Md Foysal Hossain

Md Foysal Hossain

Share

لاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّة َإِلاَّ بِاللّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ.

03/04/2026

ফুল যখন নিজেই ফুলের মতো মায়াবী হয়,
তখন তার ঘ্রাণে নয়—তার নীরবতাতেই প্রেম লুকায়।
কোনো রঙের দরকার হয় না, কোনো সাজের প্রয়োজন পড়ে না,
তার সরলতাই হয়ে ওঠে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অলংকার।

যে নিজেই ফুল,
সে কারো জন্য ফুটে না
তবুও তাকে দেখলেই
হৃদয়টা অকারণেই হাসে… 🌸

01/04/2026

আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা‼️

রমজানের ফরজ রোজা ছাড়াও সারা বছর অনেকগুলো নফল রোজা রয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম ফজিলতপূর্ণ নফল রোজা হচ্ছে আইয়ামে বীজের রোজা। প্রতি মাসে ৩ দিন আইয়ামে বীজের রোজা রাখলে তাতে পুরো মাস রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যাবে। রাসূল ﷺ সারা বছর এই রোজা রাখতেন। এর থেকে আইয়ামে বীজের ফজিলত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

প্রতি হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ কে আইয়ামে বীজ বলা হয়। কেননা এই তিনদিনের রাতের চাঁদ সবচেয়ে বেশি আলোকজ্জল বা শ্বেত-শুভ্র থাকে। আইয়ামে বীজ বলতে বুঝানো হয় চন্দ্র মাসের সবচেয়ে শুভ্র বা আলোকজ্জল তিনটি রাতের সাথে সংশ্লিষ্ট দিনকে।

◼️ আইয়ামে বীজের রোজার বিধান :

আইয়ামে বীজের রোজা ফরজ নয়। এটি নফল রোজা। অর্থাৎ আইয়ামে বীজের রোজা রাখলে সওয়াব আছে, কিন্তু না রাখলে গুনাহ নাই। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি আমাদের উচিত নফল ইবাদতেও মনযোগ দেয়া। কারণ ফরজ পালন করতে গিয়ে কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি হলে বা কোনো ফরজ অনিচ্ছাকৃত ভাবে ছুটে গেলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের নফল আমলগুলোর মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করে দিতে পারেন। তাই বছরের বিভিন্ন সময়ে যে সকল নফল রোজা রয়েছে সেগুলো আদায়ে যত্নবান হওয়া উচিত।

◼️ আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত :

প্রতি মাসে ৩ দিন বা আইয়ামে বীজের রোজা রাখলে তাতে সারা মাস রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। নিয়মিত ভাবে আইয়ামে বীজের ৩ দিন রোজা রাখা হচ্ছে সারা জীবন রোজা রাখার সমতূল্য। কেননা যে কোনো নেক আমল আল্লাহ তায়ালা ১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দিয়ে থাকেন।

❝ইবনে মিলহান আল-ক্বায়সী (রহঃ) হতে তার পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ আইয়ামে বীয অর্থাৎ চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সাওম পালনে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (রাসূল ﷺ) বলেছেন, এগুলো সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য।❞ - (আবু দাউদ : ২৪৪৯)

❝আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি মাসে তিন দিন করে সাওম পালন করা এবং দুই রাকাত সালাতুদ দুহা এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করা।❞ - (সহীহ বুখারী : ১৯৮১)

❝আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ প্রতি মাসের প্রথম দিকে তিনদিন সাওম পালন করতেন।❞ - (আবু দাউদ : ২৪৫০)

◼️ গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা :

➤ রমজানের রোজার মত আইয়ামে বীজের রোজার ক্ষেত্রেও সাহরি খাওয়া সুন্নাহ। কিন্তু সাহরি খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অনেকে ধারণা করে থাকেন সাহরি খাওয়া ছাড়া রোজা হয় না। সে ধারণাটি ভুল। সাহরির জন্য পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়। এক ঢোক পানি পান করলেও তাতে সাহরির সুন্নাহ আদায় হয়ে যাবে।

➤ জিলহজ্জ মাসের ১০ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত (ঈদ উল আযহা ও তার পর ৩ দিন) রোজা রাখা হারাম। তাই জিলহজ্জ মাসের ১৩ তারিখ আইয়ামে বীজের রোজা রাখা যাবে না। জিলহজ্জের ১০ থেকে ১৩ তারিখ ব্যতীত অন্য যে কোনো ৩ দিন রোজা রাখলেও সারা মাস রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যাবে।

➤ আইয়ামে বীজের ৩ দিনের মধ্যে শুক্রবার পড়লে অনেকে দ্বিধান্বিত থাকেন যে শুক্রবার রোজা রাখা যাবে কিনা। হাদীস শরীফে শুধুমাত্র শুক্রবারকে উদ্দেশ্য করে রোজা রাখতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে (হারাম করা হয় নি, এটা মাকরুহে তানযিহী)। আর যদি শুক্রবারের সাথে আগে-পরে একদিন রোজা রাখা হয় তাহলে শুক্রবার রোজা রাখাতে কোনো অসুবিধা নাই। এক্ষেত্রে আগের নিরুৎসাহ দেয়ার হুকুম আরোপিত হবে না। একই ভাবে শুক্রবার যদি অন্য কোনো বিশেষ নফল রোজার দিন হয়, যেমনঃ আরাফার দিন বা আশুরার দিন। সেক্ষেত্রেও শুক্রবার রোজা রাখাতে কোনো অসুবিধা নাই।

➤ আইয়ামে বীজের তারিখগুলোতে নারীদের হায়েজ চললে তখন ঐ দিনগুলোতে রোজা রাখা যাবে না। নারী-পুরুষ যে কারোরই যে কোনো সমস্যার জন্য আইয়ামে বীজের ৩ দিন রোজা না রাখতে পারলে মাসের অন্য যে কোনো ৩ দিন রোজা রাখলেও সারা মাস রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যাবে। কেননা মাসের যে কোনো ৩ দিন রোজা রাখলে সারা মাসের সওয়াব পাওয়া যাবে এটাও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

➤ আমরা জানি হিজরি মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। তাই প্রতি মাসের আইয়ামে বীজের রোজার তারিখ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে নির্ধারিত হয়ে থাকে। আমাদের উচিত হিজরি মাসের চাঁদ ওঠার খবরের সাথে নিয়মিত আপডেট থাকা।

সুতারাং আমাদের উচিত, আইয়ামে বীজের রোজা পালন করা। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করা। আল্লাহ্ আমাদের সকলকে প্রতি হিজরি মাসের মাঝের তিন দিন আইয়ামে বীজের রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখা : মাহমুদুল হাছান

#সীরাহ

14/03/2026

🌙রমাদান প্রায় শেষের পথে….🥺

আমরা অনেকেই বুঝতেই পারছি না কত দ্রুত সময়টা চলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছিল সেদিনই তো রমাদান শুরু হলো, আর আজ দেখছি শেষের দিনগুলো দরজায় কড়া নাড়ছে।

কিন্তু একটু থেমে কি আমরা ভেবে দেখেছি—এই রমাদানটা হয়তো আমাদের জীবনের শেষ রমাদানও হতে পারে?

আমাদের সমাজে কত দাড়ি-পাকা মুরব্বি আছেন, যাদের অনেকেই হয়তো আরেকটা রমাদান পাওয়ার সুযোগ পাবেন না। আবার কত তরুণ-তরুণী আছেন, আমাদের বয়স কম হলেও কে জানে এই রমাদানটা হয়তো আমাদের জীবনের শেষ রমাদান।

আমরা প্রায়ই মনে করি, সময় তো আছে, সামনে আরও রমাদান আসবে। কিন্তু সত্যটা হলো কেউ জানে না তার জীবনে আর কয়টা রমাদান লেখা আছে।

একটু নিজেকে প্রশ্ন করে দেখি..
এই রমাদানে আমরা আসলে কী করলাম? কতটা ইবাদত করলাম? কতটা কুরআন পড়লাম? কতটা তাওবা করলাম?

আমরা কি নিজের জীবনের হিসাব নিচ্ছি? নাকি আগের মতোই ব্যস্ততায় দিন পার করে দিচ্ছি?

জীবন থেকে হয়তো আরেকটা রমাদান শেষ হয়ে যেতে চলেছে। এই রমাদান আমাদের জন্য রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের সুযোগ নিয়ে এসেছে।

তাই এখনো সময় আছে। যারা কম আমল করেছি, তারা যেন হতাশ না হই। রমাদানের শেষ মুহূর্তগুলোও অনেক মূল্যবান।

আসুন আমরা অন্তত এই শেষ দিনগুলোতে নিজেদের একটু বদলানোর চেষ্টা করি। বেশি বেশি দোয়া করি, তাওবা করি, কুরআন পড়ি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।

কে জানে এই রমাদানটাই হয়তো আমাদের জীবনের শেষ রমাদান।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই পবিত্র মাসের মর্যাদা বুঝার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের আমলগুলো কবুল করুন।

আমিন। 🤲💙

14/03/2026

আজকে রাতে এই দোয়া গুলো বেশি বেশি করুন...
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا . عَذَابَ النَّارِ
হে আল্লাহ! আমাদিগকে দুনয়াতেও কল্যাণ দান করএবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবংআমাদেরকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা কর।'
رَبَّنَا هَبۡ لَنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَ ذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعۡیُنٍ وَّ اجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِیۡنَ اِمَامًا
হে আমাদের রব, আপনি আমাদের এমন জীবনসঙ্গী ওসন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চোখ শীতল করবে।আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানান
رَبِّ اجۡعَلۡنِیۡ مُقِیۡمَ الصَّلٰوۃِ وَ مِنۡ ذُرِّیَّتِیۡ ٭ۖ رَبَّنَا وَ تَقَبَّلۡ دُعَآءِ
হে আমার রব, আমাকে সালাত কায়েমকারী বানান এবংআমার বংশধরদের মধ্য থেকেও, হে আমাদের রব,আর আমার দো‘আ কবূল করুন’
رَبِّ اِنِّیۡ لِمَاۤ اَنۡزَلۡتَ اِلَیَّ مِنۡ خَیۡرٍ فَقِیۡرٌ
হে আমার রব, নিশ্চয় আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী’।
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন;অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।

14/03/2026

লাইলাতুল কদরের হৃদয়ছোঁয়া দুআ

হে আমার পরম দয়ালু রব,
আজকের এই মহামূল্যবান রাতে আমি ভাঙা হৃদয়, ক্লান্ত আত্মা, গুনাহে ভরা আমলনামা এবং অগণিত আশা নিয়ে আপনার দরবারে হাত তুলেছি। আপনি ছাড়া আমার আর কেউ নেই। আপনি আমাকে ফিরিয়ে নিন আপনার কাছেই, আপনি আমাকে মাফ করে দিন, আপনি আমাকে আপনার রহমতের চাদরে ঢেকে নিন। হে আল্লাহ, আপনি তো ক্ষমা করতে ভালোবাসেন—আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার জানা-অজানা, ছোট-বড়, প্রকাশ্য-গোপন সব গুনাহ মাফ করে দিন। আমার নিজস্ব গাফেলতি, আমার নিজ রূহের প্রতি অবহেলা, আমার গুনাহের প্রতি দুর্বলতা, আমার আপনার কাছে দেরি করে ফিরে আসা— এই সমস্ত কিছু আপনার অসীম করুণায় মুছে দিন।

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা'ফু আন্নি।

অর্থ: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।

হে আল্লাহ, আমার অন্তরকে শুদ্ধ করে দিন। আমার হৃদয় থেকে হিংসা, অহংকার, রিয়া, কপটতা, কঠোরতা, দুনিয়ার মোহ এবং গুনাহের প্রতি টান দূর করে দিন। আমার অন্তরকে নরম করে দিন, কুরআনের আলো দিয়ে ভরে দিন, আপনার ভয়, আপনার ভালোবাসা, আপনার স্মরণ এবং আপনার উপর পূর্ণ ভরসায় সজীব করে দিন। আমাকে এমন একটি হৃদয় দিন—যে হৃদয় গুনাহে আনন্দ পায় না, বরং আপনার সন্তুষ্টি খুঁজে বেড়ায়।

হে আল্লাহ, আমাকে হিদায়াত দিন, আমার পরিবারকে হিদায়াত দিন, আমাদের ঈমানকে দৃঢ় করে দিন। আমাদেরকে এমন জীবন দিন যা আপনার পছন্দনীয়, এমন মৃত্যু দিন যা ঈমানের উপর, এমন হাশর দিন যা আপনার আরশের ছায়াতলে। আগামী এক বছরের তাকদীরে আমার জন্য, আমার পরিবার ও প্রিয়জনদের জন্য শুধু কল্যাণ, বরকত, নিরাপত্তা, ঈমান, নূর, শান্তি এবং রহমত লিখে দিন। হে আল্লাহ, আগামী এক বছরে আমাদের জীবনে যা কিছু ঘটবে, তা যেন আমাদের দ্বীনের জন্য, দুনিয়ার জন্য এবং আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হয়। যেসব বিপদ, ফিতনা, কষ্ট, ক্ষতি, লাঞ্ছনা, চোখের পানি, অশান্তি, দুর্ঘটনা, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, রোগ-বালাই, অপমৃত্যু, আগুন, চুরি, জুলুম, জিন-কালো জাদু, বদনজর, শয়তানের কুমন্ত্রণা—এসব থেকে আমাদের হিফাজত করুন।

হে আল্লাহ, আমার শরীরকে সুস্থ রাখুন, ঈমানকে সুস্থ রাখুন, মানসিক প্রশান্তি দিন, রিজিকে বরকত দিন, সময়কে বরকতময় করুন। যেসব রোগ দৃশ্যমান, যেসব রোগ অদৃশ্য, যেসব কষ্ট এখনো আসেনি, যেসব বিপদ আসমান থেকে নাযিল হয়, যেসব বালা জমিন থেকে বের হয়—সবকিছু থেকে আমাদেরকে নিরাপদ রাখুন। আমাদের ঘরগুলোকে শান্তির ঘর বানিয়ে দিন। আমাদের ঘুমে নিরাপত্তা দিন, আমাদের যাত্রায় নিরাপত্তা দিন, আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা দিন, আমাদের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ রাখুন।

হে আল্লাহ, আমাকে ভালো মানুষের সোহবত দান করুন। এমন মানুষদের কাছে রাখুন, যারা আমাকে আপনার দিকে টেনে নেয়, গুনাহের দিকে নয়; যারা আমার ঈমান বাড়ায়, দুনিয়ার মোহ বাড়ায় না; যারা আমাকে কুরআন, সালাত, দুআ, আখিরাত ও তাকওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। বদসোহবত, ফিতনাময় সম্পর্ক, অন্তর নষ্ট করে এমন সঙ্গ, দ্বীন দুর্বল করে এমন বন্ধুত্ব—এসব থেকে আমাকে দূরে রাখুন। আমাকে নেককার, সত্যবাদী, আল্লাহভীরু বান্দাদের সঙ্গ দান করুন।

হে আল্লাহ, আমার পরিবারকে রহম করুন। আমার মা-বাবার উপর দয়া করুন, তাদের সুস্থতা, ঈমান, শান্তি, ক্ষমা, নিরাপদ আশ্রয় ও জান্নাত দান করুন। আমার স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন—সবার জন্য রহমত লিখে দিন। আমাদের অন্তরে ভালোবাসা দিন, পরস্পরের হক আদায় করার তাওফিক দিন, ভুল বোঝাবুঝি দূর করুন, সম্পর্কগুলোতে বরকত দিন। আমাদের পরিবারকে দ্বীনের উপর একতাবদ্ধ রাখুন। আমাদের ঘরে কুরআনের তিলাওয়াত, সালাত, দুআ, সুন্নাহ, লজ্জাশীলতা, আদব, হালাল রিজিক এবং নূর বৃদ্ধি করুন। আমাদের সন্তানদেরকে দ্বীনের শীতলতা দিন, তাদেরকে চোখের শীতলতা বানান, ঈমানদার, নেককার, কুরআনপ্রেমী এবং উম্মাহর উপকারী বানান।

হে আল্লাহ, যারা আমার জন্য দুআ করেছেন তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন। যাদের প্রতি আমার দায়িত্ব আছে, যাদের আমি ভালোবাসি, যাদের আমি ভুলে গেছি, যাদের সাথে আমার দূরত্ব তৈরি হয়েছে—সবার উপর রহম করুন। যে সব মৃত মুসলিম কবরবাসী—তাদের কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিন, তাদের গুনাহ মাফ করুন, নূর দান করুন।

হে আল্লাহ, উম্মতে মুহাম্মদীর উপর রহম করুন। পৃথিবীর যেখানেই মুসলমানরা জুলুমের শিকার, ক্ষুধার্ত, গৃহহীন, বন্দী, আহত, এতিম, নির্যাতিত—আপনি তাদের সাহায্য করুন। হে আল্লাহ, মজলুমদের কান্না কবুল করুন, তাদের ভয়কে নিরাপত্তায় বদলে দিন, তাদের ক্ষুধাকে রিজিকে বদলে দিন, তাদের অসহায়ত্বকে শক্তিতে বদলে দিন, তাদের কষ্টের জীবনকে সম্মানে বদলে দিন। জালিমদের কবল থেকে তাদের মুক্তি দিন। যারা উম্মাহর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, আপনি তাদের পরিকল্পনা নষ্ট করে দিন।

হে আল্লাহ, আল-আক্বসাকে মুক্ত করে দিন। ফিলিস্তিনের মজলুম ভাইবোনদের সাহায্য করুন। শহীদদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিন, আহতদের শিফা দিন, অনাথদের আশ্রয় দিন, মায়েদের বুকের আগুনকে সওয়াবে এবং প্রতিশ্রুতির ওয়াদা দিয়ে ভরে দিন। আল-আক্বসাকে আবার ইবাদাত, নিরাপত্তা, ইজ্জত ও ইসলামের আলোয় ভরে দিন। হে আল্লাহ, কুদসকে মুক্ত করুন, জালিমদের হাত থেকে মুসলিম ভূমিকে হিফাজত করুন।

হে আল্লাহ, আমাদের বাংলাদেশে শান্তি দিন, রহমত দিন, ন্যায়বিচার দিন, নিরাপত্তা দিন। এই দেশের মানুষকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। ফিতনা, জুলুম, অন্যায়, দুর্নীতি, অশান্তি, বিভক্তি, অনিরাপত্তা ও ইসলামবিরোধী সকল শক্তি থেকে দেশকে হিফাজত করুন। এ দেশের মসজিদ, মাদরাসা, আলিম-উলামা, দ্বীনি কাজ, নেককার মানুষ এবং ইসলামের দাওয়াতকে কবুল করুন। আমাদের দেশে সত্য, ন্যায়, হায়া, তাকওয়া এবং ইসলামের সৌন্দর্য প্রতিষ্ঠা করুন। আমাদের ভূমিকে ইসলামের জন্য কল্যাণময় ভূমি বানিয়ে দিন।

হে আল্লাহ, সারা পৃথিবীতে ইসলামকে সম্মানিত করুন। মানুষের হৃদয়ে হিদায়াত পৌঁছে দিন। যারা সত্যের সন্ধান করছে, তাদেরকে ইসলাম চিনার তাওফিক দিন। যারা ইসলামকে ভুল বুঝে আছে, তাদের অন্তর খুলে দিন। পৃথিবীর সর্বত্র আপনার দ্বীনকে বিজয় দান করুন—হিকমাহ, রহমত, সত্য, ন্যায় এবং নূরের মাধ্যমে। আমাদেরকে সেই দ্বীনের খেদমতের জন্য কবুল করুন। আমাদের জীবন, আমাদের জ্ঞান, আমাদের সম্পদ, আমাদের সময়—সবকিছু আপনার দ্বীনের কাজে লাগার তাওফিক দিন।

হে আল্লাহ, আমাদেরকে এমন বান্দা বানিয়ে দিন, যারা আপনাকে ভুলে যায় না; আমাকে এমন চোখ দিন, যা গুনাহের দিকে দৃষ্টি দিবে না, বরং আপনার ভয়েই কাঁদবে; আমাকে এমন জিহ্বা দিন, যা গীবত নয়, আপনার জিকিরে ব্যস্ত থাকবে; এমন জীবন দিন, যা অপচয়ে নয়, বরং আপনার জন্য পরিশুদ্ধ ইবাদাতেই ভরে ওঠে। আমাদের শেষ পরিণতি উত্তম করুন। মৃত্যুর সময় কালিমা নসীব করুন। কবরকে প্রশস্ত করুন। হাশরের ময়দানে সহজ হিসাব দিন। পুলসিরাত পার করে দিন। আমাদেরকে, আমাদের পরিবারকে, প্রিয়জনদেরকে এবং সমগ্র উম্মাহকে জান্নাতুল ফিরদাউসে একত্রিত করুন।

হে আল্লাহ, আজকের রাতের একটি দুআও যেন বিফলে না যায়। আপনি আমাদের শুনছেন—এই আশাতেই আমরা হাত তুলেছি। আপনি আমাদের ফিরিয়ে দেবেন না। আপনিই আমার জন্য বেস্ট ফ্রেন্ড! আপনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আপনি আমার রব, আপনি আমার অভিভাবক, আপনিই আমার আশ্রয়।

رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ، وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।

12/03/2026

FRIDAY - Allahumma salli wa sallim ala nabiyina Muhammad (ﷺ)🫀❤️‍🩹

12/03/2026

সময় নিয়ে জিকির গুলো করবেন অনেক ফজিলত পাবেন! (ইনশা'আল্লাহ)
১.সুবহানাল্লহ। (سُبْحَانَ اللّٰهِ)
২.আলহামদুলিল্লাহ। (اَلْحَمْدُ لِلَّهِ)
৩.লা ইলাহা ইল্লাল্লহ। (لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ)
৪.আল্লহু আকবার । (اَللّٰهُ أَكْبَرُ)
৫.আস্তাগফিরুল্লাহ । (أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ)
৬.আল্লহুম্মাগফিরলি। (اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي)
৭.ইয়া রব্বিগফিরলি। ( يَا رَبِّ اغْفِرْ لِي)
৮.আল্লহুম্মা আজিরনি মিনান-নার।
(اَللّٰهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ)
৯.লা হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
(لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ)
১০.লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জলিমীন।
(لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ)
১১.লা ইলাহা ইল্লাল্লহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللّٰهِ ﷺ
১২.আল্লহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ'উযুবিকা মিনান-নার।
(اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ)
১৩.আল্লহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আ'ফিয়াহ।
(اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ)
১৪. রব্বি ইন্নি জলামতু নাফসী ফাগফিরলি।
(رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي)
১৫.আল্লহুম্মা হাসিবনী হিসাবাই ইয়াসীর।
(اَللّٰهُمَّ حَاسِبْنِي حِسَابًا يَسِيرًا)
১৬.ইয়া মুক্বল্লিবাল ক্বুলুব, সাব্বিত ক্বলবী আ'লা দীনিক।
(يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ)
১৭.আসতাগফিরুল্ল-হাল্লাযি লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বইয়ুম ওয়াতুবু ইলাইহি।
(أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ)
১৮.আল্লহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াস সাদা-দ।
(اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالسَّدَادَ)
১৯.হাসবুনাল্লহ ওয়া নি'মাল ওয়াকিল।
(حَسْبُنَا اللّٰهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ)
২০.আল্লহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আ'লা নাবিয়্যিনা মুহাম্মদ সাঃ।
( اَللّٰهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ)
২১.আল্লহুম্মারযুকনি শাহাদাতাং ফি সাবিলিক, ওয়ায'আ'ল মাওতি ফি বালাদি রসুলিকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।
(اَللّٰهُمَّ ارْزُقْنِي شَهَادَةً فِي سَبِيلِكَ وَاجْعَلْ
مَوْتِي فِي بَلَدِ رَسُولِكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)
২২.রব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খইরিং ফাক্বির।
(رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِير)
২৩.রব্বানাগ-ফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিল মুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াক্বুমুল হিসাব।’
(-رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ)
২৪. রব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়‍্যাতিনা ক্বুররতা আ'য়ুনিউ ওয়াজ'আলনা লিলমুত্তাক্বীনা ইমামা।
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
২৫.আল্ল-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল 'আ'ফওয়া ওয়াল 'আ-ফিইয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরহ্'
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
২৬.রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াক্বীনা আজাবান্নার
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً ، وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةٌ ، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
২৭.ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বইয়ুম বিরহমাতিকা আস্তাগিস
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْتُ
২৮. রব্বির হাম-হুমা কামা রব্বা ইয়ানি সগিরা”
رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَـمَا رَبَّـيَانِـي صَغِيرًا
২৯.রব্বি হাবলি মিনাস সলিহিন।"
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
অনবরত এই সমস্ত জিকির গুলোর মাধ্যমে নিজের আমলনামা ভারী করে নিন (ইনশা'আল্লহ)
নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালার স্মরণেই অন্তর সমূহ প্রশান্তি লাভ করে। [সূরা রাদ-২৮]

12/03/2026

প্রশ্ন:লাইলাতুল কদর কি বিভিন্ন দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রাতে সংঘটিত হয়? আর একজন মানুষের পক্ষে কি একই বছরে দুটি লাইলাতুল কদর পাওয়া সম্ভব?
▬▬▬▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর:পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি।অতঃপর;লাইলাতুল কদর কি দেশভেদে ভিন্ন হয়—এ নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা যায়। বাস্তবে বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখার পার্থক্যের কারণে রমযান শুরু হওয়ার সময় ভিন্ন হতে পারে, ফলে তারিখেও কিছু পার্থক্য দেখা যায়। তবে লাইলাতুল কদর মূলত একই রাত। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সময়ের ব্যবধান থাকার কারণে যখন যে স্থানে রাত নেমে আসে, তখনই সেখানে লাইলাতুল কদর সংঘটিত হয়।এ ধরনের গায়েবি বিষয়কে মানুষের সীমিত হিসাবের মধ্যে নির্ধারণ করা সঠিক নয়। কারণ মানুষের দৃষ্টি, শ্রবণ ও চিন্তাশক্তি—সবকিছুরই একটি সীমা আছে; কিন্তু গায়েবের বিষয়গুলো সেই সীমার বাইরে। এগুলো মহান আল্লাহ তাআলাই তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী পরিচালনা করেন।এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে রমযানের শেষ দশকে বিশেষ করে বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো তারিখ বলে যাননি যে, ঠিক কোন রাতটি লাইলাতুল কদর হবে।বরং তিনি একাধিক হাদীসে বলেছেন,"তোমরা রামাযানের শেষ দশকের প্রত্যেক বেজোড় রাত্রিতে ক্বদর রাত্রি তালাশ করো"(সহীহ বুখারী, হা/২০১৭) অতএব, আপনি আমি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি বা থাকুন,বিশুদ্ধ নিয়তসহ রমজানের শেষ দশক বিশেষ করে বেজোড় রাত্রিগুলো অর্থাৎ আরাবী মাসের হিসাব যেহেতু রাত আগে আসে সে হিসাবে ২১,২৩,২৫,২৭,২৯ রাতগুলোতে যথাসাধ্য আল্লাহর ইবাদতে লেগে থাকুন।তবে বছরের ভিন্নতায় শেষ দশকের বিভিন্ন রাতে তা হতে পারে। এতে আশা করা যায় যে, মাহরুম হবেন না। কিন্তু সারা পৃথিবীতে একসাথে কেমন করে কদর হবে. লাইলাতুল কদর তো একটাই, এক দেশে রাত থাকা অবস্থায় তা হয়ে গেলে অন্যস্থানে কিভাবে হবে,- এরকম অনর্থক চিন্তা ভাবনা করে সময় পার করে দিলে মাহরুম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং আসুন সবাই মিলে যুক্তি তর্ক না করে কুরআন সুন্নার আলোকে সালফে সালেহীনের মানহাজ অনুসরণ করি।

শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ইমাম মুহিউদ্দীন বিন শারফ আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬৭৬ হি.] বলেছেন:

حَدِيث أُبَيّ بْن كَعْب أَنَّهُ كَانَ يَحْلِف أَنَّهَا لَيْلَة سَبْع وَعِشْرِينَ , وَهَذَا أَحَد الْمَذَاهِب فِيهَا , وَأَكْثَر الْعُلَمَاء عَلَى أَنَّهَا لَيْلَة مُبْهَمَة مِنْ الْعَشْر الْأَوَاخِر مِنْ رَمَضَان , وَأَرْجَاهَا أَوْتَارُهَا , وَأَرْجَاهَا لَيْلَة سَبْع وَعِشْرِينَ وَثَلَاث وَعِشْرِينَ وَإِحْدَى وَعِشْرِينَ , وَأَكْثَرهمْ أَنَّهَا لَيْلَة مُعَيَّنَة لَا تَنْتَقِل ، وَقَالَ الْمُحَقِّقُونَ : إِنَّهَا تَنْتَقِل فَتَكُون فِي سَنَة : لَيْلَة سَبْع وَعِشْرِينَ , وَفِي سَنَة : لَيْلَة ثَلَاث , وَسَنَة : لَيْلَة إِحْدَى , وَلَيْلَة أُخْرَى وَهَذَا أَظْهَر ، وَفِيهِ جَمْع بَيْن الْأَحَادِيث الْمُخْتَلِفَة فِيهَا "

“উবাই বিন কাব (রাঃ) এর হাদিসে এসেছে যে, তিনি হলফ করে বলতেন: লাইলাতুল ক্বদর হচ্ছে— সাতাশে রমযান”। এ মাসয়ালার অনেক অভিমতের মধ্যে এটিও একটি। তবে, অধিকাংশ আলেমের অভিমত হচ্ছে— এটি রমযানের শেষ দশরাতের অজ্ঞাত কোন এক রাত। এ দশরাতের মধ্যে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক হচ্ছে— বেজোড় রাতগুলো। বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে অধিক আশাব্যঞ্জক হচ্ছে— ২৭ রমযান, ২৩ রমযান ও ২১ রমযান। অধিকাংশ আলেমের মতে, এটি নির্দিষ্ট কোন একটি রাত; আবর্তিত হয় না। কিন্তু, সুক্ষ্মদর্শী আলেমদের মতে, লাইলাতুল ক্বদর আবর্তিত হয়। কোন বছর ২৭ শে রমযান, কোন বছর ২৩ রমযান এবং কোন বছর ২১ শে রমযান কিংবা অন্য কোন রাত। এ মতটির মাধ্যমে বিপরীতমুখী সবগুলো হাদিসের মাঝে সমন্বয় করা যায়।”(ইমাম নববীর ‘শারহু সহিহ মুসলিম’ খণ্ড;৬;পৃষ্ঠা;৪৫)

সৌদি ফতোয়া বোর্ড (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ) এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে জিবরীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪৩০ হি./২০০৯ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন:লাইলাতুল ক্বদর কি প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একই রাত্রি? নাকি দেশভেদে এটি আলাদা আলাদা হতে পারে?

জবাবে তিনি বলেছেন,

تكون ليلة واحدة ولو اختلف دخولها بالنسبة للبلدان،فتدخل في البلاد العربية عند غروب شمس نهارهم وتدخل عند البلاد الإفريقية أيضا عند غروب شمس نهارهم وغيرها من البلاد، فكلما غربت عند قوم دخلت عندهم ولو استغرق ذلك أكثر من 20 ساعة فتحسب لهؤلاء ليلتهم،ولهؤلاء ليلتهم،ولا مانع من أن تنزل الملائكة عند هؤلاء ، وهؤلاء أيضا.

"লাইলাতুল ক্বদরের রাত একটিই। যদিও দেশভেদে এটি প্রবেশের সময় ফারাক (ভিন্ন) হতে পারে।যেমন আরব দেশগুলোতে এটি প্রবেশ করবে তাদের দেশের দিনের বেলার সূর্য ডোবার মাধ্যমে।আফ্রিকার দেশ ও অন্যান্য দেশগুলোতে প্রবেশ করবে তাদের দেশের দিনের বেলার সূর্য ডোবার মাধ্যমে।তাই যেই দেশে সূর্য ডুবেছে সেই দেশে লাইলাতুল ক্বদর প্রবেশ করেছে;এমনকি সেটা যদি ২০ ঘন্টার চেয়ে বেশি সময় লাগে তবুও।এ সকল ব্যক্তিদের জন্য তাদের রাতকে হিসাব করা হবে। ঐ সকল ব্যক্তিদের জন্য তাদের রাতকে হিসাব কর হবে।এতেও কোন বাধা নেই যে,ফেরেশতারা এদের নিকটেও অবতীর্ণ হবে এবং ওদের নিকটেও অবতীর্ণ হবে।আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ"(ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং ১২৯৬৮৮

▪️দ্বিতীয়ত:একজন মানুষের পক্ষে কি একই বছরে দুটি লাইলাতুল কদর পাওয়া সম্ভব?

যদি বিভিন্ন দেশে রমযান মাস শুরু হওয়ার সময় ভিন্ন হয়, তাহলে কোনো দেশে যে রাতটি বেজোড়, অন্য দেশে তা জোড় হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে লাইলাতুল কদর দুটি রাত—যাতে কেউ নিজের দেশে একটি পেয়ে আবার অন্য দেশে ভ্রমণ করে আরেকটি লাভ করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে লাইলাতুল কদর একটিমাত্র রাত।উদাহরণস্বরূপ, যদি লাইলাতুল কদর রমজানের ২৭ তারিখে হয়, তাহলে মাস শুরু হওয়ার ভিন্নতার কারণে কোনো দেশে সেই ২৭ তারিখ মঙ্গলবার হতে পারে এবং অন্য দেশে বুধবার। কিন্তু বাস্তবে লাইলাতুল কদর এই দুই রাতের মধ্যে একটিই হবে। যদি তা মঙ্গলবার হয়, তবে বুধবার নয়; আর যদি বুধবার হয়, তবে মঙ্গলবার নয়।এমনও হতে পারে যে কোনো অঞ্চলের মানুষের কাছে সেই রাতটি ২৭ তারিখ, আর অন্য অঞ্চলের মানুষের কাছে ২৬ তারিখ। এখান থেকেই বোঝা যায়—জোড় রাতগুলোকে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ কোনো অঞ্চলে সেটি জোড় হলেও অন্য অঞ্চলের জন্য তা বেজোড় হতে পারে, বিশেষত যখন রমজানের শুরু নির্ধারণে পার্থক্য থাকে।তবে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে কেউ একই রাতের কিছু অংশ দুবার পেতে পারে। যেমন—যদি লাইলাতুল কদর মঙ্গলবার রাতে হয়, কেউ সেই রাতের একটি অংশ নিজের দেশে কাটানোর পর পশ্চিম দিকে সফর করলে সময়ের পার্থক্যের কারণে আবারও সেই রাতের অবশিষ্ট অংশ পেতে পারে। কারণ পৃথিবীতে রাত পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়।

শাইখ সুলেমান বিন ওয়াইল আল-তাওয়িজরি (হাফিজাহুল্লাহ) [জন্ম:১৩৬৭ হি:]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন:রাসূল (ﷺ) লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান করতে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিভিন্ন ইসলামী দেশে রমজান মাসের সূচনায় পার্থক্য থাকে। ফলে এক দেশে যে রাত বেজোড় হিসেবে গণ্য হয়, অন্য দেশে তা জোড় হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো কোনো বছরে মিশর এবং সৌদি আরব-এর মধ্যে রমজানের শুরুতে পার্থক্য দেখা যায়। এ কারণে মিশরে যে রাতগুলো বেজোড় হিসেবে ধরা হয়, সেগুলো সৌদি আরবে বেজোড় নাও হতে পারে। এ অবস্থায় লাইলাতুল কদর নির্ধারণের ব্যাপারে কীভাবে বিষয়টি বোঝা উচিত? আর লাইলাতুল কদর কি প্রকৃতপক্ষে একটি নির্দিষ্ট রাতই, নাকি দেশভেদে তা ভিন্ন হতে পারে?আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং এই উত্তরের সওয়াব আপনাদের আমলনামায় যুক্ত করুন।”

উত্তরে শাইখ (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:

الذي يظهر لي أنها لا تتكرر، وإنما هي ليلة واحدة في السنة، والنبي صلى الله عليه وسلم قال: "التمسوها في العشر الأواخر في الوتر" [رواه البخاري (2016)، ومسلم (1167) من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه]، فكل العشر محل لأن تقع فيها ليلة القدر من وتر وغيره، وهو لما قال: "في الوتر"، لم يلغ الالتماس في غير الوتر، كما أنه قال: "التمسوها ليلة سبع وعشرين" [انظر ما رواه مسلم (762) من حديث أُبي بن كعب رضي الله عنه]، أو: "أرى رؤياكم قد تواطأت في السبع الأواخر فمن كان متحريها فليتحرها في السبع الأواخر" [رواه البخاري (2015)، ومسلم (1165) من حديث ابن عمر رضي الله عنهما]، وقال: "التمسوها في سبع يمضين، أو سبع يبقين" [انظر ما رواه البخاري (2021)، وهذا اللفظ عند أحمد (2539)، من حديث ابن عباس رضي الله عنهما]، وهذا يختلف من الشهر كونه تسع وعشرين أو ثلاثين، وعلى هذا فهي ليلة واحدة، فإذا كانت مثلا ليلة السبع وعشرين في السعودية فهي ليلة ثمان وعشرين في مصر، أو إذا كانت ليلة سبع وعشرين في مصر فهي ليلة ست وعشرين في السعودية بالنسبة لرمضان هذه السنة، والإنسان مطلوب منه أن يجتهد في العشر كلها، وهي ليلة خفية لم يعلم ما هي بالتحديد، ولهذا كان عليه الصلاة والسلام يعتكف في العشر الأواخر؛ طلباً لثوابها وإدراكها، وهو على حال يكون فيها أحسن ما يكون من التقرب إلى الله تعالى وحسن المناجاة له. والله ولي التوفيق. سليمان بن وائل التويجري

"যা আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো লাইলাতুল কদর পুনরাবৃত্তি হয় না; বরং এটি বছরে একটি রাতই। নবী ﷺ বলেছেন: এটি রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে খুঁজে দেখো" [সহীহ বুখারী হা/২০১৬, সহীহ মুসলিম হা/১১৬৭ আবু সাঈদ আল-খুদরীর রাওয়ায়াত]।সুতরাং শেষ দশকের প্রতিটি রাতই সম্ভাব্য লাইলাতুল কদর হতে পারে, বেজোড় হোক বা অন্য কোনো রাত। কারণ নবী (সঃ)বেজোড়ে খুঁজে দেখো বললেও এটি অন্য রাতগুলোতে খোঁজা বাতিল করে না। এছাড়াও তিনি বলেছেন:এটি ২৭ তারিখের রাতেই খুঁজো।[সহীহ মুসলিম হা/৭৬২), উবাই ইবন কাবের রাওয়ায়াত] অথবা: আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্ন শেষ সাত রাতে মিলেছে, যারা খুঁজতে চায় তারা শেষ সাত রাতে খুঁজুক। [সহীহ বুখারী (২০২৫), মুসলিম হা/১১৬৫), ইবন উমারের রাওয়ায়াত]। তিনি আরও বলেছেন: এটি শেষ সাত দিনের মধ্যেই খুঁজো, আগের সাত বা বাকি সাত দিন।[সহীহ বুখারী হা/২০২১), এই উক্তি আহমদের হাদিসে হা/২৫৩৯) ইবনু আব্বাসের রাওয়ায়াত]।মাসটি ২৯ বা ৩০ দিন হতে পারে, তাই অবস্থান অনুযায়ী রাতগুলো ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি লাইলাতুল কদর সৌদি আরবে ২৭ তারিখ হয়, তবে মিশরে এটি ২৮ তারিখ হতে পারে; অথবা মিশরে ২৭ হলে সৌদি আরবে ২৬ তারিখ হতে পারে।মানুষের জন্য প্রয়োজন, শেষ দশক জুড়ে চেষ্টা করা, কারণ লাইলাতুল কদর একটি গোপন রাত; কোনটা তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। এজন্য নবী(সঃ)শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, লাইলাতুল কদরের সওয়াব লাভ এবং আল্লাহর নিকট সেরা উপায়ে নিকটতা অর্জনের জন্য।আল্লাহ আমাদের সহায় হোক। (শাইখ সুলেমান বিন ওয়াইল আল-তাওয়িজরি।)

বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন:অনুগ্রহ করে আমাদের লাইলাতুল কদর সম্পর্কে কিছু বলুন। এটি কি সব মানুষের জন্যই একরকম, নাকি প্রতিজন ব্যক্তির জন্য আলাদা? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান

উত্তরে শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেন:

:ليلة القدر ليلة عظيمة، بين الله شرفها سبحانه في كتابه العظيم، حيث قال : لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ [القدر:3]، وقال سبحانه في سورة الدخان: إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ ۝ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ [الدخان:3-4] هي ليلة عظيمة، وأخبر النبي ﷺ أنها تكون في العشر الأواخر من رمضان، وكان يعتني بها ﷺ وكان يقوم العشر الأواخر من رمضان، يتحرى هذه الليلة، ويقول: التمسوها في العشر الأواخر، والتمسوها في كل وتر يعني الأوتار أرجى وأحرى، إحدى وعشرين، ثلاث وعشرين، خمس وعشرين، سبع وعشرين، تسع وعشرين، مع أنها تلتمس في الليالي كلها، لكنها في الأوتار أحرى، وأحراها ليلة سبع وعشرين.

والسنة للمسلمين رجالًا ونساء أن يتحروها في العشر كلها، وأن يجتهدوا في قيام هذه الليالي بالصلاة، والقراءة، والدعاء؛ تأسيًا بالنبي -عليه الصلاة والسلام- وطلبًا لهذه الليلة، والله يقول فيها سبحانه: لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ [القدر:3] يعني العمل فيها، والاجتهاد فيها بالأعمال الصالحات أفضل من العمل في ألف شهر مما سواها، وهذا فضل عظيم، نعم.

المقدم: جزاكم الله خيرًا، وأحسن إليكم، هل هي للناس كلهم أم لأشخاص دون أشخاص؟

الشيخ: للناس كلهم من تقبل الله منه، ووفقه للعمل فيها؛ حصل له هذا الأجر، سواء كان عربيًا، أو عجميًا، حضريًا، أو بدويًا، رجلًا، أو امرأة في أي مكان من الأرض، إذا اجتهد في هذه الليالي، وهو مسلم، ويرغب في الخير، اجتهد، وعمل الصالحات، فالله يعطيه أجره، سبحانه وتعالى، نعم.

المقدم: جزاكم الله خيرًا، كيف يعرف المرء أنه أصاب ليلة القدر؟

الشيخ: أخبر النبي ﷺ أنها تطلع الشمس في صباحها لا شعاع لها، وكان أبي بن كعب  الصحابي الجليل قد راقب ذلك سنوات كثيرة، فرآها تطلع صباح يوم سبع وعشرين، ليس لها شعاع، وكان يحلف على أنها ليلة سبع وعشرين بسبب هذه العلامة.

ولكن الصواب أنها قد تكون في غيرها، قد تكون عدة سنوات في ليلة سبع وعشرين، وقد تكون في سنوات أخرى في إحدى وعشرين، أو في ثلاث وعشرين، أو في خمس وعشرين أو في غيرها، فالاحتياط، والحزم، الاجتهاد في الليالي كلها، نعم.
المقدم: جزاكم الله خيرًا، وأحسن إليكم.

"লাইলাতুল কদর একটি মহান রাত। আল্লাহ তায়ালা তাঁর মহৎ কিতাবে এর মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:লাইলাতুল কদর এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।[সূরা আল-কদর: ৩] এবং সূরা দুখানেও বলেন:আমরা এটি একটি বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি। আমরা সতর্কীকরণকারী ছিলাম। সেই রাতে প্রতিটি বিচক্ষণ বিষয় নির্ধারিত হয় [সূরা দুখান: ৩–৪]এটি সত্যিই একটি মহান রাত। নবী (ﷺ) জানিয়েছেন যে এটি রমজানের শেষ দশকে ঘটে। তিনি এই রাতের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন এবং শেষ দশকের রাতগুলো জেগে ইবাদত করতেন। তিনি বলেন: এটি খুঁজে দেখো শেষ দশকের রাতগুলোতে, বিশেষ করে বেজোড় রাতে।অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯। যদিও এটি শেষ দশকের সব রাতে খুঁজে পাওয়া যায়, তবে বেজোড় রাতগুলোই সবচেয়ে সম্ভাব্য, আর সবচেয়ে সম্ভাব্য রাত হলো ২৭ তারিখ।ইসলামে মুসলিমদের জন্য পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই সুন্নত হলো শেষ দশকের সব রাতেই লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা এবং এই রাতগুলোতে বিশেষ প্রচেষ্টা করা। অর্থাৎ নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া করা,সব কিছুতে জ্ঞান ও ত্যাগের সঙ্গে চেষ্টা করা। এটি নবী (ﷺ)-এর অনুকরণে এবং লাইলাতুল কদরের বরকত লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়।আল্লাহ এই রাতের মর্যাদা বলেছেন: লাইলাতুল কদর এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।[সূরা আল-কদর: ৩] অর্থাৎ এই রাতে যে কোনো কাজ বা ইবাদত করা এবং সৎকর্মে পরিশ্রম করা, তা অন্য যে কোনো সময় এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এটি একটি বিশাল বরকতের বিষয়।

প্রশ্নকর্তা: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। এটি কি সকল মানুষের জন্য, নাকি কেবল কিছু ব্যক্তির জন্য?

শায়েখ: এটি সকল মানুষের জন্য, যারা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ও সক্ষম হয় এই রাতে ইবাদত করার জন্য। যে কেউ এই রাতগুলোতে চেষ্টা করে, তার জন্য সওয়াব আছে,চাই সে আরবী হোক বা অবরবী, শহুরে হোক বা মরুভূমির বাসিন্দা, পুরুষ হোক বা নারী, পৃথিবীর যে কোনো স্থানে থাকুক। যদি সে মুসলিম হয়, ভালোর আকাঙ্ক্ষা রাখে, চেষ্টা করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে তার প্রতিদান দান করবেন।

প্রশ্নকর্তা: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। মানুষ কীভাবে জানতে পারে যে সে লাইলাতুল কদর পেয়েছে?

শায়েখ: নবী (ﷺ) জানিয়েছেন যে সেই সকালে সূর্য উঠবে, কিন্তু তার কোনো রশ্মি থাকবে না। সম্মানিত সাহাবি উবাই ইবন কাব অনেক বছর এই রাতটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি দেখেছিলেন, ২৭ তারিখের সকালে সূর্য ওঠে, কিন্তু কোনো রশ্মি নেই। এই লক্ষণ দেখে তিনি দৃঢ়ভাবে শপথ করতেন যে লাইলাতুল কদর ২৭ তারিখের রাতই।কিন্তু সঠিক হলো, এটি অন্য রাতেও হতে পারে। কিছু বছরে লাইলাতুল কদর ২৭ তারিখে হতে পারে, আবার অন্য বছরে এটি ২১, ২৩, ২৫ বা অন্য কোনো রাতে হতে পারে। তাই সবচেয়ে নিরাপদ হলো শেষ দশকের সব রাতেই চেষ্টা ও পরিশ্রম করা।

প্রশ্নকর্তা: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং আপনাকে ভালো রাখুক।"(শাইখের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ফাতওয়া নং-১৫৪৬৭)(আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬
উপস্থাপনায়,
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

Photos from Md Foysal Hossain's post 10/03/2026

▶️আল্লাহর ৯৯টি নামের তালিকা। অর্থ সহ যিকির করলে কি কি উপকার তা তুলে ধরা হলো 👇নিজে পড়ুন, আমল করুন। পোস্টটি শেয়ার করে আরেকজনকে আমল করার সুযোগ করে দিন💟

10/03/2026

What Is Laylatul Qadr DON'T SKIP THIS VIDEO ‼️

Photos from Md Foysal Hossain's post 10/03/2026

🌙 লাইলাতুল কদর তালাশে — শেষ ১০ রাতের ইবাদত গাইড
কুরআন তিলাওয়াত, গুরুত্বপূর্ণ দোয়া, যিকর, রাতের নামাজ ও ছোট ছোট আমলের একটি সংক্ষিপ্ত গাইড। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির তাওফিক দান করেন।

দয়া করে আমার/আমাদের জন্যও দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাকে/আমাদেরকে ক্ষমা করেন, হেদায়াতের উপর স্থির রাখেন এবং উত্তম পরিণতি নসিব করেন।

আশা করি এটি শেষ দশ রাতের ইবাদতে আপনাকে একটু হলেও সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ।



©️

Want your school to be the top-listed School/college in Jizan?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Jizan