18/02/2024
প্রসঙ্গঃ প্রচলিত মিলাদ মাহফিল
আমাদের সমাজে কিছু সংখ্যক আলেম রয়েছেন, যারা প্রচলিত মিলাদ বলে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছেন এবং সাধারণ মুসলমানকে অনেক দ্বিধাদ্বন্দের মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন৷ যারা প্রচলিত মিলাদ বলে নাজায়েজ অথবা বিদআতের ফতোয়া লাগাতে চলেছেন, আসলে এরা প্রচলিত মিলাদ বলুন অথবা পূর্বপ্রচলিত মিলাদ বলুন, কোন ধরনের মিলাদই তারা পালন করেন না৷ শুধু শুধু পবিত্র মিলাদ শরীফের ব্যাপারে কুৎসা রটনা করেই যাচ্ছেন৷ তাদের উদ্দেশ্য হল— তারা তো মিলাদ পালন করেন না, তাই অন্যদেরকেও কিভাবে এটি থেকে দূরে রাখা যায়৷ কারণ, অন্যরা যখন মিলাদ অনুষ্ঠান পালন করেন, তখন তাদের গায়ে জ্বালা-যন্ত্রণা শুরু হয়৷ তারা মানসিকভাবে এটি মেনে নিতে পারেন না৷ তাই কিছুদিন পরপর মাথা নাড়া দিয়ে ওঠেন; যাতে করে যতটুক সম্ভব মানুষকে মিলাদ শরীফের পবিত্র মাহফিল থেকে বঞ্চিত রাখতে পারেন৷ এটাই তাদের উদ্দেশ্য৷
যারা মিলাদ পালন করেন না, তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক আলেম রয়েছেন, যারা মিলাদ শরীফের মাহফিলকে খুব খারাপ পান এবং তাতে অংশগ্রহণ করেন না৷ আসলে পবিত্র মিলাদ শরীফ এর ব্যাপারে এদের কোন জ্ঞান নেই৷ এদের জ্ঞান শুধু এই যে, প্রচলিত মিলাদ এর কোন প্রমাণ করুনে ছালাছার মধ্যে নেই, রাসুল সাঃ এর যুগেও ছিল না, এটি বিদআত৷ তাদের জ্ঞান এতোটুকুই৷ তাছাড়া এদের মিলাদ সম্পর্কে জানার পর্যন্ত ইচ্ছাটুকু নেই৷ পক্ষান্তরে অন্য কিছু ওলামা রয়েছেন, যারা ইসলামের ইতিহাস চর্চা করেছেন৷ পবিত্র মিলাদ শরীফের ব্যাপারে চর্চা করেছেন৷ কিন্তু তারা তাদের অনুগামী মাওলানাদের অনুসরণ করার জন্য মিলাদের বিরোধিতা করে যাচ্ছেন৷ তারা ভালোভাবে জানেন যে, মিলাদ শরীফ জায়েজ রয়েছে, মিলাদ শরীফ যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, মিলাদ শরীফ পালনের দলিল রয়েছে, মিলাদ শরীফের কেয়াম করার দলিল রয়েছে৷ সবকিছুই তারা জানেন৷ শুধু শুধু অনুগামী আলেমদের অনুসরণের জন্যই তারা মিলাদ শরীফের বিরোধিতা করে যাচ্ছেন৷ মিলাদ শরীফের ব্যাপারে জেনেও তারা না জানার ভঙ্গি করে যাচ্ছেন৷
কিছু সময়ের জন্য তাদের কথা মেনে নিলাম যে, প্রচলিত মিলাদ শরীফ জায়েজ নয়; কিন্তু তারা তো কোন ধরনের মিলাদই পালন করেন না৷ উদযাপন করেন না৷ তাদের মাথা ব্যাথা মিলাদ শরীফের আনুষ্ঠানিক রূপ নিয়ে৷ আমরা যেভাবে মিলাদ শরীফের অনুষ্ঠান করে থাকি, তারা বলতে চান এরূপ মিলাদ শরীফ পূর্বে ছিল না, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর যুগেও ছিল না, কুরুনে ছালাছা যুগেও ছিল না৷ কিন্তু আমি বলতে চাই তারা তো কোন রূপেই মিলাদ পালন করেন৷ ওয়াজের মাহফিলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করাটাই যথেষ্ট নয়৷ এর জন্য আলাদা আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন রয়েছে৷ কারণ, পবিত্র মক্কা-মদিনা মিশর শাম প্রভৃতি দেশগুলোতে পূর্ব থেকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর মিলাদ শরীফের অনুষ্ঠান চলে আসছে৷
এ বিষয়ে জানার জন্য ইসলামের ইতিহাসকে চর্চা করার প্রয়োজন, কিতাবাদী দেখার প্রয়োজন৷ শুধু শুধু বাদশাহ মুজাফফরের নাম নিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া বাঞ্ছনীয় নয়৷ বাদশা মোজাফফরের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, মিলাদ মাহফিলের কোরআন হাদিসে কোন দলিল নেই বলা, রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামের যুগে, কুরুনে ছালাছা যুগে মিলাদ শরীফ বিদ্যমান ছিল না, এজন্য মিলাদ শরীফ বিদআত, নাজায়েজ; মিলাদ শরীফ নিয়ে ব্যঙ্গ ইত্যাদি যারা বলে থাকেন বা ব্যঙ্গ করে থাকেন, আসলে তারা খুব নিম্নমানের, নিম্নশ্রেণীর প্রাণীর সারিতে নিজেদেরকে দাড় করাচ্ছেন৷ মুসলমান হয়ে কোন ব্যক্তি পবিত্র মিলাদের বিরোধিতা করতে পারে না৷ কেননা অসংখ্য বিশ্ববরেণ্য আয়িম্মা ও মুহাদ্দিসীন, সালফে সালিহীন আনুষ্ঠানিকভাবে মিলাদ শরীফ পালন করে আসছেন, স্বপক্ষে কিতাবাদি লিখে প্রমাণ রেখে গেছেন৷ অন্তরে সদিচ্ছা এবং কিতাবাদি পড়ে সঠিক বিষয়টি বুজার প্রচেষ্টা থাকলে সবকিছুই পাওয়া যাবে৷ ইনশা আল্লাহ৷
যারা মিলাদ মাহফিলের পেছনে বিদাতের ফতওয়া লাগাচ্ছেন, আসলে বিদাতের সঙ্গে ওদের পরিচিতি ভালোভাবে নেই৷ বিদাত নিয়ে ওদের স্টাডি করার প্রয়োজন রয়েছে৷
আরেকটি বিষয় হল— মিলাদ বিরোধী আলেমরা আমলের নূতন কোন তরীকা বা নিয়ম দেখলে বলে থাকেন যে, কোরানে, হাদীসে, কুরুনে ছালাসায় এর কোন দলীল নেই৷ সুতরাং এটি বিদাত৷ তাদের উত্তরে আমি বলতে চাই যে, কোন কাজ করতে দলীলের প্রয়োজন নেই৷ কিন্তু কোন কাজকে নিষেধ করতে দলীল বাধ্যতামূলক৷ কারণ, প্রতিটি বস্তুই মূলতঃ বৈধ (জায়েয)৷ কোন একটি বিষয় তখনই অবৈধ (নাজায়েয) হিসাবে পরিগণিত হবে, যখন এটি নিষিদ্ধ করণের ব্যাপারে পবিত্র শরীয়তের পক্ষ থেকে কোন দলীল আসবে৷ যেমন ইসলামের প্রাথমিক যুগে শরাব পান বৈধ ছিল৷ সাহাবাগণ শরাব পান করতেন৷ পরবর্তীতে শরাবের নিষিদ্ধ করনে কোরান শরীফের আয়াত নাযিল হয়৷ অতঃপর শরাব নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়৷
আরেকটি বিষয় হল— মিলাদ বিরোধীরা প্রচলিত মিলাদকে শুধু এজন্যই বিদাত বা নাজায়েয বলে থাকেন যে, এতে ক্বিয়াম করা হয়৷ এব্যাপারে একটি কথা বলতে চাই যে, মিলাদ শরীফে ক্বিয়াম করার অসংখ্য দলীল রয়েছে বিশ্ববরেণ্য উলামায়ে কেরামদের পক্ষ থেকে৷ অকাট্ট দলীল বিদ্যমান থাকার পরও মাওলানা আশরফ আলী থানবী (রাহ), মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (রাহ) মাওলানা কাছীম নানাতবী (রাহ) সাহেবদের মত মান্যবর ব্যক্তিদের দলীলের মাধ্যমে মিলাদের ক্বিয়ামকে নাজায়েয বা বিদাত বলতে যাবেন না৷ কারণ, এদের যুগের অনেক আগে থেকেই প্রচলিত মিলাদ ও ক্বিয়াম মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত হয়ে আসছে৷ اللھم اهدنا الصراط المستقيم صراط الذين انعمت عليهم من النبيين و الصديقين و الشهداء والصلحين امين