ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মদীনা মুনাওয়ারা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মদীনা মুনাওয়?
22/01/2021
▪️মসজিদে নববীর জুমু'আহর খুৎবার বঙ্গানুবাদ
বিষয়: বিচক্ষণ ব্যক্তিদের পরিচয়
খতীব: শায়খ আহমাদ বিন তালেব হাফিযাহুল্লাহ
অনুবাদক: উস্তায হারুনুর রশীদ ত্রিশালী মাদানী।
19/01/2021
▪️আহকামুল হাদিসের গ্রন্থ পরিচিতি: বুলুগুল মারাম।
মুহাদ্দিসীনে কেরাম অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে হাদিস সংগ্রহ করেছেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেছেন তাদের গ্রন্থসমূহে। হাদিস লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তারা বৈচিত্র্যময় পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন; যাতে করে একজন পাঠক বা গবেষক সহজেই তার উদ্দিষ্ট হাদিস খুঁজে বের করতে পারেন। শুধু হাদিস অনুসন্ধান-ই নয়, বরং একজন আলেম যেন ইসলামের বিধিবিধান সম্পর্কিত হাদিসগুলো একত্রে পেতে পারেন এবং তা মুখস্থ ও পুনর্পাঠ করতে পারেন সে বিষয়টিও মুহাদ্দিসীনদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায় নি। এর উত্তম উদাহরণ হল ইসলামের আহকাম বা বিধিমালা সম্পর্কিত হাদিসগুলো একত্রে একটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা।
আহকামুল হাদিসের অনবদ্য একটি গ্রন্থ হলো ইবনু হাজার আল-আসক্বালানী রহিমাহুল্লাহ (মৃঃ ৮৫২হিঃ) কর্তৃক রচিত 'বুলুগুল মারাম মিন আহাদিসিল আহকাম' ; যা আরব এবং অনারবে সমানভাবে জনপ্রিয় ও পাঠকপ্রিয়। এটি মূলত ইমাম ইবনু দাক্বিক্ক আল-ঈদ রহিমাহুল্লাহ (মৃঃ ৭০২ হিঃ) কর্তৃক প্রণীত 'আল-ইলমাম' গ্রন্থের সারসংক্ষেপ এবং আরো কিছু হাদিসের সংযোজিত রুপ। সংক্ষেপন এবং সংযোজনের পর বুলুগুল মারামের হাদিস সংখ্যা প্রায় ১৫৯৬ টি।
ইবনু হাজার রহিমাহুল্লাহ এর ইলমী গভীরতা এবং হাদিসের জগতে তার সুবিদিত পাণ্ডিত্যের সুবাদে তার গ্রন্থগুলোও সময় কালের উর্ধ্বে স্থান পেয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি আল্লাহ তায়ালার অনেক বড় অনুগ্রহ যে, তার মৃত্যুর অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও এবং আহকামুল হাদিসের অর্ধশত গ্রন্থ রচিত হলেও উলামাদের খেদমত এবং ছাত্রদের মুখস্থের তালিকায় তার গ্রন্থটি সবসময় অগ্রাধিকারের তালিকাতেই স্থান পেয়ে আসছে। উলামাদের অত্র গ্রন্থ কেন্দ্রিক যে বিভিন্ন খেদমত রয়েছে তার কিছু নমুনা নিম্নে পেশ করা হলোঃ
١- البدر التمام شرح بلوغ المرام - للعلامة الحسين بن محمد المغربي (ت ١١١٩ه).
এটি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থ, যা থেকে পরবর্তীতে যারা ব্যাখ্যা করেছেন তারা উপকৃত হয়েছেন।
٢-سبل السلام شرح بلوغ المرام - الأمير محمد بن إسماعيل الصنعاني(ت ١١٨٢ه).
এটি আমীর সানআ'নী কর্তৃক রচিত বুলুগুল মারামের ভাষ্যগ্রন্থ যা 'বদরুত তামাম' এর সংক্ষিপ্ত এবং তার উপর সংযোজিতের ফসল।
٣- منظومة بلوغ المرام - الأمير محمد بن إسماعيل الصنعاني (ت ١١٨٢ه).
গ্রন্থটি আমীর সানআ'নি রহিমাহুল্লাহ এর একটি সৃজনশীল কর্ম। অত্র গ্রন্থে লেখক তার ছান্দিক প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। বুলুগুল মারামের হাদিসগুলো কাব্যিক ঢং এ সুবিন্যাস্ত করেছেন।
٤-فتح العلام لشرح بلوغ المرام - لنور الحسين خان بن صديق حسن خان القنوجي الهندي(ت ١٣٠٧ه).
নবাব সিদ্দিক হাসান খাঁন রহিমাহুল্লাহ এর পুত্র কর্তৃক রচিত গ্রন্থটি মূলত সানআ'নী রহিমাহুল্লাহ কর্তৃক রচিত 'সুবুলুস সালাম' এর সংক্ষিপ্ত রুপ বলা চলে।
٥-شرح بلوغ المرام - لعطية سالم(ت١٤٢٠ه).
٦- فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام- للشيخ محمد بن صالح العثيمين(ت ١٤٢١ه).
নিকট অতীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম শাইখ মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উসাইমীন রহিমাহুললাহ কর্তৃক বিশাল কলেবরের ব্যাখ্যা গ্রন্থ।
٧- توضيح الأحكام من بلوغ المرام - للشيخ البسام(ت ١٤٢٣ه).
সাত বা ততোধিক খন্ডে প্রকাশিত ব্যাখ্যা গ্রন্থ।
٨- إتحاف الكرام شرح بلوغ المرام- صفي الرحمن المباركفوري، الهندي(ت ١٤٢٧ه).
এটি আর-রাহিকুল মাখতূমের লেখক ছফিউর রহমান মুবারকপুরী রহিমাহুল্লাহ কর্তৃক রচিত সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা গ্রন্থ। বর্তমানে রাজশাহীর 'ওয়াহিদিয়া লাইব্রেরি' এটিকে আধুনিক পাঠ উপযোগী করে এক খন্ডে প্রকাশ করেছে।
٩- تحفة الكرام شرح بلوغ المرام- للشيخ لقمان السلفي الهندي(ت ١٤٤١ه).
١٠- منحة العلام شرح بلوغ المرام - للشيح عبد الله الفوزان.
যদি প্রশ্ন করা হয়, বুলুগুল মারামের' সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ব্যাখ্যাগ্রন্থ কোনটি? তাহলে তার জবাবে প্রায় সকলেই বলবেন 'মিনহাতুল আল্লাম' এর কথা। এটি ১১ খন্ডে প্রকাশিত। আলহামদুলিল্লাহ আমার সংগ্রহে রয়েছে।
١١- روض الأفهام شرح بلوغ المرام- للشيخ محمد بن عبد الله القناص.
এটিকেও অনেক আলেম উৎকৃষ্ট ভাষ্যগ্রন্থের স্বীকৃতি দিয়েছেন। এটি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়নি। লেখকের লেখা চলমান রয়েছে।
١٢- الإفهام في شرح بلوغ المرام - للشيخ عبد العزيز الراجحي.
١٣- فقه الإسلام شرح بلوع المرام - عبد القادر شيبة الحمد(ت ١٤٤٠ه).
শাইখ আব্দুল কাদের শায়বাতুল হামদ মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ছিলেন। তার এ গ্রন্থটি আমরা রিয়াদে গিয়ে উপহার হিসেবে সংগ্রহ করেছি। ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
١٤- شرح بلوغ المرام - الشيخ عبد الكريم الخضير.
١٥- التبيان في تخريج وتبويب أحاديث بلوغ المرام وبيان ما ورد في الباب- خالد بن ضيف الله الشلاحي. ١٢ مجلدا.
এটিতে মূলত বুলুগুল মারামের হাদিসগুলোর তাখরীজ করা হয়েছে; যা ১২ খন্ডে সমাপ্ত। নিঃসন্দেহে কষ্টকর পরিশ্রমের সুন্দর পরিসমাপ্তির উত্তম নমুনা।
١٦- خلاصة الكلام في تخريج أحاديث بلوغ المرام - للشيخ خالد الشلاحي. ٣ مجلدات.
লেখক পূর্বোক্ত গ্রন্থকে মাত্র তিন খন্ডে নিয়ে এসেছেন। গ্রন্থটি সংগ্রহে রাখার মতন।
١٧- فتح العلام في دراسة أحاديث بلوغ المرام- لأبي عبد الله محمد بن علي الفضلي.
এ গ্রন্থে মাসয়ালাগুলোর শিরোনাম দিয়ে অনেকটা ফিকহী ঢং এ আলোচনা করা হয়েছে।
١٨- موسوعة آثار الصحب الكرام على كتاب بلوغ المرام- لمحمد ناظر بن محمد طاهر.
এ গ্রন্থটি অনেকটা ইউনিক একটি গ্রন্থ। লেখক অত্র গ্রন্থে বুলুগুল মারামের প্রতিটি বাবের হাদিস উল্লেখপূর্বক সাহাবীদের আছার উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর কোনটি সহীহ, কোনটি যয়ীফ তা উল্লেখ করেছেন। অনেক চমৎকার একটি গ্রন্থ!
কেউ যদি 'বুলুগুল মারাম' পড়া বা পড়ানোর সময় 'মিনহাতুল আল্লাম', খুলাছাতুল কালাম এবং মাওসুয়াতু আছারি' এই তিনটা গ্রন্থ সামনে রাখে তাহলে নিজে পড়ে এবং অপরকে পড়িয়ে অনেক তৃপ্তি পাবে ইন শা আল্লাহ।
বিঃ দ্রঃ উল্লেখিত বইগুলো সবই প্রকাশিত।
রায়হানুদ্দীন বিন শহীদুল্লাহ।
১৯|০১|২০২১ ইং।
উসূলে হাদীস কোর্স
শায়খ আব্দুল্লাহ আল বাকী।
30/12/2020
আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
▪️তিন দিন ব্যাপী উন্মুক্ত ফ্রি ইসলামী শিক্ষা কোর্স।
◽বিষয়: উসূলে হাদীস।
🧾নির্বাচিত বই: তাইসীরু মুসতলাহিল হাদীস: ডক্টর মাহমুদ আত- তহ্হান।
🎤কোর্স করাবেন: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদীস বিভাগের কতিপয় ছাত্রবৃন্দ।
🧭তারিখ: ৬,৭ ও ৮ জানুয়ারি/ বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার।
🕔সময়: ০৪ টা থেকে ০৬ টা সৌদি আরব
০৭ টা থেকে ০৯ টা বাংলাদেশ।
[বি. দ্র: শুক্রবার: ৬টা থেকে ৮টা সৌদি; ৯টা থেকে ১১ টা বাংলাদেশ। এরপর এক ঘন্টা প্রশ্নোত্তর পর্ব]।
📎বিস্তারিত জানতে সাথে থাকুন:
https://chat.whatsapp.com/Jnbd0VN2Rov1DnDPvhXQG8
🧷মাধ্যম: zoom এপসের মাধ্যমে কোর্স হবে।
হোয়াটস এপ গ্রুপে বিস্তারিত তথ্য কোর্সের পূর্বে জানানো হবে ইনশা আল্লাহ।
বারাকাল্লাহ ফিকুম।
▪️কোর্স উদ্বোধন করবেন: শায়খ হারুনুর রশীদ ত্রিশালী মাদানী।
▪️মূল দারস দিবেন:
-শায়খ আব্দুল্লাহ আল মামুন মাদানী
-আব্দুল্লাহ আল বাকী
-মুয়াজ বিন জামাল
-আযহারুল ইসলাম
-শহীদুল্লাহ
-আব্দুল হাকীম
◽প্রশ্নোত্তর পর্ব:
-শায়খ রায়হানুদ্দীন মাদানী।
-শায়খ মোস্তফিজুর রহমান মাদানী।
03/12/2020
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
যারা মদিনা ইউনিভার্সিটিতে প্রাথমিকভাবে সিলেক্ট হয়েছেন এই পোস্টটি তাদের জন্য।
📄 যারা মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিকভাবে ও ফাইনালি সিলেক্টেড তাদের আগামী ৫ই নভেম্বর পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইন শা আল্লাহ
👉 পরিক্ষার কারণ
✅ যারা আরবি ভাষা ভালো পারেন তাদের সরাসরি অনার্সে অধ্যায়নের সুযোগ করে দিবে😍
এতে ছাত্রদের আলাদা আরবিভাষা অনুষদে দুটি বছর নষ্ট করা লাগবে না। আর বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক ভালো ছাত্র আছেন যাদের সরাসরি অনার্সে ভর্তি হবার যোগ্যতা আছে।
👉কাদের জন্য পরিক্ষা?
১.যারা ১৪৪০/১৪৪১ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন করে প্রাথমিকভাবে সিলেক্টেড তারা।
২.যারা ফাইনলি সিলেক্ট হয়ে ভিসা পাওয়ার অপেক্ষা করছেন তারা।
প্রশ্ন: আমি যদি পরিক্ষায় ভালো নাম্বার না পাই তাহলে কি আমার স্কলারশিপ বাতিল করে দিবে?
👉 উত্তর: না। কারণ এই পরিক্ষার উদেশ্য আপনি কি সরাসরি অনার্সে পড়তে পারবেন নাকি আরবিভাষা অনুষদে পড়তে পারবেন সেটা নির্ণয় করা।
👉 কি বিষয়ের উপর পরিক্ষা হবে?
👉 উত্তরঃ নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নেই, তবে আরবি ভাষায় বিভিন্ন ধরনের MCQ (Multiple Choice Question) দেওয়া হতে পারে ।
যেমনঃ
👉 ৩ টি বাক্য দিয়ে বলা হবে কোনটি সঠিক। এবং সেটাতে ক্লিক করে নেক্সট এ ক্লিক করতে হবে
👉 একটি প্যারাগ্রাফ পড়তে দেওয়া হবে। এবং সেটির আলোকে প্রশ্ন থাকবে।
👉 আরবি ব্যাকরণ এর বিভিন্ন ব্যবহার ওলট-পালট করে দেওয়া থাকবে সেগুলো ঠিক করতে হবে।
👉 কয়েকটি শব্দ থাকবে সেগুলো দিয়ে বাক্য বানাতে হবে।
মোট কথা আপনি আরবি কতটা পারেন সেটা যাচাই করা হবে।
👉 আমি কি মোবাইল দিয়ে পরিক্ষা দিতে পারবো?
উত্তর: ভালো স্পীড মোবাইল দিয়ে পরিক্ষা দিতে পারবেন(chorme supportলাগে) । ব্ল্যাকবোর্ড নামক শিক্ষাসেবাদানকারী বিশেষ ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে পরিক্ষাটি নেওয়া হবে।
তবে ভালো কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মাধ্যমে পরিক্ষা দিলে ভালো হবে ইনশাআল্লাহ।
জরূরী তথ্য 😱
👉 ৮৫ মিনিটের পরিক্ষা হবে। পরিক্ষায় অংশগ্রহণের সময় উপযুক্ত পরিবেশ ও ভালো গতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে
👉 যারা ইতিপূর্বে পরিক্ষা দিয়েছেন তাদের পরিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
👉 পরিক্ষা শুরু করার পর আর কেটে দিতে পারবেন না,যেমন একটি উত্তর দেওয়ার পর ভুল মনে হলো আর সাথে সাথে ট্যাব ক্লোজ করে আবার পরিক্ষা দেওয়া শুরু করলেন। এমন করা যাবে না। বা পরিক্ষা দিয়ে মনে হলে কিছু প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে আবার একবার দেই,সেটাও করা যাবে না।
৫. অনলাইনে পরিক্ষা হচ্ছে তাই বলে আপনার সৌদি পড়ুয়া ভাইকে পরিক্ষা দিতে লাগিয়ে দিবেন না অথবা আরবি ভালো পারে এমন কাউকে দিয়ে পরিক্ষা দেওয়াবেন না। এতে করে ভবিষ্যতে ১০০ ভাগ বিপদে পড়ার আশংকা ও সম্ভাবনা দুটিই আছে 😀
👉 যে পরিক্ষা হবে সেটির নাম Arabic Language Placement Exam এটির উদেশ্য আপনি কি সরাসরি অনার্সে পড়তে পারবেন নাকি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি অনুষদে পড়তে হবে আগে সেটি।
পরিক্ষা কবে হবে?
👉 ৫ ই ডিসেম্বর ২০২০ (শনিবার) রাত ১০ টা।
আপনারা কেউ যদি ব্ল্যাকবোর্ড ওয়েবসাইট টি কেমন এবং পরিক্ষা কিভাবে হতে পারে এটি দেখতে চান তাহলে দেখুন
https://www.youtube.com/watch?v=odC9WJyR61Q&feature=share
আবারো লিখলাম,
মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ১৪৪০হিঃ/২০১৯ইং থেকে এখন পর্যন্ত مرشح مبدئيا বা مبارك تم قبولك في الجامعة তাদের অনলাইনের পরীক্ষার সময়সূচি দেয়া হলো।
আগামী ৫ ই ডিসেম্বর পরীক্ষা,
User ID হলো আবেদন নাম্বার।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের লিংক:
https://ium.blackboard.com
পোস্টি লিখতে ঘন্টাখানিক সময় লেগেছে। আমার পোস্ট থেকে সামান্য উপকৃত হলে আপনার দোয়ায় আমাকে ভুলবেম না,আমার পরিক্ষাও যেন ভালো হয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এর জন্য কবুল করে নিন।
আমাদের জন্য সবকিছু সহজ করে দিন। আমিন
(কপি ও পরিমার্জিত)
০৩/১২/২০২০ইং
মহিউদ্দিন রজব আলী
অধ্যায়নরত,
মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব।
22/10/2020
◽ফযীলাতুশ শায়খ ডক্টর ফালাহ ইবনু ইসমাঈল মান্দাকার রাহিমাহুল্লাহ।
বহুমূখী জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে এক অনবদ্য বিদ্বান ছিলেন শায়খ ফালাহ ইবনু ইসমাঈল মান্দাকার [১৯৫০-২০২০ ইং] রাহিমাহুল্লাহ। যাকে বর্তমান সময়ের কুয়েতের সালাফী বিদ্বানগণের অন্যতম আলেম হিসেবে গণ্য করা হত।
▪️নাম ও শিক্ষাজীবন: আবূ মুহাম্মদ ফালাহ ইবনু ইসমাঈল ইবনু আহমাদ মান্দাকার। তিনি ১৯৫০ সালে কুয়েতে জন্ম গ্রহণ করেন। শায়খ ২৬ বছর বয়সে বৈষয়িক বিষয়ে পড়াশুনা শেষ করে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করাবস্থায় ইসলামী জ্ঞানে উচ্চশিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে ১৯৭৬ সালে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। অতঃপর সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবই [কুল্লিয়া শরী'আহ] ও সম্মানিত ওলামাদের সংস্পর্শে আক্বীদা, হাদীস, উসুলে হাদীস, ফিক্বহ, উসুলে ফিক্বহ, নাহু, সরফ, বালাগাত, তাজভীদ সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ইলম অর্জন করেন। এসময়ে তিনি মাষ্টার্স ও ডক্টরেট পড়াশুনার পাঠ শেষ করেন।
▪️উল্লেখযোগ্য উস্তাযবৃন্দ: শায়খ রাহিমাহুল্লাহ একাডেমী ও বিভিন্ন উস্তাযের দারসে দীর্ঘ সময় ইলম অর্জনের পেছনে অতিবাহিত করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উস্তাযদের মধ্য হতে অন্যতম হলেন:
১. সামাহাতুশ শায়খ আল্লামা আব্দুল আযীয ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহ। শায়খ ফালাহ তাঁর অনেক দারস থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তাঁর কাছে উসুলুছ ছালাছাহ এবং কিতাবুত তাওহীদ পড়েছেন।
২. ফযীলাতুশ শায়খ মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আলবানী। শায়খ ফালাহ তাঁর অনেক দারস থেকে ইলম অর্জন করেছেন। এমনকি শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ শায়খ ফালাহ এর বাসায় দু'বার মেহমান হয়েছিলেন। একবার মদীনায় আরেকবার জন্মভূমি কুয়েতে।
৩. ফযীলাতুশ শায়খ ফক্বীহ, উসুলবীদ মুফাস্সির শায়খ ছালিহ আল ঊসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তাঁর অনেক দারসে বসেছেন। তাঁর নিকটে ফিক্বহ সম্পর্কে অসামান্য ইলম অর্জন করেছেন।
৪. শায়খ ডক্টর ছালিহ আল ফাওযান হাফিজাহুল্লাহ। তিনি তাঁর অনেক দারসে বসেছেন।
৫. মদীনার কিবারে ওলামাগণের অন্যতম শায়খ মুহাদ্দিস আব্দুল ক্বাদির ইবনু হাবীবুল্লাহ সিন্দী রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে উসুলে হাদীসের কিতাব পড়েন। যেমন, ইবনু হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ রচিত নুখবাতুল ফিকার।
৬. হিজাযের মুহাদ্দিস খ্যাত শায়খ ডক্টর হাম্মাদ ইবনু মুহাম্মদ আনছারী রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। তাঁর থেকে অনেক ইলমী উপকার গ্রহণ করেছেন। তাঁর কাছে সহীহ বুখারী অধ্যয়ন করেছেন এবং ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ পর্যন্ত সনদ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ইবনু বাত্তাহ এর আল ইবানাহ, শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এর আন নুবুওওয়্যাত, ইবনু খুযায়মা এর কিতাবুত তাওহীদ, মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল ওয়াহহাব এর কিতাবুত তাওহীদ, ইবনু হাজার এর বুলুগুল মারাম সহ আরো অনেক কিতাব পড়েন [রাহিমাহুমুল্লাহ]। উল্লেখ্য যে, তিনি শায়খের কাছে তার মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য সংক্রান্ত কিছু তাফসীরের কিতাব তাঁর কাছে পড়েন।
৭. ফযীলাতুশ শায়খ ডক্টর মুহাম্মদ আমান ইবনু আলী আল জামী রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তাঁর অনেক দারসে বসেছেন। অনেক উপকারী ইলম অর্জন করেছেন। তাঁর কাছে শায়খ ঊসাইমীন এর আল কাওয়াঈদুল মুছলা, মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল ওয়াহহাব এর কিতাবুত তাওহীদ, ইবনু তাইমিয়্যাহ এর আক্বীদা ওয়াসেতীয়্যাহ. ইবনু ঈয আল হানাফী এর আক্বীদা তহাবিয়্যাহ পড়েন [রাহিমাহুমীল্লাহ]। এছাড়া শায়খ আমান জামী রচিত জাওহারাতুত তাওহীদ ফিল আক্বীদাতিল আশআরিয়্যাহ পড়েন। শায়খ নিজেই তাকে এই কিতাবটির একটি কপি দেন। পরবর্তীতে শায়খ ফালাহ এই কিতাবের তা'লীক তথা টিকা সংযোজনের কাজ আঞ্জাম দেন। যা ১৩০৬হিজরীতে প্রকাশ হয়। শায়খ ফালাহ তাঁর কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর একাডেমী পড়াশুনা করেন। এমনকি তার মাষ্টার্স গবেষণা কর্মের সুপার ভাইজার ছিলেন শায়খ আমান আল জামী রাহিমাহুল্লাহ। শায়খ আমান আল জামীর এই পর্যবেক্ষণ তার পিএইচডি গবেষণার দু'বছর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল [শায়খের মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল]।
৮. শায়খ ডক্টর আব্দুল কারীম ইবনু মুরাদ আল আছারী হাফিজাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে ফাতাওয়া হামাভিয়্যাহ, আর রিসালাহ আত তাদামমুরিয়্যাহ, শারহুল আক্বীদা তহাবিয়্যাহ পড়েন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য উস্তায হিসেবে তাঁর কাছে আক্বীদা বিষয়ে এবং ব্যক্তিগত দারসে ইলমুল মানতিক্ব সম্পর্কে ইলম অর্জন করেন। তাঁর পরামর্শ ও নির্দেশনায় 'তাসহীলুল মানতিক্ব' নামে একটি বই লেখেন। উল্লেখ্য যে, শায়খ আব্দুল কারীম তার মাষ্টার্স গবেষণা কর্মের পর্যবেক্ষক ছিলেন।
৯. ফযীলাতুশ শায়খ উস্তাযুনা ডক্টর আব্দুল মুহসিন আল আব্বাদ হাফিজাহুল্লাহ। শায়খ ফালাহ মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় শায়খ আব্বাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুদীর ছিলেন। তিনি তাঁর কাছে ইমাম আজূরীর আশ শারী'আহ, ইবনুল কাইয়্যিম এর শিফাউল আলীল পড়েন। উল্লেখ্য যে, শায়খ আব্দুল মুহসিন আল আব্বাদ তার মাষ্টার্স গবেষণা কর্মের পর্যবেক্ষক ছিলেন।
১০. ফযীলাতুশ শায়খ মুহাদ্দিস ডক্টর রাবী' ইবনু হাদী আল মাদখালী হাফিজাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে ছহীহ মুসলিম, ইমাম নববীর তাদরীবুর রাবী, ইবনু তাইমিয়্যাহ এর আল ঊবূদিয়্যাহ পড়েন। তাদের পরস্পরের মাঝে ইলমী বিষয়ে বেশ পরামর্শ ও আলোচনা- পর্যালোচনা হত।
১১. শায়খ ডক্টর আলী ইবনু নাছির আল ফাক্বীহী হাফিজাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে ইবনু মান্দাহ এর কিতাবুত তাওহীদ, কিতাবুল ঈমান পড়েন। এছাড়া উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের সময় বেশ কিছু বিষয়ে পড়াশুনা করেন।
১২. শায়খ আব্দুস সামাদ ইবনু মুহাম্মদ আল কাতিব হাফিজাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে সহীহ বুখারীর কিতাবুত তাওহীদ এবং ইলমুল ফারায়েয এর কিছু কিতাব পড়েন।
১৩. মদীনার কিবারে ওলামাগণের অন্যতম শায়খ ওবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ আল আল জবিরী হাফিজাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে মুহাম্মদ ইবনু আব্দিল ওয়াহহাহ এর কিতাবুত তাওহীদ পড়েন। এছাড়া ক্বাওয়াঈদুল মুছলা এবং ক্বাওয়াঈদুল ফিক্বহিয়্যাহ পড়েন।
১৪. শায়খ ডক্টর আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ আল গুনায়ামান হাফিজাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে ফাতহুল মাজীদ, ইবনু তাইমিয়্যাহ এর কিতাবুল ঈমান পড়েন।
শায়খ গুনায়ামান তার পিএইচডি গবেষণা কর্মের সুপার ভাইজার ছিলেন। শায়খ আমান জামী রাহিমাহুল্লাহ এর মৃত্যুর পর অবশিষ্ট কাজ তার তত্ত্বাবধানে শেষ হয়।
১৫. শায়খ মুহাম্মদ ইবনু মুখতার আশ শানক্বিতী রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবই এবং নববীর দারস থেকে ইলম অর্জন করেন। ইলমুত তাফসীর এবং সুনানে নাসাঈ পড়েন।
১৬. হারামাইনের সম্মানিত ইমাম শায়খ ডক্টর আলী ইবনু আব্দুর রহমান আল হুয়ায়ফী হাফিজাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে সহীহ বুখারীর কিতাবুত তাওহীদ পড়েন।
১৭. পশ্চিমের শায়খ আহমাদ ইবনু তাভীত আত তুঞ্জী রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে শারীআহ বিভাগে তাফসীর পড়েন। এছাড়া উসুলে ফিক্বহের ইবনু কুদামাহ এর রওযাতুন নাযির এবং নাহুর আলফিয়্যাহ ইমাম মালিক পড়েন।
১৮. শায়খ আলী ইবনু সিনান রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে নাহুর কিতাব কাতরুন নাদা পড়েন।
১৯. মদীনার প্রখ্যাত ভাষাবীদ শায়খ আহমাদ ইবনু মা'লূম শানক্বিতী রাহিমাহুল্লাহ [আলফিয়াহ ইবনু এর ব্যাখ্যাকার এবং প্রায় ৩ হাজার লাইন কবিতার লেখক]। তিনি তাঁর কাছে আল মুকাদ্দামাহ আজরুমিয়্যাহ এবং ইবনু আক্বীল এর শারহু আলফিয়াতি ইবনি মালিক পড়েন।
২০. উসুলবীদ শায়খ ডক্টর যায়নুল আবেদীন রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে পাঠ্যবই হিসেবে ইবনু কুদামাহ এর 'আর রওযাতুন নাযির' পড়েন।
২১. শায়খ ফক্বীহ আব্দুল্লাহ ইবনু হামদ আল হাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ। শারীআহ বিভাগের পাঠ্যবই হিসেবে তিনি তাঁর কাছে ইমাম ছান'আনীর সুবুলুস সালাম [বুলুগুল মারাম এর ব্যাখ্যা] পড়েন।
২২. শায়খ ফক্বীহ মুহাম্মদ ইবনু হুম্মুদ আল ওয়ায়েলী হাফিজাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে শারীআহ বিভাগে ইবনু রুশদ এর বিদায়াতুল মুজতাহিদ পড়েন।
২৩. মদীনার প্রখ্যাত ভাষাবীদ শায়খ আব্দুর রঊফ আল লুবাদী রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে কুল্লিয়া শরী'আহতে ইবনু আক্বীল রচিত শারহু আলফিয়াতি ইবনি মালিক পড়েন।
২৪. শায়খ ওমর ইবনু মুহাম্মদ ফালাতাহ রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে মসজিদে নববীর দারসে সুনানে আবী দাঊদ পড়েন।
২৫. শায়খ আবূ বকর ইবনু জাবির আল জাযায়েরী হাফিজাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে কুল্লিয়া শরী'আতের থাকাবস্থায় ইলমুত তাফসীর পড়েন। এছাড়া মসজিদে নববীর দারসে নিয়মিত বসতেন।
২৬. শায়খ আহমাদ আল আযরাক্ব রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে 'বুলুগুল মারাম' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইসমাঈল ছানআনী রচিত 'সুবুলুস সালাম' পড়েন। এছাড়া শরীআহ বিভাগের চতুর্থ বর্ষে তাঁর তত্ত্বাবধানে 'তাহকীক ওয়া দিরাসাহ: কিতাবু মুসনাদিল ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রাহিমাহুল্লাহ' শিরোনামে একটি গবেষণা কর্ম সমাপ্ত করেন।
২৭. শায়খ আলী ইবনু মুশরিফ আল ঊমরী হাফিজাহুল্লাহ। যাকে স্বয়ং আলবানী রাহিমাহুল্লাহ 'ছোট আলবানী' বলে উপাধি দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর কাছে জামিঊত তিরমিযী পড়েন।
২৮. শায়খ মুহাম্মদ ইবনু রামাযান আল মুক্বরী রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তাঁর কাছে ইলমুত তাজভীদ বিষয়ে ইলম অর্জন করেন। শায়খ ফালাহ প্রায়ই তার দারসে শায়খের কথা বলে স্মৃতিচারণ করতেন।
▪️শিক্ষাগত যোগ্যতা: শায়খের শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশ সমৃদ্ধ। নিম্নে উল্লেখযোগ্য তিনটি উল্লেখ করা হলো। যথা:
ক. অনার্স। তিনি শরী'আহ ডিপার্টমেন্ট থেকে মুমতায ফলাফল অর্জনের মধ্য দিয়ে অনার্স শেষ করেন।
খ. মাষ্টার্স। এখানেও শায়খের ফলাফল ছিল মুমতায। তাঁর মাষ্টার্সের গবেষণা কর্মের বিষয় ছিল: ইমাম বায়হাক্বী রাহিমাহুল্লাহ রচিত 'ছালাছুন মিন শু'আবিল ঈমান' এর তাহকীক।
গ. পি.এইচ.ডি। শায়খ বরাবরের মত এখানেও প্রথম শ্রেণীতে মুমতায ফলাফল অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডিকে গবেষণা কর্মের বিষয় ছিল: আল আলাকাহ বায়নাত তাসাওউফি ওয়াত তাশায়্যুঈ।
▪️চারিত্রিক গুণাবলী: শায়খ রাহিমাহুল্লাহ উত্তম চারিত্রিক গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন। পরস্পরের সাথে চলাফেরায় আদব মেনে চলতেন। অন্যের উপকার সাধন এবং খিদমাত করতে আগ্রহী ছিলেন। ছাত্র এবং আওয়ামদের সাথে খুবই বিনয়ী আচরণ করতেন। তাদের প্রয়োজনীয় কাজে সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা করতেন। বিশেষ করে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ এর অনুসারীদের প্রতি খুবই আন্তরিক ছিলেন। আর এ কারণেই তাঁকে ছাত্ররা একজন সম্মানিত উস্তাযের উঁচু স্থানে সবসময়ই অবস্থান দিত। তাঁর উল্লেখযোগ্য একটি সদাচারণ হলো তিনি কথা বলা, বক্তব্য বা দারসের সময় মুচকি হেসে মিষ্টি ভাষায় কথা বলতেন এবং কেউ তাঁকে প্রশ্ন করলে মুচকি হাসির সাথে উত্তর দিতেন। বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের বিচারকগণ তাঁকে বিভিন্ন বিচার ফয়সালার সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করতেন। মূলতঃ এসব উত্তম গুণাবলীর কারণেই কুয়েতের সালাফী বিদ্বানগণ তাঁকে আমৃত্যু পিতার মত সম্মান করতেন।
▪️কর্মজীবন ও দাওয়াতী শ্রম: শায়খ রাহিমাহুল্লাহ বিষয় ভিত্তিক দারস প্রদান করতে পছন্দ করতেন। এজন্য তিনি বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়মিত দারস দিতেন। তিনি মৃত্যু পূর্ব পর্যন্ত অনেক দারসে বক্তব্য তা'লীম দিয়েছেন। তাঁর কঠিন অধ্যবসায় এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলাফলে কুয়েতের সালাফী অনুসারীদের মাঝে এক ধরনের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। তলিবুল ইলমরা ইলম অর্জনের প্রতি উদ্বুদ্ধ হত এবং অনেক উপকার গ্রহণ করতে সক্ষম হত। শায়খ রাহিমাহুল্লাহ মূলতঃ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের ইমামগণের কিতাবসমূহের মূল মুতুন [মূল টেক্সট] পড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন। তিনি তাঁর দারসী জীবনে অনেক কিতাবের দারস দিয়েছেন। যেমন:
১. আল উসুলুছ ছালাছাহ
২. কাশফুশু শুবহাত
৩. আল উসুলুস সিত্তাহ
৪. ফাতহুল মাজীদ
৫. শারহুল আক্বীদা আল ওয়াসেতীয়্যাহ, শায়খ ছালিহ আল ফাওযান।
৬. আল ফাতাওয়া আল হামাভিয়্যাহ
৭. শারহুল আক্বীদা আত তহাবিয়্যাহ, ইবনু আবিল ঈয আল হানাফী।
৮. শারহুস সুন্নাহ, ইমাম বারবাহারী।
৯. আশ শারী'আহ, ইমাম আজূরী।
১০. আল ঊদ্দাহ শারহুল ঊমদাহ
১১. আল আরবাঈন নাবাবীয়্যাহ, ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ।
১২. সহীহ বুখারী থেকে কিতাবুত তাওহীদ।
১৩. আল ইরশাদ ইলা সহীহিল ইতিকাদ, শায়খ ছালিহ আল ফাওযান। কুল্লিয়া শারীআর ছাত্রদের এই কিতাব পড়িয়েছেন।
১৪. আল ক্বাওয়াঈদুল মুছলা ফিল আসমাঈ ওয়াস সিফাত, শায়খ ছালিহ আল ঊসাইমীন। কুল্লিয়া শারীআর ছাত্রদের এই কিতাব পড়িয়েছেন।
১৫. মিনহাজুল মুসলিম, শায়খ আবু বকর আল জাযায়েরী। শায়খ রাহিমাহুল্লাহ কুল্লিয়া শরীআহ এর ছাত্র, কুয়েতের বিভিন্ন দারসে এবং জামি'আতুল কুয়েতের ছাত্রদের মাঝেও এই কিতাবের দারস দিয়েছেন। এছাড়া শায়খ কুয়েত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত মানাহিজুল আক্বীদা সেমিনারে এই কিতাবের দারস দিয়েছেন।
▪️শায়খের দারসের মানহাজ: শায়খ রাহিমাহুল্লাহ এর দারস প্রদানের মানহাজ ছিল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত এর প্রথম সারির ইমামদের অনুসৃত মানহাজ। যেমন:
১. আক্বীদার বিষয়াবলীতে তিনি সালাফদের উক্তি তাহকীকসহ উল্লেখ করতেন এবং এ বিষয়ে মুহাক্কিকগণের মতামত তুলে ধরতেন।
২. আক্বীদার আলোচনায় সালাফদের গ্রহণযোগ্য মানহাজ থেকে ক্বাওয়াঈদ উল্লেখ করতেন এবং মাসআলা বর্ণনা করতেন। যাতে করে বিষয়টি সুদৃঢ় ও গ্রহণযোগ্যতা পেত।
৩. আক্বীদার ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত এর মধ্যকার মতভেদগত পার্থক্য গুলো সালাফদের উক্তিসহ উল্লেখ করতেন এবং আল কুরআন ও সুন্নাহ, ও সালাফদের মানহাজ ও উক্তির আলোকে বাতিলকে খণ্ডন করতেন।
৪. শায়খ রাহিমাহুল্লাহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁর সম্মানিত উস্তাযদের থেকে উক্তি বর্ণনা করতেন। তিনি বিভিন্ন মাসয়ালার ব্যাখায় তাঁদের উক্তিসমূহ তারজীহসহ উল্লেখ করতেন।
৫. যে কিতাবের দারস দিতেন বা ব্যাখ্যা করতেন তার মূল নস আয়ত্বের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করতেন।
৬. প্রত্যেকটা বিষয়ে আহলুল ইলম ও প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের ইমাম, ফক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুহাক্কিকগণের মতামত উল্লেখ করতেন। এসব বিষয়ে আল কুরআন, সুন্নাহ ও মাযহাবের আলোকে মাসআলা প্রদান করতেন। পরস্পর বৈপরীত্য মাসআলায় ফক্বীহদের গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী তারজীহ দিতেন।
▪️উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলী: শায়খ রাহিমাহুল্লাহ দারসের পাশাপাশি লেখালেখির খিদমাত করেছেন। যেমন:
১. আল আলাক্বাহ বায়নাত তাসাওউফি ওয়াত তাশায়্যুঈ [পিএইচডি গবেষণা কর্ম]।
২. ইমাম বায়হাক্বী রাহিমাহুল্লাহ রচিত 'ছালাছুন মিন শু'আবিল ঈমান' এর তাহকীক [মাষ্টার্স গবেষণা কর্ম]।
৩. নায'আতুত তাকফীর: খুতূরতুহা ওয়া ঈলাজুহা।
৪. আর রুক্বা- আশ শারঈয়্যাহ বায়নাত তানযীলি ওয়াত তাতবীক্ব।
৫. আল ইতিকাদুল ওয়াজিবু নাহওয়াস সাহাবাহ।
৬. আল ইতিকাদুল ওয়াজিবু নাহওয়াল ক্বাদারি।
৭. আল আশাঈরা লায়সূ মিন আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ [আলোচ্য বইয়ে চারটি প্রবন্ধ রয়েছে, যা কুয়েতের জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়]।
৮. আল আক্বীদাতু আওওয়ালান [সংক্ষিপ্ত কর্ম]।
৯. আল আখলাক আল ইসলামিয়্যাহ [সংক্ষিপ্ত কর্ম]।
১০. আল মিলাল ওয়ান নিহাল [সংক্ষিপ্ত কর্ম]।
১১. আক্বীদা [সংক্ষিপ্ত কর্ম]।
▪️মৃত্যু: বর্তমান বিশ্বের প্রখ্যাত কুয়েতী সালাফী বিদ্বান শায়খ ডক্টর ফালাহ ইবনু ইসমাঈল মান্দাকার গত ২১শে অক্টোবর রোজ বুধবার কুয়েতে ৭০বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। [ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন]। [উল্লেখ্য যে, তিনি করোনাক্রান্ত হয়েছিলেন]। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাঊসে সম্মানিত করুন। আমীন!
🖊️আব্দুল হাকীম আব্দুল হাফীয
হাদীস বিভাগ, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
◽নিভে গেল সুন্নাতের বাতিঘর (ড. মুহাম্মাদ যিয়াউর রহমান আল-আযমী রাহিমাহুল্লাহ)।
[অভিজাত হিন্দু ব্রাহ্মণ থেকে মুসলিম, অতঃপর অবিশ্বাস্যভাবে উম্মাহর খ্যাতিমান মুহাদ্দিছ, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর, ‘আল-জামি‘ আল-কামিল ফিল হাদীছ আছ-ছহীহ আশ-শামিল’-এর সংকলক ড. যিয়াউর রহমান আল-আ‘যমী ৯ই যিলহজ্জ্ব ১৪৪১ হিজরী মোতাবেক রোজ ৩০শে জুলাই ২০২০ যোহরের আযানের সময় আরাফার পবিত্র দিনে মদীনা মুনাওয়ারায় মৃত্যুবরণ করেন। বৈচিত্র্যময় দুনিয়ায় মহান আল্লাহর দূরদর্শী সৃষ্টিকৌশল বুঝার সাধ্য কার! ভারতে কট্টর হিন্দু বাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেয়া আল্লাহর সৃষ্টি বৈচিত্র্যের অনন্য নযীর প্রখ্যাত ও প্রতিথযশা মুহাদ্দিছ ড. যিয়াউর রহমান আ‘যমী। উচ্চ বংশীয় হওয়ায় তার জীবন খুব সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যেই কাটছিল। একদিকে হিন্দু ধর্ম শতধাবিভক্ত, ছোট জাত-বড় জাত বাছবিচার ও নিজ ধর্মেই সুবিধা বঞ্চিত নিগৃহীত জনতার হাহাকার; অপরদিকে মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ পড়শী, বন্ধু-বান্ধবের জীবনাচার ও পারিপার্শ্বিকতা সুবোধ যুবক বংঙ্কীরামকে অনেকটা ভাবিয়ে তুলেছিল। তাঁর জীবনে বাধ সাধলো পাহাড়সম এই জাতপাত ধর্ম ও বর্ণ বৈষম্যের। কিভাবে তিনি সুন্নাতের বাতিঘরে পরিণত হলেন? কিভাবে তার জীবনের এমন বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হল? পরিণত হলেন উপমহাদেশের আহলেহাদীছ কৃতী সন্তান মুসলিম উম্মাহর একজন খ্যাতিমান মুহাদ্দিছে? কিইবা ছিল তার জীবনের পিছনের গল্প? এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পাঠক সমীপে তাঁর বৈচিত্র্যময় জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আলোকপাত করা হ’ল]
▪️নাম ও বংশপরিচয় :
হিন্দু পারিবারিক ঐতিহ্যানুযায়ী তার বাল্য নাম ছিল বঙ্কীরাম অথবা বঙ্কে লাল। হিন্দুদের অভিজাত বাহ্মণ বংশে ১৯৪৩ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের আযমগড় যেলার বিলারাগঞ্জ নামক গ্রামে বঙ্গে লাল জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ব পুরুষ আর্য হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিল। তাঁর পিতা সমাজের একজন নেতৃপর্যায়ের ব্যক্তি ছিলেন এবং কলকাতায় তাদের বড় ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল।
▪️শিক্ষা ও ধর্মান্তর :
তিনি হিন্দু পরিবারের সদস্য হিসাবেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যন্ত নিজ গ্রামে শিক্ষা অর্জন করার পর আযমগড় শিবলী কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে এই কলেজের হাইস্কুল শাখা থেকে তিনি এসএসসি পাশ করেন। কলেজ পড়ুয়া মেধাবী বঙ্কে লালের মাথায় ধর্মীয় বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদনীতি দারুনভাবে ঘুরপাক খেতে থাকে, যা তাঁর মাঝে আত্মজিজ্ঞাসা ও মহাবিপ্লবের জন্ম দেয়। ফলে তিনি প্রধান প্রধান বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মীয় কৃষ্টিকালচার নিয়ে ব্যাপক পড়াশোনা শুরু করেন। বাড়ির পাশের হাকিম আইয়ূব নামের এক আলেমের সাহচর্যে তিনি ইসলামের সাম্য, সৌন্দর্য ও যুগোপযোগিতায় মুগ্ধ হন। এরপর দীর্ঘ গবেষণা ও পড়াশোনার পর ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তে উপনীত হন। ১৮ বছর বয়সে প্রথমে তিনি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে ইমামুদ্দীন নাম গ্রহণ করেন। ১৯৫৯ সালে ১৬ বছর বয়সে মাধ্যমিক পাশ করেন। দেড় বছর পর তিনি এখান থেকে মাদ্রাজের উদ্দ্যেশ্যে নিজের একডেমিক ইলমী সফর শুরু করেন। তামিল নাড়ুর বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান দারুস সালাম, ওমারাবাদ এ ভর্তি হন। এখানে তিনি পাঁচ বছর পড়াশোনা করেন এবং ১৯৬৬ সালে আলিম ও দাওরায়ে হাদীছ সম্পন্ন করেন।
কিন্তু হিন্দু পিতামাতা, পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের অত্যাচার, নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে তিনি নামে কিছুটা পরিবর্তন করে হয়ে যান যিয়াউর রহমান আল-আ‘যমী। তাঁর সহায় সম্বল সব কেড়ে নেওয়া হয়। বাড়ি থেকে তাঁর সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অবশেষে তাঁকে জানে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হয়। সর্বশেষ তিনি কোন দিশা না পেয়ে নিজ পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও মাতৃভূমি ভারত ছেড়ে পাকিস্থানে হিজরত করেন। জ্ঞান পিপাসু যিয়াউর রহমান আল-আ‘যমী জামা‘আতে ইসলামী পাকিস্থানের একটি মাদরাসায় ভর্তি হয়। তিনি জামা‘আতে ইসলামীর আমীর আবুল আ‘লা মওদূদী (রহঃ)-এর নিকট হানাফী মাযহাবের ফিক্বহী চিন্তাধারায় দীক্ষিত হন। প্রবল আগ্রহের কারণে ধর্মীয় বিভিনণ বিষয়াদিতে নিজেই পড়াশোনা ও গবেষণা শুরু করেন এবং দালীলিক সমাধানের সকল দরজা তার কাছে উন্মোচিত হয়।
▪️মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন :
জীবনযুদ্ধে তাঁর এই পাঠযাত্রা কখনোই স্তিমিত হয়ে যায়নি। এরপরে তাঁর উচ্চশিক্ষা অর্জনের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। বিধায় আরবীর প্রতি তাঁর ভালোবাসাটা আরো দৃঢ় হয়। তাই তিনি আরবে গিয়ে আরবী ভাষা রপ্ত করে ইলমে হাদীছ অধ্যয়নের দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করেন। তখন তাঁর নিকটে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ পৌঁছে। তিনি অবহিত হন যে, সেখানে আবেদনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার জন্য মনোনীত হলে তিনি সেখানে আরবী ভাষা সুন্দরভাবে শিখতে পারবেন এবং তিনি ইলমে হাদীছ অধ্যয়ন করতে পারবেন। শুধু ইসলাম গ্রহণ করেই থেমে থাকেননি, ধর্মীয় জ্ঞানের প্রগাঢ় তৃষ্ণা মেটাতে এবং উচ্চতর শিক্ষা নিতে তিনি ছুটে যান প্রিয় নবীর শহর মদীনা মুনাওয়ারায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি নব মুসলিম হিসাবে আবেদন করেন এবং মহান আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে ১৯৬৬ সালে সেখানে অধ্যয়নের সুযোগ পান। আর তিনিই প্রথম হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত মুসলিম ছাত্র, যিনি মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পান। সেখানে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীছ অনুষদে ভর্তি হন এবং হাদীছ শাস্ত্রে বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি তৎকালীন মহান বিদ্বানদের সাহচর্য লাভ করেন। তন্মধ্যে শায়খ আব্দুল আযীয ইবনু বায, শায়খ আশ-শানক্বিতী (রহঃ) প্রমুখ অন্যতম। তিনি তাঁর শ্রেণীতে সর্বোচ্চ রেজাল্ট করে অনার্স ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর তিনি শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায (রহঃ)-এর পরামর্শে আরো উচ্চতর শিক্ষার জন্য আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা করেন। তিনি মদীনা ইউনিভার্সিটির প্রথম স্নাতকদের অন্যতম যারা আল আযহার থেকে মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি শায়খ মোস্তফা আ'যমী-এর তত্ত্বাবধানে মাস্টার্স গবেষণা কর্ম সমাপ্ত করেন। মাস্টার্সে তাঁর গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘আবূ হুরায়রা: তাঁর বর্ণনার আলোকে’ [أبو هريرة: في ضوؤ مروياته]। তৎকালীন সময়ে যা মডারেট মুসলিম ও পাশ্চাত্যবাদীদের অভিযোগের বিরুদ্ধে এবং ছাহাবীদের সমর্থনে একটি সফল কর্ম হিসেবে সফলতা ও প্রসিদ্ধি অর্জন করে। আর তাঁর পিএইচডি গবেষণা কর্মের বিষয় ছিল ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বিচারকার্য’ اقضية رسول الله صلى الله عليه وسلم لابن الطلاع القرطبي : تحقيق تعليق واستدراك। ১৯৭৩/৭৪ সেশনে মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদীছ বিভাগ খোলা হয়। ১৯৭৯ সালে তিনি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদীছ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। কিছু সময় তিনি হাদীছ বিভাগের প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান হিসাবে নিয়োগের জন্য তাঁর সঊদী আরবের নাগরিক হওয়ার প্রয়োজন হ’লে বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইলমী সম্মাননা স্বরুপ ‘রাবেতা আল-আলাম আল-ইসলামী’র প্রধান শায়খ মুহাম্মাদ বিন আলী হিরকানের সুফারিশক্রমে তাকে সঊদী সরকার সে দেশের সম্মানজনক নাগরিকত্ব প্রদান করেন, যা আসলেও খুবই সৌভাগ্যের! এছাড়াও তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে মক্কার মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক এবং প্রশাসনিক পদে নিযুক্ত ছিলেন। অতঃপর মসজিদে নববীর প্রধানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি মসজিদে নববীতে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি সেখানে ছহীহ বুখারী, ছহীহ মুসলিম ও সুনান আবূ দাঊদ-এর দারস প্রদান করেন। ধর্মীয় জ্ঞান চর্চার পরিমন্ডলে এ দায়িত্ব অত্যন্ত সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ।
▪️রচনাবলী :
এক সময়ের হিনদু যুবক বঙ্কে লাল আজকের শায়খ যিয়াউর রহমান আল-আ‘যমী গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ অনেক কাজ করেছেন। তিনি কয়েক ডজন বই লিখেছেন এবং অসংখ্য বই বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করেছেন। ইলমে হাদীছে তার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি الجامع الكامل في الحديث الصحيح الشامل এটি বারো খন্ডে রিয়াদের দারুস সালাম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ছহীহ হাদীছগুলোকে ফিক্বহী অধ্যায় ভিত্তিক বিন্যস্ত করেছেন। এ বৃহৎ কর্মযজ্ঞে তিনি ২০০টিরও বেশী হাদীছ গ্রন্থের সহায়তা নিয়েছেন এবং সম্ভবতঃ তিনিই পুরো দুনিয়ায় একক ব্যক্তি, যাকে দিয়ে মহান আল্লাহ এমন একটি মহৎ কাজ করিয়ে নিয়েছেন। তার অন্যতম আরেকটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে হিন্দি ভাষায় Encyclopedia of the Glorious Qur’an ‘মহিমান্বিত কুরআন বিশ্বকোষ’। এছাড়াও তিনি কম্প্যারেটিভ স্টাডি অব জুদাইজম, ক্রিশ্চিয়ানিটি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান রিলিজিওন্স বিষয়েও বই লেখেন। ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে খুবই সুখপাঠ্য ও মুগ্ধতা ছড়ানো আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ লিখেছেন ‘ফ্রম গঙ্গা টু যমযম’।
▪️তাঁর লিখিত অন্যান্য গ্রন্থ :
১. আল জামি'ঊল কামিল ফিল হাদীছিছ ছহীহিশ শামিল।
২. ফুছূলুন ফি আদইয়ানিল হিন্দ [গ্রন্থটি আরবী ভাষায় রচিত। যাতে তিনি ভারতে প্রচলিত চারটি ধর্ম হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ এদের পরিচয় তুলে ধরেন]।
৩. দিরাসাতুন ফিল জারহি ওয়াত তা'দীল।
৪. আল মাদখাল ইলাস সুনানীল কুবরা লিল ইমাম বায়হাক্বী।
৫. আল মিন্নাতুল কুবরা শারহুস সুনানিস সুগরা লিল হাফিয বায়হাক্বী।
৬. মুহাম্মাদ হায়াত সিন্ধী কর্তৃক রচিত 'ফাতহুল গাফুর ফি ওয়াযঈল আয়দী আলাস সুদূর' গ্রন্থের তাহকীক এবং ভূমিকা লিপিবদ্ধ করেন।
৭. আত তামাসসুকু বিন সুন্নাহ ফিল আকাঈদি ওয়াল আহকাম।
৮. মু'জামু মুসত্বলাহিল হাদীছ ওয়া লাতায়িফিল আসানীদ।
৯. তুহফাতুল মুত্তাক্বীন ফীমা ছহহা মিনাল আদঈয়াতি ওয়াল আযকারি ওয়ার রুকা ওয়াত তিবিব আন সায়্যিদিল মুরসালীন।
১০. আমালী ইবনু মারদুওয়ায়হ (তাহকীক কর্ম)।
১১. আল ইয়াহুদীয়্যাত ওয়ান নাসরানিয়্যাত।
১২. আর-রাযী ওয়া তাফসীরুহু।
১৩. কুরআন কে সায়ে মে।
১৪. তলোয়ারো কে সায়ে মে।
১৫. গঙ্গা সে যমযম তক।
১৬. লুগাতুল কুরআন।
▪️আল জামি'ঊল কামিল ফিল হাদীছিছ ছহীহিশ শামিল পরিচিতি :
১৬৫৪৬টি ছহীহ হাদীছ দ্বারা সমৃদ্ধ বিখ্যাত গ্রন্থটি মোট ১৯ খন্ডে সমাপ্ত। যার পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় ১৪৭৩৬। যা শায়েখের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কর্ম হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ। ২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ১২ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ছহীহ হাদীছ সংকলনের কাজ সম্পূর্ণ করেন। ২০১৬ সালে মাকতাবা দারুর রিসালা থেকে ১২খন্ডে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। অতঃপর ২০১৯ সালে দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয় পাকিস্তানের দার ইবনু বাশীর থেকে। বর্তমানে প্রথম খন্ডে শুধু সূচিপত্র সংযোজিত হয়েছে। প্রথম সংস্করণে উছূলে হাদীছ, আসমাউর রিজাল, জারহ ওয়া তা‘দীল-এর আলোচনা সংক্ষিপ্ত আকারে থাকলেও দ্বিতীয় সংস্করণে তা সবিস্তারে সংযোজন করা হয়েছে।
▪️আল জামিঊল কামিল গ্রন্থে হাদীছ সংকলনের মানহাজ : লেখক রাহিমাহুল্লাহ হাদীছ সংকলনকালে ছহীহ, হাসান, যঈফ, জাল ও মুনকার ইত্যাদি সাব্যস্ত করণের ক্ষেত্রে মুতাআখখিরীন মুহাদ্দিছগণের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তিনি তাঁর সংকলন ফিক্বহী তারতীবে সাজিয়েছেন। গ্রন্থটি তিনি ছহীহ বুখারীর ন্যায় কিতাবুল অহী দিয়ে শুরু করেছেন। এরপর কিতাবুল ঈমান ও অন্যান্য অধ্যায় ফিক্বহী বিন্যাসানুযায়ী সাজিয়েছেন। হাদীছটি বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত হলে মুত্তাফাক্বুন আলাইহ, শুধু বুখারী বা মুসলিম গ্রন্থে হলে তাঁদের নাম ও ছহীহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এখানে কুতুবে সিত্তাহ ও মুয়াত্তা ইমাম মালিক থেকে ছহীহ হাদীছগুলো একত্রিত করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি ছহীহ বুখারীর তা‘লীকাত বা বালাগাত কিংবা মুয়াত্ত্বা ইমাম মালিক-এর মারাসিল সংযোজন করেননি। মূলতঃ তিনি এই সংকলনের ক্ষেত্রে হাদীছের মৌলিক গ্রন্থের উপর নির্ভর করেছেন; কুতুবুয যাওয়ায়েদ-এর উপর নির্ভর করেননি। যেমন হুমায়দী-এর ‘আল জামিঊ বায়নাছ ছহীহাইন’ কিংবা ইবনুল আছীর-এর ‘জামিঊল উছূল’ থেকে হাদীছ সংকলন করেননি। এরপর তিনি কুতুবে সিত্তাহ ও মুয়াত্তা ইমাম মালিক-এর বাইরে ছহীহ হাদীছ সংকলনের জন্য হায়ছামীর মাজমাঊয যাওয়ায়েদ, ইবনু হাজারের মাতালিবুল ‘আলিয়া, মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক, মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, সুনান সাঈদ ইবনু মানছূর, সুনান দারিমী, মুনতাকা ইবনুল জারূদ, ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ, ছহীহ ইবনু হিববান, দারাকুৎনী, মুসতাদরাক আল হাকিম, বায়হাক্বী থেকে ছহীহ হাদীছগুলো একত্রিত করেছেন। এছাড়াও তিনি হাদীছের নির্দিষ্ট একটি অধ্যায়; যেমন তাফসীর, আকীদাহ, আহকাম, যুহদ, দো‘আ, আখলাক ইত্যাদির উপর রচিত একক মুসনাদ গ্রন্থ থেকে ছহীহ হাদীছগুলো একত্রিত করেছেন।
লেখক আল জামিঊল কামিল গ্রন্থের ভূমিকায় প্রথমেই তাঁর স্বীয় ছহীহ বুখারী, ছহীহ মুসলিম, সুনান আবুদাঊদ-এর একাধিক সনদ এবং যুগ শ্রেষ্ঠ গ্রহণযোগ্য ৬জন মুহাদ্দিছ থেকে তার হাদীছ বর্ণনার ইজাযাহ উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি গ্রন্থের ভূমিকায় ইলমে হাদীছের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস সংক্ষিপ্তকারে খুব চমৎকারভাবে উল্লেখ করেছেন। সাথে সাথে তিনি উছূলে হাদীছ ও হাদীছ সংকলনের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিছগণের মানহাজ বর্ণনা করেছেন। লেখক রাহিমাহুল্লাহ তাঁর এই ছহীহ হাদীছের সংকলনের জন্য ৭টি কারণ উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করা হ’ল-
ক. মুসলিম উম্মাহর প্রাথমিক উৎস দুইটি। আল-কুরআন এবং সুন্নাহ। আমাদের সাথে আল-কুরআন রয়েছে। কিন্তু সুন্নাহ শতাধিক গ্রন্থে বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে। ছহীহাইন ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থে অনেক ছহীহ হাদীছ রয়েছে। যা অসংখ্য জাল ও মুনকার হাদীছের সাথে একত্রিত অবস্থায় রয়েছে। কাজেই লেখক মনে করেছেন এগুলো সংগ্রহ করে ছহীহ হাদীছগুলোকে যাচাই বাছাই করণের মাধ্যমে এক মলাটে একত্রিত করা। আবার লেখক রাহিমাহুল্লাহ বিভিন্ন সময়ে সকল ছহীহ হাদীছের কোন একক সংকলন আছে কিনা এরকম প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি এর সন্তোষজনক কোন উত্তর কিংবা সংকলন না পেয়ে তিনি নিজেই এই মহান কাজের খিদমত করার জন্য এগিয়ে আসেন।
খ. বিদ‘আতী ও অন্যান্য ভ্রান্ত লোক যারা হাদীছের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট হাদীছ প্রচার করে তাদের বিরুদ্ধে এই ছহীহ হাদীছের বিশাল সংগ্রহশালা ঢাল হিসাবে কাজ করবে।
গ. মুসলিম উম্মাহর উছূল হলো পরস্পরের মাঝে মতপার্থক্যের সময় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করা। এক মলাটে সকল ছহীহ হাদীছ হাতের নাগালে পাওয়ার দরুণ উম্মাহর মধ্যকার মতপার্থক্যগুলো খুব সহজেই সমাধানের পথ দেখাতে সহযোগিতা করবে। বিশেষতঃ উম্মাহ মনগড়া ও ভিত্তিহীন হাদীছের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পাবে। সাথে পরস্পরের মধ্যকার মত পার্থক্য হ্রাস পাবে।
ঘ. এই ছহীহ হাদীছের বিশাল সংগ্রহশালা হাদীছের যথাযথ বুঝ ও ফিক্বহুল হাদীছ অনুধাবন করতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে। যেমনটি ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, একটি হাদীছ অপর একটি হাদীছের ব্যাখ্যাস্বরূপ।
ঙ. ইলমে হাদীছের ছাত্রদের জন্য এই ছহীহ হাদীছের সংকলন অপরিসীম উপকার প্রদান করবে। বিশেষ করে এর মাধ্যমে খুব সহজেই জাল ও মুনকার হাদীছ থেকে ছহীহ হাদীছগুলো পার্থক্য করতে সক্ষম হবে। এছাড়া হাদীছের হুকুম সহজেই বুঝতে পারবে। হাদীছটি তারগীব নাকি তারহীব কিংবা হাদীছের প্রদত্ত ফায়েদা খুব সহজেই আয়ত্ত করতে পারবে। ইলমে হাদীছের এই মহান বিদ্বান যে খিদমাত করেছেন তা জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
▪️মৃত্যু :
ইলমে হাদীছের এই মহান ব্যক্তিত্ব ও মহীরুহ গত ৩০ জুলাই মোতাবেক ৯ জিলহজ আরাফার দিনে মদীনা মুনাওয়ারাতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। বাদ মাগরিব মসজিদে নববীতে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর বাক্বীউল আল-গারক্বাদ কবরস্থানে নবী পরিবারের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
বছরের সর্বোত্তম (ذلك اليوم المشهود) দিন আরাফার মোবারক দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। অমুসলিম পরিবারে জন্ম লাভ করেও যে সকল মনীষী ইসলাম গ্রহণ করে ইলমের বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখেছেন তাদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকার মত একটি নাম ড. মুহাম্মদ যিয়াউর রহমান আল-আ‘যমী। মানুষ তার কর্মে বেঁচে থাকে, বংশ পরিচয়ে নয়। তিনি প্রকৃতপক্ষেই ‘ইমামুদ্দীন’ বা দ্বীনের নেতা হিসাবে যুগ যুগ ধরে বরিত হতে থাকবেন। আল্লাহ তাঁকে জানণাতুল ফেরদাঊস নছীব করুন- আমীন!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Medina