18/05/2026
**পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার ও জনগণের প্রত্যাশা: একটি নাগরিক মূল্যায়ন**
পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি মাননীয় শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত এই নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কাছ থেকে রাজ্যের সমস্ত স্তরের মানুষের বহু প্রত্যাশা রয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা শুরু করেছে। তবে সরকারের ভালো কাজের প্রশংসার পাশাপাশি, গণতন্ত্রের সুস্থ ঐতিহ্য মেনে কিছু বিতর্কিত ও উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তৈরি হওয়া কিছু আশঙ্কা ও প্রত্যাশা নিচে তুলে ধরা হলো:
**১. বুলডোজার সংস্কৃতির অপব্যবহার রোধ**
**উদ্বেগ:** বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা উচিত। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া বা নোটিশ ছাড়াই তড়িঘড়ি ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হচ্ছে, যা অনেক সময় প্রতিহিংসামূলক মনে হয়।
**প্রত্যাশা:** একটি গণতান্ত্রিক সরকারের 'রাজধর্ম' হলো সমস্ত নাগরিকের প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ করা। আইনের শাসন যেন কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মনে আতঙ্ক সৃষ্টির হাতিয়ার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
**২. কুরবানির নির্দেশিকা ও বাস্তব পরিস্থিতি**
* **উদ্বেগ:** আসন্ন কুরবানিকে কেন্দ্র করে গরু ও মহিষ কুরবানির ওপর যে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, বর্তমান পরিকাঠামোয় তা পুরোপুরি মেনে চলা প্রায় অসম্ভব। রাজ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানার সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং পঞ্চায়েত বা পুরসভা স্তরে দ্রুত অনুমোদনের পরিকাঠামো প্রস্তুত নেই।
* **আহ্বান:** উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুসলিম সমাজের বিশিষ্টজনেরা এক পরিপক্ক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা আহ্বান জানিয়েছেন, সরকারের সাথে কোনো সংঘাতে না গিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ঈদের পবিত্রতা রক্ষা করতে প্রয়োজনে ছাগল কুরবানি দেওয়া হোক। কোনোভাবেই যেন আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে।
**৩. শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও সমতা**
* **উদ্বেগ:** মসজিদে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা নির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্তটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক।
* **প্রত্যাশা:** এই নিয়ম যেন শুধু মসজিদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে সমস্ত ধর্মীয় স্থান, উৎসব এবং রাজনৈতিক সভা-সমিতির ক্ষেত্রেও সমভাবে ও নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হয়।
**৪. মাদ্রাসা শিক্ষা ও সাংবিধানিক অধিকার**
**বাস্তবতা:** মাদ্রাসা মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় শিক্ষা সুরক্ষার একটি সুসংহত মাধ্যম। ভারতের সংবিধান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার মৌলিক অধিকার দিয়েছে।
**প্রত্যাশা:** মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে নেতিবাচক প্রচার বন্ধ হওয়া দরকার। বর্তমান সরকারের কাছে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা—তারা যেন বৈষম্যহীন, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ পায়।
**উপসংহার:**
এদেশের সংখ্যালঘুরা ক্ষমতার রাজনীতির চেয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতেই বেশি আগ্রহী। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, তারা রাজধর্ম পালন করে রাজ্যের সমস্ত নাগরিকের মধ্যে সমান বিচার ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখবে।