13/01/2024
চেতনাই কর্ম
বিভিন্ন মানুষের বিবিধ মন হাওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ এক এক মানুষের চিন্তা শক্তি এক এক ভাবে কাজ করে। কারো মনের সাথে আপনার মন হুবহু মিলবে তার কোন কারণ বিদ্যমান নেই। তাইতো মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব হয়েও মনের অমিল বা মতানৈক্য দেখা যায়। যেমন- কেউ দান করতে ভালোবাসে কেউবা ভোগের রাজ্যে ভাসে, কেউ হিংসা চর্চা করে কেউবা মৈত্রী বার্তা ছড়িয়ে দেয়, কেউ ক্ষমতা দখল করে তৃপ্ত কেউবা ক্ষমতা ছেড়ে উচ্ছ্বসিত, কেউ পুণ্যের প্রতি আসক্ত কেউবা পাপে রত, কেউ চঞ্চলতায় পূর্ণ কেউবা সাধনায় স্থিত।
এরূপ পার্থক্য হবার আসল কারণ হল কর্ম কারণ যে যেরূপ কর্ম করে নিজের ভিত রচনা করেছে সে সেরূপে তার গন্তব্য বা স্টেশন নির্ণয় করছে। বুদ্ধ বলেন - জন্ম-জন্মান্তর ধরে যা অভ্যাস করেছেন অথবা জন্ম হাওয়ার পর থেকে যে শিক্ষা ও সংস্কৃতি আপনার মাঝে বাসা বেধেঁছে আপনি তার দাস হয়ে থাকবেন এইটাই স্বাভাবিক। তবে যদি আপনি নিজেকে পরিবর্তন করতে চান তাহলে ভালো কিছু শিক্ষা নিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করেন তাহলে অবশ্যই মন পরিবর্তন হতে বাধ্য। কারণ মন কর্মের উপর নির্ভরশীল। যেরূপ বীজ রোপন করবেন সেরূপ ফল প্রদান হবেই। জীবনের কান্না-হাসিঁ, সুখ-দুঃখ পাওয়া মাঝে তৃতীয় কোন ব্যক্তির হাত নেই। সব নিজের উপর নির্ভর করে।নিজেই নিজের সৃষ্টিকর্তা, নিজেই নিজের ত্রাণকর্তা। সঠিক ধর্মচর্চা ও ধ্যানচর্চাই পারে নিজেকে উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে বা নির্বাণমুখী করতে।
তবে দুঃখের বিষয় বর্তমানে প্রায় ভিক্ষু সমাজ ও দায়ক সমাজ কেউ বুদ্ধের পথকে অনুশীলন করতে আগ্রহী নন। ফলে মিথ্যাদৃষ্টি ভর করছে মানুষের উপর তাইতো নিজেকে সুখী করার জন্য সঠিক জ্ঞান চর্চা না করে আমাদের বৌদ্ধসমাজে অধিকাংশ ভিক্ষুরা তাবিজ-কবচে বিশ্বাসী, ধ্যান করতে নয় বৈদ্য মন্ত্র পাঠ করতে রাত জেগে থাকে, অমুক মন্ত্র পাঠ করলে তমুক ফল হবে, যশ-লাভের জন্য অমুক গাথা পাঠ করুন, ক্ষমতা লাভের জন্য অন্যকে নিন্দা করতে দ্বিধাবোধ নেই, লাভ-যশে-অহংকারে মত্ত, পুণ্যের কথা বলে বলে টাকা ইনকামের জন্য তেলাতেলী, ব্যবসা ও বাণিজ্যে লিপ্ত। তাদেরকে অনুসরণ করে দায়ক-দায়িকারাও সমানে-সমান পথের পথিক। শিক্ষক যেমন ছাত্রও তেমন। কলি যুগে হয়ত এভাবে মিথ্যা শিক্ষা মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে, নিম্নগতিতে পতিত করে। তাইতো বর্তমানে বুদ্ধধর্মের আসল সুখে কেউ সুখী নন।