সুরা মুলক বাংলা
উচ্চারণ, অর্থ
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
(১) বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত। আর তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।
(২) যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদের পরিক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালি, অতিশয় ক্ষমাশীল।
(৩) যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তুমি আবার দৃষ্টি ফিরাও, কোনো ত্রুটি দেখতে পাও কি?
(৪) অতঃপর তুমি দৃষ্টি ফিরাও একের পর এক, সেই দৃষ্টি অবনমিত ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।
(৫) আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপ দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের বস্তু বানিয়েছি। আর তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের আজাব।
(৬) আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে যাহান্নামের আজাব। আর কতই না নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তনস্থল!
(৭) যখন তাদের তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার বিকট শব্দ শুনতে পাবে। আর তা উথলিয়ে উঠবে।
(৮) ক্রোধে তা ছিন্ন ভিন্ন হওয়ার উপক্রম হবে। যখনই তাতে কোনো দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরিরা তাদের জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের নিকট কি কোনো সতর্ককারি আসেনি’?
(৯) তারা বলবে, ‘হ্যা, আমাদের নিকট সতর্ককারি এসেছিল। তখন আমরা (তাদের) মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘আল্লাহ কিছুই নাজিল করেননি। তোমরা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছ’।
(১০) আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসিদের মধ্যে থাকতাম না’।
(১১) অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব, ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসিদের জন্য।
(১২) নিশ্চয়ই যারা তাদের রবকে না দেখেই ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।
(১৩) আর তোমরা তোমাদের কথা গোপন করো অথবা তা প্রকাশ করো, নিশ্চয়ই তিনি অন্তরসমূহে যা আছে সে বিষয়ে সম্যক অবগত।
(১৪) যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি যানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, পূর্ণ অবহিত।
(১৫) তিনিই তো তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিজিক থেকে তোমরা আহার করো। আর তাঁর নিকটই পুনরুত্থান।
(১৬) যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদেরসহ জমিন ধসিয়ে দেওয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ, অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থর থর করে কাঁপতে থাকবে।
(১৭) যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের ওপর পাথর নিক্ষেপকারি ঝোড়ো হাওয়া পাঠানো থেকে তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ, তখন তোমরা যানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী?
(১৮) আর অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীরাও অস্বীকার করেছিল। ফলে কেমন ছিল আমার প্রত্যাখ্যান (এর শাস্তি)?
(১৯) তারা কি লক্ষ্য করেনি তাদের উপরস্থ পাখিদের প্রতি, যারা ডানা বিস্তার করে ও গুটিয়ে নেয়? পরম করুণাময় ছাড়া অন্য কেউ এদের স্থির রাখে না। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর সম্যক দ্রষ্টা।
(২০) পরম করুণাময় ছাড়া তোমাদের কি আর কোনো সৈন্য আছে, যারা তোমাদের সাহায্য করবে? কাফিররা শুধু তো ধোঁকায় নিপতিত।
(২১) অথবা এমন কে আছে, যে তোমাদের রিজিক দান করবে যদি আল্লাহ তাঁর রিজিক বন্ধ করে দেন? বরং তারা অহমিকা ও অনীহায় নিমজ্জিত হয়ে আছে।
(২২) যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখের ওপর ভর দিয়ে চলে সে কি অধিক হেদায়াতপ্রাপ্ত না কি সেই ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে?
(২৩) বলো, ‘তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তকরণসমুহ দিয়েছেন। তোমরা খুব অল্পই শোকর করো’।
(২৪) বলো, ‘তিনিই তোমাদের জমিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের সমবেত করা হবে’।
(২৫) আর তারা বলে, ‘সে ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।
(২৬) বলো, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই নিকট। আর আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র’।
(২৭) অতঃপর তারা যখন তা আসন্ন দেখতে পাবে, তখন কাফিরদের চেহারা মলিন হয়ে যাবে এবং বলা হবে, ‘এটাই হলো তা, যা তোমরা দাবি করছিলে’।
(২৮) বলো, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি’? যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সঙ্গে যারা আছে, তাদের ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তাহলে কাফিরদের যন্ত্রণাদায়ক থেকে কে রক্ষা করবে’?
(২৯) বলো, ‘তিনিই পরম করুণাময়। আমরা তাঁর প্রতি ইমান এনেছি এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করেছি। কাজেই তোমরা অচিরেই যানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে’?
(৩০) বলো, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কী, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদের বহমান পানি এনে দিবে’?
---
The Holy Al-Quran
Read surrahs each day of Quran from the beginning to the end, and try to memorize the Holy Al Quran. The second source is the Sunnah of the Prophet (saw).
❖।❖ সুরা ফাতিহা ❖।❖
► যার মাধ্যমে কোন বিষয়ের সূচনা করা হয়, কোন বিষয় আরম্ভ করা হয়, কোন কাজের উদ্বোধন করা হয়, কোন গ্রন্থের সূচনা করা হয়, আরবী ভাষায় তাকেই 'ফাতিহা' বলে। এই সুরার মাধ্যমেই কোরআন আরম্ভ হয়, এ জন্য এই সুরাকে 'ফাতেহাতুল কোরআন' বা, 'উম্মুল কুরআন' বলা হয়।
► সুরা ফাতিহা হলো কোরআনের সারাংশ। সম্পূর্ণ কোরআনের মধ্যে
যেসব বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, সে আলোচনার বিষয়বস্তু সুরা আল-ফাতিহার সাতটি আয়াতের ম
সুরা মুলক বাংলা
উচ্চারণ, অর্থ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
১) তাবা-রাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মূলকু ওয়া হুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদির।
(২) আল্লাজি খালাকাল মাওতা ওয়াল হায়া-তা লিইয়াবলুওয়াকুম আইয়ুকুম আহছানু‘ আমালাওঁ ওয়া হুওয়াল ‘আজিজুল গাফুর।
(৩) আল্লাজি খালাকা ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিন তিবা-কান মা- তারা- ফি খালকির রাহমা-নি মিন তাফা-উত ফারজি‘ইল বাসারা হাল তারা- মিন ফুতুর।
(৪) ছুম্মার জি’ইলবাসারা কাররাতাইনি ইয়ানকালিব ইলাইকাল বাসারু খা-ছিআওঁ ওয়া হুওয়া হাসির।
(৫) ওয়া লাকাদ জাইয়ান্নাছ সামাআদ্দুনইয়া- বিমাসা-বিহা ওয়াযা’আলনা- হা- রুজুমাল লিশশায়াতিনি ওয়া আ’তাদনা- লাহুম ‘আযা- বাছছা’ঈর।
(৬) ওয়া লিল্লাজিনা কাফারুবিরাব্বিহিম ‘আযা- বুযাহান্নামা ওয়াবি’ছাল মাসির।
(৭) ইজাউলকুফিহা- ছামি’উ লাহা- শাহিকাওঁ ওয়াহিয়া তাফুর।
(৮) তাকা- দুতামাইয়াজুমিনাল গাইজি কুল্লামাউলকিয়া ফিহা- ফাওজুন ছাআলাহুম খাজানাতুহাআলাম ইয়া’তিকুম নাজির।
(৯) কা- লুবালা- কাদ যাআনা- নাজিরুন ফাকাজযাবনা- ওয়া কুলনা- মানাজযালাল্লা- হু মিন শাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা- ফি দালা- লিন কাবির।
(১০) ওয়া কা-লুলাও কুন্না- নাছমা’উ আও না’কিলুমা- কুন্না-ফিআসহা-বিছছা’ঈর।
(১১) ফা’তারাফুবিজামবিহিম ফাছুহক্বললিআসহা-বিছ ছা’ঈর।
(১২) ইন্নাল্লাজিনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিলগাইবি লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া আজরুন কাবির।
(১৩) ওয়া আছিররুকাওলাকুম আবিজহারুবিহি ইন্নাহু’আলিমুম বিজা- তিসসুদু র।
(১৪) আলা- ইয়া’লামুমান খালাকা ওয়া হুওয়াল্লাতিফুল খাবির।
(১৫) হুওয়াল্লাজি যা’আলা লাকুমুল আরদা যালুলান ফামশুফি মানা-কিবিহা- ওয়া কুলুমির রিজকিহি ওয়া ইলাইহিন নুশুর।
(১৬) আ আমিনতুম মান ফিছছামাই আইঁ ইয়াখছিফা বিকুমুল আরদা ফাইযা- হিয়া তামুর।
(১৭) আম আমিনতুম মান ফিছছামাই আইঁ ইউরছিলা ‘আলাইকুম হা-সিবান ফাছাতা’লামুনা কাইফা নাজির।
(১৮) ওয়া লাকাদ কাজযাবাল্লাজিনা মিন কাবলিহিম ফাকাইফা কা- না নাকির।
(১৯) আওয়ালাম ইয়ারাও ইলাত্তাইরি ফাওকাহুম সাফফা-তিওঁ ওয়াইয়াকবিদন । মাইউমছিকুহুন্না ইল্লাররাহমা-নু ইন্নাহুবিকুল্লি শাইয়িম বাসির।
(২০) আম্মান হা-যাল্লাজি হুওয়া জুনদুল্লাকুম ইয়ানসুরুকুম মিন দু নিররাহমা-নি ইনিল কাফিরুনা ইল্লা- ফি গুরুর।
(২১) আম্মান হা- যাল্লাজি ইয়ারজকুকুম ইন আমছাকা রিজকাহু বাল্লাজজুফি ‘উতুওবিওয়া নুফুর।
(২২) আফামাইঁ ইয়ামশি মুকিব্বান ‘আলা- ওয়াজহিহি আহদা আম্মাইঁ ইয়ামশি ছাবি ইয়ান ‘আলা-সিরা-তিমমুছতাকিম।
(২৩) কুল হুওয়াল্লাজিআনশাআকুম ওয়া যা‘আলা লাকুমুছছাম‘আ ওয়াল আবসা-রা ওয়াল আফইদাতা কালিলাম মা-তাশকুরুন।
(২৪) কুল হুওয়াল্লাজি যারাআকুম ফিল আরদিওয়া ইলাইহি তুহশারুন।
(২৫) ওয়া ইয়াকুলুনা মাতা-হা-যাল ওয়া’দুইন কুনতুম সা-দিকিন।
(২৬) কুল ইন্নামাল ‘ইলমু’ইনদাল্লা- হি ওয়া ইন্নামাআনা নাজিরুম মুবিন।
(২৭) ফালাম্মা-রাআওহু ঝুলফাতান সিআত ঊজুহুল্লাজিনা কাফারুওয়া কিলা হা-যাল্লাজি কুনতুম বিহি তাদ্দা’ঊন।
(২৮) কুল আরাআইতুম ইন আহলাকানিয়াল্লা-হু ওয়া মাম্মা‘ইয়া আও রাহিমানা- ফামাইঁ ইউজিরুল কা-ফিরিনা মিন ‘আযা-বিন আলিম।
(২৯) কুল হুওয়াররাহমা-নুআ-মান্না-বিহি ওয়া’আলাইহি তাওয়াক্কালনা-, ফাছাতা’লামুনা মান হুওয়া ফি দালা-লিম মুবিন।
(৩০) কুল আরাআইতুম ইন আসবাহা মাউকুম গাওরান ফামাইঁ ইয়া’তিকুম বিমাইম মা’ঈন।
#মুলক
02/04/2026
এবং (হে নবী!) দিনের উভয় প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে নামায কায়েম কর। নিশ্চয়ই পুণ্যরাজি পাপরাশিকে মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ মানে তাদের জন্য এটা এক উপদেশ।
সূরা ১১/হুদ - আয়াত নং ১১৪ (যোহর, আছর, মাগরিব)
হে মুমিনগণ, তোমাদের ডানহাত যার মালিক হয়েছে এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি তারা যেন অবশ্যই তিন সময়ে অনুমতি গ্রহণ করে। ফজরের সালাতের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখ, এবং ‘ইশার সালাতের পর; এই তিনটি তোমাদের [গোপনীয়তার] সময়। এই তিন সময়ের পর তোমাদের এবং তাদের কোন দোষ নেই। তোমাদের একে অন্যের কাছে যাতায়াত করতেই হয়। এভাবে আল্লাহ তোমাদের উদ্দেশ্যে তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
সূরাঃ ২৪/ আন-নূর, আয়াতঃ ৫৮ (ফজর, এশা)
সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার সময় হতে রাত্রির গাঢ় অন্ধকার পর্যন্ত নামায প্রতিষ্ঠা কর, আর ফাজরের সলাতে কুরআন পাঠ (করার নীতি অবলম্বন কর), নিশ্চয়ই ফাজরের সলাতের কুরআন পাঠ (ফেরেশতাগণের) সরাসরি সাক্ষ্য হয়।
সূরাঃ ১৭/ আল-ইসরা - আয়াতঃ ৭৮
وَاتَّبَعُوۡا مَا تَتۡلُوا الشَّيٰطِيۡنُ عَلٰى مُلۡكِ سُلَيۡمٰنَۚ وَمَا کَفَرَ سُلَيۡمٰنُ وَلٰـكِنَّ الشَّيٰـطِيۡنَ كَفَرُوۡا يُعَلِّمُوۡنَ النَّاسَ السِّحۡرَ وَمَآ اُنۡزِلَ عَلَى الۡمَلَـکَيۡنِ بِبَابِلَ هَارُوۡتَ وَمَارُوۡتَؕ وَمَا يُعَلِّمٰنِ مِنۡ اَحَدٍ حَتّٰى يَقُوۡلَاۤ اِنَّمَا نَحۡنُ فِتۡنَةٌ فَلَا تَكۡفُرۡؕ فَيَتَعَلَّمُوۡنَ مِنۡهُمَا مَا يُفَرِّقُوۡنَ بِهٖ بَيۡنَ الۡمَرۡءِ وَ زَوۡجِهٖؕ وَمَا هُمۡ بِضَآرِّيۡنَ بِهٖ مِنۡ اَحَدٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰهِؕ وَيَتَعَلَّمُوۡنَ مَا يَضُرُّهُمۡ وَلَا يَنۡفَعُهُمۡؕ وَلَقَدۡ عَلِمُوۡا لَمَنِ اشۡتَرٰٮهُ مَا لَهٗ فِى الۡاٰخِرَةِ مِنۡ خَلَاقٍؕ وَلَبِئۡسَ مَا شَرَوۡا بِهٖۤ اَنۡفُسَهُمۡؕ لَوۡ کَانُوۡا يَعۡلَمُوۡنَ ١٠٢
এবং সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়ত্বানরা যা পাঠ করত, তারা তা অনুসরণ করত, মূলতঃ সুলায়মান কুফরী করেনি বরং শয়ত্বানরাই কুফুরী করেছিল, তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত এবং যা বাবিলের দু’জন ফেরেশতা হারূত ও মারূতের উপর পৌঁছানো হয়েছিল এবং ফেরেশতাদ্বয় কাউকেও (তা) শিখাতো না যে পর্যন্ত না বলত, আমরা পরীক্ষা স্বরূপ, কাজেই তুমি কুফরী কর না,এতদসত্ত্বেও তারা উভয়ের নিকট হতে এমন জিনিস শিক্ষা করতো, যদ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করতো, মূলতঃ তারা তাদের এ কাজ দ্বারা আল্লাহর বিনা হুকুমে কারও ক্ষতি করতে পারত না, বস্তুতঃ এরা এমন বিদ্যা শিখত, যদ্দ্বারা তাদের ক্ষতি সাধিত হত আর এদের কোন উপকার হত না এবং অবশ্যই তারা জানত যে, যে ব্যক্তি ঐ কাজ অবলম্বন করবে পরকালে তার কোনই অংশ থাকবে না, আর যার পরিবর্তে তারা স্বীয় আত্মাগুলোকে বিক্রয় করেছে, তা কতই না জঘন্য, যদি তারা জানত!
28/02/2026
সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত অর্থ ও উচ্চারণঃ
১. اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ عَلٰی عَبۡدِہِ الۡکِتٰبَ وَلَمۡ یَجۡعَلۡ لَّہٗ عِوَجًا উচ্চারণ: ‘আলহামদুলিল্লা-হিল্লাজী আনজালা ‘আলা-‘আবদিহিল কিতা-বা ওয়ালাম ইয়াজআল্লাহু ‘ইওয়াজা-।’ অর্থ: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নিজ বান্দার প্রতি কিতাব নাজিল করেছেন এবং তাতে কোনো রকমের বক্রতা রাখেননি।’
২. قَیِّمًا لِّیُنۡذِرَ بَاۡسًا شَدِیۡدًا مِّنۡ لَّدُنۡہُ وَیُبَشِّرَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ الَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَہُمۡ اَجۡرًا حَسَنًا উচ্চারণ; ‘ক্বাইয়িমাল লিইউনজিরা বা’ছান শাদীদাম মিল্লাদুনহু ওয়া ইউবাশশিরাল মু’মিনিনাল্লাজীনা ইয়া‘মালুনাসসা-লিহা-তি আন্না লাহুম আজরান হাছানা-।’ অর্থ: ‘নাজিল করেছেন এক সরল-সঠিক গ্রন্থরূপে, মানুষকে নিজের পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার এবং যেসকল মুমিন সৎকর্ম করে, তাদেরকে এই সুসংবাদ দেওয়ার জন্য যে, তাদের জন্য রয়েছে উৎকৃষ্ট প্রতিদান।’
৩. مَّاکِثِیۡنَ فِیۡہِ اَبَدًا উচ্চারণ: ‘মা-কিসীনা ফীহি আবাদা-।’ অর্থ: ‘যাতে তারা সর্বদা থাকবে।’
৪. وَّیُنۡذِرَ الَّذِیۡنَ قَالُوا اتَّخَذَ اللّٰہُ وَلَدًا উচ্চারণ: ‘ওয়া ইউনজিরাল্লাজীনা ক্বা-লুত্তাখাযাল্লা-হু ওয়ালাদা-।’ অর্থ: ‘এবং সেই সকল লোককে সতর্ক করার জন্য, যারা বলে, আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেছেন।’
৫. مَا لَہُمۡ بِہٖ مِنۡ عِلۡمٍ وَّلَا لِاٰبَآئِہِمۡ ؕ کَبُرَتۡ کَلِمَۃً تَخۡرُجُ مِنۡ اَفۡوَاہِہِمۡ ؕ اِنۡ یَّقُوۡلُوۡنَ اِلَّا کَذِبًا উচ্চারন: ‘মা-লাহুম বিহী মিন ‘ইলমিওঁ ওয়ালা- লিআ-বা য়িহিম কাবুরাত কালিমাতান তাখরুজু মিন আফওয়া-হিহিম ইয়ঁইয়াকুলূনা ইল্লা-কাজিবা-।’ অর্থ: ‘এ বিষয়ে কোন জ্ঞানগত প্রমাণ না তাদের নিজেদের কাছে আছে আর না তাদের বাপ-দাদাদের কাছে ছিল। এটা অতি গুরুতর কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হচ্ছে। তারা যা বলছে তা মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়।’
৬. فَلَعَلَّکَ بَاخِعٌ نَّفۡسَکَ عَلٰۤی اٰثَارِہِمۡ اِنۡ لَّمۡ یُؤۡمِنُوۡا بِہٰذَا الۡحَدِیۡثِ اَسَفًا উচ্চারণ: ‘ফালা‘আল্লাকা বা-খি‘উন্নাফছাকা ‘আলা আ-ছা-রিহিম ইল্লাম ইউ’মিনূ বিহা-জাল হাদীছি আছাফা-।’ অর্থ: ‘(হে নবী! অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়) তারা (কুরআনের) এ বাণীর প্রতি ঈমান না আনলে যেন তুমি আক্ষেপ করে করে তাদের পেছনে নিজের প্রাণনাশ করে বসবে।’
৭. اِنَّا جَعَلۡنَا مَا عَلَی الۡاَرۡضِ زِیۡنَۃً لَّہَا لِنَبۡلُوَہُمۡ اَیُّہُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا ‘ইন্না-জা‘আলনা- মা-‘আলাল আরদি ঝীনাতাল্লাহা- লিনাবলুওয়াহুম আইয়ুহুম আহছানু ‘আমালা-।’ অর্থ: ‘নিশ্চিত জেনো, ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে আমি সেগুলোকে তার জন্য শোভাকর বানিয়েছি, মানুষকে এ বিষয়ে পরীক্ষা করার জন্য যে, কে তাদের মধ্যে বেশি ভালো কাজ করে।’
৮. وَاِنَّا لَجٰعِلُوۡنَ مَا عَلَیۡہَا صَعِیۡدًا جُرُزًا উচ্চারণ: ‘ওয়া ইন্না- লাজা-‘ইলুনা মা-‘আলাইহা-সা‘ঈদান জুরুজা-।’ অর্থ; ‘নিশ্চয়ই আমি ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে, একদিন তা সমতল প্রান্তরে পরিণত করব।’
৯. اَمۡ حَسِبۡتَ اَنَّ اَصۡحٰبَ الۡکَہۡفِ وَالرَّقِیۡمِ ۙ کَانُوۡا مِنۡ اٰیٰتِنَا عَجَبًا উচ্চারণ: ‘আম হাছিবতা আন্না আসহা-বাল কাহফি ওয়ার রাক্বীমি কা-নূ মিন আ-য়া-তিনা ‘আজাবা-।’ অর্থ: ‘তুমি কি মনে করো গুহা ও রাকিমবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে (বেশি) বিস্ময়কর ছিল?’
১০. اِذۡ اَوَی الۡفِتۡیَۃُ اِلَی الۡكَهۡفِ فَقَالُوۡا رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنۡ لَّدُنۡكَ رَحۡمَۃً وَّ هَیِّیٴۡ لَنَا مِنۡ اَمۡرِنَا رَشَدًا ‘ইয আওয়াল ফিতইয়াতু ইলাল কাহফি ফাকা-লূ রব্বানা আ-তিনা- মিল্লাদুনকা রাহমাতাওঁ ওয়া হাইয়ি’ লানা- মিন আমরিনা- রাশাদা-।’ অর্থ: ‘এটা সেই সময়ের কথা, যখন যুবক দলটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল এবং (আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করে) বলেছিল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি আপনার নিকট থেকে বিশেষ রহমত নাজিল করুন এবং আমাদের এ পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য কল্যাণকর পথের ব্যবস্থা করে দিন।’
28/02/2026
সময় ঘনিয়ে এসেছে.! দাজ্জালের আগমন যেকোনও সময় ঘটে যেতে পারে! দাজ্জাল এসেই মৃতকে জীবিত করার অভিনয় করবে, আকাশ থেকে বৃষ্টি নামাবে, ক্ষুধার্তকে খাবার দেবে, আর তখনো অধিকাংশ মানুষ তাকে চিনতে পারবেনা- সে কে? ইসলাম বলে—সে-ই দাজ্জাল!
দাজ্জাল কোনো কল্পকাহিনি নয়, কোনো রূপক চরিত্রও নয়— সে হলো কিয়ামতের আগে মানুষের জন্য সবচেয়ে ভয়ানক পরীক্ষা! সে এমন এক ফিতনা যার তুলনা আর কোনো ফিতনার সাথে হয় না।
নবী মুহাম্মদ ﷺ বলেছেন—
“আদম (আ.) থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের চেয়ে বড় ফিতনা আর আসেনি।”
(সহিহ মুসলিম)
🔸দাজ্জালের সংক্ষিপ্ত পরিচয়: ইসলামী আকিদা অনুযায়ী দাজ্জাল দেখতে মানুষ আকৃতির কিন্তু সাধারণ মানুষ নয়।
তার এক চোখ অন্ধ, অপর চোখ হবে ভয়ংকরভাবে বিকৃত। তার কপালে লেখা থাকবে ‘কাফির’ (ك ف ر)—যা শুধু মুমিনরা পড়তে পারবে। সে নিজেকে খোদা বলে দাবি করবে, আর তার সাথে থাকবে এমন সব ক্ষমতা ও ভ্রম, যা দেখে দুর্বল ঈমানের মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। তার সাথে থাকবে— এক মিথ্যা জান্নাত এক মিথ্যা জাহান্নাম
আর ভয়ংকর সত্য হলো— তার জান্নাত আসলে জাহান্নাম, আর জাহান্নামই আসলে জান্নাত।
দাজ্জাল এখন কোথায় এবং কোথা থেকে তার আগমন ঘটবে? - সহিহ মুসলিমে বর্ণিত তামীম দারী (রা.)-এর হাদিসে জানা যায়—দাজ্জাল বর্তমানে আল্লাহর হুকুমে কোথাও বন্দী, শিকলবন্দি অবস্থায়।
নির্দিষ্ট জায়গার নাম বলা হয়নি, তবে হাদিসের ইঙ্গিত অনুযায়ী— তার আগমন ঘটবে পূর্ব দিক থেকে।
নবী ﷺ বলেন—
“দাজ্জাল পূর্ব দিক থেকে বের হবে।” (তিরমিজি)
অনেক আলেমের মতে, সে প্রথমে মানুষকে তার দলে আহ্বান করবে, তারপর পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে—
কিন্তু সে কখনোই মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না।
ভিন্ন ধর্মে দাজ্জালের ইঙ্গিত:
✝️ খ্রিস্টধর্মে
দাজ্জালকে বলা হয়েছে Antichrist—
একজন মিথ্যা খ্রিস্ট, যে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করবে।
শেষ সময়ে যীশু খ্রিস্ট ফিরে এসে তাকে পরাজিত করবেন—এ বিশ্বাস খ্রিস্টানদের মধ্যেও রয়েছে।
✡️ ইহুদি ধর্মে
এখানে দাজ্জালের নাম নেই, তবে আছে False Messiah—
এক ভণ্ড মুক্তিদাতা, যে নিজেকে প্রকৃত মসিহ বলে দাবি করবে।
🕉️ হিন্দু ধর্মে
দাজ্জালের মতো নির্দিষ্ট চরিত্র নেই, তবে কলিযুগে অধর্ম, ভণ্ড গুরু ও মিথ্যার আধিপত্যর কথা বলা হয়েছে,
যার শেষে কল্কি অবতারের আগমন ঘটবে।
দাজ্জালের আগমনের আলামত (লক্ষণসমূহ)
হাদিস অনুযায়ী দাজ্জালের আগমনের আগে—
১/ দীনের জ্ঞান উঠে যাবে।
২/ সত্য আলেম কমে যাবে।
৩/ মিথ্যাবাদী ও ভণ্ডের সংখ্যা বাড়বে।
৪/ হারামকে হালাল বলা হবে।
৫/ ব্যভিচার, সুদ, জুলুম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
৬/ হঠাৎ হঠাৎ হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাবে।
৭/ সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে বলে মনে হবে।
৮/ টানা খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে।
৯/ মানুষ চরম হতাশায় পড়বে।
১০/ সবচেয়ে ভয়ংকর আলামত—
মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে ভুলে যাবে। (ইত্যাদি)
আজ যদি আমরা তাকাই— এই আলামতগুলোর প্রায় সবই কি আমাদের চোখের সামনে নয়? - এতেই বুঝা যায় দাজ্জালের আগমন খুব সন্নিকটে।
তাহলে এখন আমাদের করণীয় কী?
নবী ﷺ আমাদের ভয় দেখাননি, বরং প্রস্তুতির পথ দেখিয়েছেন। দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় জানিয়েছেন—
নিয়মিত সূরা কাহফ পড়া, বিশেষ করে সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত,
ঈমান ও আমল মজবুত করা,
গুজব ও অন্ধ অনুসরণ থেকে দূরে থাকা,
সত্য ও সহিহ জ্ঞানের সাথে যুক্ত থাকা,
আল্লাহর কাছে দোয়া করা—
“হে আল্লাহ, আমি দাজ্জালের ফিতনা থেকে তোমার আশ্রয় চাই।” কারণ দাজ্জালকে চিনতে পারবে কেবল শক্ত ঈমান দিয়ে, চোখ দিয়ে নয়— আর টিকে থাকবে কেবল তারাই, যাদের অন্তর আল্লাহর দ্বীনের আলোর সাথে যুক্ত।
শেষ কথা,
দাজ্জাল কবে আসবে সেই দিন, তারিখ, সাল —আমরা জানি না। কিন্তু সে যে আসবে তার আসার সকল আলামত প্রকাশ পেয়ে গেছে—এটা নিশ্চিত। নিজেকে একবার নিজেই প্রশ্ন করুন— সে আসার আগে আমি কতটা প্রস্তুত?
নাকি সে আসার পর তার ফিতনা আর মিথ্যা অলৌকিকতার মোহে পড়ে আপনি/আমি হারিয়ে যাব?
এই দাজ্জাল এসেই শেষ নয়…
কারণ দাজ্জালের পরে আরও বড় বড় ঘটনা অপেক্ষা করছে— যেমন ঈসা (আ.)-এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজ, আর কিয়ামত। এই সব বিষয় আর দাজ্জাল সম্পর্কে আরও যদি জানতে চান— কমেন্ট-এ জানাবেন। কোনও প্রশ্ন থাকলে করুন..
আমি সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত দিয়ে দিব আরবি ও বাংলা অনুবাদসহ কমেন্ট বক্সে সবাই শিখে নিবেন।
আর যেসকল ভাই-বোনদের সূরা কাহফ মুখস্থ আছে, তারা কমেন্টে লিখুন "আলহামদুলিল্লাহ"৷
মহান আল্লাহ আমাদের দাজ্জালের ফিতনা ও আক্রমণ থেকে হেফাজত করে ঈমানের সাথে মোকাবেলা করার তৌফিক দান করুন: আমিন।
#দাজ্জাল
01/08/2025
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Website
Address
Medina