11/20/2021
Fall Color
বিস্তারিত জানতে পোস্ট ফলো করুন।
11/20/2021
Fall Color
11/06/2021
Shelby Farms Park
10/10/2021
পর্ব – ৭
কিভাবে বিশ্বদ্যিালয়ের তালিকা তৈরী করবো?
USA উচ্চ শিক্ষার জন্য আবেদন করার আগে একটা তালিকা তৈরী করে নেয়া ভালো। তালিকা থাকলে আপনি আপনার জন্য সঠিক বিশ্ববিদ্যালয়টি সিলেক্ট করতে পারবেন। আগেই বলেছি USA প্রায় ৪০০০ বা তারও অধিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কিন্তু এতগুলো থেকে কিভাবে আপনার জন্য উপযোগী একটা তালিকা বানাবেন? আজকে পর্বে বলার চেষ্টা করবো কিভাবে আপনি আপনার জন্য একটা ভালো তালিকা তৈরী করতে পারবেন? এক্ষেত্রে কি কি বিষয়গুলোকে মাথায় রাখবেন?
১. usnews এর ওয়েবসাইট থেকে সাবজেক্ট র্যাংকিং দেখে নিন। আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথা ভাবছেন সেগুলোর সাবজেক্ট র্যাংকিং কেমন এখান থেকে একটা আইডিয়া পাবেন। তাছাড়া এই র্যাংকিং দেখে নতুন কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারেও আপনার আগ্রহ তৈরী হতে পারে। এখান থেকে বাছাই করে আপনি আপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন।
২. R-1 University (R1: Doctoral Universities – Very high research activity) এবং R-2 (R2: Doctoral Universities – High research activity) এর তালিকা দেখতে পারেন। এই তালিকা আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রিসার্চ ক্যাপাসিটি সম্পর্কে ধারনা দিবে। তালিকা তৈরীর সময় এটা বেশ কাজে দেয় বিশেষ করে যারা PhD তে আসতে চান তাদের জন্য বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৩. আপনি যদি মাস্টার্সে আবেদন করতে চান সেক্ষেত্রে কেবল মাস্টার্স আছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিভাগে) আবেদন করা ভালো। এতে ফান্ডিং হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। কারণ যে বিভাগে পিএইচডি আছে সেখানে অধিকাংশ ফান্ডিংই পিএইচডির ছাত্রদের জন্য। আপনার ইন্টাররেস্টেড বিভাগের যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল মাস্টার্স আছে সেটাকে বেশী গুরুত্ব দিন। তালিকা তৈরীর সময় এ বিষয়টা মাথায় রাখুন।
৪. সাধারণত মাঝারি মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করলে ভর্তি ও ফান্ডিং পাওয়ার সুযোগ বেশী থাকে। তালিকা তৈরীর সময় এটা মাথায় রাখা ভালো। সাবজেক্টে র্যাংকিং-এ ৫০-১৫০ এর মধ্যে আছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জোর দেন। তাছাড়া মাস্টার্সের ক্ষেত্রে র্যাংকিং-এর চেয়ে ফান্ডিংটাকেই বেশী গুরুত্ব দিবেন।
৫. আপনি যদি GRE ছাড়া আবেদন করতে চান তাহলে কষ্ট করে একটু গুগল করুন। কারণ বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ও অন্য কিছু ওয়েবসাইটে এই সম্পর্কিত তালিকা পাওয়া যায়। একই সাথে আপনি যে সাবজেক্টে পড়তে চান সেই সাবজেক্টে যদি পরিচিত কেউ থাকে তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। তালিকা করার সময় কোনটা GRE ওয়েব করেছে সেটা লিখে রাখনু।
৬. তালিকার সময় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের IELTS Score, GRE Scoreসহ অন্যান্য রিকোয়ারমেন্টগুলো মাথায় রাখুন। যেগুলো আপনার সাথে যায় সেগুলোকে তালিকাভুক্ত করুন।
৭. USA এর কিছু State আছে যেগুলোতে লিভিং কস্ট বেশী আবার কিছু State আছে লিভিং কস্ট কম। তালিকা করার সময় এটাকেও মাথায় রাখবেন। সাধারণত সাউদার্ন জোনের State গুলোতে লিভিং কস্ট কম থাকে।
৮. তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সময় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের/আপনি যে বিভাগে পড়তে চান তাদের Job Placement দেখুন। মানে সেখান থেকে পাশ করে ছাত্ররা সাধারণ কি করে, কোথায় জব পায় ইত্যাদি।
৯. তালিকা করার জন্য একটা এক্সেল ফাইল বানাতে পারেন। যে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আপনি প্রাথমিক তালিকাভুক্ত করবেন সেটার পাশে USnews এর র্যাংকিং লেখুন, এটা R-1 নাকি R-2 বিশ্ববদ্যিালয় সেটা লেখুন, আবেদনের ডেডলাইন লেখুন, IELTS-GRE মিনিমাম রিকোয়ারমেন্টে লেখুন, বিশ্ববিদ্যালয়টি কোন স্ট্যাটে অবস্থিত সেটা লেখুন। কিছু কিছু বিশ্ববিধ্যালয় ট্রান্সকিপ্রপট মূল্যায়ন চায় সেটাও লিখে রাখুন।
এটা আপনার প্রাথমিক তালিকা। এই তালিকাকে বেইজ করে আপনি কয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেইল করবেন, কয়টাতে আবেদন করবেন সেটা ঠিক করতে পারবেন। তালিকা করার পর ফাইনালি কয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ে চুড়ান্তভাবে সিলেক্ট করবেন এবং কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে ৫ম পর্বে বলেছি। কমেন্টে ৫ম পর্বের লিংক দেয়া হলো।
পর্ব - ৬
আপনি কি আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য প্রস্তুত?
আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এর জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আপনার আবেদন পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে আবেদন করা শুরু করে দিন।
আবেদন করতে বাসার আগে যে ডকুমেন্টগুলো দরকার তার একটি তালিকা নিচে দেয়া হলো---
আপনি মিলিয়ে নিন সবকিছু প্রস্তুত আছে কিনা।
১. Test score
(তবে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জিআরই ওয়েভ করেছে সেখানে লাগবে না।
২. /TOEFL Test Score
৩. /Personal Statement
৪. ২টা/৩টা
৫.
৬.
৭.
৮. Fee
এছাড়া কিছু University Transcript Evaluation চায়। আপনি যে University তে আবেদন করতে চান তারা যদি চায় তাহলে আপনাকে এটা করতে হবে।
এই ডকুমেন্টগুলোর পিডিএফ করে রাখুন আগেই। এছাড়া যে প্রফেসরদের কাছ থেকে LOR নিবেন/আপনার হয়ে LOR সাবমিট করবে তাদের সাথে কথা বলে রাখুন।
পর্ব - ৪
আমার কি ফান্ডিং/স্কলারশিপ হবে?
যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার আগ্রহ অনেকেরই আছে। তো আবেদনের শুরুতে অনেকে চিন্তা করে আমার কি ফান্ডিং হবে? এ বিষয়ে আমি বেশ কিছু প্রশ্ন পেয়েছি। এগুলো মধ্যে কয়েকটা উল্লেখ করতে চাই।
১. আমিতো জিআরই দেয় নাই, আমার কি এডমিশন হবে? বা এডমিশন হলেও আমার কি ফান্ডিং হবে?
২. আমারতো আইএলটিএস-এ ৬.৫/৬ আমি কি আবেদন করতে পারবো?
৩. আমারতো সিজিপিএ খারাপ, আমিতো ভালে ছাত্র না আমার কি স্কলারশিপ হবে?
৪. আমারতো কোনো পাবলিকেশন নাই, আমাকে কি ফান্ডিং দেবে? ইত্যাদি
প্রথমেই বলে রাখি, যুক্তরাষ্ট্রে এডমিশন হওয়া ও ফান্ডিং হওয়া কোনো একটা একক ইন্ডিকেটরের উপর নির্ভর করে না। তারা আসলে কমপ্লিট প্যাকেজ দেখে।
১. দেখেন, আপনি জিআরই যদি না দিয়ে থাকেন তাহলে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জিআরই ওয়েব করেছে সেগুলো আপনাকে খুজে বের করতে হবে। আর জিআরই থাকলতো আপনি সবগুলোতেই আবেদন করতে পারবেন। এখন যাদের জিআরই আছে অনেকেই বলেন কত স্কোর লাগবে? দেখেন এটা আপেক্ষিক। সাবজেক্ট টু সাবজেক্ট ভ্যারি করে। তবে আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন তাদের একটা মিনিমাম দেয়া থাকে আপনি সেটাকে বেজ ধরে চিন্তা করতে পারেন। সেটার নিচে হলেতো আপনি আবেদনই করতে পারবেন। এটার জন্য আপনাকে একটু ঘটাঘাটি করতে হবে। আগে আপনার সাবজেক্টের যারা এসেছে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তখন আপনি একটা ভালো আইডিয়া পাবেন যে কত স্কোর হলে আসলে এডমিশন বা ফান্ডিংটা পাওয়ার পজিবিলিটি থাকে।
২. IELTS/TOEFL এর ক্ষেত্রেও একই কথা। আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবদেন করতে ইচ্ছুক সেখানে দেখেন তাদের রিকোয়ারমেন্ট কতো? সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ৬ থেকে শুরু করে ৭/৭.৫ পর্যন্ত রিকোয়ারমেন্টে থাকে। ৬ স্কোর নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে অনেকে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে এসেছে।। সুতরাং আপনার হতাশ হওয়ার কিছু নাই।
৩. দেখেন, সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ যারা সিজিপিএ খারাপ ওয়ালাদেরও ফান্ডিং/স্কলারশিপ দেয়। তবে অবশ্যই এক্ষেত্রে একটা ব্যাপার থাকে। আপনাকে অন্য বিষয়গুলো দিয়ে সেটা কাভার করতে হবে। সুতরাং সিজিপিএ কোনো সমস্যাই না।
৪. পাবলিকেশন আবেদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পার্ট না। এমনকি স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য ম্যান্ডেটরি কিছু না। থাকলে ভালো না থাকলে সমস্যা নাই।
এবার মূল কথায় আসেন।
প্রথমে যেটা বলেছি, যুক্তরাষ্ট্রে একজন ব্যক্তি এডমিশন পাবে কি পাবে না, স্কলারশিপ পাবে কি পাবে না এটা আসলে কোনো একটা একক ইন্ডিকেটর দিয়ে নির্ধারণ হয় না। এডমিশন ও ফান্ডিংএর ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোকে প্রধানত বিবেচনায় নেয়া সেগুলো হলো
১. জিআরই স্কোর ( যেগুলোতে জিআরই ওয়েব করা সেগুলোর ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়)
২. IELTS/TOEFL স্কোর
৩. CGPA
৪. SOP
5. Recommendation Letter. (LOR)
6. Writing Sample
একটা এপ্লিকেশন জমা পড়ার পর মূল্যায়ন কমিটি এইসবগুলো দেখে। এখন ব্যাপার হলো যদি কারো সবগুলোতেই খারাপ থাকে তাহলেতো আসলেই সম্ভাবনা কম। কিন্তু তার মানে এই না যে আপনাকে সবগুলোতেই টপ লেভেলে হইতে হবে। এডমিশন ও ফান্ডিং এর ক্ষেত্রে সাধারণত কমপ্লিট প্যাকেজ দেখে। মানে এই ছয়টা মিলে ওভারঅল যে ভালো তাকেই তারা সিলেক্ট করবে।
ধরেন একজনের সিজিপিএ খারাপ, আইএলটিএসও মিনিমাম লেভেলের কিন্তু তার SOP অসাধারণ, এবং Recommendation Letterও খুব ভালো হয়েছে। সাথে হয়তো তার Writing Sampleটাও এডমিশন কমিটির পছন্দ হয়েছে। এবং সে যে সাবজেক্টে পড়তে আসতে চায় তার সাথে তার লাইফের আগের অভিজ্ঞতা কিংবা আগের পড়া কোর্সগুলোর লিংক করাতে পেরেছে তাহলে তার এডমিশন ও ফান্ডিং উভয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
কিন্তু ধরেন কারো টপ লেভেরে রেজাল, ভালো আইএলটিএস, কিন্তু SOP ও রিকমেন্ডেশন লেটার ভালো মানের হয় নি। তাহলে তার হওয়ার সম্ভবনা কম। কিন্তু যদি রেজাল্ট, ভালো IELTS স্কোরের পাশাপাশি এক্সেপটেড লেভেলের SOP ও LOR দিতে পারেন আপনি বিবেচনায় থাকবেন আশা করা যায়।মানে এখানে একটা ব্যাপর হলো আপনি মিনিমাম সিজিপিএ ও আইএলটিএস (মিনিমাম বলতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ন্যূনতম স্কোর) যদি ভালো SOP, LOR দিতে পারেন আপনার এডমিশন ও ফান্ডিং হতে পারে। আর সাথে যদি আপনার সিজিপিএও ভালো, আইএলটিএস/জিআরইও ভালো তাহলেতো কথাই নাই।
আপনি পাশ করে বের হয়েছেন অনেকদিন হয়েছে। আপনারও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আপনি যে এরিয়াতে কাজ করেছেন সেটার সাথে আপনি যে সাবজেক্টে পড়তে আসতে চান সেটার একটা কানেকশন আপনাকে আপনার SOPতে দেখাতে হবে।
আসলে, আপনি বিজ্ঞানে ছাত্র হোন আর আর্টের ছাত্র হোন এডমিশন কমিটি আপনার কমপ্লিট প্যাকেজটা (GRE, IELTS, CGPA, SOP, LOR, Writing Sample) দেখবে।
আমি একজনের কথা বলবো যারা জিপিএ ভালো না, IELTS Scoreও মিনিমাম। কিন্তু সে যে সাবজেক্টে পড়তে আসবে সেই রিলেটড ১০ বছরের মতো অভিজ্ঞতা আছে। আবার তার SOP ও LOR খুব ভালো হয়েছে। সে ফুল ফান্ডিং নিয়ে পড়তে এসেছে। মানে আপনার কোনো একটা যদি তুলনামূলক খারাপ থাকে সেটা যেনো অন্যটা দিয়ে কাভার করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
Fall 2022 এর জন্য আপনার প্রস্তুতি ভালো হোক এই শুভকামনায়।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে অনেকের মধ্যে যেমন স্বপ্ন আছে অন্য দিকে কারো কারো মধ্যে ভয়ও কাজ করে। ভয়টা হলো আমি কি এডমিশন পাবো? কিংবা আমার কি ফান্ডিং হবে? এর কারণে অনেককেই মনের সুপ্ত বাসনাকে অঙ্কুরেই কবর দিতে দেখা যায়। কারো কারো মধ্যে দেয়ার ভয়, IELTS-এ ভালো স্কোর না পাওয়ার ভয় ইত্যাদিও কাজ করে।
কিন্তু আমি বলবো কেউ যদি একবার পরিকল্পনা করে যে আমি উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চাই আমার বিশ্বাস তার পক্ষে আসা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষার জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা আমার কাছে মনে হয়েছে তথ্য প্রাপ্তিতে ঘাটতি। কেউ কেউ বলতে পারেন এতো এতো ফেসবুক গ্রুপ, এতো এতো পরিচিতজন তারপরও কেনো তথ্যের ঘাটতি? আসালে ব্যাপারটা হলো আপনি স্পেসিফিক যে সাবজেক্টে পড়তে আসতে চান সেটার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য আপনি পাচ্ছেন কি না?
আমাদের দেশে যে পরিমাণ গ্রেজুয়েট প্রতিবছর বের হয় তাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ একটু চেষ্টা করলেই যুুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসতে পারে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে প্রতিবছর কি পরিমাণ স্টুডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে আসে, এটা বলে বুঝানো যাবে না.....!!! শুধু এইটুকু বলি-- আমি যখন ক্যাম্পাসে যাই, কোনো শপে যাই আর কাউকে দেখি না দেখি ইন্ডিয়ান কাউকে না কাউকে অবশ্যই দেখবো। তারা একটা ট্রেন্ড তৈরী করতে পেরেছে তাদের দেশে। আমরাও চাইলে সেটা পারি। শুধু প্রয়োজন পর্যাপ্ত তথ্যের প্রাপ্তি আর যারা আসতে চায় তাদের একটু ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রে around চার হাজার বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচুর ফান্ডিং আছে। বলা যায় এখানে প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে/ডিপার্টমেন্টে কোনো না কোনো ফরমেটে ফান্ডিং আছে। পৃথিবীর আর কোনো দেশে এমন অপরচুনিটি পাওয়া যায় না। এই অপরচুনিটি পাওয়ার জন্য প্রয়োজন আপনি যে সাবজেক্টে/প্রোগ্রামে পড়তে আসতে চান সেটা সম্পর্কে সঠিক তথ্য।
একটু ঘাটাঘাটি করা এবং পরিচিত যারা আসছে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেয়া, ফেসবুকে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে যেসব গ্রুপ বা পেইজ আছে সেখান একটু কানেক্ট থাকা। এগুলো আপনার মধ্যে আগ্রহ তৈরী করবে। তবে সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো নিজে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সিলেক্ট করে যেই সাবজেক্টে আসতে চায় সেগুলোতে ক্লোজলি নিয়ম-কানুনগুলো দেখা। এডমিশন ও ফান্ডিং এর জন্য তারা কি কি রিকোয়ারমেন্ট চায় সেটা একটু ক্লোজলি স্টাডি করা।
Fall 2022-এ যারা আসতে চান তাদের এখনই একটু পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করা উচিত। নিজে নিজে একটা টাইম লাইন ঠিক করে নিন। যেমন আপনি কবরে মধ্যে GRE/IELTS দিবেন, কবের মধ্যে SOP, writing sample, কিংবা CV গুলো রেডি করবেন ইত্যাদি। ডেডলাইন ঠিক করে সেই অনুযায়ী বাস্তবায়ন করে ফেলুন। ইনশাআল্লাহ আপনিও Fall-2022-এ উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করতে আসার প্রক্রিয়া নিয়ে লেখা এটা আমার দ্বিতীয় পর্ব। এই লেখাটা যারা Fall 2022 তে আসতে চায় তাদের প্রাথমিক তথ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম পর্বে বলেছি উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে তিনভাবে ভাগ করেছি। আজকে চেষ্টা করবো প্রথম পর্যায় সম্পর্কে কিছু লেখার জন্য। আর আমার প্রথম পোস্টটির লিংক কমেন্টে দেয়া হলো।
প্রথম পোস্টে যে তিনটি পর্যায়ের কথা বলা বলেছি সেগুলো হলো--
১. আবেদন পূর্ব প্রস্তুতি
২. বিশ্ববিদ্যালয় খোজা, সিলেকশন ও আবেদন
৩. ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে আসা। (বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পাওয়ার আগ পর্যন্ত পাসপোর্ট করা ছাড়া ৩ নম্বর স্ট্যাজ নিয়ে চিন্তা করার দরকার নাই।)
আবেদন পূর্ব প্রস্তুতির কিছু প্রস্তুতি আপনার এবং আপনাদের ইতিমধ্যেই আছে। যেমন ধরেন আপনি হয়তো মাস্টর্স কমপ্লিট করেছেন কিংবা অনার্স কমপ্লিট করেছেন। তো এটা হলো প্রথম যোগ্যতা। এটা অনেকটা আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার আগে HSC পাশ যেমন সেরকম আর কি। তো, সাধারণত আবেদন করার সময় যে বিষয়গুলো লাগে সেগুলো আমি পয়েন্ট আকারে দিচ্ছি।
১.
(তবে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জিআরই ওয়েভ করেছে। সেটা সাবজেক্ট টু সাবজেক্ট, ইউনিভার্সিটি টু ইউনিভার্সিটি ভ্যারি করে। যদি আপনি জিআরই দিতে না চান তবে আপনাকে কষ্ট করে খুজে বের করতে হবে কারা জিআরই ওয়েভ করেছে।
২. /TOEFL
এটা অবশ্যই লাগবে। যদি ইংলিশ স্পিকিং কান্ট্রি থেকে আপনার ডিগ্রী থাকে তাহলে লাগবে না। এবং এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিকোয়ারমেন্ট বিভিন্ন থাকে। আপনি যে সাবজেক্টে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসতে চান সেখানকার রিকোয়েরমেন্ট জেনে নিতে পারেন। সবচেয়ে বুদ্ধিমানে কাজ হলো সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েবসাইটে ঢুকে জেনে নেয়া।
৩. /Personal Statement
সাধারণত এটাকে Statement of Purpose বা SOP বলে. তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অন্য নামও দিতে পারে। যেমন ধরেন Personal Statement. অনেক ক্ষেত্রেই এই SOP তে কি কি বিষয়গুলো হাইলাইট করতে হবে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় Admission Requirements এর মধ্যে লেখা থাকে। তাছাড়া এটার স্ট্রাকচার এবং ওয়ার্ড সংখ্যা/পেইজ সংখ্যাও বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে আপনি একটা কমন তৈরী করে পরে বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায় এটাকে কাস্টমাইজ করতে পারেন। SOP সম্পর্কে পরে বিস্তারিত লিখবো।
৪.
কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আপনার Writing Sample চাইতে পারে। এটা হতে পারে আপনার আগের কোনো টার্ম পেপার, থিসিসের সামারি, কিংবা প্রকাশিত কোনো আর্টিক্যাল অথবা আপনি সম্পর্ণ নতুন কোনো কিছুও লিখে দিতে পারেন।
৫.
আবেদনের একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হলো রিকমেন্ডেশন লেটার। আপনি এডমিশন পাবেন কি পাবেন না এবং ফান্ডিং হবে কি হবে না এটা বহুল অংশে নির্ভর করে SOP এবং Recommendation Letter এর উপর।
কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টা আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টা Recommendation Letter লাগে। তবে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে ৩টা Recommendation Letter লাগে।
৬.
এটা হলো আপনি যে ডিগ্রী কমপ্লিট করেছেন সেটা। এটা কোথাও কোথাও অফিসিয়াল চায় আবার কোথাও আন-অফিসিয়াল চায়। অফিসিয়াল হলো আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন তারা আপনার হয়ে ট্রান্সক্রিপ্ট পাঠিয়ে দিবে। আর আন-অফিসিয়াল হলো আপনি এপ্লিকেশণ সিস্টেমে ট্রান্সক্রিপ্টের যে সফট কপি আপলোড করবেন সেটা।
৭.
কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আপনার সিভি চাইতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে একটা ভালো সিভি বানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রিকোয়ারমেন্টে বলা থাকে কত পৃষ্ঠার সিভি হতে হবে।
মোটামুটি এই সাতটা জিনিস লাগে আবেদন করার সময়। এখন আপনি মিলিয়ে নেন আপনার কোনটা কোনটা বাকী আছে।
আর আমি বলবো, যারা এখনো GRE, IELTS/TOEFL দেন নাই তারা খুব তাড়াতাড়ি দিয়ে দিবেন। বিশেষ করে যারা আসতে চান।
আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো নভেম্বর প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আপনি যদি স্কোর হাতে পান তাহলে আবেদন করতে সুবিধা হবে। কারণ কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ করে পিএইচডি’র ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ ডেডলাইন থাকে।
এগুলো মোটামুটি কমন। সায়েন্স, স্যোশাল সায়েন্স, আর্টস সবগুলোতেই এটা মোটামুটি কমন রিকোয়ারমেন্ট।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমার কথাতেও ত্রুটি থাকতে পারে। আমি শুধু আমার নিজের অভিজ্ঞতা ও অন্যদের কাছ থেকে যা জেনেছি সেগুলোই বলছি। আমার এখানে যদি কারো চোখে কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে অবশ্যই সেটা জানাবেন। আর আরেকটা কথা, আবেদন করার আগে অবশ্যই আপনি আপনার মতো করে একটা স্ট্র্যাটেজি ঠিক করে নিবেন। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য হলো আপনার মধ্যে একটা উৎসাহ তৈরী করা আর আমি যা জানি সেটা শেয়ার করা তার বেশী কিছু নয়।
#পর্ব১
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লেখার ইচ্ছা আছে, ইনশাআল্লাহ। নিজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য সোর্স থেকে লেখার চেষ্টা করবো। তবে সময় নিয়ে যেহেতু লিখতে হবে আরো কিছু দিন পর শুরু করবো ইনশাআল্লাহ।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার জন্য প্রস্তুতি থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে আসা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটাকে আমি তিন ভাগে ভাগ করতে চাই। এবং এই তিনটা স্ট্যাজ নিয়েই ধারাবাহিকভাবে লিখবো।
১. আবেদন পূর্ব প্রস্তুতি
২. বিশ্ববিদ্যালয় খোজা, সিলেকশন ও আবেদন
৩. ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে আসা।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পাওয়ার আগ পর্যন্ত পাসপোর্ট করা ছাড়া ৩ নম্বর স্ট্যাজ নিয়ে চিন্তা করার দরকার নাই।