23/08/2026
এ বি টি এ সিউড়ি মহকুমা শাখার সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা
নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির সিউড়ি সদর মহকুমা শাখার বাৎসরিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আজ সিউড়ি সত্যপ্রিয় ভবনে অনুষ্ঠিত হলো। ছয়টি আঞ্চলিক শাখার জন প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করে। শুরুতেই উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিক্ষাকর্মী ও সিউড়ি পৌর জোনের নেতৃত্ব বিপ্লব রায়।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সমিতির জেলা শাখার সভাপতি আশিস বিশ্বাস। তিনি বলেন, দেশের এক সংকট জনক পরিস্থিতিতে ১৯৯৩ সাল থেকে সমিতি বিদ্যালয় স্তর থেকে রাজ্য স্তর পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ধীরে ধীরে এই কর্মসূচী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে। মূলত পেশাগত সংগঠন হলেও সমিতি তার সামাজিক দায়বদ্ধতা বিস্মৃত হয় নি কখনও। আমাদের সমিতি মনে করে, শিক্ষার্থীদের বৌদ্ধিক বিকাশের পাশাপাশি তাঁদের পরিপূর্ণ মানুষ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর ভাবনার মায়াজালের বৃত্ত থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনা শিক্ষকদের গুরু দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রবীন্দ্রনাথ, সুকান্ত, নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টিকে ভুলিয়ে দেবার প্রয়াস লক্ষ্য করা যাচ্ছে সর্বত্র। তাকে প্রতিহত করতে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা অত্যন্ত জরুরী। আমরা কৃতজ্ঞ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও অভিভাবক মণ্ডলীর কাছে যাঁরা আমাদের সমিতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের উৎসাহিত করছেন প্রতি বছর। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক ডাঃ শুভেন্দু ঘোষ। তিনি সমিতির এই উদ্যোগের ভুয়সী প্রশংসা করেন। মোট ২৯ টি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অংশ নেয় ১০৯ জন প্রতিযোগী। প্রতি বিষয়ের সফল প্রথম প্রতিযোগী আগামী রবিবার ৩০ শে আগস্ট জেলা স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।
উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা নেতৃত্ব সুকান্ত ব্যানার্জী, মৃদুলা বিরবাংশী, পরমানন্দ চ্যাটার্জী, কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য সিক্তা কবীর, সহ মহকুমা ও আঞ্চলিক শাখার নেতৃবৃন্দ। অন্তিম পর্বে সফল প্রতিযোগীদের পুরস্কৃত করা হয়। সমিতির এই উদ্যোগে আপ্লুত অভিভাবক মণ্ডলী। সমগ্র অনুষ্ঠান সুচারু রূপে সঞ্চালনা করেন সমিতির অন্যতম সহ সম্পাদক বজলে রহমান। তিনি বলেন আজকের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকলেই সেরা। নিজেদের হৃদয়ের ক্ষুদ্রতাকে দূর করার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠতে হবে সকলকে। ১০৫ বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়েই সমিতি পথ হাঁটছে। আর কোনো শিক্ষক সংগঠন এই চর্চায় অভ্যস্ত নয়। সভাপতি সুকান্ত ব্যানার্জীর ধন্যবাদ জ্ঞাপক বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।