20/05/2026
দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ ‘আরশোলা’র মতো আচরণ করছেন— সম্প্রতি দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়াস্বরূপ তৈরি হল এক নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ। নাম— ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘আরশোলা জনতা পার্টি’। আর আশ্চর্যের বিষয় হল, আত্মপ্রকাশের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই এই দলে যোগ দিয়েছেন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ!
কীভাবে সূত্রপাত এই দলের?
গত ১৬ মে, অভিজিৎ দীপকে নামের এক যুবক তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি গুগল ফর্ম পোস্ট করে এই দলে যোগদানের আহ্বান জানান। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৫ হাজার মানুষ সাড়া দেন। বিপুল সাড়া দেখে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে একটি ওয়েবসাইটও তৈরি করে ফেলেন অভিজিৎ। জানা গিয়েছে, তিরিশ বছর বয়সি অভিজিৎ আমেরিকার বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ নিয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করছেন এবং তিনি যুবসমাজের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর তুলে ধরতেই এই ব্যঙ্গাত্মক অথচ তাৎপর্যপূর্ণ প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তুলেছেন।
যোগ দিচ্ছেন বিশিষ্টজনেরাও
এই ‘আরশোলা আন্দোলন’ শুধু জেন-জ়ি (Gen Z)-দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, রাজনৈতিক মহলেও সাড়া ফেলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ প্রকাশ্যে এই দলে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়াও সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং প্রাক্তন সিভিল সার্ভেন্ট আশিস যোশীও এই তালিকায় রয়েছেন।
প্রধান বিচারপতির বক্তব্য ও সাফাই
বিতর্ক শুরু হতেই অবশ্য প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে। তিনি জানান, "যাঁরা ভুয়ো ডিগ্রি নিয়ে আইনের পেশায় প্রবেশ করেন এবং পরে মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমের মতো মহান পেশায় ঢুকে পরজীবীর মতো আচরণ করেন, আমি নির্দিষ্ট ভাবে তাঁদেরই সমালোচনা করেছি। দেশের তরুণদের সমালোচনা করার কথা একেবারেই ভিত্তিহীন।" তিনি দেশের যুবসমাজের প্রশংসাও করেন। কিন্তু তাতে এই ডিজিটাল আন্দোলনের গতি একটুও কমেনি।
কাদের জন্য এই দল?
অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, এই দল সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক এবং গণতান্ত্রিক। মহাত্মা গান্ধী, বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং জওহরলাল নেহরুর আদর্শে চলবে এই দল। সংগঠনে যোগদানের জন্য চারটি মজাদার শর্ত রাখা হয়েছে:
বেকার হতে হবে।
অলস হতে হবে।
অনলাইনে অনেকটা সময় কাটাতে হবে।
ভালো সমালোচনা করতে জানতে হবে।
দলের ৫ দফা ইস্তেহার
নিছক রসিকতা নয়, ‘আরশোলা জনতা পার্টি’ একটি ৫ দফা ইস্তেহারও প্রকাশ করেছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ:
১. আসন সংখ্যা না বাড়িয়েই সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
২. দলবদলকারী বিধায়ক ও সাংসদদের আগামী ২০ বছর নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
৩. অবসর গ্রহণের পর কোনও বিচারপতিকে রাজ্যসভায় জায়গা দেওয়া যাবে না।
৪. বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
৫. ‘গোদি মিডিয়া’র অ্যাঙ্করদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
লক্ষ্য কী?
অভিজিতের কথায়, "আরশোলা হল টিকে থাকার বা সহিষ্ণুতার প্রতীক। আমরা শুধু রসিকতা করতে আসিনি। সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে সক্রিয় রাজনীতিতে উৎসাহিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"