02/07/2025
📖📖রবিনসন ক্রুসোঃশিক্ষণীয় বিষয়।
রবিনসন ক্রুসো ইংরেজ লেখক ড্যানিয়েল ডিফো রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৭১৯ সালে।একজন অভিযাত্রীর জীবন কাহিনী ঘিরে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাস।
📖সংক্ষেপে উপন্যাসের বিষয়-
ইংল্যান্ডের এক শহরে বাস করত এক তরুণ—রবিনসন ক্রুসো। তার বাবা-মা চেয়েছিলেন, সে আইন পড়ে ভালো চাকরি করুক। কিন্তু রবিনসনের মন পড়ে ছিল সমুদ্রের জগতে, অজানা দেশ আর দুঃসাহসিক অভিযানে।সবার অমতে একদিন সে জাহাজে চেপে বেরিয়ে পড়ল নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে। প্রথমে ভাগ্য তার পক্ষে ছিল না—ঝড়, ডাকাতি, বন্দিত্ব—সবই তাকে সইতে হয়েছে। কিন্তু সে হার মানেনি।
একদিন তার জাহাজ ভয়ানক ঝড়ে পড়ে। চারদিক কালো, জলের তোড়ে জাহাজ ভেঙে যায়। চোখ মেলতেই সে নিজেকে দেখতে পেল এক নির্জন দ্বীপে। জাহাজের অন্য কেউ বেঁচে নেই। সে একা।
দ্বীপে ছিল না কোনো ঘর, খাবার বা মানুষ। রবিনসন বুঝে গেল, বাঁচতে হলে নিজেকেই সব কিছু করতে হবে।সে ভেঙে যাওয়া জাহাজ থেকে কিছু জিনিস উদ্ধার করল—একটি বন্দুক, কিছু খাবার, কুড়াল, দড়ি। এরপর গাছ কেটে সে নিজের জন্য ঘর বানাল। শস্য ফলাতে শুরু করল, ছাগল পালন করলো, জলে মাছ ধরতে শিখল।দিব্যি দিন কাটছিল, তবে নিঃসঙ্গতা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। কেবল নিজের ছায়া আর ঈশ্বরে বিশ্বাসই ছিল তার সঙ্গী।
একদিন সমুদ্রের ধারে হাঁটতে গিয়ে সে দেখতে পেল মানুষের একটি পায়ের ছাপ!
সে আঁতকে উঠল। কেউ কি আছে এই দ্বীপে? কিছুদিন পর সে দেখতে পেল বর্বর কিছু মানুষ এক বন্দীকে মেরে খাচ্ছে—মানুষখেকো!রবিনসন সাহস করে এক বন্দীকে বাঁচিয়ে ফেলে। সেই যুবক তার কাছে কৃতজ্ঞ হয়ে থাকে। রবিনসন তার নাম রাখে “ফ্রাইডে”, কারণ তাকে শুক্রবার দিন উদ্ধার করা হয়েছিল।ফ্রাইডে রবিনসনের বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়। সে শেখে কথা বলা, খ্রিস্ট ধর্ম ও সভ্যতা। তারা একসাথে ঘর বানায়, ফসল ফলায়, নিজেদের ছোট এক সংসার গড়ে তোলে।
একদিন দ্বীপে একটি ইংরেজ জাহাজ আসে, কিন্তু তাতে বিদ্রোহ চলছিল। কিছু দুষ্কৃতী ক্যাপ্টেনকে বন্দি করেছিলো।রবিনসন আর ফ্রাইডে বুদ্ধি করে ক্যাপ্টেনকে মুক্ত করে। দস্যুদের পরাজিত করে তারা জাহাজের দখল নেয়।ক্যাপ্টেন কৃতজ্ঞ হয়ে রবিনসন ও ফ্রাইডেকে ইংল্যান্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যান।দীর্ঘ ২৮ বছর পর রবিনসন আবার পা রাখল নিজের দেশের মাটিতে। তার জীবনের সেই দীর্ঘ দ্বীপবাস এক অভাবনীয় গল্প হয়ে রইল—ধৈর্য, সাহস, একাকীত্ব ও আত্মনির্ভরতার।
📖📖 "রবিনসন ক্রুসো" গ্রন্থ থেকে আমরা যে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলি পাই-
1. আত্মনির্ভরশীলতা– ক্রুসো একা একটি নির্জন দ্বীপে পড়ে গিয়েও নিজের বুদ্ধি, শ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমে বেঁচে থাকার উপায় খুঁজে নেয়।
2. ধৈর্য ও স্থৈর্য– তিনি কখনও হাল ছাড়েননি; দীর্ঘ সময় একা থেকেও আশাবাদী ছিলেন।
3. পরিকল্পনা ও পরিচালনার দক্ষতা–প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে তিনি যথাযথ পরিকল্পনা করতেন, যা তার বেঁচে থাকার পথ মসৃণ করেছিল।
4. শ্রমের মর্যাদা– কাজ করেই সে খাদ্য, আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী জোগাড় করত – তা যত কঠিনই হোক না কেন।
5. ধর্মবিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস– একা থাকার সময় ক্রুসো ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখতেন এবং নিজের প্রতি আস্থা হারাননি।
6. মানুষ সামাজিক জীব – দীর্ঘ একাকীত্বে তিনি উপলব্ধি করেন যে মানুষের জীবনে সঙ্গ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
7. জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার– সহজ সরঞ্জাম দিয়ে ক্রুসো কৃষিকাজ, পশুপালন, গৃহনির্মাণ প্রভৃতি করতেন – যা তার জ্ঞানের ব্যবহার দেখায়।
8. প্রতিকূলতাকে জয় করার মানসিকতা– প্রকৃতি ও নিঃসঙ্গতা তাঁর জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জ এনেছিল, কিন্তু তিনি তা মোকাবিলা করেছেন সাহসে।
9. ধন-সম্পদের মূল্য নয়, উপকারিতা মুখ্য– ক্রুসো বুঝতে পারে, সোনার মোহ অর্থহীন; প্রকৃত কাজে লাগে খাদ্য, আশ্রয়, ও প্রয়োজনীয় উপকরণ।
10. উন্নতির চাবিকাঠি—অভিজ্ঞতা ও শিখতে আগ্রহ– প্রতিটি ভুল থেকে তিনি শিখেছেন এবং নতুন করে চেষ্টা করেছেন।