Bhalo Achi Bhalo Theko

Bhalo Achi Bhalo Theko Siksha

দণ্ডকলস বা শ্বেতদ্রোণের গুণাগুণ ও ব্যবহার: সর্দি-কাশি এবং কফ দূর করতে এর পাতার রস মধুর সাথে সেবন কার্যকর। 🌿 পেটের সমস্যা...
22/03/2026

দণ্ডকলস বা শ্বেতদ্রোণের গুণাগুণ ও ব্যবহার:

সর্দি-কাশি এবং কফ দূর করতে এর পাতার রস মধুর সাথে সেবন কার্যকর। 🌿 পেটের সমস্যা ও কৃমি উপশমে এটি সহায়ক। 😷 চর্মরোগ, সাইনাস ও মাথাব্যথায় এর ব্যবহার দ্রুত আরাম দেয়। 🍃 বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড়ে ব্যথা কমাতে ও জ্বর নিয়ন্ত্রণেও এটি কার্যকর। 🌡️

15/08/2023

🥀🌹পশ্চিম দিকে পা করে ঘুমানো যাবে কি। 🥀🥀:⁠-⁠):⁠-

#ইসলামেরকথা

15/08/2023
16/07/2022

ফজরের নামাজের পরে কি করলে আপনি একটা হজের নেকি পাবেন।

16/01/2022

ঈমান অধ্যায় হাদিস (৭-৪২)

➢ হাদিস ৭: ‘উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন মূসা (রা) ……….. ইব্ন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। ১। আল্লাহ ছাড়া ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দান। ২। সালাত কায়েম করা। ৩। যাকাত দেওয়া। ৪। হজ্জ করা এবং ৫। রমদান এর সিয়াম পালন করা।

➢ হাদিস ৮: আবদুল্লাহ ইব্ন জু’ফী (র) …….. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেন, ঈমানের শাখা রয়েছে ষাটের কিছু বেশি। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।

➢ হাদিস ৯: আদম ইব্ন ইয়াস (রঃ) …….. আবদুল্লাহ ইব্ন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাবে এবং প্রকৃত মুহাজির সে-ই, যে আল্লাহ তা’আলার নিষিদ্ধ কাজ ত্যাগ করে। আবূ আবদুল্লাহ (রঃ) বলেন, আবূ মু’আবিয়া (রঃ) বলেছেন, আমার কাছে দাউদ ইব্ন আবূ হিন্দ (রঃ) ‘আমির (রঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন যে, আমি আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আমর (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি এবং আবদুল আ’লা (রঃ) দাউদ (রঃ) থেকে, দাউদ (রঃ) আমির (রঃ) থেকে, আমির (রঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

➢ হাদিস ১০: সা’ঈদ ইব্ন ইয়াহইয়া ইব্ন সা’ঈদ আল উমাবী আল কুরাশী (রঃ) ……….. আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! ইসলামে কোন কাজটি উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।

➢ হাদিস ১১: আমর ইব্ন খালিদ (রঃ) ……… আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করল, ইসলামের কোন কাজটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাবার খাওয়াবে ও পরিচিত অপরিচিত সবাইকে সালাম করবে।

➢ হাদিস ১২: মুসাদ্দাদ (রঃ) ও হুসাইন আল মুৎআল্লিম (রঃ) ……… আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে।

➢ হাদিস ১৩: আবুল ইয়ামান (রঃ) ……… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ সেই পবিত্র সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।

➢ হাদিস ১৪: ইয়া’কুব ইব্ন ইবরাহীম ও আদম (রঃ) ……… আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষন না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।

➢ হাদিস ১৫: মুহাম্মদ ইব্নুল মুসান্না (রঃ)……… আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়ঃ ১। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছুর থেকে প্রিয় হওয়া; ২। কাউকে খালিস আল্লাহর জন্যই মুহব্বত করা; ৩। কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপছন্দ করা।

➢ হাদিস ১৬: আবুল ওয়ালীদ (রঃ) ……… আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ ঈমানের চিহ্ন হ’ল আনসারকে ভালবাসা এবং মুনাফেকির চিহ্ন হল আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।

➢ হাদিস ১৭: আবুল ইয়ামান (রঃ) ……… ‘আয়িনুল্লাহ ইব্ন আবদুল্লাহ (রঃ) বলেন, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও লায়লাতুল ‘আকাবার একজন নকীব ‘উবাদা ইব্নুস সামিত (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পার্শ্বে একজন সাহাবীর উপস্থিতিতে তিনি ইরশাদ করেনঃ তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়’আত গাহণ কর যে, আল্লাহর সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেবে না এবং নেক কাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে, তার বিনিময় আল্লাহর কাছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মাফ করে দেবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি দেবেন। আমরা এর উপর বায়’আত গ্রহণ করলাম।

➢ হাদিস ১৮: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসলামা (রঃ) ……… আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ সেদিন দূরে নয়, যেদিন মুসলিমের উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চুড়ায় অথবা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। ফিতনা থেকে সে তার দীন নিয়ে পালিয়ে যাবে।

➢ হাদিস ১৯: মুহাম্মদ ইব্ন সালাম (রঃ) ……… ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবীদের যখন কোন আমলের নির্দেশ দিতেন তখন তাঁরা যতটুকু সমর্থ্য রাখতেন ততটুকুই নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ তা’আলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল ত্রুটি মা’ফ করে দিয়েছেন।’ একথা শুনে তিনি রাগ করলেন, এমনকি তাঁর চেহারা মুবারকে রাগের চিহ্ন প্রকাশ পাচ্ছিল। এরপর তিনি বললেনঃ তোমাদের চাইতে আল্লাহকে আমিই বেশি ভয় করি ও বেশি জানি।

➢ হাদিস ২০: সুলায়মান ইব্ন হারব (রঃ) ………. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়ঃ (১) যার কাছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অন্য সব কিছু থেকে প্রিয়; (২) যে একমাত্র আল্লাহরই জন্য কোন বান্দাকে মুহব্বত করে এবং (৩) আল্লাহ তা’আলা কুফর থেকে মুক্তি দেওয়ার পর যে কুফরে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপছন্দ করে।

➢ হাদিস ২১: ইসমা’ঈল (রঃ) ……… আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবেন। পরে আল্লাহ্ তা’আলা (ফিরিশতাদের) বলবেন, যার অন্তরে একটি সরিষা পরিমানও ঈমান রয়েছে, তাকে দোযখ থেকে বের করে নিয়ে আস। তারপর তাদের দোযখ থেকে বের করা হবে এমন অবস্থায় যে, তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। এরপর তাদের বৃষ্টিতে বা হায়াতের [বর্ণনাকারী মালিক (রঃ) শব্দ দু’টির কোনটি এ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন] নদীতে ফেলা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন নদীর পাশে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখতে পাওনা সেগুলো কেমন হলুদ রঙের হয় ও ঘন হয়ে গজায়? উহাইব (র) বলেন, ‘আমর (রঃ) আমাদের কাছে —- এর স্থলে —- এবং —— এর স্থলে —— বর্ণনা করেছেন।

➢ হাদিস ২২: মুহাম্মদ ইব্ন উবায়দুল্লাহ (রঃ) ……….. আবূ উমামা ইব্ন সাহল ইব্ন হুনাইফ (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম যে, লোকদেরকে আমার সামনে হাযির করা হচ্ছে। আর তাদের পরণে রয়েছে জামা। কারো জামা বুক পর্যন্ত আর কারো জামা এর নীচ পর্যন্ত। আর উমর ইব্নুল খাত্তাব (রাঃ)-কে আমার সামনে হাযির করা হল এমন অবস্থায় যে, তিনি তাঁর জাম (এত লম্বা যে) টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি এর কী তা’বীর করেছেন? তিনি বললেনঃ (এ জামা মানে) দীন।

➢ হাদিস ২৩: আবদুল্লাহ্ ইব্ন ইউসুফ (রঃ) ……… আবদুল্লাহ ইব্ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এক আনসারীর পাশ দেয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর ভাইকে তখন (অধিক) লজ্জা ত্যাগের জন্য নসীহত করছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে বললেনঃ ওকে ছেড়ে দাও। কারন লজ্জা ঈমানের অংগ।

➢ হাদিস ২৪: আবদুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ আল-মুসনাদী (রঃ) ………… ইব্ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদিষ্ট হয়েছে, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই ও মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ্র রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারন থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর ওপর ন্যস্ত।

➢ হাদিস ২৫: আহমদ ইব্ন ইউনুস ও মূসা ইব্ন ইসমা’ঈল (রঃ) ……. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কোন আমলটি উত্তম?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি।’ তিনি বললেনঃ ‘মকবূল হজ্জ।’

➢ হাদিস ২৬: আবুল ইয়ামান (রঃ) ……… সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোককে কিছু দান করলেন। সা’দ (রাঃ) সেখানে বসা ছিলেন। সা’দ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদের এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না। সে ব্যক্তি আমার কাছে তাদের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় ছিল। তাই আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? আল্লাহর কসম! আমিতো তাকে মু’মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ (মু’মিন) না মুসলিম? তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা প্রবল হয়ে উঠল। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দানের ব্যপারে বিরত রইলেন? আল্লাহর কসম! আমিতো তাকে মু’মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ ‘না মুসলিম?’ তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর তার সম্পর্কে যা জানি তা প্রবল হয়ে উঠল। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আবারও সেই জবাব দিলেন। তারপর বললেনঃ ‘সা’দ! আমি কখনো ব্যক্তি বিশেষকে দান করি, অথচ অন্য লোক আামার কাছে তার চাইতে বেশি প্রিয়। তা এ আশঙ্কায় যে (সে ঈমান থেকে ফিরে যেতে পারে পরিণামে), আল্লাহ তা’আলা তাকে অধোমুখে জাহান্নামে ফেলে দেবেন। এ হাদীস ইউনুস, সালিহ, মা’মার এবং যুহরী (রঃ)-এর ভাতিজা যুহরী (রঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

➢ হাদিস ২৭: কুতায়বা (রঃ) ……… আবদুল্লাহ ইব্ন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করল, ‘ইসলামের কোন্ কাজ সবচাইতে উত্তম?’ তিনি বললেনঃ তুমি লোকদের আহার করাবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম করবে।

➢ হাদিস ২৮: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসলামা (রঃ) ……….. ইব্ন ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়। (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারন) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারা কি আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করে?’ তিনি বললেনঃ ‘তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ইহসান অস্বীকার করে।’ তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারো প্রতি ইহসান করতে থাক, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে, ‘আমি কখনো তোমার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাইনি।’

➢ হাদিস ২৯: ‘আবদুর রহমান ইব্নুল মুবারক (রঃ) ………. আহনাফ ইব্ন কায়স (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (সিফফীনের যুদ্ধে) এ ব্যক্তিকে [আলী (রাঃ)-কে] সাহায্য করতে যাচ্ছিলাম। আবূ বাকরা (রা)-এর সাথে আমার সাক্ষাত হলে তিনি বললেনঃ ‘তুমি কোথায় যাচ্ছে?’ আমি বললাম, ‘আমি এ ব্যক্তিকে সাহায্য করতে যাচ্ছি।’ তিনি বললেনঃ ‘ফিরে যাও। কারন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে বলতে শুনেছি যে, দু’জন মুসলমান তাদের তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হলে হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ে জাহান্নামে যাবে।’ আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! এ হত্যাকারী (তো অপরাধী), কিন্তু নিহত ব্যক্তির কি অপরাধ? তিনি বললেন, (নিশ্চয়ই) সে তার সঙ্গীকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব ছিল।’

➢ হাদিস ৩০: সুলায়মান ইব্ন হারব (রঃ) …….. মা’রূর (রঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি একবার রাবাযা নামক স্থানে আবূ যর (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তখন তাঁর পরনে ছিল এক জোড়া কাপড় (লুঙ্গি ও চদর) আর তাঁর চাকরের পরনেও ছিল ঠিক একই ধরনের এক জোড়া কাপড়। আমি তাঁকে এর (সমতার) কারন জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ একবার আমি এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং আমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ ‘আবু যর! তুমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তুমি তো এমন ব্যক্তি, তোমার মধ্যে এখনো জাহিলী যুগের স্বাভাব রয়েছে। জেনে রেখো, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তা’আলা তাদের তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। তাই যার ভাই তার অধীনে থাকবে, সে যেন নিজে যা খায় তাকে তা-ই খাওয়ায় এবং নিজে যা পরে, তাকে তা-ই পরায়। তাদের উপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না, যা তাদের জন্য খুব কষ্টকর। যদি এমন কষ্টকর কাজ করতে দাও, তাহলে তোমরাও তাদের সে কাজে সাহায্য করবে।

➢ হাদিস ৩১: আবুল ওয়ালীদ এবং বিশর (রঃ) ………..আব্দুল্লাহ (ইবন মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ “যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি” (৬:৮২) এ আয়াত নাযিল হলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ০ এর সাহাবিগণ বললেন, ‘আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে যুলুম করে নি?’ তখন আল্লাহ তা আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ “নিশ্চয়ই শিরক চরম যুলুম।”

➢ হাদিস ৩২: সুলায়মান আবুর রাবী’ (র) ………. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ মুনাফিকের আলামত তিনটিঃ ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে; ২. যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে; এবং ৩. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে।

➢ হাদিস ৩৩: কাবীসা ইব্ন ‘উকবা (রঃ) ……… আবদুল্লাহ ইব্ন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেনঃ চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে সে হবে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩. চুক্তি করলে ভঙ্গ করে; এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল গালি দেয়। শু’বা আ’মাশ (রঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় সুফিয়ান (রঃ) এর অনুসরণ করেছেন।

➢ হাদিস ৩৪: আবুল ইয়ামান (রঃ) ………. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় লায়লাতুল কদর-এ ইবদতে রাত্রি জাগরণ করবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

➢ হাদিস ৩৫: হারমীয়া ইব্ন হাফ্স (রঃ) …….. আবূ যুর’আ ইব্ন ‘আমর ইব্ন জারীর (র) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বের হয়, যদি সে শুধু আল্লাহর উপর ঈমান এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসের কারনে বের হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা দেন যে, আমি তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনব তার সওয়াব বা গনীমত (ও সওয়াব) সহ কিংবা তাকে জান্নাতে দাখিল করব। আর আমার উম্মতের উপর কষ্টদায়ক হবে বলে যদি মনে না করতাম তবে কোন সেনাদলের সাথে না গিয়ে বসে থাকতাম না। আমি অবশ্যই এটা পছন্দ করি যে, আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই।

➢ হাদিস ৩৬: ইসমা’ঈল (রঃ) ……. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রমযানের রাতে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

➢ হাদিস ৩৭: ইব্ন সালাম (রঃ) ………. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

➢ হাদিস ৩৮: আবদুস সালাম ইব্ন মুতাহ্হার (রঃ) ………. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ নিশ্চয়ই দীন সহজ-সরল। দীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দীন তার উপর বিজয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং (মধ্যপন্থার) নিকটবর্তী থাক, আশান্বিত থাক এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদতের মাধ্যমে) সাহায্য চাও।

➢ হাদিস ৩৯: ‘আমর ইব্ন খালিদ (রঃ) ………. বারা (ইব্ন ‘আযিব) (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করে সর্বপ্রথম আনসারদের মধ্যে তাঁর নানাদের গোত্র [আবূ ইসহাক (রঃ) বলেন] বা মামাদের গোত্রে এসে ওঠেন। তিনি ষোল-সতের মাস বায়তুল মুকাদ্দসের দিকে সালাত আদায় করেন। কিন্তু তাঁর পছন্দ ছিল যে, তাঁর কিবলা বায়তুল্লাহর দিকে হোক। আর তিনি (বায়তুল্লাহর দিকে) প্রথম যে সালাত আদায় করেন, তা ছিল আসরের সালাত এবং তাঁর সঙ্গে একদল লোক উক্ত সালাত আদায় করেন। তাঁর সঙ্গে যাঁরা সালাত আদায় করেছিলেন তাঁদের একজন লোক বের হয়ে এক মসজিদে মুসল্লীদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁরা তখন রুকু’র অবস্থায় ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ “আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, এইমাত্র আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর সঙ্গে মক্কার দিকে ফিরে সালাত আদায় করে এসেছি। তখন তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন সে অবস্থায়ই বায়তুল্লাহ দিকে ঘুরে গেলেন। রাসূলে করীম (সাঃ) যখন বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত আদায় করতেন তখন ইয়াহূদীদের ও আহলি কিতাবদের কাছে এটা খুব ভাল লাগত; কিন্তু তিনি যখন বায়তুল্লাহর দিকে (সালাতের জন্য) তাঁর মুখ ফিরালেন তখন তারা এর প্রতি চরম অসন্তুষ্ট হল। যুহায়র (র) বলেন, আবূ ইসহাক (রঃ) বারা (রাঃ) থেকে আমার কাছে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাতে এ কথাও রয়েছে যে, কিবলা পরিবর্তনের পূর্বে বেশ কিছু লোক ইন্তিকাল করেছিলেন এবং শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের ব্যাপারে আমরা কি বলব, বুঝতে পারছিলাম না, তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেনঃ “আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সালাতকে (যা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে আদায় করা হয়েছিল) বিনষ্ট করবেন না।”

➢ হাদিস ৪০: ইসহাক ইব্ন মানসূর (রঃ) ……….. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উত্তমরূপে ইসলামের উপর কায়েম থাকে তখন সে যে নেক আমল করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে সাতশ গুণ পর্যন্ত (সওয়াব) লেখা হয়। আর সে যে মন্দ কাজ করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে তার জন্য ঠিক ততটুকুই মন্দ লেখা হয়।

➢ হাদিস ৪১: মুহাম্মদ ইব্নুল মুসান্না (রঃ) ……… ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম (সাঃ) একবার তাঁর কাছে আসেন, তাঁর নিকট এক মহিলা ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ ‘ইনি কে? আয়িশা (রাঃ) উত্তর দিলেন অমুক মহিলা, এ বলে তিনি তাঁর সালাতের উল্লেখ করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ ‘থাম, তোমরা যতটুকু সামর্থ্য রাখ, ততটুকুই তোমাদের করা উচিৎ। আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা’আলা ততক্ষন পর্যন্ত (সওয়াব দিতে) বিরত হন না, যতক্ষন না তোমরা নিজেরা ক্লান্ত হয়ে পর। আল্লাহর কাছে সবচাইতে পছন্দনীয় আমল তা-ই, যা আমলকারী নিয়মিত করে থাকে।

➢ হাদিস ৪২: মুসলিম ইব্ন ইবরাহীম (রঃ) ………. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, নবী (সাঃ) ইরশাদ করেন যে, ‘লা-ইলাহা ইল্লাহ্ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমানও নেকী থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও নেকী থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। ইমাম আবূ ‘আবদুল্লাহ্ মুখারী (র) বলেন, আবান (রাঃ) ……. কাতাদা (রঃ) ……. আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নেকী — এর স্থলে ‘ঈমান’ শব্দটি রিওয়ায়ত করেছেন।

16/01/2022

ঈমান অধ্যায় হাদিস (৭-৪২)



➢ হাদিস ৭: ‘উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন মূসা (রা) ……….. ইব্ন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। ১। আল্লাহ ছাড়া ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দান। ২। সালাত কায়েম করা। ৩। যাকাত দেওয়া। ৪। হজ্জ করা এবং ৫। রমদান এর সিয়াম পালন করা।

➢ হাদিস ৮: আবদুল্লাহ ইব্ন জু’ফী (র) …….. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেন, ঈমানের শাখা রয়েছে ষাটের কিছু বেশি। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।

➢ হাদিস ৯: আদম ইব্ন ইয়াস (রঃ) …….. আবদুল্লাহ ইব্ন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাবে এবং প্রকৃত মুহাজির সে-ই, যে আল্লাহ তা’আলার নিষিদ্ধ কাজ ত্যাগ করে। আবূ আবদুল্লাহ (রঃ) বলেন, আবূ মু’আবিয়া (রঃ) বলেছেন, আমার কাছে দাউদ ইব্ন আবূ হিন্দ (রঃ) ‘আমির (রঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন যে, আমি আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আমর (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি এবং আবদুল আ’লা (রঃ) দাউদ (রঃ) থেকে, দাউদ (রঃ) আমির (রঃ) থেকে, আমির (রঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

➢ হাদিস ১০: সা’ঈদ ইব্ন ইয়াহইয়া ইব্ন সা’ঈদ আল উমাবী আল কুরাশী (রঃ) ……….. আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! ইসলামে কোন কাজটি উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।

➢ হাদিস ১১: আমর ইব্ন খালিদ (রঃ) ……… আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করল, ইসলামের কোন কাজটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাবার খাওয়াবে ও পরিচিত অপরিচিত সবাইকে সালাম করবে।

➢ হাদিস ১২: মুসাদ্দাদ (রঃ) ও হুসাইন আল মুৎআল্লিম (রঃ) ……… আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে।

➢ হাদিস ১৩: আবুল ইয়ামান (রঃ) ……… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ সেই পবিত্র সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।

➢ হাদিস ১৪: ইয়া’কুব ইব্ন ইবরাহীম ও আদম (রঃ) ……… আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষন না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।

➢ হাদিস ১৫: মুহাম্মদ ইব্নুল মুসান্না (রঃ)……… আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়ঃ ১। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছুর থেকে প্রিয় হওয়া; ২। কাউকে খালিস আল্লাহর জন্যই মুহব্বত করা; ৩। কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপছন্দ করা।

➢ হাদিস ১৬: আবুল ওয়ালীদ (রঃ) ……… আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ ঈমানের চিহ্ন হ’ল আনসারকে ভালবাসা এবং মুনাফেকির চিহ্ন হল আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।

➢ হাদিস ১৭: আবুল ইয়ামান (রঃ) ……… ‘আয়িনুল্লাহ ইব্ন আবদুল্লাহ (রঃ) বলেন, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও লায়লাতুল ‘আকাবার একজন নকীব ‘উবাদা ইব্নুস সামিত (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পার্শ্বে একজন সাহাবীর উপস্থিতিতে তিনি ইরশাদ করেনঃ তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়’আত গাহণ কর যে, আল্লাহর সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেবে না এবং নেক কাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে, তার বিনিময় আল্লাহর কাছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মাফ করে দেবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি দেবেন। আমরা এর উপর বায়’আত গ্রহণ করলাম।

➢ হাদিস ১৮: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসলামা (রঃ) ……… আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ সেদিন দূরে নয়, যেদিন মুসলিমের উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চুড়ায় অথবা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। ফিতনা থেকে সে তার দীন নিয়ে পালিয়ে যাবে।

➢ হাদিস ১৯: মুহাম্মদ ইব্ন সালাম (রঃ) ……… ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবীদের যখন কোন আমলের নির্দেশ দিতেন তখন তাঁরা যতটুকু সমর্থ্য রাখতেন ততটুকুই নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ তা’আলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল ত্রুটি মা’ফ করে দিয়েছেন।’ একথা শুনে তিনি রাগ করলেন, এমনকি তাঁর চেহারা মুবারকে রাগের চিহ্ন প্রকাশ পাচ্ছিল। এরপর তিনি বললেনঃ তোমাদের চাইতে আল্লাহকে আমিই বেশি ভয় করি ও বেশি জানি।

➢ হাদিস ২০: সুলায়মান ইব্ন হারব (রঃ) ………. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়ঃ (১) যার কাছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অন্য সব কিছু থেকে প্রিয়; (২) যে একমাত্র আল্লাহরই জন্য কোন বান্দাকে মুহব্বত করে এবং (৩) আল্লাহ তা’আলা কুফর থেকে মুক্তি দেওয়ার পর যে কুফরে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপছন্দ করে।

➢ হাদিস ২১: ইসমা’ঈল (রঃ) ……… আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবেন। পরে আল্লাহ্ তা’আলা (ফিরিশতাদের) বলবেন, যার অন্তরে একটি সরিষা পরিমানও ঈমান রয়েছে, তাকে দোযখ থেকে বের করে নিয়ে আস। তারপর তাদের দোযখ থেকে বের করা হবে এমন অবস্থায় যে, তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। এরপর তাদের বৃষ্টিতে বা হায়াতের [বর্ণনাকারী মালিক (রঃ) শব্দ দু’টির কোনটি এ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন] নদীতে ফেলা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন নদীর পাশে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখতে পাওনা সেগুলো কেমন হলুদ রঙের হয় ও ঘন হয়ে গজায়? উহাইব (র) বলেন, ‘আমর (রঃ) আমাদের কাছে —- এর স্থলে —- এবং —— এর স্থলে —— বর্ণনা করেছেন।

➢ হাদিস ২২: মুহাম্মদ ইব্ন উবায়দুল্লাহ (রঃ) ……….. আবূ উমামা ইব্ন সাহল ইব্ন হুনাইফ (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম যে, লোকদেরকে আমার সামনে হাযির করা হচ্ছে। আর তাদের পরণে রয়েছে জামা। কারো জামা বুক পর্যন্ত আর কারো জামা এর নীচ পর্যন্ত। আর উমর ইব্নুল খাত্তাব (রাঃ)-কে আমার সামনে হাযির করা হল এমন অবস্থায় যে, তিনি তাঁর জাম (এত লম্বা যে) টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি এর কী তা’বীর করেছেন? তিনি বললেনঃ (এ জামা মানে) দীন।

➢ হাদিস ২৩: আবদুল্লাহ্ ইব্ন ইউসুফ (রঃ) ……… আবদুল্লাহ ইব্ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এক আনসারীর পাশ দেয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর ভাইকে তখন (অধিক) লজ্জা ত্যাগের জন্য নসীহত করছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে বললেনঃ ওকে ছেড়ে দাও। কারন লজ্জা ঈমানের অংগ।

➢ হাদিস ২৪: আবদুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ আল-মুসনাদী (রঃ) ………… ইব্ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদিষ্ট হয়েছে, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই ও মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ্র রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারন থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর ওপর ন্যস্ত।

➢ হাদিস ২৫: আহমদ ইব্ন ইউনুস ও মূসা ইব্ন ইসমা’ঈল (রঃ) ……. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কোন আমলটি উত্তম?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি।’ তিনি বললেনঃ ‘মকবূল হজ্জ।’

➢ হাদিস ২৬: আবুল ইয়ামান (রঃ) ……… সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোককে কিছু দান করলেন। সা’দ (রাঃ) সেখানে বসা ছিলেন। সা’দ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদের এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না। সে ব্যক্তি আমার কাছে তাদের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় ছিল। তাই আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? আল্লাহর কসম! আমিতো তাকে মু’মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ (মু’মিন) না মুসলিম? তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা প্রবল হয়ে উঠল। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দানের ব্যপারে বিরত রইলেন? আল্লাহর কসম! আমিতো তাকে মু’মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ ‘না মুসলিম?’ তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর তার সম্পর্কে যা জানি তা প্রবল হয়ে উঠল। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আবারও সেই জবাব দিলেন। তারপর বললেনঃ ‘সা’দ! আমি কখনো ব্যক্তি বিশেষকে দান করি, অথচ অন্য লোক আামার কাছে তার চাইতে বেশি প্রিয়। তা এ আশঙ্কায় যে (সে ঈমান থেকে ফিরে যেতে পারে পরিণামে), আল্লাহ তা’আলা তাকে অধোমুখে জাহান্নামে ফেলে দেবেন। এ হাদীস ইউনুস, সালিহ, মা’মার এবং যুহরী (রঃ)-এর ভাতিজা যুহরী (রঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

➢ হাদিস ২৭: কুতায়বা (রঃ) ……… আবদুল্লাহ ইব্ন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করল, ‘ইসলামের কোন্ কাজ সবচাইতে উত্তম?’ তিনি বললেনঃ তুমি লোকদের আহার করাবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম করবে।

➢ হাদিস ২৮: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসলামা (রঃ) ……….. ইব্ন ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়। (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারন) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারা কি আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করে?’ তিনি বললেনঃ ‘তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ইহসান অস্বীকার করে।’ তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারো প্রতি ইহসান করতে থাক, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে, ‘আমি কখনো তোমার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাইনি।’

➢ হাদিস ২৯: ‘আবদুর রহমান ইব্নুল মুবারক (রঃ) ………. আহনাফ ইব্ন কায়স (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (সিফফীনের যুদ্ধে) এ ব্যক্তিকে [আলী (রাঃ)-কে] সাহায্য করতে যাচ্ছিলাম। আবূ বাকরা (রা)-এর সাথে আমার সাক্ষাত হলে তিনি বললেনঃ ‘তুমি কোথায় যাচ্ছে?’ আমি বললাম, ‘আমি এ ব্যক্তিকে সাহায্য করতে যাচ্ছি।’ তিনি বললেনঃ ‘ফিরে যাও। কারন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে বলতে শুনেছি যে, দু’জন মুসলমান তাদের তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হলে হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ে জাহান্নামে যাবে।’ আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! এ হত্যাকারী (তো অপরাধী), কিন্তু নিহত ব্যক্তির কি অপরাধ? তিনি বললেন, (নিশ্চয়ই) সে তার সঙ্গীকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব ছিল।’

➢ হাদিস ৩০: সুলায়মান ইব্ন হারব (রঃ) …….. মা’রূর (রঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি একবার রাবাযা নামক স্থানে আবূ যর (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তখন তাঁর পরনে ছিল এক জোড়া কাপড় (লুঙ্গি ও চদর) আর তাঁর চাকরের পরনেও ছিল ঠিক একই ধরনের এক জোড়া কাপড়। আমি তাঁকে এর (সমতার) কারন জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ একবার আমি এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং আমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ ‘আবু যর! তুমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তুমি তো এমন ব্যক্তি, তোমার মধ্যে এখনো জাহিলী যুগের স্বাভাব রয়েছে। জেনে রেখো, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তা’আলা তাদের তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। তাই যার ভাই তার অধীনে থাকবে, সে যেন নিজে যা খায় তাকে তা-ই খাওয়ায় এবং নিজে যা পরে, তাকে তা-ই পরায়। তাদের উপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না, যা তাদের জন্য খুব কষ্টকর। যদি এমন কষ্টকর কাজ করতে দাও, তাহলে তোমরাও তাদের সে কাজে সাহায্য করবে।

➢ হাদিস ৩১: আবুল ওয়ালীদ এবং বিশর (রঃ) ………..আব্দুল্লাহ (ইবন মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ “যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি” (৬:৮২) এ আয়াত নাযিল হলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ০ এর সাহাবিগণ বললেন, ‘আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে যুলুম করে নি?’ তখন আল্লাহ তা আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ “নিশ্চয়ই শিরক চরম যুলুম।”

➢ হাদিস ৩২: সুলায়মান আবুর রাবী’ (র) ………. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ মুনাফিকের আলামত তিনটিঃ ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে; ২. যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে; এবং ৩. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে।

➢ হাদিস ৩৩: কাবীসা ইব্ন ‘উকবা (রঃ) ……… আবদুল্লাহ ইব্ন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেনঃ চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে সে হবে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩. চুক্তি করলে ভঙ্গ করে; এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল গালি দেয়। শু’বা আ’মাশ (রঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় সুফিয়ান (রঃ) এর অনুসরণ করেছেন।

➢ হাদিস ৩৪: আবুল ইয়ামান (রঃ) ………. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় লায়লাতুল কদর-এ ইবদতে রাত্রি জাগরণ করবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

➢ হাদিস ৩৫: হারমীয়া ইব্ন হাফ্স (রঃ) …….. আবূ যুর’আ ইব্ন ‘আমর ইব্ন জারীর (র) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বের হয়, যদি সে শুধু আল্লাহর উপর ঈমান এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসের কারনে বের হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা দেন যে, আমি তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনব তার সওয়াব বা গনীমত (ও সওয়াব) সহ কিংবা তাকে জান্নাতে দাখিল করব। আর আমার উম্মতের উপর কষ্টদায়ক হবে বলে যদি মনে না করতাম তবে কোন সেনাদলের সাথে না গিয়ে বসে থাকতাম না। আমি অবশ্যই এটা পছন্দ করি যে, আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই।

➢ হাদিস ৩৬: ইসমা’ঈল (রঃ) ……. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রমযানের রাতে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

➢ হাদিস ৩৭: ইব্ন সালাম (রঃ) ………. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

➢ হাদিস ৩৮: আবদুস সালাম ইব্ন মুতাহ্হার (রঃ) ………. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ নিশ্চয়ই দীন সহজ-সরল। দীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দীন তার উপর বিজয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং (মধ্যপন্থার) নিকটবর্তী থাক, আশান্বিত থাক এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদতের মাধ্যমে) সাহায্য চাও।

➢ হাদিস ৩৯: ‘আমর ইব্ন খালিদ (রঃ) ………. বারা (ইব্ন ‘আযিব) (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করে সর্বপ্রথম আনসারদের মধ্যে তাঁর নানাদের গোত্র [আবূ ইসহাক (রঃ) বলেন] বা মামাদের গোত্রে এসে ওঠেন। তিনি ষোল-সতের মাস বায়তুল মুকাদ্দসের দিকে সালাত আদায় করেন। কিন্তু তাঁর পছন্দ ছিল যে, তাঁর কিবলা বায়তুল্লাহর দিকে হোক। আর তিনি (বায়তুল্লাহর দিকে) প্রথম যে সালাত আদায় করেন, তা ছিল আসরের সালাত এবং তাঁর সঙ্গে একদল লোক উক্ত সালাত আদায় করেন। তাঁর সঙ্গে যাঁরা সালাত আদায় করেছিলেন তাঁদের একজন লোক বের হয়ে এক মসজিদে মুসল্লীদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁরা তখন রুকু’র অবস্থায় ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ “আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, এইমাত্র আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর সঙ্গে মক্কার দিকে ফিরে সালাত আদায় করে এসেছি। তখন তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন সে অবস্থায়ই বায়তুল্লাহ দিকে ঘুরে গেলেন। রাসূলে করীম (সাঃ) যখন বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত আদায় করতেন তখন ইয়াহূদীদের ও আহলি কিতাবদের কাছে এটা খুব ভাল লাগত; কিন্তু তিনি যখন বায়তুল্লাহর দিকে (সালাতের জন্য) তাঁর মুখ ফিরালেন তখন তারা এর প্রতি চরম অসন্তুষ্ট হল। যুহায়র (র) বলেন, আবূ ইসহাক (রঃ) বারা (রাঃ) থেকে আমার কাছে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাতে এ কথাও রয়েছে যে, কিবলা পরিবর্তনের পূর্বে বেশ কিছু লোক ইন্তিকাল করেছিলেন এবং শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের ব্যাপারে আমরা কি বলব, বুঝতে পারছিলাম না, তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেনঃ “আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সালাতকে (যা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে আদায় করা হয়েছিল) বিনষ্ট করবেন না।”

➢ হাদিস ৪০: ইসহাক ইব্ন মানসূর (রঃ) ……….. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উত্তমরূপে ইসলামের উপর কায়েম থাকে তখন সে যে নেক আমল করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে সাতশ গুণ পর্যন্ত (সওয়াব) লেখা হয়। আর সে যে মন্দ কাজ করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে তার জন্য ঠিক ততটুকুই মন্দ লেখা হয়।

➢ হাদিস ৪১: মুহাম্মদ ইব্নুল মুসান্না (রঃ) ……… ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম (সাঃ) একবার তাঁর কাছে আসেন, তাঁর নিকট এক মহিলা ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ ‘ইনি কে? আয়িশা (রাঃ) উত্তর দিলেন অমুক মহিলা, এ বলে তিনি তাঁর সালাতের উল্লেখ করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ ‘থাম, তোমরা যতটুকু সামর্থ্য রাখ, ততটুকুই তোমাদের করা উচিৎ। আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা’আলা ততক্ষন পর্যন্ত (সওয়াব দিতে) বিরত হন না, যতক্ষন না তোমরা নিজেরা ক্লান্ত হয়ে পর। আল্লাহর কাছে সবচাইতে পছন্দনীয় আমল তা-ই, যা আমলকারী নিয়মিত করে থাকে।

➢ হাদিস ৪২: মুসলিম ইব্ন ইবরাহীম (রঃ) ………. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, নবী (সাঃ) ইরশাদ করেন যে, ‘লা-ইলাহা ইল্লাহ্ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমানও নেকী থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও নেকী থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। ইমাম আবূ ‘আবদুল্লাহ্ মুখারী (র) বলেন, আবান (রাঃ) ……. কাতাদা (রঃ) ……. আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নেকী — এর স্থলে ‘ঈমান’ শব্দটি রিওয়ায়ত করেছেন।

Address

Murshidabad

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bhalo Achi Bhalo Theko posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category