19/06/2016
এক বিবাহিত যুবক, কঠিন রোগে মৃত্যুশয্যায় তার স্ত্রীকে ডাকলেন। তার চোখদিয়ে অনুশোনার অশ্রু ঝরছে। যুবকেরস্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন, এবং এটিই তাদেরপ্রথম সন্তান। সে স্ত্রী কে বললো-দেখোআমি সারা জীবনে নামাজ-রোজা করিনি, আজমৃত্যু সময়ে ভুল ভেঙ্গে গেছে, কিন্তু আমিনিরুপায় আমার আর কিছু করার সময়সুযোগ হলো না।যদি তোমার গর্ভেরসন্তান বেচে থাকে, বড় হয় তাহলেতুমি তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিও।শুনেছি সন্তানের উসিলায়ও বাবা মাবেহেশতে যেতে পারে।স্ত্রী তাকে শান্তনা দিয়ে বললেন,তোমার কথাই রাখবো। দু দিন পর যুবকমারা গেলেন। এর কয়েক দিন পর তারস্ত্রীর একটি ছেলে জন্ম নিলো। অনেককষ্টের মাঝে যখন ছেলেটির বয়স ছয়বছর পুর্ণ হলো তার মা তাকে, মাদ্রাসায়ভর্তি করে দিলেন। প্রথম দিন মাদ্রাসায়শিক্ষক তাকে একটি আয়াত শিখালেন।আয়াতটি হলো-" বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"(পরম করুনাময় মহান আল্লাহতায়ালার নামে শুরু করছি। )মাদ্রাসা থেকে বাড়ীতে যাওয়ার পরছেলেকে নিয়ে স্বামীর কবরের কাছেজিয়ারতে গেলেন। ছেলেকে কবরেরকাছে পাঠিয়ে দিয়ে মা বললেন, ঐতোমার বাবার কবর। ওখানে গিয়েতোমার বাবার জন্য আল্লাহর কাছেদোয়া করবে। (মাদ্রাসায় পড়া শিশুরাপ্রায় সব সময় তাদের শিখিয়ে দেয়াআয়াত বা কালাম এমনি এমনিপড়তে থাকে। এগুলো অনেকে খেয়ালকরে থাকবেন।)অতো ছোট শিশু কিভাবে দোয়া করতে হয়,কিছুই জানে না। কিন্তু মাদ্রাসায়শিখানো জীবনের প্রথম আয়াত খানাবার বার কবরের সামনে তিলাওয়াতকরতে লাগলো। ( অই কচি মুখেরতিলাওয়াতের এমন শক্তি.....আমারআল্লাহর দরবারে বিনা বাধায় পৌঁছেগেলো, মালিকের রহমতের দরিয়ায়বাঁধভাঙা জোয়ারের ডাক এসে গেলো,বলুনঃ সুবহান আল্লাহ! )মহান আল্লাহ তায়ালা আজাবেরফেরেশতাদের বললেন, এই মুহুর্তেওই কবর বাসীর কবর আজাব বন্ধকরে দাও। ফেরেশতারা বললোঃ হে দয়াময়পরোয়ারদিগার এই লোকটির আমলনামায়এমন কী পুণ্য পাওয়া গেলো ?যে তার জন্য নির্ধারিত কঠিনকবরের আজাব ক্ষমা করে দেয়া হলো?আওয়াজ হলো, ফেরেশতারা শোনো- কবরেরউপরে একটা অবুঝ শিশু বার বারতিলাওয়াত করছে,"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"তিলাওয়াতকারী এই কবর বাসীর ওয়ারিশ,তার অবুঝ সন্তান। সে স্বাক্ষী দিচ্ছে"আল্লাহ রাহমানির রাহিম"- আল্লাহ পরম দয়ালু। আমি যদিকবর বাসীকে ক্ষমা না করি, তাহলেআমি কেমন দয়ালু? আমি কেমন পরমকরুনা ময়?তাই কবর বাসীর কবর আজাবক্ষমা করে দেয়া হলো।আমার ভাইয়েরা,পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালাররহমত আমাদের সব সময় ক্ষমাকরে দেয়ার জন্য উছিলা খুঁজতে থাকে।আল্লাহ কাকে কোন পুণ্য কাজেরউছিলায় ক্ষমা করে দিবেন কেউ জানিনা।তাই সব সময় মহান আল্লাহ তায়ালারউপর ভরসা করে নিজেদের ভালো কাজেজড়িয়ে রাখি। মুল্যহীন দুনিয়ার মজায়আর লোভে পড়ে আখিরাতে শুণ্য হাতে যেনকেউ লজ্জিত না হই। হে দয়াময় আল্লাহ!আপনি আপনার পথভোলা বান্দাদের সঠিকপথের হেদায়েত দান করুন। ★আমীন★