22/12/2023
#ইসলামিকগল্প,
গল্প :- #দ্বীনদার মেয়ে
#সাঈদ আহমদ নিরব
------------------
#পর্ব ( 1)
শীতের সকাল। চারিদিকে ঘন কুয়াশার আবছা অন্ধকার। দূরের জিনিস গুলো খুব একটা নজরে আসে না। রাস্তায় লোকজনের চলাফেরা শুরু হয়নি বলেই চলে। তবে নানা প্রজাতির পাখির কাছ থেকে সে গাছে ছোটাছুটি করছে। এদিকে দূর্বাঘাসেরা কুয়াশার বাড়িতে স্নান করছে।তাদের গায়ে জমে থাকা শিশির কণা সূর্যের বিকিরণে মুক্তার দানার মত ঝলমল করছে। কিন্তু এদিকে সুমাইয়ার কোন খেয়াল নেই। শীত সবাই কে হার মানাতে পারলেও তাঁকে পারিনি। সে আঁকাবাঁকা মেঠো পথ হেঁটে চলেছে অবিরাম। সম্মুখপানে এগিয়ে যাচ্ছে নিজ গতিতে। ভাবখানা এমন যেন খুব ব্যস্ত।পূর্ব আকাশে সূর্য বিকশিত হওয়ার পূর্বেই সে পৌছাতে চাই তার গন্তব্যে। ছোট্ট মেয়ে সুমাইয়া। হাঁটতে হাঁটতে হাঁপিয়ে উঠেছে। নেই কষ্টের কোন চিহ্ন ও। তার সুন্দর মুখে শোভা পাচ্ছে তৃপ্তির হাসি। সুমাইয়ার পুরো নাম সুমাইয়া আক্তার আশা। বয়স সাত বছর। বাবা-মার একমাত্র সন্তান। তাকে নিয়েই তাদের সকল স্বপ্ন সকল আশা। তাইতো তার নামের শেষে আশা শব্দটি যুক্ত করেছেন তারা। সুমাইয়ার মাতার নাম রোকিয়া বেগম । তিনি একজন গৃহিণী। সাদা মনের মানুষ। লেখাপড়া তেমন জানেন না। তবে নামাজ রোজার ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। সুমাইয়ার পিতার নাম আব্দুল্লাহ। তিনি খুব অমায়িক লোক, দ্বীনদারীর দিক দিয়ে গ্রামের সবার চেয়ে এগিয়ে, নিজে আলেম নন, কিন্তু আলেম-ওলামাদের সাথে অনেক বেশি অন্তরঙ্গ। ওয়াজ মাহফিলে ও যাতায়াত করেন,তিনি আলেম ওলামাদের পবিত্র জবানের কোরআন-হাদিসের যে আলোচনায় শোনেন তাই আমলে আনার চেষ্টা করেন। একবার এক আলেমের মুখে শুনে ছিলেন, মুসাফির ও পথিক দেশের সেবা করা অনেক বড় মাপের কাজ। এ কথা শোনার পর তিনি তার বাড়ির সামনে রাস্তার পার্শ্বে একটি বিশ্রামাগার বানিয়ে দিয়েছেন, এ পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ক্লান্ত পথিকরা যেন এখানে বসে একটু আরাম করতে পারেন,।রোকিয়া বেগম ও আব্দুল্লাহ সাহেবের মনের লালিত স্বপ্ন তাদের আদরের একমাত্র কন্যা সুমাইয়াকে পবিত্র কোরআন শরীফের হাফেজা বানাবেন,আব্দুল্লাহ সাহেব একবার এক মাওলানা সাহেবের মুখে শুনেছিলেন হাদীস শরীফে আছে যে ব্যক্তি কোরআন শরীফ পড়ে এবং তার তদনুযায়ী আমল করে, তাকে কিয়ামতের দিন একটি নূরের তৈরি তাজ পরানো হবে এবং তার পিতা-মাতাকে দুটি নূরের তাজ পরানো হবে।
তখন তার পিতামাতা বলবে হে আল্লাহ , এই তাজ কিসের বদলে? ত