02/02/2021
পাঁচ বছরের বাচ্চাদের ভর্তি করার ব্যাপারে কিছু মতামত
=================================
আমার সন্তানকে(বয়স সাড়ে ৪ বৎসর) আমি বাড়ীর কাছের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (বাংলা মিডিয়াম) ভর্তি করাবো। অনেকে মনে করে থাকতে পারেন ইংরেজি ভাষা রপ্ত করতে পারলে বড় বড় চাকরি হবে!!! ভাবনাটি কি সঠিক? মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় বসতে গেলে কি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে পড়লেই সন্তানের Rank 1 থেকে 100 এর মধ্যে হবে???নাকী IPS/IAS হবে সন্তান???
ইংরেজি ভাষা আর বাংলা ভাষার মধ্যে কোন ভাষাটি কঠিন বলে আপনাদের মনে হয়???
আমার মনে হয় কঠিন ভাষা শেখাতে আগ্রহী হলে বাংলা মিডিয়ামে দেওয়া উচিৎ।
আপনি জানেন বাংলায় 52 টি অক্ষর ইংরেজিতে 26 টি অক্ষর । বাংলায় দুটো/তিনটে অক্ষর একসঙ্গে যুক্ত হয় । তাছাড়া দীর্ঘ ঈ কার,হ্রস ই কার,ঋ কার ইত্যাদি তো আছেই। আমরা সবাই দেখবেন হিন্দি কথা বুঝতে পারি হিন্দি কথা বলতেও পারি। কিন্তু হিন্দি লেখাটা আমাদের সম্ভব নয়। আমরা হিন্দি কোথায় পড়েছি? কোন বিদ্যালয়ে পড়েছি??? প্রাথমিক /উচ্চ প্রাথমিক/ কলেজ???
না আমরা পড়িনি আমরা শুধু হিন্দি সিনেমা দেখেই হিন্দি ভাষাটা আয়ত্ত করে ফেলেছি। আমার ক্ষেত্রে তো তাই হয়েছে। কিন্তু ইংরেজির প্রতি ভীতি শুধু আমাদের নয় আমাদের পরিবার,বংশ,পাড়া-প্রতিবেশী সবাই। এই ভীতিটাই শিক্ষার মূল অন্তরায়। আপনার বিজ্ঞান পড়তে ভয় লাগে অংক করতে ভয় লাগে ইত্যাদি ইত্যাদি। শিক্ষার মূল অন্তরায় হলো "ভয়"। আমি ছোটবেলায় ইতিহাস পড়তে খুব ভয় পেতাম। কিন্তু কোনদিনই বিজ্ঞানকে ভয় পায়নি । বিজ্ঞানকে ভালো লাগতো। অনেকের ক্ষেত্রেই ভালোলাগার বিষয়ে আলাদা ভীতির বিষয় আলাদা।
ইংরেজি সহজ মাধ্যম । তাই আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি। অনেকেই ইংরেজি বলতে পারেন খুব সহজেই। শচীন তেন্ডুলকার দ্বাদশ শ্রেণীতে ফেল করেছিলেন কিন্তু এখন দেখবেন ইংরেজি ভাষাতে কিভাবে কথা বলেন!!! কিন্তু আমি কোথাও মেসি-রোনাল্ডোকে ইংরেজিতে কথা বলতে দেখিনি!!!ইংরেজি ভাষা সহজেই শেখা যায়!!! দরকার শুধু ভীতির গণ্ডিটা পার করা!!! কিন্তু এই ভীতির গণ্ডি পার করা সহজ নয় তার কারণ ভীতিটা শুধু নিজের ক্ষেত্রে নয় নিজের পরিবার পাড়া-প্রতিবেশী সমাজকে নিয়ে তৈরি!!!যারা অক্ষরজ্ঞানহীন তারাও কিন্তু যখন কথা বলেন প্রচুর ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেন।আমাদের যদি তামিল কন্নড়, মালায়লাম ইত্যাদি ভাষা শিখতে বলা হয় তাহলে সেটা কি রকম কঠিন ভীতির উদ্রেক করবে বলুন তো???
আমার ছেলের বয়স সাড়ে চার বৎসর। ওকে যখন পড়াতে বসি ও সব সময় ইংরেজিটা পড়তে ভালোবাসে । বাংলাটা পড়তেই চায় না। কারণ বাচ্চারা ফাঁকিবাজ হয় পড়াশোনা বাদ দিয়ে শুধু খেলতে চায় সে মোবাইল গেম আর ফুটবল যাই হোক।
সেই কারণে ওর কাছে ইংরেজিটা খুব সহজ যেহেতু 26 টি অক্ষর ।ও যেটা রপ্ত করে ফেলেছে।আর বাংলায় 52 টি অক্ষর।তাইও সহজে রপ্ত করতে পারেনি। যদিও বার বার বসানোর কারণে এখন অনেকটাই রপ্ত করে ফেলেছে। ওকে অঙ্ক শেখাই খেলাচ্ছলে। যে এবার পড়াশোনা শেষ তোমার একটু খেলা খেলেই ছুটি। অংকটাকে ও খেলা মনে করে। সেজন্য বাচ্চাদের যেটাই পড়াবেন সেটা সেটা খেলার ছলে পড়াতে হবে।ওর অংকের ব্যাপারে স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণ বেশি। কারণ আমরা বলি ওটা পড়াশোনা না ওটা তোমার খেলা। ওদের পড়াশুনার চাপ দিলেই গোলমাল করবে,কান্নাকাটি করবে কিছুতেই পড়াশোনা করবে না।
বেস্ট হচ্ছে খেলার ছলে সবকিছু শেখানো।যেটা আমাদের ক্ষেত্রেও যেরকম আনন্দদায়ক বাচ্চার ক্ষেত্রেও সেইরকম আনন্দদায়ক। কোন গুরুগম্ভীর পরিবেশ তৈরি করা যাবে না। এককথায় লাফিয়ে হাসিয়ে গানগেয়ে পড়াতে পারবে সেই সেরাশিক্ষক নির্বাচিত হবে!!!!!
বাচ্চাদের গাইড করা দরকার ওদের চারিত্রিক বিকাশ,মানসিক বিকাশের ব্যাপারে। ওটাই মূল। স্বভাব বা ম্যানার্স শেখানো,অধ্যাবসায়ে ধীরে ধীরে মনোযোগী, আগ্রহী করে তোলা।
ছবি আঁকা, আবৃত্তি,গান,নাচ, খেলাধূলা ইত্যাদি কো কারিকুলার অ্যাক্টিভিটির ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া দরকার।
ওরা যখন মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক গ্রাজুয়েশন, মাস্টার ডিগ্রী পড়বে তখন ওদেরকে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হবে।
তার আগে ওদের পরিশ্রমই করা শেখানো,অধ্যাবসায়ী হওয়ার শিক্ষাটাই দিতে হবে।তবেই মেধার জন্ম হবে।
কবিগুরু বলেছেন "শিক্ষায় মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধসম"।