21/05/2024
🔲 রিকশার জন্মস্থান জাপানে কিন্তু সেখানে রিকশা বিলুপ্ত হয়েছে অনেক যুগ আগে। এই উপমহাদেশে প্রথম রিকশা আসে কলকাতায়, পরে মিয়ানমারের রেঙ্গুন হয়ে চট্টগ্রামে। সময়, পরিবেশ, পরিস্থিতি ও অবস্থানের উপর নির্ভর করে অনেক পেশা বিলুপ্তি হয় যেমনটা আমাদের দেশের অনেক আদি পেশা বিলুপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন বাহন পালকি বেহারা বা পালকিওয়ালা, সাপুড়ে- সাপ ধরার কাজ, বাইজি- পেশাদার নর্তকী, পাঙ্খাওয়ালা- রাজা-জমিদারদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস দেওয়া, রানার- কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘রানার’ কবিতার মত চিঠি নিয়ে ছুটে চলা রানার, বায়োস্কোপওয়ালা - চৌকো একটি টিনের বাক্সে গোলাকৃতি ৪ থেকে ৬টি কাচের জানালা দিয়ে রঙ্গিন ছবি দেখানো - এছাড়া কামার, কুমার, তাঁতিরাও একেবারে বিলুপ্ত প্রায় যদিও তাঁতী লীগ এবং তাঁতী দলের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনের পর দিন।
🔲সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া পেশার বিপরীতে নগর সভ্যতায় গগনচুম্বী অট্টালিকা তৈরি হলেও আমরা সভ্য নাগরিক হয়নি। এখনো রয়ে গেছে সেই রিক্সা ও রিকশাচালক। দুই-তিন জন মানুষ নিরুদ্যমে পিছের সিটে বসা, সামনে একজন মানুষ প্যাডেল মেরে ঘামে ভেজা দেহে আয়াসে টেনে নিয়ে যাচ্ছে – দৃশটা একেবারে মানবিক নয়। এই পেশায় হালে পানি পেয়েছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা। সুবিধা ও অসুবিধা দু’টোই ছিল। সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল অনায়াসে ড্রাইভিং। সাময়িক বন্ধ হয়ে আবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আবারও চলার অনুমতি পেয়েছে।
🔲সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্য্যার ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের নির্দেশের আগে কি তিনি নগর পরিকল্পনাবিদ, ট্রাফিক পুলিশ, মেয়র, রাজউক, পরিকল্পনা-মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কারো পরামর্শ নিয়েছিলেন? উত্তর যদি "না" হয় তাহলে স্বেচ্ছাচারিতার সামিল। একথাও যেমন সত্য যে শুধু ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা ১৩ লক্ষ বসবাসকারীর সমপরিমাণ বিদ্যুৎ খাচ্ছে - একথাও অসত্য নয় যে এই শহরে ১২ লাখের মতো রিকশা সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষের আহার জড়িত আছে। এতো বড় ও পুরানো একটা শিল্পকে একদিনে বন্ধ করা কঠিন। কীভাবে বন্ধ করা যায় বা করলে তার consequences and repercussions (ফলাফল এবং প্রতিক্রিয়া) কি হতে পারে এই নিয়ে আমাদের স্বতন্ত্র, প্রাতিষ্ঠানিক, পাবলিক বা প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন গবেষণা পত্র নাই।
🔲আমি সর্বান্তকরণে চাই এই অমানবিক পেশার ইতি টানা হোক। এটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে 'দৃষ্টিনন্দন এক্সপ্রেসওয়ে', মনোহর ঢাকা বিমানবন্দর, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর, আহছান মঞ্জিল, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, বিজয় সরণি ফোয়ারা, বসুন্ধরা সিটি, অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য, জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, জাতীয় জাদুঘর, শিশুপার্ক, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বাংলা একাডেমী গ্রন্থাগার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়, সাত গম্বুজ মসজিদ, ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক, ওয়ান্ডারল্যান্ড দেখানোর পাশাপাশি আমরা পর্যটকদের অমানবিক বাংলাদেশ রিক্সা দেখাতে চাই না। এটা মূলত চিল কাউয়ার ঝগড়াঝাঁটি বা ঠোকাঠুকি নয় বরং এর চাইতেও অতি মানবিক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। এই জন্য চাই বহুবিধ পরিকল্পনা ও গবেষণা।