03/09/2021
#রক্তের_বিনিময়ে_আজান
[আজ বলছি ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাওয়া এক অনন্য ইতিহাস!]
সময়টা 1949 সালের 4 ফেব্রুয়ারি...
তুরস্কে তখন চলছিল স্বৈরাচারী আতার্তুক শাসন! যখন কোন ইসলামী নীতি বা আদর্শ, নিষিদ্ধকরণ ও শাস্তিযোগ্য হওয়া যেন প্রতিদিনের কাজ!
এমন করে হঠাৎ একদিন নিষিদ্ধ করা হল ইসলামের সবচেয়ে পাওয়ারফুল বাক্য আজান কে !
কিন্তু তখন জনগণের কিছুই করার ছিলনা, কারণ মোস্তফা কামাল আতার্তুক ছিল তখনকার সবচেয়ে বেশি ইসলাম বিদ্বেষী !
যেখানেই কাউকে আরবিতে আযান দিতে দেখা যেত, তাকে সরাসরি জনসম্মুখে শাস্তি দেওয়া হতো,
তবে ৪/২/১৯৪৯ এর সকাল বলে ভিন্ন কথা ....
তুরস্কের পার্লামেন্ট, কানায় কানায় লোকে লোকারণ্য, সবাই যে যার মতো করে উপস্থাপন করছে নিজেদের বিষয় ,
হঠাৎ এক কোন থেকে ভেসে উঠলো আযানের ধ্বনি! তাও আবার আরবিতে বলিষ্ঠ কণ্ঠে!
তাকে যতই বলা হচ্ছিল তোমার শাস্তি কিন্তু ভয়াবহ হবে ? তার আওয়াজ যেন ততই বৃদ্ধি পাচ্ছিল !
যেই না আজান অর্ধেকে পৌঁছালো, সাথে সাথে একটি বুলেট ঝাঁঝরা করে দিল সে বীর মোয়াজ্জিনের বুক!
তারা মনে করেছিল, যাক আযানটা পূর্ণ হতে দেইনি!
কিন্তু না, অপর কোন থেকে আবার ভেসে উঠলো বাকি আজানের বাক্যগুলো আরো বলিষ্ঠ কণ্ঠে....
হা কিছুক্ষণ পর আরেকটি বুলেট তার বুক ও ঝাঁঝরা করে দেয়, তবে সে আজান অপূর্ণ রাখেনি ...!
জানেন রক্তের বিনিময়ে আযানের ধ্বনি কারা উচ্চারণ করেছিলেন ?
প্রথম জন ছিলেন মহাবীর এরতুগ্রুলের রক্তের উত্তরসূরী, আঙ্কারার স্টেট রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা “মুহিদ্দীন এরতুগ্রুল” !
তিনি ভেবেছিলেন, আজ যদি আমি কারো ভয়ে আজান থেকে বিরত থাকি, তাহলে তা হবে আমার পূর্বপুরুষের রক্তের সাথে বেঈমানি !
দ্বিতীয় জন ছিলেন...
জুবোকের সালফাসোল গ্রামের "ওসমান ইয়াজ" তিনি আবারো প্রমান দিয়েছিলেন তুরস্কের উসমান রা কখনো চুপ থাকতে শিখেনি !
আজান নিয়ে কেন এত আগ্রহ জানেন?
কারণ আজান একমাত্র বাক্য যা আল্লাহ তাআলা সরাসরি বান্দার কাছে বান্দার কাছে প্রেরণ করছেন স্বপ্নযোগে ...
হাঁ ইসলামের সবচেয়ে পাওয়ারফুল বাক্য হচ্ছে আজান!
এবং এর মধ্যে ইসলামের সব ধারা প্রবেশ করেছে,...!
আর এর মুগ্ধতার কথা কি বলবো
আজও যখন কোন কারণে মন খারাপ হয়, আমি মক্কার আজান শুনি, মুহূর্তেই বিষাদে ভরা হৃদয় শান্ত শ্লিষ্ট হয়ে প্রশান্তিতে ভরে যায়....!
ইতিহাস সুত্র:
1️⃣ Cumhuriyet, February 5, 1949 ;
2️⃣ TBMM Tutanak Dergisi,
February4, 1949,
3️⃣Period 8, Meeting 3, vol. 16
....
মুহাম্মাদ মিসবাহুল হক মেরাজী
(পেইজ থেকে)
২৪/১/১৪৪৩ হি.
সকাল ৭:১৯ মি.
𝑪𝒐𝒑𝒚 𝒏𝒐𝒕 𝒂𝒍𝒍𝒐𝒘𝒆