ღ . _ ১টা জীবন মানে ১টা গল্প _ . ღ

ღ . _ ১টা জীবন মানে ১টা গল্প _ . ღ

Share

Nothing !!

05/05/2020

বিসিএস ক্যাডার হয়ে স্কুল শিক্ষক বাবার স্বপ্নপূরণ

৩৯তম বিসিএসে ডা. একেএম আব্দুল মোতাকাব্বির অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন। গত ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের ফল অনুযায়ী তিনি বিসিএস (স্বাস্থ্য) সহকারী সার্জন পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এতে তার স্কুল শিক্ষক বাবার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সফল হলো।

ডা. মোতাকাব্বির সিলেটের হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১১ সালে এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস ও শাহজিবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে ২০১১-১২ সেশনে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। তিনি ২০১৮ সালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ইন্টার্নি শেষ করেন।

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে শিশু বিষয়ে এফসিপিএস পার্ট-১ সম্পন্ন করেন। তার বাবা আব্দুল মালেক প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ২য়। তার বড়বোন চুনারুঘাটে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। আরেক বোন চলতি বছর সিলেট নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। সবচেয়ে ছোটবোন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

মোতাকাব্বির পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলতে খুব ভালোবাসতেন। তিনি মনে করেন, মনোবল ঠিক রাখার জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ একাদশের একজন সদস্যও ছিলেন।

মোতাকাব্বির জানান, তার এ সাফল্যের পেছনে সৃষ্টিকর্তার পর তার বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ ও সদিচ্ছা সবচেয়ে বেশি ছিল। পাশাপাশি শিক্ষকদের সঠিক গাইড লাইন, তার ওপর ভরসা রাখা এবং নিয়মানুবর্তিতা ছিল প্রধান অনুপ্রেরণা। তার এ সাফল্যের পেছনে বড়বোন সবচেয়ে বেশি সাহস ও শক্তি জুগিয়েছেন।

মোতাকাব্বির জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভবিষ্যতে একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি আমার গ্রাম ও শাহজিবাজারের মানুষের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। তাই ছেলেবেলার স্মৃতিবিজড়িত স্থানের মানুষের পাশে সবসময় থাকতে চাই।’

কালেক্টেডঃ জাগো নিউজ

29/04/2020

সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষা:

সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষা এই ব্যাপারে লিখার জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই অনুরোধ পাচ্ছিলাম । ব্যস্ততার কারণে লিখা হয়নি। আজ একটু সময় পেয়েছি তাই লিখে ফেলছি। আশা করি অনেকের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব। প্রথমেই বলে রাখি যে, আমি নিজে এখনও উচ্চশিক্ষায় বাইরে যাইনি তবে এ বিষয়ে সিনিয়ার স্যার ও একাডেমীতে বেশ কিছু সেশন এবং নিজ আগ্রহে যা জেনেছি তাই আপনাদের বলব। আমার কথা কোন বেদবাক্য নয়। মূল আলোচনায় চলে যাচ্ছি এখনঃ

১) প্রথমেই বলে নেই বিসিএস এর প্রিপারেশন এর সময়ই উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেয়া ভাল। এতে এক জায়গায় হোঁচট খেলেও অন্য জায়গায় শিফট করার সুবিধা থাকে। তবে অবশ্যই একটা ব্যাপার মাথায় রাখা ভাল এই কাজটি তখনই করা উচিত যখন আপনি বুঝবেন যে আপনার ইংরেজি ও গনিতের ব্যাসিক ভাল একটা জায়গায় রয়েছে। কারণ উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার জন্য যেসকল Standardized Test দিতে হয় সেগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গণিত ও ইংরেজির দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।

২) এখন প্রশ্ন হচ্ছে এত কষ্ট করে বিসিএস দিলাম এখন কেন বাইরে পড়তে যাব। এর মূল কারণ হচ্ছে কম্পিটিশনে টিকে থাকতে হলে আপনাকে এই পথ ধরতেই হবে। যে অবস্থা চলছে এখন তাতে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন ৫-১০ বছরের মধ্যেই উপসচিব বা তার উপরের পদগুলোতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিদেশি মাস্টার্স বাধ্যতামুলক হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে আমাদের মুখ্যসচিব স্যার টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় এর পিএইচডি। আমাদের প্রশাসন সহ অন্য অনেক ক্যাডারেই পি এইচ ডি করা ব্যাক্তির সংখ্যাও কম নয়। ভারত ,সিঙ্গাপুর বা মালায়শিয়ার বেশিরভাগ কর্মকর্তার একটা বিদেশি মাস্টার্স থাকেই। তাই এদের সাথে লড়াই করতে হলে গুনগত শিক্ষার আপনার বিকল্প নেই। আবার ধরেন আপনার সরকারি চাকরি করতে আর ইচ্ছা করছে না, ইচ্ছা হচ্ছে ৬ ডিজিট এর বেতনের কোথাও চাকরি করবেন, তাহলেতো উচ্চশিক্ষার বিকল্প নেই। আবার আপনার ইচ্ছা হচ্ছে লিয়েনে বিশ্বব্যাংক, ইউএন প্রভৃতিতে কাজ করবেন সেক্ষেত্রও আপনাকে এই উচ্চশিক্ষা কাজে দিবে। আমাদের অনেক কর্মকর্তাই সেখানে লিয়েনে কাজ করছেন। তবে এই সকল আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে ভারতীয় ও চীনা সিভিল সার্ভিসের অফিসারদের সাথে কম্পিট করে সুযোগ করে নিতে হবে। ইউএন এর পি-২ বা পি -৩ লেভেল এ প্রচুর নিয়োগ হয়। এইসব সুযোগ কাজে লাগাতে হলে উচ্চশিক্ষার বিকল্প নেই।

৩) প্রশ্ন করতে পারেন এই সকল প্রস্তুতি কখন নিবেন? আমার উত্তর অনেকের পছন্দ হবে না হয়ত তবুও আমি বলব যে আপনার ফলাফলের পর গেজেট হতে ১ বছরের মত সময় লাগে। সেই সময়টা কাজে লাগাতে পারলে খুব ভাল হয়। চাকরীতে ঢুকেই বেশিরভাগ অফিসার আইইএলটিএস বা জি আর ই দেয়। তবে প্রস্তুতিটা আগে নিতে পারলে চাকরিজীবনের প্রথমভাগেই এই স্কলারশিপ বাগিয়ে নিতে পারবেন। তবে বলে রাখা ভাল ২ বছর চাকরি কনফার্ম করে যাওয়াই উত্তম।

৪) সরকারের বিভিন্ন স্কলারশিপ রয়েছে যেমন পি এম ফেলোশিপ , স্ট্রেনদেনিং , অসএইড,জেডিএস ইত্যাদি। সরকারি স্কলারশিপ ছাড়াও আমাদের অনেক অফিসার নিজ উদ্যোগে স্কলারশিপ ম্যানেজ করতে পারেন এবং করেছেনও। এর কারণ হচ্ছে সিভিল সার্ভিস এ কাজ করা লোকজনের যে অভিজ্ঞতা হয় সেটি অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ছাত্রদের মধ্যে খুজে। সুতরাং আপনার এসওপি বা এল ও আর ভাল হলে আপনি সহজেই বৃত্তি পেতে পারেন যদি আপনার একটি ভাল আইইএলটিএস বা জিআরই স্কোর থাকে। যুক্তরাষ্ট্র পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রেই শুধু জিআরই লাগে। স্কলারিশপ এর জন্য সাধারণত আই ই এল টি এস এ ৬. ৫ লাগে। আর জিআরই এর ক্ষেত্রে ৩০৫ বা তার বেশি স্কোর হলে ভাল।

৫) প্রশ্ন আসে আপনি কোন বিষয়ে পড়তে ইচ্ছুক। আমার মতে আপনি পড়ার বিষয় বেছে নেয়ার সময় বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় মাথায় রাখা ভালঃ
১) ক্যাডার অরিয়েন্টেশন
২) নিজ ইন্টারেস্ট
৩) মাদার সাবজেক্ট
প্রশাসন সার্ভিস এর বেশিরভাগ সদস্য সধারণত অর্থনীতি, উন্নয়ন ,পরিবেশ,আইন, লোক প্রশাসন, পাব্লিক পলিসি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ,প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট,প্রকিউরমেন্ট প্রভৃতি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।

৬) সব শেষে বলতে চাই যে এই আধুনিক যুগে তাল মিলিয়ে চলতে হলে ভাল উচ্চশিক্ষার বিকল্প নেই। সিভিল সার্ভিস এর চাকরীতে অনেক পড়াশুনার প্রয়োজন যদি আপনি প্রকৃত অর্থেই দেশের সেবা করতে চান। আর আরেকটা ব্যাপার আমি সবসময় বলি সিভিল সার্ভেন্টদের সব সময় ভাষার উপর দক্ষতা বাড়ানো উচিত। বাংলা,ইংরেজির পাশাপাশি আরেকটি ভাষার শিক্ষা আমাদের সকলকেই উপকৃত করবে। মনে রাখবেন সিভিল সার্ভিস এর পরীক্ষা পাস করা মানে আপনার যাত্রার শুরু। এই যাত্রায় আপনাকে প্রতিনিয়ত শিখতে হবে যদি আপনি নিজের মান বজায় রাখতে চান।

ধন্যবাদ সকলকে।

পোস্টটি লিখেছেন:
Khan Mohammad Ishmam,
Assistant Commissioner and Executive Magistrate

28/04/2020

অনুপ্রেরণার গল্প-৫

জিরো থেকে হিরো: একটি অনুপ্রেরণার গল্প (সত্য ঘটনা অবলম্বনে) – সামাদ আজাদ
একটি চাকুরির ভাইভাতে ……

যুগ্ম সচিব : তুমি জান তুমি কোন পদের জন্য ভাইভা দিতে এসেছ?
প্রার্থী : জ্বি স্যার, আমি জানি। আমি স্টোর কিপার পদের জন্য ভাইভা দিতে এসেছি।
যুগ্ম সচিব : তুমি অর্থনীতি বিষয়ের উপর স্নাতকোত্তর পাশ করেছ। রেজাল্টতো খুব ভাল। তোমাকে দেখেওতো পরিশ্রমী মনে হয়। তুমি কেন এই ৩য় শ্রেণীর জবে আসতে চাও? (একটু উচ্চস্বরে)
প্রার্থী : স্যার, স্যার! খুব শীঘ্রই আমার একটা চাকুরি দরকার, খুব দরকার। আমার বাবা পঙ্গু, মা নেই। পঙ্গু বাবার চিকিত্সা করাতে পারছি না। টিউশন চালিয়ে আর পারছি না। পাস করে অনেকদিন বসে আসি। ঢাকায় এসে কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু কোথাও হচ্ছে না। একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছি।
যুগ্ম সচিব : হুম, হোচট খাওয়া মানে হেরে যাওয়া নয়, জয়ের অনিহা থেকেই পরাজয় শুরু হয়। তুমি আরো ভাল করে প্রস্তুতি নাও। আরো ভাল জবের জন্য, আরো ভালো কিছুর জন্য লেগে থাকো।
প্রার্থী : জ্বি স্যার, আমি চেষ্টা করছি।
যুগ্ম সচিব : তবে হচ্ছে না কেন? নিশ্চয়ই তোমার প্রস্তুতির ঘাটতি আছে, তাই না?
প্রার্থী : জ্বি স্যার।
যুগ্ম সচিব : এই দেখো, আমি তোমাকে ভাইভাতে জিরো দিলাম। জিরো মানে জিরো। এত বড় করে একটা জিরো দিলাম। এই পদে আছে শুধু কালো টাকা। এখানে একবার ঢুকলে তুমি হারিয়ে যাবে। নিজেকে আর খুঁজে পাবে না। আমি তোমাকে ফেল করিয়ে দিলাম।
প্রার্থী : স্যার, স্যার!
যুগ্ম সচিব : না, তোমাকে আমি এই জবে আসতে দিব না। আরো ভাল করে প্রস্তুতি নাও। বিসিএস, নন ক্যাডার, ব্যাংক বা অন্যান্য ভাল জবের জন্য চেষ্টা করো। আমার ভিজিটিং কার্ডটা রাখো। আর আমি মাঝে মধ্যে বেইলি রোড, অফিসার্স ক্লাব এ সময় দেই। কখনো প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করবে। যাও, এখন তুমি যাও। (মৃদু হেসে)
প্রার্থী : জ্বি স্যার! দোয়া করবেন স্যার। (কিছুটা আবেগ তাড়িত হয়ে)

৭/৮ মাস পর ……
আমি (সেই প্রার্থী) সোনালি ব্যাংক এ ‘সিনিয়র অফিসার’ পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলাম। সামনেই ভাইভা। যুগ্ম সচিব স্যারের কথা মনে পড়লো। বার বার ভিজিটিং কার্ড এর মুঠোফোন নম্বরে কল দিলাম। কয়েক দিন চেষ্টা করলাম। স্যার কে পেলাম না। এরপর ছুটে গেলাম বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে। কিন্তু কয়েকবার গিয়েও আমি স্যারকে পেলাম না। চতুর্থবার যখন গেলাম তখন ভাগ্য ফিরে তাকালো। অবশেষে স্যার কে পেলাম!!

যুগ্ম সচিব : কি খবর ইয়াং ম্যান? হাউ আর ইউ?
প্রার্থী : স্যার ভাল। স্যার, আমি একটি সরকারী ব্যাংক এ ‘সিনিয়র অফিসার’ পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আমি গত ৭-৮ টা মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। খুব সুন্দর করে নিখুঁতভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি। সামনে আমার ভাইভা। আমার জন্য দোয়া করবেন স্যার।
যুগ্ম সচিব : হুম, ঠিক আছে। তুমি ভাল করে ভাইভা দাও। নিজ সাবজেক্ট নিয়ে ভাল করে প্রস্তুতি নিয়ে যাও। আর তোমার admit card টা আমাকে mail করে দিও। আমি বলে দিব।
প্রার্থী : অনেক অনেক ধন্যবাদ স্যার। খুশি হয়ে ফিরে এলাম।
(আসলে যুগ্ম সচিব স্যার কিছুই করেননি, কোন সুপারিশই করেননি! কারণ উনি জানতেন, ব্যাংক ভাইভাতে মাত্র ২০-৩০ নম্বর থাকে। প্রায় সবাইকেই একটা গড় নম্বর দেয়া হয়। লিখিত পরীক্ষা ভাল দিলে থাকলে চাকুরিটা এমনিতেই হয়ে যাবে। আমি কেন উনার কাছে ছুটে গিয়েছিলাম, সেটা উনি ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই আমাকে একটু সান্তনা দেয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য। উনি আমার মনটা ভাঙ্গতে চাননি।)

কয়েক মাস পর ……
আমি সেই সরকারী ব্যাংক এ ‘সিনিয়র অফিসার’ পদে নিয়োগ পেলাম। স্যারকে জানালাম। স্যার খুব খুশি হলেন। স্যার জানতে চাইলেন, আমার next প্ল্যান কি? আমি বললাম, স্যার আমি ৩৪ তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার্থী। এটা শুনে স্যার আমাকে খুব ভাল করে লিখিত পরীক্ষা দেয়ার কথা বললেন। ৩৪ তম বিসিএস (লিখিত) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলাম। লিখিত পরীক্ষায়ও পাস করলাম। আমার ঢাকার বাহিরে পোস্টিং ছিল। তাই সরাসরি স্যারের সাথে দেখা করতে পারলাম না। এন্ড্রয়েড অ্যাপ - জব সার্কুলার

একদিন স্যারকে ফোন দিলাম ……
প্রার্থী : স্যার, আমি ৩৪ তম বিসিএস (লিখিত) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। অচিরেই আমার ভাইভা শুরু হবে।
যুগ্ম সচিব : ভেরি গুড, ইয়াং ম্যান! শোনো, মনোযোগ দিয়ে শোনো। ভাইভাতে খুব আত্মবিশ্বাস রাখবে। এতটুকু ঘাবড়াবে না। কেউই সব জানে না, কেউই সব পারে না। বিসিএস ভাইভাতে মেধার চেয়ে প্রার্থীর overall যোগ্যতা এবং ক্যাডার পদের জন্য প্রার্থীর suitability কতটুকু – সেটা বেশি গুরুত্বের সহিত দেখা হয়। সোজা কথা, যাকে দেখে বেশ উপযুক্ত মনে হবে, তাকে জিজ্ঞাসা করবে, “বারাক ওবামা কে?” আর যাকে একেবারেই উপযুক্ত মনে হবে না, তাকে জিজ্ঞাসা করবে, “বলো, বারাক ওবামার মায়ের নাম কি?”
প্রার্থী : জ্বি স্যার। আপনার কথাগুলো মনে থাকবে স্যার।

সেটা ছিল – ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সাল। ৩৪ তম বিসিএস এর ভাইভা দিলাম।
বোর্ড ছিল – শরিফ এনামুল কবির স্যারের। ভাইভাটা মন্দ হলো না।
অত:পর আগস্ট, ২০১৫ সাল। ৩৪ তম বিসিএস এর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষিত হলো।
বিসিএস (কর), সহকারী কর কমিশনার পদে নিজের রোল সুপারিশকৃত দেখলাম!.
আবেগে ভেসে গেলাম। চোখ দুটি জলে ভরে এল। আমিতো জানি, গত ৩-৪ টা বত্সর আমি কতটা কষ্টে দিনানিপাত করেছি। বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে কতরাত আমি নির্ঘুম কাটিয়েছি। একসময় আমার দু-চোখ শুধু আঁধারের রুপ দেখে নি:শেষ হয়ে যেত। চাকুরিতে আবেদনের টাকা টুকু ধার করতে হতো। এরপরও একের পর এক চাকুরির নিয়োগ পরীক্ষায় হেরে যেতাম। আজ আমি জয়ী। জিরো থেকে হিরো। স্টোর কিপার এর সেই ভাইভায় জিরো পেয়েছিলাম। সেই চাকুরিটা পাবার ব্যর্থতাই আজ আমার জীবনের বড় সফলতা।

স্যারের কথা খুব খুব মনে পড়লো।
মনটা বলে উঠলো,
‘তোমার দৃষ্টিসীমায় আশ্রয় পেয়েছিল আমার জীবনের দুঃসময়। আজ আমার সুসময়, বড় সুসময়।’

স্যার বলেছিলেন,
‘হোচট খাওয়া মানে হেরে যাওয়া নয়,
জয়ের অনীহা থেকেই পরাজয়টা শুরু হয়।’
লেখক:
সামাদ আজাদ
প্রাক্তন ব্যাংকার

26/04/2020

অনুপ্রেরণার গল্প-৪

একজন নোবডি থেকে সাত হাজার কোটি টাকার মালিক হবার গল্প!

আজ বলব মোহন সিং ওবেরয়ের গল্প। জন্ম পাকিস্তানের ঝেলুম জেলার ভানাউ নামক গ্রামে, এক শিখ পরিবারে। জীবনের একদম সূচনালগ্ন থেকেই তার জীবন ছিল চরম দারিদ্র্যতার করাঘাতে পিষ্ট। বয়স যখন সবে ছয় মাস, তখনই তার জন্মদাতা পিতা পরলোক গমন করেন। আর তখন থেকেই তাকে লালন পালন ও মানুষের মত মানুষ হিসেবে বড় করে তোলার সমস্ত দায়ভার বর্তায় একা তার মায়ের কাঁধে। গ্রামীণ এক অসহায় নারীর জন্য সে ভার বহন করা চাট্টিখানি কথা ছিল না। কিন্তু তারপরও তার মা তার প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন। অবশ্য এ ব্যাপারে আত্মীয়স্বজনদের কমবেশি সাহায্যও তিনি পান। গ্রামের স্কুলে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে মোহন চলে আসেন রাওয়ালপিন্ডিতে, সেখানে একটি সরকারি কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকেও তিনি বেশ কৃতিত্বের সাথে ডিগ্রি সার্টিফিকেট অর্জন করেন। সদ্য কলেজ থেকে পাশ করে বেরোনো মোহনের বুকভরা ছিল রাশি রাশি স্বপ্ন। আর তিনি ছিলেন খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী একজন ব্যক্তি। ভেবেছিলেন, ডিগ্রি সার্টিফিকেটের বদৌলতে খুব তাড়াতাড়িই বেশ ভালো একটি চাকরি জুটিয়ে ফেলবেন। কিন্তু স্বপ্নচারী মোহনকে বাস্তবতার রুক্ষ জমিনে পদার্পণ করতে হয় মাত্র কয়েকদিনের মাথায়ই। তার সামনে একে একে বন্ধ হতে থাকে সম্ভাবনার প্রতিটি দ্বার। কোথাওই চাকরি জোটে না তার। তখন এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি অমৃতসরে একটি টাইপিং কোর্সে যোগ দিলেন। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই বুঝতে পারলেন, এই কোর্স করেও তার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এদিকে শহরে থাকার মত টাকাপয়সাও আর খুব একটা অবশিষ্ট ছিল না তার পকেটে। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ফিরে যাবেন নিজের গ্রামে, মায়ের কাছে। বাস্তবিকই তিনি ব্যর্থ মনোরথে ফিরে আসেন গ্রামে। গ্রামে ফিরলে মোহনের এমন দুরাবস্থা দেখে চমকে যান এক দূরসম্পর্কের চাচা। দেন দরবার করে তিনি মোহনকে ঢুকিয়ে দেন তার পরিচিত এক লোকের জুতো তৈরীর কারখানায়। কিন্তু মন্দভাগ্য যেন এখানেও পিছু ছাড়ে না মোহনের। তিনি যোগ দেয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় ওই কারখানাটি। আবারও মুখ নিচু করে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন তিনি। এরই মধ্যে তার জীবনে আসে এক নতুন বাঁকবদল। কলকাতায় স্থায়ীভাবে বাস করা এক পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি। অবশ্য কলকাতায় বাস করলেও সেই পরিবারের আদি নিবাস আসলে মোহনদেরই গ্রামে। বিয়ের পর মোহন তার শ্যালকের সাথে পাকিস্তানের সারগন্ধায় থাকতে শুরু করে। মনে ক্ষীণ আশা, যদি কোন একটা চাকরি পাওয়া যায়। কিন্তু যতই দিন যেতে থাকে, আশার প্রদীপ ক্রমশই উজ্জ্বলতা হারাতে থাকে। আরও একবার তিনি ফিরে আসেন গ্রামে। কিন্তু এবার গ্রামে ফিরে যা দেখতে পেলেন তার জন্য তিনি একেবারেই প্রস্তুত ছিল না। তাদের পুরো এলাকা আক্রান্ত হয়েছে ভয়াবহ প্লেগ রোগের কবলে। সেটি এক মহামারী রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই ডজন ডজন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এই রোগের প্রকোপে। তার মা তাকে বলে অতিসত্ত্বর সারগন্ধায় ফিরে যেতে। ততদিনে বারবার ব্যর্থ হতে হতে মোহন পৌঁছে গিয়েছে অবসাদগ্রস্ততার চূড়ান্ত সীমানায়। নতুন করে তিনি কিছু শুরু করবেন, সেই ইচ্ছাশক্তিও যেন আর অবশিষ্ট ছিল না তার মধ্যে। এরকমই একটা সময়ে হঠাৎ একদিন পত্রিকার পাতায় তিনি একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান, একটি সরকারি অফিসে জুনিয়র ক্লার্ক পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। মোহন খুব বেশি চিন্তাভাবনা না করেই পত্রিকায় দেয়া সিমলার ঠিকানায় রওনা দিতে উদ্যত হলেন। তার পকেটে তখন ফুটো পয়সাটাও ছিল না। ঘর থেকে বেরোনোর সময় মা তার পকেটে ২৫ রুপি গুঁজে দেয়। সেটিই ছিল তার একমাত্র সম্বল। সিমলায় পৌঁছে সেখানকার অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখে যারপরনাই মুগ্ধ হয় মোহন। এমনকি সেখানকার রাস্তাঘাটগুলোকেও তার কাছে যেন ছবির মত মনে হতে থাকে। সেই ছবির মত রাস্তা ধরে মন্ত্রমুগ্ধের মত হেঁটে যাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎই সিসিল নামের চমৎকার একটি হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে পড়লেন মোহন, এবং সোজা চলে গেলেন সেই হোটেলের ম্যানেজারের কাছে। ম্যানেজার ছিলেন একজন সত্যিকারের আপাদমস্তক ভদ্রলোক। তার আচার ব্যবহারে প্রবলভাবে আকৃষ্ট হয় মোহন। লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে তার কাছে তুলে ধরে নিজের দুরাবস্থার কথা। তার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের কথাও জানাতে ভোলে না। তারপর অনুরোধ করে, যদি তাকে কোন চাকরি দেয়া যায়। ম্যানেজার ভদ্রলোকও সত্যি সত্যিই তাকে বিলিং ক্লার্ক পদে চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বসেন। শুরুতে বেতন ৪০ রুপি, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তা উন্নীত হবে ৫০ রুপীতে। মোহন ভেবে দেখে, সরকারি চাকরির তুলনায় এই চাকরিটিই তার জন্য অধিক লাভজনক। তাই হাসিমুখে তিনি এই চাকরিটিই লুফে নিলেন। হোটেল কর্তৃপক্ষ তাকে থাকার জন্য আবাসিক কোয়ার্টারও বরাদ্দ দেয়, যেখানে তিনি তার স্ত্রী ইরশান দেবীকে নিয়ে বাস করতে শুরু করে। অনেক সাধনার পর অবশেষে ভাগ্য মোহনের দিকে মুখ তুলে চেয়েছে। এ সুযোগ তিনি কিছুতেই হাতছাড়া করতে চান না। তাই নিরলস পরিশ্রম করে যেতে থাকলেন তিনি। নিজের সামর্থ্যের শতভাগ ঢেলে দিতে থাকলেন নিজের কাজে। পাশাপাশি তিনি যে টাইপিং আর স্টেনোগ্রাফিতেও অতিশয় দক্ষ, সেটিও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই টের পেয়ে যায় হোটেলের উপর মহল। তাই তাকে বিলিং ক্লার্কের পাশাপাশি ক্যাশিয়ার আর স্টেনোগ্রাফারের কাজও দেয়া হয়। এবং এই প্রতিটি কাজই তিনি করতে থাকলেন সুনিপুণভাবে। মোহন সকল কাজ এতটাই নিখুঁতভাবে করতে থাকে যে হোটেল কর্তৃপক্ষ বারবার তার কাজে চমৎকৃত হতে থাকলো, আর তাই তার বেতনও ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। এবং একটি পর্যায়ে তিনি পরিণত হলেন ওই হোটেলের অন্যতম কর্তাব্যক্তিতে। কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। হোটেলটি ছিল এক ব্রিটিশ দম্পতির। কয়েকবছর পর তারা সিদ্ধান্ত নেন হোটেলটি স্থানীয় কারও কাছে বেচে দিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাবেন। কিন্তু যার তার হাতে এতদিনের ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে গড়ে তোলা হোটেলটি ছেড়ে যেতে তাদের মন একদমই সায় দিচ্ছিল না। ততদিনে অবশ্য তারা করিৎকর্মা মোহনের কর্মদক্ষতা আর নেতৃত্বের গুণাবলি দেখে মুগ্ধ। তাই মোহনকেই তারা প্রস্তাবটি দিয়ে বসেন, মাত্র ২৫,০০০ রুপি হলেই মোহনের কাছে বিক্রি করে দেবেন হোটেলটি। তখনকার দিনে ২৫,০০০ নেহাত কম নয়। মোহন ইদানিং একটু সচ্ছলতার মুখ দেখেছে বটে, কিন্তু তাও এই বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হতে তার ঢের দেরি। কিন্তু সে চিন্তা করে দেখল, এই সুযোগ হাতছাড়া করাও হবে মস্ত বড় বোকামি। তাছাড়া জীবনে বড় কিছু করতে গেলে কিছুটা ঝুঁকি তো নিতে হবেই। নইলে অবস্থার উন্নতি হবে কীভাবে! তাই গ্রামে ফিরে গিয়ে পৈতৃক সকল বিষয়সম্পত্তি বন্ধক রাখলেন তিনি। এমনকি হাত দিলেন স্ত্রীর গায়ের গহনাতেও। সব মিলিয়ে ২৫,০০০ রুপি জোগাড় করতে সমর্থ হলেন শেষমেশ। এবং এভাবেই তিনি ১৯৩৪ সালের ১৪ আগস্ট সিসিল হোটেলের মালিকে পরিণত হন। সেই যে মোহনের জীবনে উন্নতির শুরু হয়, এরপর থেকে তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে তিনি কেবল উপরেই উঠেছেন, এবং ক্রমশ নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন নতুন নতুন সব মাত্রায়, সকলের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাত্র ২৫ রুপি পকেটে নিয়ে জীবনযুদ্ধে শেষবারের মত লড়াই করার মনোবাসনা নিয়ে ঘর ছেড়ে বের হওয়া মোহন একটা সময় গড়ে তোলে ওবেরয় গ্রুপ, বিশ্বব্যাপী ছয়টি দেশে যাদের আছে ৩৫টি বিলাসবহুল হোটেল। এবং সবমিলিয়ে ওবেরয় গ্রুপের সম্পদের পরিমাণ এখন ৭,০০০ কোটি রুপি। মোহন সিং ওবেরয়, ওবেরয় হোটেল, অধ্যবসায় মোহন সিং ওবেরয়ের এই গল্প আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় সেই হাল ছেড়ে না দেওয়া মাকড়সার কথা, সাতবার দেয়াল বেয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েও যে আশা ছেড়ে দেয়নি, আর তার ফল পেয়েছে অষ্টমবারে। একইভাবে মোহন সিং ওবেরয়ও প্রথম জীবনে বহুবার ব্যর্থতার বেড়াজালে বন্দি হয়েছেন। কিন্তু তিনি চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। এবং একটি মাত্র সুযোগ পেতেই সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছেন। আর তাই তো আজ তিনি ভারতীয় হোটেল ব্যবসায় এক কিংবদন্তীতুল্য নাম। আমরা যারা দুই-একবার নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েই ভাগ্যের দোহাই দিয়ে হাল ছেড়ে দিই, তারা কি পারি না মোহন সিং ওবেরয়ের জীবন থেকে শিক্ষা নিতে?

25/04/2020

অনুপ্রেরণার গল্প--৩

যারা প্রিলিতে ফেল করে নিজেকে মনে নিতে পারছেন না , হাল ছেড়ে দিচ্ছেন তাদের জন্য এ লেখা।

একজন লড়াকু সৈনিকের গল্প

যারা প্রিলিতে ফেল করে নিজেকে মনে নিতে পারছেন না , হাল ছেড়ে দিচ্ছেন তাদের জন্য এ লেখা
চাকরির Preparation ও সফলতা পাওয়ার অম্ল মধুর অভিজ্ঞতা।

পুলিশ অফিসার না প্রথমে একটা চাকরি পাব, মা-বাবা খুশি হবে, বোনকে পড়াশোনা করাবো এটাই চেয়েছিলাম। এর বেশি কিছু না। ভয় আমারও হত চাকরি হবে কি না। দ্রুত একটা চাকরি হোক, আমিও চাইতাম। সেটা হয় না, পরে বুঝলাম সময় লাগবেই। অনেকে বলত বাবা-মাকে আর কত কস্ট দিবা বেসরকারি জবে ঢুকে পড়। বলতাম বাপ-মা টা আপনার না আমার আমি জানি কস্ট কি? মা বলত তুই এত লোভ করিস না ব্যাটা, মাসে ১০০০০-১৫০০০ টাকার একটা চাকরি হলেই চলবে।মনে মনে বলতাম কেউ বেটি দিবে না আর তোমার বেটিটারে কেউ নিয়ে যাবে না।আর স্টার জলসা মার্কা হলে তো, ফাস গায়া মেরে ইয়ার?
যে পরীক্ষা গুলোতে অংশগ্রহন করেছিলাম-
1. Primary exam two times prelim fail. রেজাল্ট বের হল- লজ্জায় বলতাম proxy মারতে গেছিলাম।
2. ২০১৫ সালের জানুয়ারি Janata Bank AEO (without preparation) Question দেখেই crash prelim fail.
3. SEQAEP দুই দুই বার নিল না আমাকে। কেঁদেছিলাম কারণ ছোটবোন SSC পাস করল, কিভাবে কলেজে ভর্তি করাবো আর পড়াশোনার খরচ দিব।
4. পরিবার পরিকল্পনা prelim fail.
5. BCSIR senior scintific officer viva(feb 2015) fail. Viva board খুব নাস্তানুবাদ করেছিল।খুব রাগ হয়েছিল । এখন মনে হয় সেটাই দরকার ছিল।
6. Janata bank AEO-IT written pass but Aptitude test fail. খুব কস্ট হল। পাশের জন 30 second help করলে জব টা হয়ত বা হত।
7. Standard Bank viva-বলল ফুল মার্ক দিলেও জব হবে না। দেখি october (2017) মাসে appoinment letter পাঠাইসে রুমে পড়ে আছে।
8. Bangladesh Development Bank viva fail.(4-4-16) Viva বোর্ডে ঢুকেই Remand. রসায়নের ছাত্র ব্যাংকে কেন জব করবেন?? আমি বললাম স্যার বিজ্ঞানের ছাত্র ব্যাংকে প্রয়োজন আছে, তাছাড়া এটা তো রাস্ট্রীয় সিদ্ধান্ত।কিছুটা শান্ত হয়েছিল।কিন্তু আমি আরও অশান্ত হয়ে গেলাম।ভাবলাম written আরও ভালো করতে হবে।
9. NBR – 2015 viva fail. আনোয়ারা ম্যাডাম বলল 35th non cadre ওকে fail করাই দেন। মনে মনে বললাম বেতন তো সরকার দিবে, চাকরি টা দেন plz আর পারছি না।
10. দুদক AD prelim pass written attend করা হয়নি।
11. Bamgladesh bank AD, cash prelim pass written attend করা হয়নি।
12. RAKUB senior officer prelim fail. Very upset .
13. RAKUB officer viva(16-10-16) by Bangladesh Bank চুড়ান্ত ফলাফল Selected (6:20pm 22 may 2017)1st job বর্তমানে কর্মরত (dinajpur-setabganj).
14. Circle Adjutant – চূড়ান্ত ফলাফল মেধাতালিকায় 12th out of 302.
15. 35th BCS prelim 08.03.15 (1st BCS) non cadre- NBR (Result may 2017)
16. 36th BCS written&viva খুব ভালো হয়েছিল – ASP 49th merit
17. 37th BCS 1st choice police viva attend করি নাই।
বলা হয়নি Bangladesh Airforce two times 2015,2016 Red card-ISSB, DP বলেছিল আপনার সব ঠিক কিন্তু নিব না, BMA তে পারবেন না কঠিন training . তারপর 15 দিন মত মাথা কাজ করেনি। বাবা খুব খুব কস্ট পেয়েছিল। এন্ড্রয়েড অ্যাপ - জব সার্কুলার
তারপরও হাল ছাড়িনি , বারবার নিজেকে প্রমাণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি । তার ফলও পেয়েছি।
তাই যারা বারবার ফেল করছেন , তারা নিজের ভুল গুলো খোঁজার চেষ্টা করুন এবং সেগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করুন । হাল ছাড়বেন না । চাকরির বয়সের শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম টা চালিয়ে যান । যদি লক্ষ্য অটুট থাকে তাহলে সফলতা অবশ্যই দেখা মিলবে এ প্রত্যয় বুকে ধারণ করুন । আপনাদের জন্য শুভ কামনা রইল।
একজন লড়াকু সৈনিক

Md Rubel Haque
ASP , 36th BCS (Police ) Recommended (merit 49th)

24/04/2020

প্রিলির জন্য আমি যেভাবে এগিয়েছিলাম…
মো. মাসুদুর রহমান
সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট,
৩৭ তম বিসিএস

প্রথমত একটা কথা বলতে চাই – “সাকসেস হ্যাস নো শর্টকাট”,

কেউ একজন ১ সপ্তাহ পড়ে প্রিলি পাশ করে গিয়েছেন এরকম গল্প অনেকের মুখে শুনলেও বাস্তবে সেই লোকটির সাক্ষাত খুব কমই পাওয়া যাবে। তবে হ্যাঁ, শর্ট প্রিপারেশন নিয়েও যে কারো কারো হয়নি তা কিন্তু না, কেননা প্রিলিটা যতখানি না প্রিপারেশনের তার থেকেও কিছুটা বেশী আমি বলব যে ভাগ্যের প্রসন্নতা। যাই হোক কাজের কথায় চলে আসি। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে যে প্রিপারেশনগুলো আপনাদেরকে নিতে উৎসাহিত করবঃ
১। কোশ্চেন ব্যাংক সলভ করাঃ
এটা অবশ্যই করতে হবে, শুধু এন্সার না, ব্যাখ্যাসহ সবগুলো উত্তর ভালোকরে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে আমি ২টি বই ফলো করেছিলাম – অ্যাসিওরেন্স এবং প্রফেসর’স (২ বছরে ২ টা কিনেছিলাম)। সলভ করা প্রশ্নগুলো প্র্যাকটিস করবার জন্য আমি প্লে স্টোর থেকে বিসিএস এর কিছু এপ্লিকেশন নামিয়ে রেখেছিলাম, অবসর সময়গুলোতে সেই এপগুলোতে এক্সাম দিতাম। যে উত্তরগুলো ভুল হত সেগুলো বাসায় গিয়ে বই থেকে আবার ব্যাখ্যাসহ দেখে নিতাম।
২। বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিঃ
২-১। বাংলাঃ
ক। ড. সৌমিত্র শেখরের “বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য” নামে একটা বই ছিল, ১২০০ এর উপরে টিকা ছিল তখন ব্যাখ্যাসহ, যেটা শেষ করতে আমার সময় কম লেগেছিল এবং শেষ করার পরে কিছুটা আত্মবিশ্বাস পাচ্ছিলাম নিজের মধ্যে। একটা কথা বলে রাখি এখানে, বই এর সাইজ যত ছোটই হোকনা কেন, পুরো বই শেষ করতে পারার মধ্যে এক ধরনের সাইকোলজিক্যাল পজেটিভিটি কাজ করে, যেটা আমাকে অন্য আর একটা বই শেষ করার ব্যাপারে অনুপ্রেরণা দিত।
খ। সিলেবাস অনুযায়ী “৯ম-১০ম শ্রেণীর বাংলা বোর্ড ব্যাকরণ” বইটি পড়েছি, এখানকার সব টপিক পড়তে হবে না, শুধু যে টপিকগুলো থেকে আগের বছরগুলোতে প্রশ্ন হয়েছে সেটা দেখলেই হবে।
গ। মহসিনা নাজিলার “শীকর বাংলা ভাষা এবং সাহিত্য” বইটা এখন ভালো করেছে, সৌমিত্র শেখরের টিকা ভাষ্য-এর থেকে এটি কলেবরে বড়, তবে অনেক তথ্যবহুল এবং সহজে পাঠ উপযোগী একটি বই।
২-২। ইংরেজীঃ
ক। “English for Competitive Exam” এটার থেকে ভাল বই পাওয়া কষ্টকর ছিল, কিন্তু বইটা অনেক বড়, শেষ করবার মত সুযোগ হয়ে উঠেনি, তবে এর থেকে বেছে বেছে অনেকগুলো টপিকস পড়েছি, যেগুলো বেশ উপকারে দিয়েছে।
খ। “A Handbook on English Literature” এবং “An Easy Approach to English Literature For BCS Preliminary” বইদুটো ইতিহাস পার্টের জন্য খুবই ভাল কাজে দিয়েছে, তবে কেনার আগে অবশ্যই দেখে নিতে হবে আপেডেটেড প্রশ্নগুলোর ব্যাখ্যাসহ উত্তর দেয়া আছে কিনা।
২-৩। দৈনন্দিন বিজ্ঞানঃ
মূলত “MP3 দৈনন্দিন বিজ্ঞান” বইটাই পড়েছি তবে ইউটিউবের বিজ্ঞানের বেশকিছু ভিডিও আছে যেগুলো হেল্পফুল ছিল, পড়তে পড়তে যখন বিরক্ত লাগত একটা দু’টা গান শোনা/দেখার পর এই ভিডিওগুলো দেখতাম, বিশ্রামও হতো আবার পড়াও হয়ে যেত, তবে হ্যাঁ তথ্যের ভুলের ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকতে হবে এক্ষত্রে।
২-৪। কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তিঃ
বিএসসি টা সিএসই-তে হওয়াতে এটা আমার জন্য কিছুটা সহজ ছিল, তবে এক্ষেত্রে MP3 এর কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বইটা পড়েছি।
২-৫। মানসিক দক্ষতাঃ প্রিলি এবং রিটেনের জন্য একবারে কাজে দেয় এই বইগুলো, আমি অ্যাসিওরেন্স মানসিক দক্ষতা বইটা পড়েছি, তবে এক্ষেত্রে যারা আগে ডিফেন্সের আই.এস.এস.বি-এর প্রথম দিনটা পার করেছেন, তারা খুব সহজেই আগের প্রিপারেশন দিয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকতে পারবেন, তা নাহলেও খুব একটা সমস্যা হবে না, এই বিষয়টা তুলনামূলক সহজ এবং একটু মাথা খাটিয়ে পড়লে ভাল নম্বর পাওয়া সম্ভব। এন্ড্রয়েড অ্যাপ - জব সার্কুলার
২-৬। ম্যাথঃ
ক। “MP3 Math Review” বইটা পড়েছি
খ। নীলক্ষেতে কিছু ম্যাথ শর্টকাটের বই খুঁজে পেয়েছিলাম, যেটা তাড়াতাড়ি উত্তর খুঁজে পেতে হেল্প করেছে অনেকটা, এমুহুর্তে নামগুলো ঠিক মনে পড়ছেনা।
গ। রবি ১০ মিনিট স্কুলস এর ম্যাথ টিপিস ভিডিওগুলো অবসরে অবশ্যই দেখবেন, এগুলো বেশ কাজে দিয়েছিল আমার।
বলে রাখা ভাল, যারা ম্যাথে দুর্বল, শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে কখনই আগে ম্যাথে হাত দিয়ে নিজেকে হতাশ করবেন না (১৫-তে ২-৩ কিছু না পড়ে পাশের জনার কাছ থেকে শুনেও পাওয়া যায় – যদি কপাল ভাল থাকে এতেও চলবে)।
২-৭। বাংলাদেশঃ
ক। MP3 বাংলাদেশ বইটা পড়েছিলাম
খ। ডেইলি একটা নিউজ পেপারের বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক এই দুটো সেকশন পড়তে পারলে সেটা আপনাকে প্রিলি, রিটেন এবং ভাইভা সব ক্ষেত্রে উপকার দেব।
২-৮। আন্তর্জাতিকঃ
ক। MP3 আন্তর্জাতিক বইটা পড়েছিলাম
খ। সাইন্সের স্টুডেন্টদের কাছে এই দিকটা সব সময়ই বিপদের, এজন্য বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক এই দুটোর জন্য আর একটা কাজ করতাম আমি, মডেল টেস্টের তিনটা বই ছিল আমার, সেই বইগুলোর এই সেকশনের প্রশ্নগুলো বারবার দেখতাম।
২-৯। ভূগোলঃ অ্যাসিওরেন্স
২-১০। নৈতিকতাঃ অ্যাসিওরেন্স
৩। নিজেকে যাচাই করাঃ
ক। ৩৭ এর প্রস্তুতির শুরু থেকেই আমি চেষ্টা করতাম সপ্তাহে ৩/৪ টা মডেল টেস্ট দিয়ে নিজের প্রস্তুতিটা যাচাই করার, এক্ষেত্রে আমি শুধু সঠিক দাগানোর প্র‍্যাকটিস করতাম, শুরুতে যেটা ২৫-৩০ দিয়ে শুরু হয়েছিল সেটা শেষ পর্যন্ত ১৪০-১৫০ সঠিক দাগানোতে আনতে পেরেছিলাম।
খ। প্রিলির একমাস আগে থেকে ডেইলি ৩০-৪০মিনিটে একটা করে মডেল টেস্ট দিতাম। ৩টা বই ছিল – অ্যাসিওরেন্স, প্রফেসর’স, জ্ঞানদ্বিপ এর।
এছাড়াও, ডাইজেস্ট ছিল অ্যাসিওরেন্স এর তবে শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে - "প্রফেসর'স এর বিশেষ সংখ্যাটা" শেষ করেছিলাম, খুবই হেল্পফুল ছিল বইটা।
আমার ব্যাপারে কিছু প্রশ্নের উত্তরঃ
# # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #
১। এটা আমার তৃতীয় প্রিলি ছিল – ৩৫, ৩৬, ৩৭ (শুধুমাত্র এটাতেই পাশ করেছি)
২। প্রিলির জন্য কোন কোচিং করতে পারিনি, সুযোগ থাকলে হয়ত করতাম, তবে রিটেনের জন্য কোচিং করেছিলাম।
৩। ২০০৯ থেকে জব করছি, তাই জব ছেড়ে দিয়ে প্রিপারেশন নেবার মত ইচ্ছা থাকলেও, আর্থিক টানা পোড়ন দেখাদিলে সেটাতে মানসিকভাবে চাপে পড়ে যেতে পারি ভেবে আর সে পথে আগাইনি, তবে হ্যাঁ ৩৭ মাসের দীর্ঘ পথ চলার মাঝে মানসিক অবস্থার অনেক পরিবর্তন ঘটে থাকে, তাই জবের পাশাপাশি প্রিপারেশন নিতে পাড়লে সেটা সব থেকে উত্তম (যদি জবের পরিবেশটা ভাল হয় তবে)।
৪। যেভাবে পড়তামঃ
ক। ৯-৬ টা অফিসের পর বাসায় এসে (বাসা খুব কাছে ছিল অফিসের) ২ঘন্টা ঘুম দিয়ে রাত ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত চেষ্টা করতাম পড়ার। একদিন ২ ঘন্টা, অন্যদিন ৮ ঘন্টা এভাবে পড়াটা আমার পছন্দ ছিলনা, সবাইকে আমি এটাই বলি যেটাই করবেন একই ভাবে কন্টিনিউ করবেন (মিনিমাম ৩ থেকে ৪ মাস), তাহলে অবশ্যই সেটার পজেটিভ ইমপেক্ট আপনি দেখতে পাবেন ইনশাআল্লাহ।
খ। কালো কালির বই লাল বা নীল কালির কলম অথবা হাইলাইটার দিয়ে মার্ক করে রাখতাম
গ। একি টপিকস টানা না পড়ে, প্রতি সাবজেক্টের ম্যাক্সিমাম ১৫-২০ পেজ পর্যন্ত পড়তাম একটানা – উল্লেখ্য, মুখস্থ বিদ্যায় আমি খুব ভাল না হবার কারনে আমি মুখস্থ করবার জন্য ব্রেনের উপর চাপ না দিয়ে, যে বিষয়গুলো মনে রাখতে কষ্ট হতো সেগুলো ২/৩ দিন পরপরই রিডিং পড়ার মত করে দেখতাম, সব না, শুধুমাত্র হাইলাইট করা অংশগুলো।
ঘ। সাইন্স এবং সিএসই ব্যাকগ্রাউন্ডের হবার কারনে – বিজ্ঞান, আইসিটি, ম্যাথ, মানসিক দক্ষতা এগুলের মার্ক যতটা বাড়ানো যায় সে টার্গেট ছিল সবসময়, এখানে একটা ব্যাপার আছে, পুরানো প্রশ্নগুলো এক্সাটলি রিপিট না হলেও সেম প্যার্টানের প্রশ্ন অনেক আসে, এছাড়াও ঐ বছরের বিভিন্ন গভঃ পরীক্ষার প্রশ্নের সাথে প্রশ্নগুলোর অনেক মিল পাওয়া যায় (বিষয়টা কাকতালীয় না, আমার অভিজ্ঞতা থেকেই আমি এমন মিল খুজে পেয়েছি)।
ঙ। শেষ যে কাজটা আমি করতাম – ৩৫ এর পর কোন প্রিলিই আমি ঢাকাতে দিতাম না কেননা খুলনাতে আমাদের বাসা, খুলনার সুবিধাগুলো হল এখানে যানযট নেই, হলের পরিবেশ যথেষ্ট ফ্রেন্ডলি পেয়েছি, আর রিটেন বিগত ৪/৫ টা বিসিএস একই সেন্টারে হচ্ছে, যেটা আমার বাসা থেকে ১০ মিনিটের পথ মাত্র। যাদের এটলিস্ট যানজট এড়ানোর এই সুযোগটা আছে তারা এটা অবশ্যই নিতে পারেন।

পরিশেষে এটাই বলব, বিসিএস একটি স্বপ্নের নাম, এই চলার পথটা যেমন অনেক দীর্ঘ, তেমনি এই পথে প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে অনেক, আপনার পথের প্রতিবন্ধকতাগুলোকে আপনার নিজের কৌশলেই অতিক্রম করতে হবে, অন্যের দেখানো পথটাই যে আপনাকে অনুসরন করে চলতে হবে ব্যাপারটা কখনই এমন নয়, বরং আমি মনে করি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শেষ গন্ত্যবে পৌঁছানো যাদের একমাত্র লক্ষ্য তারা নিজেরাই তাদের কৌশল ঠিক বের করে নিতে পারে।
ভালবাসা এবং শুভ কামনা সবার জন্য।

24/04/2020

বিসিএস ক্যাডার আর একজন রাইসার গল্প…

শারমিন আক্তার রাইসার জন্ম ১৬ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। বাবা মো. আনিসুর রহমান, মা সেলিনা রহমান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ৩৬তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে গৌরীপুর মুন্সি ফজলুর রহমান সরকারি কলেজে যোগদান করেন। তার স্বপ্ন ও সফলতার গল্প শুনিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাহিদ হাসান— আপনার ছোটবেলা কেমন কেটেছে? শারমিন আক্তার রাইসা: ঢাকায় বাবার নিজস্ব ব্যবসা ছিল। ফলে ঢাকায়ই বড় হয়েছি। আমার খালু সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর উত্তরসূরি ছিলেন। তাই আমার ছোটবেলা কেটেছে সাংস্কৃতিক আবহে। ছোটবেলা থেকেই সংগীতচর্চা, খেলাধুলা, ছবি আঁকা খুব পছন্দ করতাম। দাদা বাংলাদেশ বেতারে চাকরি করতেন। সে সুবাদে ছোটবেলায় আমি এবং আমার ছোট বোন বেতারে ছোটদের অনুষ্ঠানে প্রায়ই গান গাইতাম। আমার বাবা পড়ালেখা করার তেমন সুযোগ পাননি। তাই আমাদের পড়াশোনা করানোর প্রতি তার আগ্রহ ছিল

অনেক। তিনি স্বপ্ন দেখতেন আমরা পড়ালেখা করে একদিন অনেক বড় হবো। পড়াশোনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল কি? স্বপ্নের মঞ্চে পৌঁছতে আপনার বিশেষ দিকগুলো— শারমিন আক্তার রাইসা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগে ৩য় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত অবস্থায় আমার বাবা হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান। বাবাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। ফলে তার মৃত্যুর পর মায়ের জন্য পাঁচ ভাই-বোনের পড়ালেখার ব্যয়সহ পুরো সংসারের হাল ধরা অনেক কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমি পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় আমাকেও এ পর্যন্ত আসতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। নিজের এবং পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য টিউশন করেছি। তবুও বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পড়ালেখা থেকে নিজেকে কখনো সরিয়ে রাখিনি। অনার্সে সিজিপিএ ৩.৫৯ পেয়ে ক্লাসে ৩য় স্থান এবং মাস্টার্সে সিজিপিএ ৩.৭৫ পেয়ে ২য় স্থান অর্জন করি। ক্লাসে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হওয়ার সুবাদে ডিপার্টমেন্ট থেকে বৃত্তি পেয়েছিলাম, যা আমার জন্য ছিল অনেক বড় একটি অনুপ্রেরণা বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে? শারমিন আক্তার রাইসা: আমাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন আমার বাবা। বাবার ব্যবসার সুবাদে অনেক সচিবদের সাথেই তার পরিচয় ছিল। তখন থেকেই তিনি আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন। উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় একদিন বাবা আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। সত্যিকার অর্থে তখন আমার কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল না। সেদিন প্রথমবার বাবা বলেছিলেন, ‘আমি চাই তুমি

বিসিএস ক্যাডার হও। মানুষ যেন আমাকে দেখে বলে, ইনি হলেন একজন বিসিএস ক্যাডারের বাবা।’ বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই— শারমিন আক্তার রাইসা: যেদিন প্রথম বাবার মুখে আমাকে নিয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নের কথা শুনি; সেদিন থেকেই আমার বিসিএস যাত্রা শুরু। একজন হোম টিউটরের কাছ থেকে বিসিএস ক্যাডার কীভাবে হয়, সে সম্পর্কে জানি। তিনি বলেন, আমি যদি বিসিএস ক্যাডার হতে চাই—প্রথমে আমাকে ইন্টারে একটি ভালো ফলাফল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে হবে। কেননা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিসিএস ক্যাডার হন। সেই থেকে টার্গেট নিয়ে পড়াশোনা করি। যথারীতি ইন্টারে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৯০ পাই এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগে ভর্তি হই। অনার্সের শেষ বর্ষ থেকে ডিপার্টমেন্টের সহপাঠীরা মিলে বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করি। বিসিএসের পুরো সিলেবাসকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে টার্গেট নিয়ে অনুশীলন করি। নিজেদের উদ্যোগে সাপ্তাহিক পরীক্ষা দিয়ে সেল্ফ এসেসমেন্ট করি। যেটা সত্যিই অনেক কাজে দিয়েছিল। ৩৫তম বিসিএস ছিল আমার প্রথম বিসিএস। সেবার সর্বকালের কঠিন প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়ে টিকে যাই। কিন্তু রিটেনে অকৃতকার্য হই। তবুও

আশা ছাড়িনি। ৩৫তম বিসিএসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ৩৬তম বিসিএসে অংশ নিয়ে প্রিলিমিনারি, রিটেন ও ভাইভা পাড়ি দিয়ে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। বর্তমানে কোথায় কর্মরত আছেন? শারমিন আক্তার রাইসা: ৩৬তম বিসিএসে (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর মুন্সি ফজলুর রহমান সরকারি কলেজে যোগদান করি। বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছি। শিক্ষা ক্যাডারে যারা আসতে চান তাদের জন্য পরামর্শ— শারমিন আক্তার রাইসা: তাদের জন্য আমার প্রথম পরামর্শ হলো শিক্ষা ক্যাডার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এবং এ ক্যাডারে সম্ভাবনার দিকগুলো ধারণ করুন। দ্বিতীয়ত, আপনি যে ক্যাডারেই আসতে চান না কেন, আপনাকে মাথায় রাখতে হবে বিসিএস হলো একটি ধৈর্যের নাম। পরিশ্রম, মেধা এবং ভাগ্যের সমন্বয়েই একজন বিসিএস ক্যাডার হয়ে ওঠেন। তাই আপনি যে ব্যাকগ্রাউন্ডেরই হোন না কেন নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখুন। ৩৫তম বিসিএস থেকে যেহেতু বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নধারা পরিবর্তিত হয়েছে। তাই বলছি, নিজের বেসিকের উপর জোর দিন। ইংরেজি, গণিত এবং বিজ্ঞান বেশি বেশি প্র্যাকটিস

করুন। অনার্সে নিজ অধীত বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করুন। দৈনিক বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা, টেলিভিশন নিউজ কিংবা ফেসবুক বিসিএস গ্রুপগুলো থেকে সাম্প্রতিক বিষয় সম্পর্কে জানুন। যা জানবেন, বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন। কেননা বিসিএসে শর্টকার্টের দিন শেষ। অবশ্যই প্রতিদিন রুটিন করে এবং টার্গেট নিয়ে স্টাডি করুন। এক্ষেত্রে গ্রুপ ডিসকাশনও অনেক কাজে দেবে। তাই একটি গ্রুপ করে টার্গেট নিয়ে স্টাডি করুন। আপনার পরিচিত বিসিএস ক্যাডারদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। কেননা তাদের অভিজ্ঞতাও আপনাকে টার্গেট সেট করতে সহায়তা করবে। নিয়মিত স্পোকেন ইংলিশ প্র্যাকটিস করুন। সর্বশেষ বলবো, বেশি বেশি স্বপ্ন দেখুন যে, স্বপ্ন আপনাকে ঘুমাতে দেবে না, কেবল জাগিয়ে রাখবে। কারো কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন কি? শারমিন আক্তার রাইসা: আমার প্রথম অনুপ্রেরণা আমার বাবা। এছাড়া আমার মা, ভাই-বোন, স্বামী, বন্ধু, শিক্ষকরাও আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? শারমিন আক্তার রাইসা: স্বপ্ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। স্বপ্ন দেখি শিক্ষা সচিব হওয়ার। এজন্য নিজেকে আরও যোগ্য করে গড়ে তুলতে চাই। ভবিষ্যতে পিএইচডি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Want your school to be the top-listed School/college in Amman?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Amman