12/05/2018
একটা সময় ছিল,জিলা স্কুল মোড়ে সকাল সকাল গরম কচুরী টাকায় একটা করে পাওয়া যেত।টিফিনের জন্য রোজ বরাদ্দ ছিল দু' থেকে তিন টাকা।পাশের ছোটো দোকানটাতে রকমারি রঙিন কাগজে মোড়া টক-ঝাল-মিস্টি চকোলেট পাওয়া যেত,ছিল চিঁড়ে দেওয়া আট-আনার আইসক্রিম আর শীত পড়লেই স্কুলের বাইরে হাজির হত সিয়াকুলের একটা ঠেলা,বিটনুন মেশানো সেই টক-মিস্টি একটা শৈশব আমাদের ছিল।হনুমান টুপি না পরে মায়ের অবাধ্য ছেলে হয়ে উঠে তাড়াতাড়ি বড়ো হয়ে ওঠার যেমন এক আপ্রাণ চেস্টা ছিল,তেমনিই বাবার হাত ছেড়ে নতুন সাইকেলে চড়ে ইস্কুলে পাড়ী দেওয়া মস্ত এক স্বাধীনতা ছিল।
বয়ঃসন্ধি দরজায় কড়া নাড়ল যখন,গার্লস স্কুলের ছুটির সময়টা সবার অলিখিত ভাবেই মনে থেকে যেত।সদ্য সাইকেলে ধাতস্থ হওয়া আমাদের তখন হাফপ্যান্ট ছেড়ে ফুলপ্যান্টে পদোন্নতি আর তেনাদেরও স্কার্ট ছেড়ে চুড়িদার আর বাহন রিক্সা করে বিপরীত দিক থেকে আগমন।না ছিল ফোন,না ছিল সোশ্যাল মিডিয়া,শুধু অদ্ভুত একটা ভালোলাগা ছিল।নাম না জেনেও দিবাস্বপ্ন দেখার মতো নবীন এক কৈশোর ছিল।
মাসে দেড়শো টাকা দিয়ে টিউশন ছিল,বছরে একশো সতেরো টাকা নেওয়া স্কুল ছিল।না,ইউটিউব ছিল না,কোনোও কোনোও বাড়িতে টিভিও ছিলনা,কিন্তু সবার কাছে একটা সুকুমার-উপেন্দ্রকিশোর কিংবা নন্টে-ফন্টে,বাঁটুল দ্য গ্রেট ছিল।বাড়িতে হয়তো ফ্রিজ ছিলনা,কিন্তু বিকেলবেলা গাঢ় দুধ দিয়ে রোজ কড়া করে চা বানানো ছিল।বিকেলে ব্যাটবল নিয়ে মাঠে যাওয়া ছিল।হ্যাঁ,ধুলোকাদামাখা একটা ছেলেবেলা ছিল।
বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরে আসা ছিল,মন না চাইলেও বেশিরভাগ জিনিস মাথা নীচু করে মেনে নেওয়া ছিল,লঘুগুরু কিছু করলেই ইস্কুল-টিউশন-বাড়ি সবজায়গাতেই ধমক,কানমলা,পিঠে কিল নিয়ম করে খাওয়ার চল ছিল।এককথায় একটা অনাদর ছিল।
...কিন্তু সেই তিনি বহুকাল আগে বলে গেছেন,"অনাদর একটা মস্ত স্বাধীনতা।সেই স্বাধীনতায় আমাদের মন মুক্ত ছিল।খাওয়ানো-পরানো-সাজানো-গোজানোর দ্বারা আমাদের চিত্তকে চারিদিক হইতে একেবারে ঠাসিয়া ধরা হয় নাই"।
নাহ্,তখন ইনস্টাগ্রাম ফিল্টার ছিল না,লাইক-ডিসলাইক-লাভ রিয়াক্টও ছিলনা।নাহ্,তখন মনের ডাটা হ্যাক করার কোনোও জুকেরবার্গ ছিলনা।
লেখা- Koustav