05/06/2022
ভবিষ্যতের জন্য
মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে। অনেকেই ভাবছে কি নিয়ে পড়বো? আর্টস কমার্স না সায়েন্স? প্রচিলত ধারনা অনুযায়ী সায়েন্স পড়লে প্রচুর সুযোগ, তারপর কমার্স সবশেষে আর্টস। মাঝখানে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে শিক্ষক নিয়োগের ফলে আর্টসের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছিল। ভূগোল, সংস্কৃত নেবার জন্য কাড়াকাড়ি পড়ে যেত। বাংলা, ইতিহাস, পল সায়েন্স, ফিলোজফি নিয়ে বহু সাধারন ছাত্র ছাত্রী টিচার হতে পেরেছিল। তখন কমার্সের থেকে আর্টসের চাহিদা বেড়েছিল । বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্টসের চাহিদা আবার কমেছে। তবে যুগ বদলেছে। গতে বাঁধা চাকরি ছাড়াও এখন অনেক নতুন রাস্তা খুলেছে। যেগুলি আমরা সব জানিনা। তবে কোর্সের নাম গুলি জানা থাকলে আগে থেকে খোঁজ খবর নেওয়া যাবে। দুদিন পর উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরোবে। এইসব ভেবেই একটু ধারনা দেবার চেষ্টা করলাম। ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা। তথ্যে ভুল থাকলে ধরিয়ে দেবেন।
প্রথমেই আসি সায়েন্সের বিষয়ে। সায়েন্সের মধ্যে পিওর সায়েন্স। যাতে মেন সাবজেক্ট থাকবে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি,অংক।আর থাকে বায়োলজি বা কম্পিউটার সায়েন্স ইত্যাদি থাকে চতুর্থ বিষয় । এইটা পড়ে Engineering (B.E/ B.Tech), B.Arch, Integrated M.Sc Defence (Navy, Army, Airforce), Bachelor of Pharmacy, Bachelor in Computer Applicatio, Bachelor in naval architecture and ocean engineerin, Commercial Pilot course, Merchant Navy courses, B.Sc. Physics, B.Sc. Maths, B.Sc. Chemistry, Aircraft Maintenance Engineering.
যাদের অংকে ভীতি। তারা নিতে পারে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি। এগুলিতে শিক্ষকতার সুযোগের পাশাপাশি, মেডিকেল সম্পর্কিত ক্যারিয়ার অনুসরণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এটি সেরা পছন্দ। এই বিষয়ে পড়ে ভবিষ্যতে যেদিকে যাওয়া যায়। MBBS, BAMS (Ayurvedic), BHMS (Homoeopathy) , BUMS (Unani), Bachelor of Veterinary Science & Animal Husbandry (B.VSc AH), Bachelor of Naturopathy & Yogic Science (BNYS),, Bachelor of Physiotherapy, Bachelor of Pharmacy, Bachelor of Occupational Therapy, General Nursing, Biotechnology, Paramedical Courses, BMLT (Medical Lab Technology), Integrated M.Sc, B.Sc. Botany, B.Sc. Zoology, B.Sc. Nursing, B.Sc. Anthropology, B.Sc. Radiography, B.Sc. Dairy Technology, B.Sc. Nutrition and Dietetics,
B.Sc. Home Science, B.Sc. Speech and Language Therapy, B.Sc. Rehabilitation Therapy, B.Sc. Occupational Therapy, B.Sc. Medical Technology, B.Sc. Audiology, B.Sc. agriculture, B,sc microbiology , Biochemistry. একটা বিষয় মনে রাখতে হবে সায়েন্স নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর চাইলে কমার্স বা আর্টসের কিছু সাবজেক্ট নিয়ে পড়া যায়। অন্য স্ট্রিম থেকে সায়েন্সে আসা যায় না।
এরপর আসি কমার্স বা বানিজ্য বিভাগের আলোচনায়। এই বিভাগে যে সাবজেক্ট গুলি নিতে পারে Economics, Accountancy, Business Studies, cost-tax, Commercial law. এই বিভাগে পড়ে পরবর্তী কালে অনেক সুযোগ থাকে। B. Com in Accounting and Commerce, BBA (Bachelor of Business Administration), BMS (Bachelor of Management Studies), BBS (Bachelor of Business Studies), BCA (IT and Software), Chartered Accountancy (CA), Company Secretary (CS), Integrated Law Program (B. Com LLB and BBA LLB).
এরপর রইলো আর্টস বা কলা বিভাগ। আর্টসে পড়লে একটা বড় সুযোগ থাকে শিক্ষকতা বা অধ্যাপনা করার। আগেই বলেছি স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে প্রচুর আর্টসের স্টুডেন্ট শিক্ষকতা করার সুযোগ পেয়েছিল। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সেই ভরসা আজ আর নেই। তবু প্রচুর শূন্যপদ আছে। ভবিষ্যতে সেগুলি পূরণ করতেই হবে। শিক্ষা সংস্কৃতির সাংবিধানিক অধিকার এবং শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী ছাত্র শিক্ষক অনুপাতে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করতেই হবে। তাছাড়া সরকারী স্কুল বাদ দিলেও নিত্য নতুন গজিয়ে ওঠা প্রাইভেট স্কুলেও শিক্ষকতা করার সুযোগ থেকেই যাচ্ছে। তাই বাংলা, ইংরাজি, হিন্দি, ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃত ইত্যাদি বিষয়ে অনার্স এবং বি,এড করলে চাকরির সুযোগ থাকছেই। যারা শিক্ষকতা না করে অন্য পেশায় যুক্ত হতে চাইবে, তাদের জন্য বিসিএস, পিএসসি, ইউপিএসসি, আইএএস, আইপিএস প্রভৃতি চাকরির সুযোগ থাকছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাসের মত বিষয় ওই সমস্ত চাকরির পরীক্ষায় খুবই উপযোগী। এছাড়া সোশিওলজি, ইকোনমিক্স এর মত সাবজেক্ট বিভিন্ন এন,জি,ও তে কাজের সুযোগ করে দেয়।
এছাড়া সব বিভাগের শিক্ষার্থীরাই উচ্চমাধ্যমিকের পর অনেক আধুনিক বিষয় বেছে নিতে পারে, যেগুলি ভবিষ্যৎ পেশার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক হবে। যেমন নিউট্রিশন বা পুষ্টিবিজ্ঞান ডায়েটিশিয়ান হিসাবে আয়ের পথ দেখাবে। এডুকেশন বিভিন্ন বি, এড কলেজে শিক্ষকতার সুযোগ দেবে। সাইকোলজি তে ডিগ্রি হলে মনোবিদ হিসাবে কাজের সুযোগ থাকে। এছাড়া
Accessory Design, Fashion Design, Textile Design, Interior Design, Ceramic Design, Multimedia & Animation, Digital Art & Technology, Hospitality Studies, Mass Communication Journalism & Advertising, Tourism Management, Hotel Management, Air Hostess, Foreign languages courses, LLB(আইন এর পাঠক্রম) এইরকম বহু বিষয় থাকছে ভবিষ্যতের জন্য। এছাড়া ফাইন আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করলেও অনেক কাজের সুযোগ থাকে। বি,পি এড বা ফিজিক্যাল এডুকেশন নিয়েও ভবিষ্যতের পড়াশোনা সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে চাকরির ক্ষেত্রে সুবিধা দেবে।
তাই এইটা পড়লে লাইফে কিছু হবে না, ওইটা পড়লে হবে ভেবে সেই বিষয়ে দুর্বলতা থাকলেও জোর করে সেই বিষয় নেওয়ার মানে নেই।৩৫% নম্বর পেয়ে সায়েন্স নেওয়া যায়,কিন্তু তাতে সফল হওয়া কঠিন। কথায় আছে, ফিজিক্স আর ফিজিক্যাল সায়েন্স কিন্তু এক না।অনেক তফাৎ। সায়েন্সে খারাপ রেজাল্ট করার থেকে আর্টস নিয়ে ভালো রেজাল্ট করলে তার দাম অনেক বেশি। তাই লোকের কথায় না, নিজের ওজন বুঝে সাবজেক্ট চয়েস করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভবিষ্যতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সিনিয়ার দাদা দিদি দের সাথে কথা বলে, টিচারদের পরামর্শ নিয়ে বিষয় নির্ধারণ কর।সায়েন্স নেবার পর যদি মনে কর সুবিধা করতে পারছ না তখন আর্টস বা কমার্সে চলে আসতে হবে নির্দ্বিধায়। বই কিনে ফেলেছি, টাকা নষ্ট হবে ভাবলে চলবে না। অন্যথায় ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে পারে।
এবার দেখি জেনারেল লাইনে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি না হয়ে অন্য কোনও লাইন আছে কি না? এই ক্ষেত্রে আই টি আই খুব আকর্ষণীয় একটি পথ। মাধ্যমিক পাশ করেই ভর্তি হওয়া যায়। এক বা দুই বছরের কোর্সের পর নিজেও দক্ষ মিস্ত্রি হিসাবে কাজ করা যায় অথবা বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টেকনিশিয়ান হিসাবে কাজের সুযোগ থাকে। আর বর্তমানে হাতে কলমে কাজের সুযোগ বা চাহিদা প্রচুর। আই টি আই তে যে বিষয় পড়ান হয়, কম্পিউটার অপারেটার, সিভিল বা মেকানিক্যাল ড্রাফটসম্যান , কারপেন্টি, ইলেকট্রিকাল, মোটর সাইকেল মেকানিক, ওয়েল্ডার, প্লাম্বার, ফিটার ইত্যাদি বিষয়।যেগুলি উপার্জনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক।সরকারি,বেসরকারি বিভিন্ন কলেজে পড়ান হয়। কোন বিষয়ের চাহিদা কেমন,ফ্যাকাল্টি কেমন ভালো করে খোঁজ খবর নিয়ে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া আছে পলিটেকনিক।মাধ্যমিকে ৩৫%নম্বর পেলে পলিটেকনিকে আবেদন করা যায়। মেকানিকাল,সিভিল,ইলেকট্রিকাল,অটোমোবাইল, কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রনিক্স, এগ্রিকালচার, প্রিন্টিং, ফুড প্রসেসিং, আর্কিটেকচার প্রভৃতি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি পাওয়া যায়। জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজের সুযোগ আছে। তবে শুধু বিজ্ঞাপন না দেখে, খোঁজ খবর নিয়ে ভর্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।
পার্থ চক্রবর্তী