সঠিক পথের দিশা Guidance To The Right Path2

সঠিক পথের দিশা Guidance To The Right Path2

Share

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দা? Abdullahil hadi bin Abdul jalil
Daee: jubail dawah & guidance center. Saudi Arabia

26/02/2023

উপহার লেনদেন: ইসলামে এর গুরুত্ব এবং কতিপয় বিধান
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
প্রশ্ন: ইসলামে উপহার লেনদেনের গুরুত্ব কতটুকু? আর ধনসম্পদ বেশি থাকা সত্ত্বেও আত্মীয়-স্বজনদেরকে কমদামী উপহার দিলে কি গুনাহ হবে?
উত্তর:
উপহার (هدية/Gift) লেনদেন করা সুন্নত। এর মাধ্যমে পারস্পারিক সুসম্পর্ক, ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসা বৃদ্ধি পায় এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা বিদূরিত হয়। আর নি:সন্দেহে এগুলো একটি শান্তিময় ও সৌহার্দপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থার জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। এই ভালবাসা ও হৃদ্যতা পূর্ণ সম্পর্ক কেবল জাগতিক ক্ষেত্রেই উপকারী নয় বরং তা ঈমানের পূর্ণতা লাভ এবং আখিরাতের চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন তথা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম একটি কারণ। তাই তো প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لا تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا ، وَلا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا ، أَوَلا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ ؟ أَفْشُوا السَّلامَ بَيْنَكُمْ
“সেই স্বত্বার কসম যার হাতে রয়েছে আমার প্রাণ, তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পরিপূর্ণ ইমানদার হতে পারবে না। আর ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পরিপূর্ণ ইমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা একে অপরকে না ভালবাসবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি বিষয়ের কথা বলবো যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালবাসবে? তোমরা বেশি বেশি করে সালামের প্রসার কর।" [সহিহ মুসলিম]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পারস্পারিক ভালবাসা বৃদ্ধির উপায় হিসেবে উপহার লেনদেনের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন,
تَهَادَوْا تَحَابّوا
"তোমরা একে অন্যকে উপহার দাও তাহলে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে।" [আল আদাবুল মুফরাদ, হা/৫৯৪, ইরওয়াউল গালিল ৬/৪৪-শাইখ আলবানি রহ.-হাসান]

হাফেজ ইবনে আব্দিল বার বলেন,
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبل الهدية وندب أمته إليها، وفيه الأسوة الحسنة به صلى الله عليه وسلم. ومن فضل الهدية مع اتباع السنة أنها تورث المودةً وتُذهب العداوة [فتح المالك بتبويب التمهيـد على موطأ مالك 9/358-359]
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপহার গ্রহণ করতেন এবং উপহার (আদান-প্রদান) কে উম্মতের জন্য মোস্তাহাব করেছেন। এর মধ্যে তাঁকে অনুসরণ করার নমুনা রয়েছে।
আর উপহারের অন্যতম একটি উপকারিতা হল, সুন্নত অনুসরণের পাশাপাশি তা ভালবাসা সৃষ্টি করে এবং শত্রুতা দূর করে।” [ফাতহুল মালিক]

সুতরাং সুন্নতের অনুসরণ এবং পারস্পারিক সুসম্পর্ক, ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসা বৃদ্ধির স্বার্থে আত্মীয়-স্বজন এবং প্রিয়জনদেরকে যথাসাধ্য ভালো ও উপকারী জিনিস উপহার দেয়া উচিৎ।

✪ উপহার দেয়ার কারণে যদি দাতা ও গ্রহীতার মাঝে ফিতনা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে তাহলে উপহার দেয়া থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। যেমন: নন মাহরাম যুবক-যুবতির মাঝে উপহার লেনদেন করা হলে উভয়ের ফিতনায় পতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং এমন আশঙ্কা থাকলে তা হতে বিরত থাকা অপরিহার্য।

✪ সাধারণ গরিব-অসহায় মানুষের তুলনায় নিজস্ব রক্ত সম্পর্কীয় গরিব আত্মীয়দেরকে সাহায্য করার নিয়তে উপহার দিলে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
الصَّدقةُ على المسْكينِ صدقةٌ، وعلى ذي القرابةِ اثنتان: صدقةٌ وصلةٌ
“মিসকিনকে সদকা দিলে শুধু সদকার সওয়াব হয় আর নিকটাত্মীয়কে দিলে সদকা এবং আত্মীয়তার বন্ধন উভয়টির সওয়াব হয়।” [সহিহ ইবনে মাজাহ হা/১৫০৬, হাসান লি গাইরিহ]

✪ উপহারের দাম কম বা বেশি তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং উপহার হিসেবে এমন জিনিস দেয়ার চেষ্টা করা উচিৎ যাতে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি খুশি হয়।

✪ উপহার কমদামী হলে বা আদৌ উপহার না দিলে কোন গুনাহ হবে না। কারণ তা ওয়াজিব (আবশ্যক) নয় বরং মোস্তাহাব (উত্তম)।

আল্লাহ আমাদেরকে ঈমান, ভালবাসা ও সৌহার্দপূর্ণ সমাজ বিনির্মানের জন্য নববী নির্দেশিকা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আল্লাহু আলাম।
➧ আরও পড়ুন: উপহার দাতাকে খুশি করার জন্য মিথ্যা বলা...
https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/737798536639694
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ, সৌদি আরব

26/02/2023

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’-এর মাধ্যমে ভিক্ষা চাওয়ার বিধান
প্রশ্ন: আমাদের দেশে ফকির-মিসকিনরা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বলে ভিক্ষা চায়। এটা কতটুকু শরিয়ত সম্মত?
উত্তর:
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই; মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত দূত।”
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এমন একটি বাণী যার মধ্যে বিবৃত হয়েছে, মানুষ ও জিন সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য। এটি ইসলামের মূল কথা। এটি কালিমাতুত তাওহিদ বা একত্ববাদের বাণী।
ভিক্ষার জন্য ইসলামে এই কালিমার আবির্ভাব ঘটেনি। বরং এটি এসেছে, ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও সমগ্র পৃথিবীর পরিবর্তনের জন্য। এর মর্মবাণী বাস্তবায়িত হওয়া ও না হওয়ার উপরই নির্ভর করছে মানব জাতির সাফল্য ও ব্যর্থতা, জান্নাত ও জাহান্নাম।

অথচ অজ্ঞতা বশত: এক শ্রেণির মূর্খ মানুষ এটিকে ভিক্ষার মাধ্যম বানিয়ে ছেড়েছে! এরা এই মহান কালিমার মাধ্যমে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়ায়, মানুষের কাছে হাতপাতে!! যা খুবই দুর্ভাগ্য ও লজ্জা জনক।

এভাবে তাওহিদের এই মহান বাণী দ্বারা ভিক্ষাবৃত্তি করা নাজায়েজ। কারণ এতে কালিমার মানহানি হয়, মানুষের নিকট এটিকে তুচ্ছ প্রতিপন্ন করা হয় এবং নষ্ট হয় এর ভাবগাম্ভীর্যতা ।
অবশ্য কাউকে যদি সত্যিই নিদারুণ আর্থিক সংকটে পড়ে অনন্যোপায় হয়ে ভিক্ষার আশ্রয় নিতে হয় তাহলে সে বলতে পারে, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে দান করুন’ ‘দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন’ বা এ জাতীয় ভাষা। কিন্তু উক্ত কালিমাতুত তাওহিদকে ভিক্ষার মাধ্যম বানানো কোনভাবেই উচিৎ নয়।
আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

22/02/2023

স্বামীর আর্থিক সঙ্কটে সংসার ভাঙ্গার উপক্রম। সমাধান কী?

প্রশ্ন: এক বোন ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে দ্বীনের পথে চলার জন্য একজন ইঞ্জিনিয়ার ও আলেমকে বিয়ে করে যার পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিল। বোনটি স্বামী নিয়ে আলাদা বাসায় থাকতেন এবং সংসারের জন্য বাবা মায়ের থেকে বোনটির টাকা নিতে হতো। এ সব কারণে স্বামীকে শ্বশুর বাড়ির সবাই হেয় করতো। বোনটিও তার স্বামীকে প্রেশার দিত তার ইনকামের স্কেল বাড়ানোর জন্য। বর্তমানে চার বছর বিবাহিত জীবনে তিন মাস যাবত তারা আলাদা থাকছেন এবং স্বামী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেবে। এক্ষেত্রে সমাধান কী?
উত্তর:
প্রত্যেক স্বামীর কর্তব্য, তার স্ত্রী-পরিবারকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য হালাল পন্থায় আয়-উপার্জনের চেষ্টা করা। যেন তাদেরকে কারও প্রতি মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে না হয়। শ্বশুরের অর্থ-সম্পদের প্রতি মুখাপেক্ষী থাকা একজন পুরুষের জন্য নি:সন্দেহে লাঞ্ছনার বিষয়। তাই অবশ্যই তাকে হালাল পন্থায় চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে। এটা তার জন্য ফরজ। কারণ ইসলাম স্বামীর উপর তার স্ত্রী ও পরিবারের ভরণ-পোষণের সুব্যবস্থা করা আবশ্যক করেছে। তৎসঙ্গে উৎসাহিত করেছে কষ্ট-পরিশ্রমের মাধ্যমে হালাল পন্থায় অর্থ উপার্জনের প্রতি।

❑ নিম্নে এ বিষয়ে কয়েকটি আয়াত ও হাদিস পেশ করা হল:

◈ আল্লাহ তাআলা বলেন,

لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ فِي كَبَدٍ ‎

“নিশ্চয় আমি মানুষকে শ্রম নির্ভর করে সৃষ্টি করেছি।” [সূরা বালাদ: ৪]

◈ তিনি আরও বলেন,

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوْا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللهِ

“অত:পর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (অর্থ-সম্পদ, জীবিকা ইত্যাদি) সন্ধান কর।” [সূরা জুমুআহ: ১০]

◈ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
مَا أكَلَ أَحَدٌ طَعَاماً قَطُّ خَيْراً مِنْ أنْ يَأكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِه، وَإنَّ نَبيَّ الله دَاوُدَ عليه السلام كَانَ يَأكُلُ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ ». رواه البخاري
‘‘নিজের হাতের উপার্জন থেকে উত্তম খাবার কেউ কখনো খায় নি। আল্লাহর নবী দাউদ আলাইহিস সালাম নিজ হাতের উপার্জন থেকে খেতেন।’’ [সহীহুল বুখারি]

হ্যাঁ, প্রয়োজনবোধে সাময়িকভাবে শ্বশুর বা অন্য কারও কাছে সুদমুক্ত কিছু অর্থ ঋণও নিতে পারে। পরে উপার্জন করে তা অবশ্যই পরিশোধ করবে।

❑ স্বামীর আর্থিক সঙ্কট মূর্হতে স্ত্রীর করণীয়:

এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর কর্তব্য, তার স্বামীর আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে তার উপর খরচের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ না করা বরং অল্পে তুষ্ট থাকা এবং ধৈর্যের সাথে তার সঙ্গ দেওয়া। ইসলামে অল্পে তুষ্টির প্রশংসা করা হয়েছে। যেমন: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَمَ وَرُزِقَ كَفَافًا وَقَنَّعَهُ اللَّهُ بِمَا آتَاهُ
“সে ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে সফল যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে, যাকে পরিমিত জীবিকা দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তাআলা তাকে যা দিয়েছেন তাতে তুষ্ট থাকার শক্তি দিয়েছেন।” [সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ১৩। যাকাত, পরিচ্ছেদ: ৪৩. ভিক্ষাবৃত্তি বেঁচে থাকা এবং অল্প তুষ্ট থাকা সম্পর্কে]

আর্থিকভাবে অভাব-অনটনের কারণে স্ত্রীর জন্য স্বামী থেকে আলাদা থাকা বৈধ নয়। বরং তারা একসাথে বসবাস করবে এবং স্বামীকে হালাল উপার্জনে সহায়তা করবে এবং উৎসাহ যোগাবে। এমনটি করলে আল্লাহ তাদের মাঝে ভালবাসার সম্পর্ক সুদৃঢ় করবেন এবং অল্প অর্থ-সম্পদেও বরকত দান করবেন। এর মাধ্যমে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখ-আনন্দে ভরপুর থাকবে ইনশাআল্লাহ।

আর স্বামী সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও যদি পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে এ ক্ষেত্রে মাজুর। তবে চেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং আল্লাহর কাছে হালাল উপার্জনের জন্য দুআ করবে। বিশেষ কোনও পেশায় সফল না হলে অন্য পেশা অনুসন্ধান করবে।

এ ক্ষেত্রে স্ত্রী তার যোগ্যতা অনুযায়ী হালাল পন্থায় উপার্জন করে স্বামীকে তার আর্থিক সমস্যা লাঘবে সহায়তা করতে পারে। যেমন: হস্তশিল্প, বোরকা ও কাপড় সেলাই, বুটিকের কাজ, মহিলা মাদরাসা বা বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, শিশু বা মেয়েদেরকে প্রাইভেট পড়ানো, বাড়িতে পশু ও হাস-মুরগি পালন ইত্যাদি।

ভুলে গেলে চলবে না যে, আল্লাহর দুনিয়ায় রিজিকের পথ একটি নয়। বরং হাজারও পথ খোলা আছে। একটিতে সফল না হল অন্য দিকে চেষ্টা করবে। যে চেষ্টা করে সে সফল হয়। আল্লাহর ভয় অন্তরে থাকলে তিনি তাকে অপ্রত্যাশিতভাবে রিজিকের ব্যবস্থা করেন এবং সমস্যা লাঘব করেন। আল্লাহ বলেন,

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا-وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا

“আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।” [সূরা তালাক: ২ ও ৩]

❑ স্বামী যদি অলসতা বশত: অর্থ উপার্জন না করে বা হারাম পন্থায় অর্থ নষ্ট করে তাহলে স্ত্রীর করণীয়:

স্বামী যদি অবহেলা ও অলসতা বশত: অর্থ উপার্জনে মনোযোগী না হয় অথবা কোনও হারাম পথে টাকা-পয়সা অপচয় করে যার কারণে স্ত্রী সর্বনিম্ন ভরণ-পোষণ থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে তার করণীয় হল, প্রথমে স্বামীকে আন্তরিকতার সাথে বুঝানো, হালাল কাজের প্রতি উৎসাহিত করা এবং তার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করা। কিন্তু এতে স্বামীর মধ্যে পরিবর্তন না এলে তার নিকট থেকে খোলা তালাক চাওয়া জায়েজ। কারণ এমন অকর্মণ্য, অলস ও অর্থ অপচয় কারী স্বামীর সাথে সংসার করার কারণে সে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সুতরাং ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার স্বার্থে সমঝোতার মাধ্যমে তার নিকট খোলা তালাক চাইবে কিন্তু সে তালাক দিতে সম্মত না হলে কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ভাবে তালাক এর ব্যবস্থা করতে পারে-ইসলাম তাকে এ সুযোগ দিয়েছে আল হামদুলিল্লাহ। আল্লাহু আলাম।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব

18/02/2023

মাতৃভাষা এবং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা:
▬▬▬❖❖❖▬▬▬
বাংলা আমার মায়ের ভাষা।
বাংলা আমার প্রাণের ভাষা।
বাংলা আমার ভালবাসা।

ফেব্রুয়ারি এলে বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের ভালবাসা উপচে পড়ে! ভালো কথা। বর্তমানে বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' পালিতও হচ্ছে। কিন্তু আমরা নিজেরা নিজেদের ভাষার প্রতি কতটুকু আন্তরিক? আমরা কি সত্যিকারভাবে এ ভাষার প্রতি ভালবাসার প্রমাণ দিতে পেরেছি?

বাস্তবতা বলছে, ভিন্ন কথা।

➤ ২১ ফেব্রুয়ারি আসলে দেখা যায়, ভাষা প্রীতিতে আমাদের শিক্ষিত সমাজ গদগদ করে। কিন্তু তারাই বাংলা বলার ফাঁকে ফাঁকে দু চারটা ইংরেজি শব্দ বা বাক্য বলাকে মনে করে 'স্মার্টনেস''। কেউ কথার ফাঁকে ফাঁকে ইংরেজি কপচাতে না পারলে তাকে মনে করা হয় সেকেলে-খ্যাত!
এটাই কি আমাদের বাংলা ভাষা প্রীতির পরিচয়?!

➤ দু:খ জনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের সংবিধানে ৩নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলার কথা বলা থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ না আছে উচ্চশিক্ষায়, না উচ্চ আদালতে। এখনও বাংলাদেশের কোর্টে বাংলায় রায় দেয়া হয় না। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অনেক বিষয় ইংরেজিতেই পড়ানো হয়।
➤ আমাদের আলেম সমাজ এখনও বাংলা ভাষার প্রতি অতটা যত্নশীল নয়। কোন কোন কওমি মাদরাসায় কতিপয় শিক্ষক এখনও কুরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যা উর্দু ভাষায় দিয়ে থাকেন! তাদের মুখ দিয়ে বাংলা বের হতে কষ্ট হয়!

নবী-রসূলগণ তাদের স্বজাতির লোকদের কাছে ইসলামের দাওয়াত কি ভিনদেশীয় ভাষায় পেশ করেছিলেন?
আল্লাহ তায়ালা কেন প্রত্যেক জাতির মাতৃভাষায় আসমানি কিতাব ও নবী-রসূল প্রেরণ করেছিলেন? আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ ۖ
“আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে।” (সূরা ইবরাহীম: ৪)

তাহলে আলেম সমাজের এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো প্রয়োজন নয় কি?

➤ তথাকথিত ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের বাংলার অবস্থা দেখলে লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়।
➤ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রতিষ্ঠানের এক পৃষ্ঠার একটি ঘোষণাপত্রে যখন ভুলের ছড়াছড়ি দেখি তখন আর কিছু বলার থাকে না।

➤ রাজধানীর দোকানপাট, প্রতিষ্ঠান-ভবনের সাইনবোর্ডগুলোর দিকে তাকালেই বাংলা ভাষার করুণ অবস্থা বোঝা যায়। রাতের নগরে রঙিন আলোর লেখায় সাইনবোর্ড, দেওয়াললিখনে একটু মনোযোগ দিলেই ভড়কে যেতে হয় হাজারো ভুল বানান দেখে।
➤ ফেসবুকে শুদ্ধ ভাবে বাংলা লেখা খুঁজে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
➤ ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা কতিপয় অনলাইন ও এফএম রেডিওতে বাংলা-ইংরেজি ভাষার সমন্বয়ে নতুন এক শঙ্কর জাতীয় ভাষার রূপ দিয়ে বাংলাকে একটি হাস্যকর ভাষায় পরিণত করা হচ্ছে!

তারপরও ২১ ফেব্রুয়ারি এলে বছরে একদিনের জন্য হলেও আমরা বাঙ্গালী সাজার চেষ্টা করি! এ লজ্জাজনক অবস্থার অবসান হবে কখন?

মোটকথা, শুধু কথায় নয়; কাজে বাংলা ভাষার প্রতি ভালবাসার প্রমাণ দিতে হবে, বিশুদ্ধ বাংলার চর্চা করতে হবে এবং মাতৃভাষায় গণ মানুষের কাছে সুমহান ইসলামের দাওয়াতকে ছড়িয়ে দিতে হবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হওন। আমীন।
▬▬▬❖❖❖▬▬▬▫
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

08/02/2023

সালাত রত অবস্থায় ভয়াবহ ভূমিকম্প শুরু হলে সালাত ভঙ্গ করা এবং মানুষের জীবন রক্ষার জন্য সালাত ভঙ্গ বা কাজা করার বিধান

প্রশ্ন: ভূমিকম্পের সময় সালাতের বিধান কী? এ সময় সালাত চলমান রাখা জরুরি নাকি সালাত ছেড়ে দেওয়া জায়েজ? অনুরূপভাবে ভয়াবহ বিপদের সময় জানমাল রক্ষা জন্য সালাত পরিত্যাগ করা কি বৈধ? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর:
শরিয়ত সম্মত কারণ ব্যতিরেকে সালাত শুরু করার পর তা ভঙ্গ করা জায়েজ নাই। এ ব্যাপারে সকল আলেম একমত। কারণ

✪ আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ

“তোমরা তোমাদের আমলগুলো নষ্ট করো না।” [সূরা মুহাম্মদ: ৩৩]

তবে ভূমিকম্প, ভূমিধ্বস, অগ্নিকাণ্ড, প্রচণ্ড ঝড়, হিংস্রপ্রাণীর আক্রমণ ইত্যাদিতে জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে ফরজ অথবা নফল যে কোনও সালাত পরিত্যাগ করে জীবন বাঁচানো জায়েজ। এটি শরিয়ত সম্মত বৈধ কারণ। কেননা ইসলামের দৃষ্টিতে জীবনকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করা জায়েজ নাই।

✪ মহান আল্লাহ বলেন,

وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ

“তোমারা নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ কর না।” [সূরা বাকরা: ১৯৫]

হাদিসে সালাত রত অবস্থায় যদি সাপ-বিচ্ছুর আগমন ঘটে তাহলে সালাত পরিত্যাগ করে তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন:

✪ আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন,

أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَتْلِ الأَسْوَدَيْنِ فِي الصَّلاَةِ الْحَيَّةُ وَالْعَقْرَبُ ‏

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতরত অবস্থায়ও সাপ-বিচ্ছু হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন।” [সুনান আত তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ২/ সালাত, পরিচ্ছেদ: সালাতে সাপ-বিচ্ছু হত্যা করা]

وجاء في كشاف القناع ويجب إنقاذ غريق ونحوه كحريق فيقطع الصلاة لذلك فرضاً كانت أو نفلاً، وظاهره ولو ضاق وقتها لأنه يمكن تداركها بالقضاء بخلاف الغريق ونحوه

❑ মানুষকে ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষা করতে গিয়ে সালাত ছেড়ে দেওয়া বা সালাত কাজা করার বিধান:

মানুষকে ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষার জন্য সালাত পরিত্যাগ করা, এমনকি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে সালাতের সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও সমস্যা নাই। কেননা ইসলামে মানুষের প্রাণ রক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

✪ আল্লাহ তাআলা বলেন,

مَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَآ أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا

“আর যে মানুষের প্রাণ বাঁচালো, সে যেন সকল মানুষকে বাঁচালো।” [সূরা মায়িদাহ: ৩২]

✪ ইসলামের দৃষ্টিতে যদি কেউ খাদ্যাভাবে মারা যাওয়ার আশঙ্কা করে তাহলে তার জন্য বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু হারাম খাবারকেও সাময়িকভাবে হালাল করে দেওয়া হয়েছে। [সূরা আনআম: ১৪৫]

◆ ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রাহ. বলেন,
إذَا رَأَى صَبِيَّيْنِ يَقْتَتِلَانِ ، يَتَخَوَّفُ أَنْ يُلْقِيَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ فِي الْبِئْرِ ، فَإِنَّهُ يَذْهَبُ
إلَيْهِمَا فَيُخَلِّصُهُمَا ، وَيَعُودُ فِي صَلَاتِهِ .
“(সালাতরত ব্যক্তি) যদি দেখে যে, দু জন শিশু মারামরিতে লিপ্ত হয়েছে এবং এ আশঙ্কা হয় যে, একজন অন্যজনকে কুপে নিক্ষেপ করবে তাহলে (সালাত পরিত্যাগ করে) তাদের নিকটে গিয়ে তাদেরকে রক্ষা করে পূণরায় সালাতে ফিরে আসবে।” [ আল মুগনি ৩/৯৭]

◆ ইমাম শাওকানি বলেন,

لا شك أن إنقاذ الغريق من أهم الواجبات على كل قادر على إنقاذه ، فإذا أخذ في إنقاذه ، فتعلق به حتى خشي على نفسه أن يغرق مثله : فليس عليه في هذه الحالة وجوب ، لا شرعا ، ولا عقلا، فيخلص نفسه منه ، ويدعه، سواء كان قد أشرف على النجاة أم لا، بل ظاهر قوله تعالى: ( وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ) [البقرة: 195]، أنه يجب عليه تخليص نفسه-(.. السيل الجرار المتدفق على حدائق الأزهار (ص: 892))
“নিঃসন্দেহে ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব (অবশ্যপালনীয়) এর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে যদি আশঙ্কা থাকে যে, ডুবন্ত ব্যক্তি তাকে জাপটে ধরবে এবং সেও তার মতোই ডুবে মরবে তাহলে এই অবস্থায় তার জন্য এটি ওয়াজিব নয়-শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকেও নয় বা জ্ঞান-বুদ্ধির বিচারেও নয়। এই অবস্থায় সে তাকে ছেড়ে নিজেকে রক্ষা করবে। চাই তার বাঁচার সম্ভাবনা থাকুক অথবা না থাকুক। বরং মহান আল্লাহর বাণী:

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ

“আর তোমরা নিজেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।” [সূরা বাকরা: ১৯৫]-এর প্রকাশ্য অর্থ এটাই যে, ডুবন্ত ব্যক্তিকে ছেড়ে নিজেকে রক্ষা করা তার জন্য ওয়াজিব।” [আস সাইলুল জাররার,পৃষ্ঠা নং ৮৯২]
আল্লাহু আলাম।

◆ শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,

إذا وجد حادثًا، غرقًا أو حرقًا؛ تخشى منه على أولادك أو على المسلمين تقطعها وتساهم في إنقاذ المسلمين أو إنقاذ أهلك، ثم تعود إلى الصلاة تصلي تبدأ فيها من جديد

“যদি কোনও দুর্ঘটনা, ডুবে যাওয়া বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে যাতে আপনি আপনার সন্তান-সন্তুতি বা মুসলিমদের ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা করেন তাহলে সালাত ভঙ্গ করে মুসলিমদেরকে বা আপনার পরিবারকে রক্ষার কাজে অংশ গ্রহণ করুন। তারপর আপনি সালাতে ফিরে যান এবং নতুন করে শুরু করুন।” [binbaz]
- আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

06/02/2023

ভূমিকম্প, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ইসলাম
▬▬▬❂❖❂▬▬▬
প্রশ্ন: ভূমিকম্পের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? এর কি কোনও পূর্বাভাস আছে? আর ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস ও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বিশ্বাস কি গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ে বিশ্বাস করার অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর:
নিঃসন্দেহ ভূমিকম্প আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার মহাজাগতিক বড় নিদর্শনসমূহের অন্যতম। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এ বিশ্বচরাচরের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং তার অপরিমেয় শক্তিমত্তার সামান্য বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তিনি মাঝে-মধ্যে তার শক্তিমত্তা ও অপরাজেয় ক্ষমতার সামান্য কিছু প্রকাশ ঘটান মানুষকে সতর্ক করার জন্য। যেন তারা তাঁকে চিনতে পরে এবং নিজেদের অসহায়ত্ব, অক্ষমতা, দুর্বলতা ও তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন থাকার বিষয়টি উপলব্ধি করতে‌ সক্ষম হয়। তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং পাপাচার থেকে ফিরে আসে। যেন মৃত্যুর কথা স্মরণ করে এবং ভঙ্গুর এ পৃথিবীকে চিরস্থায়ী নিবাস মনে না করে।

❂ আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا نُرْسِلُ بِالْآيَاتِ إِلَّا تَخْوِيفًا
“(আসলে) আমি ভয় দেখানোর জন্যই (তাদের কাছে আজাবের) নিদর্শনসমূহ পাঠাই” [সূরা ইসরা/বনী ইসরাইল: ৫৯]

❂ তিনি আরও বলেন,
سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنفُسِهِمْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ ۗ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ

“অচিরেই আমি আমার (কুদরতের) নিদর্শনসমূহ দিগন্ত বলয়ে প্রদর্শন করবো এবং তাদের নিজেদের মধ্যেও (তা আমি দেখিয়ে দিবো), যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের উপর এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এই (কুরআনই মূলত) সত্য; একথা কি যথেষ্ট নয় যে, তোমার মালিক সবকিছু সম্পর্কে অবহিত?” [সূরা ফুসসিলাত/ সূরা হা-মীম আস সিজদা : ৫৩]

❂ কুরআনে আরও এসেছে,
وَمَا نُرِيهِم مِّنْ آيَةٍ إِلَّا هِيَ أَكْبَرُ مِنْ أُخْتِهَا ۖ وَأَخَذْنَاهُم بِالْعَذَابِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
“আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখাতাম, তাই হত পূর্ববর্তী নিদর্শন অপেক্ষা বৃহৎ এবং আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।” [সূরা যুখরূফ: ৪৮]

❂ আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন,
أَفَلَمْ يَرَوْا إِلَىٰ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۚ إِن نَّشَأْ نَخْسِفْ بِهِمُ الْأَرْضَ أَوْ نُسْقِطْ عَلَيْهِمْ كِسَفًا مِّنَ السَّمَاءِ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّكُلِّ عَبْدٍ مُّنِيبٍ ‎
“তারা কি তাদের সামনের ও পশ্চাতের আকাশ ও পৃথিবীর প্রতি লক্ষ্য করে না? আমি ইচ্ছা করলে তাদের সহ ভূমি ধসিয়ে দেব অথবা আকাশের কোন খণ্ড তাদের উপর পতিত করব। আল্লাহ অভিমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।” [সূরা সাবা: ৯]

❂ তিনি আরও বলেন,
قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَىٰ أَن يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّن فَوْقِكُمْ أَوْ مِن تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُم بَأْسَ بَعْضٍ ۗ انظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ لَعَلَّهُمْ يَفْقَهُونَ
“বল, আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর, তোমাদের উপর থেকে (আসমান থেকে) অথবা তোমাদের পায়ের নীচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম, অথবা তিনি তোমাদের দল-উপদলে বিভক্ত করে একদলকে আরেক দলের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাতেও সম্পূর্ণরূপে সক্ষম।” [সূরা আল আনআম: ৬৫]

❂ আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন,
فَلَمَّاۤ أَخَذَتۡهُمُ ٱلرَّجۡفَةُ قَالَ رَبِّ لَوۡ شِئۡتَ أَهۡلَكۡتَهُم مِّن قَبۡلُ وَإِیَّـٰیَۖ أَتُهۡلِكُنَا بِمَا فَعَلَ ٱلسُّفَهَاۤءُ مِنَّاۤۖ إِنۡ هِیَ إِلَّا فِتۡنَتُكَ تُضِلُّ بِهَا مَن تَشَاۤءُ وَتَهۡدِی مَن تَشَاۤءُۖ أَنتَ وَلِیُّنَا فَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَاۖ وَأَنتَ خَیۡرُ ٱلۡغَـٰفِرِینَ
"যখন তারা একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে আক্রান্ত হলো তখন মূসা বলল, “রব আমার! তুমি চাইলে তো আগেই এদেরকে ও আমাকে ধ্বংস করে দিতে পারতে। আমাদের মধ্যকার নির্বোধেরা যা করেছে, তার জন্য কি তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে? এটি তো ছিল তোমার পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। এর মাধ্যমে তুমি যাকে চাও পথভ্রষ্ট করো, আবার যাকে চাও হিদায়াত দান করো। তুমিই তো আমাদের অভিভাবক। কাজেই আমাদের মাফ করে দাও এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করো। ক্ষমাশীলদের মধ্যে তুমিই শ্রেষ্ঠ।" [সূরা আরাফ: ১৫৫]

এভাবে একসময় মহান অধিপতি আল্লাহর নির্দেশক্রমে সমগ্র পৃথিবী এক ভয়াবহ ভূকম্পনে প্রকম্পিত হয়ে উঠবে। জগতময় সৃষ্টি হবে এক অকল্পনীয় ধ্বংসযজ্ঞ। ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে শহর, নগর, বন্দর ও সকল জনপদ। চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে দরিদ্রের কুঁড়েঘর থেকে শুরু করে আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকা, সুবিশাল টাওয়ার, সুরম্য রাজ প্রসাদ, কল-কারখানা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি। স্তব্ধ হয়ে যাবে পৃথিবীর কোলাহল। সেটাই হবে পরিশ্রুত কিয়ামত দিবস।

আল্লাহ তাআলা ভূমিকম্প (যিলযাল) নামক সূরা নাজিলের মাধ্যমে মানুষকে সে বিষয়ে অগ্রিম সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন,
إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ‎﴿١﴾‏ وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ‎﴿٢﴾‏ وَقَالَ الْإِنسَانُ مَا لَهَا ‎﴿٣﴾‏ يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا ‎﴿٤﴾‏ بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا
“যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে। এবং মানুষ বলবে, এর কি হল? সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন।” [সূরা যিলযাল: ১-৫]

❑ ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস ও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বিশ্বাস কি গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ে বিশ্বাস করার অন্তর্ভুক্ত?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রকৃতির আলামত ও অবস্থা পর্যবেক্ষণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে আবহাওয়া, বৃষ্টি-বাদল, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনাময় অগ্রিম খবর জানানো অথবা তাতে বিশ্বাস করায় কোনও দোষ নেই। কেননা মূলত: বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্ন ডিভাইস, স্যাটেলাইট, যন্ত্র ও প্রযুক্তির সাহায্যে আবহাওয়ার আলামত এবং পৃথিবীর ভূত্বকের গতিবিধি নিরীক্ষণ এর মাধ্যমে এই পূর্বাভাস বলে থাকে। এটি আদৌ গায়েব বা অদৃশ্যের বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।

যেমন: আমরা খালি চোখে ধুয়া দেখে দূরে কোথাও আগুনের খবর বলতে পারি, নাড়ির স্পন্দন দেখে অভিজ্ঞজনরা গর্ভস্থ সন্তান সম্পর্কে কিছু তথ্য দিতে পারে। আবহাওয়ার অবস্থা দেখে বৃষ্টি বর্ষণের খবর দেয়া হয়, গ্রাম্য কৃষক কোনো বৈজ্ঞানিক সূত্র না জেনেই শুধু তার অভিজ্ঞতার আলোকে খরা, বন্যা, ঝড়-বৃষ্টি ইত্যাদি বিষয়ে অগ্রিম কথা বলতে পারে, ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা দেখে অগ্রিম কিছু বিষয় আঁচ করতে পারে...ইত্যাদি। তবে এসব খবর ১০০% বাস্তবায়িত নাও হতে পারে। আর তা নিশ্চিতভাবে বলাও সম্ভব নয়। এ থেকে একটা সম্ভাবনাময় ধারণা পাওয়া যায় মাত্র। সর্বোচ্চ এসব ঘটার সম্ভাবনা আছে/এমনটা হতে পারে/এমন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে....এভাবে বলা যাবে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলের উপ অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, “এখনও পর্যন্ত এমন কোনও যন্ত্র বা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি আবিষ্কার হয়নি, যা ভূমিকম্পের সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারে।” [dailyo.in]

এ সবই মহান আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তিনি চাইলে আবহাওয়া, পরিবেশ-পরিস্থিতি ও গর্ভের সন্তান ইত্যাদি সব কিছুর পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।

মোটকথা, বিভিন্ন আধুনিক মেশিনারিজ, ডিভাইস, স্যাটেলাইট, টেকনোলোজি ইত্যাদি ব্যবহার করে এবং প্রকৃতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও প্রকাশিত আলামতের উপর নির্ভর করে বৃষ্টি-বাদল, খরা-জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প ইত্যাদি সংঘটিত হওয়া সম্পর্কে আনুমানিক ও সম্ভাবনাময় পূর্বাভাস দেয়া বা তাতে তাতে বিশ্বাস করায় শরিয়তে কোন বাধা নেই। এটা ইলমে গায়েব বা অদৃশ্য জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

❑ আবহাওয়া অধিদপ্তর কিভাবে অগ্রিম ঝড়-বৃষ্টি, খরা, বন্যা-জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প ইত্যাদির খবর দেয়?

বিজ্ঞানীগণ বলেন, পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশ থেকে কয়েক শ মাইল উপরে আবহাওয়া সংক্রান্ত স্যাটেলাইট নিজ কক্ষপথে পৃথিবীর চারদিকে পরিভ্রমণ করে। এগুলো বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা নির্ণয় করে এবং বায়ুর মধ্যে আর্দ্রতা বা ঈষৎ আর্দ্রতার পরিমাণ নির্ণয় করে। পৃথিবীর ওপর মেঘ ও ঝড়ের অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে টেলিভিশনে গৃহীত ছবি পৃথিবীতে প্রেরণ করে। এভাবে সংবাদ পাওয়ার ফলে বৈজ্ঞানিকরা অধিকতর নিশ্চয়তার সাথে নির্দিষ্ট এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে পারেন এবং ঝড়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে পারেন। [প্রথম আলো]

আর ভূমিকম্প পরিমাপ যন্ত্রের নাম হল, ভূকম্প মাপক (ইংরেজি: Seismometer) এটি ভূত্বকের কম্পন পরিমাপক যন্ত্র। এই যন্ত্রের সাহায্যে প্রধানত ভূমিকম্প, অগ্নুৎপাত বা অন্য যে কোনও কারণে সংঘটিত ভূত্বকীয় বা ভূগর্ভস্থ কম্পনের তীব্রতা মাপা হয়। এই কম্পন-তীব্রতার তথ্য-উপাত্ত ভূতত্ত্ববিদদেরকে ভূগর্ভের মানচিত্র বানাতে, ভূমিকম্পের উৎস এবং তীব্রতা বিশ্লেষণে সাহায্য করে।

পুরনো যুগে ব্যবহৃত ভূকম্প মাপক যন্ত্রকে সাধারণত ইংরেজিতে "সিজমোগ্রাফ" নামে ডাকা হত। অপরদিকে "সিজমোমিটার" দ্বারা বর্তমান যুগে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক পরিমাপ এবং বিশ্লেষণের সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ভূকম্প মাপককে বুঝায়। আর "সিজমোস্কোপ" বা ভূকম্প বীক্ষণ যন্ত্রের শুধুমাত্র ভূমিকম্পের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।” [উইকিপিডিয়া]

❑ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অগ্রিম সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও পাপাচার পরিত্যাগ না করা বড়ই দুর্ভাগ্য জনক!

দুর্ভাগ্য যে, আমরা নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অগ্রিম সতর্কবার্তা পাওয়া বা স্বল্প-বিস্তর বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়ার পর আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হই না এবং লজ্জিত অন্তরে তওবা করে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পরিশুদ্ধ হই না! এত কিছুর পরও সমাজে আল্লাহর নাফরমানি ও নানা হারাম কাজের জমজমাট আসর চলছে। মানুষ শিরক-বিদআতে লিপ্ত। অসংখ্য মুসলিম নামাজ-রোজা পরিত্যাগ, জাকাত না দেয়া, সুদ-ঘুষ অব্যাহত রাখা, ধূমপান, মদ ও নেশায় বুদ হয়ে থাকা, জিনা-ব্যভিচার, অশ্লীলতা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, বিভিন্ন কনসার্ট, মিউজিক, পর্ন, মানুষের অধিকার হরণ, অত্যাচার-নির্যাতন ইত্যাদি অসংখ্য অগণিত পাপাচারে হাবুডুবু খাচ্ছে!
যখন বিপদ এসে যায় তখন কিছু মানুষ “আল্লাহ বাঁচাও আল্লাহ বাঁচাও” বলে চিৎকার করে আর রেডিও-টেলিভিশনে কুরআন তিলাওয়াত চলে কিন্তু বিপদ কেটে গেলেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাই! অথচ আল্লাহ তাআলা অতীতে বহু পাপীষ্ঠ সভ্যতাকে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাধ্য্যমে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করেছেন। এখনো ইতিহাসের পাতায় পাতায় সে সব ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতিচিহ্ন স্পষ্টভাবে খোদায় করা আছে। বতর্মান বিশ্বেও আধুনিক উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থার সকল দাম্ভিকতাকে চূর্ণ করে দিয়ে পৃথিবীর দিকে দিকে অসংখ্য ভয়াবহ ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় সংঘটিত হয়েছে-যার ভিডিও ও নানা স্থিরচিত্র আমরা ইচ্ছা করলেই অন্তর্জালে দেখে নিতে পারি।

মহান আল্লাহ ভাষায় সত্যি মানুষ চরম অজ্ঞ, জালিম এবং তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ।

আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং সব ধরণের দুনিয়া ও পর কালীন বিপদ-বিপর্যয় থেকে রক্ষা করুন আর মহা ধ্বংসযজ্ঞের পূর্বেই যেন আমরা তওবা করে পরিশুদ্ধ হতে পারি-মহান রবের দরবারে সেই তাওফিক কামনা করছি। আল্লাহুম্মা আমিন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

Want your school to be the top-listed School/college in Al-Jubail?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Jubail Dawah And Guidance Center
Al-Jubail
31951