19/10/2022
মদিনা সনদে রাষ্ট্র নীতি
নবী মোহাম্মদ যখন মক্কা হইতে মদিনায় হিজরত করিলেন তখন মদিনার মো
ট জনসংখ্যার ৪০% ছিলো ইহুদি , ১৫% ছিলো মুসলমান।
বাকীরা কেহ ছিল অগ্নি উপাসক ও প্রকৃতির উপাসক।
নবী মোহাম্মদ সবাই কে সঙ্গে নিয়া বসলেন, এবং রচনা করিলেন ৪৭টি ধারা যুক্ত এক সংবিধান।
ইহাই বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান, যাহা " মদিনা সনদ " নামে পরিচিত।
এই সনদটি ছিলো মানবাধিকারের শ্রেষ্ঠ দলিল।
কারণ, এই সনদে মদিনা নগরীর সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হইয়াছিলো।
এই সনদে উল্লেখিত ছিলো,
" ইহুদি, পৌত্তলিক সহ অন্যান্য সব ধর্মের লোকেরা নিজ নিজ ধর্ম - কর্ম পালনে কোনোরুপ বাধার সম্মুখীন হইবে না।"
(ইহাই ছিলো সত্যিকার অর্থে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রথম দলিল, মদিনা হইলো প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র।
আর এই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রবক্তা ছিলেন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ।)
মদিনা সনদ লিখিত হইলো।
সারা মদিনায় খুশীর জোয়ার বহিয়া গেলো।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিষয়ে লিখিত এই নির্দেশনা, তাহার ওফাতের পর তাহার তথাকথিত নামধারী উম্মতেরা যে মানিয়া চলিবে না - তাহা নবী মোহাম্মদ বুঝিতে পেরেছিলেন।
তাই পরবর্তী তে তিনি সকলের উদ্দেশ্যে সাবধানবানী উচ্চারন করিয়া বলে ছিলেন,
" সাবধান! মুয়াহিদ ( মুসলমান শাসনে বসবাস করা অন্য ধর্মের মানুষ) কোনো ব্যাক্তির উপর জুলুম করিবে অথবা তাহার প্রাপ্য কম দিবে অথবা তাহার সামর্থ্যের বাহিরে কিছু করিতে বাধ্য করিবে অথবা তাহার সন্তুষ্টিমুলক সম্মতি ছাড়া তাহার নিকট হইতে কিছু গ্রহণ করিবে - মনে রাখি ও, কেয়ামতের দিন আমি তাহার বিপক্ষে বাদী হইবো।"(বিঃদ্রঃ এই সনদে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম হবে এমন কোন কথা বালা নেই, )
ইহার পরপরই মহাগ্রন্থে আয়াত নাজিল হইয়াছিলো,
" হে নবী, আপনি বলিয়া দিন - আল্লাহ কে বাদ দিয়ে তাহারা যাহাদের উপাস্য হিসাবে ডাকে, তোমরা তাহাদের গালমন্দ করিও না। নতুবা তাহারা অজ্ঞানতাবশতঃ / শত্রুতাবশতঃ না জানিয়া আল্লাহ কে গালাগাল করিবে।"( আনাম ১০৮)
নবী মোহাম্মদ এর আমলে তৎকালীন মক্কা ও মদিনা উভয় স্থানই ছিলো গোত্রে ও ধর্মে বিভাজিত।
কিন্তু আল্লাহর রাসুল কাউকে জোর করে মুসলমান বানানোর চেষ্টা করেন নি।
বরঞ্চ বিদায় হজ্জের ভাষনে সকলের উদ্দেশ্যে বলে ছিলেন,
" হে মানব মন্ডলী, সাবধান! তোমরা ধর্ম লইয়া বাড়াবাড়ি করিওনা। কেননা, তোমাদের পূর্বের জাতিগুলো ধর্ম লইয়া বাড়াবাড়ি কারণে ধ্বংস হইয়া গিয়াছে।
وَ لَا تَلۡبِسُوا الۡحَقَّ بِالۡبَاطِلِ وَ تَکۡتُمُوا الۡحَقَّ وَ اَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۴۲ এবং তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করনা এবং জেনে শুনে সত্য গোপন করনা।(২:৪২)
اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ الَّذِیۡنَ ہَادُوۡا وَ النَّصٰرٰی وَ الصّٰبِئِیۡنَ مَنۡ اٰمَنَ بِاللّٰہِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَ عَمِلَ صَالِحًا فَلَہُمۡ اَجۡرُہُمۡ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ۪ۚ وَ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَ لَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ﴿۶۲﴾
নিশ্চয়ই মুসলিম, ইয়াহুদী, খৃষ্টান এবং সাবেঈন সম্প্রদয়, (এদের মধ্যে) যারা আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং ভাল কাজ করে, তাদের জন্য তাদের রবের নিকট পুরস্কার রয়েছে, তাদের কোন প্রকার ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবেনা।(২:৬২) (অতএব তুমি তাদের কে মন্দ বলার কে !?)
وَ لَوۡ شَآءَ رَبُّکَ لَاٰمَنَ مَنۡ فِی الۡاَرۡضِ کُلُّہُمۡ جَمِیۡعًا ؕ اَفَاَنۡتَ تُکۡرِہُ النَّاسَ حَتّٰی یَکُوۡنُوۡا مُؤۡمِنِیۡنَ ﴿۹
আর যদি তোমার রাব্ব ইচ্ছা করতেন তাহলে বিশ্বের সকল লোকই ঈমান আনত। তাহলে তুমি কি মানুষের উপর যবরদস্তি করতে পার, যাতে তারা ঈমান আনে-ই?(১০:৯৯)= ( ধর্মান্তরিত করা সম্পূর্ণ ভাবে নিষেধ করেছেন)
لَکُمۡ دِیۡنُکُمۡ وَلِیَ دِیۡنِ ٪﴿۶﴾
লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন।
তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন। =( এই আয়াতে দেখা যায় ধর্ম পরিপূর্ণ ভাবে স্বাধীন,)
عَسَی اللّٰہُ اَنۡ یَّجۡعَلَ بَیۡنَکُمۡ وَ بَیۡنَ الَّذِیۡنَ عَادَیۡتُمۡ مِّنۡہُمۡ مَّوَدَّۃً ؕ وَ اللّٰہُ قَدِیۡرٌ ؕ وَ اللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۷﴾
যাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা রয়েছে সম্ভবতঃ আল্লাহ তাদের ও তোমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দিবেন; আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পরম দয়ালু।لَا یَنۡہٰىکُمُ اللّٰہُ عَنِ الَّذِیۡنَ لَمۡ یُقَاتِلُوۡکُمۡ فِی الدِّیۡنِ وَ لَمۡ یُخۡرِجُوۡکُمۡ مِّنۡ دِیَارِکُمۡ اَنۡ تَبَرُّوۡہُمۡ وَ تُقۡسِطُوۡۤا اِلَیۡہِمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الۡمُقۡسِطِیۡنَ ﴿۸﴾
দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের স্বদেশ হতে বহিস্কৃত করেনি তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। আল্লাহতো ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।
اِنَّمَا یَنۡہٰىکُمُ اللّٰہُ عَنِ الَّذِیۡنَ قٰتَلُوۡکُمۡ فِی الدِّیۡنِ وَ اَخۡرَجُوۡکُمۡ مِّنۡ دِیَارِکُمۡ وَ ظٰہَرُوۡا عَلٰۤی اِخۡرَاجِکُمۡ اَنۡ تَوَلَّوۡہُمۡ ۚ وَ مَنۡ یَّتَوَلَّہُمۡ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ﴿۹﴾
আল্লাহ শুধু তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন যারা দীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বহিস্কৃত করেছে এবং তোমাদের বহিঃস্করণে সাহায্য করেছে। তাদের সাথে যারা বন্ধুত্ব করে তারাতো অত্যাচারী। (৬০:৭-৮-৯)
= (এই তিনটি আয়াত মোতাবেক বিধর্মীদের সাথে বন্ধুত্ব করা নিষেধ নাই, বরং "মুসলিম নামের মুনাফিক এর সাথে বন্ধুত্ব করা নিষেধ")
اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا الذِّکۡرَ وَ اِنَّا لَہٗ لَحٰفِظُوۡنَ ﴿۹﴾
আমিই জিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই উহার সংরক্ষক।(১৫:৯)
# # খেয়ে খেয়ে গোশত রুটি তো খুব ,
হয়েছ খোদার খাশি বেকুব।
নিজেকে দাও কোরবানি,
বেঁচে যাবে তুমি বাঁচবে দ্বীন
দাশ ইসলাম হবে স্বাধীন।
( কাজী নজরুল ইসলাম)
কিছু লোক মদিনা সনদের হুংকার দেয়, মুলত এরা
সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে তাদের সিয়ো খেলা ফত চায় । প্রকৃত এরাই ধর্ম মাতাল !!
লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন কাজে লাগবে,
তার পরে মন্তব্য করুন। ধন্যবাদ( সংগৃহীত)