17/11/2024
, the dream maker of young minds..
#হৃদয়ের_টানে
দিনটা ছিল ১৯৯৬ সাল, আজ থেকে প্রায় দু'দশক আগের কথা। কুশাবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সদ্য মাধ্যমিক পাস করেছি। আর পাঁচ জনের মত আমিও ভাবছিলাম এর পর কি করি! আর্টস নাকি সাইন্স? না, বাণিজ্য বিভাগে। গ্রামের বাড়িতে বসে এসবই ঘুরপাক খাচ্ছিল মনের মধ্যে। ডোমকল বি টি হাই স্কুল, মুর্শিদাবাদ জেলার তখনকার দিনে এক নামী বিদ্যালয়। কড়া শাসন, লেখা পড়াও খুব ভালো হয়। বাড়ি থেকে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দূর। মোড়াম রাস্তা, তখনও পিচের প্রলেপ পড়ে নি! কোথাও বা ইটের টুকরো সরে গিয়ে এখানে ওখানে গর্ত হয়ে গেছে। গুটি কয় বাস চলাচল করে, বেশিরভাগ সময়ই সাইকেলে যাতায়াত করতে হয়। বড়দা চালক আর আমি সামনের আসনে, রডে বসে! নতুন স্কুলে ভর্তি, কিছু আনন্দ কিছু কৌতূহল নিয়েই এগিয়ে চলেছি। বড়দা একই স্কুলে কমার্স নিয়ে ভর্তি হলেও, অভাবী সংসারের জোয়াল টানতে গিয়ে স্কুলের চাকা বেশিদূর এগোয়নি। মাঝপথেই ড্রপ আউট। নিজের ইচ্ছেটা আমার মাধ্যমে কিঞ্চিৎ চরিতার্থ করতে বধ্যপরিকর। সাইন্স খুব কঠিন। টানতে পারবো কিনা, তাহলে আর্টস নাকি বাণিজ্য? এসব নিয়েই আলোচনায় মগ্ন হয়ে কখন পৌঁছে গেছি স্কুলের গেটে। সাইকেলটা রেখে আমরা দুই ভাই, এগিয়ে গেলাম হেডমাস্টার মশাইয়ের ঘরের দিকে। কিছুটা ইতস্তত করছিলাম, ভেতরে ঢুকবো কি না! শুনেছিলাম হেডমাস্টার মশাই নাকি খুব ই কড়া, ভয়ে কেউ ক্লাসরুমের বাইরে বেরোয় না। কিন্তু ঢুকতে তো হবেই, ওখান থেকেই ভর্তির ফর্ম দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎই দেখি একজন সুঠাম চেহারার ভদ্রলোক দুই পাল্লার অর্ধদর্জার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এলেন। কি চাও? ভর্তি হতে এসেছি স্যার! ফর্ম কোথায় পাব? আমাকে ভেতরে নিয়ে গেলেন, কোন বিভাগে? আমি তখনও ঠিক করে রেখেছিলাম, কমার্স - বাণিজ্য বিভাগে। মার্কশিট হাতে নিয়ে, আমার দিকে তাকিয়ে দেখলেন! তখন খুব পাতলা গোছের ফিনফিনে চেহারা ছিল আমার, গ্রামের ছেলে খুব একটা ফিটফাট ও ছিলাম না। কি জানি, কি ভাবছেন। বললেন তুমি বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হবে না? ৪২ টা আসন বিজ্ঞান বিভাগে, চান্স পাওয়ার সম্ভবনাও কম, তাছাড়া আমাদের বাড়িতে কেউ সাইন্স এ ভর্তিও হয়নি। বড়দি খুব ভালো পড়াশুনায় ছিল, অষ্টম শ্রেণীতে জাতীয় স্তরের বৃত্তিও (National Scholarship) পেয়েছে। তবুও সে আর্টস নিয়েছিল। স্বভাবতই আমার মধ্যে একটা ভীতি তখনও কাজ করছিল, সাইন্স টানতে পারবো তো? তার পর উনি আমাকে পাশে বসিয়ে বোঝালেন, সাহস যোগালেন। আমি ভর্তি হলাম বিজ্ঞান বিভাগে। ১৯৯৮ সালে পাস করলাম উচচমাধ্যমিক। তার পর....
কোলকাতা, ২০০০ সাল ডাক্তারিতে চান্স পেলাম। এম বি বি এস, এম এস, এবং এম সি এইচ। ২০১৫ সালে এস এস কে এম / পি জি হাসপাতাল থেকে বেরোলাম পূর্ণাঙ্গ ডাক্তার হয়ে।
মাঝে অনেক টা পথ....
চড়াই উৎরাই..
তবু যে মানুষটির কথা কোনোদিন ও ভুলিনি, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত ডাঃ আতাউর রহমান, অবসপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহাশয় - ডোমকল ভবতারন উচ্চ বিদ্যালয়।।