01/08/2026
আকন্দ গাছ আপনারা রাস্তার ধরে হামেশাই দেখতে পাবেন। কেউ তাকিয়েও দেখে না এই গাছের দিকে ...অথচ এই গাছের পাতা থেকে খুব ভালো ঘরোয়া অর্গানিক পেস্টিসাইড আপনারা বানিয়ে নিতে পারবেন। একদম ফ্রিতে....এক টাকাও খরচ না করে!
এটা নিয়ে একবার আমাদের অনলাইন ওয়ার্কশপে আলোচনা করেছিলাম। নীচে রেসিপিটা দিয়ে দিলাম।
রেসিপি:
১. যেকোনো আকন্দ গাছ থেকে পাঁচটা পরিণত পাতা ছিঁড়ে আনুন। তবে পাহাড়ি সাদা বড়ো আকন্দ গাছ থাকলে সেটা খুব ভালো কাজে দেয় ।
২. হামান দিস্তাতে পাতাগুলো খুব। ভালো করে থেতো করুন ( মিক্সি ব্যবহার করবেন না ) ।
৩. এর সাথে এক লিটার রুম টেম্পারেচার জল মেশান । কোনোভাবেই গরম জল ব্যবহার করবেন না, বা ফোটাবেন না।
৪. মিশ্রণটিকে এক রাত রেখে দিন, ২৪ ঘণ্টা রাখতে পারলে আরো ভালো।
৫. পরের দিন জলটা ছেঁকে গাছে স্প্রে করুন। পাতার তলার দিকে অবশ্যই স্প্রে করবেন।
এটা ব্রড স্পেকট্রাম সিস্টেমিক ইনসেকটিসাইড হিসাবে কাজ করবে প্লাস রিপিলেন্ট হিসাবেও কাজ করবে। এটা এন্টিমাইক্রবিয়াল মানে এন্টিফাঙ্গাল আর এন্টিব্যাকটেরিয়াল হিসাবেও কাজ করে । এই টার্ম গুলো একটু ছোট্ট করে এক্সপ্লেইন করে দিই।
ব্রড স্পেকট্রাম মানে অনেকরকম পোকামাকড় এর ওপরে কাজ দেবে।
সিস্টেমিক মানে গাছ নিজের দেহে এটাকে নিয়ে নেবে, তারপর পোকামাকড় গাছের পাতা খেলে, রস খেলে সঙ্গে সঙ্গে একশন!
এন্টিফাঙ্গাল মানে এটাকে লো ডোজের ফ্যাঙ্গিসাইড হিসাবে কাজ করাতে পারবেন।
এন্টিব্যাকটেরিয়াল মানে ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেও অল্প বিস্তর কাজে দেবে ।
Dose : সপ্তাহে একবার , ভোরবেলায় বা সন্ধেবেলায় গাছের পাতাতে স্প্রে করবেন। মাটিতে দেবেন না।
আকন্দ পাতা ছিঁড়তে গেলেই দেখবেন সাদা রস বেরোচ্ছে ...ওই রসের মধ্যে থাকে calotropin, যেটা পোকামাকড়ের ডাইজেস্টিভ সিস্টেম , নার্ভাস সিস্টেম ...সবরকম সিস্টেমেই সমস্যা করে।
এই রস হাতে লাগলে ইররিটেশন হবে , আর নিজের চোখ বাঁচিয়ে কাজ করবেন।
বিনা পয়সায় এরকম জিনিস পাওয়া গেলে খামোখা ইনসেক্টিসাইড কিনে পয়সা নষ্ট করবেন কেন?
সবজি গাছেও ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু সেক্ষেত্রে সবজি ভালো করে ধুয়ে তবে রান্নার কাজে লাগাবেন।
ইচ্ছামত শেয়ার করতে পারেন, সবার তো আর গাদা গাদা টাকা খরচ করে বাগান করার সামর্থ্য থাকে না। সেরকম কেউ পোস্টটা পড়লে তার অনেকগুলো টাকা বাঁচবে।
© গাছপাকা ( ফেসবুক পেজ )