আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল অফিসিয়াল

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, KSA Saudi Arabia

Abdullahil hadi bin Abdul jalil
Daee: jubail dawah & guidance center.

Operating as usual

26/10/2023

🔴 Live শুরু হয়েছে.....
বিষয়: মানুষ আল্লাহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা সত্ত্বেও আল্লাহর ধৈর্য ধারণ
(ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রাহ. রচিত উসুলুল ইমান বই থেকে)
আলোচক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব
দয়া করে ভিডিওটি শুনুন ও শেয়ার করুন।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান

https://fb.watch/nWdeAwxD0s/?mibextid=I6gGtw

25/10/2023

প্রশ্ন: সহবাস করার শুরুতে, মাঝে ও শেষে কী কী দুআ পাঠ করতে হয়?
উত্তর:
স্বামী-স্ত্রী সহবাসের পূর্বের দুআ সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। যেমন: ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ তার স্ত্রী সহবাস করতে চায় সে যেন বলে,
” ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺟَﻨِّﺒْﻨَﺎ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ، ﻭَﺟَﻨِّﺐْ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﻣَﺎ ﺭَﺯَﻗْﺘَﻨَﺎ ”
(বিসমিল্লাহ্‌। আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ও জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা।)
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ, আমাদেরকে শয়তান হতে বাঁচান এবং আমাদেরকে যদি কোন সন্তান দেন তাকেও শয়তান হতে বাঁচান।” তাহলে এ মিলনে তাদের ভাগ্যে যদি কোন সন্তান হয় তবে শয়তান কখনো তার ক্ষতি করতে পারবে না।” [বুখারি হা/ ৬৩৮৮ ও মুসলিম হা/ ১৪৩৪]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, “তাহলে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না এবং তার উপর কর্তৃত্ব চালাতে পারবে না।” [সহীহ বুখারী (ইফা), অধ্যায়: ৪৯/ সৃষ্টির সূচনা, পরিচ্ছেদ: ১৯৯৩. ইবলিশ ও তার বাহিনীর বর্ণনা]
কিন্তু সহবাসের মাঝে বা সহবাসের পর বিশেষ কোনও দুআ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। তাই নির্দিষ্ট কোনও দুআ নিয়ম করে পাঠ করা যাবে না। হ্যাঁ, কেউ যদি সহবাসের পর সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহর কাছে নিজের মত করে দুআ করে ও আল্লাহর কাছে সন্তান চায় তাহলে তাতে কোনও আপত্তি নাই। তবে নির্দিষ্ট কোনও দুআ নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পড়া যাবে না। অন্যথায় তা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে। কেননা তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস বা সাহাবিদের আমল দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি।
- কেউ কেউ সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে সহবাসে বীর্যপাতের সময় অথবা সহবাসের পরে স্ত্রীর পেটে হাত রেখে নির্দিষ্ট দুআ পড়ার কথা বলে। যেমন: বীর্যপাতের সময় নিম্নোক্ত দুআ পাঠের কথা বলা হয়:
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي جَعَلَ مِنَ الْمَاءِ بَشَرًا
“সেই আল্লাহর সকল প্রশংসা যিনি পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন।” মূলত: সূরা ফুরকানের ৫৫ নাম্বার আয়াতকে কিছুটা বিকৃত করে এ দুআটি বানানো হয়েছে। কিন্তু কুরআন-সুন্নায় স্ত্রী মিলনকালে বীর্যপাতের সময় এই দুআ পাঠ করার কথা কোথাও বর্ণিত হয়নি। অনুরূপভাবে সহবাসের পরে স্ত্রীর পেটে হাত রেখে বিশেষ কোনও দুআ পাঠের ব্যাপারেও কোনও নির্দেশনা আসেনি। সুতরাং তা অবশ্যই বর্জনীয়। অন্যথায় তা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে।
আল্লাহু আলাম।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

24/10/2023

"মায়ের একটি সুখের হাসি‌ আটটি বেহেস্তের সমান আর একটি কষ্টের নিঃশ্বাস সাতটি দোজখের চেয়েও ভয়ংকর" একটি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট হাদিস:

প্রশ্ন: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "মায়ের একটি সুখের হাসি আটটি বেহেস্তের সমান আর কষ্টের একটি নিঃশ্বাস সাতটি দোজখের চেয়েও ভয়ংকর।" এটি কি সহিহ হাদিস?
উত্তর:
এটি কোনো হাদিস নয় বরং ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা। অর্থাৎ এটি হাদিসের নামে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপরে মিথ্যাচার।
এটি কোন বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থে তো দূরের কথা, বানোয়াট হাদিস সংকলন গ্রন্থগুলোতেও উল্লেখিত হয়নি। বরং তা সোশ্যাল মিডিয়ার বকধার্মিক মূর্খ আবেগীদের তৈরি করা হাদিস বলেই প্রতীয়মান হয়। (আল্লাহ তাআলা এদের অনিষ্ট থেকে মুসলিমদেরকে হেফাজত করুন। আমিন)
সুতরাং এই জাতীয় হাদিস প্রচার-প্রসার করা বা বর্ণনা করা জায়েজ নেই। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তা করলে তার পরিণতি হবে জাহান্নামের আগুন। এ ব্যাপারে হাদিসে সতর্ক বার্তা উচ্চারিত হয়েছে।

তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি, বই-পুস্তক রচনা, ওয়াজ মাহফিল, খুতবার মিম্বর ইত্যাদিতে হাদিস প্রচার বা বর্ণনার ক্ষেত্রে হাদিসের মান যাচাই করা এবং এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।
আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। ‌আমিন।
যাহোক, বাবা-মাকে খুশি রাখা এবং তাদেরকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে পর্যাপ্ত আয়াত এবং বিশুদ্ধ হাদিস রয়েছে‌। সেগুলোই যথেষ্ট।
▪️উল্লেখ্য যে, জান্নাত আটটি এবং জাহান্নাম সাতটি নয়। বরং জান্নাত একটি কিন্তু তার দরজা আটটি। এ ব্যাপারে বহু সহিহ হাদিস রয়েছে। আর জাহান্নাম একটি কিন্তু তার দরজা সাতটি। এ বিষয়ে দেখুন, সূরা হিজর-এর ৪৪ নম্বর আয়াত।
আল্লাহু আলম।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

23/10/2023

▪️ বিষয়: শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী রহ.-এর জীবন ও কর্ম (পুনঃপ্রচার)
▪️ সঞ্চালনায়: ডক্টর জয়নুল আবেদীন মাদানি
▪️ আলোচনায়:
ক. শাইখ আখতারুল আমান মাদানি
খ. এবং আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান

https://fb.watch/nShWJJa9Up/

23/10/2023

মদিনার বাকি গোরস্থানে বিদাতিদের তৈরিকৃত বড় বড় মাজার এবং সেগুলো ভেঙ্গে ফেলা প্রসঙ্গে

প্রশ্ন: মদিনার বাকি গোরস্থানে নাকি অনেক মাজার ছিল, পরে সেগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে? যারা মাজারে বিশ্বাসী তাদের কাছে এমন কথা শোনা যায়। তাই এ সম্পর্কে আপনার নিকট জানতে চাই।
উত্তর:
প্রথমেই আমাদের জানা জরুরি যে, ইসলামের দৃষ্টিতে কবর পাকা করা, কবরের দেয়ালে চুনকাম করা, তাতে কিছু লিখা ইত্যাদি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। বিশিষ্ট সাহাবি জাবের রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন,

نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ

“রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরে চুনকাম করা, তার উপর বসা এবং তার উপর বিল্ডিং নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।" [সহিহ মুসলিম]

এ হাদিস দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণ হল যে, কবরে প্লাস্টার লাগানো, চুনকাম করা, পাকা করা, কবরের উপর বিল্ডিং ও গম্বুজ নির্মাণ করা কঠোর ভাবে নিষেধ। এ মর্মে আরও হাদিস রয়েছে।

❒ ইসলামি সরকারের দায়িত্ব হল, উঁচু কবর, মাজার ইত্যাদি ভেঙ্গে ফেলা:

ইসলামি সরকারের দায়িত্ব হল, উঁচু কবর, মাজার ইত্যাদি ভেঙ্গে ফেলা। এ মর্মে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, প্রখ্যাত তাবেয়ি আবুল হাইয়্যাজ আল আসাদি রহ. বলেন, আমাকে আলি রা. (তার খেলাফত কালে সরকারী ফরমানে) বললেন,

أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَ

“আমি তোমাকে কি এমন একটি কাজের দায়িত্ব দিয়ে পাঠাবো না যে কাজের দায়িত্ব দিয়ে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হলো, কোন মূর্তি বা প্রতিকৃতি পেলে তাকে মুছে দিবে আর কোন উঁচু কবর পেলে তা ভেঙ্গে বরাবর করে দিবে।” [সহিহ মুসলিম]
উল্লেখ্য যে, মুহাদ্দিসগণ বলেন, এখানে করব মাটি বরাবর করা উদ্দেশ্যে নয় বরং জাহেলি যুগে যেভাবে কবরকে অনেক উঁচু করা হত সেভাবে না রেখে সামান্য একটু উঁচু রাখা যেন কবরকে অন্যান্য স্থান থেকে পার্থক্য করা যায়।
সুতরাং মদিনার বাকি গোরস্থানে যদি কবরের উপর বিল্ডিং তৈরি করে মাজার বানানো হয়ে থাকে (যা সাহাবি ও তাবেঈদের যুগে ছিল না) তাহলে তা ছিল অত্যন্ত গর্হিত কাজ। আর সৌদি সরকার যদি সেগুলো ভেঙ্গে দিয়ে থাকে তাহলে তা অবশ্যই তাওহিদ ও সুন্নাহ ভিত্তিক কাজ করেছে উপরোল্লিখিত হাদিস অনুযায়ী।
রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিসের বরখেলাপ করে যদি কেউ অন্যায় কাজ করে ইসলামের রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল, সেই অন্যায়ের মূলোৎপাটন করা। আর আল হামদুলিল্লাহ সেটাই হয়েছে যদিও তা কবর পূজারী ও সুফি বিদাতির গাত্রদাহের কারণ হয়।
দুআ করি, মহান আল্লাহ তাআলা যেন, আমাদেরকে সব ধরণের শিরক, বিদআত এবং আল্লাহর ও তাঁর রসুলের বরখেলাপী কাজ থেকে রক্ষা করেন। আমিন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

22/10/2023

হিন্দুদের দুর্গাপূজা ২০২৩ এবং এ সংক্রান্ত ইসলামের জরুরি কিছু বিধিবিধান:

◍ ১. মুসলিমদের জন্য বিধর্মীদের ধর্মীয় উৎসব ও পূজা-পার্বণে অংশগ্রহণ হারাম হওয়ার দশ কারণ
https://www.facebook.com/AHaadiOfficial/posts/525367836260853

◍ ২. হিন্দুদের পূজায় অংশ গ্রহণ, পূজার কোনও উপকরণ বিক্রয় করা বা ভাড়া দেওয়া অথবা পূজা পালনে সাহায্য-সহযোগিতা করার বিধান
https://www.facebook.com/AHaadiOfficial/posts/1082723472147197

◍ ৩. ইসলামের দৃষ্টিতে কোনও হিন্দু বা বিধর্মীকে ঘর বা দোকান ভাড়া দেওয়ার বিধান​
https://www.facebook.com/AHaadiOfficial/posts/691024373028531

◍ ৪. ধর্ম যার যার, উৎসব সবার! একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ
https://www.facebook.com/AbdullaahilHadi/posts/10212993434570666

◍ ৫. মুসলিমদের জন্য বিধর্মীদের দেব-দেবী দেখে শুধু আনন্দ উপভোগ করার উদ্দেশ্যে তাদের উপাসনালয়ে গমন করা এবং এ উপলক্ষে পরস্পরে শুভেচ্ছা বিনিময় করা
https://www.facebook.com/AbdullaahilHadi/posts/10222600522381857

◍ ৬. কুরআনের অবমাননা এবং বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে আক্রমণ প্রসঙ্গ
https://www.facebook.com/AbdullaahilHadi/posts/10220993580289309

◍ ৭. প্রশ্ন: পৃথিবীর সর্বপ্রথম ধর্ম কোনটি এবং এত ধর্ম সৃষ্টি হল কীভাবে?

https://www.facebook.com/AHaadiOfficial/posts/1058328434586701

◍ ৮. মূর্তি ও ভাস্কর্য নির্মাণের ভয়াবহতা এবং কীর্তিমান সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য:
https://www.facebook.com/AHaadiOfficial/posts/1114200082332869

◍ ৯. সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু এবং আরবের মুশরিকদের মাঝে পার্থক্য:
https://www.facebook.com/AHaadiOfficial/posts/601694691961500

◍ ১০. ইসলাম কি সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে?
https://www.facebook.com/AHaadiOfficial/posts/1374039086348966

◍ ১১. অমুসলিমদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত প্রদানের ১০ উপায়
https://www.facebook.com/AHaadiOfficial/posts/572558326497050

◍ ১২. ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে ৬টি মারাত্মক অভিযোগ এবং সেগুলোর জবাব
https://www.facebook.com/AHaadiOfficial/posts/861410044278542

দয়া করে লেখাগুলো পড়ুন এবং শেয়ার করুন। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

21/10/2023

জুমার খুতবা:
বিষয়: মুমিন জীবনে সময়ের গুরুত্ব
খুতবা প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব)
খুতাবা প্রদানের তারিখ: ২০/১০/২০২৩
স্থান: ক্যাম্প ১৪, রয়েল কমিশন, জুবাইল, সৌদি আরব
দয়া করে ভিডিওটি দেখুন ও শেয়ার করুন
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

https://fb.watch/nPLKirC9JC/

21/10/2023

প্রথম রোজার সংবাদ দিলে জাহান্নামের আগুন হারাম-মর্মে বর্ণিত হাদিসটি বানোয়াট ও জাল
প্রশ্ন:
“যে ব্যক্তি প্রথম রোজার সংবাদ দিবে তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যাবে” বর্তমানে ফেসবুকে এই কথাটা বেশ প্রচার হচ্ছে। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে আপনার একটি পোস্ট চাই। যাতে করে সবাই সঠিকটা জানতে পারে।
উত্তর:
এ কথা সত্য যে, রমজান ঘনিয়ে এলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই জাতীয় হাদিসটি প্রচারের হিড়িক পড়ে যায়। প্রচার করা হয় যে, এ বছর অমুক তারিখ থেকে রমজান মাসের রোজা শুরু হবে। অথচ তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা। অর্থাৎ এটি হাদিসের নামে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যাচার ছাড়া কিছু নয়। তাছাড়া রমজান মাসের সূচনা চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল-যা জানার জন্য সরকার নির্ধারিত চাঁদ দেখা কমিটি বা আদালতের ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হয় । সুতরাং তা গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির হিসেবে অগ্রিম সংবাদ দেওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং কেউ যদি অনেক আগে থেকে এই ঘোষণা প্রচার করে তাহলে তা হবে আরেকটি মিথ্যাচার।

◆ এ প্রসঙ্গে বিশ্ব বিখ্যাত ফতোয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট Islamqa-এ বলা হয়েছে,

لم يذكره من صنف في فضل رمضان من العلماء، ولو من باب التنبيه على عدم صحته، كما لم يذكره من صنف في الأحاديث الضعيفة والموضوعة؛ لذلك يبدو أنه وُضع حديثًا.

"যে সকল আলেমগণ রমজানের ফজিলত সম্পর্কে বই লিখেছেন তাদের কেউ এই হাদিসটি উল্লেখ করেননি। এটি যে বিশুদ্ধ নয় সে ব্যাপারে সতর্ক করার জন্যও কেউ উল্লেখ করেননি। অনুরূপভাবে দুর্বল ও বানোয়াট হাদিস সংকলনকারীগণ ও তা (এ সংক্রান্ত কোনও গ্রন্থেই উল্লেখ করেননি।) এতেই প্রমাণিত হয় যে, এটি সাম্প্রতিক কালের বানানো হাদিস।"
এরপর আরও লেখা হয়েছে, "সুতরাং এর উপরে ভিত্তি করে বলবো, এই হাদিস প্রচার বা শেয়ার করা জায়েজ নেই মানুষকে এ বিষয়ে সতর্ক করার উদ্দেশ্য ছাড়া।"

◆ কারা এসব বানোয়াট হাদিস প্রচার করে? অজ্ঞতা বশত: কেউ তা করে থাকলে তার জন্য করণীয়:

প্রকৃতপক্ষে, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, যারা শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় ও বিভিন্ন গ্রুপে মেসেজ ফরওয়ার্ড করে শর্টকাট পদ্ধতিতে জান্নাতে যেতে চায় এটি তাদের বানানো হাদিস। আর ধর্মীয় বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতি মানুষের এক ধরণের দুর্বলতা রয়েছে। সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সস্তা লাইক-কমেন্ট কামানোর ধান্ধায় এসব কথা হাদিস বলে প্রচার করে এক শ্রেণির লোক। এভাবেই শয়তান দ্বীনের সঠিক জ্ঞান বঞ্চিত মানুষের সাথে ধর্মের নামে ধোঁকাবাজি করে চলেছে।

যাহোক কেউ যদি অজ্ঞতাবশত এই জাতীয় হাদিস ইতোপূর্বে প্রচার করে থাকে তাহলে তার জন্য আবশ্যক হলো, অনতিবিলম্বে তা ডিলিট করা এবং এটি যে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা।

✪ আল্লাহর রসুলের নামে মিথ্যাচারে ভয়াবহতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হাদিস প্রচারের পূর্বে সতর্কতা অবলম্বন অপরিহার্য:

মনে রাখা কর্তব্য যে, মানুষের সাথে সাধারণ মিথ্যা কথা এবং আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামে মিথ্যা কথা এক নয়। সাধারণ মিথ্যা কথা হারাম, কবিরা গুনাহ এবং মুনাফেকির বৈশিষ্ট্য। কিন্তু হাদিসের নামে মিথ্যাচার করার পরিণতি এর থেকেও ভয়াবহ। কেউ জেনে বুঝে তা করলে তার পরিণতি জাহান্নাম।

إنَّ كَذِبًا عَلَيَّ ليسَ كَكَذِبٍ علَى أَحَدٍ، مَن كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا، فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ

“আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আমার প্রতি মিথ্যারোপ করা তোমাদের কারো প্রতি মিথ্যারোপ করার মত নয়। যে ব্যক্তি জেনেশুনে ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান নির্ধারণ করে নেয়।” [সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)। মুকাদ্দামাহ (ভূমিকা), পরিচ্ছেদ: ২. রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর মিথ্যারোপ গুরুতর অপরাধ]

কেননা এর মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে ভুল বার্তা সমাজের ছড়িয়ে পড়ে এবং এভাবে ক্রমান্বয়ে ইসলামে বিকৃতি সাধিত হয়।
তাই বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলাম বিষয়ে কোন কিছু প্রচারের আগে তার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে যাচাই-বাছাই করা এবং তার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া হওয়া অপরিহার্য। অন্যথায় ইসলাম সম্পর্কে ভুল বার্তা প্রচার ও ইসলাম বিকৃতির অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পাশাপাশি তা প্রচারকারীর আমলনামায় গুনাহের জারিয়া বা প্রবহমান গুনাহ হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে। যত মানুষ এর দ্বারা বিভ্রান্ত হবে তাদের সমপরিমাণ গুনাহ প্রচারকারীর আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হবে। সুতরাং এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করা আবশ্যক।

আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং ইসলাম সম্পর্কে সব ধরনের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

20/10/2023

শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি পুত্রবধূ ও জামাইদের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে খুশি করার ১০ উপায়:

নিম্নে শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি পুত্রবধূ এবং জামাইদের কর্তব্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো:

১. শ্বশুর-শাশুড়ি অত্যন্ত সম্মান এবং শ্রদ্ধার পাত্র। সুতরাং চাই স্বামী হোক বা স্ত্রী হোক-সকলের কর্তব্য, তাদের শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি যথার্থ সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে আচরণ করা। কারণ তারা বয়সে বড় বা বয়স্ক মুরুব্বি। আর হাদিসে বয়সে বড় ও মুরব্বিদেরকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করার নির্দেশ এসেছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

ﻟَﻴْﺲَ ﻣِﻨَّﺎ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﺮْﺣَﻢْ ﺻَﻐِﻴﺮَﻧَﺎ ﻭَﻳُﻮَﻗِّﺮْ ﻛَﺒِﻴﺮَﻧَﺎ

“যে ছোটদেরকে দয়া এবং বড়দেরকে শ্রদ্ধা করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়।“ [তিরমিযী, সহিহুল জামে, হা/৫৪৪৫]।
যে পিতা-মাতার মাধ্যমে আপনি আপনার জীবন সঙ্গী অথবা সঙ্গিনীকে পেয়েছেন তাদেরকে ভালোবাসা এবং সম্মান ও শ্রদ্ধা করার মাধ্যমে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করা হয়।
২. স্ত্রী যেভাবে স্বামীর পিতা-মাতাকে সম্মান-শ্রদ্ধা করে স্বামীরও কর্তব্য, স্ত্রীর পিতা-মাতাকে সম্মান এবং শ্রদ্ধা করা। এটি স্ত্রীর প্রতিও ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার শামিল।
৩. বয়সে বড় বা বয়োবৃদ্ধ-মুরব্বিদের সাথে উত্তম আচরণ করা একজন মুসলিমের উন্নত চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। এর বিপরীতটা হল, নিতান্তই অসৎ চরিত্রের প্রমাণ।

৪. প্রতিটি মানুষের উচিৎ, তাদের শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে নরম ও সম্মানজনক ভাষায় কথা বলা। তাদের সাথে কর্কশ, কষ্টদায়ক ও অশালীন বাক্য সর্বতোভাবে পরিত্যাজ্য।
৫. আপনার কোন কথা বা আচরণে তারা কষ্ট পেলে তাদের নিকট ক্ষমা চাওয়া জরুরি। ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষমা করা উভয়টি মানুষের মহত্ত্বের লক্ষণ।
৬. তারা কোনোভাবে কষ্ট দিলে সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া কর্তব্য। কারণ বয়োবৃদ্ধ অবস্থায় রোগ-ব্যাধি, ঘুম সমস্যা, জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে মানুষের ধৈর্য শক্তি হ্রাস পায় এবং মন-মানসিকতা কিছুটা খিটমিটে হয়ে যায়। তাই এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিৎ।
৭. বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ, স্মৃতি ভ্রম, ক্যানসার ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ছেলেমেয়েদের পাশাপাশি পুত্রবধূ বা জামাইদের উচিত, যথাসাধ্য তাদের শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

৮. বার্ধক্যে মানুষের রুচির পরিবর্তন ঘটে, দেখা দেয় হজমের সমস্যা। খাদ্য গ্রহণে অনীহা হয়। তাই তাদের রুচির প্রতি খেয়াল রেখে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার-দাবারের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা কর্তব্য।
৯. বয়স বাড়তে থাকলে মানুষের ঘুমের অসুবিধা দেখা দেয়। ঘুম কম হয় বা রাতে ঘুম আসে না। তাই তাদের আরাম দায়ক ঘুমের দিকটি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

১০. তাদের পোশাক-আশাক, বিছানা, ঘর, ঘরের আসবাব-পত্র ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দরভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা উচিত।

১১. তাদের একাকীত্ব কাটাতে তাদের সঙ্গ দেওয়া এবং তাদের পাশে বসে কিছু সময় দ্বীন ও দুনিয়াবি বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা বলা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

১২. প্রয়োজন দেখা দিলে তাদের ওজু, গোসল ও ইবাদত-বন্দেগিতে সাহায্য করা কর্তব্য।
১৩. শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে জোরপূর্বক যৌতুক বা বিভিন্ন ধরনের উপহার-উপঢৌকন দাবি করা এবং তার না পেলে তাদের প্রতি অসদাচরণ করা শুধু হীন চরিত্রের পরিচায়ক নয় বরং তা প্রচলিত আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ এবং শরিয়তে দৃষ্টিতে হারাম।
১৪. কোন জামাই কিংবা পুত্রবধূর জন্য তার শ্বশুর-শাশুড়ির উপরে অহংকার প্রকাশ করা বা তাদেরকে কোনোভাবে খাটো করা জায়েজ নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-গরিমা, বংশগত আভিজাত্য ও মর্যাদা ইত্যাদি কারণে অনেক পুত্রবধূ বা জামাই তাদের শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি উপরে অহংকার ও দাম্ভিকতা সুলভ আচরণ করে এবং নানাভাবে তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করে। যা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

১৫. সর্বোপরি তারা যদি আর্থিক, শারীরিক, মানসিক বা সামাজিক ইত্যাদি কোন ভাবে অশান্তি বা কষ্টে থাকে তাহলে তা লাঘব করার চেষ্টা করা এবং তাদেরকে খুশি রাখার চেষ্টা করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللهِ تَعَالَى أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ وَأَحَبُّ الأَعْمَالِ إِلَى اللهِ تَعَالَى سُرُورٌ تُدْخِلُهُ عَلَى مُسْلِمٍ أَوْ تَكَشِفُ عَنْهُ كُرْبَةً أَوْ تَقْضِي عَنْهُ دَيْنًا أَوْ تَطْرُدُ عَنْهُ جُوعًا, وَلأَنْ أَمْشِيَ مَعَ أَخِ فِي حَاجَةٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتَكِفَ فِي هٰذَا الْمَسْجِدِ - يَعْنِي مَسْجِدَ الْمَدِينَةِ - شَهْرًا وَمَنَ كَفَّ غَضَبَهُ سَتَرَ اللهُ عَوْرَتَهُ وَمَنْ كَظَمَ غَيْظَهُ وَلَوْ شَاءَ أَنْ يُمْضِيَهُ أَمْضَاهُ مَلأَ اللهُ قَلْبَهُ رَجَاءً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ مَشَى مَعَ أَخِيهِ فِي حَاجَةٍ حَتّٰـى يُثْبِتَهَا لَهُ أَثْبَتَ اللهُ قَدَمَهُ يَوْمَ تَزُولُ الأَقْدَامِ وَإِنَّ سُوَّء الْخُلُقِ لَيُفْسِدُ الْعَمَلَ كَمَا يُفْسِدُ الْخَلّ الْعَسَل

“আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হল সে ব্যক্তি যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হল, একজন মুসলিমের অন্তরে আনন্দ প্রবেশ করানো অথবা তার দুখ-কষ্ট লাঘব করা, অথবা তার পক্ষ থেকে তার ঋণ পরিশোধ করা ও তার ক্ষুধা নিবারণ করা।
আর আমার এই মসজিদে (মদিনার মসজিদে নববীতে) একমাস ব্যাপী ইতিকাফ করার থেকে আমার একজন ভাইয়ের কোনও প্রয়োজন মেটানোর জন্য তার সাথে গমন করা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। যে ব্যক্তি তার ক্রোধ সংবরণ করবে আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি গোপন করবেন। যে ব্যক্তি ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করবে অথচ সে ইচ্ছা করলে তা প্রয়োগ করতে পারত, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার অন্তরকে সন্তুষ্ট করবেন। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য তার সাথে গমন করবে এবং তা পূরণ করে দেবে, আল্লাহ সেদিন তার পদযুগলকে সুদৃঢ় রাখবেন, যে দিন মানুষের পাগুলো পিছলে যাবে। আর মন্দ চরিত্র আমলকে নষ্ট করে যেমন সিরকা (ভিনেগার) মধুকে নষ্ট করে দেয়।” [সহিহ তারগিব, হা/২০৯০, সিলসিলা সহীহা, হা/৯০৬, সহীহুল জামে, হা/১৭৬]

১৬. এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, আজ যদি কেউ শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাহলে সম্ভাবনা আছে, এর বদলা হিসেবে সে যদি ভবিষ্যতে শ্বশুর-শাশুড়ি হয় তাহলে তার জামাই/পুত্রবধূর পক্ষ থেকে খারাপ আচরণের শিকার হবে। যেমনটি বলা হয়,
كَمَا تَدِينُ تُدَانُ ، وَكَمَا تَزرَعُ تَحصُدُ
"যেমন কর্ম করবে তেমন ফল পাবে, যেমন চাষ করবে তেমন ফসল পাবে।” [ইকতিযাউল ইলমিল আমাল-খতিব বাগদাদি, পৃষ্ঠা নং ৯৮]
▪️বিশেষ দ্রষ্টব্য, ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানদের জন্য পিতা-মাতার সেবা-শুশ্রূষা, অর্থ খরচ করা ও দেখভাল করা ফরজ। কিন্তু পুত্রবধূ বা জামাইয়ের জন্য তা ফরজ না হলেও অত্যন্ত নেকির কাজ। ‌তাই তাদের কর্তব্য, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যথাসাধ্য শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা ও সাহায্য-সহযোগিতা করার মাধ্যমে অবারিত নেকি অর্জনের চেষ্টা করা।
আর শ্বশুর-শাশুড়ির কর্তব্য, যদি তাদের পুত্রবধূ বা জামাই তাদেরকে কোনভাবে সাহায্য-সহযোগিতা ও উপকার করে তাহলে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কারণ যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করে না সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা আদায় করে না।
আল্লাহ তাআলা তওফিক দান করুন। আমিন।

🔸শ্বশুর-শাশুড়িকে খুশি করার ১০ উপায়:

প্রশ্ন: শ্বশুর-শ্বশুর-শাশুড়ির মন খুশি রাখতে কী করণীয়?
উত্তর:
১. মনে রাখা কর্তব্য যে, মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ, নরম ভাষায় কথা বলা, ধৈর্যের সাথে সেবা ও সহযোগিতা করা, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা, খারাপ আচরণের জবাব খারাপ আচরণের মাধ্যমে না দেওয়া-এগুলো হল, মানুষের মন জয় করার স্বীকৃত মূলমন্ত্র।
সুতরাং আপনি যদি আপনার শ্বশুর-শাশুড়িকে খুশি রাখতে চান তাহলে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এ সকল গুণ ও আচরণ প্র্যাকটিস করুন। এতে আপনি তাদের প্রিয় হয়ে উঠবেন।

২. তাদের পক্ষ থেকে খারাপ আচরণের সম্মুখীন হলে প্রতিশোধ পরায়ণ না হয়ে সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিবেন এবং আল্লাহর নিকট তাদের হেদায়েতের জন্য দুআ করবেন।
৩. দূরে থাকলে তাদের সাথে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রাখুন এবং খোঁজ-খবর নিন।
৪. বিভিন্ন বিষয়ে তার থেকে পরামর্শ নিন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে তাদেরকে পরামর্শ দিন।
৫. তাদের সামনে অথবা তাদের অনুপস্থিতে তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করুন।
৬. সম্ভব হলে, তাদেরকে অর্থিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করার পাশাপাশি কিছু উপহার দিন। উপহার মানুষের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৭. তাদের প্রশংসনীয় দিকগুলো তুলে ধরে তাদের প্রশংসা করুন।
৮. তারা আপনার কোনও উপকার করলে কৃতজ্ঞতা আদায় করুন।
৯. তাদের সুখে সুখী হোন এবং তাদের দুঃখে দুঃখী হন।
১০. মাঝেমধ্যে কিছু সময়ের জন্যে হলেও তাদের নিকট সময় কাটানো এবং তাদের সেবা-যত্ন করুন। এতে আল্লাহ আপনার উপর সন্তুষ্ট হবেন এবং আখিরাতে এর উত্তম বিনিময় দান করবেন। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।
- আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

18/10/2023

ইসলামের দৃষ্টিতে শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর পরিবারের সেবার বিধান এবং সকল পরিবারের প্রতি বিশেষ বার্তা

প্রশ্ন: ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীর জন্য কি শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা বাধ্যতামূলক?
উত্তর:
ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রী তার স্বামীর মা, বাবা, ভাই-বোন ইত্যাদির কারও সেবা করতে বাধ্য নয়। তবে শ্বশুর-শাশুড়ি এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সেবা করা একদিকে যেমন স্বামীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ অন্যদিকে নেকির কাজ তাতে কোন সন্দেহ নাই। কোন স্ত্রী যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার শ্বশুর-শাশুড়ি বা তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খেদমত করে তবে আল্লাহ তাকে আখিরাতে পুরষ্কার প্রদান করবেন ইনশাআল্লাহ। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে যে যত বেশি মানুষের উপকার করবে সে তত বেশি উত্তম। বিশেষ করে যখন রোগ-ব্যাধি, শারীরিক অক্ষমতা, বয়োঃবৃদ্ধ হওয়া ইত্যাদি কারণে শশুর-শাশুড়ির প্রতি যত্ন নেওয়ার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন কারণে মানুষ একে অন্যের সেবা বা সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হয়।

এক্ষেত্রে স্বামীদেরও উচিত,‌ আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তার শ্বশুর-শাশুড়িদের প্রতি যথাসম্ভব সুদৃষ্টি রাখা এবং প্রয়োজন দেখা দিলে যথাসম্ভব তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা। এতে তিনিও আল্লাহর কাছে পুরস্কৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللهِ تَعَالَى أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ وَأَحَبُّ الأَعْمَالِ إِلَى اللهِ تَعَالَى سُرُورٌ تُدْخِلُهُ عَلَى مُسْلِمٍ أَوْ تَكَشِفُ عَنْهُ كُرْبَةً أَوْ تَقْضِي عَنْهُ دَيْنًا أَوْ تَطْرُدُ عَنْهُ جُوعًا, وَلأَنْ أَمْشِيَ مَعَ أَخِ فِي حَاجَةٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتَكِفَ فِي هٰذَا الْمَسْجِدِ - يَعْنِي مَسْجِدَ الْمَدِينَةِ - شَهْرًا وَمَنَ كَفَّ غَضَبَهُ سَتَرَ اللهُ عَوْرَتَهُ وَمَنْ كَظَمَ غَيْظَهُ وَلَوْ شَاءَ أَنْ يُمْضِيَهُ أَمْضَاهُ مَلأَ اللهُ قَلْبَهُ رَجَاءً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ مَشَى مَعَ أَخِيهِ فِي حَاجَةٍ حَتّٰـى يُثْبِتَهَا لَهُ أَثْبَتَ اللهُ قَدَمَهُ يَوْمَ تَزُولُ الأَقْدَامِ وَإِنَّ سُوَّء الْخُلُقِ لَيُفْسِدُ الْعَمَلَ كَمَا يُفْسِدُ الْخَلّ الْعَسَل

“আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হল সে ব্যক্তি যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হল, একজন মুসলিমের অন্তরে আনন্দ প্রবেশ করানো অথবা তার দুখ-কষ্ট লাঘব করা, অথবা তার পক্ষ থেকে তার ঋণ পরিশোধ করা ও তার ক্ষুধা নিবারণ করা।
আর আমার এই মসজিদে (মদিনার মসজিদে নববীতে) একমাস ব্যাপী ইতিকাফ করার থেকে আমার একজন ভাইয়ের কোনও প্রয়োজন মেটানোর জন্য তার সাথে গমন করা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। যে ব্যক্তি তার ক্রোধ সংবরণ করবে আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি গোপন করবেন। যে ব্যক্তি ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করবে অথচ সে ইচ্ছা করলে তা প্রয়োগ করতে পারত, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার অন্তরকে সন্তুষ্ট করবেন। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য তার সাথে গমন করবে এবং তা পূরণ করে দেবে, আল্লাহ সেদিন তার পদযুগলকে সুদৃঢ় রাখবেন, যে দিন মানুষের পাগুলো পিছলে যাবে। আর মন্দ চরিত্র আমলকে নষ্ট করে যেমন সিরকা (ভিনেগার) মধুকে নষ্ট করে দেয়।” [সহিহ তারগিব, হা/২০৯০, সিলসিলা সহীহা, হা/৯০৬, সহীহুল জামে, হা/১৭৬]
◆ আমাদের সমাজে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করাকে একজন নারীর প্রশংসনীয় দিক বিবেচনা করা হয়। তাই সামাজিক এই সুন্দর রীতিটি বজায় রাখার ব্যাপারে আমাদের সচেষ্ট হওয়া উচিৎ।

◆ তাছাড়া এটাও মনে রাখা দরকার যে, একজন মহিলার জীবনেও একদিন এমন সময় আসতে পারে যখন তার পুত্রবধূর সেবার প্রয়োজন দেখা দিবে। তাই সে যদি এখন সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তার শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করে তবে সে যখন শাশুড়ি হবে তখন আশা করা যায়, তার পুত্রবধূরা তার সেবা করবে।

❑ সৌদি আরবের ফতোয়া বোর্ডকে শাশুড়িকে সহায়তা করার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন,

ليس في الشرع ما يدل على إلزام الزوجة أن تساعد أم الزوج ، إلا في حدود المعروف ، وقدر الطاقة ؛ إحساناً لعشرة زوجها ، وبرّاً بما يجب عليه بره

“শরিয়তে এমন কিছু নেই যা নির্দেশ করে যে, স্ত্রী স্বামীর মাকে সাহায্য করতে বাধ্য। তবে স্বামীর প্রতি ইহসান এবং তার প্রতি অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্যপরায়ণতার স্বার্থে যতটুকু সামাজিকতার সীমার মধ্যে পড়ে সেটা ভিন্ন কথা।” [ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ, ১৯/২৬৪ ও ২৬৫]

❑ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ. কে প্রশ্ন করা হয়, স্ত্রীর উপর কি স্বামীর মা’র কোনও হক আছে?

তিনি উত্তরে বলেন,

لا ، أم الزوج ليس لها حق واجب على الزوجة بالنسبة للخدمة ؛ لكن لها حق مِن المعروف ، والإحسان ، وهذا مما يجلب مودة الزوج لزوجته ، أن تراعي أمه في مصالحها ، وتخدمها في الأمر اليسير ، وأن تزورها من حين لآخر ، وأن تستشيرها في بعض الأمور ، وأما وجوب الخدمة : فلا تجب ؛ لأن المعاشرة بالمعروف تكون بين الزوج والزوجة .

“না, খেদমতের ব্যাপারে স্ত্রীর ওপর স্বামীর মায়ের কোনও হক নেই সামাজিকতা ও ইহসানের হক ছাড়া। এ জিনিসটা স্ত্রীর প্রতি স্বামীর প্রেম-ভালোবাসা সৃষ্টি যে, সে তার মায়ের প্রতি যত্ন নেয়, সাধারণ ছোটখাটো বিষয়ে সেবা করে, সময়ে সময়ে তার সাথে দেখা করে এবং তার বিভিন্ন বিষয়ে তার নিকট পরামর্শ নেয়। কিন্তু খেদমত আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে কথা হল, তা আবশ্যক নয়। কারণ সততা ও কল্যাণের সাথে দাম্পত্য জীবন হবে কেবল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে।” [লিকাআতুল বাবিল মাফতুহ, পৃষ্ঠা নং ৬৮, প্রশ্ন নং ১৪]

❂❂ আমাদের সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষিতে পরিবারগুলোর প্রতি বিশেষ বার্তা:

যদি পুত্রবধূ তার শ্বশুর-শাশুড়ির এতটুকু সেবা করে বা কোনোভাবে তার উপকার করে তাহলে তাদের কর্তব্য, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করা এবং তার কাজের মূল্যায়ন করা। স্বামীর কর্তব্য, স্ত্রীর এ কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা আদায়ের পাশাপাশি তার প্রশংসা করা এবং তার প্রতি আরও বেশি আন্তরিকতা, যত্ন, সম্মান ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করা। মাঝে মধ্যে এ জন্য তাকে আলাদা উপহার দেওয়াও ভালো। এতে সে খুশি হবে এবং আরও বেশি সেবা দিতে উৎসাহ বোধ হবে।
স্বামীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

مَنْ لَم يَشْكُرِ اَلناسَ لَمْ يَشْكُرِ اللهِ

“যে ব্যক্তি (উপকারী) মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করল না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করল না।” [আহমদ, হ/১১২৮০, তিরমিযী ১৯৫৫-সহিহ]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

تَهَادُوا تَحَابُّوا

“তোমরা উপহার বিনিময় কর তাহলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে।’’ [বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/ ৫৯৪, সহীহুল জামে’, হা/ ৩০০৪]

কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, আমাদের সমাজে শ্বশুর-শাশুড়ি সহ পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি পুত্রবধূর পক্ষ থেকে সেবা পাওয়াকে ‘অধিকার’ মনে করা হয়। যার কারণে তার এহেন ত্যাগ ও সেবাকে যথার্থ মূল্যায়ন তো করা হয়ই না বরং তার কাজে সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তার সাথে নানা অপমান সুলভ আচরণ করা হয়, তার প্রতি নানাভাবে জুলুম-অত্যাচার করা হয় ও কষ্ট দেওয়া হয়। যা সামাজিক ভাবে যেমন অমানবিক আচরণ তেমনি শরিয়তের দৃষ্টিতেও হারাম।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

«الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يَخْذُلُهُ وَلَا يَحْقِرُهُ التَّقْوَى هَهُنَا» . وَيُشِير إِلَى صَدره ثَلَاث مرار بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ: دَمُهُ ومالهُ وَعرضه

“এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কোনও মুসলিম অপর মুসলিমের ওপর অবিচার করবে না, তাকে অপদস্থ করবে না এবং অবজ্ঞা করবে না। আল্লাহ ভীতি এখানে! এ কথা বলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের বুকের দিকে তিনবার ইঙ্গিত করে বললেন, একজন মানুষের জন্য এতটুকু অন্যায়ই যথেষ্ট যে, সে নিজের মুসলিম ভাইকে হেয় জ্ঞান করবে। এক মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের রক্ত, ধন-সম্পদ ও মান-সম্মান হারাম।” [সহিহ মুসলিম]

❖ শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি অহংকার করা বা তাদের প্রতি কষ্ট দায়ক আচরণ করা হারাম:

এর বিপরীতেও আমাদের সমাজে আরেকটি কষ্ট দায়ক চিত্র দেখা যায়। তাহলো, কতিপয় মহিলা শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-যোগ্যতা, সৌন্দর্য বা বাবার বাড়ির অর্থ-সম্পদ বা বংশগত গৌরবের কারণে তার শ্বশুর-শাশুড়ি বা স্বামীর পরিবারকে অবজ্ঞা করে, তাদেরকে নানাভাবে অপমান সুলভ কথা বলে ও কষ্ট দেয়। এটিও হারাম।
অনুরূপভাবে অনেক স্বামীও তার শশুর-শাশুড়ির সাথে অসদাচরণ করে বা তাদেরকে অপমান-অপদস্থ করে। এটিও হারাম।

সর্বাবস্থায় শ্বশুর-শাশুড়ি সম্মান ও শ্রদ্ধা পাওয়া হকদার। কেননা তারা বয়সে বড়। আর বয়োঃবৃদ্ধ, মুরুব্বি বা বড়দেরকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা ইসলামি শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

ﻟَﻴْﺲَ ﻣِﻨَّﺎ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﺮْﺣَﻢْ ﺻَﻐِﻴﺮَﻧَﺎ ﻭَﻳُﻮَﻗِّﺮْ ﻛَﺒِﻴﺮَﻧَﺎ

“যে ছোটদেরকে দয়া এবং বড়দেরকে শ্রদ্ধা করেনা সে আমাদের দলভুক্ত নয়।“ [তিরমিযী, সহিহুল জামে, হা/৫৪৪৫]

সুতরাং প্রতিটি মহিলার জন্য তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও তার স্বামীর পরিবারের বড়দের প্রতি যথার্থ সম্মান-শ্রদ্ধা করা এবং ছোটদের প্রতি দয়া ও স্নেহশীল আচরণ করা আবশ্যক। কোন অবস্থায় কাউকে হেয় বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, অহংকার প্রদর্শন, অসম্মান জনক আচরণ করা বা কষ্ট দেওয়া জায়েজ নেই।
নারী-পুরুষ সকলের জন্য একই কথা প্রযোজ্য।

▪️প্রশ্ন: পুত্র সন্তানকে জীবিকা অর্জনের জন্য বাইরে থাকতে হয়। কন্যা সন্তানও বিয়ের পরে শ্বশুর বাড়ি চলে যায়। এ অবস্থায় পুত্রবধূও যদি শ্বশুর-শাশুড়িকে দেখাশুনা না করে তাহলে বৃদ্ধ মানুষগুলোকে কে দেখাশুনা করবে?
উত্তর:
আল্লাহ তাআলা পিতামাতার সেবা করাকে তার সন্তানদের জন্য অপরিহার্য করেছেন; পুত্রবধূর জন্য নয়। সুতরাং স্বামী পিতামাতার সেবা এবং তার জীবন-জীবিকার মধ্যে সমন্বয় সাধন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে যদি তিনি তার এ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারেন তাহলে এ ক্ষেত্রে একজন ভালো মনের দ্বীনদার স্ত্রী তার স্বামীর অবস্থা বিবেচনা করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এবং স্বামীকে সহায়তার স্বার্থে তার শ্বশুর-শাশুড়ির যথাসাধ্য সেবা দিবে। এতে আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত করবেন ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান ও বুঝ দান করুন এবং তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনার তওফিক দান করুন। আমিন।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

18/10/2023

🔴 Live
বিষয়: আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি কী?
(ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রাহ. রচিত উসুলুল ইমান বই থেকে)
আলোচক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব
দয়া করে ভিডিওটি শুনুন ও শেয়ার করুন।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান

https://www.facebook.com/bangla.dawah.live/videos/296674949955484

17/10/2023

সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ মুহাম্মদ বিন রমযান আল-হাজেরী হাফিযাহুল্লাহ-এর বাংলাদেশে দাওয়াতি সফর-এর দরস
ভাষান্তর:
শাইখ ড. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ খান মাদানি
সেক্রেটারি: বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস
স্থান: মাদরাসা দারুল হাদীস সালাফিয়াহ, পাঁচরুখী, নারায়ণগঞ্জ
তারিখ: ১৭-১০-২০০২৩

https://fb.watch/nKtE9v094F/

16/10/2023

বাস্তব কিছু কথা:
"আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের অবস্থা হল, তাদের আবেগ বেশি, জ্ঞান কম। কথা বলে বেশি, বুঝে কম। বুঝলেও তখন বুঝে যখন বুঝে আর লাভ নাই, যা হওয়ার হয়ে গেছে! অর্থাৎ পরে ধরা খেয়ে শুধু কান্নাকাটি করে। অথচ এর আগে কেউ উপদেশ দিতে গেলেও তাকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলে।"
ফ্যাক্ট:
না বুঝে জি/হা/দ জি/হা/দ করে লাফানো ও বিভিন্ন জ/ঙ্গি সংগঠনের ফাঁদে পা দেওয়া, হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা টাইপের বক্তাদের অন্ধ অনুসরণ, রাতারাতি বড়লোক হওয়ার ধান্দায় ভুঁইফোড় বিভিন্ন MLM কোম্পানিতে ঢুকে পড়া এবং সেগুলোতে অনেক টাকা ইনভেস্ট করা ইত্যাদি।
- আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

Want your school to be the top-listed School/college in Jubail?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Videos (show all)

🔴 Live পথিককে পানি না দেওয়া: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
🔴 Live
🔴 Live নবি সা.-এর দুনিয়ায় আগমন থেকে মানব জতির শিক্ষা
🔴 Live আল্লাহর কিতাব ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা
🔴 Live রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ভালবাসার আবশ্যকতা এবং তার সঠিক অর্থ
🔴 Live
🔴 Live কল্যাণকর মৃত্যুর উপায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
🔴 Live ভ্রু প্ল্যাক করা ও দাঁত চিকন করা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
🔴 Live ইবাদতের পরিচয় ও প্রকারভেদ: দুনিয়াবি কাজে কীভাবে সওয়াব হয়

Location

Telephone

Address


Jubail Dawah And Guidance Center
Jubail
31951
Other Education Websites in Jubail (show all)
History of Islam History of Islam
Jubal
Jubail

History of islam ak islamic page hay is main ap ko islamic wazifa or islamic video milain g*i agar ap ko lagy k hum ap ko galat information day rahy hain to please informed karain

Anmar International Training Center Anmar International Training Center
101 Business Tower, King Abdul Aziz Road
Jubail, 35513

Anmar Training & Consultation Center is considered as one of the pioneer centers in the field of training, development and consultation.

Nabil Conveys Nabil Conveys
Jubail

Conveying the message of God Almighty to the sincere and pondering souls

Nawab zada2244 Nawab zada2244
Saudia Arabia
Jubail

رعاية توون رعاية توون
رعاية توون
Jubail, 41912

رعاية توون قناة تثقيفية تستخدم مؤثرات الرسوم المتحركة (موشن جرافيك) لنشر المعلومات والثقافة بأسلوب ممتع.

Hidayah Of Makkah هداية مكة Hidayah Of Makkah هداية مكة
Mabkhara Street
Jubail

Assalamu alykum. You can listen Haramain Shareefain, s Lectures & Khutbat Juma and Summary of The Ho

Multani ladka Multani ladka
Palestine Hotel Ibrahim Al Khaleel Misfalah Kubri Road
Jubail, 24233

Scientific Vision Academy-Eng Scientific Vision Academy-Eng
Al/Naseem Street
Jubail

This Page is for Arabic Course for non-native speakers Only.

Bright Future E-Learning Bright Future E-Learning
Jubail

we provide best online tutoring service for classes 1 to 10(IGCSE) board Olevels & federal board. fu

Continuing Nursing Education of AGH-Jubail Continuing Nursing Education of AGH-Jubail
AL HUWAYLAT DISTRICT, JUBAIL
Jubail, 31961

These continuing nursing education programs facilitate networking and collaborative opportunities for AGH-Jubail nurses, ensuring that nurses are empowered to continually provide the best quality care.

ENGLIJET-English with Mr. Alfy ENGLIJET-English with Mr. Alfy
Jubail, 35417

Welcome to ENGLIJET-English with Mr. Alfy page. Let your English soar with our online English classes

Continuing Medical Education of AGH-Jubail Continuing Medical Education of AGH-Jubail
AL HUWAYLAT DISTRICT, JUBAIL, SAUDI ARABIA
Jubail

Continuing Medical Education of Almana General Hospital - Jubail under the supervision of the Traini