Road to Inspiration

Road to Inspiration

Share

Road to Inspiration

12/21/2025

you’re still here.
Sometimes life gets heavy. Sometimes the world feels loud. And sometimes… you just feel tired. #















12/01/2021

দীর্ঘ দশ বছর সংসারের পর ঈশিতা জানতে পারল তার স্বামী সাখাওয়াত তাকে কোনও দিনই ভালবাসেনি। শুধুমাত্র দায়িত্বের খাতিরে এতদিন ধরে সংসার করে গেছে। আজ সাখাওয়াত তাকে এ কথা নিজ না মুখে বললে হয়তো সে কখনোই জানতে পারত না।

ঈশিতা গ্রামের মেয়ে। সুন্দরী, সরল মনের। বউ হিসেবে আদর্শ। তাই পার্শ্ববর্তী গ্রামের মোড়লের মেয়ে ঈশিতাকে যখন সাখাওয়াতের বাবা আলমগীর ভুঁইয়া দেখেন, তখনই মনে মনে ঠিক করে রাখেন এই মেয়েকেই তিনি বাড়ির বউ করে আনবেন। করেনও ঠিক তাই।

ঈশিতার শাশুড়ি নেই। তিনি মারা যান যখন সাখাওয়াতের বয়স আট বছর। শশুড় এখনো গ্রামেই থাকেন। বিয়ের কিছুদিন পরপরই সাখাওয়াত তার স্ত্রী ঈশিতাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসে। তখন থেকে ঢাকায়ই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে তারা। বিয়ের প্রথম থেকেই শাখাওয়াত তেমন একটা যত্নশীল ছিল না ঈশিতার প্রতি। কিন্তু ঈশিতা ব্যাপারটাকে কখনো আমলে নিত না। কিংবা বুঝতে পারত না। ভাবত তার স্বামী একটু ইন্ট্রোভার্ট টাইপের। তাই হয়তো বেশি মাখো-মাখো সম্পর্ক পছন্দ করে না। এছাড়া শাখাওয়াত তো স্বামী হিসেবে তার সব দায়িত্ব পালন করছেই। তাকে খাওয়াচ্ছে, পরাচ্ছে, অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখাচ্ছে। আবার তাদের দু'মেয়ের কাছেও তো সাখাওয়াত একদম আদর্শ পিতা। কিন্তু সেটা যে নেহাৎ দায়িত্বের খাতিরে। সেখানে ঈশিতার প্রতি কোনও ভালবাসা ছিল না। সেটা হয়তো ঈশিতা তখন বোঝেনি কিংবা বুঝতেই চায় নি।

কিন্তু বর্তমানে ঈশিতার টনক নড়েছে। কিছুদিন যাবৎ সে খেয়াল করছে সাখাওয়াত তাকে কেমন এড়িয়ে চলে। কথাবার্তা আগের থেকে কমিয়ে দিয়েছে অনেক। বাসায় রাতে খুব দেরিতে ফেরে। তবুও বোকা ঈশিতা নিজের মনকে স্বান্তনা দেয় নানান অজুহাতে। অফিসে কতো কাজ সাখাওয়াতের! সারাদিন খুচরো আলাপ করার মতো তার এতো সময় কোথায়?

সেদিন রাতে ঈশিতা ঘুমিয়েছিল। সাখাওয়াত তাকে হঠাৎ কেন যেন ডাকতে লাগল। ঈশিতা মরার মতো পরে পরে ঘুমোচ্ছে। চারদিকের খবরে তার কোনো হুশ নেই। বাধ্য হয়ে সাখাওয়াত তাকে সজোরে ধাক্কা দিল। তাকে আজ ঈশিতাকে সব জানাতেই হবে। অনেকদিন হয়েছে। অনেক সহ্য করেছে সে। আর নয়।
ধাক্কায় কাজ হলো বোধহয়। ঈশিতার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে ঘুমে ঢুলুঢুলু হয়ে কিছুটা উচ্চস্বরে জিজ্ঞেস করল, 'কিছু লাগবে তোমার? খিদে পেয়েছে?'

সাখাওয়াতের প্রায়ই মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়। তখন তার ভীষণ খিদে পায়। কিছু না খাওয়া পর্যন্ত পুনরায় ঘুমোতে পারে না। তখন ঈশিতা ঘুম থেকে উঠে তার জন্যে হালকা কিছু রান্না করে আনে। খেয়ে সাখাওয়াত ঘুমিয়ে পরলে ঈশিতা আবার ঘুমিয়ে পরে।
তাই সে ভাবল হয়তো সাখাওয়াতের খিদে পেয়েছে। তাই মাঝরাতে ডাকছে।

তাদের ছয় বছরের জমজ মেয়ে দুটি পাশের রুমে ঘুমোচ্ছে। পাছে ওদের ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটে তাই সাখাওয়াত স্ত্রীকে ধমকে উঠল। 'আস্তে কথা বলো। ইরা, নীরার ঘুম ভেঙ্গে যাবে।'

স্বামীর ধমকে ঈশিতা চুপসে গেল। সে গলার স্বর যথাসম্ভব নামিয়ে বলল, 'এত রাতে ঘুম ভাঙ্গালে যে? কিছু লাগবে? তেষ্টা পেয়েছে? পানি এনে দেবো?'

' না।' শাখাওয়াত শান্ত স্বরে জবাব দিল।

ঈশিতা পুনরায় জিজ্ঞেস করল, 'তাহলে! কিছু বলবে?'

সাখাওয়াত উত্তরে শুধু উপর নিচ আলতো করে মাথা ঝাঁকাল। সে বুঝতে পারছে না কোত্থেকে শুরু করবে। যতোই হোক এতগুলো বছর এক ছাদের নিচে থেকেছে তারা! এখন হুট করেই তো আর বলে দেওয়া যায়না, আমি তোমার সঙ্গে আর সংসার করতে পারছি না আমার ডিভোর্স চাই।

'ব্যালকনিতে চল।' সাখাওয়াত হনহন করে ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। ঈশিতা স্বামীর পেছন পেছন ব্যালকনিতে গেল।

দখিনা বাতাসে একটা লম্বা দম নিল সাখাওয়াত। তারপর রেলিং এ হাত রেখে বলতে শুরু করল, ' ঈশিতা তুমি তো জানো আমি তোমাকে শুধুমাত্র বাবার ইচ্ছেতে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু তুমি হয়তো জানো না আমার একজন প্রেমিকা ছিল। তাকে আমি খুব ভালবাসতাম। ইভেন, এখনও বাসি। ওর নাম মীরা।'

সাখাওয়াত কথা থামাল। ঈশিতার প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য ওর দিকে তাকাল। দেখল ঈশিতা পাথরের মতো মুখ করে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। সেদিকে তাকিয়েই ঈশিতা সাখাওয়াতকে বলল, 'থামলে কেন?'

হয়তো ঈশিতার কথা আমলে নিয়েই সাখাওয়াত আবার বলতে শুরু করল। 'মীরার নামের সাথে মিল রেখেই আমি আমার দু'মেয়ের নামকরণ করি। তোমার আমার বিয়েটা হয়ে যাওয়ার পর মীরা আমার সঙ্গে সবরকমের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল রাগে,অভিমানে। পনেরোটা বছর আমাদের মধ্যে কথা-বার্তা, দেখা-সাক্ষাৎ কিছুই হয়নি। কিছুদিন আগে ও আমার নতুন কোম্পানিতে এমপ্লয়ি হিসেবে জয়েন করে। ও তখন জানত না ওটা আমার আন্ডারে। একপর্যায়ে আমাদের দেখা হয়। কথা হয়। আমি ওর কাছে ক্ষমা চাই। ও ক্ষমা করে দেয়। তারপর কীভাবে যেন আমাদের সম্পর্কটা আবার আগের মতো সহজ হয়ে যায়। ও এখনো বিয়ে করেনি। আমাকে ভুলতে পারেনি বলে। ও বলেছে আমি চাইলে ওকে বিয়ে করতে পারি। মীরা আমাদের মেয়ে দুটোকেও মায়ের আদর দিয়ে বড় করবে বলেছে। কিন্তু..।'

সাখাওয়াত ঈশিতার দিকে আবার তাকাল। দেখল ঈশিতা সেই আগের ভঙ্গিতেই সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। শুধু এবার অবিরাম বারিধারার মতো দু'চোখ দিয়ে টপটপ করে অশ্রু ঝরে পরছে ওর গাল বেয়ে। সাখাওয়াত কিছুক্ষন নির্বাক থাকল। ঈশিতা ঠান্ডা কন্ঠে বলল, 'কিন্তু কী?'

সাখাওয়াত ইতস্তত করে বলল, 'তোমার আমার মধ্যে যদি ডিভোর্সটা হয়ে যায় তাহলে।'

ঈশিতার দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগল। খোলা ব্যালকনিতে এতো বাতাস তবুও হাঁসফাঁস করতে লাগল একটুখানি নিশ্বাস নেবার জন্যে। কোনো কথাও যেন মুখ দিয়ে বেরোচ্ছে না। অনেক কষ্টে উচ্চারণ করল, 'আর যদি আমি তোমাকে ডিভোর্স দিতে রাজি না হই?'

সাখাওয়াতের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরল। এতদিন পর আবার ফিরে পেয়েছে তার পুরোনো ভালোবাসা মীরাকে। এখন যদি ঈশিতা ডিভোর্স দিতে রাজি না হয় তাহলে সাখাওয়াত মীরাকে নিজের করে পাবে কী করে!

সাখাওয়াত হাত জোড় করল ঈশিতার সামনে। 'প্লিজ ঈশিতা। আমি তোমার সামনে হাত জোড় করছি। আমার প্রতি যদি তোমার সামান্য মায়াটুকু থেকে থাকে তুমি সাইনটা করে দাও প্লিজ। একটু করুণা করো আমায়। ডিভোর্স পেপার আমি রেডি করিয়ে এনেছি। আলমারিতে রাখা আছে।'

ঈশিতা তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে হাসল। কিন্তু কিছু বলল না। সে চুপ করে আছে দেখে সাখাওয়াত আবার বলতে শুরু করল, 'বাবার কথা তুমি ভেবো না। আমি মীরার আর আমার বিয়ের পর বাবাকে ম্যানেজ করে নেব। এখন শুধুমাত্র তুমিই পারো আমাকে মুক্তি দিতে। আমি আর পারছি না নিতে। এই যন্ত্রনা থেকে আমাকে মুক্তি দাও! প্লিজ ঈশিতা! প্লিজ!' বলতে বলতে সাখাওয়াত ঈশিতার সামনে হাটু গেড়ে মেঝেতে বসে পরল।

ঈশিতা দৌড়ে ব্যালকনি থেকে বাথরুমে চলে এল। তারপর ছিটকিনি লাগিয়ে ঝর্না ছেড়ে দিল। পানিতে ভিজতে ভিজতে অঝোরে কাঁদতে লাগল। হয়তো পবিত্র পানি দিয়ে বুকের ভেতরকার জমা সবটুকু অপবিত্র কষ্টগুলো ধুয়ে ফেলতে চাইছে সে।

______________
সকাল পাঁচটা। রোজকার মতো জগিং করতে যাবার জন্য এলার্ম দিয়ে রেখেছিল সাখাওয়াত। ঘুম ভেঙ্গে গেলে বিছানা ছেড়ে উঠে পরল। দেখল বিছানায় ঈশিতা নেই। অন্য রুমে আছে ভেবে ওয়াশরুমে চলে গেল। চোখে-মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে যাবার জন্য প্রস্তুত হল।

পঁয়তাল্লিশ মিনিট জগিং করে ফিরে সাখাওয়াত ড্রয়িংরুমে এসে বসল। টিভিটা অন করে অভ্যাসবশত নিউজপেপারটা পড়ার উদ্দেশ্যে হাত বাড়াতেই দেখল পেপারের নিচে একটা চিরকুট। চিরকুটটা খুলল সাখাওয়াত। তাতে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা,

" মুক্তি নিবি
চল তোকে আজ মুক্তি দিলাম।
একা একা তুই যখনই দেখবি আকাশ,
দেখবি, আমিই তোর আকাশ ছিলাম! "

হাতের লেখাটা চিনতে অসুবিধা হল না সাখাওয়াতের। ঈশিতা প্রচন্ড কবিতা প্রেমী। রুদ্র গোস্বামী ওর সবচাইতে প্রিয় কবি। তাই হয়তো বিদায় বেলায় তার লেখা কবিতা লিখে রেখেই বিদায় জানিয়েছে। এটাই তো চেয়েছিল সাখাওয়াত। ঈশিতা চলে যাক তার জীবন থেকে। তবুও হঠাৎ চিরকুটটা পড়ে বুকটা এমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে কেন তার!

এতবছর একসঙ্গে সংসার করেছে তাই হয়তো অভ্যাসের কারনে এমন হচ্ছে। মনকে বুঝ দিয়ে বাচ্চাদের জাগিয়ে ব্রেকফাস্ট করালো সাখাওয়াত। তারপর স্কুলে দিয়ে অফিসে চলে গেল।

আজ কিছুতেই অফিসের কাজে মন বসছে না সাখাওয়াতের। কীসের জন্যে যেন মনটা বড্ড আনচান করছে। মীরা এর মধ্যে দু'বার ফোন দিয়ে ফেলেছে। সে ধরেনি। কিছুই ভালো লাগছে না তার। মনকে অন্যদিকে ঘুরাতে অফিসের টিভিটা অন করল সে। খবরের চ্যানেল ছাড়তেই দেখা গেল সাংবাদিককে খবর পড়তে।
'আজ সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে মোট ছাব্বিশ জনের। কুমিল্লায় সিএনজির সাথে বাসের ধাক্কায় নিহত পাঁচ যাত্রী, মুন্সীগঞ্জে অটোরিকশা খাদে পরে নিহত চালকসহ ছয়জন, সিলেটে রিকশার সঙ্গে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত সাত জন, চট্টগ্রামে ফুটপাতের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়ায় নিহত চার পথচারী, ঢাকায় মাইকো বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা উল্টে নিহত ছয়জন এবং অন্যমনস্ক ভাবে রাস্তা পার হতে গিয়ে বাস চাপায় এক নারী নিহত। মূলত গাড়িচালকদের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো এবং পথচারীদের সচেতনতার অভাব দায়ী এসকল দূর্ঘটনার জন্য।'

শেষের খবরটা কানে এসে পৌছাতেই এক অজানা আশংকায় বুক কেঁপে উঠল সাখাওয়াতের। তখনি হঠাৎ তার সেলফোনটা বেজে উঠল। সেলফোনটা হাতে তুলল সে। আননোন নম্বর। কলটা রিসিভ করে কানে দিতেই ওপাশ থেকে শোনা গেল পুরুষ কন্ঠ, 'হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম। আপনি কি সাখাওয়াত আহমেদ?'

সাখাওয়াত কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল, 'জি! বলুন।'

'আমি খিলক্ষেত থানার ডিউটি অফিসার আমজাদ হোসেন বলছি। অত্যন্ত দুঃখের সহিত জানাচ্ছি, আপনার স্ত্রী একটা কার এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছেন। আমরা আপনার নম্বরটা এক্সিডেন্ট স্পটে পরে থাকা তার মোবাইল থেকেই পেয়েছি। তার লাশ মর্গে রাখা রয়েছে। আপনি এসে বডি আইডেন্টিফাই করে নিয়ে যেতে পারেন। স্থান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।'

অফিসার ফোন রাখতেই সাখাওয়াতের হাত থেকে মোবাইলটা ঠাস করে পরে গেল। অসংলগ্ন পায়ে অফিস থেকে বেরিয়ে তার প্রাইভেট কারের সামনে এসে দাঁড়াল। সে বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে এসব। কেমন ঘোরের মধ্যে যেন পৌঁছে গেছে। কিছুক্ষণ মৌন থেকে সাখাওয়াত হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল । পুরোটা রাস্তা মনে মনে সে একটা প্রার্থনাই করতে করতে গেল। যেন হাসপাতালে গিয়ে দেখে ওটা ঈশিতা নয়, অন্য কারো লাশ।

হাসপাতালে পৌছানোর পর ডিউটি অফিসার তাকে মর্গে লাশের কাছে নিয়ে গেল। লাশ থেকে সাদা কাপড়টা সরাতেই লাশের মুখ দেখে সাখাওয়াত ধপ করে মাটিতে বসে পরল। এমন মুক্তি কি চেয়েছিল সে!

সাখাওয়াত জীবনে প্রথমবার কেঁদেছিল যখন শুনেছিল তার মা আর নেই । শেষবার কাঁদল যখন দেখল তার অবহেলিত স্ত্রী পৃথিবী ছেড়েছে। সাখাওয়াত মর্গের মাটিতে বসেই পাগলের মতো চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। সে শুনতে লাগল, তার প্রত্যেকটা চিৎকারের প্রতিধ্বনিতে একটা কথাই ফিরে আসছে বারবার। 'দেহের মৃত্যুটাই দেখলে শুধু? মনের মৃত্যুটা দেখলে না?'

(সমাপ্ত)

ছোটো গল্প: #মুক্তি
লেখা: #ত্রয়ী_আনআমতা

01/11/2021

এক কৃষকের একটি ঘোড়া ও একটি ছাগল ছিলো ৷ একদিন ঘোড়াটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি একজন পশু ডাক্তার ডেকে আনলেন । পরীক্ষা করে ডাক্তার বললেন "ঘোড়াটি ভাইরাস আক্রান্ত, আমি তিন দিনের ঔষধ দিচ্ছি । তিন দিন পর যদি অবস্থার উন্নতি না হয় তবে ঘোড়াটিকে মেরে ফেলতে হবে । তা না হলে চারদিক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে !" কাছে থাকা ছাগলটি তাদের এই কথাবার্তা সব শুনলো ।
-
পরদিন ঘোড়াটিকে ঔষধ দেয়ার পর ছাগলটি তার কাছে এসে বললো "শক্তি অর্জন করো বন্ধু, উঠে দাঁড়াও ৷ তা না হলে ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে!" দ্বিতীয় দিন ঔষধ দেওয়ার পর ছাগলটি ঘোড়ার কাছে এসে বললো "দোস্ত উঠে দাঁড়াও, তা না হলে তো তুমি মারা পড়বে ৷" তৃতীয় দিনে ঘোড়াটিকে ঔষধ দেয়ার পর ডাক্তার কৃষককে বললেন "ভাগ্য খারাপই মনে হচ্ছে । কালকে বোধ হয় এটাকে মেরেই ফেলতে হবে । তা না হলে ভাইরাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে, অন্য ঘোড়াগুলোও তাতে আক্রান্ত হবে ।"
-
এ কথা বলে তারা চলে যাবার পর ছাগলটি ঘোড়ার কাছে এসে বললো "শোনো দোস্ত, এখনই শেষ সময়, আর সুযোগ পাবে না । উঠে দাঁড়াও, সাহস অর্জন করো, মনে শক্তি আনো, ওঠো, উঠে দাঁড়াও! এই তো..গুড... ধীরে ধীরে...দারুন... এবার হাঁটো দেখি... ওয়ান, টু, থ্রি... ওয়াও! বেশ পারছো, এবার দৌড়াও ৷" কৃষকটি ঘোড়ার কাছে এলো আর দেখলো ঘোড়াটি দৌড়ে মাঠের দিকে চলে যাচ্ছে । তিনি আনন্দে চিৎকার করে উঠলেন "আরে, এটা একটা অলৌকিক ব্যাপার! আমার ঘোড়াটি সুস্থ হয়ে গেছে । সেই খুশিতে ছাগলটা জবাই করে আমি কাল পার্টি দিবো ৷"
-
এ ধরণের ঘটনা আমাদের জীবনে প্রায়ই ঘটে থাকে । সত্যিকার অর্থে অনেক সময় কেউই জানতে পারে না আসলে কোন ব্যক্তি এই সফলতার পেছনে অবদান রেখেছে বা দরকারী সাপোর্ট দিয়েছে স্বীকৃতিটা কার প্রাপ্য । স্বীকৃতির আশা করে ভালো কাজ হয় না ৷ ভালো কাজ করতে হয় নিজের আত্মতৃপ্তির জন্যই ৷ স্বীকৃতি ছাড়া বাঁচতে শেখার মাঝে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি লুকিয়ে থাকে ৷

10/14/2020

গল্পঃ চিরকুট
লিখাঃ ইমু

কিছুক্ষণ আগেই আমার বিয়ে হয়েছে।
বাবার বাড়ি ছেড়ে নতুন বাড়িতে আমার প্রথম রাত।
নতুন মানুষ … নতুন মুখ।
বিয়ে ঠিক হয়েছে মাত্র ১২ দিন আগে। হুটহাট বিয়েটা হয়ে গেলো। তারা প্রস্তাব দিলো আব্বার পছন্দ হলো বিয়ে হয়ে গেলো। অর্থাৎ আমার বিয়ে হলো এরেঞ্জড ম্যারেজ ……একটু সময় ও পাই নাই জামাই এর সাথে বিয়ের আগে দুই একটা কথা বলার…
আমাকে কিছুক্ষণ আগে আমার ননদ আর ইফতি মানে আমার স্বামীর ভাবী আমার রুমে রেখে গেলো। এত ভারী ভারী গহনা আর শাড়ি পড়ে আমি কাহিল। ভাবতেই আওয়াজ পেলাম ঘরে কেউ ঢুকছে।
ইফতি ঘরে ঢুকেই প্রথম কথা বলল
-আয় হায় তনু তুমি এখনো শাড়ি গহনা পড়ে আছো? ফ্রেশ হউ নাই কেন?
-জ্বী হবো এখন।
-আচ্ছা শুনো আমাকে আপনে করে বইলো না। আমি আগে ফ্রেশ হতে যাবো নাকি তুমি আগে ফ্রেশ হবা?
ঘরের সাথে এটাচড বাথরুম … নতুন বৌ আমি এমনেই লজ্জা লাগছে আমি কি বা উত্তর দিতাম?
-আপনি যান।
-আবার আপনি?
-সরি একটু সময় লাগবে।
-হাহাহাহা আচ্ছা। সময় নেও …তুমি গহনা খুলতে খুলতে আমি ফ্রেশ হয়ে যাবো।
-আচ্ছা।
ইফতি ফ্রেশ হতে বাথরুমে ঢুকে গেলো।
আমি খুব বোর হচ্ছিলাম…
ইফতি ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে বলল
-যাও তনু তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ো অনেক সকালে উঠতে হবে।
আমি টাওয়াল হাতে নিয়ে বাথরুমে গেলাম। কাল আমাদের সকালে উঠতে হবে কারণ ভোর বেলা আমাদের কক্সবাজার এর যাত্রা শুরু হবে .. আমি আর ইফতিই যাবো। বিয়ের পর স্বামীর সাথে একান্তে ঘুরতে যাওয়াকে হানিমুন বলে .. আমি ও কাল হানিমুনে যাবো। কিন্তু কক্সবাজার ই কেন?
এই কক্সবাজারে আমার অনেক স্মৃতি …মন খারাপের স্মৃতি .…
খুব বড় দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। শাড়ি চুরি গহনা খুলে এখন অনেক শান্তি লাগছে।
বের হয়ে দেখলাম ইফতি আমাদের ব্যাগ গুছাচ্ছে। আমি ও ওকে হেল্প করলাম ব্যাগ গুছাতে। ইফতি অনেক হাসিখুশি এই জিনিসটা আমার খুব পছন্দ। হেসে হেসে কথা বলে তাছাড়া ও চাইসে আমি ওর সাথে একটু ফ্রি হই তাই ব্যাগ গুছানোর সময় সে অনেক হাসির কথা বলে আমাকে স্বাভাবিক করতে চাচ্ছিলো। সব কাজ শেষ হলো পরে ইফতি আমার হাত ধরলো.… ধরে বলল
- তনু আজ তোমার মন খারাপ থাকাটা স্বাভাবিক। তুমি আজ ঘুমাও। আমরা কাল ঘুরতে যাবো। ঘুম ঠিক মত না হলে তোমার খারাপ লাগবে।
-ঠিকাছে।
আমরা শুয়ে পড়লাম। একটু লজ্জা লাগছিলো… ইফতি আমার পেটে হাত রেখে শুয়ে পড়লো। আমি আসলেই খুব লজ্জা পাচ্ছিলাম। শুয়ে হঠাৎ ইফতি কে জিজ্ঞেস করলাম
-আচ্ছা ইফতি সব রেখে কক্সবাজার ই কেনো যাচ্ছি আমরা?
-কারণ সমুদ্র সুন্দর। তুমি যাও নি?
-গিয়েছিলাম-গিয়েছিলাম।
-তাহলে এখন যেতে চাইসো না যে? সমুদ্র তোমার ভালো লাগে না?
-লাগে কিন্তু ঐখানে একটা ঘটনা ঘটেছিলো তাই আমি ……
-থাক এই গল্প কাল শুনবো। এখন ঘুমানোর চেষ্টা করো।
ইফতি আমার চুলের ফাঁকে ফাঁকে আঙ্গুল দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
কখন ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝতেই পারলাম না। সকালে উঠে চোখ খুলে দেখি ইফতি গোসল করে রেডি হচ্ছে। আমি তাড়াহুড়ো করে উঠলাম। ও বলল
-এত তাড়াহুড়া করার কিছু নাই। তুমি আস্তে ধীরে ফ্রেশ হউ। আমাদের বাস আরো ২.৫ ঘন্টা পর..
-না তারপরও আমার আগে উঠা উচিৎ ছিলো।
দৌড়ে বাথরুমে গিয়ে গোসল করে রেডি হয়ে রুম থেকে বের হতেই সবার উৎসুক চোখ আমার ভেজা চুলে …
ভাবীরা দুষ্টামি করে কানের কাছে এসে
জিজ্ঞেস করছে " ঘুম হইসে নাকি সারারাত জেগে ছিলা?"
আমি বেক্কলের মত তাকিয়ে রইলাম তাদের দিকে। আমরা যে আসলে কি করেছি সারারাত সেটা আমরাই জানি। যাইহোক কোন রকমে হালকা হেসে কথার কোনরকম উত্তর দিয়ে নাস্তা খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আমার শ্বশুরবাড়ির সবাই আমাদের এগিয়ে দিতে আসলো। বাস যথাসময়েই ছাড়লো। সম্পূর্ণ রাস্তা ইফতি আমাকে অনেক গল্প বলে ফ্রি করার চেষ্টা করলো। কথায় কথায় আপনি তুমিতে রূপান্তরিত হলো। এর মধ্যে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম
- ইফতি তোমার কখনো কারো সাথে প্রেম হয়েছে?
-হুম হয়েছে তো।
-উনি কই এখন?
-আমার পাশে বসে আছে। হাহাহাহাহা।
-আহহহা সিরিয়াসলি।
-আমি সিরিয়াস। তোমার হয়েছে?
-হ্যাঁ হয়েছে।
-সে কই?
-জানিনা।
-আচ্ছা থাক যেটা জানোনা সেটা নিয়ে আর কোন আলোচনা হবে না।
আমরা ঐ ব্যাপারে আর কথা বললাম না।
বাস থেকে নেমে হোটেলে পৌঁছে আমি ফ্রেশ হতে যাবো এমন সময় ইফতি আমার হাতে একটা প্যাকেট দিয়ে বলল।
-গিফট টা বাসর রাতে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ এটা দিলে তোমার বেশি পছন্দ হবে তাই আজ দিলাম। তুমি ফ্রেশ হয়ে নেও। আমি একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি।
ইফতি তরতর করে বের হয়ে গেলো।
ও রুম থেকে বের হয়েছে সাথে সাথেই আমি প্যাকেট খুলায় ব্যস্ত হয়ে গেলাম।
একটা প্যাকেটে মোড়ানো অনেকগুলো কাগজ। এক এক টা ছোট চিরকুট।
আমি চিরকুট গুলো হাতে নিচ্ছি আর আমার চোখ বেয়ে পানি ঝরছে ………
বুকে জড়িয়ে কাঁদছি চিরকুট গুলো নিয়ে।
চিরকুটে আমার চোখের পানি পরে কলমের কালি ছড়িয়ে যাচ্ছে।
লেখাগুলো গাঢ় হয়ে ভেসে উঠছে "হ্যাঁ ভালোবাসি"
আমি মেঝেতে বসে তখনো বুকে জড়িয়ে কাঁদছি।
৫ মাস আগের কথা।
আমি আব্বু আম্মু আর আমার ছোট ভাই কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলাম। ১২ দিনের জন্য। প্রথম বার এসেছিলাম সেইবার ……
আমি খুব খুশি ছিলাম। সমুদ্র এত সুন্দর আমি জানতাম না।
হোটেলে উঠে আমরা ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে গেলাম। এক রুমে আমি আর আমার ছোট ভাই আরেক রুমে আব্বু আম্মু।
প্রথমদিন বীচে ঘুরে যখন সন্ধ্যায় ক্লান্ত হয়ে ফিরলাম তখন দু চোখ ভেঙ্গে আমার ঘুম। রুমে গিয়েই কোন কথা না বলে ঘুম। রাতে কিছু খাই ও নাই। যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন ঘড়িতে প্রায় ৩ টা বাজে।
আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি সায়েম আমার ছোট ভাই ঘুম। ক্ষুদার্ত আমি কিছুই খুঁজে পেলাম না। সাহস করে উঠলাম। একা একা হোটেলের ক্যান্টিনে গিয়ে দেখলাম ঐটা ২৪ ঘন্টাই খোলা আছে। টুপ করে খেতে বসলাম। রেস্টুরেন্ট টা ছিলো সাগরের একেবারেই কাছে। আমি যেখানে বসে খাচ্ছিলাম সেখান থেকে রাতের সাগর দেখা যাচ্ছিলো। খাওয়ার সময় খেয়াল করলাম সাগর এর পাশ থেকে গানের আওয়াজ আসছে " আমি তারায় তারায় রটিয়ে দিবো … তুমি আমার"
একদল ছেলে গান গাইসে। এভাবে সমুদ্রের গর্জন গান আকাশ আর সামনে খাবার্। অসাধারণ গান গাইছিলো। একের পর এক গান…খুব ইচ্ছা করসিলো ওদের সাথে গিয়ে গান গাই অথবা পাশে বসে শুনি। অন্ধকারে দেখা যাচ্ছিলো না কে বা কয়জন ঐখানে। আমি খাওয়া শেষে বেলকুনির রেলিং এ দাড়িয়ে দেখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ যাই হোক একটু পর খেয়াল করলাম তাদের গান বন্ধ করে তারা চলে যাচ্ছে। অনেক রাত তখন আমি নিচেও নামার সাহস পাচ্ছি না। নতুন জায়গা কিছুই চিনি না। কিন্তু গান বন্ধ করে চলে গেলো আমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম।
সকালে আমার সবার আগেই ঘুম ভাঙ্গলো। আব্বু আম্মু কে ডেকে তুলতে রুম থেকে বের হয়েই দেখলাম দরজায় একটা চিরকুট যাতে লেখা
" রেলিং এর এত কাছে এসে কি দেখসিলেন? নাকি গান শুনছিলেন? কিছুক্ষণের জন্য আমি হঠাৎ আপনাদের হোটেলের দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। লম্বা লম্বা চুলে আভছা আলোয় আপনাকে দারুন লাগছিলো.. কিন্তু এত রাতে লম্বা চুলে ভূত ভাবসিলাম। জানতে পারলাম আপনার নাম নাকি তনু। আমাকে যদি কেউ আপনার নাম রাখতে দিতো আমি আপনার নাম তৃষ্ণা রাখতাম। কেমন যেনো একটা তৃষ্ণা ভাব আছে আপনার মধ্যে। যাই হোক এত কাছে এসেন না। বারান্দার হাহাহাহাহাহা।"
আমি দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে খুঁজে কাউকে পেলাম না। কাউকে জিজ্ঞেস ও করতে পারছি না। কি জিজ্ঞেস করবো?
একটু পর আব্বু আম্মু আর সায়েম সহ নাস্তা করতে গেলাম। নাস্তা শেষে আবার বীচে গেলাম। আশ পাশে যেই গান গায় মনে হচ্ছিলো কালকে রাতের ছেলে গুলোর মধ্যে কেউ গাইছে। সারাদিন ঘুরে ফিরে সন্ধ্যায় হোটেলে গিয়ে দূর থেকেই আমি দেখতে পাচ্ছি দরজায় আরেকটা চিরকুট।
আমি দৌড়ে সায়েমের আগে গিয়ে কাগজটা দরজা থেকে নিয়ে লুকিয়ে ফেললাম।
ঐদিন লেখা ছিলো
"দিনের আলোয় দেখলাম আপনাকে। আপনি তো দারুন সুন্দরী। বীচের মানুষ গুলো কিভাবে যেন বারবার আপনার দিকে তাকাচ্ছিলো। খুব রাগ হচ্ছিলো। পরদিন থেকে মুখে একটু কালি মেখে বের হবেন।"
তারমানে সে আমাকে দেখছে। ফলো করছে। আমি কত গাধা একটা মানুষ আমাকে এভাবে নোটিশ করে অথচ আমি টের পাই নি। কোনরকমে সবাই ঘুমিয়ে পরার পর আমি ও একটা চিরকুট লিখলাম
"কে আপনি? আমাকে দেখেছেন কিন্তু আমি তো দেখলাম না আপনাকে। আজ রাতে গান গাইবেন? আর আমি আপনাকে কিভাবে পাবো? জানালে উপকৃত হতাম।"
লিখে দরজায় লাগিয়ে রাখলাম।
তখন ঘড়িতে ১২ টা বাজে। আমি ২ বার উঠে দেখলাম চিরকুট জায়গা মতই আছে। কেউ নেয় নি।
মন খারাপ হয়ে গেলো। ৩ বারের সময় দেখলাম নতুন চিরকুট।
"শোন মেয়ে আমাকে খুঁজে কি হবে। এত রাতে ভুলেও হোটেল থেকে বের হওয়ার চিন্তা করবা না। গান শুনতে চাইলে গতকাল যেখানে বসে শুনেছো আজও ওখানেই থেকো। কিন্তু রেলিংয়ের এত ধারে যেয়ো না। আমি আছি তুমি এসো।"
আমি আস্তে আস্তে রুমের গেট খুলে বের হয়ে গেলাম। সায়েম বেভোর ঘুম। রেস্টুরেন্টে কফি অর্ডার করে সেই বেলকুনির পাশে গিয়ে বসলাম। ওরা আজ রেস্টুরেন্টের একটু কাছাকাছি বসেছে। গতরাতের চেয়ে আজ গান আরো পরিস্কার শোনা যাচ্ছে। আমি গিয়েই আমার পছন্দের একটা গান পেলাম। " আজ তোমার মন খারাপ নেই" এমন অনেক সুন্দর গান চলল ভোর রাত পর্যন্ত .. ওরা চলে যাচ্ছিলো আমি দূর থেকে অন্ধকারে দেখলাম ওরা ৬/৭ জন। ঐখানে ঐ ছেলেটা কি গান করে নাকি?
আমি রুমে গিয়ে আরো একটা চিরকুট লিখলাম
"এদের মধ্যে আপনি কোনটা? গান কি আপনি গান? আচ্ছা আপনারা কোন হোটেলে আছেন"?
আমি দরজায় আটকে আসার পর দরজার নিচে তাকিয়ে রইলাম ভাবলাম আজ জেগে থেকে দেখবো দরজার নিচে ছায়া পেলেই হাতে নাতে ধরবো। কিন্তু পাই নাই। সকালে তড়াহুড়ো করে উঠে দেখলাম আমার চিরকুট ও নাই নতুন
চিরকুট ও নাই। অস্থির হয়ে এদিক থেকে সেদিক খুজলাম কিন্তু নাই। হয়ত অন্য কেউ খুলে নিয়েছে। হয়ত বাতাসে উড়ে গিয়েছে হয়ত সে পায় নাই। মন খারাপ করে ঘরে ঢুকতেই দেখি দরজার নিচে দিয়ে নতুন চিরকুট।
" এই মেয়ে টিপের আঠা দিয়ে দরজায় চিরকুট থাকে? পাগলি! আমি তোমার চিরকুট সিড়িতে পেয়েছি। যদি হারিয়ে যেতো? ভালো আঠা দিয়ে লাগাবে। আর শুনো আজ রাতে তুমি ঘুমাবে। এত কম ঘুমালে তুমি অসুস্থ হয়ে যাবে।"
আমি চিরকুট হাতে নিয়ে হাটছি ,ভাবছি ,ঝিমাচ্ছি হাসছি।অদ্ভূত সেই অনুভূতি। এভাবে সবার চোখকে আড়াল করে ছোট ছোট চিরকুটের মধ্যে প্রেম জন্ম নিচ্ছিলো একটু একটু করে।
বীচে আব্বু আম্মুর সাথে গেলে কেউ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে ভাবতাম এইটাই ঐ ছেলে। প্রতি রাতে অপেক্ষায় থাকতাম সবার ঘুমের আর ঐ গানের। রেস্টুরেন্টের লোকগুলো প্রতিদিন আমাকে দেখে হাসি দিতো। ওরাও হয়ত
বুঝতে পারছিলো ভালোবাসা টা হতে চলেছে। প্রতি রাতে গান শোনা শেষে ওরা চলে যেত আর আমি রুমে এসে চিরকুট লিখে দরজায় লিখে রাখতাম।
একদিন লিখলাম
"আমি তো আপনার নাম ও জানি না। আপনি অন্তত আমার নাম জানেন। আমি আপনাকে দেখিও নাই নামটাও জানিনা। এটা বেশি অবিচার হয়ে গেলো না।? "
সকালে এর উওর আসলো
" তুমি আমাকে প্রেমিক নামে ডাকতে পারো। জানো এই যুগেও যেই মেয়েগুলো চিঠি লিখতে ভালোবাসে তাদের আমি হালকা পাগলি বলি আর যারা চিঠি পাওয়ার অপেক্ষায় অস্থির থাকে তাকে সম্পূর্ণ পাগলি বলি"
আমি চিরকুট পেয়ে হাসতে হাসতে কাহিল। চারিদিকে রোমান্স রোমান্স লাগে।
পরেরদিন চিরকুট লিখলাম
" প্রিয় প্রেমিক একটা জিনিস খেয়াল করলাম আমি নাহলে অস্থির থাকি সাথে মনে হচ্ছে আপনিও থাকেন আমার চিরকুটের।"
মধ্যরাতে সেই চিরকুটের উত্তর পেলাম
" পাগলি আমি মনে হয় প্রেমে পড়ে যাচ্ছি। আজ তোমাকে দু হাত দূর থেকে দেখেছি। তোমার চুলে ঘ্রান ছিলো। অদ্ভূত ঘ্রাণ মাতাল করা ঘ্রাণ"
আমি ঐ চিরকুট টা হাতে নিয়ে বুকে জড়িয়ে সেদিন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
যাওয়ার সময় চলে আসছিলো…যাওয়ার ঠিক আগের দিন।
আমি ওকে কিভাবে পাবো সেই চিন্তায় পরে গেলাম। চিরকুট লিখলাম রাতে
" প্রেমিক কাল চলে যাবো আমরা। আমি তোমাকে কিভাবে পাবো? তোমার নাম ফোন নাম্বার কিছুই তো জানি না। আমি তোমাকে কই পাবো?"
সেদিন উওর পাচ্ছিলাম না। ঘড়ির কাটায় তখন ১.৩০ টা বাজে.. তার প্রতিদিনের উত্তরের পরেই আমি রেস্টুরেন্টে গান
শুনতে যেতাম।
আজ এখনো কোন উত্তর নাই.. ঘড়িতে তখন ২ টা বাজে । না পারতে খুব সাহস করে আজ হোটেল থেকে বের হয়ে বীচে গেলাম। যেই ৬/৭ জন গান গাইছিলো তারা আমাকে দেখে বেশি মাত্রায় অবাক। আমি কি জিজ্ঞেস করবো বুঝতে পারসিলাম না। কারণ আমি তো নামও জানিনা। তারপর জিজ্ঞেস করে বসলাম
-এখানে কে আমার দরজায় প্রতিদিন চিরকুট রেখে আসেন?
প্রত্যেকে একে অপরের চেহারার দিকে তাকিয়ে অস্বীকার করলো। কেউই নাকি এই কাজ করে নি।
আমার কান্না আসছিলো।
এ ধরনের ইমোশন নিয়ে কেউ মজা করে? আমি অনেক অনুরোধ করার পরও তারা অস্বীকার করলো। আমি কান্না করতে করতে হোটেলে চলে আসলাম। কেউ আমাকে একটু ডাক ও দিলো না চলে আসার সময়।
আমি শেষ একটা চিরকুট লিখলাম।
"আমি সকালে চলে যাচ্ছি। তুমি আমাকে অস্বীকার করলে। শুধুই মজা করলে আমার ইমোশন নিয়ে। কে তুমি নাম কি কিছুই জানি না। কিন্তু তোমার চিরকুটের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। প্রতি রাতে একটা চিরকুটের জন্য অপেক্ষা করার পিছনে কতটা ভালোবাসা ছিলো বুঝবে না। তোমার জন্য এগুলা শুধু মজা ছিলো হয়ত। আমার জন্য ভালোবাসা ছিলো। হ্যাঁ ভালোবাসি আমি। খুব কষ্ট নিয়ে ফিরতে হবে এখান থেকে ভালো থেকো।"
সারারাত আমার আর ঘুম হলো না।
সকালে দরজা খুলে নতুন একটা চিরকুট পেলাম।
"তনু নিজের যত্ন রেখো। তোমার কোন অযত্ন হলে কিন্তু মাফ করবো না। কষ্ট পাবে না একদম। কান্না তো করবেই না। তোমাকে মানায় না। তোমার প্রেমিকের এটা শেষ চিরকুট। আর তনু আমিও তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। ভালো থেকো পাগলি।"
আমি সেদিনও ঠিক এভাবেই কেঁদেছিলাম আজ যেভাবে কাঁদছি। ঢাকায় যাওয়ার পর বেশ অনেকদিন মন খারাপ করে ছিলাম।
আমার বিয়ে ঠিক হওয়ার আগে পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করেছি কেউ একজন আমার দরজায় চিরকুট রেখে বলবে
-"পাগলি আমাকে মিস করো?"
কেউ আর চিরকুট দেয় নি।
আজ ইফতির দেওয়া এই গিফট আমি কোনদিন আশা করি নাই। এই সব গুলো চিরকুট আমার হাতের লিখা।
সব গুলো চিরকুটের সাথে আরো একটা চিরকুট
যেটায় লিখা
-তনু তুমি প্রথম যেদিন রেস্টুরেন্টে বসে গান শুনছিলে সেদিন তুমি গানে আর সমুদ্রের আওয়াজে এতই ব্যস্ত ছিলে আমি তোমার পাশের টেবিলে বসা তুনি খেয়াল ই করো নি , জায়গা বদলে গেলে আমার ঘুম হতো না। তাই আমি রাত জেগে তোমার মত ওদের গান শুনতে যেতাম। কিন্তু প্রতিদিন তোমাকে দেখতে দেখতে তোমার প্রেমে পড়ে গেলাম। তোমার চোখের , তোমার চুলের, তোমার বীচে গিয়ে সাগরের ঢেউ এর সাথে খেলার সব কিছুর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।আমিও সেইখানে আমার পরিবারের সাথে এসেছিলাম একই হোটেলে ছিলাম কিন্তু তুমি কখনো খেয়াল করো নি। তারা তোমার কথা জানতো। তুমি যাওয়ার দিন যেভাবে কাঁদছিলে একবার ভেবেছিলাম সামনে এসে তোমাকে জড়িয়ে ধরি। তোমরা ঢাকায় যাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে জানলাম তোমার পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তোমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। আর ১২ দিনের মাথায় বিয়ে। যেই ১২ দিনের মাথায় তুমি আমাকে বলেছিলে আমাকে ভালোবাসো। ১২ দিনে কি স্বামী হিসেবে আমাকে ভালোবাসতে পেরেছো? হয়ত পারো নি। এই কক্সবাজারে আমি তোমাকে পেয়েছিলাম। তাই এখানেই তোমাকে পেতে চেয়েছি সেজন্য কাল তোমার প্রতি অধিকার থাকা স্বত্তেও তোমাকে একটু জড়িয়ে ঘুমানো ছাড়া আর কিছু করতে চাই নি। আমি চেয়েছি তুমি আমাকে ভালোবেসে স্পর্শ করো। তোমার প্রথম স্পর্শে থাকুক অনেকদিন পর হারানো মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দ। আমাকে জড়িয়ে তুমি সেভাবেই কেঁদে ফেলো যেভাবে তুমি এখন চিরকুট পড়ে কাঁদছো। আমি বলেছিলাম ঐ টা তোমার প্রেমিকের দেওয়া শেষ চিরকুট আর এটা তোমার স্বামীর দেওয়া প্রথম চিরকুট।
আজ যদি আমাকে কেউ তোমার নাম রাখতে দিতো আমি তোমার নাম "বৌ" রাখতাম। বৌ আমি সেই রেস্টুরেন্টে তোমার অপেক্ষা করছি। তুমি জলদি এসো।"
আমি কোনরকমে চোখ মুছে খালি পায়ে দৌড়ে গেলাম সেই রেস্টুরেন্টে ..আমাদের হোটেল থেকে মাত্র ২ মিনিটের রাস্তা… আমাকে হয়ত রাস্তার সবাই পাগল বলছিলো এভাবে দৌড়ানোর জন্য। খেয়াল করি নাই। রেস্টুরেন্টে উঠে দেখলাম সম্পূর্ণ রেস্টুরেন্টে মোম দিয়ে সাজানো। হালকা গান আর আমার স্বামী ইফতি দাড়িয়ে আছে বেলকুনির রেলিং ধরে। আমি যেভাবে দাড়িয়ে থাকতাম।
আমি আস্তে আস্তে হেটে ওর পাশে যাওয়ার সাথেই বলল
"তোমার সেই ঘ্রাণ তনু পাগল করা ঘ্রাণ.."
আমি জাপটে ওকে জড়িয়ে ধরলাম পিছন থেকে। ইফতি বলল
-আজ তোমার ঘ্রাণ নিতে আড়ালে থাকতে হবে না। তুমি আমার বৌ।
আমি ইফতিকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কাঁদছিলাম। এই মানুষ টাকে না জেনেই ভালোবেসেছিলাম হারিয়েও ফেলেছিলাম আজ আবার পেয়েছি। আজীবনের জন্য।
আমি কাঁদছিলাম আর বলছিলাম
-ইফতি তোমাকে ভালোবাসি। অনেক বেশি ভালোবাসি। তুমি কেন চলে গিয়েছিলে? আমি জানতাম ও না তুমি কে? আমি বিয়ের আগে পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি তোমার কেন আসো নি? এভাবে কেন কষ্ট দিলা?
-কষ্ট দিয়েছি সেজন্য সরি বৌ কিন্তু পরে এভাবে যে তুমি আমাকে ভালোবাসবে সেটা ভেবেই আড়াল ছিলাম। তনু আমিও তোমাকে ভালোবাসি। অনেক বেশি। গান কিন্তু আমিও গাইতে পারি। শুনবা?
-এত দিন পর তোমাকে পেয়েছি। তোমার বুকেই থাকবো এখন। গান টান কিছু লাগবে না।
-হাহাহাহা ..
সেদিন নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী বিবাহিত নারী মনে হচ্ছিলো। হয়ত আমার চেয়ে রোমান্টিক হানিমুন বোধহয় আর কেউ করে নি।
বেচেঁ থাকুক ভালোবাসা সব গল্পের শেষের পাতায়…

(সমাপ্ত)

10/06/2020

এক বিছানায় দিনের পর দিন ঘুমিয়েছি যেই বন্ধুর সাথে, বহুকাল তার সাথে কোনও কথা হয় না। একটা প্যারাগ্রাফ ভাগ করে পড়ে যেই ছেলেটার সাথে এক্সাম দিয়েছি, সে এখন কোথায় আছে তাও জানি না।
যে মেয়েটার বুকের ধুকপুক শুনতে শুনতে ভেবেছিলাম, তাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। তাকে ছাড়াও দিব্যি বেঁচে আছি।
যার সাথে দিন রাত মেসেজিং করতে করতে আঙুল ব্যথা করে ফেলেছি। সেই মানুষটা আজ ফ্রেন্ডলিস্টেও নেই।
বড় হতে হতে কত কী হারিয়েছি! আর জীবনের শ্যাওলাপড়া দেয়াল ছেয়ে গেছে হারানো বিজ্ঞপ্তিতে। মানুষের, বন্ধুর এবং শত্রুর।
এখন আর কোনও কিছুই হারানোর ভয় হয় না। না, মানুষ, না বন্ধু না শত্রু...
কেবল মাঝেমাঝে মনে হয়, কোনও এক হলেদেটে সন্ধ্যায় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থেকে আবিস্কার করব, আমি হারিয়ে গেছি। সেই দিনটার কথা ভাবতেই বড্ড ভয় হয়।

09/09/2020

দাড়িয়ে আছো তুমি আয়নার সামনে।
মিট মিট করে হাঁসছো! নিজেকে দেখতে ভালই লাগে।
কত সুন্দর অবয়াব! কতইনা সুন্দর তুমি। সবে মাত্র যৌবনের কাল তোমার। নিজের প্রতি নিজেরই ঈর্ষা হয়।
উফ সারাটি জীবন যদি এমন থাকতে পারতাম, কতইনা সুন্দর সুডল দেহের অঙ্গগুলি তোমার। ডাগর ডাগর আখিঁ
তলোয়ারের মতো চিকন চাহনী! চোখের কোণায় যেন লেখে আছে নিজ থেকেই সুরমা কাজল। হিষ্ট পুষ্ট দেহ তোমার!!

আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছো তুমি, চিন্তায় মন বিভোর
চিন্তার অতল গহব্বরে তুমি দাড়িয়ে আছো... নিশ্চুপ করে আর চিন্তা করছো সেই এক যুগ আগের কথা। এতক্ষন তুমি কল্পনার রাজ্যে ছিলে । ফেলে আসা সেই দিন গুলির কথা চিন্তা করছো। তোমাকে তারা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। সেই অপরুপ আর অপরুপার দিনগুলি। কতইনা সুন্দর দেহ ছিলো তোমার। যুগের নারীরা দেখে বলতো বাহ কত সুন্দর পুরুষ! যুগের যুবকরা বললো বাহ কত সুন্দরী নারী যদি তাকে পেতাম!!

আজ চামড়ায় ঢিল ধরেছে!
ঢিলা হয়েছে হাত পায়ের নলা!
মুখ ভচছে দিয়েছে। মনিমুক্তার মতো দন্তরাজি আজ ভেঙ্গে পড়ে খানখান! সেই চুখা চোখের চাহনী। কাজল মাখা সেই নয়নী ডাগর ধুলা আজ অন্ধ হতে বসেছে।
চোখের জ্যাতি গিয়েছে কমে। পিঠ হয়েছে কুজো।
নিজেকে দেখলে ভয় লাগে। হায় কেমন ছিলাম আমি কেমন হয়ে গেলাম।

বাস্তবতা!
হ্যাঁ -- বাস্তবতা!
অস্বিকার করবে? করো দেখি!
মৃত্যুর ডাক তোমাকে দুর্বল করে দিবে। করে দিবে যৌবনের চাহিদাকে মাটির খামিরা।
হে নারী --- আর কত?
হে যুবক --- আর কত!

ঐ যে কবর!
ঐ যে মাকবারা।
ঐ যে অন্ধকার গর্ত!

09/09/2020

একদিন মেয়ের বাবা রাতের ১১টায় বাসায় ফিরলেন হাতে করে দুটো বার্গার নিয়ে।
এসেই হাসিমুখে জানান দিলেন রাতে ভাত খাবেন না। তিনি রেস্টুরেন্ট থেকে খেয়েই এসেছেন। আসার সময় বাচ্চাদের জন্য বার্গার নিয়ে এলেন।

আমি কোনো মতামত বা আনন্দ উচ্ছাস কিছুই ব্যক্ত না করে নির্বিকার ভঙ্গিতে প্যাকেট খুলে একটা বার্গার নিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। যদিও বার্গার খাবারটা আমার বাচ্চাদের যতটা পছন্দ আমার ততটা নয়।

তারপরও আমি খাচ্ছিলাম। কারণ আমি চাইনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক।

খুব ছোটবেলায় দেখতাম আমার আব্বা কোনো খাবার কোনো উপহার বা যে কোনো জিনিস আমাদের চার ভাই বোনদের জন্য কিনতেন। আমার মায়ের জন্য কিনতেন না।
যেমন তিনি দোকান থেকে চারটা আইসক্রিম, চার প্যাকেট চিপস আমাদের চার ভাই -বোনের জন্য কিনতেন। অথচ বাসায় আমরা পাঁচজন মানুষ থাকতাম।
আমার মা হাসি মুখে চিপসের প্যাকেট খুলে আমাদের হাতে দিতেন। আইসক্রিম হাত থেকে পড়ে নস্ট হয়ে যাবার ভয়ে আমাদের গাইড করতেন পিছন থেকে খাও, সামনে থেকে খাও!

জানি না আমার মায়ের খেতে ইচ্ছে করত কি-না! না করার তো কথা নয়। তিনি গৃহবধূ। সারাক্ষণ আমাদের সাথে ঘরেই থাকতেন। নিজের হাতে বানানো খাবারই খেতেন। কখনো তো একা একা বাইরে যাননি বা নিজের ইচ্ছের প্রতিফলন করেননি।

আপনি যখন চারটা কিনতে পেরেছেন, তখন পাঁচটাও কিনতে পারতেন। তার মানে স্বদিচ্ছার অভাব ছিল।

পুরুষ জাতি ধরেই নিয়েছে, মেয়েদের খেতে হয় না।

আমার সংসারে কিন্তু আমি এটা হতে দেইনি। মেয়ের বাবা দুইটা ওয়েফার আনলে তার সামনে একটা খুলে আমি খাওয়া শুরু করতাম। যদিও খেতাম না।
তাকে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছি। বাসায় আমরা তিনজন থাকি যে কোনো খাবার তিনটাই আনবা। ঐ জিনিস আমি না খেলে বিকল্প আরেকটা আনবা যেটা আমি খাই।

কারণ আমিও মানুষ। আমারও পছন্দ আছে, ইচ্ছে আছে, অনুভুতি আছে। বছরের পর বছর তোমার সংসারে গাছের গুঁড়ি হয়ে পড়ে থাকব?

তুমি যদি আমাকে না বুঝ তাহলে তো কেউই বুঝবে না।
একটা মেয়ের বিয়ের আগের সকল আবদার থাকে বাবা মার কাছে। বিয়ের পরে থাকে স্বামীর কাছে। বাবা- মার কাছে যতটা প্রাণ খুলে আবেগ প্রকাশ করা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বামীর কাছে যায় না। স্বামী নামক প্রিয়জনকেই সেটা বুঝে নিতে হয়।

আমার আব্বা কারো বাড়ি গিয়ে এককাপ চাও খেতেন না আমাদেরকে ছাড়া। তিনি ভীষণভাবে চাইতেন তিনি যেখানেই দাওয়াত খেতে যান যেন আমরা চার ভাই-বোনও সেখানে যেতে পারি। কোনো কারণে আমাদেরকে ছাড়া যেতে হলে, তিনি বাড়ি ফিরেই আমাদেরকে নিয়ে হোটেলে চলে যেতেন। সেইম খাবার আমাদের খাইয়ে আনতেন। অথচ আমার মাকে নিয়ে তাঁর তেমন কোনো ভাবনা ছিল না।

আমাদের যৌথ পরিবার ছিল। আব্বা শাড়ি কিনলে পাঁচটা কিনতেন। তিন ফুফুর জন্য তিনটা, মায়ের জন্য একটা, দাদীর জন্য একটা। দাদীকে দেয়ার জন্য তাঁর আরও সন্তান ছিলেন। ফুফিদের স্বামী ছিলেন। কিন্তু আমার মায়ের স্বামী ছাড়া আর কেউ ছিল না।
দিন শেষে আমার মাই ঠকত।

অথচ আমিও যৌথ পরিবারে থাকি। কন্যার বাবাও সেইম কাজ করেন। একদিন ড্রেস আনার পর আমি পাঁচটাই রেখে দিয়েছি। তাকে বললাম ' ভাবীদেরকে কাল এনে দিও। আমার পাঁচটাই পছন্দ হয়েছে।' সে চোখ বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।
আমি মনেমনে বলছি, ইচ্ছে হলে চোখ বের করে ফেল। আমি তোমার স্ত্রী। তোমার উচিত কিছু পোষাক সবাইকে গিফট করা ছাড়াও আমার জন্য কেনা।
তুমি যখন সেটা বুঝতে পারনি। আমিই চোখ গেলে বুঝিয়ে দিলাম।

বাচ্চার বাবা কখনো ওদেরকে নিয়ে কোথাও যায় না। কখনো যাবেও না। প্রতি সপ্তাহে দুটো- চারটা দাওয়াত থাকে। দুপুরবেলা বেশির ভাগ সময় বাইরেই খান।

একদিন এত মেজাজ খারাপ হলো। যখন শুনলাম একটা দাওয়াতে সবার পরিবার ছিল। শুধু তিনি একা ছিলেন। ঐ দিনই আমি কারো অনুমতি না নিয়েই রেডি হয়েই বাচ্চাদেরকে নিয়ে বাইর থেকে ঘুরে এলাম। বাচ্চাদেরকে রেস্টুরেন্ট থেকে খাইয়ে আনলাম।

নারীদের জীবন কখনো মসৃন হয় না। এ জীবনের পরতে পরতে বন্ধুরতা। কেউ আপনার ইচ্ছে, অনিচ্ছের মূল্য দিবে না। আপনার জায়গা আপনাকেই করে নিতে হবে। হয় বুদ্ধি দিয়ে না হয় বিচক্ষণতা দিয়ে।
কারণ অধিকাংশ পুরুষ তো নারীদের মানুষই মনে করে না।

#আমার_আমি
কামরুন নাহার মিশু

09/08/2020

টিকে থাকার লড়াইয়ে এমন ফাঁক-ফোকর আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে। কেউ কিন্তু আপনাকে খুঁজে দেবে না বা যায়গা দেবে না। নিজরে যায়গা নিজেকে করে নিতে হবে। এটাই চরম বাস্তবতা!!

08/19/2020

হিসেবটা একবার দেখে নিন!
দুনিয়াবী শেষে আপনি সাথে নিতে পারবেন মাত্র ১,১৮৬ টাকার মালামাল!
অথচ পরকাল ভুলে, দিন রাত একাকার করে টাকার পিছনে কি ছোটাটাই না ছুটছি আমরা!!

08/17/2020

ছোটবেলায় খেয়াল করতাম আমাদের পাশের বাড়ির রমজান চাচা প্রায় সময়ই উনাদের বাড়ির পিছনে বসে একটা বাঁশের লাঠিতে তেল দিয়ে মালিশ করতেন। আমি অবাক হয়ে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম,
চাচা লাঠি দিয়ে কি করেন?
উনি মুচকি হেসে উত্তর দিয়েছিলো,
লাঠি দিয়ে শয়তান মারি।

কয়েকদিন পর বুঝতে পারি, সেদিন উনি আমাকে মিথ্যা বলেছিলো। আসলে উনি লাঠি দিয়ে শয়তান মারেন না, উনি লাঠি দিয়ে উনার স্ত্রী আমেনা চাচীকে মারেন।

প্রায় সময় দেখতাম রমজান চাচা লাঠি দিয়ে আমেনা চাচীকে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে মারছে আর আমেনা চাচী "আল্লাহ গো, আল্লাহ গো আমারে বাঁচাও"- এই বলে চিৎকার করছে আর দৌঁড়াচ্ছে ।

বছর দুয়েক পর রমজান চাচা অসুস্থ হয়ে যান। আর এতটাই অসুস্থ হয়ে যান যে উনি আর বিছানা থেকে উঠতেই পারতেন না। বিছানায় মধ্যেই প্রস্রাব পায়খানা করতেন। আমেনা চাচীকে সবসময় দেখতাম, হাসি মুখে স্বামীর প্রস্রাব পায়খানা পরিষ্কার করতেন, স্বামীর সেবা করতেন। আমি খুব অবাক হতাম এই ভেবে, যে মানুষটা উনাকে এত মারতেন, এত কষ্ট দিতেন সেই মানুষটার প্রতি উনি বিন্দু পরিমাণ অবহেলা করে নি। অথচ উনি চাইলেই কত কিছু করতে পারতেন। ২১ বছর বয়সী আমেনা চাচী অসুস্থ চাচাকে ফেলে অন্য একজনকে বিয়ে করতে, অন্য একজনকে নিয়ে সুখে থাকতে পারতেন। কিন্তু উনি সেটা না করে চাচার পিছনেই নিজের জীবনটা কাটিয়ে দিলেন।

মামুন নামের আমার এক বন্ধু ৫ বছর প্রেম করার পর অনেক কষ্টে প্রেমিকাকে বিয়ে করেছিলো। বিয়ের পর সব কিছু ঠিকঠাক চলছিলো। একদিন মামুন ওর স্ত্রীকে নিয়ে বাইকে করে ঘুরতে বের হয়েছিলো। দূর্ভাগ্যবশত মামুন বাইক এক্সিডেন্ট করে। আল্লাহ রহমতে মামুনের কিছু না হলেও ওর স্ত্রীর পায়ের উপর দিয়ে গাড়ির চাকা যাওয়ার কারণে পাগুলো কেটে বাদ দিতে হয়।

এক্সিডেন্টের মাস তিনেক পর মামুন আমার অফিসে এসে একটা বিয়ের কার্ড আমার হাতে দেয়।
আমি অবাক হয়ে বললাম,
-- কার বিয়ের কার্ড?
মামুন মুচকি হেসে বললো,
- আমার বিয়ের কার্ড।
আমি চমকে গিয়ে বললাম,
-- তাহলে ভাবীর কি হবে?
মামুন বিরক্ত হয়ে উত্তর দিলো,
- এই পঙ্গু মেয়ের কি হবে আমি কি জানি? ঐ পঙ্গু মেয়ের জন্য তো আমি আমার লাইফ নষ্ট করবো নাকি? আমিও তো একটা মানুষ আমারও তো একটা চাহিদা আছে। ঐ পঙ্গু মেয়ে কি আমার চাহিদা পূরণ করতে পারবে? তাই আমি ওরে ওর বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি আর ডিভোর্সও দিয়ে দিয়েছি। আমি চেয়েছিলাম দেনমোহরের পুরো টাকাটা ওরে দিয়ে দিতে কিন্তু ও নেয় নি।

আমি মুচকি হেসে উত্তর দিলাম,
-- তোকে কে বলেছে তুই মানুষ? তুই তো একটা অমানুষ। তুই ভালোবাসার মানে বুঝিস শুধু যৌনতা। তোদের মত পুরুষরা কেন বিয়ে করে জানিস? ওরা বিয়ে করে শুধু স্ত্রীর সাথে আনলিমিটেড ফ্রি সেক্স করার জন্য কারণ পতিতালয়ে গেলে টাকার বিনিময়ে সেক্স করতে হয়।আরে তুইকি পারতি না এইসময় তোর অসুস্থ স্ত্রীর পাশে থাকতে, ওর একটু সেবা করতে? যার হাতটা ধরে এতটা পথ হেঁটে এসেছিস তাকে কোলে করে নিয়ে জীবনের বাকি পথটা হেঁটে যেতে পার‍তিস না?
আর তুই কাকে পঙ্গু মেয়ে বলছিস? বাইকটা কিন্তু তুই চালিয়েছিলি মেয়েটা না। তাই অন্তত একটু মেয়েটা সম্মান করে কথা বলিস।

আমার কথা শুনে মামুন চুপচাপ চলে গেলো।
আমি ভাবতে লাগলাম দিনশেষে মামুনও হয়তো কোন মেয়েকে বারোভাতারী বলে গালি দিবে...

আমাদের অফিসের কেশিয়ার ছিলেন রকিবুল হাসান নামের একজন ভদ্রলোক।
উনি সবসময় আমায় বলতেন,
-পিয়াস সাহেব, আজীবন যদি সুখে থাকতে চান তাহলে বিয়ে করেন না যেন। বিয়ে করেছেন তো মরেছেন। বউকে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে রাখলেও বউয়ের মন পাবেন না। বউয়ের আজ এটা লাগবে, কাল ওটা লাগবে। আমার ছোট শালী যদি একটা আংটি কিনে তাহলে আমার বউকে দুইটা আংটি কিনে দিতে হয়। শালী একটা স্বর্ণের চেইন বানালে আমাকে স্বর্ণের হার কিনে দিতে হয়। কারণ এইগুলো কিনে না দিলে বড় বোন হিসাবে আমার বউয়ের নাকি ইজ্জত থাকে না। শালী ১০ হাজার টাকা দিয়ে কিছু কিনলে আমার বউকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে জিনিস কিনে দিতে হয়। খুব বাঁচা বেঁচে গেছেন ভাই বিয়ে না করে।

সেদিন দুপুরের খাওয়া শেষে আফিসের ছাদে উঠলাম একটা সিগারেট খাওয়ার জন্য। ছাদে উঠে দেখি রকিবুল সাহেব ছাদের কার্ণিশ ধরে দূরে তাকিয়ে আছে। আমি উনার দিকে একটা সিগারেট বাড়িয়ে দিয়ে মুচকি হেসে বললাম,
-- আজকেও ভাবী নতুন কিছু বায়না করেছে নাকি?

রকিবুল সাহেব জ্বলন্ত সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললো,
- পিয়াস সাহেব, আপনাকে খুব গোপন একটা কথা বলি। অফিসে আমার প্রায় ৩ লাখ টাকার হিসাব মিলছিলো না। এত টাকা গড়মিল দেখলে কোম্পানি আমাকে জেলে পাঠাবে আর চাকরিটাও যাবে। তাছাড়া আমার কাছেও এত টাকা ছিলো না। এই চিন্তায় আমি ঘুম,খাওয়া-দাওয়া সব ছেঁড়ে দিয়েছিলাম । সেদিন রাতে ঘুমাচ্ছিলাম না দেখে আপনার ভাবী খুব জোর করলো আমার কি হয়েছে বলার জন্য। আমিও আপনার ভাবীকে সবটা খুলে বলি। সব শুনে আপনার ভাবী আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো, আমি যেন চিন্তা না করি টাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
আজ সকালে আমার বউ আমার হাতে ৩লাখ টাকা দিলো। আমি জিজ্ঞেস করার আগেই বুঝে গিয়েছিলাম আমার বউ কোথায় এত টাকা পেলো।

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
-- কিভাবে বুঝেছিলেন?
উনি চোখের কোণে জমে থাকা চোখের জলটা মুছে বললো,
- আপনার ভাবীর হাত কান গলা সব খালি ছিলো। ও ওর সমস্ত গহনা বিক্রি করে দিয়েছিলো।

আমি এই মুহুর্তে কি বলবো ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। এমন সময় রকিবুল সাহেব আমার কাঁধে হাত রেখে বললো,
-পিয়াস সাহেব আমি ভুল বলেছিলাম। এই জীবনে একটা বিশ্বস্ত হাতের খুব প্রয়োজন। যে হাত হাজার কঠিন সময়েও আপনার হাত ছেড়ে যাবে না। যার অর্ধেকটা শরীরজুড়ে শুধু আপনি থাকবেন আর আপনার অর্ধেকটা শরীরজুড়ে ও সে থাকবে..

রকিবুল সাহেব চলে গেলে আমি আরেকটা সিগারেট ধরালাম আর খোলা আকাশে নিকোটিনের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ভাবতে লাগলাম,
আমি কখনো দেখি নি কোন স্ত্রী তার অসুস্থ স্বামীকে রেখে চলে যেতে বরং আমি দেখেছি অসুস্থ স্ত্রীকে ফেলে স্বামী নতুন কাউকে নিয়ে সংসার করতে। মেয়েরা বারোভাতারী হয়, কালনাগিনী হয়, চরিত্রহীন হয় কিন্তু সেই মেয়েরাই মমতাময়ী হয়,ঘরণী হয়, আত্মত্যাগী হয়। জন্মানোর পর থেকে একটা মেয়ে যে মানুষগুলোকে দেখে বড় হয় সেই মেয়েই বড় হয়ে এই মানুষগুলোকে পর করে সম্পূর্ণ অচেনা অজানা একটা পরিবারকে আপন করে নিতে হয়। এর চেয়ে বড় আত্মত্যাগ হয়তো আর পৃথিবীতে নেই। এতকিছুর পরেও মেয়ে তুমি খারাপ..

#মেয়ে
#আবুল_বাশার_পিয়াস

Want your school to be the top-listed School/college in Washington D.C.?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Washington D.C., DC