19/04/2026
৭৫ বয়সী আব্দুল হাই নিজের জমিতে কাজ করছিলেন। জমিটা তিনি এক বছর আগে রেজাউল নামের একজনের কাছ থেকে কিনেছিলেন।
তার বয়স হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েগুলোর ভবিষ্যৎ আছে।সেজন্যে তিনি চিন্তা করেছিলেন এই জায়গাটাতে একটা দোকান বনানেন যাতে তার ছেলেরা অন্তত বেকার না থাকে, কিছু একটা করে খেতে পারে।
এজন্যে গত ৭ তারিখ মঙ্গলবারে ছেলেকে নিয়ে জায়গাটা একটু পরিষ্কার করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে কাজ করার সময় নোয়াখালীর নোয়ান্নাই ইউনিয়নের যুবদল নেতা লিটন এসে কাজে বাঁধা দেয়।
বয়স্ক আব্দুল হাই তখন বলেন- এটাতো আমারই কিনা জমি। আপনারা বাঁধা দিচ্ছেন কেন?
বিএনপির যুবদল নেতা লিটন তখন জোর করে বলে- এটা আমার মামার জমি, তোরা এখানে কিছু করতে পারবি না।
বয়স্ক আব্দুল হাই আবারো জমিটা কিনার কথাটা জানায়। কিন্তু লিটন কোনভাবেই মানতে চায় না।
সে বারবার বলে- তুই আমারে চিনোস? আমাদের দল এখন ক্ষমতায় তুই জানোস না। জমিটা ভালোয় ভালোয় ছাইড়া দে।
আব্দুল হাইয়ের ছেলে তখন বলে- এটাতো আমাদের জমি ,আমরা কিনা রাখছি। আপনার মামার জমি হইলে দলিল বা কাগজ নিয়া আসেন।
কিন্তু লিটন কোন দলিল বা কাগজ দেখাতে পারে না। দেখাবেই কি করে? এই জমি তো তার মামার না। সে এসেছিল রাজনৈতিক ক্ষমতা দিয়ে জোর করে দখল করে নিতে।
দলিল আনার কথা বলায় লিটন এবারে রেগে যায় এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরদের যোগাড় করে চিল্লাচিল্লি করতে থাকে। এমনকি কতক্ষণ হুমকি ধামকিও দেয়।
তারপর যখন বুঝতে পারে দলিল ছাড়া জমি নিতে পারবে না তখন লিটন বলে- আচ্ছা জমি লাগব না, জমিতে যে কাজ করতাছস ৩ লাখ টাকা চাঁদা দে।
বৃদ্ধ আব্দুল হাই গরিব মানুষ। তিনি তখন বলেন- বাবা, আমি গরিব মানুষ , বহু কষ্টের টাকা দিয়া জমিটা কিনছি। চাঁদার টাকা দিমু কেমনে?
চাঁদার ৩ লাখ টাকা দিতে না পারার কথা শুনে লিটন প্রচন্ড রেগে যায়। সে তার সাথের সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে বৃদ্ধ আব্দুল হাইকে পিটাতে শুরু করে। আবদুল হাই বয়স্ক মানুষ বিধায় কোনরকম বাঁধাও দিতে পারেননি।
আব্দুল হাইয়ের ছেলে বাঁধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে লিটনের লোকেরা। তারপর লিটন বৃদ্ধ আব্দুল হাইকে মারতে মারতে পাশের একটা ব্রীজের কাছে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে নিচে ফেলে দেয়।
আব্দুল হাই বয়স্ক মানুষ। ব্রীজের উপর থেকে ফেলে দেওয়ায় শরীরের বেশিরভাগ অংশই থেঁতলে যায় তার। পা এবং মাথায় প্রচন্ড রকমের জখমও হয়।
তার ছেলে তখন বাবাকে কোনরকম চেষ্টা করে নোয়াখালীর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। কিন্তু শরীর খুব বাজেভাবে থেঁতলে গিয়েছিল তাই ডাক্তাররা ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যেতে বলে।
ঢাকা মেডিকেল আনার পরও আর বাঁচানো যায়নি বৃদ্ধ আব্দুল হাইকে। শরীরের থেঁতলে যাওয়ার প্রচন্ড যন্ত্রণা নিয়েই গত ৯ তারিখ বৃহস্পতিবারে মারা যান তিনি।
আব্দুল হাই মারা যাওয়ার পর পুলিশ নামমাত্র একজনকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু বাকিদেরকে এখনো ধরেনি, হয়তো ধরবেও না কারণ তারা বিএনপি করে, এমনকি ইউনিয়ন যুবদলের পদেও আছে।
দলের পাওয়ার খাটিয়ে এসব নেতারা এখন সবজায়গাতেই জমি দখল করছে, চাঁদাবাজি করছে। কারওয়ান বাজার থেকেই প্রতিদিন ১ কোটি টাকা করে চাঁদা তুলছে ওরা। প্রশাসন ওদেরকে কিচ্ছু করছে না কারণ তাদের দল এখন ক্ষমতায়।
আব্দুল হাইয়ের ছেলেটা অসহায়। জমিতে চাঁদা না দেয়ায় সে তার বৃদ্ধ বাবাকে হারিয়েছে। এখন জমিটাও হারাতে চলেছে। কারণ নেতাদের সাথে তার মতো গরিব মানুষরা পারবে না। মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্যেও তাকে অসংখ্য হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে।
আব্দুল হাইয়ের অসহায় ছেলেটা কেঁদে কেঁদে বলছিল- বৃদ্ধ বাবাটারে তো হারাইলাম। জমিটাও হয়তো ওরা দখল কইরা নিব। সবই তো হারাইলাম এহন কি বাপের হ*ত্যার বিচারটাও পামু না?
আব্দুল হাইয়ের অসহায় ছেলেটা এত বড় বড় নেতাদের সাথে না পেরে জমিটার আশা ছেড়ে দিয়েছে। সে এখন জমিটাও চায় না, সে তার বৃদ্ধ বাবাকে নির্মমভাবে মেরে ফেলার বিচারটুকু চায় শুধু
Please share