16/08/2026
#হাড়িপাড়ায়_একদিন...
হাড়ি এক প্রাচীন গোষ্ঠী, যারা পোদ জাতীর সমসাময়িক। বাংলার বহু পুরাকীর্তির নির্মাতা হাড়িরা...
আর্য এলো... রাজশক্তি হাড়িদের অন্ত্যজ বানালো! তারা না কি নমঃশূদ্র!!
খুব ইচ্ছে ছিলো সেই ঐতিহ্যবাহী জাতীকে কাছ থেকে দেখি...
শশুড়বাড়িতে যাওয়ার পর গেলাম হাড়িপাড়ায়...
একটা ছোট্ট বাচ্চা হলো আমাদের পথপ্রদর্শক।
কারণ যতোই স্বস্ত্রীক থাকেন না কেন? একটা পাড়ার ভেতরে হুট করে ঢুকে যাওয়াটা ঠিক না।
খুকির সাথে ঘুরতে ঘুরতে দেখা হলো এক কাকির সাথে, উনি আমার শশুড়বাড়ি ভিক্ষা করতে যান। আমার স্ত্রীকে দেখেই চিনলেন।
উনার বাসায় বসতে বললেন।
হাড়িপাড়া খুবই চমৎকার, আদি বাঙ্গালী বাড়ি, এদের মুরগীর ঘর নির্মাণের কৌশল চমৎকার। ঘরের সাথেই থাকে, তবে আলাদা তোরণ ও ছোট্ট খুপড়ি।
প্রত্যেকটা বাড়িই ন্যাপা ও মাটির দোতলাও আছে।
সেই কাকির ঘরে ঢুকেই দেখলাম এককোণে পূজার জায়গা। সেখানে রাধা-কৃষ্ণের ছবি রাখা।
অবাক হলাম, কারণ হাড়িরা আদতে গোড়া শাক্ত, তাও তারা কেবলমাত্র কালীপূজা করতো।
সেখানে ২/১ জন বৃদ্ধার সাথে কথা হলো। উনাদের ধর্মবিশ্বাসের কথা উঠলো। আমি উনাদের ধর্ম সম্পর্কে জানি দেখে এক বৃদ্ধা আমার হাত তার কপালে ঠেকালেন।
এই একটা বাজে ব্যাপার- এরা নিজেদের হাড়ি নয়! মালী বলে!
জঘন্য জাতিভেদ প্রথার কুফল। এদিক দিয়ে অবশ্য মুসলিমরাও পিছিয়ে নেই! মুসলিমরাও হাড়িদের নীচ-ই ভাবে!
আমার শশুড় সূ'ফী ধরণের তাই উনার এতে কিছুই এসে যায় না।
যাইহোক সেই ভিক্ষুক বৃদ্ধা আপ্যায়ণের জন্য ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে দেখে বল্লাম 'আপনি বসেন, কোত্থাও যাওয়া লাগবে না, আপনার সাথে অনেক কথা আছে'।
তারপর দেখলাম হাড়িপাড়ার মন্দির! আহ্! মূর্তি নির্মাণের নামে শিল্পের কি করুণ দশা! চেনাই যাচ্ছিলো না কোনটা কে?
দেখলাম এরা এটাও জানে না যে- কৃষ্ণ বিষ্ণুরই অবতার!
ফিরে আসার সময় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম 'কি বুঝলে'?
ও ঠিকই বুঝেছিলো- কোন পার্থক্যই নেই হাড়িদের সাথে বাঙ্গালীদের।
সেই একই রকমের কৌতুহলপ্রিয়, সেই চরম অতিথি পরায়ণতা ও সরলতা।
ওদের ও আমাদের মধ্যকার একমাত্র বাঁধা ধর্ম।
আমি কি আমার ধর্মের ক্ষেত্রে একচুলও ছাড় দেবো?
উত্তর- না, ওরাও কি দেবে? সেই একই উত্তর।
তো যেখানে আমরা চুল পরিমাণ ছাড়ও দেবো না, আমরা কি পারি না? সেই ধর্ম নিজের কাছে রাখতে? যেহেতু এখন সব্বাই একই জাত, বাঙ্গালী।
হাড়িপাড়ার অদূরে তোলা ছবি- ক্ষেতের ছবি। এক হাড়ি ভদ্রলোক জাল বুনছিলেন রাস্তায় বসে। সেখানের।
হাড়িদের এখন পেশা- জেলে।
সরকার মৎসজীবি কার্য দিয়েছে হাড়িদের। কিন্তু হুবড়ি শূকরেরা যারা আদৌও জেলেই নয়! তারাই ইউপি বদমাশ মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের ঘুষ দিয়ে নিজেরাও মৎসজীবি বনে যাচ্ছে!
আর বঞ্চিত হচ্ছে হাড়িরা।
এদের মুক্তির একমাত্র উপায়- জোটবদ্ধ হয়ে ভন্ড জেলেদের শায়েস্তা করা