20/09/2026
মাঠের বাঁশি বাজুক, মোবাইল নয়—আমাদের কৈশোর ফিরে আসুক খেলার মাঠে! 📱⚽
চারপাশে ঘটে চলা অপ্রত্যাশিত আর মর্মান্তিক সংবাদগুলো আমাদের প্রতিনিয়ত ব্যথিত করে। একটু গভীরভাবে খেয়াল করলেই দেখা যায়, এর পেছনে বড় একটা কারণ হলো আমাদের তরুণ ও কৈশোর বয়সী প্রজন্ম ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে।
আজ যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে রূপ নেওয়ার কারণে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ অনেকখানি কমে গেছে। কর্মব্যস্ত বাবা-মায়ের পক্ষে তদারকি করার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। আর এই সুযোগেই শখের বসে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ইন্টারনেটযুক্ত মোবাইল ফোন। ফলশ্রুতিতে তারা জড়িয়ে পড়ছে অনলাইন আসক্তি, ধূমপান ও মাদকের মতো ভয়ংকর অপরাধে।
আমাদের শৈশব-কৈশোরে শিক্ষকদের উপদেশ, ধর্মীয় অনুশাসন আর পাড়ার মাঠের খেলাধুলা আমাদের সঠিক পথে রাখত। ধানের ক্ষেত থেকে ফাঁকা জায়গা—যেখানেই পেতাম, সেখানেই মেতে উঠতাম ক্রিকেট বা ফুটবলে। অথচ বর্তমানের চিত্রটা একদম আলাদা। গ্রামেগঞ্জে এখন আর খেলার মাঠ নেই, মাঠের অভাবে ছেলেমেয়েরাও খোঁজে না খেলার দুনিয়া। তাদের একমাত্র সঙ্গী হয়ে উঠেছে মুঠোফোন।
তবে সম্পূর্ণ আশাহত হলে চলবে না। কিছুদিন আগে দেশ থেকে আসার সময় এক ছোট ভাই খেলার জন্য একটি ফুটবল চেয়েছিল, সেটি আমি যত্ন করে রেখেও দিয়েছি। তরুণ সমাজকে আবারও মাঠে ফেরানোর এই ছোট্ট চেষ্টাটুকুই আমাদের বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
💡 প্রয়োজন একটু সচেতনতাঃ
👉সন্তান কার সাথে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে—তার খোঁজ নিন।
👉মোবাইল ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার রোধে অভিভাবক হিসেবে নজরদারি বাড়ান।
👉সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন।
👉এলাকায় খেলার মাঠের ব্যবস্থা ও সঠিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করুন।
পিতা-মাতা হিসেবে সন্তানের মূল দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। আমরা যদি দায়িত্ব পালন না করি, তবে এই সমাজ ও রাষ্ট্র তার মতো করে দায়িত্ব নেবে—যার ফলাফল কারও জন্যই সুখকর হবে না।
আসুন, যুব সমাজকে মোবাইল ও অপরাধের জগত থেকে ফিরিয়ে এনে আবারও সবুজ মাঠে ফিরিয়ে নিই।অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো আমাদের আর যেন ব্যথিত না করে। সঠিক আইনের প্রয়োগ হোক, অপরাধীদের বিচার হোক।
🌿 ফিরে আসুক প্রাণোচ্ছল কৈশোর, মুখরিত হোক আমাদের খেলার মাঠ!