20/05/2026
✅✅ দীর্ঘ আড়াই বছর পর পরীক্ষা হচ্ছে। আর এই আড়াই বছরে তুমি যদি পেছনে ফিরে দেখো, তুমি দেখতে পাবে, অনেক মানুষ চলে গেছে, অনেক আড্ডা ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে গেছে, অনেক নম্বর থেকে রিং আসা বন্ধ হয়ে গেছে, কিছু পরিচিত মুখ আর দেখা যায় না, কিছু পুরোনো অভ্যাস তোমারও হারিয়ে গেছে।
অথচ এই মিড নাইট ডেস্কের ধারে অপেক্ষা আর ভবিষ্যত ছোঁয়ার কল্পনা করতে করতে পরীক্ষার কয়েকটা সপ্তাহ আগের রাতগুলোতে তোমার আত্মজাগরণ একই রয়ে গেছে। তুমি আসলে বহু স্মৃতি থেকে দূরে সরে এলেও, স্মৃতিদের ভিড় তোমার এই চৌক ঘরের কোণে, একলা এই সাময়িক আয়োজনে উঠে আসে। প্রতিবার। বারবার। লাগাতার।
তুমি দেখেছো, বাঁশি বাজিয়ে বন্দর ছেড়ে গেছে দিনের শেষ জাহাজ। ফেরিঘাটের মতো একলা পরে আছে পথ। ঝরেছে কিছু পাতা। এই মাঝরাতে জানালা দিয়ে দেখতে পাচ্ছ পরিচিত গলি, দেওয়াল যেখানে কোলাহল করত কিছু পরিচিত মুখ, তারা আজ যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেছে। আর আসে না। শুধু তুমি টিকে আছো। একা লড়ে যাচ্ছ এখনো।
সামাজিকতা, লোকাচার থেকে দূরে, বহু বছর একটা স্তব্ধ আড়াল বানিয়ে নিয়েছো নিজের। যত রাত নামে, স্মৃতিরা চুঁইয়ে পড়ে অন্ধকার থেকে, তুমি উদাসীন হয়ে পড়ো আবার। পাতার ওপর, খাতার ওপর আলো পড়ে, তোমার খেয়াল উদাস হয়ে যায়। এবার পারতে হবে বলে নয়, প্রতিবারই পারতে হবে বলেও পেরে ওঠো না বলে।
এসব লড়াই বুঝবে না বাইরের কেউ। যারা চেয়ারটা পেয়ে যায়, সেখানে ভিড় খুব। তোমার গলিটা ফাঁকা,। পিডিএফে এখনো ওঠেনি তোমার নাম। ওটাই যেন একমাত্র তোমার দাম।
তাই একেবারেই নিজেকে দোষ দিও না। মাঝেমাঝে এমন উদাস হওয়া ভালো। মাঝেমাঝে নিজেকে মনে করানো ঠিক, যে অনেক কিছুই ঠিক নেই, তবুও তুমি ছেড়ে যাওনি পথ। কথা না দিলেও, তুমিও জানো, পারতে হবেটাই তোমার শপথ।
আর কিছুই খোয়ানোর নেই। অবশিষ্ট অর্জন তাই শুধু সমস্ত শূন্যতার ভেতর তোমাতেই। আর একটু। তুমিও জানো পেরে যাবে। আর এই সমস্ত খেয়ালি স্মৃতি, সেদিন সেরে যাবে।
সেরে যাও। পেরে যাও।
লেগে থাকো। জেদে থাকো। 🎯
© অরিন্দম দে