NCC Rampurhat

NCC Rampurhat

Share

"TRUTH IS BEAUTY"

17/06/2022

ইতিহাস বিকৃতি করা যায়, মুছে ফেলা যায় না ।

মুহম্মদ বিন তুঘলক প্রথম শাসক যিনি সতীদাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। যে মহিলা সতী হতে চায় তাকে তার জন্য সরকারি অনুমতি সংগ্রহ করতে হবে, এমন আইন প্রণয়ন করেন তিনি। এর সাহায্যে জোর করে ও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো মহিলাকে 'সতী'র নামে আগুনে পুড়িয়ে মারার ব্যাপারটিকে রোধ করার চেষ্টা করা হয়।
আকবর সতীদাহ প্রথা সম্পূর্ণ রোধ না করলেও তাঁর কোতোয়ালদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে কোনো মহিলাকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যেন সতী না করা হয়। আকবর নিজে জয়মাল নামের একজন মহিলাকে সতীদাহ থেকে বাঁচিয়েছিলেন এবং তার পুত্রকে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। কারণ সে তার মাকে জোর করে 'সতী' করতে চেয়েছিল। গভর্নর ও প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের প্রতি আকবরের নির্দেশ ছিল 'সতী' হওয়ার আগে তারা যেন সরকারি অনুমতি চায়। গভর্নর প্রথমে তাকে সতী না হওয়ার জন্য বোঝাতেন। পরিবার সেই মহিলাকে ত্যাগ করলে তার জন্য সরকার থেকে মাসোহারার ব্যবস্থা করা হতো। এছাড়াও কোনো মহিলার ছোট বাচ্চা থাকলে তাকে সহমরণের অনুমতি দেওয়া হতো না।
জাহাঙ্গীর এবং শাহজাহান তাদের রাজত্বকালে আকবরের আইনই বহাল রেখেছিলেন।
আওরংগজেব হচ্ছেন প্রথম সম্রাট যিনি তাঁর সাম্রাজ্যে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে।

সূত্র: হিন্দু মৌলবাদ। ভবানীপ্রসাদ সাহু। দীপ প্রকাশন। কলকাতা।

Photos from NCC Rampurhat's post 14/06/2022

বাংলায় লিখে IAS
একগুঁয়ে এই বাঙালির কাহিনী অনুপ্রেরণা দেবে সবাইকে। প্রথম শ্রেণীতে বি.টেক-এ প্রথম হবার পর তিনি যােগদান করেছিলেন এক গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কনসার্নে। সেখানে চাকরি করতে করতে তাঁর মাথায় হঠাৎই খেলে যায় অল ইন্ডিয়া সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার ভাবনা।
এই পর্যন্ত তাে ঠিকই আছে। বহু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করেছেন সসম্মানে।
কিন্তু তাঁর চিন্তাভাবনা ছিল একেবারে বৈপ্লবিক। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার পুরােটাই দেবেন তাঁর মাতৃভাষায় বাংলায়। তাঁর সহপাঠীরা যখন এই সিদ্ধান্ত জানতে পারেন, বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। তাঁকে বারংবার নিবৃত্ত করার চেষ্টাও করা হয়, কিন্তু তাঁকে দমানো যায় নি।
আসলে এই একটা ধারণা তাে আমাদের মনগহ্বরে বদ্ধমূল থাকে যে, বাংলায় লেখাপড়া করে কিছু হবে না, বাংলায় পড়াশােনা চালালে একটা ইন্টারভিউও ক্র্যাক করা যাবে না।
সেই সংকীর্ণ চিন্তনে উলটো স্রোতে দাঁড়িয়ে তিনি এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেন এবং সম্পূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন।
আসলে বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর ভালােবাসাই যে এর একমাত্র কারণ তা কিন্তু নয়, বরং ২০১০ এর ১৭ জানুয়ারি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন যে, তাঁর মাতৃভাষা যে কতটা সমৃদ্ধ, অন্তরসম্পদে ধনী, অন্য কোনাে ভাষার থেকে কোনাে অংশে পিছিয়ে নয়, সেটাও দেখানাে তার লক্ষ্য ছিল সর্বভারতীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে। এর জন্য তিনি পরিশ্রমও করেছেন অনেক বেশী। কারণ সমগ্র সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাই তিনি দিয়েছেন বাংলায়। ইতিহাস এবং ভূগােল ছিল তার ঐচ্ছিক বিষয়। সমস্ত উত্তর তৈরী করে নিয়মিত বাংলায় লিখে লিখে অভ্যাস করতে হয়েছে। অবশ্যই বাবার আশীর্বাদ এবং শিক্ষকেরা তাঁকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন সর্বক্ষণ।

২০০২ সালে যে ইচ্ছার সূচনা, ২০০৬ সালেই তাতে সিদ্ধিলাভ। ২০০৫ সালের সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৬ সালে সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যােগদান তার দৃঢ়চেতা সাফল্যের অসামান্য স্বীকৃতি।

তিনি হলেন তন্ময় চক্রবর্তী। আজ যখন আমাদের সমাজ বাংলায় পড়ে চাকরি পাওয়া যাবে না নামক তুচ্ছতর্কের ঘূর্ণিপাকে মত্ত, তখন তার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত এবং অত্যুজ্জ্বল সাফল্যের গাথা আমাদের সামনে নির্ভীক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকুক।
অভিনন্দন তন্ময় চক্রবর্তীকে 🙏🏻🙏🏻🙏🏻

14/06/2022

কেউ বলেন ডিজিটাল ডাক্তার, কেউ বলেন স্মার্ট, হাওড়ার এই চিকিৎসক করছেন কী!
#কথিত আছে, চিকিৎসকদের লেখা প্রেসক্রিপশন নাকি ওষুধের দোকানের কর্মী ছাড়া নাকি কেউ বুঝতে পারেন না।আবার এমনও অভিযোগ ওঠে চিকিৎসককে দ্বিতীয়বার দেখতে গেলে আগের ভিজিটের যাবতীয় তথ্য চিকিৎসকের কাছে থাকে না। এই সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং সাধারণ মানুষকে সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে হাওড়ার এক চিকিৎসক শুরু ব্যবহার করছেন স্মার্ট প্রেসক্রিপশন। কী এই স্মার্ট প্রেসক্রিপশন ? চিকিৎসক নিজের কাগজের তৈরি প্রেসক্রিপশনে লিখছেন আর সেই তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে চিকিৎসকের ট্যাবে ( TAB )। এমনকি প্রেসক্রিশনে রয়েছে কিউ আর কোড। আর চিকিৎসকের হাতে থাকা পেনটিও ডিজিটাল।

রোগীর কোনো সমস্যা হলেই শুধু চিকিৎসকের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিতে হবে কিউ আর কোডের ছবি, সেটি স্ক্যান করলেই চোখের সামনেই ভেসে উঠবে রোগীর যাবতীয় তথ্য। ওষুধ বদল থেকে যাবতীয় পরামর্শ দিয়ে দেবেন নিমেষেই। হাওড়ার ঘুসুড়ির চিকিৎসক পুষ্পেন্দু লাহিড়ির এমন কৃতিত্বে রীতিমতো অবাক রোগীরা। চিকিৎসক পুষ্পেন্দু লাহিড়ির দাবি, রোগীরা মাঝে মধ্যেই ফোন করে প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ অনেক সময় স্থানীয় দোকানে পান না, আবার কখনো কখনো রোগের সমস্যা বেড়ে যায়।

তখনই ওষুধের বদল করতে হয়। রোগীর পরিবার ঠিক মতো ওষুধের নাম বলতেও পারেন না, আবার ফোনে তার পূর্বের সমস্যা গুলিও সঠিক ভাবে পাওয়া যায় না। এই সব সমস্যার থেকে মুক্তি পেতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা এতে রোগী ও চিকিৎসকের দুজনের সমস্যা খুব দ্রুত মেটানো যায়। চিকিৎসকের এমন কীর্তি দেখে খুশি সালকিয়ার বাসিন্দা দীপান্বিতা ঘোষ।
দীপান্বিতা দেবী জানান, ''প্ৰথমে কিছু বুঝতে পারিনি, ডাক্তারবাবু যখন প্রেসক্রিপশন লিখছিলেন, দেখলাম কাগজে যা লিখছেন, তা কাগজে যেমন পেনের কালিতে ফুটে উঠছে, ঠিক হুবহু ফুটে উঠছে ডাক্তার বাবুর পাশে থাকা ট্যাব (TAB)- এর স্ক্রিনে। তারপর আরো অবাক হই যখন হাতে প্রেসক্রিপশন পাই। প্রেসক্রিপশনে দেখতে পাই কিউ আর কোড। এই সব দেখে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি আসল বিষয়টি। এই বিশেষ ব্যবস্থার জন্য চিকিৎসক পুষ্পেন্দু বাবুকে নামে সবাই না চিনলেও ঘুসুড়ি এলাকায় স্মার্ট ডাক্তার বাবুর খোঁজ করলেই আপনি পেয়ে যাবেন চিকিৎসকের খোঁজ। (news 18 )bangla)

14/06/2022

#কাতার।।

মিডল-ইষ্টের একটা ক্ষুদ্রতম দেশ হলো কাতর।। মাত্র 15/20 বছর আগে দেশটার কোনো গুরুত্বই ছিলো না।। এরপর হঠাৎ করেই ধুমকেতুর মতো উত্থান।। বিশ্ব তাদের কথা শুনতে শুরু করে দিলো,, বেড়ে গেলো কাতারের গুরুত্ব,, বিশ্বের বহু দেশ তাদের সমীহ করা শুরু করে দিলো।।

হঠাৎ করে এই গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় কারণ কি ??

তারা কি কোনো নিউক্লিয়ার বম্ব তৈরী করে ফেলেছে ?? নাকি,, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়ে গেছে ??

না,, তেমন কিছুই না,, তারা তেমন কিছু করে উঠতে পারেনি,, তবে,, একটা কাজ তারা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে করতে পেরেছে।।

কাতার বর্তমানে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মিডিয়া হাউস নির্মাণ করে ফেলেছে।। কেবলমাত্র একটা নিউজ চ্যানেল রয়েছে,, যেটা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য,, এবং,, নির্ভরযোগ্য।। গোটা বিশ্বের কোনায় কোনায় এই চ্যানেলটি পৌঁছে গেছে।। কাতার চাইলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা,, গোটা বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে পারে।।

1996 সালে "আল-জাজিরা" গঠিত হয়।।

প্রথমে একটি আরবি নিউজ চ্যানেল হিসেবে শুরু হয় পথচলা।। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে তখন একটিও স্বাধীন এবং সতন্ত্র নিউজ চ্যানেল ছিলো না।। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রীয় চ্যানেল ছিলো,, যাদের কাজ ছিলো রাত-দিন বাদশাহ অথবা রাষ্ট্রনেতার চাপলুশি করে যাওয়া।। আচ্ছে দিনের বড়াই করা,, রাষ্ট্রনেতার সমস্ত দোষত্রুটি আড়াল করে তাকে মহান হিসাবে তুলে ধরা।। নেগেটিভ খবর প্রচার না করে,, স্রেফ চেপে যাওয়া।।

আল জাজিরা মরুভূমির দেশে মরুদ্যান হয়ে ওঠে।। গোড়া থেকেই তাদের একটাই পন্থা - নিরপেক্ষ খবর পরিবেশন করা,, খবর প্রচারের ক্ষেত্রে যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখা,, নায্য বিষয়বস্তু তুলে ধরা,, ষ্টুডিওতে বসে ফেক নিউজ সম্প্রচার না করে সরাসরি গ্রাউন্ড রিপোর্ট তুলে ধরা,, কথা কম বলে খবর বেশী বেশী করে সম্প্রচার করা,, সর্বোপরি সমস্ত পক্ষকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া।।

একটি আরবি চ্যালেন হয়েও,, ইংরেজিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হতো।। তারা জানতো,, বিশ্বদরবারে সহজে পৌঁছে যাওয়ার মাধ্যম হলো ইংরেজি ভাষা।। বিশ্বের সমস্ত বড়ো মাপের এবং স্বনামধন্য সাংবাদিকদের যোগদান করানো হলো।। সাংবাদিকতার নৈতিকতাকে প্রায়রিটি দেওয়া হয়েছে সর্বদা।।

বিবিসির আদর্শে বিশ্বাস রেখে,, বিবিসি-কে ছাপিয়ে যাওয়া ছিলো তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।। আল জাজিরার উদ্দেশ্য ছিলো,, বিবিসির মতোই আদর্শ এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়া।।

আফগানিস্তান,, ইরাক,, সিরিয়া,, 9/11,, আরব বসন্তের মতো ইস্যু নিয়ে গোটা দুনিয়া তোলপাড় করে দিয়েছে তারা।। বিষ্ময়কর গ্রাউন্ড রিপোর্ট,, লাইভ-ওয়ার জোন,, সাংবাদিকরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পৌঁছে গেছেন একের পর এক দুর্গম এলাকায়।। মার্জিত ভাষা,, যথাযথ রিপোর্ট,, অহেতুক ভন্ডামি অথবা অভিনয় না করে সত্যটুকু ঘটনাস্থল হতে তুলে আনা,, এগুলোর কারনে আল জাজিরা খুব অল্পদিনের মধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব-দরবারে।।

ডের ডজনেরও বেশী সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।। বেশ কয়েকজন ধরা পড়েছেন,, নিঁখোজ হয়ে গেছেন কয়েকজন সাংবাদিক,, আহত হয়েছেন অনেকেই।। তবুও ভয় পায়নি আল জাজিরা।। তারা নির্ভীক ভাবে নিজেদের সাংবাদিকতা দায়বদ্ধতা বজায় রাখার চেষ্টা করে গেছে।।

আরো একটি দিক ছিলো,, প্যালেষ্টাইন,, ইজরায়েল,, তালিবান,, আল কায়দার মতো বিশ্বের মানুষের কাছে নিন্দনীয় সংগঠনের কাছে পৌঁছে গেছে তারা।। কাউকে ভিলেন অথবা কাউকে হিরো হিসাবে তুলে ধরা হয়নি,, মিডিয়া-ট্রায়াল না করে,, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ,, সাধারণ মানুষের উপর।।

আজ বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশে পৌঁছে গেছে আল জাজিরা।। তাদের কভারেজ,, খবরের বিষয়বস্তু,, সঞ্চালকের উপস্থাপন,, কোনো কিছুতেই সাধারণ মানুষ বিশ্বাস হারান না।। মাত্র 25 বছরের মধ্যে,, আল জাজিরা নামের একটি নিউজ চ্যানেল,, একটা দেশকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করে দিয়েছে।।

দোহা এখন এশিয়ার নরওয়ে হয়ে উঠেছে।।

আমেরিকা-তালিবানের মধ্যে শান্তি চুক্তি,, ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সঙ্গে আলোচনা করে সেদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা,, আরব-ইজরায়েল বিরোধ নিয়ে আলোচনা,, গাজা ষ্ট্রিপ বিষয়ে মধ্যস্থতা,, সবকিছুই হচ্ছে কাতারের রাজধানী দোহা শহরে।।

কোনো এক সময় যে দেশের কোনো অস্তিত্ব ছিলো না,, কেবলমাত্র একটি নিউজ চ্যানেল সেই দেশকে উল্লেখযোগ্য বিশ্বশক্তিতে পরিণত করে ফেলেছে।।

আজকে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ,, কাতারকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না।। চার বছর আগে প্রতিবেশী আরব দেশগুলো একবার অবরোধ করে রেখেছিল কাতারকে।। শর্ত ছিলো,, আল জাজিরা বন্ধ করে দিতে হবে,, তবেই অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।। কারণ,, আল জাজিরা আরবের অধিকাংশ দেশের স্বৈরাচারী শাষকের চরিত্র,, তাদের দূর্নীতি প্রকাশ করে দিয়েছে বিশ্ব দরবারে।। এটা আরবের শাষক শ্রেণী মেনে নিতে পারতো না।। কিন্তু,, আল জাজিরা মাথা নত করেনি,, বরং দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে আরো নিত্যনতুন অপকর্ম তুলে ধরেছে।। বাধ্য হয়ে চুপ করে গেছূ অন্যান্য আরব দেশ।।

25 বছর আগে আমাদের দেশেও ঘটেছিল স্যাটেলাইট বিপ্লব।। বহু নিত্যনতুন চ্যানেল এসেছে,, তারা যথাযথ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে,, খবর পরিবেশন করে গেছে।। আমরা তখন সরকারি নিউজের মুখাপেক্ষী ছিলাম না।। আমরা বিশ্বাস করতাম,, বেসরকারি চ্যানেলের কোনো বাধ্যবাধকতা নাই,, তারা সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে দ্বিধাবোধ করবে না।।

যেভাবে নিউজ চ্যানেল এগিয়ে গেছে,, আমরাও ভেবেছিলাম অচিরেই আমরা বিবিসি অথবা আল-জাজীরার মতো কোনো নিউজ চ্যানেল উপহার পেতে চলেছি।। অথচ,, আজকের দিনে আমরা অত্যন্ত আশাহত।।

আমাদের দেশের নিউজ চ্যানেল আজকে আবর্জনা স্তূপে পরিণত,, নিউজ মানেই এখন সরকারি মুখপাত্র।। একপেশে খবর পরিবেশন,, ফেক নিউজ সম্প্রচার,, মদ খেয়ে এ্যাঙ্কারিং,, অভদ্র ভাষার ব্যাবহার,, অশোভন আচরণ,, গালাগালি-খিস্তি এমনকি ষ্টুডিওতে বসে হাতাহাতি,, এগুলোর কারনে বিশ্ব দরবারে আমাদের মিডিয়া সার্কাসে পরিণত।। এ্যাঙ্কার-এ্যাঙ্কারনী এক একজন জোকার,, বিনোদনের জন্য অনেক রসিক মানুষ দেখতেই পারেন,, কিন্ত,, যারা খবরের জন্য খবর দেখেন,, তারা আজকে টিভি বিমুখ।।

ফেক নিউজ এখন USP,, TRP বাড়ানোর জন্য অবিরাম হিন্দু-মুসলমান,, মন্দির-মসজিদ।। কয়েকজন ভাড়া করা মৌলভী আর অশিক্ষিত সাধুকে ষ্টুডিওতে বসিয়ে,, মোরগ লড়াই চলছে দিনের পর দিন।। কোনো সমস্যা সমাধানের আগেই,, মিডিয়া দোষী অথবা অপরাধী হিসাবে যাকে ইচ্ছে সনাক্ত করে নিচ্ছে।। আসল সমস্যা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়ে,, নন-ইস্যু গুলো নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় অপচয় করা হয়ে চলেছে।। এটাই আমাদের চাহিদা,, মিডিয়া আমাদের চাহিদা পুরণ করে চলেছে।।

অথচ,, আমাদের সামনেও সুযোগ ছিলো,, এগিয়ে যাওয়ার।। আমরা এগিয়ে যেতে পারিনি,, কারণ,, এগিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছা আমাদের ছিলো না।।

আমাদের মিডিয়া চূড়ান্ত অপরাধ করে চলেছে।। যারা দিনের পর দিন এই সমস্ত মিডিয়ার পাশে থেকে TRP দিয়ে চলেছেন,, তারাও সমান অপরাধী।। কাতারের মতো ছোট্ট একটি দেশ,, কেবলমাত্র একটি নিউজ চ্যানেলের দ্বারা বিশ্বের অন্যতম শক্তিতে পরিণত।। অথচ,, আমরা আজতক,, কালতক,, পরশুতকের মতো শত শত নিউজ চ্যানেল নিয়েও,, গোটা বিশ্বের কাছে ধিকৃত,, অপমানিত,, অবহেলিত।।

😢😢😢

14/06/2022

৬ টি বিষয়ে লেটার পাওয়া মোহাম্মদ আলম রাহমানের যাবতীয় খরচ বহন করবেন বড়ঞার ওসি দেবদাস বিশ্বাস।
আপনাকে কুর্নিশ🙏❤️ 𝙏𝙝𝙚 বুদ্ধি 𝙂𝘽 ツ

14/06/2022

এক একক শিক্ষিকার সংগ্রামের সাফল্য।
আমাদের কি ইচ্ছা করেনা সমাজের পিছিয়ে পড়া মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য কিছু করার।

14/06/2022

১২ জুন বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। শিশুশ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়।

শিশুর অধিকার সু-রক্ষা ও ঝুঁকিপূর্ন শিশুশ্রম প্রতিরোধের লক্ষ্যে আন্তজার্তিক শিশু শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০০২ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করে আসছে, বর্তমানে বিশ্বের ৮০টি দেশে পালিত হচ্ছে এ দিবসটি। আইএলও দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করি, শিশুশ্রম বন্ধ করি।’

শিশুশ্রম আইন ও শৈশবের হালহকিকত্।

বিকেলের দিকে যদি আসেন, জবাকে বাড়িতেই পাবেন। দূর থেকেই দেখতে পাবেন, টালির ঘরের সামনের উঁচু মাটির দাওয়ায় উবু হয়ে ঝুঁকে বসে সে কিছু একটা করছে। আর একটু কাছে এলে বুঝতে পারবেন, সেটা আসলে সেলাই জাতীয় কোনও কাজ। সামনে প্রমাণ সাইজের একটা কাঠের ফ্রেম, তাতে আঁটা একটা শাড়ির ওপর হুমড়ি খেয়ে বসে। চোখ আর পুরো মনোযোগটা ওর ডান হাতের সুচ আর শাড়ির ওপর হালকা পেনসিলে আঁকা ডিজাইনের ওপর সাঁটা। প্রথম দু’বার ডাকলে হয়তো সাড়াও মিলবে না। তার পর, কাজ এক মুহূর্তের জন্যও না থামিয়ে, শাড়ি থেকে চোখ না তুলেই আপনার কথার উত্তর দিতে শুরু করবে বছর বারোর বাচ্চা মেয়েটি। কলকাতা থেকে ঘণ্টাদুয়েকের পথ উজিয়ে এসে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মল্লিকপাড়া গ্রামে বিকেলের পড়ে আসা আলোয় এ ভাবেই অন্য এক ভারতবর্ষের সঙ্গে আপনার পরিচয় ও কথোপকথন শুরু হবে।
তিন ভাই আর দু’বোনের মধ্যে জবা ’ই সবচেয়ে বড়ো। বাবা নুর আলির চাষের জমি -জায়গা বলতে কিছুই নেই, উস্তির বাজারে মুরগি কেটে রোজগার। মা রুকসানা বিবি কলকাতায় ক’বাড়ি কাজ করে, রোজ ভোর পাঁচটার জয়নগর লোকালের ডেলি প্যাসেঞ্জার। ছোট ভাই দু’টো যেহেতু একেবারেই ছোটো, ফলে তাদের দেখভাল জবারই দায়িত্ব। তাদের ঘুম থেকে তোলা, স্নান করানো, খাওয়ানো, তার সঙ্গে বাড়ির রান্নাবান্না, বাসন মাজা, দাওয়া -উঠোন ঝাঁট … এমনকী পাশের পুকুর থেকে জল তুলে আনাও। ‘তুই রান্নাও করতে পারিস? ’প্রশ্ন শুনে ফিক করে হেসে ঘাড় কাত করে জবা, ‘সে তো সবাই পারে। ’‘কী কী রাঁধিস? ’‘কেন? ভাত, ডালসেদ্ধ, আলুর তরকারি, সব ...সে আর কি কঠিন কাজ …! ’‘তার পর কী করিস? ’…সংসারের সব কাজ সামলে, নিজে স্নান -খাওয়া করে, রান্নার এঁটো বাসন ধোয়াপাখলা সেরে এর পর স্কুলে যাবে জবা খাতুন। পাড়ার অনেক মেয়েই যেমন যায়। সমবয়সি সখিদের সঙ্গে কলকল করতে -করতে বইখাতা বুকে চেপে প্রায় দু’কিলোমিটার রাস্তা হেঁটেই যাওয়া। তার পর স্কুল। ফিরতে -ফিরতে বেলা গড়িয়ে সেই বিকেল। তার মধ্যে মা এসে যাবে। বাবাও। বাড়ি ফিরে মুড়ি খেয়ে, তার পর কাজে বসতে হবে তাকে। মা শাড়িতে জরি সেলাইয়ের কাজ করে। কলকাতা থেকে ফেরার পথে অর্ডার নিয়ে আসে। বাড়ি ফিরে কাঠের ফ্রেমে শাড়িটাকে টানটান করে আটকে, সুচ -সুতো নিয়ে কাজ শুরু। তার মধ্যে বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামবে, সন্ধে গড়িয়ে রাত … হারিকেনের কালি -পড়া আলোয় সরু সুতো নিয়ে কাজ করতে -করতে চোখ লাল হয়ে ব্যথা করতে শুরু করবে, কোমর ধরে যাবে, ঘাড় টনটন করতে থাকবে …‘তুই কবে থেকে করছিস জরির কাজ? ’‘ছোটবেলা থেকেই। প্রথম প্রথম মায়ের পাশে বসে দেখতাম, দেখতে -দেখতে শিখে গেলাম …’‘ছোটবেলা থেকে মানে? তুই কি বড়ো হয়ে গিয়েছিস নাকি? ’‘বড়োই তো। পাঁচ বছর ধরে এই কাজ করছি। টাকাও পাই, জানো? ’ সে যে দস্ত্তরমতো রোজগেরে, অসম্ভব জোর দিয়ে সে খবর আপনাকে শোনাবে বারো বছরেই ছোটবেলা পার করে আসা জবা খাতুন।
‘ভালো লাগে তোর জরির কাজ? ’‘নাহ ’...খানিক সময় নিয়ে উত্তর দেয় জবা। হয়তো বোঝার চেষ্টা করে, এর মধ্যে ভালো লাগা বা মন্দ লাগার প্রশ্নটা আসছে কোত্থেকে।
‘তবে করিস কেন? ’‘মা একা পারে না যে…’‘তুই খেলতে যাস না কেন বন্ধুদের সঙ্গে? ভালো লাগে না? ’‘খুব। ’‘তা হলে যাস না কেন খেলতে? আসার পথে যে দেখলাম সবাই দাড়িয়াবান্ধা খেলছে … তোর বন্ধুরা তোকে খেলায় নেয় না? ’প্রশ্ন শুনে চোখে বোধ হয় একটু ছায়া ঘনায় মেয়ের। কান পেতে শোনে পাশের মাঠ থেকে ভেসে আসা বাচ্চা ছেলেমেয়েদের হইচই। একটু থেমে বলে, ‘নেবে না কেন? গেলেই নেবে। কত ডাকে রোজ …’‘তা হলে? যাস না যে? ’‘এগুলো তো টাইমের কাজ। তিন দিনের মধ্যে গোটা শাড়িটা শেষ করতে হবে তো’… চোখ নামিয়ে হাতের কাজের ওপর ফের উপুড় হয়ে পড়ে ১২ বছরের জবা খাতুন। শিশুশ্রমিক কাকে বলে, জবা জানে না। তার জন্মের ১৭ বছর আগেই যে সরকার সারা দেশে শিশুশ্রম বন্ধ করতে আস্ত একটা আইন বানিয়ে ফেলেছে, এই ক’দিন আগেই যে সে আইন সংশোধন করার ছাড়পত্র দেওয়া নিয়ে দফায় -দফায় বৈঠক করেছে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট, সে সংশোধনীর যাথার্থ্য নিয়ে দেশ জুড়ে যে শোর মচে গিয়েছে, মস্ত এই খবরটাও তার কাছে পৌঁছয়নি। হয়তো বা তার বাবা -মার কাছেও নয়। বা হয়তো পৌঁছেছে, কিন্ত্ত সে আইনটা যে তৈরি হয়েছে বিশেষ করে তাদের মেয়ের জন্যই, সে তথ্যটা, বা তার গুরুত্ব হয়তো তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি। দেশের সরকার যে খাস দিল্লিতে বসে এই অজ মল্লিকপাড়া গাঁয়ে তাদের খিনখিনে চেহারার কালোকোলো মেয়েটার কথা ভেবেছে, এটা হয়তো কেউ মাথায় ঢুকিয়ে দেয়নি তাদের। যদি ঢোকাত, তা হলে স্রেফ সেই গর্ববোধ থেকেই হয়তো মুরগি বেচার টাকা দিয়ে সন্ধেবেলা চোলাইয়ের ঠেকে বসার আগে দু’বার ভাবত বাবা নুর আলি। মা রুকসানা হয়তো ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা সুনিশ্চিত করার জন্য আরও দু’বাড়ি কাজ খোঁজার তাগিদ অনুভব করত। কিন্ত্ত বলা বাহুল্য, সে সব কিছুই হয়নি। দেশের আরও পাঁচটা আইনের মতোই শিশুশ্রম -নিরোধক আইন তৈরি হয়েছে, আইনটা ঠিক হল কিনা তা নিয়ে চুলচেরা গবেষণা হয়েছে, বদলানোর প্রস্তাব নিয়ে মিটিং হয়েছে, ২৮ বছর পরে অবশেষে বদলেছেও, কিন্ত্ত সেটা যে নোটিফিকেশনের কাগজের আওতা থেকে বের করে এনে কাজেও লাগানো দরকার, হাজার কাজের ব্যস্ততায় সেটা আর মাথায় রাখা হয়ে ওঠেনি।
নয়া সংশোধনী প্রস্তাব মোতাবেক অবশ্য জবার জরির কাজে শর্তসাপেক্ষে ছাড় দিয়েছে সরকার। বলা হয়েছে, বিপজ্জনক নয় এমন পারিবারিক পেশায় কাজ করতে পারবে ১৪ বছরের কমবয়েসি ছেলেমেয়েরা, কিন্ত্ত তার জন্য পড়াশোনা নষ্ট করা চলবে না। স্কুলের সময় বাদ দিয়ে বাকি সময়টায়, বা ছুটিছাটায় কাজ করা যাবে। তার মানে কি সরকার থেকে প্রকারান্তরে বলেই দেওয়া হল যে, জবাদের এখন থেকে আর ছুটির প্রয়োজন নেই--- অবসর যাপন ও খেলাধুলো আসলে ওদের বেড়ে ওঠার পথে নিছকই ‘হলেও হয়, না -হলেও ক্ষতি নেই’ গোত্রের বিলাসিতা, পোশাকি ভাষায় যাকে বলা যেতে পারে ‘সুপারফ্লুয়াস লাক্সারি ’? ৩আইনের তর্কে ঢোকার আগে একবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মল্লিকপাড়া থেকে একটু কষ্ট করে যেতে হবে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায়। হয়তো নিছকই সমাপতন, তবে আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম -বিরোধী দিবসের মাত্রই মাসখানেক আগে সেখানে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে শিশু শ্রমিকরা। উঠে এসেছে বড়ো মর্মান্তিক ভাবে ; বেআইনি বাজি কারখানায় বিধ্বংসী বিস্ফোরণের হাত ধরে। শিশুশ্রমকে খবর -কাগজের প্রথম পাতায় পৌঁছে দিতে গিয়ে বেমালুম খরচের খাতায় চলে গিয়েছে ছ-ছ’টা ঝকঝকে, তাজা প্রাণ ! দেশজোড়া হাজার গুরুত্বপূর্ণ খবরের ঘনঘটায় প্রথম পাতায় একটা নতুন হেডলাইন যোগ হয়েছে। আর, তার পর, প্রত্যাশিত ভাবেই, তা হারিয়েও গিয়েছে দিনকয়েকের মধ্যেই। খবরের যেটুকু বেঁচে থেকেছে, তার পুরোটাই দখল করেছে বিস্ফোরণের ‘আসল ’ কারণ নিয়ে ‘সনসনি খুলাসা ’, তার গূঢ় রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে তর্কযোগ্য নানা চাপান -উতোর, টানা -হ্যাঁচড়া, বিবৃতি, পালটা বিবৃতি ইত্যাদি। গুরুত্বপূর্ণ এই সব হাজারো ‘নিউজ অ্যাঙ্গল ’-এর ভিড়ে আড়ালেই চলে গিয়েছে তর্কাতীত ভাবে হাড় -হিম -করে -দেওয়া এই তথ্যটি যে, বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে যে ১২টি প্রাণ গিয়েছিল, তার মধ্যে ছ’ জনই কিশোর, যাদের বয়স ১২ থেকে ১৪ বছরের আশেপাশে। অর্থাত্, আইনের ভাষায়, যারা বিলক্ষণ ‘শিশু ’।
ঠিক কী ছিল তাদের অপরাধ, প্রাণ দিয়ে যার প্রায়শ্চিত্ত করতে হল ওই শিশুদের? বয়স ১২ থেকে ১৪ -র আশেপাশে, মানে ওদের তো এই সময়টা ইস্কুলে থাকার কথা ছিল ! মুর্শিদাবাদের সুতিতে যাদের বাড়ি, সেখান থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় তারা কী করছিল তা হলে ! কী ভাবে তারা পৌঁছল বাড়ি থেকে অত দূর? কে নিয়ে গেল তাদের? কেন? বাড়ির লোকেরা কেন যেতে দিলেন? পাড়াপড়শিরা কেন বাধা দিলেন না? স্থানীয় প্রশাসনের কী ভাবে তা নজর এড়িয়ে গেল? খবরের কাগজের বয়ান যদি সত্যি হয়, তা হলে অন্তত পাঁচ -ছ’মাস ধরে ওই কিশোরেরা কাজ করছিল বাজির কারখানায়। ওরা যে নাবালক, তা কেন এত দিনেও চোখে পড়ল না কারখানা -কর্তৃপক্ষের? নাকি চোখে পড়লেও তা সযত্নে এড়িয়ে যাওয়া হল? কেন? খবরে প্রকাশ, পিংলার গ্রামবাসীরা নাকি একাধিক বার স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন বেআইনি কারখানাটির ব্যাপারে। কিন্ত্ত সেখানে যে শিশুশ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হয়, সে খবর কি তাঁদের কাছে ছিল? যদি থেকে থাকে, তা কি প্রশাসনের নজরে এনেছিলেন তাঁরা? সে খবরে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কী ছিল? শিশুশ্রম -বিরোধী আইনে যেখানে ১৪ বছরের কমবয়েসিদের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে, সেখানে এত কাণ্ড কোত্থাও কারও নজরে পড়ল না? কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না? মারাত্মক বিপজ্জনক বাজির মশলা নিয়ে দিনের পর দিন কাজ করছে এতগুলি কিশোর, যে কোনও মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, এ আশঙ্কা কারও মাথায় এল না? এমন অনেক প্রশ্ন… প্রশ্নের আড়াল থেকে ভিড় করে আসা আরও অনেক -অনেক প্রশ্ন। বলা বাহুল্য, এ সবের কোনওটিই নতুনও নয় তেমন। এমনও নয় যে, অভিনব এই ঘটনা এ বারই প্রথম ঘটল … এমন মারাত্মক কিছু এর আগে কস্মিনকালে ঘটেনি, ফলত এ ধরনের ঘটনার জন্য আমরা আদৌ প্রস্ত্তত ছিলাম না। বস্ত্তত, বাজি কারখানায় আগুন লেগে বা বিস্ফোরণে শিশুশ্রমিকদের মৃত্যুর খবর ইতিপূর্বে বহু বার আমরা শুনেছি, কখনও অন্ধ্রে বা তামিলনাড়ুতে, কখনও বা এই বাংলাতেও। তা নিয়ে বিস্তর লেখালেখিও হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে শিশুশ্রম -নিবারণ আইনও হয়েছে উত্তরোত্তর কড়া। কিন্ত্ত কাজের কাজ তাতে কদ্দূর হয়েছে? শিশুশ্রম -নিবারণ আইন বলছে, ১৪ বছরের নীচে শিশুদের কোনও বিপজ্জনক পেশা বা জীবিকায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ। বিপজ্জনক পেশার যে তালিকা আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, তার একেবারে ওপরের দিকেই রয়েছে বাজি প্রস্ত্তত শিল্প। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন আরও কঠোর, সেখানে ১৮ বছরের নীচে শিশুশ্রমকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সেই নির্দেশিকায় অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ভারতও জাতীয় শিশুনীতিতে শিশুর বয়ঃসীমা ১৮ বছর বলে নীতিগত ভাবে মেনে নিয়েছে। কিন্ত্ত কার্যক্ষেত্রে শিশুশ্রম আইন এখনও শৈশবের সর্বোচ্চ বয়ঃসীমা বলতে ১৪ বছর বয়সকেই কেন বোঝে, তাও অবশ্যই সঙ্গত এবং প্রাসঙ্গিক জিজ্ঞাস্য। কিন্ত্ত সে বিতর্কে না -ঢুকেও এ -কথা অবশ্যই বলা যেতে পারে যে, সংশ্লিষ্ট আইনের যথাযথ রূপায়ণ বলতে যা বোঝায়, আমরা এখনও তার থেকে ঢের দূরে দাঁড়িয়ে। ধরেই নেওয়া যেতে পারে, কর্মখালির বিজ্ঞাপন দেখে স্বেচ্ছায় দরখাস্ত করে পিংলার বাজি কারখানায় ‘চাকরি ’ করতে আসেনি সুতির হতভাগ্য কিশোরেরা। খবরের কাগজের প্রতিবেদনেও জানা গিয়েছে, স্থানীয় কেউই তাদের ‘মোটা রোজগারের লোভ ’ দেখিয়ে নিয়ে এসেছিল পিংলায় ; পৌঁছে দিয়েছিল বাজি কারখানায়। সে সংবাদ যদি সত্যি হয়, তা হলে এমন একটি প্রস্তাবে কেন রাজি হলেন ওদের বাবা -মায়েরা? ওঁরা না -হয় দরিদ্র, অর্ধশিক্ষিত … আইন তেমন জানতেন না, কিন্ত্ত এমন একটি বিপজ্জনক কাজের সঙ্গে যে তাঁদের সন্তানের প্রাণের ঝুঁকি জড়িয়ে, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি? নাকি অপরিসীম দারিদ্রের সংসারে ক’টা বাড়তি টাকার স্বপ্ন চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল তাঁদের? আশেপাশে কেউ ছিলেন না তাঁদের ভুল ভাঙানোর জন্য? প্রশ্ন আরও থাকে। গ্রামের কোনও কিশোর -কিশোরী যদি দীর্ঘদিন স্কুলে না যায়, তা হলে শিক্ষকদেরও দায়িত্ব বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেওয়া … শিক্ষার অধিকার আইনের এই নিহিত বার্তাটি কি মনে রাখেননি স্থানীয় বিদ্যালয় -কর্তৃপক্ষ? যদি ধরে নেওয়া হয় যে, ওই হতভাগ্য শিশুরা কখনও স্কুলের গণ্ডি মাড়ায়নি … তা হলে তাতেও তো শিক্ষার অধিকার আইনের প্রয়োগজনিত অসম্পূর্ণতাই প্রমাণিত হয়? গ্রামের কোনও কিশোর দীর্ঘদিন ধরে বাইরে থাকলে সে কোথায় রয়েছে, কী করছে, কে তাদের নিয়ে গিয়েছে, কী বলে নিয়ে গিয়েছে ইত্যাদি তথ্য অনুপুঙ্খ জানাও কিন্ত্ত শিশু -সুরক্ষা আইন -মোতাবেক স্থানীয় প্রশাসনের কাজের মধ্যে পড়ে। সে জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামোও যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে অর্থের সংস্থানও। সে সব কাজ কতটা সুষ্ঠুভাবে চলছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে পিংলা।
জবা, বা জবার মতো অসংখ্য আরও ছেলেমেয়ে যারা শাড়িতে জরি বসানোর কাজ করছে, বাসন ধুচ্ছে চায়ের দোকানে, জুতো পালিশ করছে স্টেশন -চত্বরে, চাষের মাঠে কীটনাশক ছড়াচ্ছে, বিড়ি বাঁধছে, ধুপকাঠি -মোমবাতি -দেশলাই তৈরি করছে, কার্পেট বুনছে, ইটভাটায় -ক্রাশারে -স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় -সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজ করছে … তাদের অধিকাংশই পিংলার বাজি কারখানার মৃত শিশুদের চেয়ে অনেক বেশি ভাগ্যবান। অন্তত পৈতৃক প্রাণটা তো এখনও যায়নি তাদের।
কিন্ত্ত শৈশবটা যে চলে গেল ! অবান্তর প্রশ্ন। সে সব নিয়ে আর কবেই বা কে ভেবেছে ! ভাবলে কি শিশুশ্রম -নিরোধক আইন সংশোধনে দীর্ঘ ২৮ বছর লেগে যায়? আজ আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম বিরোধী দিবস। দীর্ঘ আঠাশ বছর পরে খাতায় কলমে ভারতে শিশু শ্রম আইন সংশোধিত হয়েছে। কিন্ত আইনের বাস্তব রূপায়ণ কি আদৌ হচ্ছে? লিখছেন অভী আচার্যবাজি কারখানায় আগুন লেগে শিশুশ্রমিকদের মৃত্যুর খবর ইতিপূর্বে বহু বার আমরা শুনেছি, কখনও অন্ধ্রে বা তামিলনাড়ুতে, কখনও বা এই বাংলাতেও। তা নিয়ে বিস্তর লেখালেখিও হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে শিশুশ্রম -নিবারণ আইনও হয়েছে উত্তরোত্তর কড়া। কিন্ত্ত কাজের কাজ তাতে কদ্দূর হয়েছে? পিংলায় বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের পরে।

সংবাদপত্র থেকে তথ্য সংগৃহীত - প্রতাপ সাহা (https://www.facebook.com/pratapcsaha)। ধন্যবাদ।
.........

14/06/2022

|| জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল ||

বিংশ শতক শেষ হতে আর এক বছর বাকী। ১৯৯৯ সালে ‘ফিজিক্স ওয়ার্ল্ড’ (Physics World) পত্রিকার লোকজন এক সমীক্ষার কথা ভাবলেন। তখনকার সময়ের বাঘা বাঘা পদার্থবিদদের জিজ্ঞাসা করা হল, তাঁদের মতে ইতিহাসের সেরা পদার্থবিজ্ঞানী কে ছিলেন? স্বাভাবিকভাবেই নিউটন এবং আইনস্টাইনের নাম উঠে এল অধিকাংশের মুখে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এঁদের সাথেই এক সারিতে রয়ে গেলেন তৃতীয় একজন পদার্থবিদ, জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল। তড়িৎচুম্বকীয় তত্ত্বের প্রবক্তা এই বিজ্ঞানী মৌলিক গবেষণার বিচারে বাস্তবিকই নিউটন এবং আইনস্টাইনের সমগোত্রীয় বটে।

ম্যাক্সওয়েলের জন্ম ১৮৩১ সালে, স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে, এক বিত্তশালী স্কটিশ পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি ছিল লক্ষণীয়। তাঁর প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় মাত্র ১৪ বছর বয়সে, সেখানে তিনি গাণিতিক লেখচিত্র প্লট (plot) করার নতুন কিছু উপায় দেখিয়েছিলেন। তিনি প্রথম দেখিয়েছিলেন সুতো এবং পেনসিল ব্যবহার করে কীভাবে উপবৃত্ত (ellipse) আঁকা যায়। ম্যাক্সওয়েলের গবেষণাপত্র রয়েল সোসাইটি অফ এডিনবার্গে (Royal Society of Edinburg) পড়া হয়েছিল, যদিও তিনি বয়সে ছোট ছিলেন বলে তাঁকে নিজের পেপার নিজেকে পড়তে দেওয়া হয়নি।

জেমস ম্যাক্সওয়েল উচ্চতর শিক্ষার জন্য পড়েছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানেও তিনি গণিত আর পদার্থবিজ্ঞানে ব্যতিক্রমী প্রতিভা দেখিয়ে পেয়েছিলেন স্মিথস প্রাইজ (Smith’s Prize)। কেমব্রিজের হস্টেলে থাকার সময়ে এক মজার কাণ্ড ঘটে। ম্যাক্সওয়েল ঘুম নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করার জন্য সারাদিন ঘুমাতে লাগলেন। রাত দুটোর সময় উঠে আধঘণ্টা ধরে হস্টেলের বারান্দার এমাথা থেকে ওমাথায় দৌড়! সহপাঠীরা রেগে গিয়ে কাগজ এমনকি টম্যাটোও ছুঁড়ে মেরেছিলেন।

২৫ বছর বয়সে তিনি এবারডিন বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের (University of Aberdeen) 'চেয়ার অফ ন্যাচারাল ফিলোসফি' (Chair of Natural Philosophy) হিসেবে নিযুক্ত হন। তখন পদার্থবিজ্ঞানের নাম ছিল 'ন্যাচারাল ফিলোসফি'। এর দু’বছরের মাথায় তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক বড়সড় আবিষ্কার করে ফেললেন। প্রায় দুশো বছর ধরে এক রহস্য ছিল শনিগ্রহের চারপাশের বলয়গুলো (rings)। কেউই ঠিকঠাক ব্যাখ্যা করতে পারছিলেন না এই বলয়গুলির প্রকৃতি এবং তাঁদের উৎপত্তি। এটা যদি কয়েকটা কঠিন বলয় হয়, যেমনটা দূরবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায় আর কি, তবে তো মাধ্যাকর্ষণের সূত্রানুযায়ী তাদের নিজেদের মাঝে এবং গ্রহের সাথেও সংঘর্ষ হয়ে যাবার কথা। ম্যাক্সওয়েল তখন অংক কষে দেখিয়ে দিলেন, শনিগ্রহের বলয়গুলো শুধু একটি উপায়েই স্থিতিশীল থাকতে পারে, যখন তার চারপাশের বলয়টা অনেকগুলো ক্ষুদ্র গ্রহাণুর সম্মিলনে গঠিত হয়, যেখানে প্রতিটি গ্রহাণুই শনির উপগ্রহস্বরূপ কাজ করে। তিনি বললেন, একই বলয়ের গ্রহাণুগুলো একইদিকে একই গতিতে চলে এবং এভাবেই পুরো বিষয়ে ভারসাম্য থাকে। ম্যাক্সওয়েল তখন এটাও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, এই বলয় আস্তে আস্তে ছড়িয়ে যেতে যেতে একসময় মিলিয়ে যাবে। এবং এখন এর প্রমাণও মিলেছে, বলয়গুলো সত্যিই আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে!

১৮৬০ সালে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে মিলিত হয়ে যায় এবং সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের 'চেয়ার অফ ন্যাচারাল ফিলোসফি' ম্যাক্সওয়েলের পদে আসীন হন। এরপরে ম্যাক্সওয়েল লন্ডনের কিংস কলেজে (King’s College) অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন, যেখান থেকে তিনি প্রকাশ করেন তাঁর আবিষ্কৃত চারটি বিখ্যাত সমীকরণ। এই সমীকরণগুলো প্রথম গাণিতিকভাবে প্রমাণ করে যে, আলো, তড়িৎ, আর চৌম্বকত্ব আসলে একই বল (force) থেকে আসে- তড়িৎচৌম্বক বল (electromagnetic force)। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম উদ্দেশ্য হল প্রকৃতিতে প্রাপ্ত চারটি মৌলিক বলকে একীভূত করা, এবং এই কাজটি প্রথম ম্যাক্সওয়েল ১৮৬১ সালেই এগিয়ে দিতে পেরেছিলেন।

এখন আমরা জানি, ইলেকট্রন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গেলে তড়িৎ উৎপন্ন হয়, ইলেকট্রনেরা একই দিকে ঘুরলে আমরা পাই চৌম্বকত্ব আর ইলেকট্রনকে উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে নিয়ে আসলে আমরা পাই আলো বা ফোটন কণার স্রোত। এগুলির সবকিছুই আসলে একই বলের বিভিন্ন রূপ- তড়িৎচৌম্বক বল। ভাবতে অবাক লাগলেও সত্যি, এ সবকিছুই ম্যাক্সওয়েল কয়েকটি গাণিতিক সমীকরণ দিয়ে প্রকাশ করে ফেলেছিলেন অথচ ইলেকট্রন তখনও আবিষ্কারই হয়নি। এরও ৩০ বছর পরে আবিষ্কার হয় ইলেকট্রন। তিনি বিদ্যুতের উপর চুম্বকের প্রভাব আর চুম্বকের উপর বিদ্যুতের প্রভাবকে পর্যবেক্ষণ করে এগুলি বুঝেছিলেন এবং এই প্রভাবকে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন তড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ (electromagnetic wave) দিয়ে। তিনি সেই তরঙ্গের গতিও মেপেছিলেন গাণিতিকভাবে, পেয়েছিলেন তার মান আলোর গতির সমান। যেহেতু আলোর গতিই সর্বোচ্চ গতি, তাই এখান থেকেই তিনি বলতে পারলেন, তড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ আর আলো আসলে একই জিনিস।

নিউটনীয় পদার্থবিজ্ঞানের একটা বড় সংশোধন দিল ম্যাক্সওয়েলের এই সমীকরণগুলো। দেখা গেল, শক্তি এভাবে শূন্য মাধ্যমেও ভ্রমণ করতে পারে। পরে ম্যাক্সওয়েলের এই তত্ত্বের কয়েকটি ত্রুটি নিয়ে গবেষণা করার ফলেই জন্ম নেয় কোয়ান্টাম বলবিদ্যা (Quantum Mechanics)। এমনকি আইনস্টাইনের সব কাজই এই সমীকরণগুলো ছাড়া অচল। আইনস্টাইন নিজেই বলেছিলেন, “আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বটি (Special Theory of Relativity, STR) উদ্ভবের জন্য আমি ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণগুলোর কাছে ঋণী।”
তিনি ছিলেন গ্যাসের গতিতত্ত্বের (Gas Kinetics) প্রবক্তা। এই গতিতত্ত্ব থেকেই পথচলা শুরু স্ট্যাটিস্টিক্যাল বলবিদ্যার (Statistical Mechanics), যেখানে সম্ভাবনা তত্ত্বের (Probabilty) সাহায্যে আণুবীক্ষণিক কণাদের গতিবিধি পরিমাপ করা হয়। তাপগতিবিদ্যাতেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বৈজ্ঞানিক জীবনের শুরু থেকেই মানুষ রং কিভাবে দেখে তা নিয়ে তাঁর অনেক আকর্ষণ ছিল। ১৮৫৫ থেকে ১৮৭২, রং আসলে কি, বর্ণান্ধতা (color blindness), রং আমরা কীভাবে দেখি – এই নিয়ে একাধিক গবেষণাপত্র লিখেছিলেন, পেয়েছিলেন রামফোর্ড পদক (Rumford Medal)। তিনি বললেন, মানুষের চোখ শুধু তিনটি রংই দেখে- লাল, নীল আর সবুজ। তাই, লাল, নীল, সবুজ রঙের ঠিকঠাক ফিল্টার করা তিনটি ছবিকে একসাথে পর্দায় উপস্থাপন (project) করা গেলে, আমরা সেখানে রঙীন ছবি দেখতে পাব। সেই চিন্তা থেকে তিনি তৈরি করে ফেললেন মানবসভ্যতার ইতিহাসের প্রথম রঙীন ছবি। আমাদের টেলিভিশনের রং আনার প্রক্রিয়াটিও কিন্তু এই চিন্তারই আরেক রূপ।

ম্যাক্সওয়েল বেঁচেছিলেন মাত্র ৪৮ বছর। অ্যাবডোমিনাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৮৭৯ সালে মারা যান এই বিখ্যাত পদার্থবিদ। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই তিনি পদার্থবিজ্ঞানের জগতকে বদলে দিয়েছেন চিরদিনের জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের জীবন সহজ করে দিয়ে গেছেন অনেক অনেকগুণ। পদার্থবিজ্ঞানের প্রতিটি নতুন নতুন সাফল্যেই একবার পেছন ফিরে ম্যাক্সওয়েলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হয়েছে তাঁর পরবর্তী পদার্থবিদদের। আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের যত প্রযুক্তি আমরা ব্যবহার করি, তারা সবাই ১৮৬০ সালে প্রকাশিত ম্যাক্সওয়েলের গবেষণাপত্রের প্রতিটা অক্ষর মেনে চলে। আর এই কারণেই পৃথিবীর অধিকাংশ পদার্থবিজ্ঞানীদের মতে, আইনস্টাইন আর নিউটনের মতো কিংবদন্তীদের পাশেই থাকা উচিৎ তাঁর নাম।

লেখা - Soumodip Somu Adams
ডিজাইন - Arka Das

Photos from NCC Rampurhat's post 14/06/2022

তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়......‌🛑🟢

মাসটা মনে নেই, সম্ভবত ১৯৭৭ সালের শেষদিকের ঘটনা। দ্বারভাঙা বিশ্ববিদ্যালয়ে M.A পরীক্ষা চলছে। ঘুরতে ঘুরতে সেখানে এলেন জেলাশাসক। হতচকিত অধ্যাপকদের সামনে দিয়ে দোতলায় উঠে দাঁড়ালেন বারান্দার একপ্রান্তে ভেতর থেকে বন্ধ একটি ঘরের সামনে। দেহরক্ষীর চেষ্টায় দরজা খুলিয়ে দেখেন ভেতরে এক তরুণী পরীক্ষার খাতা লিখছে, আর তাকে সাহায্য করছেন ওখানকারই দুই অধ্যাপক। খাতাটা টেবিল থেকে তুলে নিয়ে মেঘমন্দ্র আওয়াজে বললেন, 'এক্সাম দেনেকা ইয়ে সহি তরিকা নেহি হ্যায়। অগলে বার পুরা তৈয়ার হোকে আনা।' ঘরে উপস্থিত দুই অধ্যাপকের ততক্ষণে ধুতি হলদে হবার উপক্রম ! মেয়েটি যে খোদ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্রের কন্যা ।

বিচারপতি অভিজিত গাঙ্গুলীর থেকে কোন অংশে কম হিম্মত দেখাননি সেদিন এই বাঙালি আমলা, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া না থাকায় আম আদমির কাছে একরকম অপরিচিতই রয়ে গেছেন। অথচ সর্বভারতীয় প্রতিযোগীতায় বাঙালিরা কল্কে পায়না, এই অপবাদের মুখে নুড়ো জ্বেলে দিয়ে ১৯৬৬ সালে IAS পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন তিনি। সত্যি বলতে কি, শিক্ষা জীবনে প্রথম হওয়াটা একরকম অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন ১৯৪২-এ বিহারের পূর্ণিয়ায় জন্ম এই বঙ্গসন্তান.........আভাস কুমার চ্যাটার্জী।‌🍁

১৯৫৭ সালে বিহার স্কুল বোর্ডের ম্যাট্রিক পরীক্ষা থেকে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের IA এ BA, সবেতেই প্রথম হবার পর অর্থনীতিতে মাস্টার্স করতে গেলেন দিল্লি স্কুল অব ইকোনমিক্স এ। সেখানেও প্রথম স্থান অধিকার করে বসলেন। সহপাঠী হিসেবে পেয়েছিলেন এখানে বিখ্যাত সাংবাদিক অরুন শৌরী কে !

জেলাশাসক হয়ে কর্মজীবন শুরু তো করলেন কিন্তু প্রতি পদে পদে লাগতে লাগলো সংঘাত। আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরা বিহার প্রশাসনে তিনি মূর্তিমান ভগীরথ হয়ে অবতীর্ণ হলেন। তিতিবিরক্ত রাজ্য সরকার একসময়ে তাঁকে বিহার রাজ্য পরিবহন নিগমে (BSRTC) জেনারেল ম্যানেজার পদে বসালো। লোকসানে চলা সংস্থাটির হাল ধরে দেখলেন পদে পদে রয়েছে অনিয়ম, দুর্নীতি সেখানে জাঁকিয়ে বসেছে। বিনা টেন্ডারে যেমন মালপত্র কেনা হচ্ছে তেমনি নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও রয়েছে অস্বচ্ছতা। কড়া হাতে এসব বন্ধ করাতে দুবছরের মধ্যে লাভের মুখ দেখলো সরকারি সংস্থাটি। কিন্তু এতে বিপদে পড়ে গেলেন ঐ বাঙালি আমলা।

রমাকান্ত ঝা নামে শাসকদলের এক বিধায়ক ছিলেন সংস্থার চেয়ারম্যান এবং সমস্ত অনিয়মের নাটের গুরু। বাড়া ভাতে ছাই পড়তে লাগাতার বিক্ষোভ ও শ্রমিক অশান্তি সৃষ্টি করে নরক করে তুললো সে আভাস চ্যাটার্জীর জীবন। তাতেও অবশ্য দমানো যায়নি ঐ দাবাং আমলাকে, মিডিয়ার সামনে ফাঁস করে দিলেন চেয়ারম্যানের কীর্তিকলাপ। লিখিত অভিযোগ জানালেন রাজ্য সরকার ও Public Enterprises Bureau (PEB) এর কাছে। দুর্ভোগ তাতে আরো বাড়লো। মিডিয়ায় মুখ খোলার জন্য কৈফিয়ত তলব করে বসলেন তদানীন্তন চিফ সেক্রেটারী পি পি নায়ার। তদন্তে চেয়ারম্যান কে ক্লিনিচিট দেয়া হলে বিরক্ত মানুষটি নায়ারকে লিখেছিলেন..........'I have been increasingly disillusioned about the utterly subservient role and insignificant authority of public servants in the Government set-up of our state.'

মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্র তখন এক নতুন চাল চাললেন। বিধানসভায় আভাস চ্যাটার্জী সহ দশ আমলাকে 'সুপারটাইম' পে স্কেলে কমিশনার পদে উন্নীত করার সুপারিশ আনলেন। যে কোন সরকারি কর্তার কাছে এই স্কেল অত্যন্ত লোভনীয় যা জয়েন্ট সেক্রেটারি লেভেলের আমলারা পেয়ে থাকেন। আভাসের তখন মাত্র ১৬ বছর চাকরি হয়েছে, তা সত্ত্বেও তিনি প্রতিবাদ করে চিঠি লিখলেন, "Let me spend the rest of my service career with the Government in my present grade and earn my bread without adding to my sense of mortification."

পরিস্থিতি আরও খারাপ হলো ক্ষমতায় লালুপ্রসাদ যাদব আসার পর। যাদব কুলপতির স্বজনপোষন ও সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে হিমালয়ের মতো রুখে দাঁড়ালেন এই বাঙালি আমলা। তিনি তখন পাটনায় বিভাগীয় সচিব হিসেবে কাজ করছেন। প্রশাসনিক কাজে শাসকদলের নেতারা হস্তক্ষেপ করাতে প্রায় রোজই সংঘাত লেগে থাকতো। এর মাঝে ভূষি কেলেঙ্কারির কথা সামনে আসে। আভাস চ্যাটার্জী লালুর সাথে সাথে কয়েকজন জেলাশাসকের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা ফাঁস করে দেন। ঘরে বাইরে প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে ১৯৯২ সালের শুরুতেই হতাশ মানুষটি চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন।

তবে পদত্যাগ পত্রে সেদিন ভারতীয় রাজনীতি নিয়ে অনবদ্য ভাষায় যা লিখেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। চিঠিতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন...
“The powers that be in Indian politics are least bothered about nation building. They have little concern about what happens to this country in future, where this nation lands up in the end. Behind the smoke screen of slogans and rhetoric, what has been going on in this country is not a grand ceremony of nation building, but a macabre dance of nation destruction!"‌💥

সত্যের পথে থাকার জন্য চরম মূল্য দিতে হয়েছিল প্রতিভাবান মানুষটিকে। বিয়ে করেছিলেন 'মুন্ডা' উপজাতীয় এক আদিবাসী মহিলাকে। একমাত্র পুত্র পথিকৃৎ কলেজ থেকে এক্সকারশনে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে দামোদর নদের জলে ডুবে মারা যায়। শেষ জীবনে রাঁচির ম্যালেরিয়া অধ্যুষিত আদিবাসী এলাকায় স্বাস্থ্য সচেতনতা ও শিক্ষার প্রসার নিয়ে কাজ করতেন। নিয়তির কি নিষ্ঠুর পরিহাস, যে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে সরল প্রান্তিক মানুষদের সচেতন করায় ব্রতী ছিলেন, ২০০২ সালের ডিসেম্বরে সেই ম্যালেরিয়াই তাঁর জীবন কেড়ে নিলো। বয়স হয়েছিল মাত্র ৬০ বছর।

ভারতীয় প্রশাসনে IAS বা IPS রা একরকম স্তম্ভের মতো এবং নিঃসন্দেহে তারা এক একজন নক্ষত্র। তবে আভাস চ্যাটার্জীর মতো সোজা শিরদাঁড়ার নক্ষত্র রোজ রোজ দেখতে পাওয়া যায়না, ধূমকেতুর মতো হঠাৎই উদয় হন তাঁরা। যেখানেই থাকুন ভালো থাকবেন স্যার...... ! ‌🌹🌹
কলমে ✍🏻© স্বপন সেন 🌲
তথ্যসূত্র: Rebels with a cause, India Today,

Want your school to be the top-listed School/college in Rampur Hat?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Rampur Hat
731202

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm