Islamic Information Group & Online Fatwa Department

Islamic Information Group & Online Fatwa Department যে কোন মসলা-মাসায়েল, জিজ্ঞাসা করার জন

29/05/2026
26/05/2026

আজ আরাফাতের ময়দানে হাজী সাহেবগণ!

26/05/2026

আরাফার দিনের গুরুত্ব ও রোজার ফজিলত

আরবী মাসের সর্বশেষ মাস পবিত্র যুলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ হলো ইয়াওমে আরাফা তথা আরাফায় অবস্থানের দিন। এই দিনটি হজ্জ আদায়ের জন্য যারা পবিত্র খানায়ে কাবায় গমন করেছেন একইসাথে যারা গমন করেননি তেমন প্রত্যেক মুসলিমের জন্যই একটি মহা মর্যাদাপূর্ণ দিন। কারণ এই দিনে আল্লাহ তা’য়ালা তার বান্দাহদের প্রতি সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হিসেবে দ্বীন আল ইসলামকে পরিপূর্ণতা ঘোষনা করেছেন।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা আল মায়িদার ৩নং আয়াতে ইরশাদ করেছেন,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا
অর্থাৎ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের মনোনীত দ্বীনকে পূর্ণতা দান করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জীবন বিধান হিসেবে মনোনীত করলাম। ___সূরা আল মায়িদা আয়াত নং ৩

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে বলেছেন: “আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, এটি পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে। মুসলিম, ১১৬২)

আরাফায় অবস্থানকারী হাজীদের জন্য রোযা মুস্তাহাব নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফায় অবস্থান করেছিলেন রোজা বিহীন অবস্থায়।

জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখকে (ঈদুল আযহার আগের দিন) ‘ইওয়ামুল আরাফাহ’ বা ‘আরাফার দিন’ বলা হয়, কারণ এই দিনে হাজীরা আরাফাহ নামক একটা মাঠে জমায়েত হন। হজ্জের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ আহকাম হলো যিলহাজ্জ মাসের ৯ তারিখ ‘আরাফার ময়দানে’ অবস্থান করা। এই দিনের গুরুত্ত্ব সম্পর্ক রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আরাফার ময়দানে অবস্থান করাই হলো হাজ্জ।”

যারা হজ্জে যাবেন না, তাদের আরাফার দিনে রোযা রাখার ফযীলতঃ

‘ইয়াওমে আরাফা’র রোযা সম্পর্কে প্রসিদ্ধ হাদীস

(صيام يوم عرفة أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله والسنة التي بعده)
‘ইয়াওমে আরাফার রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, তিনি এর দ্বারা এর আগের এক বছরের ও পরের একবছরের গোনাহ মাফ করবেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৬২

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আরফার দিনের রোজার ছওয়াব এক হাজার দিন রোজা রাখার সমান। (তারগিব)

আরাফার দিন গুনাহ মাফ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের দিন

হাদিসে এসেছে—عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللَّهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ وَإِنَّهُ لَيَدْنُو ثُمَّ يُبَاهِي بِهِمُ الْمَلاَئِكَةَ فَيَقُولُ مَا أَرَادَ هَؤُلاَءِ ‏”‏‏( رواه مسلم، كتاب الحج) আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ স. বলেন : ‘আরাফার দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দাদের এত অধিক সংখ্যক জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যা অন্য দিনে দেন না। তিনি এ দিনে বান্দাদের নিকটবর্তী হন ও তাদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করে বলেন : ‘তোমরা কি বলতে পার আমার এ বান্দাগণ আমার কাছে কি চায় ?’

পবিত্র হাদীস গ্রন্থের অনুমোদিত আরাফার দিবসের আরো কিছু আমল

এছাড়াও আরাফার দিবসে নিম্নোক্ত আমলগুলো হাদীসের বিভিন্ন গ্রন্থে অনুমোদিত

গুনাহ মাফ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের কামনা করা

অধিক পরিমাণে জিকির ও দোয়া করা

জোরে কিংবা আস্তে তাকবীর পাঠ করা মোস্তাহাব:

আত-তাকবীরুল মুতলাক : যে তাকবীর যিলহজ মাসের ১ থেকে ১৩ই যিলহজ পর্যন্ত দিন রাতের যে কোন সময় / সর্বদা পাঠ করা যেতে পারে।

আত-তাকবীরুল মুকাইয়াদ : বা বিশেষ সময়ের তাকবীর। এ তাকবীর যিলহজ মাসের ৯ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্ত ফরজ সালাতের পরে তাকবীর পাঠ করতে হবে।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে এমন আমল করার তাওফীক দান করেন যাতে তিনি সন্তুষ্ট হবেন। তিনি যেন আমাদেরকে দীনের জ্ঞান দান করেন এবং ঐ সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নেক আমল সম্পাদন করে।আমীন।

25/05/2026
কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত ও আর্থিক সামর্থ্য         - মুফতি হাবিবুল্লাহ কাশেমী  ☞︎ স্পষ্টভাবে জেনে রাখা দরকার যে, কুরবান...
24/05/2026

কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত ও আর্থিক সামর্থ্য
- মুফতি হাবিবুল্লাহ কাশেমী

☞︎ স্পষ্টভাবে জেনে রাখা দরকার যে, কুরবানী প্রত্যেক সেই বুদ্ধিসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুকিম (অর্থাৎ সফরে নয়), মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর ওয়াজিব, যে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক। অথবা তার মালিকানায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত এমন সম্পদ রয়েছে, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমান। অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ (৮৭.৪৮৭৫ গ্রাম) অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা (৬১২.৪১২৫ গ্রাম) কিংবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ, অথবা বসবাসের ঘরের অতিরিক্ত বাড়ি বা সম্পত্তি, কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গৃহস্থালির সামগ্রী, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমান; অথবা ব্যবসার পণ্য, শেয়ার ইত্যাদি থাকলে তার ওপর এক অংশ কুরবানী করা আবশ্যক।
(ব্যবসায়িক পণ্য যে ধরনেরই হোক না কেন, যদি তার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমান হয়, তবে তার মালিকের ওপরও কুরবানী ওয়াজিব হবে।)
এছাড়াও, কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ, অর্থ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামগ্রীর ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয় এবং তা ব্যবসায়িক সম্পদ হওয়াও শর্ত নয়। জিলহজ মাসের ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বে যদি কেউ এ সম্পদের মালিক হয়ে যায়, তবে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। সুতরাং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে শেষ দিন (১২ জিলহজ) যদি কোনোভাবেই কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামগ্রীর মালিক হয়ে যায়, তবুও তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।
অতএব, যার কাছে বসবাসের বাড়ির অতিরিক্ত আরও বাড়ি রয়েছে, প্রয়োজনীয় বাসস্থানের প্লট ছাড়া অতিরিক্ত প্লট রয়েছে, প্রয়োজনীয় যানবাহনের অতিরিক্ত আরও গাড়ি রয়েছে—সেগুলো ব্যবসার জন্য হোক বা না হোক—তবুও এমন ব্যক্তি কুরবানীর ক্ষেত্রে শরীয়ত অনুযায়ী সাহিবে নিসাব বলে গণ্য হবে এবং তার ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব হবে।
এছাড়াও স্পষ্ট থাকা দরকার যে, এমন ব্যক্তি পরিবারে একজন হোক বা একাধিক—উপরোক্ত শর্তসমূহ বিদ্যমান থাকার কারণে যদি একই ঘরে একাধিক সাহিবে নিসাব ব্যক্তি থাকেন, তবে প্রত্যেকের ওপর আলাদাভাবে কুরবানী করা ওয়াজিব। এ অবস্থায় শরীয়তের দৃষ্টিতে পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মাত্র কুরবানী যথেষ্ট হবে না।

’’وشرائطھا الإسلام والإقامۃ والیسار الذي یتعلق بہٖ وجوب ( صدقۃ الفطر ) ۔۔۔۔۔ (لاالذکورۃ فتجب علی الأنثٰی )۔ قال في الرد: (قولہ: وشرائطھا ) أي شرائط وجوبھا، ولم یذکر الحریۃ ۔۔۔۔۔ ولا العقل والبلوغ لما فیھما من الخلاف ۔۔۔۔۔ ( قولہ والیسار) بأن ملک مائتي درھم أو عرضا یساویھا غیر مسکنہ وثیاب اللبس أو متاع یحتاجہ إلٰی أن یذبح الأضحیۃ ولو لہٗ عقار یستغلہٗ فقیل: تلزم لو قیمتہ نصابا ۔۔۔۔۔ فمتٰی فضل نصاب تلزمہٗ ولو العقار وقفا ، فإن واجب لہ فی أیامھا نصاب تلزم وصاحب الثیاب الأربعۃ لو ساوی الرابع نصابا غنی وثلاثۃ فلا، والمرأۃ موسرۃ بالمعجل لو الزوج ملیا وبالمؤجل لا۔‘‘ (رد المحتار ، ج:۶، ص:۳۱۲۔ فتاویٰ ہندیہ ،ج:۵،ص:۲۹۲ ۔البحر ،ج:۸، ص:۱۷۴)
’’وفیہ أیضا : أن الأضحیۃ لھا وقت مقدر کالصلوۃ والصوم والعبرۃ للوجوب في آخرہٖ من کان غنیا آخرہ تلزمہ۔‘‘ ( رد المحتار،ج:۶،ص:۳۱۵)

فتاویٰ ہندیہ میں ہے : ’’ولا یشترط أن یکون غنیا في جمیع الوقت حتی لوکان فقیرا في أول الوقت ثم أیسر في آخرہ تجب علیہ۔‘‘ (فتاویٰ ہندیہ،ج:۵،ص:۲۹۲-۲۹۳۔ بدائع، ج:۵،ص:۶۴)

بدائع الصنائع میں : و من المتاخرین من قال لا خلاف بینهم فی الاضحیة انها لاتجب فی مالهما ۔۔۔۔۔۔۔۔الا ان صدقة الفطر خصت عن النصوص فبقیت الاضحیة علی عمومها ،(بدائع الصنائع فی ترتیب الشرائع،ج:5،ص:64،ط:ایچ ایم سعید)

ہدایہ میں ہے : ولیس علی الصبی والمجنون زکاة خلافا للشافعی۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔ولنا انها عبادة فلاتتادی الا بالاختیار تحقیقا لمعنی الابتلاء ولا اختیار لهما لعدم العقل،(ج:1،ص:186،ط:مکتبہ رحمانیه)

فتاوی قاضی خان : وفی الولد الصغیر عن ابی حنیفة روایتان ،فی ظاهر الروایة یستحب ولایجب،(فتاوی قاضی خان علی هامش الهندية،ج:3،ص:345،ط:مکتبه ماجدیه)فقط والله اعلم

বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিতে মুসলমানদের কোরবানি করা কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আমরা ভারতের সেইসব অঞ্চলে...
24/05/2026

বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিতে মুসলমানদের কোরবানি করা কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আমরা ভারতের সেইসব অঞ্চলে—যেখানে কোরবানির কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই—বিশ্বস্ত টিমের মাধ্যমে আপনার কোরবানি পরিপূর্ণভাবে আদায় করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

যারা কোরবানি করতে চান, দেরি না করে দ্রুত যোগাযোগ করুন। খুবই স্বল্প খরচে আপনার কোরবানি সম্পন্ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
📞 ফোন নম্বর : +৯১ ৮২৯৩৩৩৬৮৮৭

হিকমতের পথে কোরবানি: মুমিনের জন্য সময়ের জরুরি বার্তা - মুফতি হাবিবুল্লাহ কাশেমী  এই বছর আমাদের রাজ্যের পরিবেশ এমন এক অদ...
20/05/2026

হিকমতের পথে কোরবানি: মুমিনের জন্য সময়ের জরুরি বার্তা
- মুফতি হাবিবুল্লাহ কাশেমী

এই বছর আমাদের রাজ্যের পরিবেশ এমন এক অদ্ভুত নীরব উত্তেজনা ও উদ্বেগে ঘেরা, যেন চারপাশের বাতাসেও সতর্কতার শব্দ ভেসে আসে। গরু–মহিষ নিয়ে কঠোর নজরদারি, প্রশাসনিক সংবেদনশীলতা, হঠাৎ তল্লাশি, অজানা অভিযোগ, জনমতের চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এক নাজুক বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। মানুষ কথা বলছে ধীরে, চলছে সাবধানে; যেন প্রত্যেক পদক্ষেপ বিচার করে নিতে হচ্ছে। আমাদের বহু ভাই–বোন উদ্বিগ্ন, অনেক পরিবার উৎকণ্ঠায়, আর অসংখ্য যুবকের মনে আবেগ আর আশঙ্কার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক এমন সময়েই ইসলাম আমাদের যে বাণী শিখিয়েছে, সেটি আজ আরও বেশি প্রাণবন্তভাবে কানে বাজছে।

আল্লাহ তাআলা কত স্পষ্ট সতর্কবাণী দিয়েছেন—
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ
অর্থাৎ “তোমরা নিজেদেরকে নিজেদের হাতে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।” (
সূরা বাকারা : ১৯৫)

এই আয়াতটি আজ যেন প্রতিটি গলিতে, প্রতিটি বাজারে, প্রতিটি কথোপকথনে নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। কারণ গরু-মহিষ কেনা এখন আর শুধুই একটি ইবাদতের প্রস্তুতি নয়—এটি সম্ভাব্য বিপদ, মামলা-মোকদ্দমা, শাস্তি ও অশান্তির দ্বার খুলে দেওয়ার মতো একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। একজন মুমিন কি নিজেকে, তার পরিবারকে, তার সমাজকে এমন বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে?

রাসূলুল্লাহ ﷺ তাই আমাদের সতর্ক করে বলেছেন—
لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ
অর্থাৎ “নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ো না, এবং কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না।” ( সুনান ইবনে মাজাহ )

এমনই পরিপূর্ণ, এমনই জীবন্ত শিক্ষা! আজ গরুর হাটে যাওয়া মানেই সন্দেহে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা। পরিবহন মানেই ভয়ের ছায়া। ক্রয়-বিক্রয় মানেই অজানা বিপদের সম্ভাবনা। ঠিক এমন সময়েই নবী ﷺ আমাদের আরেকটি অমূল্য দিকনির্দেশনা দিয়েছেন—
دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ
অর্থাৎ “যা সন্দেহজনক, সেটি ছেড়ে দাও; আর যা সন্দেহহীন, সেটিকে গ্রহণ করো।” ( সুনান আত-তিরমিযী)

আজকের পরিস্থিতি যেন এই হাদীসকে বাস্তবতার পটে উজ্জ্বল করে তুলেছে। যদি কোনও কাজ সন্দেহে ভরা হয়, ঝুঁকিতে ভরা হয়, অশান্তির সম্ভাবনায় ঢাকা পড়ে—তবে একজন তাকওয়াবান মুমিন সেই পথ পরিত্যাগ করেন। কারণ ইসলাম আবেগের ধর্ম নয়—ইসলাম হিকমতের ধর্ম, শান্তির ধর্ম, দূরদর্শিতার ধর্ম।

মনে রাখবেন, প্রিয় ভাই ও বোনেরা— অন্য কেউ করছে বলে আপনারও করতে হবে—এ ধারণা ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলাম বলে—
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ
“তোমরা যতটুকু পারো আল্লাহকে ভয় করে চলো।” (সূরা আত-তাগাবুন : ১৬)

আজ আমাদের আল্লাহভীতি আমাদের নিরাপদ পথ বেছে নিতে আহ্বান করছে। আজ আমাদের সামর্থ্য—গোপনে ঝুঁকি নেওয়া নয়;
বরং নিরাপদ, হালাল, সহজলভ্য ছাগল-ভেড়া দিয়ে কোরবানি করা।

শরীয়ত পরিষ্কারভাবে বলছে—ছাগল-ভেড়া-দুম্বা দ্বারা কোরবানি সম্পূর্ণ হয়।
গরু-মহিষ না করতে পারলে কোরবানি “অসম্পূর্ণ” হয়—এ ধারণা ভুল।

আল্লাহ তাআলা বলেন—
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنكُمْ
“তাদের মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; বরং তোমাদের তাকওয়াই তাঁহার কাছে পৌঁছায়।” (সূরা আল-হাজ্জ : ৩৭)

তাই গোপনে, ভয়ে, বিপদে মাথা গুঁজে গরু আনার নাম কোরবানি নয়;
তাকওয়া, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রেখে ইবাদত করা—এটাই কোরবানির প্রকৃত রূপ।

রাসূল ﷺ বলেছেন—
الحِكْمَةُ ضَالَّةُ المُؤْمِنِ
“হিকমত (বুদ্ধিমত্তা) মুমিনের হারানো ধন।” ( সুনান আত-তিরমিযী)

আজ সেই হিকমতই আমাদের রক্ষা করবে। হিকমতই আমাদের পরিবারকে নিরাপদ রাখবে। হিকমতই আমাদেরকে মামলার অপমান, অশান্তি, বিপদ, আতঙ্ক—সবকিছু থেকে বাঁচাবে।

প্রিয় পাঠক—
আমি আপনার ভাই হিসেবে, একজন দায়িত্ববান মুসলিম হিসেবে, একজন আলেম হিসেবে নয় বরং একজন মানুষ হিসেবে আপনাকে হৃদয়ের গভীরতা দিয়ে অনুরোধ করছি— এই পরিস্থিতিতে গরু-মহিষ কেনার চেষ্টা করবেন না।
অন্যের সাহস দেখে আবেগে পা বাড়াবেন না। নিজেকে, পরিবারকে, সমাজকে অকারণে বিপদের মুখে ফেলবেন না।

ইবাদত নিরাপত্তার সঙ্গে, তাকওয়ার সঙ্গে, প্রশান্ত হৃদয়ে করা উচিত।
আজ নিরাপদ কোরবানি—আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কোরবানি।

আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন, হিকমতের পথে চলার তাওফিক দিন এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও তাকওয়ার সঙ্গে কোরবানি করার সৌভাগ্য দান করুন। আমিন!

📢 বিশেষ প্রতিবেদন: কুরবানীকে ঘিরে মুসলিম সমাজ এক গভীর সংকটেকরজোড়ে অনুরোধ—এই বার্তাটি অন্তত একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং য...
19/05/2026

📢 বিশেষ প্রতিবেদন: কুরবানীকে ঘিরে মুসলিম সমাজ এক গভীর সংকটে

করজোড়ে অনুরোধ—এই বার্তাটি অন্তত একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং যথাসম্ভব শেয়ার করুন।

এটি শুধু একটি অনুরোধ নয়—আজকের বাস্তব পরিস্থিতিতে এটি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

🔎 বর্তমান পরিস্থিতি : মুসলিম সমাজের চারদিকে ঘনীভূত সন্দেহ ও আশঙ্কা সম্প্রতি কুরবানীকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা, আন্দোলন ও আলোচনা চলছে—তা আমাদের সামনে এক ভয়ংকর বাস্তবতা তুলে ধরছে।

পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যে, সরকার সরাসরি কুরবানীর অনুমতি ঘোষণা করতে সংকোচ বোধ করছে। অন্যদিকে আবার প্রশাসনিক পর্যায়ে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের ডেকে ‘সমস্যা নেই’—এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এত কিছু হঠাৎ কেন?

🛑 বিশ্লেষণ: গরু–মহিষ বিক্রির পেছনে বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত
মাঠের বাস্তবতা বলছে— ধর্মীয় উত্তেজনার পেছনে এমন এক চক্রান্ত কাজ করছে যাতে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের খাটাল ও বাজারগুলো দ্রুত গরু–মহিষ বিক্রি করতে পারে।
যাতে আন্দোলন থেমে যায়, রাস্তায় আর প্রতিবাদ না হয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানো যায়।

এই পুরো পরিস্থিতি মুসলিম সমাজের জন্য একটি বিভ্রান্তিকর ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা উপর থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও, ভেতরে রয়েছে বড়সড় ঝুঁকি।

🕌 ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমান পরিস্থিতিতে মসজিদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

মুসল্লিদের নিরাপত্তা—সমাজের স্থিতি—এ দু’টি বিষয়ের প্রতি নজর রেখে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উচিত মানুষকে শান্তভাবে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো।

🐐 এই বছর ছাগল/খাসি/ভেড়া কুরবানীর পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে—পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলাচ্ছে এবং উত্তেজনার জোয়ার আবার দেখা দিতে পারে।

এ অবস্থায় গরু-মহিষ কেনার চেষ্টা করলে তাতে শুধু ঝুঁকিই নয়—বিস্তর ভুল বোঝাবুঝি, অপমান ও আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

তাই সমাজের স্বার্থেই অনেকেই বলছেন—
এই বছর গরু-মহিষ কুরবানী না করে ছাগল, খাসি, ভেড়া নির্বাচনের মাধ্যমে কুরবানীর বিধান পালন করা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে ধর্ম পালিত হবে, আবার অযথা ঝুঁকিও নেয়া হবে না।

⚖️ আইন মেনে চলা—আজকের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সবার।
কেউ আবেগে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তার প্রভাব পড়বে পুরো সমাজের ওপর।

এই কারণে অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও ইসলামী চিন্তাবিদ পরামর্শ দিচ্ছেন— এই কারণে অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও ইসলামী চিন্তাবিদ পরামর্শ দিচ্ছেন— আইনকে সম্মান করুন
উত্তেজনা নয়, দূরদর্শিতা দেখান নিজের ও সমাজের নিরাপত্তাই আজ সবচেয়ে বড় ইবাদত

🔚 শেষ কথা

আজকের পরিস্থিতি আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে—
আমরা আবেগে ভেসে গেলে ক্ষতি হবে আমাদেরই।
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া—এটাই সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমত্তা।

কুরবানী বাতিল নয়, বরং ঝুঁকিহীন পথে পালন করাই আজ সমাজের কল্যাণ।

প্রতিটি বাড়ি—প্রতিটি মসজিদ—প্রতিটি পরিবারের নিরাপত্তাই আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

আজ পরিস্থিতি এতটাই সংবেদনশীল যে যত বড় নেতা–মন্ত্রীর আশ্বাসই আসুক, যত বড় থানার ওসিই বলুক না কেন—গরু বা মহিষ কেনার ঝুঁকি...
19/05/2026

আজ পরিস্থিতি এতটাই সংবেদনশীল যে যত বড় নেতা–মন্ত্রীর আশ্বাসই আসুক, যত বড় থানার ওসিই বলুক না কেন—গরু বা মহিষ কেনার ঝুঁকি থেকে বিরত থাকাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য নিরাপদ পথ। কারণ বাস্তবতা হলো—যারা আজ উৎসাহ দিচ্ছে, তারা কেউই আপনার বিপদের দিনে পাশে দাঁড়াবে না। তাদের উদ্দেশ্য অনেক সময়ই ভিন্ন হয়—নিজের এলাকার বা পরিচিতদের গরুগুলো যেন বিক্রি হয়ে যায়, সেই স্বার্থই আগে আসে; আপনার নিরাপত্তা নয়।

এটাও মনে রাখবেন, কোরবানির দিনগুলোতে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি আরও কঠোর হয়, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকে, এবং সামান্য কারণেই ধর্মীয় পরিচিতি বা দাড়ি-টুপি নিয়ে অযথা হয়রানির ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই নিজেকে, পরিবারকে এবং সমাজকে অকারণে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন না।

আজ আবেগ নয়—হিকমত, সংযম ও দূরদর্শিতা আমাদের প্রকৃত প্রয়োজন। কোনো নেতার আশ্বাস, কোনো ওসির কথার চক্করে পড়ে এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না, যার জন্য আপনাকে আজীবন অনুশোচনা করতে হতে পারে। নিজের নিরাপত্তা, পরিবারের শান্তি এবং ইসলামের দিকনির্দেশনাকেই সর্বাগ্রে রাখুন।

Address

Raypur, Multi, Magrahat, South 24 Parganas
Raypur
743610

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Information Group & Online Fatwa Department posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Islamic Information Group & Online Fatwa Department:

Shortcuts

Share