30/04/2020
S.B./Day--1 To All Classes.... স্নেহের ছাত্রছাত্রীরা,
তোমরা দেখতেই পাচ্ছো, এখন কি ধরনের এক অদ্ভুত অবস্থা চলছে সারা বিশ্ব জুড়ে।প্রথমে আমরা কি কেউ আন্দাজ করতে পেরেছিলাম এমন কিছু একটা হতে পারে কখনো...আবার ঠিক দু এক দিনের মধ্যেই, যখন সমস্ত দৈনন্দিন কাজকর্ম মোটামুটি স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল ?...না, কোনোভাবেই না। কারণ, বিপদ কখনোই বলে কয়ে আসে না যে.." আমি আসছি,..আমার অত্যাচার সহ্য করার জন্য প্রস্তুত হও।"
কিন্তু, বিপদ যখন এসেই গিয়েছে একদম দরজার গোড়ায়, তখন কিছু তো একটা করতেই হবে তাকে যতটা সম্ভব ঠেকিয়ে রাখতে ও শেষ পর্যন্ত হারিয়ে দিতে।
এখন, প্রথম বিপদ যখন এই অবাধ্য ভাইরাস এর ক্রমাগত গুণিতক হারে সংক্রমণ ও মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া ও অবশিষ্ট জীবিত মানুষগুলোকে ( আমাদেরকে) ক্রমাগত ভয় দেখানো, দ্বিতীয় বিপদ হল মানুষের অসহায়তা। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের দৈনন্দিন আয় যেহেতু খুবই কম এবং এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মহামারী ঠেকাতে এখন দেশ জুড়ে যে ' লক ডাউন ' চলছে, তার মধ্যে প্রায় বন্ধ, তাই স্বাভাবিক ভাবেই অন্যান্য চাহিদা মেটানোর আগে প্রত্যেককে প্রতিদিনের খাবারের চাহিদা মেটানোর কথাই আগে ভাবতে হচ্ছে। কারণ, বেঁচে থাকলে তবে বাকি সব কিছু....জামাকাপড়, বাড়িঘর, উৎসব - অনুষ্ঠান এবং অবশ্যই পড়াশোনা। তবে, ইচ্ছা থাকলে বাঁচার চাহিদা পূরণের পর দ্বিতীয় স্থানেই সে জানা ও শেখার চাহিদাকে রাখতে পারে। তবে, জীবন রক্ষাই এখন প্রথম ও প্রধান কর্তব্য। সকলে বেঁচে থাকলে সভ্যতাও বেঁচে থাকবে...আর তখনই স্কুল কলেজও বেঁচে থাকবে আর বাকি সবও থাকবে।
আমি চিরকালই বলে এসেছি, বই মুখস্থ করে আর দুটো প্রশ্নের দারুণ উত্তর তৈরি করে আর বিনিময়ে কিছু নম্বরের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে কোনো লাভই হবে না...যদি না কিছু মৌলিক শিক্ষা আমাদের ভিতর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এর মধ্যে অন্যতম হল - যে কোনো পরিস্থিতিতে আমাদের সাধ্যমত নিজের ও অপরের সর্বাধিক মঙ্গলের কথা ভাবা ও মঙ্গলের চেষ্টা করা।
বইএর পড়া তৈরি, প্রশ্নোত্তর লেখা, আঁকা, ইত্যাদির সময় তো আমরা যথেষ্টই পাচ্ছি আর পাবোও।( এ ব্যাপারে যতটা চেষ্টা করা যায় ও সফল হওয়া যায়, সে বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি ও নেবো।) কিন্তু, একজন ছাত্র বা ছাত্রী হিসাবে কিছু দায়িত্ব এই মুহূর্তে তোমাদের রয়েছে:
(১) যতটা সম্ভব বাড়িতে থাকা ও অন্যের থেকে বেশ কিছুটা অবস্থানগত দূরত্ব বজায় রেখে চলা( সংক্রমণ ঠেকাতে) ও তাকেও চলতে বলা।
(২) অন্যদের সামনে গেলেই নাক মুখ ইত্যাদি ঢেকে রাখা।
(৩) কোনো রকম অপচয় না করা।( মা বাবার কাছে কোনো বায়না না করা।)
(৪) আশেপাশের মানুষের যে কোনো কষ্ট চোখে পড়লে বড়দের( মা, বাবাকে) জানানো ও সাধ্যমত সাহায্য করতে অনুরোধ করা।
(৫) বাড়িতেই খেলাধুলা করা ও বাড়ির কাজে বাবা, মাকে সাহায্য করা, ইত্যাদি।
(৬) বিশেষ কঠিন সমস্যার ক্ষেত্রে আমাদেরকে জানানো।
(৭) উপরোক্ত ছয়টি বিষয় এবং আজ সহ আগামী দিনের সমস্ত নির্দেশিকা/ পরামর্শ, ইত্যাদি আশেপাশের অন্য ছাত্রছাত্রীদের জানানো।( যাদের মোবাইল মারফত জানার উপায় নেই।)
এতক্ষণ যে যে বিষয়ের কথা বললাম, তা বজায় রাখার পরেই আমাদের সাধারণ পড়াশোনার বিষয়টি আসছে। যেহেতু তোমাদের খুব বেশি বাড়ির কাজ করতে হয় না সকলের,( আমার কাছে তেমন খবরই আছে।), তাই দিনের একটা সময় তোমাদের থাকবেই, যখন এ দিকটায় মন দেওয়া যায়।
সেই সময়টায় ( বিশেষত সকাল ও সন্ধ্যায়) তোমরা বাড়িতে নিয়মিত প্রতিটি বিষয় যতটা সম্ভব অনুশীলন করতে( পড়তে ও তারপর লিখতে) নিশ্চই কুঁড়েমি করবে না। আর বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের নির্দেশ/ পরামর্শ/ ক্লাসগুলির দিকে এখন থেকে ধারাবাহিকভাবে নজর রাখবে, যতক্ষণ না বিদ্যালয় আবার চালু হচ্ছে।
মোবাইল মারফত বিদ্যালয় এর নিজস্ব WhatsApp group( শ্রেণী ভিত্তিক) চালু করার চেষ্টাও করা হচ্ছে। প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন থাকলে তোমরা অবশ্যই তা সেখানে পাঠাতে পারবে। বিদ্যালয় এর শিক্ষক শিক্ষিকাদের পক্ষ থেকে আমরা সময় সুযোগ মত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।
ভালো থাকবে.... সুস্থ থাকবে........
শুভেচ্ছান্তে,
তোমাদের সুস্মিত স্যার।