08/05/2020
আজ ২৫ শে বৈশাখ
আজ ২৫ শে বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন । আজ থেকে অনেকদিন আগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ কোলকাতার জোড়াসাঁকো নামের একটা জায়গায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন । ছোট্টবেলায় ওনাকে সবাই ‘রবি ’ বলেই ডাকত , যেমন তোমাকে তোমাদের মা তোমার বাড়ির নাম ধরে ডাকে । পুচু, চুটকি,সান ,নীল বলে যেমন মা বাড়িতে ডাকে, ঠিক তেমনই দাদাভাইও তো তোমাদের বাড়ির নাম ধরে স্কুলে ডাকে না । আর কাকে টাইগার বলে ডাকে , তুতাই কার নাম ?
ছোট্টবেলায় রবি স্কুল যেতে চাইত না । বাড়িতে থেকেই পড়াশুনা করত । তোমরা তো করোনা ভাইরাসের জন্য বাড়িতে থাকছ , স্কুল বন্ধ তাই না ? তবে রবি ঠাকুর বাড়িতে থেকে কত কত বই পড়ত , গল্প শুনতো , আবার তোমাদের যেমন বাড়িতে স্যার বা আন্টি বা পিসি পড়াতে আসে, ঠিক তেমনই রবিকে অনেকজন মাস্টারমশাই পড়াতে আসতেন । আর শোন , তোমরাও এই লক ডাউনে বেশী বেশী পড়ে নাও বাড়িতেই , তাহলে স্কুল খুললেই আমাদের পড়াগুলো সবগুলো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে , আর আমরা নতুন নতুন খেলা শিখব, খেলা খেলব, নতুন নতুন গল্প বলব , আর আয়ুশ একটা নতুন গল্প বলবে । আর হ্যাঁ , রবি ঠাকুর কিন্তু খুব ভালো ছবি আঁকতেন , আর কত কত গান – কবিতা লিখে গেছেন ।
আমরা যে প্রত্যেকদিন প্রার্থনার সময় “ জনগণ মন অধিনায়ক ” গান করি , ওটা তো আমাদের জাতীয় সঙ্গীত না , হ্যাঁ ওটাও রবি ঠাকুর লিখেছেন । আর মুসাদ্দেক , জানকী , বর্ষা তোমরা যে ‘সহজ পাঠ প্রথম ভাগ ’ বইটা পড় , সেটাও রবীন্দ্রনাথের লেখা । আবার সুহানা, মুন্টি , মেরাজুল আর তোমাদের বন্ধুরা যারা দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড় , তোমাদের ‘সহজ পাঠ দ্বিতীয় ভাগ ’ ওটাও তো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথেরই লেখা ।
“ মেঘের কোলে রোদ হেসেছে, বাদল গেছে .......” গানটা কার কার মনে আছে পুরোটাই , আমাকে গান করে শোনাতে হবে কিন্তু । বিশাল , প্রিয়াংশু তোমাদেরকেও বলতে হবে ।
আর তোমাদের জন্য রবীন্দ্রনাথঠাকুরের জন্য একটা কবিতা আমিও লিখেছি – তোমরা সবাই পড়বে , আর শুনবে :
বিশ্বকবি তুমি রবীন্দ্রনাথ , প্রণাম জানাই আর করি নমস্কার ।
ভারতের গর্ব তুমি রবীন্দ্রনাথ , কত শত গান আর কবিতা দিলে আমাদের উপহার ।
জোড়াসাঁকো স্থানেতে , কলকাতা নগরেতে জন্মেছিলে ।
ধনী ঠাকুর পরিবারেতে, শিল্প – কলা-সাহিত্যের সঙ্গমে তুমি এসেছিলে ।
ভারতের গর্ব তুমি , তোমার লেখা বড়ই চমৎকার ।
গীতাঞ্জলী কাব্য লিখে পেয়েছ তুমি নোবেল পুরস্কার ।
সবটা পড়া হয়নি যদিও এখনো , তব মনে পড়ে কখনো কখনো ।
কুমোর পাড়ার গরুর গাড়ি আর আজ মঙ্গলবার সবটা ভুলিনি এখনও ।
লিখেছ আমাদের জন্য , বাবা বলেছে দেবে কিনে ,
বইমেলাটা আসুক, আর আমি ভাবছি সেটা কত দিনে ?
লক ডাউন উঠলেই আমরা ছুট্টে পালাব , আর যাব স্কুলে ।
শুনব – খেলব আর পড়ব নতুন গল্প সবটাই খেলাচ্ছলে ।
আর হ্যাঁ . সবার মনে আছে তো , আজকে দিদিভাই – দাদাভাই তোমাদের কোন কোন ক্লাসের পরীক্ষা নেবে , বাবা বলে দিয়েছে না , রেডি তাহলে ; ও হ্যাঁ , ভুলেই গেছিলাম – হাতের লেখা কিন্তু খুব সুন্দর করতে হবে , অনেক বেশী সুন্দর । কুশান , সায়ন , রুদ্র ..........হাতের লেখা ।
সব্বাই অনেক অনেক ভালো থাকো , সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে তারপর খাওয়া – দাওয়া । বাইরে খেলতে যাবে না কিন্তু । একটা কথা , বাড়িতে কিন্তু সবাই অল্প দুষ্টু করবে , আর মোবাইল দেখবে না , গেম খেলবেও না ।
ভালো থাকো সবাই ।
বড়দাদাভাই আর বড় দিদিভাই ।