18/03/2025
----- ঐতিহাসিক বদর বিজয় দিবস -----
🏷️ আজ ১৭ই রমজান। ইসলামের ইতিহাসে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। ২য় হিজরি সনের ১৭ই রমজান ঘটেছিল ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধ।
আজ সে বিষয়ে অতি সংক্ষেপে আলোচনা করা হবে।
⏳ পূর্ব কথা:
মহা নবী সাল্লাল্লাহ আলায়হে অসাল্লামের নবুওয়াত প্রকাশের পর থেকে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মক্কার কুরাইশ কাফেররা মহা নবী(ﷺ) ও তাঁর অনুসারীদের উপর নজীর বিহীন যুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তায়ালার নির্দেশক্রমে তিনি মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন।
এরপরও কুরাইশরা শান্তিতে থাকল না। বরং ইসলামকে অংকুরেই বিনষ্ট করতে উঠে পড়ে লাগলো এবং বারবার মদীনার সীমান্তে এসে লুঠতরাজ শুরু করে। এরপর হিজরি ২ সনের রমজানে মক্কার কুরাইশরা বদরের প্রান্তের এসে উপস্থিত হল।
⚔️ রণসজ্জা :
বদরের যুদ্ধে মুসলমান ছিলেন মাত্র ৩১৩ জন। তাদের যুদ্ধ সরঞ্জামও ছিল খুব কম। ঘোড়া ছিল মাত্র ৩টি, উট ছিল মাত্র ৭০ টি আর তরবারি ছিল মাত্র ৬ টি।
অপরদিকে মক্কার কাফের কুরাইশ ছিল প্রায় হাজারজন, তাদের নিকট ছিল ৭০০ ঘোড়া প্রত্যেকেই ছিল বর্ম পরিহিত অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত। আর উট ছিল অগণিত। তাদের সাথে ছিল নর্তকীর দল । এক কথায় জনবল,অস্ত্রবল এবং অর্থবলে মক্কার কুরাইশরা ছিল এগিয়ে।
কিন্তু মুসলমান অল্পসংখ্যক হলেও ছিল ইমানের বলে বলীয়ান। তাদের সাথে ছিলেন স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলায়হে অসাল্লাম, ছিল রব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে মহাবিজয়ের অঙ্গিকার।
[_] মহা নবীর ইল্মে গায়েব -
বদরের যুদ্ধের পূর্বে রাসুলে করিম ( ﷺ) , কোন কাফের কোথায় মারা যাবে বলে দিয়েছিলেন। হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূলে পাক (ﷺ) মাটির উপর হাত রেখে জায়গা চিহ্নিত করে বলেছিলেন, এ হচ্ছে অমুক ব্যক্তির হত্যার স্থান, এ হচ্ছে অমুকের মৃত্যুস্থল, এ হচ্ছে অমুক ব্যক্তির কতল হওয়ার জায়গা। বর্ণনাকারী বলেন, নবীজি যেই ব্যক্তির জন্য যেই স্থান কে নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন, তাদের ঠিক সেই সেই জায়গায় মৃত্যু হয়েছিল,কিঞ্চিৎ জায়গায় হেরফের হয়নি। সুবহানাল্লাহে অবিহামদিহি।
কবি কতই না সুন্দর লিখেছেন -
"কাহাঁ মরেগা আবু জাহেল উতবা ও শায়বা,
কে জঙ্গে বদর কা নক্সা হুজুর জানতে হ্যায়।"
আর আলাহজরত ইমামে আহলে সুন্নাত বলেছেন,
"আউর কোয়ী গায়েব ক্যা তুমসে নেহা হো ভালা,
যব না খোদা হি ছুপা তুম পে কারোড়োঁ দরূদ।"