মত অবস্থা। অনৈতিক অবাধ মেলামেশ, জেনা, ব্যবিচার সমকামিতা, বিবাহ বহির্ভূত অবৈধ সন্তান উৎপাদন এ হেন জঘন্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা তাদের পরিবার, সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করে ফেলেছে। তাই তারা পৃথিবীর অন্যান্য নৈতিক ও মানবতা সম্পন্ন জাতিকে ধ্বংস করার জন্য তাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। তাই তারা এখানে চালু করতে চাচ্ছে ট্রান্সজেন্ডার নামক এক অলৌকিক ও অদ্ভুত মতবাদ।
আমরা grammar বইয়ে পড়েছি gender চার প্রকার। যেমন, masculine, feminine, common ও neutral gender. Masculine ও famine gender এর মাঝে আর এক লিঙ্গ বর্তমান যেটাকে আমরা হিজড়া বলি। অবশ্য তাদের মাঝেও নারী-পুরুষের বিভাজন রয়েছে। হযরত আলী (রা) এর মত অনুযায়ী তাদের নারী পুরুষ বিভাজন করতে হবে তাদের লিঙ্গের মাধ্যমে।
কিন্তু এই ট্রান্সজেন্ডার আবার কোন জেন্ডার? এ এক অদ্ভুত মতবাদ। এ মতবাদ অনুযায়ী কোন পুরুষ নিজেকে যদি নারী বলে দাবি করে তাহলে সে নারী। আর যদি কোন নারী তাকে পুরুষ বলে দাবি করে তাহলে সে পুরুষ। পুরুষও সন্তান জন্ম দিতে পারে। কোন বালক বালিকা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী হরমোন ট্রিটমেন্ট করে অপারেশনের মাধ্যমে তাদের ইচ্ছা পূরণ করা যেতে পারে। বাংলাদেশেও নাকি এমনটি ঘটেছে। কিন্তু এটা আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী; দেশ ,জাতি ও সমাজ বিধ্বংসী। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, "লা তাব দিলা লিখলকিল্লাহ।" আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন তা পরিবর্তন করা যাবে না।
কিন্তু দুঃখের বিষয় পাশ্চাত্যের ভোগবাদীদের এটা এক অদ্ভুত বাসনা । তারা হঠাৎ যা ইচ্ছা, তাই করবে , উভয় লিঙ্গের স্বাদ গ্রহণ করবে। এমনটি করতে করতে একদিন হয়তো তারা আত্মহত্যার স্বাধীনতাও দাবি করবে। আর তাদের খেয়াল খুশি অনুযায়ী অন্য জাতির ঘাড়ে তা চাপিয়ে দিবে। প্রকৃতপক্ষে, এদের নজর বৈধ, রুচিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত জিনিসের পরিবর্তে অবৈধ অরুচিকর ও অশ্লীল জিনিসের প্রতি:
"পথভ্রষ্ট লোনা তাড়িখানায় করে সদা অবগাহন ,
চির স্বাস্থ্যকর মকরুদে কেমনে করিবে আস্বাদন? সুউন্নত অথচ ঈষৎ নোয়ানো সুচারু দ্বিচূড়ার
লাইসেন্স ছাড়া গিরিতে আরোহণে নৃত্যে করে উল্লাস।
মণিমুক্তা ,হিরা মানিক অমূল্য রত্ন করি পরিহার
গিরি নিম্ন সাগরে লোনা জলে মেটায় মনের পিয়াস।"
আমরা যদি অতীতের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো এরূপ অন্যায় কর্মের জন্য আল্লাহ আদ, সামুদ, নুহুর জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। সমকামিতার জন্য লুৎ আঃ এর জাতিকে সমূলে ধ্বংস করেন। সে Dead Sea এখনও বিদ্যমান। আল্লাহর রহমানুর রহিম। এখন এভাবে সম্পূর্ণ একটা জাতিকে ধ্বংস করা রহিত করেছেন। নহিলে এতদিন এরূপ জাতিকে আল্লাহ অবশ্যই ধ্বংস করে ছাড়তেন।
তাই এটাকে আর অধিক অগ্রসর না হওয়ার জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে, এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
কিন্তু কেন এই মতবাদ? কেনই বা এরূপ জঘন্য কর্ম ? কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী কী বা এর সমাধান? পরবর্তী পোস্টে এর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো, ইনশা আল্লাহ।