মানুষ হবে কবে? তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব ও নাস্তিক্যবাদের সমাধান।

  • Home
  • Turkey
  • Ortaköy Beşiktaş
  • মানুষ হবে কবে? তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব ও নাস্তিক্যবাদের সমাধান।

মানুষ হবে কবে? তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব ও নাস্তিক্যবাদের সমাধান। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নাস্তিক্যবাদে?

Permanently closed.
29/12/2024
08/11/2023

হিন্দু ধর্মের নাগীন, বানর কারা?
স্বামী বিবেকানন্দের মতামত কি?

07/11/2023

ঋকবেদে দেবতাদের চরিত্র এবং তথাকথিত হিন্দু ধর্মে নারীদের সম্মান

06/11/2023

হিন্দু ধর্মগ্রন্থের যা কিছু ভুল তার সব দোষ মুঘলদের।

23/02/2023
🔰🔰 সতীদাহ বা সহমরণ প্রথা বিলুপ্ত করণে ভারত বর্ষের মুসলিম শাসকদের অবিস্মরণীয় অবদান: যে ইতিহাস অচর্চিত-অজানা: ❑ সতীদাহ প্র...
31/01/2023

🔰🔰 সতীদাহ বা সহমরণ প্রথা বিলুপ্ত করণে ভারত বর্ষের মুসলিম শাসকদের অবিস্মরণীয় অবদান: যে ইতিহাস অচর্চিত-অজানা:

❑ সতীদাহ প্রথা কী?

স্বামীর শব বা মৃত দেহের সঙ্গে বিধবা স্ত্রীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার প্রাচীন হিন্দুদের ধর্মীয় প্রথাই হল, সতীদাহ। সংস্কৃত ‘সতী‘ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে এমন সতীসাধ্বী রমণীকে বোঝায় যিনি তার স্বামীর প্রতি চূড়ান্ত সততা প্রদর্শন করেন এবং তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রতিও থাকেন সত্যনিষ্ঠ।

সতীদাহ প্রথা মূলত দুই ধরনের: সহমরণ ও অনুমরণ। স্বামীর চিতায় অগ্নিদগ্ধ হওয়া ও মৃত্যুবরণ করার অর্থ সহমরণ। আবার কখনও কখনও পৃথকভাবে বিধবা স্ত্রীকে সতী করা হত- হয়তো দূরত্বের জন্য বা শারীরিক কোনও অসুস্থতার জন্য বা গর্ভবতী থাকার জন্য স্বামীর ব্যবহৃত কোনও বস্ত্র বা দ্রব্য নিয়ে আলাদা চিতায় অনুমরণের মাধ্যমে বিধবা স্ত্রীকে অগ্নিদগ্ধ করা হতো। কখনও কখনও বিবাহিত স্ত্রী ছাড়াও উপপত্নীদেরও এই জঘন্য প্রথার শামিল হতে হতো। এই প্রথা সব বর্ণ, বয়স, ধনী-দরিদ্র উভয় পরিবারেই প্রচলিত ছিল। [সূত্র: ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য-পরিমার্জত]

❑ সতীদাহের বীভৎসতা:

এই প্রথা কীরকম নির্মম ও বীভৎস ছিল এবার তার একটু বর্ণনা দেওয়া যাক। সদ্যবিধবা নারী নববধূর মতো সাজে, তার শ্রেষ্ঠ পোশাক পরে, সিঁদুর, কাজল, ফুলমালা, চন্দন, আলতায় সুসজ্জিত হয়ে ধীরে ধীরে সে চিতায় ওঠে। তার স্বামীর পা দুটি বুকে আঁকড়ে ধরে কিংবা মৃতদেহকে দুই বাহুতে আলিঙ্গন করে। এইভাবে যতক্ষণ না আগুন জ্বলে সে বিভ্রান্তির সঙ্গে অপেক্ষা করে। যদি শেষ মুহূর্তে বিচলিত হয় এবং নীতিগত, দৃশ্যগত ভাবে ছন্দপতন ঘটে তাই আগে থেকেই আফিং বা সিদ্ধি জাতীয় উত্তেজক কিছু খাইয়ে বিধবা নারীকে আচ্ছন্ন করে রাখা হতো অনেকসময় হাত-পা বেঁধে জোর করে স্বামীর চিতায় তুলে দেওয়া হতো। কাঁচা কাঠ জ্বালানো হত যাতে ধোঁয়া বেশি হয়। যখন আগুনের লেলিহান শিখা অসহনীয় হয়ে ওঠে, সিদ্ধির নেশা কেটে যায়, তখন যদি সেই বিধবা বিচলিত হয়ে পড়ে এবং পালানোর চেষ্টা করে তখন কাঠ বা বাঁশ দিয়ে বারে বারে তাকে আগুনের মধ্যে ঠেলে ঠেলে দেওয়া হতো। তার ক্রন্দন যাতে কেউ না শুনতে পারে তাই হই-হুল্লোড় করে শঙ্খ, ঘণ্টা, কাঁসর, ঢোল বাজানো হতো। [সূত্র: ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য-পরিমার্জিত]
হিন্দু সমাজে বহু বিবাহ প্রচলিত ছিল। এক স্বামীর ১০, ১৫ বা ২০ জন স্ত্রী থাকতো। কিন্তু স্বামী মারা যাওয়ার পর তাদের সকলকে নির্মমভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হতো।

❑ হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থে সতীদাহ:

হিন্দুদের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে সতীদাহ বা সহমরণের বিষয়টি উল্লেখিত হয়েছে। যেমন: মহাভারত, রামায়ণ, স্মৃতিশাস্ত্র ইত্যাদি।
হিন্দুদের স্মৃতিশাস্ত্রে একাধিক স্থানে সতীদাহের কথা এসেছে। সহমরণে স্বামীসহ স্ত্রীকে ৩৩ কোটি বছর স্বর্গে যাওয়ার লোভ দেখানো হয়েছে।
আরও সতীদাহের কথা এসেছে, আর্য ধর্মশাস্ত্র পরাশর সংহিতায়, দক্ষ সংহিতায়, ব্যাস সংহিতায়, অত্রি সংহিতায়। বেদের ক্ষেত্রে ঋগ্বেদে সতীদাহের অনুমোদন কিংবা সুস্পষ্ট নিষিদ্ধতা দেখা যায় না। তবে ঋগ্বেদকে ব্যবহার করা হয়েছে ব্রাহ্মণ্য বাদীদের দ্বারা, সতী প্রথাকে জাস্টিফাই করার জন্য। [ঋগ্বেদ ১০/১৮/৭]
অথর্ব বেদে সতীদাহের আভাস রয়েছে, [অথর্ব বেদ ১৮/৩/১-৩], পুরাণে সতীদাহ-ষ্ণুপুরাণ অনুসারে কৃষ্ণের ৮ স্ত্রী তার সাথে আগুনে প্রবেশ করে। শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের ৪র্থ স্কন্দে সতীদাহের প্রমাণ মেলে। পদ্মপুরাণের উত্তরখণ্ডেও সহমরণ দেখা যায়। এ ছাড়াও দেবী ভাগবত পুরাণেও সতীদাহের, অপ্সরার কথা এসেছে।

❑ বিধবা নারীরা স্বেচ্ছায় আগুনে ঝাঁপ দিতো নাকি তাদেরকে জোর করা হতো?

সাধারণত নারীদের জোরপূর্বক দাহ করা হতো আর কিছু নারী স্বেচ্ছায় তা বরণ করে নিত। নারীরা যাতে চিতা থেকে পালাতে না পারে সেজন্য ভারি বাঁশ দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। আর কিছু নারী স্বেচ্ছায় আগুনে ঝাঁপ দিতো। সেটা ছিল তাদের ধর্মীয় কারণে, স্বামীর সাথে স্বর্গে বাস করতে পারবে এমন বিশ্বাস থেকে-যেমনটা হিন্দু শাস্ত্রে লেখা রয়েছে।

❑ সতীদাহ প্রথা সর্বপ্রথম কে বন্ধ করেন?

আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের কাছে সর্বাধিক পরিচিত যে, সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করেন রাজা রামমোহন রায় [জন্ম: ২ মে ১৭৭২, মৃত্যু: ২৭ সেপ্টেম্বর ১৮৩৩ (বয়স ৬১)] অথচ সতীদাহ বা সহমরণ প্রথা বন্ধ করার সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন ভারতের শাসনের মসনদে আরোহণ কারী মুসলিম শাসকগণ এবং তা পর্যায়ক্রমে হ্রাস ঘটাতে ঘটাতে সর্বশেষ বাদশাহ আওরঙ্গজেব রাষ্ট্রীয়ভাবে তা বন্ধ করেন। কিন্তু এক তরফা অপপ্রচারে মুসলিমদের এই অবদান প্রায় বিস্মৃত হয়ে যায়।

হ্যাঁ, রাজা রামমোহন রায় যদিও কোনও অঞ্চলের শাসক ছিলেন না (দিল্লির বাদশাহ দ্বিতীয় আকবর তাকে 'রাজা' উপাধি দিয়েছিলেন) কিন্তু বাঙ্গালী হিসেবে সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদে তার ক্ষুরধার লিখনি, সমাজ সচেতনতা, সামাজিক আন্দোলন এবং ব্রিটিশ শাসকদের দৃষ্টি আকর্ষণ ইত্যাদি বিভিন্নভাবে বিশাল প্রচেষ্টা ও অসামান্য অবদান রয়েছে-তাতে কোনও সন্দেহ নাই। তার প্রচেষ্টায় ব্রিটিশ ভারতে ১৮২৯ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক [lord william bentinck] আইন করে সতীদাহ প্রথা বন্ধ করলেন।

উল্লেখ্য যে, রামমোহন রায় একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন এবং তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মূর্তি পূজার ঘোর বিরোধী ছিলেন। [উইকিপিডিয়া]

❑ ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনামলে সতীদাহ:

ভারত বর্ষের ইতিহাসের সুদীর্ঘ কাল মুসলিমগণ শাসন করেছেন। তারা হলেন, মুসলিম ঘুরি সালতানাত (মুহাম্মদ ঘুরি), মামলুক সালতানাত (কুতুবউদ্দিন আইবেক) ,খিলজি সালতানাত (আলাউদ্দিন খিলজি), লোদী সালতানাত, মোঘল বাদশাহি, বাংলা অঞ্চলের ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর শাসনকাল)।

প্রায় হাজার বছরের মুসলিম শাসনামলে সতীদাহের গতিপথ কীরকম ছিল-তা জানাতে আমরা একাধিক ঐতিহাসিকের বর্ণনা উল্লেখ করছি।

◈ ক. ইবনে বতুতার বর্ণনা (১৩২৫-১৩৫৪):

বিখ্যাত ভ্রমণকারী ইবনে বতুতার বর্ণনা অনুযায়ী জানা যায়, সুলতানি শাসনামলে সুলতানরা গভর্নর নিয়োগ দিতেন, যাতে জোরপূর্বক সতীদাহ না করা হয়। নারীর ইচ্ছা এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সতীদাহ সম্ভব ছিল না সে সময়।

◈ খ. দে থেভেনতের বর্ণনা (১৬৬৩-১৬৬৭)

De Thevenot একজন ইয়রোপীয় ভ্রমণকারী ছিলেন। তার এবং ড. ক্যারেরির ভ্রমণকাহিনী উঠে এসেছে Indian Travels of Thevenot and Careri বইতে। আমরা সেখান থেকেই দেখাচ্ছি। তিনি বিধবা পোড়ানোর বিভিন্ন বর্ণনার পর সারাংশ হিসেবে যা লিখেছেন,
“…মহিলারা খুশি যে মুসলিমরা (মুহাম্মদিয়/মাহোমেটানস্) ইন্ডিয়ার শাসক হয়েছে, তাদের ব্রাহ্মণদের অত্যাচার থেকে উদ্ধার করার জন্য… …যাইহোক, গ্রেট মুঘল এবং অন্যান্য মুসলিম রাজকুমারগণ, তাদের গভর্নরদের এই অবমাননাকে দমন করার জন্য তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আদেশ দিয়েছিলেন, যতটা তাদের ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে..।

তার সময় মুঘল শাসকগণ ব্যবস্থা করেছিলেন যে, সতীদাহের জন্য তাদের থেকে অনুমতি নিতে হবে। তো এই অনুমতি নেওয়ার জটিলতার কারণেই অনেক নারী জীবন্ত আগুন থেকে রক্ষা পেতো, সাথে সাথে গোত্রে সম্মানহানি থেকেও।

তিনি আরও বলেছেন, “যখন থেকে মুসলিমরা ইন্ডিয়ার শাসক হল, তারা এই অমানুষিকতাকে মেনে নেয় নি, যেটা ব্রাহ্মণরা নিজেদের স্বার্থে করতো..।

◈ গ. উইলিয়াম ফৌস্টারের সংকলিত বর্ণনা (১৫৮৩-১৬২৯)

ফৌস্টার তার ‘Early Travels in India’ তে এডওয়ার্ড টেরির (১৬১৬-১৬১৯) বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, “সম্রাট জাহাঙ্গীর হিন্দু বিধবাদের আর্থিক সাহায্য করতেন যাতে মৃত স্বামীর চিতায় শুয়ে আত্মহত্যা না করে।”

আকবর নামায় আবু ফজলের বর্ণনা: “সম্রাট আকবরকে নিয়ে বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ‘আকবর নামা’-তে আবু ফজল বর্ণনা করেছেন, সব শহর ও জেলায় সম্রাট আকবর লোক নিয়োগ দিয়েছিলেন, যাতে জোর করে নারীদের না পোড়ানো হয়।

◈ ঘ. ভিনসেন্ট স্মিথের কোটেশন:

ভিনসেন্ট স্মিথ তার ‘Akbar The Great Mughal’ বইতে আকবর নামায় বর্ণিত ঘটনা কোট করেছেন। সম্রাট আকবর নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সহমরণ প্রথা রদ করে দিয়েছিলেন। তার অনুমতি ছাড়া সতীদাহ অসম্ভব ছিল।

◈ ঙ. ট্রাভের্নিয়ারের বর্ণনা:

ট্রাভের্নিয়ার উল্লেখ করেছেন, মুসলিম গভর্নররা সহজে সতীদাহের অনুমতি দিতো না।

❑ সতীদাহ প্রথা রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পূর্ণভাবে বিলোপ করেন কে?

সতীদাহ প্রথা সম্পূর্ণভাবে প্রথম বিলোপ করেন সম্রাট আওরঙ্গজেব [মৃত্যু: ৩ মার্চ ১৭০৭]

উইলিয়াম মুরক্রফট এবং জর্জ ট্রেবেকের বর্ণনা:

সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৬৯ সালে সতীদাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেন, জোর করে হোক, আর স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা হোক। [Travels in the Himalayan Provinces of Hindustan and the Panjab: In …, Volume 2 By William Moorcroft, George Trebeck, page 131]

দুভার্গ্য হলেও সত্য যে, বর্তমানকালের অনেক হিন্দু পণ্ডিতও সতীদাহের সমর্থক। যেমন: শঙ্করাচার্য, স্বামী বিবেকানন্দও প্রমুখগণ।

উপরোক্ত তথ্যাদির প্রমাণে বিভিন্ন বইয়ের রেফারেন্স এবং বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে এই ওয়েব সাইটে। এ বিষয়ে অধিক জ্ঞানার্জনে আগ্রহীদেরকে এই ওয়েব সাইটটি ভিজিট করার অনুরোধ করছি। লিংক:
http://bit.ly/3krH6F2
আল হামদুলিল্লাহ-সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং দুনিয়ার আগুন থেকে রক্ষা করেছেন। আর তার প্রতি ইমান আনায়নের পর তাঁর নির্দেশিত পথে পরিচালিত হলে তিনি আমাদেরকে পরকালের জাহান্নামের ভয়াবহ আগুন থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় তিনি পরম দয়ালু ও করুণাময়।
গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

দামেশকের মসজিদে একজন যুবক এসেছে। লোকজন তাঁর চারপাশে ভিড় করে আছে। তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় যেসব বিষয়ে মতভেদ করছে,...
23/01/2023

দামেশকের মসজিদে একজন যুবক এসেছে। লোকজন তাঁর চারপাশে ভিড় করে আছে। তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় যেসব বিষয়ে মতভেদ করছে, সেসব বিষয়ে তাঁরা ঐ যুবকের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে। সাধারণত গণ্যমান্য কোনো ব্যক্তি না হলে কেউ এমনভাবে কোনো আগন্তুকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নেয় না।

তাবেয়ী আবু ইদরীস খাওলানী দূর থেকে বিষয়টি অবলোকন করছেন। তিনি একজনকে জিজ্ঞেস করলেন এই যুবক সম্পর্কে। জানতে পারলেন তিনি মুয়ায ইবন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, আল্লাহর রাসূল ﷺ এর সাহাবী।

আবূ ইদরীস ফিরে গেলেন, সেদিন আর দেখা করলেন না কারণ এত মানুষের ভিড়ে তিনি ঠিকমত কথা বলার সুযোগ পাবেন না।

পরদিন সকাল বেলা তিনি মসজিদে গেলেন মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করতে। মসজিদে গিয়ে দেখেন মুয়ায আগেই চলে এসেছে এবং সালাত আদায় করছে।

আবু ইদরীস তাঁর সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন। সালাত শেষে আবু ইদরীস মুয়াযকে সালাম দিলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম আমি আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালবাসি!

মুয়ায আপ্লুত হয়ে বললেন, আল্লাহর জন্য?
তিনি বললেন, আল্লাহর জন্য!

এভাবে মুয়ায তিনবার জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তিনবারই আল্লাহর জন্য ভালবাসার কথা বললেন।

এরপর মুয়ায তাকে কাছে টেনে নিলেন এবং বললেন, সুসংবাদ গ্রহন করো! কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যারা পরস্পর পরস্পরকে ভালবাসে, একে অপরের সঙ্গে বসে, একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং একে অপরের জন্য খরচ করে, তাদের জন্য আমার ভালবাসা ওয়াজিব হয়ে যায়।

আপনিও যদি কাউকে আল্লাহর জন্য ভালবাসেন, তাকে জানিয়ে দিন। কারণ নবী ﷺ বলেছেন, যখন কোন মানুষ তার ভাইকে ভালবাসে, তখন সে যেন তাকে জানিয়ে দেয় যে, সে তাকে ভালবাসে।

তাকে আল্লাহর জন্য ভালবাসলে তার সাথে সাক্ষাৎ করুন, দাওয়াত দিন, পারলে কিছু হাদিয়া দিন। এসব কিছু যদি সত্যি সত্যিই আল্লাহর জন্য হয় তাহলে রাসূল ﷺ এর ভাষ্য অনুযায়ী আল্লাহর ভালবাসা আপনার উপরে ওয়াজিব হয়ে যাবে। [মুয়াত্তা : ১৭৭৮-৭৯]

▌আমরা কি জানি, আল্লাহর জন্য ভালোবাসার মূল্য কী?

·
বিগত শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফাকিহ, আশ-শাইখুল আল্লামা, আল-মুজাদ্দিদ, ইমাম মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.) প্রদত্ত ফতোয়া—

প্রশ্ন: “আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবাসলে কি সেটা জানিয়ে দেওয়া জরুরি?”

শাইখ: “হ্যাঁ। কিন্তু আল্লাহর জন্য ভালোবাসার মূল্য তো অনেক, খুব কম লোকই সেই মূল্য দিতে পারে। তোমরা জানো কি আল্লার জন্য ভালোবাসার মূল্য কত? তোমাদের মাঝে কেউ কি বলতে পারবে? কে জবাব দেবে?”

জনৈক শ্রোতা: “রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সাত শ্রেণির লোক আল্লাহর আরশের ছায়াতলে থাকবে, যেদিন তার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না।’ তন্মধ্যে এমনও দুজন লোক আছে, যারা একে অপরকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, এর জন্যই একত্রিত হয় এবং এটার জন্যই আলাদা হয়।”

শাইখ: “কথাটা এমনিতেই ঠিক আছে। কিন্তু এটা আমার প্রশ্নের উত্তর নয়। এটা আল্লাহর জন্য ভালোবাসার কাছাকাছি সংজ্ঞা হতে পারে, কিন্তু পুরোটা নয়। আমার প্রশ্ন ছিল— আল্লাহর উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসা স্থাপনকারী ব্যক্তিদ্বয়ের কী মূল্য পরিশোধ করতে হবে? আমি কিন্তু পরকালীন কোনো পুরস্কারের কথা বলছি না। অন্যভাবে বলতে গেলে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালোবাসার পারস্পরিক কার্যগত কোনো প্রমাণ আছে কী?

কারণ দুইজনকে দেখা গেল, তারা একে অপরকে ভালোবাসে, কিন্তু এটা কৃত্রিম, সত্যিকার নয়। তাহলে সত্যিকার ভালোবাসার আলামত কী?”

জনৈক দর্শক: “নিজের জন্য যা পছন্দ করবে, তার অপর ভাইয়ের জন্যও তাই পছন্দ করবে।”

শাইখ: “এটা তো ভালোবাসার একটা ধরন হলো মাত্র!”

আরেকজন দর্শক: “আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ৩১)”

শাইখ: “এটা তো অন্য প্রশ্নের উত্তর হলো।”

অন্য শ্রোতা: “এই হাদিসের মাঝে সম্ভবত এর উত্তর আছে, ‘তিন শ্রেণির লোক ঈমানের স্বাদ পেয়েছে…।’ তন্মধ্যে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা স্থাপনকারী ব্যক্তিদ্বয়ের কথাও আছে।”

শাইখ: “আল্লাহর জন্য ভালোবাসার ফলাফল এটা, যা সে তার অন্তরে অনুভব করবে।”

জনৈক সুধী: “আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আসরের শপথ। নিশ্চয়ই সব মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তবে তারা ব্যতীত যারা ইমান এনেছে, সৎ আমল করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং একে অপরকে ধৈর্যধারণের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করে।’ (সুরা আসর: ১-৩)”

শাইখ: “সুন্দর বলেছ, এটাই হচ্ছে উত্তর। এর ব্যাখ্যা হলো— আমি যদি সত্যিই তোমাকে আল্লাহর জন্য ভালোবেসে থাকি, তবে অবশ্যই আমি তোমাকে বারংবার উপদেশ দেব। অনুরূপভাবে তুমিও আমার ক্ষেত্রে একই পন্থা অবলম্বন করবে। আর এই পারস্পরিক উপদেশ দান আল্লাহর জন্য ভালোবাসার দাবিকারীদের মাঝে নিতান্তই কম। এই ভালোবাসার মাঝে ইখলাসও থাকে, তবে তা পূর্ণাঙ্গ নয়। কারণ আমরা একে অপরকে ভয় করি, এই বুঝি মিল ভেঙ্গে যায়, এই বুঝি সে চলে যায় ইত্যাদি ইত্যাদি।

এজন্যই আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালোবাসার মূল্য হচ্ছে, আমরা একে অপরের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকব; আর এটা সম্ভব শুধুমাত্র পারস্পরিক উপদেশ দান ও কল্যাণকামিতার মাধ্যমে। সর্বদা ভালোকাজের আদেশ দেবে, মন্দকাজ থেকে নিষেধ করবে; এক কথায় তার ছায়ার প্রতি অনুসরণের চেয়ে তাকে উপদেশ দেওয়ার সঙ্গ সে বেশি দেবে। এজন্যই বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবিদের অন্যতম অভ্যাস ছিল, তাঁরা নিজেদের মধ্যকার সাক্ষাতে সুরা আসর পড়ে একে অপরকে শুনাতেন।”

·
সূত্র: আল-হাওয়ি মিন ফাতাওয়িল আলবানি, পৃষ্ঠা: ১৬৫।

·
অনুবাদক: ইয়াকুব বিন আবুল কালাম

21/01/2023

আমাদের দেশের শিক্ষা মন্ত্রী দিপু মনির একটা সাক্ষাৎকার শুনলাম, এবছরের পাঠ্য বই বিষয়ে।
কিন্তু তিনি খুবই হাসিমুখে বলে দিলেন পাঠ্যবইয়ে কোন বিষয়ই নাই যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক।
এখন প্রশ্ন উনি কি বই খুলে দেখেছেন নাকি বলার আছে তাই বলে দিলেন?

🥴🥴
13/07/2022

🥴🥴

কোন মন্তব্য আছে কি?
20/02/2022

কোন মন্তব্য আছে কি?

সনাতন ভাই/বোনেরা ঋগবেদও অস্বীকার করবে?
15/02/2022

সনাতন ভাই/বোনেরা ঋগবেদও অস্বীকার করবে?

মাঝে মাঝে কিছু মন খারাপের কারণ খুঁজে পাই না।মন হয়তো খারাপ, কিন্তু জানিই না যে ঠিক কী কারণে মন এমন বিচ্ছিন্ন আর উদাস হয়ে ...
14/12/2021

মাঝে মাঝে কিছু মন খারাপের কারণ খুঁজে পাই না।

মন হয়তো খারাপ, কিন্তু জানিই না যে ঠিক কী কারণে মন এমন বিচ্ছিন্ন আর উদাস হয়ে আছে। পূর্বাপর সব ঘটনাগুলোতে চোখ বুলিয়েও কোন যুতসই কারণ বের করা যায় না।

এমন অ-কারণ মন খারাপের একটা কারণ হতে পারে সালাতের প্রতি আমাদের উদাসীনতা। আমরা আমাদের সালাতের ব্যাপারে যথেষ্ট যত্নশীল নই।

আপনি হয়তো বলবেন, 'কই, আমি তো সালাত ত্যাগ করি না ভাই। কিন্তু তা-ও কেনো আমার মাঝে মাঝে অ-কারণ মন খারাপ হয়?'

'সালাতে যত্নশীল হওয়া' বলতে আমরা যা বুঝি তা হচ্ছে— সালাত ত্যাগ না করা। কিন্তু, এটুকুই কেবল সালাতের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার জন্যে যথেষ্ট নয়।

ঠিক সময়ে আমি সালাত আদায় করছি কি-না, সালাতে আমার খুশুখুযু তথা মনোযোগ ঠিকঠাক রাখতে পারছি কি-না এসবও সালাতের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার অন্তর্ভুক্ত।

ফযরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে এলো প্রায়। ঘড়িতে আর মিনিট পাঁচেক বাকি। তড়িঘড়ি করে উঠে আমি বুলেটের গতিতে ওযু করে জায়নামাজে দাঁড়ালাম৷ হাতে আমার সময় কেবল সাড়ে তিন মিনিট। সুন্নাহ তো বাদ-ই গেলো, এই তিন মিনিটে আমাকে শেষ করতে হবে দুই রাক'আত ফরয সালাত!

সাড়ে তিন মিনিট সময়ে দুই রাক'আত সালাত কতোখানি যত্ন আর আন্তরিকতার সাথে আদায় করা যায় ভাবুন তো!

এই ঘটনা যদি আমার নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়ায়, যদি আসর আর মাগরিবেও আমাকে এমন হুলস্থুল করে নিয়মিত সালাত আদায় করতে হয়, তাহলে সালাতের ব্যাপারে আমাকে জরুরিভাবে ভাবতে হবে বৈকি!

সালাতের সময় নিয়ে যদি আমাকে রোজ এভাবে দৌঁড়ঝাপ করতে হয়, তাহলে আমি সালাত-সমাপ্তকারী হবো বটে, আদায়কারী হয়ে উঠতে পারবো না।

হাসান আল বাসরী রাহিমাহুল্লাহর একটা সুন্দর উক্তি আছে৷ তিনি বলেছেন:

'যখনই আপনি আপনার সালাতকে ঠিক করতে পারবেন, দেখবেন আপনার জীবনটাও ঠিক হতে শুরু করেছে। যদি আপনার মনে হয়— কেনো আপনার রিযক সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, কেনো আপনার বিয়ে হতে দেরি হচ্ছে, কেনো আপনার কাজে বারাকাহ কমে যাচ্ছে, কেনো দিন দিন খারাপ হচ্ছে আপনার স্বাস্থ্য, তাহলে আপনাকে বলবো আপনার সালাতের দিকে নজর দিন। দেখুন তো— সালাত আদায়ে আপনি দেরি করেন না তো?'

আমার অ-কারণ মন খারাপের কারণ হয়তো এখানেই যে— যথার্থ সময়ে এবং যথাযথ ভাবে আমি সালাত আদায় করতে ব্যর্থ হচ্ছি।
আরিফ আজাদ
Research on Islam

Address

TRT WORLD HEADQUARTERS AHMET ADNAN SAYGUN Street NO:83 34347 ULUS
Ortaköy Beşiktaş

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মানুষ হবে কবে? তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব ও নাস্তিক্যবাদের সমাধান। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to মানুষ হবে কবে? তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব ও নাস্তিক্যবাদের সমাধান।:

Shortcuts

Share