12/03/2024
"জন্মলগ্নের সংকল্প"
আশাপূর্ণা দেবী
যুগাবতার ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এলেন একটি সহজ রূপ নিয়ে। বললেন : "অত কচকচিতে দরকার কী, খোসাটা নিয়ে এতো মারামারি কেন ? ফলটার রস আস্বাদন করে দেখ না !" বললেন :
একবার মা বলে ডেকে ওঠো দিকি ?
ডাকার মতো ডাকো !
এই সহজ মাতৃমন্ত্র দিতে এলেন ঠাকুর বিভ্রান্ত দেশকে।
খাটতে হবে না, কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে না, বিশ্বাস নিয়ে 'মা' বলে ডাকো। মা-ই তোমাকে মহৎ করে তুলবেন, সুন্দর করে তুলবেন, 'মানুষ' করে তুলবেন।
দিলেন এই সহজ মন্ত্র, দিলেন তাঁর শান্তি সেনাদের। তাঁর জ্ঞান ভক্তি প্রেম কর্মের সমন্বয়ে জ্যোতির্ময় সন্ন্যাসী সন্তানদের।
পৃথিবীর জন্যে ঠাকুরের এই পরম উপহার। এখনো চলছে সেই অমৃতের ধারা।
কিন্তু হতভাগা মানুষ ওই সহজটুকুতেও যে নারাজ।
ওই 'মা' ডাকটুকুকেও আঁকড়ে ধরতে পারে না তারা।
অথচ ঘরে ঘরে রেখেছে মায়ের পট। রেখেছে শ্রীশ্রীঠাকুর আর শ্রীশ্রীমায়ের মূর্তি, পূজাও চলছে নিত্যসেবার নিয়মে।
তবুও পৃথিবীতে আজ হানাহানির শেষ নেই, লোভ আর হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবী অবিরত আত্মহননের গহ্বর খুঁড়ছে।
কারণ সেই ডাকার মতো ডাকতে পারছে না।
পৃথিবীব্যাপী শ্রীশ্রীঠাকুররামকৃষ্ণের পুণ্য জন্মলগ্নে এখন যেন তাই এই সংকল্প মন্ত্রটি পঠিত হয়, "ঠাকুর, তোমার আসাটি আমরা যেন ব্যর্থ না করি। তুমি আমাদের যে অমৃতপাত্র দান করে গেছো, আমরা যেন তাকে ধূলোয় ফেলে দিয়ে মৃত্যুর দিকে না ছুটি।"
আমরা যেন প্রাণের মধ্যে একটুখানি ভালোবাসার সঞ্চয় রাখতে পারি। যে ভালোবাসাটুকু দিয়ে আমরা পরস্পরকে ঈশ্বরের সন্তান বলে চিনতে পারি।
('সমাজশিক্ষা' ৫০ বর্ষ স্মারকগ্রন্থ থেকে, কিছু অংশ)
শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণদেব এবং আশাপূর্ণা দেবী।