11/09/2020
কথাতেই আছে 'Morning shows the day'. সকাল সকাল একটু নতুন জিনিস জানা যাকঃ
(পিনাক বিশ্বাসের লেখা)
বিদ্যাসাগর একজনই হন। হিমালয়প্রতীম যুগপুরুষ। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। আসলে বিদ্যাসাগর একটি উপাধি মাত্র। প্রথম বিদ্যাসাগর ঈশ্বরচন্দ্র। কিন্তু মহীরুহের তলায় ঢাকা পড়ে আছেন বাকি বিদ্যাসাগর উপাধিধারীরা। তাঁরা কারা?
১) জীবানন্দ বিদ্যাসাগরঃ পিতা তারানাথ তর্কবাচস্পতি সে যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত। ২৬ বছর বয়সে বিদ্যাসাগর উপাধি অর্জন করেন জীবানন্দ। ২১৫ টিরও বেশি সংস্কৃত গ্রন্থ সম্পাদনার কাজ করেছেন। জীবানন্দ লাহোর ওরিয়েন্টাল কলেজের অধ্যক্ষের পদ, জয়পুরের মহারাজ, কাশ্মীরের মহারাজ ও নেপালের মহারাজের তৎকালীন সহস্র মুদ্রার চাকরিও প্রত্যাখান করেছিলেন বাংলার বাইরে যাবেন না বলে।
২) নীলকমল বিদ্যাসাগরঃ রঙপুরে জন্ম। কাব্য, ব্যাকরণ, স্মৃতিশাস্ত্রে অগাধ পান্ডিত্য। রচিত গ্রন্থঃ কালার্চন চন্দ্রিকা, কৃষিতত্ত্ব, শক্তি ভক্তি, শ্রীশ্রী সরস্বতীপুজা পদ্ধতি,
৩) প্রানকৃষ্ণ বিদ্যাসাগরঃ হরিনাভি গ্রামে জন্ম। ভাই রামনারায়ন তর্করত্ন। প্রাণকৃষ্ণ সংস্কৃত কলেজে ব্যাকরণের অধ্যাপক ছিলেন, সমাচার চন্দ্রিকা পত্রিকার সম্পাদক। রচিত গ্রন্থঃ কূলরহস্য, শ্রীশ্রী অন্নপূর্ণা শতকম, ধর্মসভা বিলাস।
৪) রাজীবলোচন বিদ্যাসাগরঃ ফরিদপুরে জন্ম। স্মৃতি ও জ্যোতিষশাস্ত্রে পন্ডিত। নড়াইলের জমিদার বংশের পন্ডিত হিসাবে কাজ করতেন।
৫) শশিশেখর বিদ্যাসাগরঃ পিতা খ্যাতনামা হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ। ফরিদপুরের কোটালিপাড়ার বাসিন্দা। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সংস্কৃত শিক্ষক ছিলেন।
৬) হরিহর বিদ্যাসাগরঃ নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় জন্ম। পিতা মধুসূদন তর্কপঞ্চাননের কাছে স্মৃতি শিক্ষা। ভাওয়ালের রাজা রমেন্দ্রনারায়নের আগ্রহে ঢাকার সারস্বতসমাজের প্রধান অধ্যাপক হন। পরে আন্দুলরাজের চতুষ্পাঠীর অধ্যাপক।
৭) হরানন্দ বিদ্যাসাগর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মজিলপুরে জন্ম। পুত্র শিবনাথ শাস্ত্রী স্বনামধন্য ব্যক্তি। হরানন্দ বাল্মিকী রামায়ণের অনুবাদক। জনহিতকর কাজের পাশাপাশি জজপণ্ডিতের কাজ করতেন। রচিত গ্রন্থঃ নলোপাখ্যান।