welcome to my page
26/08/2026
আলহামদুলিল্লাহ, ২৫/ ০৮/ ২০২৬ লালগোলা, জনার্দন পুর প্রায় ১: ৩০ মিনিট আলোচনা করলাম।
আল্লাহ পাক আমাদের এই পথ চলা কে কবুল করুন।
18/08/2026
দেওবান্দী আলিমদের দৃষ্টিতে ঈদে মিলাদুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম:
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিন কে ঈদ বলা সম্পর্কে দেওবন্দী সম্প্রদায়ের একজন বিজ্ঞ আলেম মাওলানা রুহুল্লাহ গাফুরী সাহেব খুব চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন আপনারা লক্ষ্য করুন।
آنحضرت ﷺ کی پیدائش کی خوشی اجتماعی طور پر منانا عید میلادالنبی کہلاتا ہے عید یہاں
خوسی کے معنی میں ہے جیسے کوئی دوست دیر سے ملے تو مبالغۃ کہتے ہیں کہ لو آج عید ہو گئی - عید میلاد النبی ﷺ میں بھی عید اسی معنی میں ہے عید کی حقیقت شرعی اس میں مراد نہیں ہوتی ۔جس طرح عیدین کے دن اجتماعی خوشی ہوتی ہے کسی خوشی کو عید بنانا اسے اجتماعی شکل میں منانا ہے۔ ولادت النبی ﷺ کی اجتماعی خوشی کرنے کو عید میلادالنبی ﷺ کہا جاتا ہے۔
অর্থাৎ : হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মের দিন
একত্রিত হয়ে খুশি উদযাপন করাকে ঈদে মিলাদুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম বলা হয়। এখানে ঈদ শব্দের অর্থ হচ্ছে আনন্দ প্রকাশ করা
বা খুশি উদযাপন করা। যেমন কোনো বন্ধু অপর বন্ধু সাথে যখন অনেক আকাঙ্ক্ষার পর সাক্ষাৎ করে তখন বলে দেয়, যে আজ তো আমার জন্য ঈদ হয়ে গেল।
মিলাদুন্নাবী ঠিক একই অর্থে ব্যবহার করা হয়। আসলে এখানে
শারয়ী ঈদ তথা পারিভাষিক অর্থে ঈদ বুঝানো হয়নি। যেমন- দুই ঈদ
তথা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আদ্বহা এর দিন একত্রিত হয়ে খুশি উদযাপন
করা হয়। ( তারপর তিনি বলেন ) কোনো খুশির দিনকে ঈদ বানানোর অর্থ হচ্ছে,একত্রিত হয়ে পালন করার ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের দিন একত্রিত হয়ে আনন্দ প্রকাশ করা,বা খুশি উদ্যাপন করাকে ঈদে মিলাদুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বলা হয়।
📚ইসলামী মাহিনু কে ফাদ্বায়েল ওয়া
আহকাম - পৃষ্ঠা নং- ১১৩
উর্দু বাজার কারাচী পাকিস্থান থেকে প্রকাশিত:
দেওবন্দী সম্প্রদায়ের পীর ও মুর্শিদ হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মাক্কী নাবীজির মিলাদ সম্পর্কে বলেন।
اس میں تو کسی کو کلام ہی نہیں حضرت فخر آدم سرور عالم ﷺ کی ولادت شریف کا ذکر
بذات خود دنیا و آخرت کی خیر و برکت کا باعث ہے۔
অর্থাৎ: এই কথায় কারো দ্বিমত নেই যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মিলাদের আলোচনা করা,স্বয়ং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ ও বরকতের কারণ।
📚 ফাইসালা হাফত মাসআলা পৃষ্ঠা নং ৮
হুকুমাতে পাঞ্জাব লাহোর থেকে প্রকাশিত।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মিলাদ সম্পর্কে দেওবন্দী সম্প্রদায়ের গুরু ঠাকুর আশরাফ আলি থানবী বলেছেন
ذکر ولادت شریف نبوی مثل دیگر از کار خیر کے ثواب اور افضل ہے اگر بدعات اور قبائح سے خالی ہو۔اس سے بہتر کیا ہے
অর্থাৎঃ নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মীলাদের আলোচনা ও অন্যান্য নেক আমলের আলোচনার ন্যায় সাওয়াব ও
ফজিলত পূর্ণ কাজ। যদি বিদআত আর কুকর্ম থেকে মুক্ত হয়। তাহলে এর উত্তম আমল আর কি হতে পারে।
📚ইমদাদুল ফাতাওয়া- খন্ড নং ১১ -পৃষ্ঠা নং ৩৫১
যাকারিয়া বুক ডিপো ইন্ডিয়া থেকে প্রকাশিত।
আরেক জায়গায় মাওলানা আশরাফ থানবীর মিলাদুন্নাবী উদযাপন করা
মুস্তাহাব বলে ফাতাওয়া দিয়েছেন।
মুফতী মোহাম্মাদ শাফি আহমাদ আশরাফ আলী থানবীর বক্তব্য ও ফাতাওয়াগুলো একত্রিত করে একটি পুস্তক সংকলন করেছেন। উক্ত ফাতাওয়াটি আপনারা অধ্যায়ন করুন।
محفل میلاد کے بارے فرمایا کہ اس کے متعلق پہلے میرا یہ خیال تھا کہ اس محفل کا
اصل کام ذکر رسول ﷺ تو سب کے نزدیک خیر و سعادت اور مستحب ہی ہے۔
البتہ اس میں جو منکرات اور غلط رسمیں شامل کر دی گئی ہیں ان کے ازالہ کی کوشش کرنی چاہیٔے اصل امر محفل مستحب کو ترک نہیں کرنا چاہئے ۔
অর্থাৎ: মাহফিলে মিলাদ সম্পর্কে বলেন, যে এসম্পর্কে পূর্বে আমার এ ধারণা ছিল, যে এই মাহফিলের প্রধান কাজ হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আলোচনা করা, আর এটা সবার নিকটে
অতি উত্তম কাজ আর এটা মুস্তাহাব আমল। তবে এর সাথে যুক্ত করা নৈতিবাচকতা ও ভুল প্রথা-অনুষ্ঠানগুলোকে সংশোধনের চেষ্ঠা করতে হবে। মূল কথা হলো আসল মুস্তাহাব আমল কে ছাড়া উচিৎ হবে না।
📚মাজালিসে হাকিমুল উম্মাত - পৃষ্ঠা নং ১৬০
দারুল ইশায়াত করাচী থেকে প্রকাশিত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সমস্ত দেওবন্দী আলিমদের দৃষ্টিতে আকর্ষণ করছি যে, আপনাদের গুরু ঠাকুর আশরাফ আলী থানবীর কথার প্রতি আমল করে মিলাদুন্নবীর বিরোধীতা করা বন্ধ করুন।যদি কোন জায়গায় কিছু অজ্ঞ ব্যক্তির কারণে মিলাদুন্নবীর নাম দিয়ে কুসংস্কার ও ভুল প্রথা চালু করে তাহলে আসুন এক সাথে প্রতিবাদ করি। হারাম ফাতাওয়া দিয়ে সমাজে বিভ্রান্ত ছড়ানো বন্ধ করুন।
এসম্পর্কে আশরাফ আলী থানবীর দ্বিতীয় ফাতাওয়া, কলেজে মিলাদুন্নাবী মানানো ওয়াজিব- তিনি বলেন।
مولود شریف اور جگہ تو بدعت ہے مگر کالج میں جائز بلکہ واجب ہے کیونکہ اس بہانہ سے
وہ کبھی رسول ﷺ کا ذکر شریف اور آپ کے فضائل و معجزات تو سن لیتے ہیں تو آچھا
ہے اس طرح حضور ﷺ کی عظمت و محبت ان کے دلوں میں قائم رہے۔
অর্থাৎ: মিলাদ শরীফ প্রত্যেক স্থানে বিদআত তবে কলেজে শুধু জায়েয নয় বরং ওয়াজিব। কেননা ,এই অজুহাতে তারা মাঝে মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যিকির এবং তাঁর ফযীলত ও
অলৌকিক ঘটনা শ্রবণ করতে পান। সুতরাং এটা ভালো কাজ, এভাবেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মহিমা ও তার মহব্বত তাদের হৃদয়ে জেগে থাকুক।
📚মালফুজাতে হাকিমুল উম্মাত খন্ড নং ২১ পৃষ্ঠা নং ৩২৬
ইদারায়ে তালীফাতে আশরাফিয়া থেকে প্রকাশিত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সমস্ত দেওবন্দী আলিমদের নিকট আমার প্রশ্ন আপনার আকাবীরের ফাতাওয়া অনুযায় কলেজে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ওয়াজিব। তো কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা কি মহা আকাশে বসবাস করে নাকি আমার আপনার ঘরের ছেলে মেয়ে ? আর এখন আপনাদের বর্তমান দেওবন্দীদের ফাতাওয়া হচ্ছে সব ক্ষেত্রে মিলাদুন্নবী পালন করা বিদআত ও নাজায়েজ, তাহলে এখন মিথ্যুক ও নাজায়েজ কর্মের অন্তর্ভুক্ত কে আপনারা নাকি আপনাদের গুরু আশরাফ আলী থানবী ?
দেওবন্দী সম্প্রদায়ের পীর ও মুর্শিদ হাজি ইমাদাদুল্লাহ মুহাজির মাক্কীর নিকটে মিলাদ শরীফ পূর্বে যুগে মক্কা ও মদীনায় পালিত হতো।
,
مولود شریف تمامی اہل حرمین کرتے ہیں اسی قدر ہمارے واسطے حجت کافی ہے اور
حضرت رسالت پناہ کا ذکر کیسے مذموم ہو سکتا ہے البتہ جو زیادتیاں لوگوں نے اختراع
کی ہیں نہ چاہیں۔ اور قیام کے بارے میں میں کچھ نہیں کہتا ہاں مجھ کو ایک کیفیت قیام میں حاصل ہوتی ہے
অর্থাৎ: মিলাদ শরীফ মক্কা ও মদীনার সবাই পালন করে থাকেন, ( উক্ত আমল বৈধ হওয়ার জন্য) এতটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যিকর আযকার কি ভাবে নিন্দানীয় হতে পারে ? তবে মানুষ যা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে তা ঠিক নয়। আর আমি ক্বিয়াম
সম্পর্কে কিছু বলিনা, হ্যাঁ আমি কিয়ামে এক আলাদা প্রশান্তি পাই।
📚শামায়েমে ইমদাদিয়া - পৃষ্ঠা নং ৪৭
কুতুব খানা শারফুর রাশীদ পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত।
দেওবন্দী সম্প্রদায়ের পীর ও মুর্শিদ হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মাক্কীর নিকটে মিলাদকে হারামের ফাতাওয়া দেওয়া শরিয়ত কে নিয়ে অতিরঞ্জিত করা। হাজি সাহেব বলেন।
ہمارے علماء مولود شریف میں بہت تنازع کرتے ہیں تا ہم علماء جواز کی طرف بھی گئے
جب صورت جواز کی موجود ہے پھر کیوں ایسا تشدد کرتے ہیں اور ہمارے واسطے اتباع
حرمین کافی ہے۔
অর্থাৎ: আমাদের আলেমগণ মিলাদ শরীফ নিয়ে অনেক বিতর্ক
করেন, কিন্তু আলেম ( মুহাদ্দিস) গণ জায়েয এর পক্ষেও মত পোষণ করেছেন। যখন জায়েয এর বিষয়টি বিদ্যমান। তাহলে তারা কেনো এমন কঠরতা করে ? আর
আমাদের জন্য মক্কা মদীনার অনুসরণই যথেষ্ট।
📚শামায়েমে ইমদাদিয়া - পৃষ্ঠা নং ৫০
দেওবন্দী সম্প্রদায়ের পীর ও মুর্শিদ হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মাক্কী সাহেবের নিজস্ব আমল।
فقیر کا مشرب یہ ہے کہ محفل مولود میں شریک ہوتا ہوں۔ بلکہ برکات کا ذریعہ سمجھ کر
ہر سال منعقد کرتا ہوں اور قیام میں لطف اور لذت پاتا ہوں۔
অর্থাৎ: আমি গুনাহগারের আমল হচ্ছে, যে আমি মাহফিলে মীলাদে অংশ গ্রহণ করে থাকি। এবং প্রতি বছর এটিকে বরকতের উৎস হিসেবে ধারণ করে থাকি। আর আমি ক্বিয়ামের মাধ্যমে আনন্দ পায়।
📚ফাইসালা হাফত মাসআলা - পৃষ্ঠা নং ১৫
মাওলানা ক্বাসিম নানুতবীর নিকট মিলাদ পালন করা হচ্ছে, রাসূলের মোহাব্বাত আলামত।
দেওবন্দী সম্প্রদায়ের বিখ্যাত আলিম মুফতি শাফী, ক্বাসিম নানুতবী সম্পর্কে বলেন।
حضرت مولانا محمد قاسم رح سے کسی نے کہا کہ میرٹھ کے مولانا عبدالسمیع صاحب بیدل
بکثرت میلاد پڑھتے اور پڑھواتے ہیں آپ کیوں نہیں کرتے ۔ فرمایا کہ بھائی ان کو
حب رسول کا بڑا درجہ حاصل ہے دعاء کرو مجھے بھی وہ حاصل ہو جائے
অর্থাৎ: হযরত মাওলানা মোহাম্মাদ ক্বাসিম কে কেউ জিজ্ঞাসা করলেন যে,মিরাঠে এলাকার ( একজন আলিম ) মাওলানা আব্দুস সামি সাহেব প্রচুর পরিমাণ মিলাদ পড়েন ও অপরজনকে পড়ার অনুমতি দেন, তাহলে আপনি কেনো ( অনুরুপ আমল) করেন না ? সে উত্তরে বলল, ভাই তার হৃদয়ে অধিক পরিমান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম এর ভালো বাসা আছে, আমার জন্য দোয়া করো যেনো সেই ভালোবাসা আমার হৃদয়েও অবস্থান হয়ে যায়।
📚মাজালিসে হাকিমুল উম্মাত - পৃষ্ঠা নং ১২৪
উলামায়ে দেওবান্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত :
উলামায়ে হারামাইন দেওবান্দী আলেমদের নিকটে ২৬টি প্রশ্ন করেছিলেন। আর সেই ২৬টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিল, মাওলানা খালিল আহমাদ সাহরান পুরি এবং প্রশ্নগুলির সঠিক বলে স্বীকৃতি দিয়েছে ২৪জন উলামায়ে দেওবান্দ।
তাদের মধ্যে অন্যতম হলো।
মাওলানা মাহমুদ আল হাসান দেওবন্দী।
মাওলানা আহমাদ হাসান আমার ওয়াহাবী।
মুফতী আযাম দারুল উলুম দেওবন্দী মুফতী আজিজুর রহমান উসমানী।
মাওলানা আশরাফ আলী থানবী।
মাওলানা আশিক ইলাহি মিরাঠি।
এনারা ওই ২৬টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযুক্ত ছিল। আর সেটাকে পুস্তক আকারে তারা লিপিবদ্ধ করে আর তার নাম দিয়েছে।
আল মুহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ ২৪ জন উলামায়ে দেওবান্দ স্বীকৃতি দিয়েছে, যে আল মুহাম্মাদ আলাল মুফান্নাদ কিতাবে যা কিছু লিখা আছে তা সত্য এবং এটাই আমাদের আকাবীরদের আক্বিদা।
اتَقُولُونَ أَنَّ ذِكْرَ وَ لَادَتِهِ مُسْتَقْبِحٌ شَرْعًا مِنَ الْبِدْعَاتِ السَّيِّئَةِ المُحْرِمَةِ أَم غير ذلك.
অর্থাৎ: এসম্পর্কে আপনি বলেন, যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মিলাদের আলোচনা করা শরীয়তে অপছন্দনী বিদআতে সাইয়াহ হারাম নাকি অন্য কিছু ?
দেওবন্দী আলিমগণ সর্ব সম্মত উত্তর এইভাবে দিয়েছে।
حَاشَا أَنْ يَقُولَ اَحَدٌ مِنَ الْمَسْلِمِينَ فَضْلًا أَن نَقُولَ أَنَّ ذِكْرَ وَلَادَتِهِ
الشَّرِيفَةِ عَلَيْهِ الصَّلوةُ وَالسَّلَامٌ بَلْ وَ ذِكْرُ عُبَارِ نَعَالِهِ وَ بَوْلِ حِمَارِهِ مُسْتَقْبِحٌ مِنَ الْبِدْعَاتِ السَّيِّئَةِ الْمُحْرِمَةِ فَالْاَحْوَالُ الَّتِي لَهَا أَدْنَى تَعَلَّقَ بِرَسُولِ اللهِ الله ذِكْرُ هَا مِنْ أَحَبِّ الْمَنْدُوبَاتِ وَأَعْلَى
الْمُسْتَحْبَاتِ عِنْدَنَا سَوَاءٌ كَانَ ذِكْرُ وَلَادَتِهِ الشَّرِيفَةِ أَوْ ذِكْرُ بَوْلِهِ وَبَزَّارِهِ وَ قِيَامِهِ وَ قُعُودِهِ وَنَوْمِهِ وَ نَبْهَتِهِ كَمَا هُوَ مصرح فِي رِسَالَتِنَا
المسماة بِالْبَرَاهِينِ القاطعة في مواضع شتى منها .
অর্থাৎ : কি আশ্চর্য আমি কে বরং কোনো মুসলমান এমন কথা বলতে পারে না যে,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মিলাদে যিকর আযকার তো দূরের কথা বরং আপনার জুতোর ধুলো বালি ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে গাধার প্রতি আরোহণ করতেন তার প্রস্রাব এর আলোচনা করা কেও অপছন্দ ও বিদআতে সাইয়াহ ও হারাম বলে না। এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর সাথে যেই বস্তুর সামান্যতম সম্পর্কিত রয়েছে ,তার যিকর আযকার করা আমাদের নিকট অতি পছন্দনীয় ও মুস্তাহাব আমল। সেটা আপনার ( নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )
মিলাদের আলোচনা হোক বা আপনার প্রশ্রাব ও পায়খানা মোবারাকের আলোচনা হোক, বা আপনার কথাবার্তা হোক বা জাগ্রত অবস্থায় বা স্বপ্নের মাধ্যমে হোক না কেনো, যেমনটি আমার রিসালা বারাহীনে কাতিয়ায় অনেক জায়গায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
📚আল মুহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ - প্রশ্না নং- ২৬ পৃষ্ঠা নং ৬০ - ৬১
প্রিয় সুধীগণ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিন উপলক্ষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আলোচনা করা একত্রিত হয়ে নাবীজির মিলাদ ও সিরাত নিয়ে আলোচনা করা দেওবন্দী আলিমদের দৃষ্টিতে মুস্তাহাব ও অতি উত্তম আমল এবং আল্লাহ পাক তার উত্তম প্রতিদান দান করেন।
অতএব: বর্তমান যুগের দেওবন্দী আলিমদের বলবো, আমাদের বিরোধিতা করে নিজের পূর্ব পূরুষের সম্মান কে ধুলিষাত করিয়েন না।
সুতরাং: নিজের আকাবীরদের পক্ষে মত পোষণ করে মিলাদ পালনকারীদের বিরোধীতা করা বন্ধ করুন,নচেৎ আপনাদের আকাবীরদের বিপক্ষে মত পোষণ করে তাদের কে বিদআতী ও হারামী ফাতাওয়া দিয়ে নিজেকে সত্য প্রমাণ করুন।
দোয়াপ্রার্থী: মুফতি মানিরুল ইসলাম, কালিয়াচক, মালদা
14/08/2026
মাহফিলে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, জুলুস ও ঝান্ডার প্রমাণঃ
ঈদে মীলাদুন্নবীর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ :
শাব্দিক অর্থ : "ঈদ (عِيد)" আরবি শব্দ, যার শাব্দিক অর্থ—আনন্দ , খুশি-উৎফুল্লতা ইত্যাদি। এবং "মীলাদ (مِيلاد)" শব্দটি এসেছে "বিলাদাত (وِلادة)" মূল ধাতু থেকে যা মূলত 'কালবাচক' কিংবা 'স্থানবাচক' হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ জন্ম বা আগমনের সময় বা কাল।
সুতরাং, "মীলাদুন্নবী (مِيلادُ النَّبِيِّ)" শব্দটির শাব্দিক অর্থ হবে— নবী মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লা ল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্ম বা আগমনের সময়, অথবা নবীজীর শুভাগমনের দিন।
পারিভাষিক অর্থ : শরীয়তের পরিভাষায় নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিন তথা প্রিয় নবীজির আগমন উপলক্ষে আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার জন্য শরিয়ত সম্মতভাবে খুশি বা আনন্দ উদযাপনের অনুষ্ঠান করাই হলো ঈদে মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
ঈদে মীলাদুন্নবীর খুশি ও আনন্দ উদযাপনঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র আগমনের খুশি ও আনন্দ প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে এক মহৎ ও প্রশংসনীয় আমল। এই আনন্দ উদযাপন বিভিন্ন বৈধ উপায়ে করা যেতে পারে—শর্ত কেবল একটাই: তা যেন শরীয়তের সীমারেখার মধ্যে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ
১/সেই দিন নফল রোযা রাখা,
২/রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুবারক জন্মের সময়কার ঘটনাবলী বর্ণনা করা—যেমন, তাঁর গর্ভকালীন অলৌকিক ঘটনা,
৩/নূরে মুহাম্মদী সম্পর্কে আলোচনা,
৪/তাঁর বংশপরিচয় ও শৈশবের অবস্থা,
৫/হযরত হালিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে লালন-পালনের বর্ণনা,
৬/রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শানে গদ্যে বা পদ্যে কবিতা, কাসিদা, নাত বা হাম্দ পাঠ করা ইত্যাদি।
এই সকল বিষয় একাকী চর্চা করেও করা যায়, আবার সম্মিলিতভাবে মাহফিলের আকারেও আয়োজন করা যায়। উভয় ক্ষেত্রেই এগুলোকে "মীলাদ শরীফ" বলা হবে, যদি তা আদব ও শরয়ী সীমারেখা মেনে সম্পাদিত হয়।
পবিত্র কুরআনুল কারিমের আলোকে ঈদে মীলাদুন্নবীঃ
মহান আল্লাহ তা'আলা কুরআন পাকের মধ্যে একাধিক স্থানে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শুভ আগমণের আলোচনা করেছেন।
প্রথম আয়াতঃ
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمُ اَيَتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ .
অর্থাৎ : নিশ্চয় আল্লাহর মহান অনুগ্রহ হয়েছে মুসলমানদের উপর যে, তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্যে থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন,যিনি তাদের উপর তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন এবং তাদেরকে পবিত্র করেন আর তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দান করেন এবং তারা নিশ্চয় এর পূর্বে স্পষ্ট গোমাহারীতে ছিলো।
সূরা : আলে ইমরান , আয়াত নং- ১৬৪
দ্বিতীয় আয়াতঃ
يَأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءكُمُ الرَّسُولُ بِالْحَقِّ مِنْ رَّبِّكُمْ فَامِنُوا خَيْرًا لَّكُمْ وَ إِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا.
অর্থাৎ : হে মানবজাতি! তোমাদের নিকট এ রাসূল সত্য সহকারে
তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে শুভআগমণ করেছেন সুতরাং ঈমান আনো তোমাদের কল্যানার্থে, এবং তোমরা যদি কুফর করো, তবে নিশ্চয় আল্লাহরই যা কিছু আসমানসমূহ ও যমীনের মধ্যে বিদ্যামান রয়েছে, এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
সূরা : নিসা , আয়াত নং- ১৭০
তৃতীয় আয়াতঃ
يَأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَ كُمُ بُرْهَانٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُورًا مُّبِينًا.
অর্থাৎ : হে মানবকুল ! নিশ্চয় তোমাদের নিকট আল্লাহর নিকট থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের প্রতি উজ্জ্বল আলো অবতীর্ণ করেছি।
সূরা : নিসা, আয়াত নং- ১৭৪
চতুর্থ আয়াতঃ
يٰاَهْلَ الْكِتَبِ قَدْ جَاءَ كُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِّمَّا كُنتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَبِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَ كُمُ مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَبٌ مُّبِينٌ .
অর্থাৎ : হে কিতাবীরা! নিশ্চয় তোমাদের নিকট আমার এ রাসূল তাশরীফ এনেছেন, যিনি তোমাদের নিকট প্রকাশ করে দেন সেসব বস্তু থেকে এমন অনেক কিছু যেগুলো তোমরা কিতাবের মধ্যে গোপণ করে ফেলেছিলে এবং অনেক কিছু ক্ষমা করে থাকেন, নিশ্চয় তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর এসেছে এবং স্পষ্ট কিতাব।
সূরা : মা-ইদাহ, আয়াত নং- ১৫
পঞ্চম আয়াতঃ
يٰاَهْلَ الْكِتٰبِ قَدْ جَاءكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ عَلَى فَتْرَةٍ مِّنَ الرُّسُلِ أَنْ تَقُولُوا مَا جَاءنَا مِنْ بَشِيرٍ وَلَا نَذِيرٍ فَقَدْ جَاءَ كُمُ بَشِيرٌ وَنَذِيرٌ وَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ .
অর্থাৎ : হে কিতাবীগণ! নিঃসন্দেহে তোমাদের নিকট আমার এ রাসূল তাশরীফ আনয়ণ করেছেন, যিনি তোমাদের নিকট আমার বিধান সমূহ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, এরপর যে, রাসূলগণের আগমণ বহুদিন বন্ধ ছিলো। যাতে কখনো একথা না বলতে পারো যে, আমাদের নিকট কোন সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী আসেনি। সুতরাং এ সংবাদদাতা ও সাবধানকারী তোমাদের নিকট তাশরীফ আনয়ণ করেছেন এবং আল্লাহর নিকট সর্বশক্তিই রয়েছে।
সূরা : মা-ইদাহ, আয়াত নং- ১৯
পবিত্র হাদীসের আলোকে ঈদে মিলাদুন্নবীঃ
১/ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা রেখে জন্মদিন পালন করেছেন।
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ غَيْلاَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ صَوْمِ الاِثْنَيْنِ فَقَالَ " فِيهِ وُلِدْتُ وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَىَّ .
অর্থাৎ : হযরত আবূ কতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ঐদিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং ঐদিন আমার উপর (কুরআন) নাযিল হয়েছে।
সহীহ মুসলিম - একাডেমি হাদীস নং ২৬৪০
আন্তর্জাতিক হাদীস নং ১১৬২
সুনানে আবু দাউদ - পৃষ্ঠা নং ৪৫২ - হাদীস নং ২৪২৬
দারুল ফিকার বৈরুত লেবানন থেকে প্রকাশিত।
আস-সুনানুল কুবরা লিল-বায়হাক্বী - খন্ড নং ৪ - পৃষ্ঠা নং ৪৮৪ - হাদীস নং ৮৪৩৪
বা- তাহক্বীক মোহাম্মদ আব্দুল কাদির আত্বা
দারুল কুতুবিল ইলমিয়া বৈরুত লেবানন
সহীহ ইবনে খুজাইমা - পৃষ্ঠা নং ১০১৫ - হাদীস নং ২১১৭
বা- তাহক্বীক ডঃ মোহাম্মদ মুস্তাফা আল-আযমী
আল-মাকতাবাতুল ইসলামী থেকে প্রকাশিত।
মুসনাদে আহমাদ - খন্ড নং ৩৭ - পৃষ্ঠা নং ২২৮ - ২৪৪ হাদীস নং ২২৫৪১ - ২২৫৫০
বা- তাহক্বীক শাইখ শুয়াইব আরনাউত
মুয়াস্সাসাতুর রেসালাহ থেকে প্রকাশিত।
২/ সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমগণ একত্রিত হয়ে আল্লাহর যিকর করেছেন।
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مَرْحُومُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي نَعَامَةَ السَّعْدِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ خَرَجَ مُعَاوِيَةُ عَلَى حَلْقَةٍ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ مَا أَجْلَسَكُمْ قَالُوا جَلَسْنَا نَذْكُرُ اللَّهَ . قَالَ آللَّهِ مَا أَجْلَسَكُمْ إِلاَّ ذَاكَ قَالُوا وَاللَّهِ مَا أَجْلَسَنَا إِلاَّ ذَاكَ . قَالَ أَمَا إِنِّي لَمْ أَسْتَحْلِفْكُمْ تُهْمَةً لَكُمْ وَمَا كَانَ أَحَدٌ بِمَنْزِلَتِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقَلَّ عَنْهُ حَدِيثًا مِنِّي وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَى حَلْقَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ " مَا أَجْلَسَكُمْ " . قَالُوا جَلَسْنَا نَذْكُرُ اللَّهَ وَنَحْمَدُهُ عَلَى مَا هَدَانَا لِلإِسْلاَمِ وَمَنَّ بِهِ عَلَيْنَا . قَالَ " آللَّهِ مَا أَجْلَسَكُمْ إِلاَّ ذَاكَ " . قَالُوا وَاللَّهِ مَا أَجْلَسَنَا إِلاَّ ذَاكَ . قَالَ " أَمَا إِنِّي لَمْ أَسْتَحْلِفْكُمْ تُهْمَةً لَكُمْ وَلَكِنَّهُ أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُبَاهِي بِكُمُ الْمَلاَئِكَةَ "
অর্থাৎ : হযরত আবূ সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’আবিয়াহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে একটি হালকা’র উদ্দেশে বের হলেন। অতঃপর তিনি বললেন, কিসে তোমাদেরকে এখানে বসিয়েছে (তোমরা এখানে বসেছ কেন)? তারা বলল, আমরা আল্লাহর যিকর করতে বসেছি। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! এছাড়া আর কোন বিষয় তোমাদেরকে বসায়নি? (তোমরা কি শুধু এ জন্যেই বসেছ?) তারা বলল, আল্লাহর শপথ! এছাড়া অন্য কোন বিষয় আমাদেরকে বসায়নি। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে অপবাদ দেয়ার উদ্দেশে শপথ প্রার্থনা করিনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দৃষ্টিতে আমার যে সম্মান ছিল সে অনুযায়ী আমার চেয়ে কম হাদীস বর্ণনাকারী কেউ নেই।
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবাদের একটি ’হালকা’র নিকটে গিয়ে বললেন, কিসে তোমাদের বসিয়েছে? তারা বলল, আমরা বসেছি আল্লাহর স্মরণ ও তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। যেহেতু তিনি আমাদেরকে ইসলামের দিকে পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদের উপর তিনি ইহসান করেছেন। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তোমাদেরকে কি শুধু এ বিষয়েই বসিয়েছে? তারা বলল, আল্লাহর শপথ! আমাদেরকে একমাত্র ঐ বিষয় বসিয়েছে। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে অপবাদ দেয়ার জন্যে শপথ করতে বলিনি; বরং আমার নিকট জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে আমাকে অবহিত করেছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা’আলা ফেরেশতাগণের নিকট তোমাদের মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করছেন।
সহীহ মুসলিম - একাডেমি হাদীস নং ৬৭৫০
আন্তর্জাতিক হাদীস নং ২৭০১
৩/ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর উপস্থিতিতে মিলাদের আলোচনা।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ، يُحَدِّثُ عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ وُلِدْتُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفِيلِ . وَسَأَلَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ قُبَاثَ بْنَ أَشْيَمَ أَخَا بَنِي يَعْمُرَ بْنِ لَيْثٍ أَأَنْتَ أَكْبَرُ أَمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكْبَرُ مِنِّي وَأَنَا أَقْدَمُ مِنْهُ فِي الْمِيلاَدِ وُلِدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفِيلِ وَرَفَعَتْ بِي أُمِّي عَلَى الْمَوْضِعِ قَالَ وَرَأَيْتُ خَذْقَ الْفِيلِ أَخْضَرَ مُحِيلاً .
অর্থাৎ : হযরত কাইস ইবনু মাখরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তী বছরে (আবরাহার বাহিনী ধ্বংসের বছর) জন্মগ্রহণ করি। তিনি বলেন, ইয়াসার ইবনু লাইস গোত্রীয় কুবাস ইবনু আশইয়ামকে উসমান ইবনু আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রশ্ন করেন, আপনি বড় নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার চাইতে অনেক বড়, তবে আমি তার আগে জন্মগ্রহণ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতীর বছর জন্ম গ্রহণ করেছেন। আমার মা আমাকে এমন জায়গায় নিয়ে গেলেন যেখানে গিয়ে আমি পাখিগুলোর (হাতিগুলোর) মলের রং সবুজে বদল হয়ে যেতে দেখেছি।
সুনানে তিরমিযী-হাদীস নং ৩৬১৯
৪/ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই মিলাদের আলোচনা করছেন।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ صَالِحٍ، ثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، ثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ:
تَذَاكَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَأَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مِيلَادَهُمَا عِنْدِي، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَكْبَرَ مِنْ أَبِي بَكْرٍ، تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ، وَتُوُفِّيَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ، لِسَنَتَيْنِ وَنِصْفٍ الَّتِي عَاشَ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ.
অর্থাৎ : হযরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একদিন আমার উপস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁদের জন্মকাল সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বয়সে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চেয়ে বড় ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তেষট্টি (৬৩) বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আর আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু ও তেষট্টি (৬৩) বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। কারণ, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর আরও দুই বছর ছয় মাস জীবিত ছিলেন।”
আল-মুজামুল কাবির লিত-তাবারানী - খন্ড নং ১ - পৃষ্ঠা নং ৫৮ - হাদীস নং ২৮
বা- তাহক্বীক হামদী আব্দুল মাজিদ সালাফী
মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া ক্বাহেরাহ
৫/ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকীকার মাধ্যমে জন্মদিন পালন করেছেন।
عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَرَّرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: عَقَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ نَفْسِهِ بَعْدَ مَا بُعِثَ بِالنُّبُوَّةِ.
অর্থাৎ : "হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত প্রাপ্ত হওয়ার পর নিজের পক্ষ থেকে আকীকা করেছিলেন।”
মুসান্নাফে আব্দির রাযযাক - খন্ড নং ৪ - পৃষ্ঠা নং ৩২৯ - হাদীস নং ৭৯৬০
বা- তাহক্বীক হাবিবুর রহমান আযমী
মাকতাবাতুল ইসলামী বৈরুত লেবানন।
মুসনাদে বাযযার - খন্ড নং ১৩ -: পৃষ্ঠা নং ৪৭৮ - হাদীস নং ৭২৮১
বা- তাহক্বীক আদিল বিন সা'দ
মাকতাবাতুল উলুমে ওয়াল হেকাম আল-মাদিনাতুল মুনাওয়ারা থেকে প্রকাশিত।
মু'জামুল আউসাত লিত- তাবারানী - খন্ড নং ১ - পৃষ্ঠা নং ২৯৮ - হাদীস নং ৯৯৪
বা- তাহক্বীক আবু মুয়ায ত্বারিক বিন আউদ্বুল্লাহ বিন মোহাম্মদ ও আবুল ফাদ্বল আব্দুল মুহসিন বিন ইব্রাহিম আল- হুসাইনী
দারুল হারামাইন আল-কাহেরাহ।
উক্ত হাদীসটি ইমাম নুরুদ্দিন হাইসামী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আপন পুস্তকে লিপিবদ্ধ করেছেন।
وَعَنْ أَنَسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ عَقَّ عَنْ نَفْسِهِ بَعْدَمَا بُعِثَ نَبِيًّا.
رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، وَرِجَالُ الطَّبَرَانِيِّ رِجَالُ الصَّحِيحِ، خَلَا الْهَيْثَمِ بْنِ جَمِيلٍ، وَهُوَ ثِقَةٌ،
অর্থাৎ : হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত প্রাপ্ত হওয়ার পর নিজের পক্ষ থেকে আকীকা করেছিলেন।
এ হাদীসটি ইমাম বাযযার, এবং ইমাম তাবারানী তাঁর আল-আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তাবারানীর সনদের বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের রাবীদেরই অন্তর্ভুক্ত, তবে হাইসাম ইবনু জামীল ব্যতিক্রম; তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবী।
মাজমাউয যাওয়ায়িদ - খন্ড নং ৪ - পৃষ্ঠা নং ৯৪ - হাদীস নং ৬২০৩
বা- তাহক্বীক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আদ-দারবেশ
দারুল ফিকার লিত-তাবায়াতে ওয়ান নাশার ওয়াত তাউযী থেকে প্রকাশিত।
নোট : উক্ত হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো যে,নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নুবুওয়াত প্রকাশ করার পর আকীকা করেছেন। তবে এখানে একটা বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বয়স যখন মাত্র ৭ দিন তখন তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু আকীকা করছিলেন।
এই সম্পর্কে কিছু তথ্য উল্লেখ করছি আপনারা মনোযোগ সহকারে অধ্যায়ন করুন।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الشَّحَّامِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَحِيرِيُّ فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ، أَنْبَأَنَا السَّيِّدُ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْعَلَوِيُّ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا بُكَيْرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبُخَارِيُّ، نَا أَبِي، نَا بُحَيْرُ بْنُ نَصْرٍ، نَا عِيسَى بْنُ مُوسَى غُنْجَارُ، عَنْ خَارِجَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا وُلِدَ النَّبِيُّ ﷺ عَقَّ عَنْهُ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ بِكَبْشٍ، وَسَمَّاهُ مُحَمَّدًا، فَقِيلَ لَهُ: يَا أَبَا الْحَارِثِ، مَا حَمَلَكَ عَلَى أَنْ تُسَمِّيَهُ مُحَمَّدًا وَلَمْ تُسَمِّهِ بِاسْمِ آبَائِهِ؟ قَالَ: أَرَدْتُ أَنْ يَحْمَدَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي السَّمَاءِ، وَيَحْمَدَهُ النَّاسُ فِي الْأَرْضِ.
অর্থাৎ : হযরত ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্ম হলো, তখন আবদুল মুত্তালিব তাঁর পক্ষ থেকে একটি ভেড়া (দুম্বা) দিয়ে আকীকা করলেন এবং তাঁর নাম রাখলেন “মুহাম্মদ”।
তখন তাঁকে বলা হলো, “হে আবু হারিস! আপনি তাঁর নাম ‘মুহাম্মদ’ রাখলেন কেন? আপনার পূর্বপুরুষদের নামগুলোর কোনো একটি নাম কেন রাখলেন না?” তিনি উত্তরে বললেন, “আমি চেয়েছি, আকাশে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রশংসা করুন এবং পৃথিবীতে মানুষও তাঁর প্রশংসা করুক।”
তারিখে ইবনে আসাকির - খন্ড নং ৩ - পৃষ্ঠা নং ৩২
বা- তাহক্বীক মুহিব্বুদ্দীন আবু সাঈদ আল-উমরী
দারুল ফিকার লিত-তাবায়াতে ওয়ান নাশার ওয়াত তাউযী থেকে প্রকাশিত।
আল-খাসায়েসুল কুবরা-লিস-সুয়ূতী-খন্ড নং ১ - পৃষ্ঠা নং ১৩৪
দারুল কুতুবিল ইলমিয়া বৈরুত লেবানন থেকে প্রকাশিত।
অনুরূপ আরেকটি বর্ণনা ইমাম ইবনে কাসীর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আপন পুস্তকে আনায়ণ করছেন।
فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ السَّابِعُ ذَبَحَ عَنْهُ، وَدَعَا لَهُ قُرَيْشًا، فَلَمَّا أَكَلُوا قَالُوا: يَا عَبْدَ الْمُطَّلِبِ، أَرَأَيْتَ ابْنَكَ هَذَا الَّذِي أَكْرَمْتَنَا عَلَى وَجْهِهِ، مَا سَمَّيْتَهُ؟ قَالَ: سَمَّيْتُهُ مُحَمَّدًا، قَالُوا: فَلِمَ رَغِبْتَ بِهِ عَنْ أَسْمَاءِ أَهْلِ بَيْتِهِ؟ قَالَ: أَرَدْتُ أَنْ يَحْمَدَهُ اللَّهُ فِي السَّمَاءِ، وَخَلْقُهُ فِي الْأَرْضِ.
অর্থাৎ : অতঃপর যখন সপ্তম দিন এলো, তখন তিনি তাঁর পক্ষ থেকে আকীকা করলেন এবং কুরাইশদেরকে দাওয়াত করলেন। তারা আহার করার পর বলল, “হে আবদুল মুত্তালিব! আপনার এই পুত্র, যার উপলক্ষে আপনি আমাদের সম্মানিত করলেন, তার নাম কী রেখেছেন? ”তিনি বললেন, “আমি তার নাম মুহাম্মদ রেখেছি।” তারা বলল, “আপনি আপনার বংশের লোকদের প্রচলিত নামগুলো বাদ দিয়ে এই নামই কেন পছন্দ করলেন?” তিনি বললেন, “আমি চেয়েছি, আল্লাহ যেন আসমানে তাঁর প্রশংসা করেন এবং পৃথিবীতে তাঁর সৃষ্টিজীবও তাঁর প্রশংসা করে।”
আল-বেদায়া ওয়ান নেহায়া - খন্ড নং ৩ - পৃষ্ঠা নং ৩৮৯
باب صفة مولده الشريف عليه الصلاة والسلام
বা- তাহক্বীক ডঃ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুরকী
দারু হিজর লিত-তাবয়াতে ওয়ান নাশার ওয়াত তাউযী থেকে প্রকাশিত।
যিকরু মাউলুদে রাসূলিল্লাহ -লে ইবনে কাসীর - পৃষ্ঠা নং ২৬
বা- তাহক্বীক মাহমুদ আরনাউত ও ইয়াসিন মোহাম্মদ আস-সেওয়াস
প্রিয় পাঠকগণ! উপরোক্ত আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হলো যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর বয়স যখন মাত্র সাত দিন তখন তাঁর দাদাজান আকীকা করছিলেন। ফলে এখানে একটি প্রশ্ন উঠে আসে যে, তাহলে নাবীজি কেনো চল্লিশ বছর পর আবার নিজের পক্ষ থেকে আকীকা করলেন ?
যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস হাফিজুল হাদীস ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ( ইন্তেকাল - ৯১১ হিজরী ) খুব চমৎকার ভাবে এই আপত্তির জবাব দিয়েছেন।
قُلْتُ: وَقَدْ ظَهَرَ لِي تَخْرِيجُهُ عَلَى أَصْلٍ آخَرَ، وَهُوَ مَا أَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ عَنْ أَنَسٍ: «أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ عَقَّ عَنْ نَفْسِهِ بَعْدَ النُّبُوَّةِ»، مَعَ أَنَّهُ قَدْ وَرَدَ أَنَّ جَدَّهُ عَبْدَ الْمُطَّلِبِ عَقَّ عَنْهُ فِي سَابِعِ وِلَادَتِهِ، وَالْعَقِيقَةُ لَا تُعَادُ مَرَّةً ثَانِيَةً، فَيُحْمَلُ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ الَّذِي فَعَلَهُ النَّبِيُّ ﷺ إِظْهَارٌ لِلشُّكْرِ عَلَى إِيجَادِ اللَّهِ إِيَّاهُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ، وَتَشْرِيعٌ لِأُمَّتِهِ، كَمَا كَانَ يُصَلِّي عَلَى نَفْسِهِ لِذَلِكَ، فَيُسْتَحَبُّ لَنَا أَيْضًا إِظْهَارُ الشُّكْرِ بِمَوْلِدِهِ بِالِاجْتِمَاعِ وَإِطْعَامِ الطَّعَامِ، وَنَحْوِ ذَلِكَ مِنْ وُجُوهِ الْقُرُبَاتِ وَإِظْهَارِ الْمَسَرَّاتِ.
অর্থাৎ : আমি বলি: আমার কাছে এর আরেকটি ভিত্তি (তাখরীজ) প্রকাশিত হয়েছে। তা হলো, ইমাম বায়হাকী হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত প্রাপ্তির পর নিজের পক্ষ থেকে আকীকা করেছিলেন।” অথচ এ কথাও বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর জন্মের সপ্তম দিনে তাঁর আকীকা করেছিলেন। আর আকীকা দ্বিতীয়বার করা হয় না। অতএব, এ বর্ণনাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হবে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা করেছিলেন, তা ছিল আল্লাহ তাআলা তাঁকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন—এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁর উম্মতের জন্য একটি বিধান (তাশরী') প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে; যেমন তিনি এ কারণেই নিজের ওপর দরূদ পাঠ করতেন।
সুতরাং, আমাদের জন্যও তাঁর জন্ম উপলক্ষে সমবেত হওয়া, খাদ্য বিতরণ করা এবং এ ধরনের অন্যান্য নেক আমল ও আনন্দ প্রকাশের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মুস্তাহাব।
আল-হাবী লিল-ফাতাওয়া - লিস-সুয়ূতী - খন্ড নং ১ - পৃষ্ঠা নং ২৩০
দারুল ফিকার লিত-তাবায়াতে ওয়ান নাশার ওয়াত তাউযী থেকে প্রকাশিত।
অতএব: উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকীকা করে নিজের জন্মদিন পালন করেছেন।
নাবীজির আগমনের দিনে জুলুস করার প্রমানাদিঃ
প্রিয় সুধীগণ! নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমনের দিনে সুন্নী মুসলমানগণ জাশনে জুলুস করে। কেননা, এর পক্ষে দলীল রয়েছে।
ইমাম মুসলিম রাহমতুল্লাহি আলাইহি আপন পুস্তকে হিজরতের ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন।
فَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ لَيْلًا، فَتَنَازَعُوا أَيُّهُمْ يَنْزِلُ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ، فَقَالَ: «أَنْزِلُ عَلَى بَنِي النَّجَّارِ، أَخْوَالِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، أُكْرِمُهُمْ بِذَلِكَ». فَصَعِدَ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ فَوْقَ الْبُيُوتِ، وَتَفَرَّقَ الْغِلْمَانُ وَالْخَدَمُ فِي الطُّرُقِ، يُنَادُونَ: يَا مُحَمَّدُ! يَا رَسُولَ اللَّهِ! يَا مُحَمَّدُ! يَا رَسُولَ اللَّهِ .
অর্থাৎ : “অতঃপর আমরা রাতের বেলা মদিনায় পৌঁছলাম। তখন আনসাররা এ নিয়ে পরস্পর আগ্রহ প্রকাশ করতে লাগলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের মধ্যে কার ঘরে অবস্থান করবেন। তখন তিনি বললেন, ‘আমি বনু নাজ্জার গোত্রের কাছে থাকব। তারা আবদুল মুত্তালিবের মাতুলালয় (মায়ের দিকের আত্মীয়); এভাবে আমি তাদের সম্মানিত করতে চাই।’ এরপর পুরুষ ও নারীরা ঘরের ছাদে উঠে গেলেন। আর কিশোর ও খাদেমরা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ল এবং ডাকতে লাগল: ‘হে মুহাম্মদ! হে আল্লাহর রাসূল! হে মুহাম্মদ! হে আল্লাহর রাসূল!’”
সহীহ মুসলিম - একাডেমি হাদীস নং ৭৪১৬ আন্তর্জাতিক হাদীস নং ৩০১৪
এসম্পর্কে ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি সহীহ বুখারীতে একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন।
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: أَوَّلُ مَنْ قَدِمَ عَلَيْنَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ، وَابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ، فَجَعَلَا يُقْرِئَانِنَا الْقُرْآنَ، ثُمَّ جَاءَ عَمَّارٌ، وَبِلَالٌ، وَسَعْدٌ، ثُمَّ جَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فِي عِشْرِينَ، ثُمَّ جَاءَ النَّبِيُّ ﷺ، فَمَا رَأَيْتُ أَهْلَ الْمَدِينَةِ فَرِحُوا بِشَيْءٍ فَرَحَهُمْ بِهِ، حَتَّى رَأَيْتُ الْوَلَائِدَ وَالصِّبْيَانَ يَقُولُونَ: هَذَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَدْ جَاءَ، فَمَا جَاءَ حَتَّى قَرَأْتُ: ﴿سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى﴾ فِي سُوَرٍ مِثْلِهَا.
অর্থাৎ : হযরত বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমাদের কাছে সর্বপ্রথম আগমন করেছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবিদের মধ্য থেকে মুসআব ইবনু উমাইর এবং ইবনু উম্মে মাকতূম রাযিয়াল্লাহু আনহুমা। তাঁরা আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। এরপর আম্মার, বিলাল এবং সা‘দ রাযিয়াল্লাহু আনহুম আগমন করেন। তারপর বিশজন সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু আগমন করেন। এরপর স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগমন করেন। আমি মদিনাবাসীকে তাঁর আগমনের মতো আর কোনো কিছুর আগমনে এত আনন্দিত হতে দেখিনি। এমনকি আমি ছোট ছোট দাসী বালিকা এবং বালকদের বলতে শুনেছি, ‘এই যে আল্লাহর রাসূল ﷺ এসে গেছেন!’
নবী ﷺ মদিনায় আগমনের আগেই আমি سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَ (সূরা আল-আ‘লা) এবং এর অনুরূপ আরও কয়েকটি সূরা পড়ে ফেলেছিলাম।”
সহীহ বুখারী - পৃষ্ঠা নং ১২৫৭ - হাদীস নং ৪৯৪১
দারু ইবনে কাসীর দেমাশ্ক বৈরুত
এসম্পর্কে আরেকটি হাদীস ইমাম হাকিম নেসাপুরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আপন পুস্তকে আনায়ণ করছেন।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَحْبُوبِيُّ، ثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَسْعُودٍ، ثَنَا عُبَيْدُ اللّٰهِ بْنُ مُوسَى، أَنْبَأَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ:
وَمَضَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَتَّى قَدِمَ الْمَدِينَةَ، وَخَرَجَ النَّاسُ، حَتَّى دَخَلْنَا فِي الطَّرِيقِ، وَصَاحَ النِّسَاءُ وَالْخَدَمُ وَالْغِلْمَانُ: جَاءَ مُحَمَّدٌ، جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ، اللَّهُ أَكْبَرُ، جَاءَ مُحَمَّدٌ، جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ. فَلَمَّا أَصْبَحَ انْطَلَقَ، فَنَزَلَ حَيْثُ أُمِرَ.
অর্থাৎ : হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চলতে চলতে অবশেষে মদীনায় পৌঁছলেন। তখন লোকজন বের হয়ে এল। আমরা পথে প্রবেশ করতেই নারী, খাদেম ও বালকেরা উচ্চস্বরে বলতে লাগল—
‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন! আল্লাহর রাসূল এসেছেন! আল্লাহু আকবার! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন! আল্লাহর রাসূল এসেছেন!’
অতঃপর সকাল হলে তিনি রওনা হলেন এবং যেখানে তাঁকে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেখানেই অবতরণ করলেন।
আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহীহাইন - খন্ড নং ৩ - পৃষ্ঠা নং ১৪ - হাদীস নং ৪২৮২
(কিতাবুল হিজরাত)
বা- তাহক্বীক মুস্তাফা আব্দুল কাদির আত্বা
দারুল কুতুবিল ইলমিয়া বৈরুত লেবানন।
নোট: প্রিয় পাঠকবৃন্দ! এখানে কেউ আপত্তি করতে পারে যে, নাবীজি মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আগমন করলেন এই জন্য মাদিনাবাসী আনন্দিত হয়ে জুলুস করেছিলেন নাবীজির জন্মদিন কে কেন্দ্র করে নয়। কিন্তু আপনারা শুনে খুশি হবেন যে, নাবীজি যেই দিন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আগমন করলেন সেই দিন ছিল রাবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ অর্থাৎ নাবীজির জন্মদিন।
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَقِيهُ بِالرَّيِّ، ثَنَا أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ الدِّمَشْقِيُّ، ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي الْبَدَّاحِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ:
قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْمَدِينَةَ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ، لِاِثْنَتَيْ عَشْرَةَ لَيْلَةً خَلَتْ مِنْ شَهْرِ رَبِيعِ الْأَوَّلِ، فَأَقَامَ بِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ.
অর্থাৎ : হযরত আবু বাদ্দাহ ইবনে আসিম বিন আদি তিনি তাঁর বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবারের দিনে মদীনায় আগমন করেন। তখন রবীউল আউয়াল মাসের বারো রাত অতিবাহিত হয়েছিল (অর্থাৎ ১২ রবীউল আউয়াল)। এরপর তিনি মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেন।
আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহীহাইন - খন্ড নং ৩ - পৃষ্ঠা নং ৪৭৫ - হাদীস নং ৫৭৭৪
(কিতাবুল হিজরাত)
বা- তাহক্বীক মুস্তাফা আব্দুল কাদির আত্বা
দারুল কুতুবিল ইলমিয়া বৈরুত লেবানন।
এসম্পর্কে আবু আমর খালিফা বিন খিয়াত্ব আল-উসফুরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ইমাম ইবনে ইসহাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি - এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন।
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْمَدِينَةَ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ، حِينَ اشْتَدَّ الضُّحَى، لِاثْنَتَيْ عَشْرَةَ لَيْلَةً خَلَتْ مِنْ شَهْرِ رَبِيعِ الْأَوَّلِ.
অর্থাৎ : ইমাম ইবনু ইসহাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবারের দিনে, যখন পূর্বাহ্ন (দুপুরের আগের সময়) বেশ প্রখর হয়ে উঠেছিল, তখন মদীনায় আগমন করেন। সে সময় রবীউল আউয়াল মাসের বারো রাত অতিবাহিত হয়েছিল (অর্থাৎ ১২ রাবিউল আউয়াল)।
তারিখে খালিফা বিন খিয়াত্ব - পৃষ্ঠা নং ৫৫
وصول النبي صلى الله عليه وسلم إلي المدينة
বা- তাহক্বীক ডঃ আকরাম যিয়াউল উমরী
দারু তাইবা আর-রিয়ায থেকে প্রকাশিত।
অতএব : উপরোক্ত আলোচনা থেকে দিবালোকে ন্যায় প্রমাণিত হলো যে, নাবীজি যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আগমন করলেন তখন সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমগণ আনন্দিত হয়ে জুলুস করেছিলেন, এবং সেই দিন ছিল রাবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবারের দিন।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ঝান্ডা লাগানোর প্রমাণঃ
প্রিয় সুধীগণ! আমরা আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতাদর্শীগণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্মদিন কে কেন্দ্র করে পতাকা উত্তোলন করে,কিন্তু কিছু সংখ্যক মানুষ এটা কে নাজায়েজ প্রমাণ করার জন্য আধা জল খেয়ে ময়দানে নেমে পড়ে কিন্তু তাঁদের এই প্রচেষ্টা কখনো সফল হবে না, কেননা সেই দিনে পতাকা উত্তোলন করার আসলতা ও ভিত্তি রয়েছে।
ইমাম আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনে জাউযী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ( ইন্তেকাল-৫৯৭ হিজরী ) হযরত বুরাইদা আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَتَطَيَّرُ، وَكَانَ يَتَفَاءَلُ، وَكَانَتْ قُرَيْشٌ جَعَلَتْ مِائَةً مِنَ الْإِبِلِ، فِيْمَنْ يَأْخُذُ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَرُدُّهُ عَلَيْهِمْ، حِينَ تَوَجَّهَ إِلَى الْمَدِينَةِ.
فَرَكِبَ بُرَيْدَةُ فِي سَبْعِينَ رَاكِبًا مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ مِنْ بَنِي سَهْمٍ، فَتَلَقّٰي نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَنْتَ؟ فَقَالَ: أَنَا بُرَيْدَةُ.
فَالْتَفَتَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، فَقَالَ: يَا أَبَا بَكْرٍ، بَرَدَ أَمْرُنَا وَصَلَحَ.
ثُمَّ قَالَ: مِمَّنْ أَنْتَ؟ قَالَ: مِنْ أَسْلَمَ.
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَبِي بَكْرٍ: سَلِمْنَا.
قَالَ: مِمَّنْ؟ قَالَ: مِنْ بَنِي سَهْمٍ.
قَالَ: خَرَجَ سَهْمُكَ [يَا أَبَا بَكْرٍ].
فَقَالَ بُرَيْدَةُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَنْتَ؟قَالَ: أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، رَسُولُ اللَّهِ.
فَقَالَ بُرَيْدَةُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
فَأَسْلَمَ بُرَيْدَةُ، وَأَسْلَمَ مَنْ كَانَ مَعَهُ جَمِيعًا.
فَلَمَّا أَصْبَحَ، قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَدْخُلِ الْمَدِينَةَ إِلَّا وَمَعَكَ لِوَاءٌ.
فَحَلَّ عِمَامَتَهُ، ثُمَّ شَدَّهَا فِي رُمْحٍ، ثُمَّ مَشَى بَيْنَ يَدَيْهِ.
فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، تَنْزِلُ عَلَيَّ
قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ نَاقَتِي هٰذِهِ مَأْمُورَةٌ.
فَقَالَ بُرَيْدَةُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَسْلَمَتْ بَنُو سَهْمٍ، طَائِعِينَ غَيْرَ مُكْرَهِينَ.
অর্থাৎ : হযরত আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতা হযরত বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করতেন না; বরং শুভ লক্ষণ (সু-ফল) পছন্দ করতেন।
যখন তিনি মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন, তখন কুরাইশ ঘোষণা করেছিল যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ধরে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেবে, তাকে একশত উট পুরস্কার দেওয়া হবে।
তখন হযরত বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পরিবারের সত্তরজন অশ্বারোহীকে সঙ্গে নিয়ে, যারা বনু সাহম গোত্রের লোক ছিলেন, রওনা হলেন এবং আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কে?”
তিনি বললেন, “আমি বুরাইদাহ।”
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দিকে ফিরে বললেন, “হে আবু বকর! আমাদের বিষয়টি শান্ত হলো এবং সঠিকভাবে সম্পন্ন হলো।”
এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কোন গোত্রের?” তিনি বললেন, “আমি বনু আসলাম গোত্রের।” তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেন,“আমরা নিরাপদ হলাম।” পুনরায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “বনু আসলামের কোন শাখার?তিনি বললেন, “বনু সাহমের।” তখন তিনি বললেন, “হে আবু বকর! তোমার ভাগ্য (সাহম) উদিত হয়েছে।” এরপর হযরত বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কে?” তিনি বললেন, “আমি মুহাম্মদ ইবনু আ
Address
Vill/post : Sripur Colony P/s Mothabari Dist : Malda
Old Malda
732207
Website
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when Mufti Manirul Islam Amjadi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.
Category
Listing takedown request
Tell us why this listing should be removed. Our team will review your request.