28/10/2018
(Full H D)New Madaris Nazam Part 2 (2018)Hafiz Zain ul Abidin Muhammad Anzar Jalali Edit By Hafiz Muhammad Abubakar 03063668043 Whatsap Numbar 03332131235 Contact Numbar
Centre of universal Islamic co-educational dignified higher studies. From lower level to higher leve
28/10/2018
(Full H D)New Madaris Nazam Part 2 (2018)Hafiz Zain ul Abidin Muhammad Anzar Jalali Edit By Hafiz Muhammad Abubakar 03063668043 Whatsap Numbar 03332131235 Contact Numbar
25/01/2018
খতমে বোখারী অনুষ্ঠান কে কেন্দ্র করে এক বিরাট দ্বীনি সমাবেশ মার্কাজুল উলুমে।
07/11/2017
Admission going on. In markzul ulum campus.....
জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশদিনের আমল ও ফযীলত প্রসঙ্গেঃ
প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম!
জিলহজ্ব মাসের আমল কি? বিশেষ করে প্রথম দশ দিন?
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
১-
প্রথম দশ দিনে নফল রোযা ও রাতে ইবাদত করা
জিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত যত দিন সম্ভব নফল রোযা রাখা আর রাতের বেলা বেশী বেশী ইবাদত করা যথা নফল নামায,কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ-তাহলীল, তাওবা-ইস্তিগফার ও রোনাজারী ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে রাত কাটানো।
ফযীলত
عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه و سلم : قال ما من أيام أحب إلى الله أن يتعبد له فيها من عشر ذي الحجة يعدل صيام كل يوم منها بصيام سنة وقيام كل ليلة منها بقيام ليلة القدر
হযরত আবু হুরায়রা রা.থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জিলহজ্বের দশ দিনের ইবাদত আল্লাহর নিকট অন্য দিনের ইবাদত তুলনায় বেশী প্রিয়,প্রত্যেক দিনের রোযা এক বছরের রোযার ন্যায় আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের ন্যায় ।{তিরমিজী শরীফ,হাদীস নং-৭৫৮, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৩৭৫৭, কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১২০৮৮}
عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه و سلم أنه قال ما العمل في أيام العشر أفضل من العمل في هذه
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-এই দশ দিনের আমল অপেক্ষা অন্য দিনের আমল প্রিয় নয়। {বুখারী শরীফ,হাদীস নং-৯২৬}
২–
যারা কুরবানী করার ইচ্ছে পোষণ করছেন, তারা জিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে হাত পায়ের নখ, মাথার চুল ও অবাঞ্ছিত চুল ইত্যাদি কাটবে না, যদি ৪০ দিন না হয়ে থাকে এগুলো না কাটার মেয়াদ। যদি ৪০ দিনের বেশি হয়ে থাকে, তাহলে এসব কেটে ফেলা আবশ্যক। নতুবা ১০ দিন পর কুরবানীর পর পরিস্কার করবে। এ কাজটি সুন্নাত।
عن أم سلمة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا دخلت العشر فأراد أحدكم أن يضحي فلا يمس من شعره ولا من بشره شيئا
অনুবাদ-হযরত উম্মে সালমা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন যে, যখন [জিলহজ্বের প্রথম] ১০ দিনের সূচনা হয়, আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছে করে, সে যেন চুল-নখ ইত্যাদি না কাটে। {সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৪৪৫৪, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩১৪৯, সুনানে বায়হাকী, হাদীস নং-১৮৮০৬, মুসনাদুল হুমায়দী, হাদীস নং-২৯৩, মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-৭৭৮৭, মুসনাদুশ শাফেয়ী, হাদীস নং-৮৪৬, মাশকিলুল আসার, হাদীস নং-৪৮১১}
৩-
যারা হজ্বে যায়নি, তাদের জন্য জিলহজ্ব মাসের নয় তারিখ রোযা রাখা সুন্নাত।
ফযীলত
صيام يوم عرفة أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله والسنة التي بعده
অনুবাদ-হযরত আবু কাতাদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-আরাফার দিনের রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এ রোযা তার পূর্বের ও পরের বৎসরের গোনাহ মুছে ফেলবে। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৭৪০}
তবে যারা হজ্বে গিয়েছেন, তাদের জন্য এদিন রোযা না রাখা উচিত।
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- نَهَى عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ
অনুবাদ-হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ আরাফার দিনে আরাফার ময়দানে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২৪৪২, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৮১৭২, কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আক্বওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-২৩৯২৩, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-২৫৫৬}
أُمَّ الْفَضْلِ – رضى الله عنها – تَقُولُ شَكَّ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فِى صِيَامِ يَوْمِ عَرَفَةَ وَنَحْنُ بِهَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ بِقَعْبٍ فِيهِ لَبَنٌ وَهُوَ بِعَرَفَةَ فَشَرِبَهُ.
অনুবাদ-হযরত উম্মুল ফযল রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-লোকেরা আরাফার দিন নবী কারীম সাঃ রোযা রেখেছেন কি না? তা নিয়ে সন্দেহে পতিত হলে আমি রাসূল সাঃ এর পানীয় প্রেরণ করলাম, আর নবীজী সাঃ তা পান করলেন। [ফলে সবাই নিশ্চিত হলেন যে, রাসূল সাঃ রোযা রাখেন নি। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫১}
৪-
তাকবীরে তাশরীক বলা।
যিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখের ফজর থেকে তের তারিখের আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর একবার তাকবীর বলা ওয়াজিব। পুরুষের জন্যআওয়াজ করে,আর মহিলাদের জন্য নীরবে।
তাকবীর হল-আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
প্রমাণ-
ফাতওয়া শামী-তৃতীয় খন্ড,৬১ পৃষ্ঠা,সালাত অধ্যায়,ঈদ পরিচ্ছেদ,
ইলাউস সুনান, সালাত অধ্যায়, তাকবীরাতুত তাশরীক পরিচ্ছেদ, ৮ম খন্ড, ১৪৮ পৃষ্ঠা}
ফযীলত
عن بن عباس : أنه كان يكبر من غداة يوم عرفة إلى آخر أيام التشريق
হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ আরাফার দিন তথা ৯ ই জিলহজ্বের ফজর থেকে আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিন পর্যন্ত পর্যন্ত তথা ১৩ ই জিলহজ্ব [আসর নামায] পর্যন্ত তাকবীরে তাশরীক পড়তেন। {সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৬০৭১, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৬৮১}
৫-
ঈদুল আজহার রাতে বেশি বেশি ইবাদত করা উত্তম।
ফযীলত
عن أبي أمامة عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( من قام ليلتي العيدين محتسبا لله لم يمت قلبه يوم تموت القلوب )
অনুবাদ-যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার রাতে সওয়াবের নিয়তে জাগরিত থেকে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকবে, তাহলে যে দিন অন্যান্য দিল মরে যাবে সেদিন তার দিল মরবে না। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৭৮২, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩৭১১, কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আক্বওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-২৪১০৫, জামিউল আহাদীস, হাদীস নং-২৩২৯৬}
[এ হাদীসটি দুর্বল]
৫-
ঈদের দিনের সবচে বড় আমল হল ঈদের নামায শেষে কুরবানী করা।
১০, ১১ম ১২ যিলহজ্বের যে কোন একদিন,কোন ব্যক্তির মালিকানায় যদি নিত্য প্রয়োজন অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ, অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপা বা এর সমমূল্যের সম্পদ থাকে, {বর্তমান বাজার মূল্যে যা ৮৪,০০০/= প্রায়} তাহলে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।
পুরুষ-মহিলা সকলের উপরই এ বিধান প্রযোজ্য।
প্রমাণ-ফাতওয়া শামী-৯/৪৫৩, ৪৫৭
ফাতওয়া আলমগীরী-৫/২৯২
ফযীলত
عن عائشة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال ما عمل آدمي من عمل يوم النحر أحب إلى الله من إهراق الدم إنها لتأتي يوم القيامة بقرونها وأشعارها وأظلافها وأن الدم ليقع من الله بمكان قبل أن يقع من الأرض فيطيبوا بها نفسا
অনুবাদ-হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, কুরবানীর দিনে বনী আদম এমন কোন কাজ করতে পারে না, যা আল্লাহর নিকট রক্ত প্রবাহিত করা তথা কুরবানী করার চেয়ে বেশি প্রিয়। কুরবানীর পশু সকল শিং, তাদের পশম ও তাদের খুরসহ কেয়ামতের দিন [কুরবানীদাতার পাল্লায়] এসে হাজির হবে। আর কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর নিকট সম্মানের স্থানে পৌছে যায়। সুতরাং তোমরা প্রফুল্ল চিত্তে কুরবানী করবে। {সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৪৯৩, মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস নং-৭৫২৩, কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আক্বওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১২১৫৩}
عن زيد بن أرقم قال أصحاب رسول الله صلى الله عليه و سلم يا رسول الله ماهذه الأضاحي ؟ قال ( سنة أبيكم إبراهيم ) قالوا فما لنا فيها ؟ يا رسول الله قال ( بكل شعرة حسنة ) قالوا فالصوف ؟ يا رسول الله : قال ( يكل شعرة من الصوف حسنة
যায়েদ বিন আরকাম রাঃ বলেন-রাসূল সা. এর সাহাবাগণ বললেন-হে আল্লাহর রাসূল! এ সকল কুরবানীর ফযীলত কি? উত্তরে তিনি বললেন-তোমাদের জাতির পিতা ইবরাহীম আ. এর সুন্নাত। তারা পুনরায় আবার বললেন-হে আল্লাহর রাসূল! তাতে আমাদের জন্য কী সওয়াব রয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন-কুরবানীর পশুর প্রতিটি চুলের বিনিময়ে একটি সওয়াব রয়েছে। তারা আবারো প্রশ্ন করলেন-হে আল্লাহর রাসূল! ভেড়ার লোমের কি হুকুম? [এটাতো গণনা করা সম্ভব নয়] তিনি বললেন-ভেড়ার লোমের প্রতিটি চুলের বিনিময়ে একটি সওয়াব রয়েছে। {সুনানে ইবনে মাজাহ-হাদীস নং-৩১২৭}
والله اعلم بالصواب
مدارس اسلامیی کے معلمین سے چند گزارشات*
*السلام علیکم و رحمة اللہ و برکاتہ*
تعطیلات ماہ صیام کے بعد طلباے کرام سے مدارس کی رونق بحال ہوچکی ہے۔ الحمد للہ
*_چند معروضات پیش خدمت ہیں۔_*
*1*۔ طلبا نے حصول علم کے لیے اپنے گھر ، وطن ، والدین اور بھائیوں بہنوں کو با دیدہ نم چھوڑ کر آپ سے تحصیل علم و ادب کے لیے اپنے آپ کو پیش کیاہے۔
اس میں سے کچھ طلبا اپنے نفع و نقصان کو سمجھتے ہیں اور کچھ لڑکپن کی وجہ سے اپنے نفع و نقصان کو سمجھنے سے قاصر ہیں۔ دونوں قسم کے طلباء کے اوقات کو قیمتی بنانا آپ کے فرض منصبی میں داخل ہے۔ اس کے آپ عند اللہ جواب دہ ہیں۔
*2* ۔ طلبا کو شوق دلائیے ۔ نرمی اور آسانی کا معاملہ کیجئے۔ ایسی سختی مت کیجئے جس سے طالب علم متنفر ہوجائے یا ترک علم پر مجبور ہوجائے۔ یاد رکھیے کہ محبت سے وہ بڑے میدان سر ہوتے ہیں جو سختی سے نہیں ہوتے۔
*3* بعض طلبا اپنے گھر کی ناگفتہ بہ حالت کو اپنے آنکھوں سے دیکھ آئے ہیں کہ یہاں ان کو وہ حالات یاد آکر پریشان کرتے رہتے ہیں۔ مگر حصول علم کے لیے پھر بھی مدرسہ آچکے ہیں۔ ان بچوں سے ان کا پس منظر جان کر ان کی کسی بھی طرح سے دل جوئی کریں ۔ ہمت دلائیں کہ ان مسائل کا حل صرف تمہارے تحصیل علم میں ہے۔
*4* ۔ کسی طالب علم کا سبق سننے سے قبل یہ تصور کریں کہ یہ میرا لڑکا ہے جو مجھے سبق سنا رہا ہے۔ اور میں اس کا شفیق باپ بھی ہوں اور مہربان استاذ بھی۔۔۔۔
یاد رکھئے ! یہ وہ زمانہ ہے جہاں اسکولوں میں بچوں کو استاذ چاکلیٹ دے کر سمجھاتا ہے۔ اور پیار و محبت سے دل جیت لیتا ہے۔
*5*۔ آپ نے اپنا وقت مقررہ مدرسہ کو دینے کا معاھدہ کیا ہے ان اوقات میں واٹس ایپ کا استعمال ۔ موبائل پر طویل گفتگو ۔ نیز اوقات درس میں جمعہ کے خطبہ کی تیاری ۔اخبار بینی ۔ دیرحاضری کا معمول یہ سارے امور شرعا درست نہیں ہوتے ۔۔ ذمہ دار اگر ان امور پر آپ کو متنبہ نہ کرے تب بھی یہ درست نہیں ہیں۔
اس لئے اوقات مدرسہ کا مکمل خیال رکھیں۔
*6* طلبا کو دو میقات تعلیمی میں مکمل مشغول رکھیں۔
*8*۔ طالب علم کے علمی نقصان کا استاذ عند اللہ براہ راست جواب دہ ہے۔ یہ جواب دہی میدان حشر میں ہوگی۔
یہ خیال رکھیں کہ یہ طلبا آپ کے لیے " ذریعہ معاش بھی ہیں اور ذریعہ معاد بھی "
*9*۔ مدرس اپنے درجہ کے طلبا کی اخلاقی تربیت اور تعلیمی ذمہ داری میں خود کو ذمہ دار گردانے۔
یاد رکھئے ! اچھے کاموں میں کوئ مہتمم رکاوٹ نہیں ڈالتا۔۔۔
*10*۔ آپ کو مدرسہ سے ملنے والی تنخواہ چاہے وہ اعلی ترین ہی کیوں نہ ہو مگر وہ آپ کی خدمت کا بدل ہرگز نہیں بن سکتی ہے۔ اصل بدلہ تو بروز محشر اللہ تعالی دے گا۔ ان شاء اللہ۔۔۔ ہمیشہ شکر گذار رہئے کہ اللہ تعالی نے آپ کو اس عظیم خدمت کے لیے منتخب کیا....
( خیرکم من تعلم القرآن و علمہ)
আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) এর প্রতি প্রশ্ন ও তার জবাব-
مجموع الفتاوى (24/ 253)
وَسُئِلَ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى -:
هَلْ التَّهْنِئَةُ فِي الْعِيدِ وَمَا يَجْرِي عَلَى أَلْسِنَةِ النَّاسِ: " عِيدُك مُبَارَكٌ " وَمَا أَشْبَهَهُ هَلْ لَهُ أَصْلٌ فِي الشَّرِيعَةِ؟ أَمْ لَا؟ وَإِذَا كَانَ لَهُ أَصْلٌ فِي الشَّرِيعَةِ فَمَا الَّذِي يُقَالُ؟ أَفْتُونَا مَأْجُورِينَ.
অর্থ : আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) কে জিজ্ঞাসা করা হলো। ঈদের সময় অভিনন্দন জানানো, যেমনি ভাবে মানুষের মুখে প্রচলন রয়েছে যে, ‘‘عِيدُك مُبَارَكٌ’’ (ঈদ মোবারক) অথবা এর সমর্থক কোন কিছু। শরীয়তে এগুলোর কোন ভিত্তি রয়েছে কি? যদি কোন ভিত্তি থাকে তাহলে তা কি? জানিয়ে সাওয়াব প্রাপ্ত হবেন।
فَأَجَابَ:
أَمَّا التَّهْنِئَةُ يَوْمَ الْعِيدِ يَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ إذَا لَقِيَهُ بَعْدَ صَلَاةِ الْعِيدِ: تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ وَأَحَالَهُ اللَّهُ عَلَيْك وَنَحْوُ ذَلِكَ فَهَذَا قَدْ رُوِيَ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْ الصَّحَابَةِ أَنَّهُمْ كَانُوا يَفْعَلُونَهُ وَرَخَّصَ فِيهِ الْأَئِمَّةُ كَأَحْمَدَ وَغَيْرِهِ. لَكِنْ قَالَ أَحْمَد: أَنَا لَا أَبْتَدِئُ أَحَدًا فَإِنْ ابْتَدَأَنِي أَحَدٌ أَجَبْته وَذَلِكَ لِأَنَّ جَوَابَ التَّحِيَّةِ وَاجِبٌ وَأَمَّا الِابْتِدَاءُ بِالتَّهْنِئَةِ فَلَيْسَ سُنَّةً مَأْمُورًا بِهَا وَلَا هُوَ أَيْضًا مِمَّا نُهِيَ عَنْهُ فَمَنْ فَعَلَهُ فَلَهُ قُدْوَةٌ وَمَنْ تَرَكَهُ فَلَهُ قُدْوَةٌ. وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.
অর্থ : তিনি উত্তরে বললেন। ঈদের দিন অভিনন্দন জানানো ও একজন অন্য জনকে ঈদের নামাযের পর সাক্ষাত হলে ‘‘ تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ’’ বলা ও ‘‘أَحَالَهُ اللَّهُ عَلَيْك’’ বলা; বা এর সামর্থক কিছু বলা, এগুলো সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর একটি দল থেকে সাব্যস্ত রয়েছে; তাদের মাঝে এমন প্রচলন ছিল।
এ বিষয়ে ইমাম আহমদ (রহ.) সহ অন্যরাও ছাড় দিয়েছেন। কিন্তু ইমাম আহমদ (রহ.) বলেন, আমি কাউকে অভিনন্দন জানাই না; যদি কেউ আমাকে দিয়ে শুরু করে তাহলে আমি জবাব দিয়ে থাকি। কেননা অভিনন্দন এর জবাব দেয়া ওয়াজিব। আর অভিনন্দন দিয়ে শুরু করা এটি প্রচলিত কোন সুন্নাত না; আর এর থেকে নিষেধ করা হয়েছে এমন কিছুও না। যে করবে সে তার আদর্শের উপর থাকলো আর যে করবে না সেও তার আদর্শের উপর থাকলো। وَاَللَّهُ أَعْلَمُ মাজমুউল ফাতওয়া-২৪/২৫৩।
❖ প্রশ্ন : অভিনন্দন/অভিবাদন এর জবাব দেয়া ওয়াজিব কেন?
❖ উত্তর : মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন-
{وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا} [النساء: 86]
আর তোমাদেরকে যদি কেউ অভিবাদন করে, তাহলে তোমরাও তার জন্য অভিবাদন কর; তারচেয়ে উত্তম অভিবাদন অথবা তারাই মত ফিরিয়ে বল। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী। (সূরা আন নিসা-৮৬)।
✏ ০২. আবূ উমামা আল বাহেলী (রা.) এর হাদীস-
الجوهر النقي (3/ 319)
قلت * في هذا الباب حديث جيد اغفله البيهقى وهو حديث محمد بن زياد قال كنت مع ابى امامة الباهلى وغيره من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فكانوا إذا رجعوا يقول بعضهم لبعض تقبل الله منا ومنك * قال احمد بن حنبل اسناده اسناد جيد *
অর্থ : আল্লামা (ابن التركماني المتوفى: 750هـ) তার রচিত .الجوهر النقي কিতাবে বলেন, ঈদের দিন শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে একটি উত্তম সূত্রে বর্ণিত হাদীস রয়েছে, যা ইমাম বায়হাকী (রহ.) উল্লেখ করেন নি। তাহলো মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ বলেন আমি আবূ উমাম আল বাহেলী (রা.) ও রাসূল (সা.) এর অনান্যা সাহাবীদের সাথে ছিলাম। তারা যখন ঈদের নামায থেকে ফিরে আসতেন তখন একজন অন্য জনকে বলতেন ‘‘تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ’’।
ইমাম আহমদ (রহ.) বলেছেন হাদীসটি সনদ এর দিক থেকে উত্তম সনদ। আল জাওহারুন নাকী-৩/৩১৯।
❀ আল্লামা ইবনু কুদামা (রহ.) ও ইমাম আহমদ (রহ.) থেকে উক্ত হাদীসটির সনদ উত্তম বলে সংকলন করেছেন-
المغني لابن قدامة (2/ 295)
[فَصْلٌ قَوْل النَّاس فِي الْعِيدَيْنِ تَقْبَل اللَّه مِنَّا وَمِنْكُمْ]
(1440) فَصْلٌ: قَالَ أَحْمَدُ، - رَحِمَهُ اللَّهُ -: وَلَا بَأْسَ أَنْ يَقُولَ الرَّجُل لِلرَّجُلِ يَوْمَ الْعِيدِ: تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْك. وَقَالَ حَرْبٌ: سُئِلَ أَحْمَدُ عَنْ قَوْلِ النَّاسِ فِي الْعِيدَيْنِ تَقَبَّلَ اللَّهُ وَمِنْكُمْ. قَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ، يَرْوِيه أَهْلُ الشَّامِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ.
قِيلَ: وَوَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ؟ قَالَ: نَعَمْ. قِيلَ: فَلَا تُكْرَهُ أَنْ يُقَالَ هَذَا يَوْمَ الْعِيدِ. قَالَ: لَا. وَذَكَرَ ابْنُ عَقِيلٍ فِي تَهْنِئَةِ الْعِيدِ أَحَادِيثَ، مِنْهَا، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ زِيَادٍ، قَالَ: كُنْت مَعَ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ وَغَيْرِهِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فَكَانُوا إذَا رَجَعُوا مِنْ الْعِيدِ يَقُولُ بَعْضُهُمْ لَبَعْضٍ: تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْك. وَقَالَ أَحْمَدُ: إسْنَادُ حَدِيثِ أَبِي أُمَامَةَ إسْنَادٌ جَيِّدٌ.
وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ ثَابِتٍ: سَأَلْت مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ مُنْذُ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً، وَقَالَ: لَمْ يَزُلْ يُعْرَفُ هَذَا بِالْمَدِينَةِ. وَرُوِيَ عَنْ أَحْمَدَ أَنَّهُ قَالَ: لَا أَبْتَدِي بِهِ أَحَدًا، وَإِنْ قَالَهُ أَحَدٌ رَدَدْتُهُ عَلَيْهِ.
আল মুগনী লি ইবনে কুদামা-২/২৯৫।
❀ শায়খ নাসীর উদ্দীন আলবানীও উক্ত হাদীসটির সনদ হাসান বলে দাবী করেছেন-
تمام المنة في التعليق على فقه السنة (ص: 356)
ولم يذكر من رواه وقد عزاه السيوطي لزاهر أيضا بسند حسن عن محمد بن زياد الألهاني قال: رأيت أبا أمامة الباهلي يقول في العيد لأصحابه: تقبل الله منا ومنكم.
ثم كتب بعض إخواننا الطلاب تعليقا على نفيي المتقدم فقال:
بل قال الحافظ في "الفتح" 2 / 446:
"وروينا في المحامليات بإسناد حسن عن جبير بن نفير ... ". ثم ذكره.
তামামুল মান্না ফিত তালীকে আলা ফিকহীস সুন্না লিল আলবানী-৩৫৬।
✏ ০৩. সাফওয়ান ইবনে আমর (রহ.) এর বর্ণনা-
الترغيب والترهيب لقوام السنة (1/ 251)
381- أخبرنا الحسين بن أحمد السمرقندي؛ أنا أبو العباس المستغفري، أنا أبو أحمد محمد بن أحمد بن أبي توبة المروزي، ثنا عبد الله بن محمود، ثنا يحيى بن أكثم، ثنا حاجب بن الوليد، ثنا مبشر بن إسماعيل الحلبي، عن صفوان بن عمرو السكسكي قال: سمعت عبد الله بن بسر وعبد الرحمن بن عائذ، وجبير بن نُفَيْرٍ وخالد بن معدان يقال لهم في أيام الأعياد:
((تقبل الله منا ومنكم، ويقولون ذلك لغيرهم)) .
অর্থ : সাফওয়ান ইবনে আমর (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর, আব্দুর রহমান ইবনে আয়েজ, যুবায়ের ইবনে নুফাইর ও খালেদ ইবনে মা’দান (রা.) থেকে শুনেছি যে, তাদেরকে ঈদের দিন ‘‘تقبل الله منا ومنكم’’ বলা হতো। এবং তারাও অন্যদেরকে এমননি বলতেন। আত তারগীব ওয়াত তারহীব লিল আসবাহানী-১/২৫১, হাদীস-৩৮১। উক্ত হাদীস এর সনদে কোন সমস্যা নেই।
✏ ০৪. হযরত যুবায়ের ইবনে নুফাইর (রা.) এর হাদীস-
فتح الباري لابن حجر (2/ 446)
وَرَوَيْنَا فِي الْمَحَامِلِيَّاتِ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ قَالَ كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا الْتَقَوْا يَوْمَ الْعِيدِ يَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكَ
অর্থ : হযরত যুবায়ের ইবনে নুফাইর (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) এর সাহাবীগণ ঈদের দিন সাক্ষাৎ হলে পরস্পর ‘‘ تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكَ’’ বলতেন। ফাতহুল বারী ইবনে হাজার-২/৪৪৬। আল্লামা ইবনে হাজার (রহ.) বলেন এটি হাসান বর্ণনা।
✏ ০৫. ইউনুস ইবনে উবাইদ এর বর্ণনা-
الدعاء للطبراني (ص: 288)
929 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْمَعْمَرِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، ثنا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، ثنا شُعْبَةُ، قَالَ: لَقِيَنِي يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ فِي يَوْمِ عِيدٍ فَقَالَ: «تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكَ»
অর্থ : শোবা (রহ.) বলেন, আমি ইউনুস ইবনে উবাইদ এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি অতঃপর তিনি আমাকে বললেন ‘‘ «تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكَ»’’। আদ দোয়াউ লিত তাবরানী-২৮৮ ।
وهذا سند مسلسل بالحفاظ المكثرين ، والمعمري تُكُلِّم فيه بكلام لا يضره هنا ؛ بسبب الغرائب والله أعلم . উক্ত বর্ণনাটিও প্রমাণযোগ্য।
✏ ০৬. বিখ্যাত ইমাম ইমামু দারিল হিজরী। ইমাম মালেক (রহ.) এর সমাধান-
المنتقى شرح الموطإ (1/ 322)
(مَسْأَلَةٌ) :
وَسُئِلَ مَالِكٌ أَيُكْرَهُ لِلرَّجُلِ أَنْ يَقُولَ لِأَخِيهِ إذَا انْصَرَفَ مِنْ الْعِيدِ تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْك وَغَفَرَ لَنَا وَلَك وَيَرُدُّ عَلَيْهِ أَخُوهُ مِثْلُ ذَلِكَ قَالَ لَا يُكْرَهُ.
অর্থ : ইমাম মালেক (রহ.) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি তার ভাইকে ঈদের নামায থেকে ফিরার সময় ‘‘ تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْك’’ অথবা ‘‘غَفَرَ لَنَا وَلَك ’’ বলা ও সেই ভাইও তার প্রতি উত্তরে এগুলো বলা কি মাকরুহ? তিনি জবাবে বললেন না। আল মুনতাকী-১/৩২২।
❀ ইমাম মালেক (রহ.) কে এ বিষয়ে আরো প্রশ্ন করেছেন ‘‘আলি ইবনে সাবেত’’ তিনি তার উত্তর পূর্বের ন্যায় দিয়েছেন-
الثقات لابن حبان (9/ 90)
15348 - مُحَمَّد بن حَاتِم الزمي سكن بَغْدَاد يرْوى عَن بن عُيَيْنَة وَالنَّاس روى عَنهُ أهل الْعرَاق حَدثنَا بن الباغندي ثَنَا مُحَمَّد بن حَاتِم الزمي ثَنَا عَليّ بن ثَابت قَالَ سَأَلت مَالك بن أنس عَن قَول النَّاس يَوْم الْعِيد تقبل الله منا ومنك فَقَالَ مَا زَالَ ذَلِك الْأَمر عندنَا مَا نرى بِهِ بَأْسا
আস সিকাত লি ইবেন হেব্বান-৯/৯০।
المغني لابن قدامة (2/ 295)
وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ ثَابِتٍ: سَأَلْت مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ مُنْذُ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً، وَقَالَ: لَمْ يَزُلْ يُعْرَفُ هَذَا بِالْمَدِينَةِ. وَرُوِيَ عَنْ أَحْمَدَ أَنَّهُ قَالَ: لَا أَبْتَدِي بِهِ أَحَدًا، وَإِنْ قَالَهُ أَحَدٌ رَدَدْتُهُ عَلَيْهِ.
আল মুগনী লি ইবনে কুদামা-২/২৯৫।
❀ উক্ত বিষয়ে রাসূল (সা.) এর দিকে সরাসরি দুটি হাদীসকে সম্বোধন করা হয়-
فتح الباري لابن حجر (2/ 446)
وَقَدْ رَوَى بن عَدِيٍّ مِنْ حَدِيثِ وَاثِلَةَ أَنَّهُ لَقِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عِيدٍ فَقَالَ تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكَ فَقَالَ نَعَمْ تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكَ وَفِي إِسْنَادِهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الشَّامِيُّ وَهُوَ ضَعِيفٌ وَقَدْ تَفَرَّدَ بِهِ مَرْفُوعًا وَخُولِفَ فِيهِ فَرَوَى الْبَيْهَقِيُّ مِنْ حَدِيثِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ ذَلِكَ فِعْلُ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ وَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ أَيْضًا
আল্লামা ইবেন হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন এ দুটি হাদীস যয়ীফ। ফাতহুল বারী-২/৪৪৬।
❀❖উল্লেখ্য যে, সর্বপরী ‘‘ঈদ মুবারক’’ বলার দ্বারা কোন সমস্যা নেই এটিই সম্পূর্ণ আলোচনা থেকে স্পষ্ট। কিন্তু উত্তম মনে হয়, যদি হুবহু সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর ন্যায় ‘‘ تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ’’ বলা হতো।
24/06/2017
[https://m.youtube.com/watch?v=0KmW3Ggk7TE] [پیغام عید الفطرمتکلم اسلام مولانا محمد الیاس گھمن صاحب دامت برکاتہم العالیہ - YouTube] is good,have a look at it!
پیغام عید الفطر👈متکلم اسلام مولانا محمد الیاس گھمن صاحب دامت برکاتہم العالیہ مزید ویڈیوز علماء کرام کے بیانات حمد و نعت نظم دیکھنے کے لیے یہ چینل ضرور سبسکرائب فرمائیں... ⚘بســـــــــــم اللـــــہ الرحـــمن الرحیــم⚘ *اَلْحَمْدُ لِله ...
*عیدالفطر*
*خوشیوں بھرا، محبت بھرا ، انسانی مساوات اور معاشرتی ہم آہنگی کااسلامی تہوار*
مولانا محمد الیاس گھمن
امیر عالمی اتحاد اہل السنت والجماعت
دنیا کی ہر قوم اپنا ایک تہوار رکھتی ہے۔ان تہواروں میں اپنی خوشی کے ساتھ ساتھ اپنے جدا گانہ تشخص کا اظہار بھی ہوتا ہے۔عیسائیوں کا کرسمس ڈے، ہندؤوں کی ہولی اور دیوالی اور پارسیوں کے ہاں نوروز اور مہرجان کی عیدیں ان کے تہوار کی نمائندہ ہیں۔ لیکن مسلمانوں کی عید دیگر مذاہب و اقوام کے تہواروں سے بالکل مختلف حیثیت رکھتی ہے۔ وہاں عید کا دن نفسیات کی پابندی، عیش و عشرت کے اظہار اور فسق و فجور کے افعال میں گزرتا ہے، لیکن اہل اسلام کی عید صرف خوشی ہی نہیں بلکہ اللہ رب العزت کی عبادت، ذکر اور شکرمیں گزرتی ہے۔ یعنی یومِ عید خوشی و شادمانی کے ساتھ ساتھ عبادت کا دن بھی ہے۔
اہل اسلام کی عید اپنے اندر اطاعتِ خداوندی، اظہار شادمانی، اجتماعیت، تعاون و رحمدلی کے احساسات، مال و دولت کی حرص سے اجتناب جیسے جذبات رکھتی ہے۔اس دن جو امور مشروع کیے گئے ہیں ان سے یہی ظاہر ہوتا ہے انسان غمی و مصیبت میں تو خدا کو یاد کرتا ہی ہے لیکن مسلمان اپنی خوشی کے لمحات میں بھی یاد الٰہی سے غافل نہیں رہتے۔
صحیح بخاری میں ہے کہ آنحضرت صلی اللہ علیہ وسلم عید الفطر کے دن نماز عید سے قبل طاق عدد کھجوریں کھا کر عید گاہ تشریف لے جاتے تھے۔اس لیے عید گاہ جانے سے قبل کوئی میٹھی چیز کھا کر جانا مسنون ہے۔ گویا اس دن کمالِ اطاعت کا درس دیا جا رہا ہے کہ عید سے پہلے رمضانِ مقدس کے مہینے میں روزہ دار کا نہ کھانا بھی شریعت کے حکم کی تعمیل تھی اور آج کے دن نماز سے قبل کچھ کھا کر جانا، یہ بھی سنتِ نبویہ علی صاحبہا الصلوۃ و السلام کی تعمیل ہے۔ ظاہر ہے کہ اس سے زیادہ اطاعت شعاری کیا ہو سکتی ہے؟ اس میں ایک پیغام یہ بھی ہے کہ مؤمن کا ہر عمل اللہ رب العزت کے احکامات اور آنحضرت صلی اللہ علیہ وسلم کی سنت کے مطابق ہونا چاہیے۔
صحیح بخاری میں اہل نصاب کو عید گاہ جانے سے قبل صدقئہ فطر کی ادائیگی کی ترغیب دی گئی ہے۔
گویا یہ پیغام دیا جا رہا ہے کہ عید کی خوشیوں میں اپنے فقراء و مساکین بھائیوں سے غافل نہ رہو ،بلکہ تعاون اور تراحم کے جذبات لے کر انہیں بھی اپنی خوشیوں میں شامل کرو۔یوں باہمی تعلقات کے جذبات پیدا ہو کر معاشرہ میں جو امیر و غریب کے درمیان دوری ہے وہ ختم ہو۔ صدقہ فطر کی مشروعیت میں ایک اہم امر یہ بھی کارفرما ہے کی انسان کو مال کی حرص و ہوس سے بچنا چاہیے اور یہ ملحوظِ خاطر رکھنا چاہیے کہ دولت خدا تعالیٰ کا عطیہ ہے،میری اپنی کاوش و کوشش کا کمال نہیں۔ جہاں باری تعالیٰ چاہیں گے وہیں خرچ کروں گا۔
عید کے دن صاف ستھرے کپڑے پہننے میں اللہ تعالی کی نعمت کا اظہار ہوتا ہے۔ جامع الترمذی میں ہے کہ اللہ تعالیٰ اس بات کو پسند کرتے ہیں کہ بندے پر اس کی نعمت کا اثر نظر آئے۔
بندہ صاف ستھرا یا نیا لباس پہن کر اس نعمتِ مال کا اظہار و اقرار کرتا ہے۔ یہاں یہ بات ملحوظ رہنی چاہیے کہ حقیقی عید محض زیبائش و آرائش اور فاخرانہ لباس پہننے کا نام نہیں بلکہ عذاب آخرت سے بچ جانا ہی حقیقی عید ہے۔ شیخ بہاء الدین العاملی نے الکشکول میں ایک شعر لکھا ہے:
*لَیْسَ الْعِیْدُ لِمَنْ لَبِسَ الْفَاخِرَۃِ*
*اِنَّمَا الْعِیْدُ لِمَنْ اَمِنَ عَذَابَ الْآخِرَۃِ*
کہ عید اس کی نہیں جو فاخرہ لباس پہنے بلکہ جو آخرت کے عذاب سے بچ جائے، عید تو اس کی ہے۔
عید کے دن عید نماز کی ادائیگی کے لیے عید گاہ کی طرف جانااور تمام مسلمانوں کا ایک امام کی اقتداء میں نماز ادا کرنا اسلام کی شان و شوکت کا اظہار ہے، امتِ مسلمہ عملاً یہ ثابت کر رہی ہوتی ہے کہ مسلمانوں میں امیر غریب، محتاج و غنی، گورا کالا تمام برابر ہیں۔ کسی کو دوسرے پر مال وعہدہ کی وجہ سے برتری نہیں۔ اللہ تعالیٰ کی نظر میں سب مساوی ہیں۔
نیز اس اجتماع میں آخرت کے دن کی یاد بھی ہوتی ہے۔ جب تمام انسان اللہ تعالیٰ کے حضور پیش ہوں گے، جہاں ہر قوم و قبیلہ کے لوگ جمع ہوں گے۔ تو یہ اجتماع جہاں خوشیوں کی ساعات مہیا کرتا ہے وہاں یادِ آخرت سے بھی غافل نہیں ہونے دیتا۔
نماز عید کی ادائیگی دراصل روزہ کی ادائیگی پر شکرانہ ہے۔ مسلمانوں نے رمضان مقدس میں روزہ رکھا، تراویح ونوافل ادا کیے۔ غیبت، چغلی، جھوٹ، بدکاری اور فحاشی جیسی برائیوں سے بچتے رہے۔ اعمال صالحہ کی برکات سے ان کی زندگی میں تبدیلی آئی کہ وہ گناہوں کو چھوڑ کرتقوی و پرہیزگاری کی زندگی بسر کرنے لگے۔اب اللہ تعالیٰ کے حضور حاضر ہو کر اس بات کا اظہار کرتے ہیں کہ نیکیوں کی توفیق دینے والی ذات اللہ تعالیٰ کی ہے۔ فرمانِ قرآنی کے تحت اس دن نیکی کی توفیق پر جتنا شکر ادا کریں گے اتنی ہی توفیق زیادہ ملتی ہے۔
یہاں ایک بات کا خیال رکھنا از حد ضروری ہے کہ ’’عید کی تیاری‘‘ کے عنوان سے ہمارے معاشرے میں فضول خرچی اور اسراف کا جو رواج چل نکلا ہے شریعت اس سے منع کرتی ہے۔ اتنی بات تو ثابت ہے کہ جو عمدہ لباس میسر ہو پہنا جائے لیکن اگر کسی کی مالی حالت کمزور ہو تو خواہ مخواہ قرض اٹھا کر وقتی زیب و زینت کا سامان کرنا کسی طرح درست نہیں۔
عید سے دس بارہ دن قبل ہی دکھلاوے اور ریاکاری کی نیت سے زرق برق کے لباس، مرغن کھانوں اور گھروں کی آرائش پر جوبے جا اور بے مقصد روپیہ پیسہ اڑایا جاتا ہے شریعت کی نظر میں یہ فضول خرچی ہے۔ قرآن مقدس میں فضول خرچی کرنے والون کو شیطان کا بھائی کہا گیا ہے۔
نیز رمضان المقدس کا آخری عشرہ جسے ’’جہنم سے آزادی کا عشرہ‘‘ کہا گیا ہے ،کی ساری عبادات و ریاضات ’’عید کی تیاری‘‘ کی نظر ہو جاتی ہیں۔ جو راتیں گوشئہ تنہائی میں باری تعالیٰ سے عرض و مناجات میں گزرنی چاہییں وہ بازاروں میں گھومنے میں گزرتی ہیں۔
رمضان المقدس کی آخری راتیں آخرت کمانے کا بہترین ذریعہ ہیں۔ مسند احمد میں حدیث مبارک موجود ہے:
*وَ یَغْفِرُ لَھُمْ فِیْ آخِرِ لَیْلَۃ*
کہ اللہ تعالی آخری رات روزہ داروں کی مغفرت فرماتے ہیں۔
انہی راتوں میں لیلۃ القدر بھی ہوتی ہے۔ لہذا ان مبارک ساعات کو فضول کاموں کی وجہ سے ضائع نہ کیا جائے بلکہ پورے اہتمام اور توجہ کے ساتھ عبادت میں مشغول رہا جائے اور عید کی حقیقی مسرتوں کو حاصل کرنے کے لیے شریعت مطہرہ کے بتائے گئے فرامین پر عمل کیا جائے۔
خاص کرکے علمائے کرام مذکورہ مسئلہ کی پوری مطالعہ کریں
*دارالافتاء عشرہ مبشرہ چمن پاکستان*
Eid k din galy milny ka bta den۔
عیدین میں گلے ملنے کا شرعی حکم
*اَلْجَواب حَامِدَاوَّمُصَلِّیا*
ہر قوم کے لیے سال میں کوئی نہ کوئی خوشی کا دن ہوتا ہے،جسے وہ اپنے مزاج و مذاق ،اپنے انداز اور اپنے طور طریقوں سے مناتی ہے۔
مسلمانوں کو بھی اللہ تعالی نے ”میٹھی عید “اور ”عید قرباں“کی صورت میں یہ دن عطا فرمایا ہے، کہ اس دن امت کے کلمہ گو مسلمان عید الفطراور عید الاضحی کی نماز کے ذریعے اس دن کی خوشی کا آغاز کرتے ہیں اور گویا کہ اللہ تعالیٰ کے سامنے سر بسجود ہو کراس بات کا اقرار کرتے ہیں کہ عید کا دن مسلمانوں کے لیے عیسائیوں ،یہودیوں یا دوسری قوموں کی طرح صرف ایک تہوار ہی نہیں، بلکہ یہ دن مسلمانوں کی عبادت کا دن بھی ہے اور خوشی کا دن بھی، جسے مسلمان اپنے دین کے توحیدی مزاج، اس کی تاریخ وروایات کے مطابق مناتے ہیں۔
لیکن !آج ہمارے معاشرے میں کم قسمتی سے، بوجہ دین سے دوری ، عید کے ایام میں ایسی رسوم شامل ہو گئی ہیں جن کا دین سے دور کا بھی تعلق نہیں اور عمومی طور پر مسلمانوں کا ایک بہت بڑا طبقہ انہیں عید کے تہوار کا حصہ اور دین سمجھ کر انجام دے رہا ہے،ان رسوم میں سے ایک رسم عید کے دن ”مصافحہ ومعانقہ کرنا “ہے۔
آج ہمارے معاشرے میں خاص عید کے موقع پر صر ف عید کی وجہ سے گلے ملنے کی رسم کو بہت سے لوگوں نے اس قدر اہم اور خاص عمل سمجھ لیا ہے کہ اس عمل میں سستی و کوتاہی کسی حال میں گوارا نہیں کرتے ،خواہ ایک ہی گھر کے افراد کیوں نہ ہوں اور ایک ساتھ عید کی نماز کے لیے گئے ہوں،ایک دوسرے کے قریب ہی کھڑے ہو کر نما زادا کی ہو اور خاص اس موقع پر ملاقات نہ ہو رہی ہو،یہاں تک کہ عید کے دن خواہ تمام نمازوں، مسنون اعمال اور گناہوں سے بچنے کی تو فیق نہ ہو، مگر یہ رسم ادا کرنا انتہائی لازم سمجھا جاتا ہے بلکہ خاص اس عمل کی غرض سے ایک دوسرے سے ملنے کی کوشش کی جاتی ہے، اور اگر خاص عید کے دن کسی کے ساتھ یہ رسم پوری نہ ہو سکے تو اگلے روز بھی اس کی جستجو اور کوشش رہتی ہے اوراگر کوئی اس کو ادا نہ کرے تو اسے بہت برا سمجھا جاتا ہے جیساکہ عام طور پر مشاہدہ ہے، سِتم اس پر یہ ہے کہ اس میں مردوں کے شانہ بشانہ عورتیں بھی ہیں۔
اس سلسلے میں یہ بات واضح رہے کہ مصافحہ یا معانقہ کرنے (یعنی دونوں ہاتھ ملانے اور گلے ملنے )میں حضور صلی الله علیہ وسلم اور صحابہ کرام رضی اللہ عنہم کاطریقہ یہ تھاکہ جب آپس میں ملاقات ہوتی تو پہلے سنت کے مطابق سلام کرتے اور سلام کے بعد مصافحہ کرتے اور جب سفر سے واپس آتے تو معانقہ کرتے(اس سے ہٹ کر مصافحہ ومعانقہ کا کوئی خاص دن مثلاً: کسی نماز کے بعد یا عید کا موقع مقرر نہ تھا )۔
چناں چہ حضرت ابو ذر رضی اللہ عنہ فرماتے ہیں کہ میں نے جب بھی رسول اللہ صلی الله علیہ وسلم سے ملاقات کی تو آپ نے مجھ سے مصافحہ فرمایااور ایک دن رسول اللہ صلی الله علیہ وسلم نے مجھے بلانے کے لیے (میرے گھر میں)کوئی قاصد بھیجا ، مگر اس وقت میں اپنے گھر میں موجود نہیں تھا (بلکہ باہر گیا ہوا تھا)جب میں اپنے گھر آیا تو مجھے اطلاع دی گئی کہ رسول اللہ صلی الله علیہ وسلم نے مجھے بلانے کے لیے قاصد بھیجا تھا ،میں فوراً رسول اللہ صلی الله علیہ وسلم کی خدمت اقدس میں حاضر ہوا،اس وقت آپ اپنے بستر پر تشریف فرما تھے ، آپ نے مجھے فوراً اپنے ساتھ چمٹا لیا (یعنی مجھ سے معانقہ فرمایا)تو میں نے آپ کو بہت ہی حسین و جمیل اور خوبصورت پایا۔(سنن ابی داوٴد،رقم الحدیث: (2514) :4/453،داراحیاء التراث العربی)
حضرت انس رضی اللہ عنہ روایت کرتے ہیں کہ رسول اللہ صلی الله علیہ وسلم کے صحابہ رضی اللہ عنہم جب آپس میں ملاقات کرتے تو مصافحہ کرتے اور جب کسی سفر سے لو ٹتے تو معانقہ کیا کرتے تھے ۔(الترغیب والترہیب، رقم(4007)، ص:514،دار ابن حزم)
ان دونوں روایات(اور دیگر کئی روایات )سے صاف معلوم ہوتا ہے کہ نبی کریم صلی الله علیہ وسلم اور صحابہ کرام رضی اللہ عنہم اجمعین ملاقات کے وقت مصافحہ کرتے اور سفر سے واپسی پر معانقہ فرماتے تھے، لہٰذامذکورہ تفصیل سے مصافحہ اور معانقہ کرنا مسنون و مستحب اور قابلِ ثواب ہے، اس پر عمل کرنا چاہیے۔
چناں چہ اگر کوئی مصافحہ اور معانقہ کے عمل کو عید کے دن ، خاص عید کے دن کی وجہ سے لازم ،ضروری اور سنت نہ سمجھے اور عیدین کے علاوہ سال کے دیگر ایام میں بھی اس عمل کو سنت سمجھ کر اپنی مستقل عادت بنا لے اور پھر عیدین کے دن اپنی گذشتہ عادت کے مطابق ملاقات کے وقت سنت کے مطابق سلام کر کے دونوں ہاتھو ں سے مصافحہ کرے یا جو عزیز ، رشتہ دار یا دوست عید کے دن سفر سے آئیں اور سفر سے آنے کی وجہ سے ان سے گلے ملے ،تو یہ نہ صرف جائز بلکہ عین سنت ہے۔
جب کہ خاص عید کی تخصیص کی وجہ سے مصافحہ اور معانقہ کرنا شرعاً ثابت نہیں ، نہ نبی اکرم صلی الله علیہ وسلم کے زمانے میں اور نہ ہی خیر القرون کے زمانے میں، لہٰذا اس طریقے کو ترک کرنے اور دوسروں کو حکمت و بصیرت کے ساتھ سمجھا نے کی ضرورت ہے، کہ کسی شرعی دلیل سے اس کا ثبوت نہیں اور فقہائے کرام واکابر عظام رحمہم اللہ نے اسی پہلو سے اس کو بدعت اور ناجائز قرار دیا ہے اور اس سے بچنے کی تاکید فرما ئی ہے، تاہم اس سلسلے میں کسی قسم کے فتنے و انتشار سے بچنے کی ہر ممکن کوشش کی جائے،لہٰذا اگر کوئی اس موقع پر ملنے پر ہی بضد ہو تو اُس وقت اس سے بغیر سنت کی نیت کیے، مل تو لیں ،لیکن ہیئتِ مخصوصہ بدل دیں، یعنی تین کے بجائے ایک دفعہ ملنے پر اکتفا کریں اور پھر کسی دوسری نشست میں پیار و محبت سے اس کو سمجھاکر مسئلہ واضح کر دیں۔
ذیل میں اس مسئلے سے متعلق فقہ و فتاوی سے گہری مناسبت رکھنے والے اکابر علماء و فقہاء امت کی آرا کو نقل کیا جاتا ہے، تاکہ اس رسم کی حقیقت قارئین کے سامنے پوری طرح واضح ہو جائے۔
*… فقیہ النفس ،حضرت مولانا رشید احمد گنگوہی صاحب رحمہ اللہ ”فتاوی رشیدیہ “میں تحریر فرماتے ہیں:
”عیدین میں معانقہ کرنا بدعت ہے“۔(ص:443،سعید)
*…مفتی اعظم ہند،حضرت مولانا مفتی کفایت اللہ صاحب دہلوی رحمہ اللہ فرماتے ہیں :
”عیدین میں معانقہ کرنا یا عید کی تخصیص سمجھ کر مصافحہ کرنا شرعی نہیں، بلکہ محض ایک رسم ہے“۔(کفایت المفتی:3/302،دارالاشاعت)
*…حکیم الامت ،مجدد ملت،حضرت مولانا اشرف علی تھانو ی صاحب رحمہ اللہ رقم طراز ہیں:
”قاعدہ کلیہ ہے کہ عبادات میں حضرت شارع علیہ السلام نے جو ہیئت و کیفیت معیّن فرمادی ہے،اس میں تغیّر وتبدّل جائز نہیں اور مصافحہ چوں کہ سنت ہے، اس لیے عبادات میں سے ہے، حسبِ قاعدہ مذکورہ اس میں ہیئت و کیفیت ِ منقو لہ سے تجاوز جائز نہ ہو گااور شارع علیہ السلا م سے صرف اولِ لِقاء کے وقت بالاجماع یاوداع کے وقت بھی علی الاختلاف منقول ہے،پس اب اس کے لیے ان دو وقتوں کے سوا اور کوئی محل و موقع تجویز کرنا تغییر عباد ت کرنا ہے، جوممنوع ہے لہٰذا مصافحہ بعد عیدین یا بعد نمازپنجگانہ مکروہ و بدعت ہے،شامی میں اس کی تصریح موجود ہے“۔(امداد الفتاوی :1/557،مکتبہ دارالعلوم ،کراچی)
*…حضرت مولانا ظفر احمد عثمانی صاحب رحمہ اللہ لکھتے ہیں:
”عیدین کی نماز کے بعد مصافحہ کا جو رواج ہے یہ بدعت ہے، دوسرے اوقات کی طرح اگر کسی شخص سے اس وقت نئی ملاقات ہو تو مصافحہ کر لے، ورنہ نہیں“۔ (امداد الاحکام:1/188، مکتبہ دار العلوم،کراچی)
*…مفتی اعظم پاکستان،حضرت مولانا،مفتی محمد شفیع صاحب رحمہ اللہ لکھتے ہیں:
”یہ بدعت ہے اور شعارِ روافض ہے، ترک کرناچاہیے“۔ (امداد المفتین،ص:187،دارالاشاعت)
*…صدر مفتی دارالعلوم دیوبند،حضرت مولانا مفتی عزیز الرحمان صاحب رحمہ ا للہ لکھتے ہیں:
”نمازِ عیدین یا دیگر نمازوں کے بعد تخصیص مصافحہ کی کرنا اور اسی وقتِ خاص میں اس کو سنت جاننا اور معمول بہ ٹھہرانا بعض فقہاء نے منع لکھا ہے اور تبیین ِمحارم میں اس کو روافض کے طریقہ سے لکھاہے اور مکروہ فرمایا ہے“۔(عزیز الفتاوی،ص:147،دار الاشاعت)
*…فقیہ الامت،حضرت مولانامفتی محمود حسن گنگوہی صاحب رحمہ اللہ اس سلسلے میں تحریر فرماتے ہیں:
”عید کا مصافحہ و معانقہ بدعت ہے“۔(فتاوی محمودیہ:8/464، ادارہ الفاروق،کراچی)
*…حضرت مولانا ،مفتی سید عبد الرحیم لاجپوری صاحب رحمہ اللہ لکھتے ہیں:
”عید کی نماز کے بعد ملنا اور معانقہ و مصافحہ کرنا کوئی امرِ مسنون نہیں ہے،لوگوں کی اختراعات اور بدعات میں سے ہے،احادیث میں جہاں تک معلوم ہے اس کا پتہ نہیں چلتا،غیبوبت کے بعد مصافحہ اور طویل غیبوبت پر معانقہ ثابت ہے،مگر عید کی نماز کے بعد ان کا ثبوت نہیں ہے،یہاں یہ حالت ہے کہ وہ رفقاء جو نماز میں شریک بلکہ برابر میں کھڑے تھے، سلام اور خطبہ کے بعد معانق ہوتے ہیں اور اس کو امرِ دینی سمجھتے ہیں،اس لیے یہ غلط چیز ہے“۔ (فتاوی رحیمیہ:2/111،112،دارالاشاعت)․
*…مفکر ِاسلام ،حضرت مولانا،مفتی محمود صاحب رحمہ اللہ رقم طراز ہیں:
”واضح رہے کہ مصافحہ اور معانقہ ابتدائے ملاقات کے وقت مسنون ہے اور وداع کے وقت مختلف فیہ ہے،لہذا بعد از نماز عید مسنون تو ہر گز نہیں ہے، کیوں کہ اس کا ثبوت حضور پاک صلی الله علیہ وسلم سے نہیں ہے ، ہاں بعض علماء اس کو بدعت مباحہ کہتے ہیں اور (بعض )علماء اس کو بدعت مکروہہ کہتے ہیں اور مولانا عبد الحئی صاحب لکھنوی اپنے فتاوی کی جلد /2،ص/45 پر فرماتے ہیں،”علی کل تقدیر ترک اس کا اولیٰ ہے…“۔(فتاوی مفتی محمود:2/513،جمعیت پبلیکیشنز)
*…حضرت مولانا مفتی نظام الدین صاحب اعظمی فرماتے ہیں:
”مطلقاً نماز کے بعد بالالتزام مصافحہ یا معانقہ کرنا شرعاً درست نہیں ،حتیٰ الامکان اس عمل سے بچنا ضروری ہے،لیکن ابتدائی ملاقات کسی نماز کے بعد فوراً ہو رہی ہو تو اس صور ت میں گنجائش ہے کہ مصافحہ یا معانقہ کیاجا سکتا ہے “۔(نظام الفتاوی:1/59،مکتبہ رحمانیہ)
*…فقیہ العصر،حضرت مولانا مفتی رشید احمد لدھیانوی صاحب رحمہ اللہ لکھتے ہیں:
”یہ طریقہ اختیارکرنا بدعت اور مکروہ ہے…بدعت یا کسی گناہ کا ارتکاب کسی مصلحت کے پیش ِ نظر ہر گزجائز نہیں ،البتہ دوسروں کو منع کرنااس وقت ضروری ہے جب قبول کی امید ہو،ورنہ ”نہی عن المنکر“ ضروری نہیں، غرض یہ کہ خود نمازِ عید کے بعدکسی سے مصافحہ یا معانقہ نہ کرے،ہاں! اگر کسی سے ملاقات ہی بعد نماز کے ہوئی ہو تو اس سے جائز ہے،مگر تشبّہ بالبدعة اور اس کی تائید کا ذریعہ ہونے کی وجہ سے اس سے بھی اجتناب کرنا چاہیے“۔ (احسن الفتاوی :1/354،سعید)
*…حکیم العصر،حضرت مولانا محمدیوسف لدھیانوی شہید رحمہ اللہ فرماتے ہیں:
”یہ سنت نہیں،محض لوگوں کی بنائی ہوئی ایک رسم ہے،اس کو دین کی بات سمجھنا اور نہ کرنے والے کو لائق ملامت سمجھنا بدعت ہے“۔(آپ کے مسائل اور ان کا حل:2/573،مکتبہ لدھیانوی)․
*…جامعہ حقانیہ (اکوڑہ خٹک)سے جاری ہونے والے فتاوی میں ہے کہ:
”عیدین اور جمعہ کی نمازوں کے بعد مصافحہ کرنے میں علمائے کرام کا اختلاف ہے،حضرت تھانوی رحمہ اللہ اوردیگر محققین علمائے کرام نے اس کو ممنوع قرار دیا ہے اور بعض دیگر حضرات نے اس کی اجازت مرحمت فرمائی ہے،لہذا اگر مصافحہ کرنے میں التزام مالا یلزم ہو توممنوع ہے،ورنہ نہیں تاہم نہ کرنا بہترہے“۔(فتاوی حقانیہ:2/53،جامعہ دار العلوم حقانیہ ، اکوڑہ خٹک،نوشہرہ)
*…جامعہ خیر المدارس (ملتان)سے جاری ہونے والے فتاوی میں ہے:
”عیدین یا دوسری نمازوں کے بعد مصافحہ یا معانقہ کرنا بدعت ہے، مصافحہ یا معانقہ کی سنت صرف ملاقات یا رخصتی کے وقت ہے اور اسی ملاقات ہی کے مصافحہ کے متعلق آں حضرت صلی الله علیہ وسلم نے فرمایا ہے کہ موجب تکفیر ذنوب و سقوط گناہ ہے، الحاصل مصافحہ نماز کے بعد بہر حال مکروہ ہے ، نیز ! یہ روافض کا طریقہ ہے، اس سے اجتناب لازم ہے“۔ (خیر الفتاوی:1/570،مکتبہ امدادیہ)
*…صدر ِدارالعلوم کراچی ،حضرت مولانا مفتی محمد رفیع عثمانی صاحب زید مجدہم فرماتے ہیں:
”عید پر معانقہ کرنا سنت سے ثابت نہیں،لہٰذا اس کا التزام بدعت ہے،اگر کوئی یہ عقیدہ رکھتا ہے کہ عید پر معانقہ سنت ہے یا عید کے ساتھ معانقہ کی شرعاً کوئی خصوصیت ہے تو شرعاً ایسے شخص کے ساتھ معانقہ نہیں کرنا چاہیے“۔ (امداد السائلین المعروف فتاوی دار العلوم کراچی: 1/165، 166،ادارة المعارف، کراچی)
*…شیخ الاسلام حضرت مولانا مفتی محمد تقی عثمانی صاحب زید مجدہم فرماتے ہیں:
”دو مسلمانوں کی ملاقات کے وقت مصافحہ مسنون ہے،نیز کوئی شخص سفر سے آئے تو اس سے معانقہ کرنا بھی سنت سے ثابت ہے،ان دونوں مواقع کے علاوہ سنت نہیں ہے،لیکن اگر سنت سمجھے بغیر اتفاقاً کبھی کر لے تو گناہ بھی نہیں اور سنت سمجھ کر کرے تو بدعت ہے، ہمارے زمانے میں چوں کہ فرض نمازوں کے بعد مصافحہ اور عیدین کے بعد معانقہ کو سنت سمجھا جانے لگا ہے،حالاں کہ یہ آں حضرت صلی الله علیہ وسلم سے ثابت نہیں،اس لیے علماء نے اس کو بدعت قرار دیا ہے اور اس سے بچنے کی تاکید فرمائی ہے، لیکن کہیں اعتقاد سنت کا نہ ہو تو مباح ہے“۔(فتاوی عثمانی:1/103،مکتبہ معارف القرآن)
*…دارالعلوم یاسین القرآن سے جاری ہونے والے فتاوی میں ہے کہ:
”صورت مسئولہ میں مصافحہ ،شریعت میں اُنس ومحبت کے پیدا کرنے کا ذریعہ ہے،اپنے مسلمان بھائی کے ساتھ مصافحہ کرنا سنت ہے،لیکن اپنی طرف سے مصافحہ کو بعض مواقع کے ساتھ خاص کر لینا اور ان مواقع پر اہتمام و التزام کے ساتھ مصافحہ کرنا صحیح نہیں ہے بلکہ اس کا ترک لازم ہے، جیساکہ نماز کے بعد مصافحہ کرنے کو علامہ شامی نے شیعوں کا شعار قرار دیا ہے“۔ (نجم الفتاوی :1/136، دارالعلوم یاسین القرآن،کراچی)
*…حضرت مولانا عبد الحئی لکھنوی صاحب رحمہ اللہ فرماتے ہیں:
”مصافحہ اور معانقہ کا وقت ابتدائے ملاقات ہے،پس عید کی نماز کے بعدمصافحہ اور معانقہ مسنون نہیں ہے اور علماء اس باب میں مختلف ہیں،بعض بدعت مباحہ کہتے ہیں اور بعض ہر حال میں بدعتِ مکروہہ کہتے ہیں، اس کا تر ک اولیٰ ہے“۔(مجموعة الفتاوی (مترجم):2/201،202،سعید)
*…حضرت مولانا سید زوّار حسین شاہ صاحب نے لکھا ہے کہ:
”عیدین کے روز نمازِ عیدین کے بعد مصافحہ و معانقہ کرنا ہر حال میں مکروہ و بدعت ہے،صحابہ کرام رضوان اللہ علیہم اجمعین وسلف صالحین رحمہم اللہ سے اس کا کوئی ثبوت نہیں ملتا،آج کل اس پر بہت زیادہ عمل ہو گیا ہے،حتیٰ الامکان اس کا ترک لازم ہے،بلکہ ہر نماز کے بعد بھی مصافحہ کرنا مکروہ اور بدعت ہے،بعض جگہ اس کا بھی رواج عام ہو گیا ہے،یہ طریقہ رافضیوں کا ہے اس لیے بھی اس سے پر ہیز ضروری ہے“۔(عمدة الفقہ :2/461،زوّار اکیڈمی)․
*…جامعہ فاروقیہ(کراچی)سے جاری ہونے والے فتاوی میں ہے:
”نماز کے بعد بشمولِ عیدین ،مصافحہ یا معانقہ کرنا صحابہ کرام رضوان اللہ علیہم اجمعین واسلافِ امت رحمہم اللہ میں سے کسی سے بھی جزوی طور پر ثابت نہیں، فقہاء و محدثینِ کرام سے اس عمل کی ممانعت منقول ہے، حافظ ابن حجر رحمہ اللہ نے اسے بدعتِ شنیعہ اور علامہ ابن ِ عابدین رحمہ اللہ نے اسے روافض کی بدعت باور کرتے ہوئے ترک کا حکم دیاہے“۔(تبویب رجسٹر فتاوی:61/90،غیر مطبوعہ)
مذکورہ بالا تمام فتاوی سے یہ بات روزِ روشن کی طرح عیاں ہو جاتی ہے کہ عیدین کی نماز کے
بعدصحابہ کرام رضوان اللہ علیہم اجمعین ،تابعین ، تبع تابعین اورسلف صالحین رحمہم اللہ اجمعین میں سے کسی سے اس مذکورہ عمل(مصافحہ و معانقہ )کا مسنون یا عبادت ہونا منقول نہیں ۔
اس لیے اس بات کا اہتمام کرناہم سب کے لیے از حد ضروری ہے کہ اس بابرکت دن میں کہیں ہم انجانے میں یہ عمل کر کے کسی گناہ کے مرتکب تو نہیں ہو رہے!! اگر ایسا ہے تو فی الفور اس عمل یا اس جیسے دیگر گناہوں سے اللہ جل جلالہ کے حضور توبہ تائب ہو کراعمال مسنونہ کو اپنانے کی ہر ممکن کوشش کریں اور پوری حکمت و بصیرت سے گرد ونواح میں موجوداس عمل میں مبتلا افراد ِ امت کو سمجھانے کی کوشش کریں۔اللہ رب العزت ہم سب کو صراط مستقیم پر گامز ن رہنے کی توفیق عطا فرمائے۔ آمین
*وَاللہُ اَعْلْمُ*
*کَتَبَہُ: شُعَیْب عُثْمَانِیْ*
*دارُالْافتاء عشرہ مبشرہ چمن پاکستان*