11/05/2026
জামার হাতা, প্যান্ট গুটিয়ে নামাজ পড়া কি মাকরুহ, হারাম নাকি জায়েজ?
**********
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা্ করতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে নির্দেশিত হয়েছিলেন। (অঙ্গ সাতটি হল) কপাল দু’ হাত, দু’ হাঁটু ও দু’ পা।
- সহিহ বুখারী ৮১০, ৮১২, ৮১৫, ৮১৬; মুসলিম ৪৩/৪৪, হাঃ ৪৯০, আহমাদ ২৫৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭২।
রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘সালাতের মধ্যে যদি কেউ কাপড় গুটান, তাহলে এই কাজ তাঁর জন্য মাকরুহ, অপছন্দনীয়, এটি জায়েজ নেই।
- মুত্তাফাক্ব আলাইহ, বুখারী হা/৮০৯, ১/১১২ পৃঃ, (ইফাবা হা/৭৭২, ২/১৩৬ পৃঃ); মুসলিম হা/১১২৩; মিশকাত হা/৮৮৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৮২৭, ২/২৯৭ পৃঃ।
ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ছালাতের মধ্যে টাখনুর নীচে কাপড় পরে, সে হালালের মধ্যে আছে, না হারামের মধ্যে আছে তা আল্লাহর যায় আসে না’ । উক্ত হাদীছে টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে ছালাত আদায়কারী মুছল্লীর জন্য সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে।
- আবু দাঊদ, হা/৬৩৭, ১/৯৩ পৃ., সনদ ছহীহ; আওনুল মা‘বূদ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৪০।
যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে কাপড় পরবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেন না এবং তাকে পবিত্র করবেন না; বরং তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।
- মুসলিম হা/৩০৬, ১/৭১ পৃঃ; মিশকাত হা/২৭৯৫; আবুদাঊদ, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৪৩৩২।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কাপড় (প্যান্ট, পায়জামা বা লুঙ্গি) সর্বদা টাখনুর ওপরে পরা আবশ্যক। এটি কেবল নামাজের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের সব সময়ের বিধান। তবে নামাজের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা হলো—প্যান্টের নিচের অংশ বা জামার হাতা কোনো অবস্থাতেই গুটিয়ে বা ভাঁজ করে রাখা যাবে না। নামাজে দাঁড়ানোর আগেই পরনের পোশাক স্বাভাবিক করে নিতে হবে; কারণ কাপড় গুটিয়ে বা ফোল্ড করে (যাকে হাদিসের পরিভাষায় ‘কাফ্ফুস সওব’ বলা হয়) নামাজ পড়া মাকরূহে তাহরিমি।
এমনকি ওজু করার পর রাকাত পাওয়ার তাড়াহুড়োয় যদি কেউ হাতা গুটানো অবস্থায় নামাজে শরিক হয়ে যান, তবে নামাজের ভেতরেই 'আমলে কলীল'-এর মাধ্যমে (এক হাত ব্যবহার করে ধীরে ধীরে) হাতা ঠিক করে নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, কাপড় গুটিয়ে নামাজ পড়া যেমন অনুচিত, তেমনি টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়াও নিষিদ্ধ। তাই সর্বোত্তম উপায় হলো, কাপড় বা প্যান্ট দর্জি দিয়ে বানানোর সময় থেকেই টাখনুর ওপরে রাখা, যাতে নামাজের সময় নতুন করে তা গুটানোর প্রয়োজন না পড়ে। যারা কেবল নামাজের সময় প্যান্ট গুটিয়ে রাখেন কিন্তু অন্য সময় টাখনুর নিচে পরেন, তাদের এই অভ্যাসটি পরিবর্তন করা জরুরি।