24/04/2026
|| মাথাব্যথার কারন যখন মাথায় নেই ||
রোগী দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মাথাব্যথায় ভুগছিলেন। ইন্টারমিডিয়েট পড়ে, সামনে পরীক্ষা। মাথাব্যথার জন্য কোন কাজে ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারে না, লেখাপড়ায়ও না। একটা টিউশনি ছিল, ছেড়ে দিতে হয়েছে। রাতের ঘুমেও সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যার জন্য সে ফার্মেসি থেকে শুরু করে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, নিউরোলজিস্ট এমনকি সাইকিয়াট্রিস্ট থেকেও ওষুধ খেয়েছেন, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান পাননি। মাথাব্যথার পাশাপাশি তার আরেকটি বড় সমস্যা ছিল—মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং অসহ্য ব্যথা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে এক সময় তার শরীরে রক্তশূন্যতা (Anemia) দেখা দেয়।
রক্তশূন্যতা ও মাসিকের সমস্যা নিয়ে তিনি একজন গাইনোকোলজিস্টের শরণাপন্ন হন। পরীক্ষায় দেখা যায় তার হিমোগ্লোবিন অনেক কমে গেছে এবং জরায়ুতে (Uterus) একটি ছোট টিউমার বা ফাইব্রয়েড রয়েছে। চিকিৎসক ধারণা করেন, এই টিউমারের কারণেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আয়রনের অভাব মনে হলেও রক্তস্বল্পতার মাত্রা বেশি হওয়ায় তাকে শরীরে রক্ত দেওয়ার (transfuse) পরামর্শ দেওয়া হয়।
রক্ত দেওয়ার পর কিছুদিন ভালো থাকলেও পুনরায় তার মাথাব্যথা এবং মাসিকের সমস্যা শুরু হয়। চিকিৎসক তাকে 'মায়োমেকটমি' (Myomectomy) অপারেশনের পরামর্শ দেন। অপারেশনের আগে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে দেখা যায়, আগে একটি ফাইব্রয়েড থাকলেও এখন তা বেড়ে দুটি হয়েছে। সুস্থ হওয়ার আশায় এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে তিনি অপারেশন করান। অপারেশনের পর রক্তক্ষরণ কমলেও তার মাথাব্যথা কমেনি, বরং অন্যান্য ওষুধ খাওয়ার পরেও কোনো উন্নতি হচ্ছিল না।
পরবর্তীতে রোগী যখন আমার চেম্বারে আসেন, আমি সময় নিয়ে তার পুরো হিস্ট্রি শুনি এবং শারীরিক পরীক্ষা করি। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা যায় রোগীর চোখ লাল এবং তার মধ্যে পলিসাইথেমিয়া (Polycythemia)-র লক্ষণ বিদ্যমান। আগের সব ইনভেস্টিগেশন রিভিউ করে এবং রোগীর বয়স বিবেচনায় আমার মাথায় অনেকগুলো ডিফারেনশিয়াল ডায়াগনসিস আসে। বিশেষ করে এটি কি প্রাইমারি না কি সেকেন্ডারি পলিসাইথেমিয়া, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি ছিল। কারণ, জরায়ুর ফাইব্রয়েড (Uterine Fibroid) থেকেও সেকেন্ডারি পলিসাইথেমিয়া হতে পারে।
রোগীকে একজন হেমাটোলজিস্ট দেখানোর পরামর্শ দিই এবং সিবিসি (CBC) করার কথা বলি। রক্তে হিমোগ্লোবিন এবং হেমাটোক্রিটের মাত্রা অনেক বেশি থাকলে শরীর থেকে রক্ত বের করে দিলে (Venesection/Phlebotomy) মাথাব্যথা কমতে পারে। হেমাটোলজিস্ট কিছু দামি পরীক্ষার পরামর্শ দিলেও সঠিক কাউন্সেলিংয়ের অভাবে এবং পরীক্ষার খরচ বেশি হওয়ায় রোগী কনফিউজড হয়ে পুনরায় আমার কাছে ফিরে আসে। তাদের বুঝিয়ে বলি যে, রোগের কারণ (প্রাইমারি নাকি সেকেন্ডারি) নিশ্চিত হওয়ার জন্য অন্তত একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় প্রাইমারী কারন নির্ধারক জেনেটিক পরীক্ষাটি করার পরামর্শ দেয়া হয়।
অনেকদিন পরে তারা রিপোর্ট নিয়ে আসে। রিপোর্টে জেনেটিক কারন নেগেটিভ আসে। রোগিনীর বাবা-মা সহ তাদের রোগের ব্যাপারে কাউন্সেলিং করা হয়। তারা বিষয়টি বুঝতে পারে। রক্তে লোহিত কণিকার মাত্রা দেখে রক্তের কিছু অংশ নিয়মিতভাবে ফেলে দেবার পরামর্শ দেয়া হয়, একই সাথে গাইনাকোলজিস্ট এর নিকট রেফার করা হয়। কারন রোগের কারনটা মাথায় নয়, ছিল জরায়ুতে।
এ পর্যায়ে রোগীর একটা প্রশ্ন ছিল -
" আমি যদি রক্তটা ফেলে না দিয়ে কাউকে দান করে দেই (Donate) করি?"
উত্তরটা আপনারা দেবেন (বিশেষ করে চিকিৎসক)।
#রোগী_কথন
[ছবিটা প্রতিকী। ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন করার সময়]
18/07/2025
রসুন শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না—এটি এক অমূল্য প্রাকৃতিক ওষুধ। বিশেষ করে খালি পেটে কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখে। প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ ও আধুনিক বিজ্ঞান—দুই জায়গায়ই রসুনের এই গুণাগুণ স্বীকৃত। চলুন জেনে নিই এর আশ্চর্য ৭টি উপকারিতা।
✅ উপকারিতা:
ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে – রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
কোলেস্টেরল কমায় – বিশেষ করে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL)।
হজমশক্তি বাড়ায়, গ্যাস্ট্রিক কমায়।
পেটের কৃমি ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
ডিটক্সিফিকেশন করে লিভারকে পরিষ্কার রাখে।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায়—রক্তসঞ্চালন ভালো রাখে।
⚠️ সতর্কতা:
অতিরিক্ত খেলে গ্যাস বা জ্বালাপোড়া হতে পারে।
গর্ভবতী, বুকের দুধ খাওয়ানো মা ও ওষুধ সেবনরত ব্যক্তিদের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে সাবধানে খেতে হবে।
🌿 প্রস্তুতপ্রণালী:
একটি মাঝারি রসুনের কোয়া নিন।
খোসা ছাড়িয়ে ৫–১০ মিনিট রেখে দিন (অ্যালিসিন সক্রিয় করতে)।
তারপর ভালো করে চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন অথবা ছোট করে কেটে গরম পানিতে খেতে পারেন।
🧴 ব্যবহারবিধি:
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ কোয়া রসুন খান।
পরে এক গ্লাস গরম পানি পান করুন—হজম ভালো হবে, মুখের গন্ধও কমবে।
16/07/2025
সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে কয়েকটি ছবি। এক বাইক আরোহীর মা"থার খু"লির ছবি এটি, যা দুর্ঘট"নায় চুর্ণ-বিচু"র্ণ হয়ে গেছে। সাথে একটি ক্যাপশন, “আমি হেলমেট পরি না... কারণ এতে আমার চুল নষ্ট হয়ে যায়।”
কথাটা শুনে হয়তো আপনার হাসি পাচ্ছে, কিন্তু খুলির ছবিটি দেখার পর আপনার হাসি মিলিয়ে যেতে বাধ্য!
যে ছবিটি আপনি দেখছেন, সেটি বিভিন্ন মেডিক্যাল জার্নাল এবং ওয়েবসাইটে দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মাথার খু"লির উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি বাস্তব সিটি স্ক্যান (CT Scan) চিত্র, যা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, হেলমেট না পরার পরিণাম কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
যখন একজন বাইক আরোহী হেলমেট ছাড়া দুর্ঘটনায় পড়েন, তখন যা ঘটে 🙂
১. দুর্ঘটনার সময় মাথা যখন সরাসরি রাস্তা বা অন্য কোনো বস্তুর সাথে সজোরে ধাক্কা খায়, তখন মাথার খু"লি ভেঙ্গে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে প্রায় শতভাগ। ঠিক যেমনটা ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের ফ্র্যাকচারকে বলা হয় ‘কম্মি"নিউটেড ফ্র্যাকচার (Comminuted Fracture)’, যেখানে খুলির হা"ড় একেবারে টু"করো টুকরো হয়ে যায়।
২. ধাক্কার কারণে আমাদের মস্তিষ্ক খুলির ভেতরের শক্ত আবরণে সজোরে আঘাত করে। এর ফলে মস্তিষ্কের নরম টিস্যু ছিঁ"ড়ে যায়, রক্তনালী ছিন্নভিন্ন হয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একে বলে ‘ইন্ট্রাসেরিব্রাল হেমোরেজ (Intracerebral Hemorrhage)।’ এর পরিণাম দীর্ঘস্থায়ী কোমা, প্যারালাইসিস অথবা "মৃ"ত্যু।
৩. দুর্ঘটনার সময় ঝাঁকুনির ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সংযুক্তকারী স্নায়ুতন্তু (nerve fibers) ছিঁড়ে যায়। এই ধরণের ইনজুরি সিটি স্ক্যানেও অনেক সময় ধরা পড়ে না, কিন্তু এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। রোগী হয়তো বেঁচে যান, কিন্তু তার স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন চিরতরে হারিয়ে যায়।
কিছু পরিসংখ্যান দেখেন:
⚆⚆◗ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে, হেলমেট ব্যবহার করলে দুর্ঘটনায় মৃ"ত্যুর ঝুঁকি ৪০% এবং মারাত্মক আহত হওয়ার ঝুঁকি ৭০% পর্যন্ত কমে যায়।
⚆⚆◗ বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে গবেষণা বলছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যত "মৃ"ত্যু হয়, তার প্রায় ৮৮% ক্ষেত্রেই চালক বা আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল না।
⚆⚆◗ হেলমেট মস্তিষ্কের উপর আঘাতের শক্তি প্রায় ৬৯% পর্যন্ত কমিয়ে আনতে সক্ষম।
কিছুক্ষণ গম্ভীর হয়ে ভাবুন, আপনার যত্নসহকারে সাজানো চুলগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঠিক করে ফেলা সম্ভব। কিন্তু একবার যদি আপনার মাথার খুলি এভাবে ভেঙ্গে যায়, কিংবা মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়, তবে পৃথিবীর কোনো ডাক্তার বা প্রযুক্তি কি আপনাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারবে?
আপনার পরিবার, আপনার স্বপ্ন, আপনার ভবিষ্যৎ - এই সবকিছুই আপনার একটি সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। স্টাইল বা সামান্য অস্বস্তির অজুহাতে হেলমেটকে উপেক্ষা করা মানে নিজের জীবন নিয়ে জুয়া খেলা।
তাই পরেরবার যখনই বাইকে চড়বেন, একবার আয়নায় নিজের মুখটা দেখবেন আর এই ছবিটি মনে করবেন। সিদ্ধান্ত আপনার। চুল বাঁচাবেন, নাকি মা*থা বাঁচাবেন?
হেলমেট শুধু একটি আইন মেনে চলার বিষয় নয়, এটি আপনার প্রতি আপনার নিজের এবং আপনার পরিবারের প্রতি একটি দায়িত্ব। স্টাইল করুন, কিন্তু নিরাপদে।
অনুবাদ: AH Abubakkar Siddique
সোর্স (Sources):
1. Centers for Disease Control and Prevention
(CDC)
2. World Health Organization (WHO)
3. Accident Research Institute (ARI), BUET
4. Radiopaedia org and Shutterstock
04/07/2025
ফলে শরীরে গজাতে থাকে গাছের বাকলের মতো দেখতে ওয়ার্ট (wart) বা আঁশযুক্ত অংশ, বিশেষ করে হাত-পা ও মুখে।
⸻
🔬 কেন হয় এই রোগ?
1. জেনেটিক কারণে:
• এটি একটি অটোসোমাল রিসেসিভ (autosomal recessive) রোগ।
• যাদের EVER1 বা EVER2 জিনে সমস্যা থাকে, তারা এই রোগের ঝুঁকিতে থাকে।
2. HPV সংক্রমণ:
• সাধারণ মানুষের শরীরে HPV ভাইরাস প্রবেশ করলেও ইমিউন সিস্টেম তা দমন করে।
• কিন্তু EV রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে না।
• ফলে ভাইরাস শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ত্বকে গাছের মতো ওয়ার্ট তৈরি করে।
⸻
📸 লক্ষণ (Symptoms)
• হাত, পা, মুখ বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে গাছের বাকলের মতো বাড়তে থাকা ওয়ার্ট
• ধীরে ধীরে সেগুলো শক্ত ও মোটা হয়ে যায়
• নখের পাশ থেকে গজাতে থাকে
• এগুলো চামড়ার নিচে ছড়িয়ে পড়তে পারে
• দেখতে অনেকটা শিকড় বা ডালের মতো হয়
• ব্যথা, অস্বস্তি এবং দৈনন্দিন কাজে বাধা দেয়
⸻
🧬 Tree Man Syndrome ভয়াবহ হয় কেন?
• শরীরের স্বাভাবিক চামড়া ঢেকে যায়
• হাত-পা অচল হয়ে যেতে পারে
• ওয়ার্ট গুলো ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে
• মানসিক ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অনেকে
⸻
🩺 চিকিৎসা ও প্রতিকার
এটি এখনো পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, তবে:
1. সার্জারি:
• গাছের মতো অংশগুলো কেটে ফেলা হয়, তবে পুনরায় গজানোর সম্ভাবনা থাকে।
2. অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ:
• HPV ভাইরাস দমনে সহায়তা করতে পারে।
3. রেটিনয়েডস (Retinoids):
• ওয়ার্ট কমাতে ত্বকের ওষুধ দেওয়া হয়।
4. ইমিউন থেরাপি:
• রোগীর ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়।
⸻
📍 বিশ্বে আলোচিত Tree Man রোগী (বাংলাদেশের একজন):
• আব্দুল বাজানদার, খুলনার বাসিন্দা
• এই রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়ে উঠেন।
• ঢাকা মেডিকেলে তার বেশ কয়েকবার অস্ত্রোপচার করা হয়।
• চিকিৎসা ব্যয় এবং যন্ত্রণার কারণে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন।
⸻
📌 সংক্ষেপে:
Epidermodysplasia Verruciformis বা Tree Man Syndrome হলো একটি বিরল, জেনেটিক এবং ভাইরাস-সংশ্লিষ্ট ত্বকের রোগ, যেখানে শরীর গাছের ডালের মতো হয়ে যায়। এটি ভয়াবহ হলেও উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
©️𝗠𝗲𝗱𝗶𝗽𝗹𝗮𝗻 - মেডিপ্ল্যান
27/06/2025
‼️প্রতিটি মা-বাবা চান একটি সুস্থ, সুন্দর শিশুর মুখ। কিন্তু অনেক সময় জন্মের সময় দেখা যায় শিশুর ঠোঁট বা মুখের তালু ফাটা। এটি একধরনের জন্মগত সমস্যা, যাকে বলে Cleft Lip এবং Cleft Palate।
ভয়ের কিছু নেই — সময়মতো চিকিৎসায় এটি ঠিক করা যায়। তবে গর্ভাবস্থায় সচেতন হলে এর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
❓ কেন ঠোঁট বা তালু ফাটা হয়?
🔹 গর্ভাবস্থার প্রথম ৬–১২ সপ্তাহে শিশুর মুখের বিভিন্ন অংশ একসঙ্গে জোড়া লাগে।
❌ যদি এই প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা হয়, তখন ঠোঁট বা তালু ফাটা থেকে যায়।
🔸 এটি বংশগত হতে পারে, আবার গর্ভাবস্থার ভুল অভ্যাস, অপুষ্টি, বা পরিবেশগত কারণে হলেও হতে পারে।
🛡️ কী করলে ঠোঁট ও তালু ফাটার ঝুঁকি কমে?
✅ গর্ভাবস্থার আগেই ও শুরুর দিকে ফোলিক অ্যাসিড (Folic Acid) গ্রহণ করা
– প্রতিদিন অন্তত ৪০০–৬০০ মাইক্রোগ্রাম ফোলিক অ্যাসিড খাওয়া উচিত
– এটি ঠোঁট ও মস্তিষ্কজনিত জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে কার্যকর
✅ সুষম পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
– ভিটামিন A, B6, B12, C এবং আয়রনসমৃদ্ধ খাবার
– দুধ, ডিম, পালং শাক, কলা, বাদাম, মাংস, মাছ, ডাল ইত্যাদি
✅ ধূমপান, অ্যালকোহল ও ক্ষতিকর ওষুধ থেকে বিরত থাকা
– এগুলো গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক গঠনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে
✅ রুবেলা বা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা নেওয়া
– গর্ভের আগেই MMR টিকা নেওয়া ভালো
✅ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত প্রেগনেন্সি চেকআপ
– যেকোনো ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা যায়
🏥 যদি হয়েও যায়?
✅ ঠোঁট কাটার সার্জারি: ৩–৬ মাস বয়সে
✅ তালু কাটার সার্জারি: ৯–১২ মাস বয়সে
✅ স্পিচ থেরাপি, ফিডিং সহায়তা, ও কানে ইনফেকশন পরীক্ষা
💡 মনে রাখবেন:
একজন মায়ের সচেতনতা একজন শিশুর মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে পারে। ঠোঁট ও তালু ফাটা প্রতিরোধযোগ্য — শুধু দরকার আগেভাগে সচেতনতা ও যত্ন।
📢 আপনার পরিচিত গর্ভবতী মায়ের সঙ্গে এই পোস্টটি শেয়ার করুন। হতে পারে তাদের জন্য একটি বড় আশীর্বাদ।
সংগৃহীত
13/06/2025
# Chicken Pox
🟣 ছোট বেলায় আমাদের অনেকেই Chicken Pox এ আক্রান্ত হয়েছি তাইনা--
বলতে পারি?, যেই ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হয়েছি , সেই ভাইরাসের নাম কি?
varicella zoster virus------দিয়েই Chicken pox হয়..
কিভাবে এই ভাইরাস ট্রান্সমিশন হয়-
এক কথায় -- এইটা Airborne disease -
হাঁচি কাশিতে এইটা ছড়ায়- এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংশপর্শেও ছড়ায়।
উপসর্গ কি---
Small itchy blister দিয়ে শুরু হবে,
মানে কি?
মানে পানি মুখে নিয়ে ছোট ছোট র্যাশ উঠবে, আর চুলকাতে থাকবে, প্রথমে বুকে, পিঠে, মুখে, তারপর শরীরের অন্যান্য অংশে র্যাশ দেখা দিবে,
জ্বর আগে উঠবে নাকি র্যাশ আগে উঠবে?
আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যাওয়ার ১০-২১ দিনের মধ্যে উপসর্গ শুরু হবে,
প্রথমে দূর্বলতা, পরে জ্বর, জ্বরের ১-২ দিনের মধ্যে র্যাশ শুরু হবে।
র্যাশ গুলি ৩-৫ দিনের মধ্যে Crusted হয়ে যাবে- ৭ থেকে ২১ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যাবে।
এবার আসি-
🟣 complication কি হতে পারে?
যে কোনো স্কিন লেশনে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে-
যখন একটা বাচ্চার সারা শরীরে chicken pox উঠে, তখন তার শরীর এমনিতেই immune compromised condition এ চলে যায়, তাই তখন skin এর নরমাল ফ্লোরা গুলি তথা staphylococcus epidermidis ব্যাকটেরিয়া সুযোগ পেয়ে যায় ইনফেকশন করার, তাই ইনফেকশন হতে পারে,
আবার যেহেতু এইটা Respiratory Root দিয়ে যায়, তাই নিউমোনিয়া ও হতে পারে, তবে নিউমোনিয়া খুব একটা দেখা যায়না, Encephalitis ও হতে পারে-
🟣 চিকিৎসা কি-?
এখনো পর্যন্ত ম্যাক্সিমাম ভাইরাল ডিজিজের চিকিৎসা হচ্ছে Symptomatic --
যেই উপসর্গ আছে, সেই চিকিৎসা দিবেন,
১. Antihistamine,
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে Deslor/Fexo syrup, 21 din
Adult দের জন্য Deslor/Fexo/xyril tab 21
২.. Topical Antihistamine - calamine lotion দিনে দুইবার
৩.. Paracetamol
৪.. Xinc- B (Vitamin B complex +Zinc)
৫. Antiviral systemic and tropical
বাচ্চাদের জন্য সিরাপ, বয়স্কদের জন্য ট্যাবলেট
৫... যাদের কে immuno compromised মনে হবে, কিংবা malnutrition মনে হবে, তাদের কে সেকেন্ডারি ইনফেকশন প্রিভেন্ট করার জন্য একটা এন্টিবায়োটিক not as a treatment but as a prophylaxis measurement দিয়ে দিবেন।
এবার আসি-- কাকে Prophylactic antibiotics দেবো??
১.. ডায়াবেটিস পেশেন্ট দের,
২...Malnourished person দের
৩.. যেসব বাচ্ছার বয়সের তুলনায় ওজন কম
৪.টিউবারকুলোসিস
৫.. SLE
৬.. ম্যালিগন্যান্ট পেশেন্ট
ইত্যাদি
অনেক এন্টিবায়োটিক আছে, কোনটা দিবেন?
এমন এন্টিবায়োটিক দিবেন, যেটা গ্রাম পজিটিভ কাভারেজ
chicken pox এর fate কি?
এক কথায় উত্তর -
৭-২১ দিনে এই রোগ ভালো হয়ে যায়্
এবং এইটা এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবার পরে বডিতে এইটার বিরুদ্ধে একটা এন্টিবডি তৈরি হয়, আর এই এন্টি বডি লাইফ লং ইমিউনিটি দেয়--
তাই কারো একবার যদি chicken pox হয়, তার জীবনে ২য় বার হবার হার একবারি কম,
06/06/2025
Eid mubarak from Synapse EduMed International to all followers 💝