18/05/2026
গরিফা গার্লস হাই স্কুল উ:মা:– ২০২৬
মনে হচ্ছে এই সেদিনের কথা। কি মিষ্টি... ছোট্ট ছোট্ট কচি কচি মায়া জড়ানো মুখ গুলো। খুব আদরের... সবে ক্লাস V এ ভর্তি হয়েছে। স্কুলের ছত্র ছায়ায় একটু একটু করে যখন বড় হয় উঠছে... ঠিক তখনই ঘটে গেল বিশ্ব ব্যাপী সেই মারন ব্যাধীর কালো ছায়া ..কোভিডের কালো ছায়ার প্রভাবে প্রায় দুবছর সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পড়াশোনা বাড়ি বসেই সমাপন হয়েছিল তাদের। নড়বড়ে ভিতের ওপর গড়ে উঠেছিল একটা নড়বড়ে কাঠামো। আমাদের স্কুলের মেয়েরা ভীষনই স্কুল নির্ভর। অর্থাৎ স্কুলের ক্লাস ও দিদিমনিদের পড়ানোর ওপর নির্ভরশীল। বলা যেতে পারে অনেকের প্রাইভেট টিউটর নেই বললেই চলে।তার কারণ অন্যান্য অনেক স্কুলের মত অনেক উচ্চ শিক্ষিত অভিভাবক, মেধাবী স্টুডেন্ট ও সম্পন্ন ঘরের ছাত্রী আমরা পাই না। খুবই গরীব ঘর থেকে উঠে আসে আমার মেয়েরা। অনেকেই আছে দুপুরের ওই মিড ডে মিল টুকু খাবার জন্যই তারা স্কুলে আসে।
আমরা অতি যত্নে ঘসে মেজে এই নরম কাদার তাল গুলোকে সোনায় পরিনত করি।
আমরা রাতজেগে নোটস তৈরি করে, অনলাইনে ক্লাস নিয়ে, তাদের তৈরি করি। তাই তারা যখন ভালো রেজাল্ট করে, আমাদের বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। আমাদের কষ্টের সার্থকতা খুঁজে পাই।ওদের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ও মনে হয় আমরা ভীষন সফল।
আমার কৃতি ছাত্রীরা। এরা সবাই খুব ভালো রেজাল্ট করেছে। হাইয়েস্ট নম্বর 412 /82% পেয়ে পাশ করেছে শায়নী নিসিন্দি। আরও অনেকেই 60% এর ওপর নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। আমরা সবাই ওদের জন্য গর্বিত।
আজ এত আনন্দের মধ্যেও মনটা খুব খারাপ লাগছে। আসলে মেয়েগুলো এত গাঁয়ে লেগে লেগে বড়ো হয়েছে। সুবিধা অসুবিধায় সব সময় ছুটে এসেছে আমার কাছে। এতদিন ওদের কাছে পেয়েছি... দেখতে পেয়েছি। এতদিনে একটা পর্বের শেষ হল। এবার আর একটা নতুন পর্ব শুরু হবে। তারা ছোট গন্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর জগতে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পায়েছে।
তাই এরা সবাই জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হোক এই কামনা করি। আমাদের ভালোবাসা , আদর , আশির্বাদ সবসময় ওদের সঙ্গে থাকবে।♥️♥️💐💐🎂🎂