29/07/2026
শুভ গুরু পূর্নিমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মে গুরু পূর্ণিমার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। 'গুরু' শব্দটি দ্বারা এমন ব্যক্তিকে নির্দেশ করা হয় যিনি অন্ধকার দূরীভূত করেন, অর্থাৎ যিনি অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে যান তিনিই গুরু।সনাতন ভারতীয় ঐতিহ্যে, গুরুর স্থান ঈশ্বরের চেয়ে উঁচুতে বলে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে গুরু পূর্ণিমা উৎসব উদযাপিত হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস যে *মহর্ষি বেদব্যাস* এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই দিনে গুরুদের স্মরণ করার দিন।
ভারতীয় সভ্যতা গুরু পরম্পরার। কখনও যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জুনের গুরু হয়েছেন শ্রী কৃষ্ণ, আবার কখনও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের গুরু হয়ে চাণক্য গোটা ভারতকে সঙ্ঘবদ্ধ করেছিলেন। তাছাড়া বহু মানুষের এখনও আধ্যাত্মিক গুরু রয়েছেন। গুরু পূর্ণিমা কেবল কোনো নির্দিষ্ট দীক্ষাগুরু বা ধর্মীয় শিক্ষকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের জীবনের প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত যাঁরা আমাদের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই গুরুর সমতুল্য।
প্রকৃত গুরু হলেন তিনজন:-
প্রথম বাবা-মা ও পরিবারের গুরুজন। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর মাতাপিতাই হলেন জীবনের প্রথম গুরু। জীবনের প্রথম শিক্ষা, হাঁটা চলা এবং ভালো-মন্দের তফাৎ বাবা-মায়ের কাছ থেকেই শেখে সন্তান। তাই গুরু পূর্ণিমায় সকল বাবা-মাকে অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
দ্বিতীয় গুরু হলেন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা । শৈশব ও কৈশোরে যাঁরা আমাদের অক্ষরজ্ঞান থেকে শুরু করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিশা দেখিয়েছেন, সেই প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে কৃতজ্ঞতা ও প্রনাম নিবেদন করছি।
তৃতীয় গুরু হলেন দীক্ষাগুরু বা আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক। যাঁরা আধ্যাত্মিক সাধনা, পুজো-পাঠ, গীতা পাঠ বা মনের শান্তির পথ দেখিয়েছেন, সেই গুরু বা আশ্রমের মহারাজদের চরণ স্পর্শ করে শুভেচ্ছা জানাই।
*গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরুদেব মহেশ্বর*
*গুরুদেব পরমব্রহ্ম তস্মৈ শ্রী গুরুবে নমঃ*