Muragachha High (H.S.) School

Muragachha High (H.S.) School Muragachha High (H.S.) School sponsored school situated at Muragachha, Nadia. Students of this school are now in every field throughout this world.

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ শেষ হয়েছে। কিন্তু একদল মানুষের সংগ্রাম নিরন্তর। তাঁদের যুদ্ধ অশিক্ষা-কুশিক্ষার বিরুদ্ধে। এমনই একজন ছিলেন জগৎচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। তৎকালীন বর্ধিষ্ণু জনপদ মুড়াগাছা-র স্থানীয় জমিদার ছিলেন তিনি। একাধিক ভাষায় ছিল তাঁর বুৎপত্তি। এলাকার পথঘাট উন্নয়ন বা নিরন্ন ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য অন্নসত্র স্থাপন সবেতেই তিনি ছিলেন মুক্তহস্ত। মহাবিদ্রোহের পরের দশকে জগৎচন্দ্র নিজের বিশাল বাসভবনের একটি

বড় অংশে মধ্য ইংরাজী বিদ্যালয় শুরু করেছিলেন। এমনই আরেকজন শিক্ষাপ্রেমী মানুষ ছিলেন পাশের বিল্বগ্রামবাসী মদনমোহন তর্কালঙ্কার। তিনি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বন্ধু। সেই সময় বিদ্যাসাগর মহাশয় নদিয়া, বর্ধমান এবং চব্বিশ পরগনার বিদ্যালয় পরিদর্শকের পদে আসীন ছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে বন্ধুর বাড়ীতে আসতেন। এমনি এক সময় তাঁর জগৎচন্দ্রের সাথে দেখা হয়। তাঁর বিদ্যালয় দেখে ঈশ্বরচন্দ্র খুশি হয়ে বিদ্যালয় তহবিলে কিছু আর্থিক সাহায্য করেছিলেন এবং জগৎচন্দ্রকে আলাদাভাবে বিদ্যালয় স্থাপন করতে বলেছিলেন। প্রায় দশবিঘা জমির উপর বিদ্যালয় তৈরি করে ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে চালু করেন জগৎচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। ১৮৬৯ সালেই এটিকে উচ্চ ইংরাজী বিদ্যালয়ে উন্নীত করেন তিনি। তখন এই বিদ্যালয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ছিল। ১৯৫৭ সালে বিদ্যালয়ে উচ্চমাধ্যমিক ভবন তৈরি হয়। ধীরে ধীরে কলা, বিজ্ঞান, বানিজ্য এবং কারিগরি শিক্ষা বিভাগ শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের আগ্রহ এবং পূর্ণ সহযোগিতায় এটিকে বহুমুখী উচ্চতর বিদ্যালয়-এ রূপান্তরিত করা হয়। নদীয়া জেলায় প্রথম কারিগরি শিক্ষার জন্য এই বিদ্যালয়ে এক বিশাল ওয়ার্কশপ তৈরি করা হয়। ১৯৭৮ সালের বিধ্বংসী ঝড় এবং বন্যায় ওয়ার্কশপের বেশিরভাগ অংশই নষ্ট হয়ে যায়। ধর্মদা নিবাসী শ্রী সুধাময় চট্টোপাধ্যায়ের আর্থিক সাহায্যে একটি দোচালা ঘর ওয়ার্কশপের জন্য নির্মীত হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রণী বিপ্লবী বসন্তকুমার বিশ্বাস ছিলেন এই বিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৯১৫ সালের ১১ মে উনিশ বছর বয়সে তিনি দেশের জন্য আত্মবলিদান করেছিলেন। তাঁর আত্মবলিদানের শতবর্ষ বিদ্যালয়ে শ্রদ্ধা এবং আগ্রহের সাথে উদযাপন করা হছে। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়ে শতবর্ষ উদযাপন হয়েছে যথাযথভাবেই।
Its one of the ancient govt. It was established in 1868 and have continued its journey of such long year of 143 years till now. Patriot Basant Biswas was one of the student of this school. Presently more than 2500 students capacity is present here from class V to class XII. And continuously giving light of hope to this village students and of near by areas..

বিষয়: আজকের ফুড ফেস্টিভ্যাল উৎসব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান—কয়েকটি স্মরণীয় মুহূর্ত।ছবি ঋণ: Supriyo Ghosh  & Rakesh Si...
07/01/2026

বিষয়: আজকের ফুড ফেস্টিভ্যাল উৎসব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান—কয়েকটি স্মরণীয় মুহূর্ত।
ছবি ঋণ: Supriyo Ghosh & Rakesh Sikder

27/12/2025

মুড়াগাছা উচ্চ বিদ্যালয় একটি স্কুল এটাচড হোস্টেল রয়েছে যেখানে এসসি এবং এসটি ছাত্ররা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকতে পারে। সিট সংখ্যা সীমিত । যোগাযোগ ৭৯০৮১১৪০১৭

23/09/2025
মুড়াগাছা উচ্চ বিদ্যালয় বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, ২০০৫ সঙ্গীত পরিবেশন- শ্রী সন্দীপ কুমার গঙ্গোপাধ্যায়, সহশিক্ষক
12/09/2025

মুড়াগাছা উচ্চ বিদ্যালয়
বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, ২০০৫
সঙ্গীত পরিবেশন- শ্রী সন্দীপ কুমার গঙ্গোপাধ্যায়, সহশিক্ষক

মুড়াগাছা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, ২০০৫সঙ্গীত পরিবেশন- শ্রী সন্দীপ কুমার গঙ্গ.....

স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং অগ্নিযুগের বীর বিপ্লবীশহীদ বসন্তকুমার বিশ্বাস  (জন্মঃ- ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ - মৃত্যুঃ- ১১ মে, ১৯১৫)...
06/02/2025

স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং অগ্নিযুগের বীর বিপ্লবী
শহীদ বসন্তকুমার বিশ্বাস (জন্মঃ- ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ - মৃত্যুঃ- ১১ মে, ১৯১৫)

বসন্ত বিশ্বাস যুগান্তর দলের নেতা অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও রাসবিহারী বসুর নিকট স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র কর্মকান্ডে দীক্ষা নেন। ১৯১১ সালে ভারতের বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জ দিল্লির দরবারে ঘোষণা করেন, ১৯১২ সালে ভারতের সমস্ত প্রভাবশালী ও বিত্তবান ব্যক্তিকে নিয়ে তিনি শোভাযাত্রা করবেন। ঘোষণা অনুযায়ী ১৯১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রাটি কুইন্স গার্ডেন হয়ে চাঁদনীচক দিয়ে দেওয়ান-ই-আমের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রাজ্যের সকল মানুষ এই শোভাযাত্রা দেখছেন। বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জ সস্ত্রীক হাতির পিঠে বসে এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। সেই সময় পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর পাঠানো ষোড়শী ছদ্মবেশী একটি বালিকা লীলাবতী বড়লাটকে মারার জন্য মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক ভবনে বোমা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। অসংখ্য মহিলা সূরম্য পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলায় শোভাযাত্রা দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন। লীলাবতী চাদর গায়ে মহিলাদের মাঝে মিশে গেলেন। ইতিমধ্যে শোভাযাত্রাটি ভবনের প্রায় নিকটে চলে আসে।
ন্যাশনাল ব্যাংক ভবনের সম্মুখের আরেকটি ভবনে রাসবিহারী বসু সবকিছু সর্তকতার সাথে তীক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং লীলাবতীকে বোমা মারার ইঙ্গিত প্রদানের অপেক্ষায় রয়েছেন। লীলাবতীও রাসবিহারী বসুর ইঙ্গিতের জন্য অপেক্ষা করছেন। এমন সময় এক মহিলা লীলাবতীকে জিজ্ঞেস করে "তেরি নাম ক্যা বহিনী?" লীলাবতী রাসবিহারীর দিকে দৃষ্টি রেখে বলেন, "মেরী নাম লীলাবতী'। ততক্ষণে শোভাযাত্রাটি ভবনের একেবারে নিকটে চলে আসে। রাসবিহারী মহিলাদের দৃষ্টি শোভাযাত্রা অথবা তাঁর দিকে ফেরানোর জন্য জোরে বলে উঠেন, বড় আজব, সামনে দেখ বাহিনী। মহিলারা অন্যদিকে তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি লীলাবতীকে ইঙ্গিত দেন। লীলাবতী তৎক্ষণাৎ বড়লাটকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেন। প্রচন্ড শব্দে সবাই এদিক-সেদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। পুলিশ আততায়ীকে ধরার জন্য খোঁজ শুরু করে। রাসবিহারী বসু বসন্তকুমার বিশ্বাসকে লীলাবতীর বেশ পরিবর্তন করিয়ে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে দেরাদুনে চলে যান। ভাগ্যক্রমে বড়লাট বেঁচে গেলেন, মারা গেল তাঁর একজন চৌকিদার (রাজদরবারের পেয়াদা)।
পরিকল্পনা মত মুহূর্তের মধ্যে রাসবিহারী বসু আর বসন্ত বিশ্বাস জনারণ্যে মিশে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে উধাও হয়ে যান। রাসবিহারী চলে যান তাঁর কর্মস্থল দেরাদুনে আর বসন্তকুমার বিশ্বাস লাহোরে। সেখানে পপুলার ডিস্পেনসারি নামের একটা ফার্মেসী তে বসন্ত এই ঘটনার মাস-দুই আগে কম্পাউন্ডার হিসাবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। রাসবিহারীই বসন্তকে দেরাদুন থেকে লাহোরে নিয়ে গিয়েছিলেন। হার্ডিঞ্জকে মারার জন্য যে বোমা ব্যবহৃত হয়েছিল তা চন্দননগরের বিপ্লবী মণীন্দ্রনাথ নায়েক নিজের হাতে তৈরি করেছিলেন এবং নলিনচন্দ্র দত্ত ওরফে পশুপতি সেই বোমা ট্রেনে করে নিয়ে গিয়ে রাসবিহারীর হাতে দিয়ে এসেছিলেন।
এরপর লাহোরের লরেন্স গার্ডেন্স-এর ইংরেজদের নাইট ক্লাবে কুখ্যাত ম্যাজিস্ট্রেট গর্ডন ও অন্যান্য ইংরেজ পুলিশ অফিসারদের মারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবারও এই কাজের ভার পরে বসন্তের উপর। পরিকল্পনা মত ১৯১৩ খ্রীষ্টাব্দের ১৭ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে বসন্তকুমার বিশ্বাস নাইট ক্লাবের রাস্তায় একটা বোমা রেখে আসেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে এবারও সাইকেল চালিয়ে যাওয়া একজন ভারতীয় চাপরাশী তার সাইকেলের চাকার আঘাতে সেই বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে মারা যান।
দিল্লীতে বড়লাটকে মারার জন্য ১৯১২ সালের ২৩ ডিসেম্বরের বোমা আর লাহোরে লরেন্স গার্ডেন্স-এর নাইট ক্লাবের রাস্তায় রাখা ১৯১৩ সালের ১৭ মে-র বোমার উপাদানগুলো পরীক্ষা করে পুলিশ বুঝতে পারে যে দুটোই একই জায়গায় তৈরী। তাছাড়া এগুলোর সাথে কলকাতায় উদ্ধার করা বোমার উপাদান ও চরিত্রগত মিলও জেনে ফেলে। কাজেই পুলিশ নিশ্চিত হয়ে যায় যে বোমাদুটো বাংলায় প্রস্তুত হয়েছে এবং বাংলার বিপ্লবীদের হাত রয়েছে এই দুই ঘটনায়। এর ফলে বাংলায় ব্যাপক তল্লাসী ও ধরপাকড় শুরু হয়। বিপ্লবীদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।
কলকাতায় রাজাবাজারের এক মেসে তল্লাসীর পর পুলিশের হাতে বিপ্লবীদের কিছু চিঠিপত্র আসে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই রাসবিহারী বসু যে উত্তর ভারতের বিপ্লবীদের প্রধান নেতা তা পুলিশের জানা হয়ে যায়। পুলিশ বিপ্লবী বসন্ত বিশ্বাসের কথাও জানতে পারে।প্রিয় শিষ্য বসন্ত বিশ্বাসকে সঙ্গে করে নিয়ে ছদ্মবেশে রাসবিহারী দিল্লী পৌছে দেখেন স্টেশনের ঠিক বাইরে দেওয়ালের গায়ে লাগানো রাসবিহারীর ছবিসহ পুরষ্কার ঘোষণার নোটিস। রাসবিহারী ও অন্যান্যদের সন্ধান দেবার জন্য এক লক্ষ টাকার পুরষ্কার ঘোষণা করেছে সরকার।
রাসবিহারী তাঁর প্রিয় শিষ্য বসন্ত বিশ্বাসকে নিয়ে চলে যান চন্দননগরে। কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার সময় বসন্তকুমার বিশ্বাসের পিতৃবিয়োগ হয়েছে বলে জানতে পেরে তিনি চলে আসেন গ্রামের বাড়ি নদীয়া জেলার পোড়াগাছায়। গ্রামের বাড়িতেই শ্রাদ্ধক্রিয়া করা হবে বলে স্থির হয়। কিন্তু ক্ষৌরকর্মের আগের দিন কিছু বিশেষ কাজে বসন্ত বিশ্বাস কৃষ্ণনগরে কাকা প্রতাপচন্দ্রের বাসায় আসেন। সেদিন ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯১৪। সেই বাসায় সদ্য পিতৃহারা বসন্তের যখন হবিষ্যি গ্রহণের উদ্যোগ চলছিল ঠিক তখনই পুলিশ বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে। নির্ভীক চিত্তে বিপ্লবী বসন্ত বিশ্বাস মাত্র ১৯ বছর বয়সে চলে যান ব্রিটিশের কারাগারে।
১৯১৪ সালের ২৩ মে দিল্লিতে দিল্লি-লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি শুরু হয় এবং ৫ অক্টোবর বসন্তকুমারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়। ঐ দলের দীর্ঘদিনের সহযোগী দীননাথ ও সুলতানচাঁদ নিজেদের জীবন রক্ষার তাগিদে ইংরেজ শাসকদের প্ররোচনায় বিশ্বাসঘাতকতা করে রাজসাক্ষী হয়ে অনেক গোপনীয় কথা আদালতে ফাঁস করে দেয়। দীননাথ ১৯১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর দিল্লীতে বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জ-এর উপর বোমা বিষ্ফোরণে রাসবিহারী বসু, বসন্ত বিশ্বাস ও অন্যান্যদের যুক্ত থাকার কথাও ফাঁস করে দেয়। দিল্লীতে ভাইসরয়ের (বড়লাট-এর) উপর বোমা-নিক্ষেপের দিনকয়েক বসন্ত বিশ্বাস যে লাহোরে ছিলেন না তাও ফার্মেসীর ক্যাশ রেজিস্টার থেকে প্রমাণ হয়ে যায়। কিন্তু শুধুমাত্র লাহোরে অনুপস্থিতির জন্যই তাঁকে দিল্লী বোমা বিস্ফোরণের আসামী বলে আইনগতভাবে অভিযুক্ত বলে প্রমাণ করে না।'দিল্লী-লাহোর ষড়যন্ত্র' মামলায় দিল্লী আদালতের এডিশানেল সেশন্স জাজ মি: এম. হ্যারিসন তার ৫ অক্টোবর ১৯১৪ এর রায়ে তিনজনকে প্রাণদণ্ড আর অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। প্রথমে বসন্ত বিশ্বাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
স্বভাবতই নাবালক প্রধান অভিযুক্তের প্রাণদণ্ড না হওয়ায় প্রতিহিংসাপরায়ণ ইংরেজ শাসকরা এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। ইংরেজ সরকার দিল্লী আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে লাহোরে পঞ্জাব উচ্চ আদালতে আবেদন করে। আরো একবার বিচারের নামে প্রহসনের শেষে ১৯১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিচারক স্যার ডোনাল্ড জনস্টোন ও মি: রেটিগান দিল্লী আদালতের দেওয়া শাস্তিকে পরিবর্তন করে বিপ্লবী বসন্ত বিশ্বাসকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। দিল্লী আদালতের বিচারক হ্যারিসনও এই ঘৃণ্য চক্রান্তে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্যে তিনি ফাইলে বসন্ত বিশ্বাসের বয়স দুবছর বাড়িয়ে ২৩ বছর করেন এবং প্রমাণ করেন তিনি তাঁর কৃত অপরাধের তীব্রতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞাত ছিলেন।
নির্দিষ্ট দিনে বসন্তকুমার বিশ্বাস অত্যন্ত শান্ত ও অবিচলিত মনে ফাঁসির মঞ্চে উঠেন। পাঞ্জাবের আম্বালা জেলে মাত্র ২০ বছর বয়সে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়ে বসন্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অন্যতম সর্বকনিষ্ঠ আত্মত্যাগী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।
জন্ম ও পরিবার
তাঁর জন্ম নদীয়া জেলার অন্তর্গত পোড়াগাছা গ্রামে। তাঁর পিতার নাম মতিলাল বিশ্বাস। নীল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দানকারী প্রধান নেতা দিগম্বর বিশ্বাস তার পূর্বপুরুষ। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাঠ শেষ করে স্বর্গীয় শ্রী রূপলাল খাঁ -এর তত্ত্বাবধানে আবাসিক ছাত্র হিসাবে বসন্ত বিশ্বাস মুড়াগাছা সর্বার্থ সাধক বিদ্যালয়ে (মুড়াগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়) ভর্তি হয়েছিলেন। প্রধানশিক্ষক মহাশয় শ্রী ক্ষীরোদ গঙ্গোপাধ্যায় বসন্তকে খুবই স্নেহ করতেন। ছোট থেকেই বসন্ত ছিলেন বিপ্লবী মনোভাবাপন্ন। ছাত্রাবস্থায় তাঁর শিক্ষক ছিলেন ক্ষীরোদচন্দ্র গাঙ্গুলি, মূলত তার প্রভাবেই বসন্ত বিপ্লবী রাজনীতিতে আকৃষ্ট হন। এরপর যুগান্তর গোষ্ঠীর কর্মী অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এর সাথে বসন্তর পরিচয় হয়| তিনি বসন্ত বিশ্বাসকে বোমা বানানো আর বোমা ছোড়া শেখান। ১৯১১ সালের শেষ দিকে রাসবিহারী বসুর সাথে 'বিশে দাস' ছদ্মনাম নিয়ে তিনি উত্তর ভারত চলে যান | পরে দেরাদুনের ‘টেগোর ভিলা’র বাগানে রাসবিহারী নিজে বসন্তকে আরও পারদর্শী করে তুলেছিলেন।বসন্তের সাহসিকতা, নিষ্ঠা, উদ্যম আর বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ হয়ে বসন্ত বিশ্বাসকে রাসবিহারী বসু পাঁচ-সদস্যের গুপ্তচক্রের অন্যতম সদস্য মনোনীত করেন।

দেশের জন্য তাঁর এই ত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তিনটি আবক্ষ মূর্তি এবং ফলক স্থাপন করা হয়েছে।
১) একটি নদীয়ার মুড়াগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর মাঠে যা উদ্বোধন করেন বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।;
২) দ্বিতীয়টি কৃষ্ণনগরে রবীন্দ্র ভবনের পাশে এবং
৩) তৃতীয়টি টোকিও-র মাদাম তেতসু-কোং-হিওচি-এর বাগানে যেটি বিপ্লবী রাসবিহারী বসু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
এই ফলকটি রাসবিহারী বসু তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মাণ করিয়েছিলেন।
এছাড়া মুড়াগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর ছাত্রাবাসের নামকরন করা হয়েছে ‘বসন্ত ছাত্রাবাস’।
……………………………..
তথ্য সংগৃহীত - প্রতাপ সাহা (https://www.facebook.com/pratapcsaha)। ধন্যবাদ।.........

শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক এবং সাহিত্যিক মদনমোহন তর্কালঙ্কার (জন্মঃ- ৩ জানুয়ারি, ১৮১৭ – মৃত্যুঃ- ৯ মার্চ, ১৮৫৮)মদনমোহন চট্...
03/01/2025

শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক এবং সাহিত্যিক
মদনমোহন তর্কালঙ্কার (জন্মঃ- ৩ জানুয়ারি, ১৮১৭ – মৃত্যুঃ- ৯ মার্চ, ১৮৫৮)

মদনমোহন চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন নদিয়ার নাকাশিপাড়ার বিল্বগ্রামে। বাবা রামধন চট্টোপাধ্যায় এবং মা বিশ্বেশ্বরী দেবী। সংস্কৃত কলেজের লিপিকর বাবা ‘বিদ্যারত্ন’ উপাধি পেয়েছিলেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে মদনমোহন ছিলেন সবার বড়। ১৮২৯ সালে সংস্কৃত কলেজে পড়তে গিয়ে বিদ্যাসাগরের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব হয়। ইয়ং বেঙ্গলের প্রতিষ্ঠাতা ডিরোজিওর উদ্যোগে সে সময়ে দেশ জুড়ে চলছে কুসংস্কার, নানা সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে ও ইংরেজি স্ত্রী শিক্ষার প্রসারের জন্য আন্দোলন। ইয়ংবেঙ্গলের অন্যতম সদস্য রামতনু লাহিড়ীর বাড়িতে থাকার সুবাদে মদনমোহনও সেই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারপর থেকে ১৮৫৮ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মদনমোহন শিক্ষা এবং সামাজিক সংস্কার আন্দোলনে যুক্ত থাকেন।
১৮৪২ সালে হিন্দু কলেজের পাঠশালার প্রধান শিক্ষক হিসাবে মদনমোহন কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর ১৮৪৬ সালে নদিয়ার রাজা শ্রীশচন্দ্র কৃষ্ণনগরে কলেজ স্থাপন করলে তিনি সেখানে কিছুদিন অধ্যাপনা করেন। ১৮৪৬ থেকে ১৮৫০ পর্যন্ত তিনি সংস্কৃত কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৮৫০-৫৪ পর্যন্ত তিনি ছিলেন মুর্শিদাবাদের জজ পণ্ডিত। বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজ নির্মাণেও তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।
জীবনের শেষ পর্বে প্রশাসক হিসেবেও তিনি বেশ কিছু সংস্কারে হাত দেন। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মুর্শিদাবাদ এবং কান্দিতে দাতব্য চিকিৎসালয়, মেয়েদের স্কুল, রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন। সেকালে শিক্ষা সংস্কারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। ১৮৪৯ সালে বেথুন সাহেব যখন এদেশের মেয়েদের জন্য ‘ক্যালকাটা ফিমেল স্কুল’ স্থাপনে মদননোহন ছিলেন তাঁর প্রধান সহযোগী। বিনা বেতনে তিনি ওই স্কুলে পড়াতেন। শুধু তাই নয় তিনি তাঁর দুই মেয়ে ভুবনমালা এবং কুন্দমালাকে ওই স্কুলে ভর্তি করেন। শিশুদের জন্য লেখেন ‘শিশু শিক্ষা’ নামে একটি বই। যে বই দিয়ে শৈশবে রবীন্দ্রনাথের লেখাপড়া শুরু হয়েছিল। রবিজীবনীতে তার উল্লেখ পাওয়া যায়। “রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা আরম্ভ হয়েছিল মদনমোহনকৃত শিশুশিক্ষা দিয়ে এবং তারপরে সম্ভবত বর্ণপরিচয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটেছিল।”

১৮৪৯ সালে লেখা শিশুশিক্ষার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ভাগ ১৮৫০ এর মধ্যে তাঁর লেখা হয়ে গিয়েছিল। বলা হয় বইটি ছিল বাঙলার প্রথম “প্রাইমার”। এর ঠিক পরেই তিনি লেখেন ‘স্ত্রীশিক্ষা’ নামে এর একটি বই। যেখানে তিনিই প্রথম বলেছিলেন শিশুকে শিক্ষিত করতে গেলে মায়েরই শিক্ষা আগে দরকার।
সমাজ সংস্কারক
তিনি ছিলেন 'হিন্দু বিধবা বিবাহ' প্রথার অন্যতম উদ্যোক্তা। এই সম্পর্কে বহরমপুর কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মৃণালকান্তি চক্রবর্তী বলেন, “১৮৫৭ সালে প্রথম বিধবা বিবাহ হয়। ওই বিয়ের পাত্র শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন এবং পাত্রী ছিলেন কালীমতি। তাঁদের দুজনের সন্ধান ও যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে মদনমোহন তর্কালঙ্কার ছিলেন অন্যতম।”

প্রনীত গ্রন্থাবলী
মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়। বিদ্যাসাগরের বিধবাবিবাহ ও স্ত্রীশিক্ষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় সহযোগিতা দান করেন। শুধু তাই নয়, নিজ কন্যা ভুবনমালা ও কুন্দমালাকে তিনি ড্রিঙ্ক ওয়াটার বেথুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হিন্দু ফিমেল স্কুলে (১৮৪৯) প্রেরণ করেন এবং নিজে বিনা বেতনে ওই স্কুলে বালিকাদের পাঠদান করতেন। ওই সময় ভারতে মেয়েদের প্রকাশ্যে শিক্ষার সুযোগ ছিল না; সমাজ তা ভাল চোখে দেখতও না। মদনমোহন নিজেও মুর্শিদাবাদ ও কান্দিতে বালিকা বিদ্যালয়, ইংরেজি বিদ্যালয়, অনাথ আশ্রম, দাতব্য চিকিৎসালয় ইত্যাদি জনহিতকর প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। স্ত্রীশিক্ষার সমর্থনে তিনি সর্বশুভকরী পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যায় (১৮৫০) দৃষ্টান্তস্থাপনকারী একটি প্রবন্ধ রচনা করেন।
রসতরঙ্গিণী (১৮৩৪) ও বাসবদত্তা (১৮৩৬) মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ। তিন খন্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা (১৮৪৯ ও ১৮৫৩) শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ; ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ শিশুপাঠ্য এই বিখ্যাত কবিতাটি তাঁরই রচনা।
মদনমোহন সংস্কৃত ভাষায় রচিত বেশ কয়েকখানি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ সম্পাদনা করেন। সেগুলির মধ্যে সংবাদতত্ত্বকৌমুদী, চিন্তামণিদীধিতি, বেদান্তপরিভাষা, কাদম্বরী, কুমারসম্ভব ও মেঘদূত প্রধান। কবি-প্রতিভার জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি ‘কাব্যরত্নাকর’ এবং পান্ডিত্যের জন্য ‘তর্কালঙ্কার’ উপাধি লাভ করেন।
মদনমোহন তর্কালঙ্কার বাংলা ভাষায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেন; তাঁর রচিত শিশুশিক্ষা গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র কর্তৃক রচিত "বর্ণপরিচয়" গ্রন্থটিরও পূর্বে প্রকাশিত। তিনি 'শিশুশিক্ষা' পুস্তকটির 'প্রথম ভাগ' ১৮৪৯ সালে এবং 'দ্বিতীয় ভাগে' ১৮৫০ সালে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে পুস্তকটির 'তৃতীয় ভাগ' এবং 'বোধোদয়' শিরোনামে 'চতুর্থ ভাগ' প্রকাশিত হয়। 'বাসব দত্তা' তাঁর আরেকটি গ্রন্থ।

তাঁর বিখ্যাত কিছু পংক্তির মধ্যে রয়েছে:
‘পাখী সব করে রব, রাতি পোহাইল’; ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, ; সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি’;
‘লেখাপড়া করে যে/ গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে’

তিনি ১৪টি সংস্কৃত বই সম্পাদনা করেন।

মৃত্যু
কান্দিতে কলেরা রোগে ভুগে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
তথ্য সংগৃহীত - প্রতাপ সাহা (https://www.facebook.com/pratapcsaha)। ধন্যবাদ।.........

আমার পণ
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে।
ভাইবোন সকলেরে যেন ভালোবাসি,
এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি।
ভালো ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা,
পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা।
সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।
সাবধানে যেন লোভ সামলিয়ে থাকি,
কিছুতে কাহারে যেন নাহি দিঈ ফাঁকি।
ঝগড়া না করি যেন কভু কারো সনে,
সকালে উঠিয়া এই বলি মনে মনে।

পাখি-সব করে রব
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল'য়ে যায় মাঠে।
শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।।
ফুটিল মালতী ফুল, সৌরভ ছুটিল।
পরিমল লোভে অলি, আসিয়া জুটিল।।
গগনে উঠিল রবি, লোহিত বরণ।
আলোক পাইয়া লোক, পুলকিত মন।।
শীতল বাতাস বয়, জুড়ায় শরীর।
পাতায় পাতায় পড়ে, নিশির শিশির।।
উঠ শিশু মুখ ধোও, পর নিজ বেশ।
আপন পাঠেতে মন, করহ নিবেশ।।
…………..
তথ্য সংগৃহীত - প্রতাপ সাহা (https://www.facebook.com/pratapcsaha)। ধন্যবাদ।.........

09/12/2024

বিগত বছরগুলিতে যারা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে অনুত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের ফর্ম ফিলাপ আগামী 11 ডিসেম্বর 2024 পর্যন্ত চলবে। অনুগ্রহ করে যদি পরিচিত কেউ থাকে তাদের জানিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
প্রধান শিক্ষক
মুড়াগাছা হাই স্কুল
09/12/2024

https://youtu.be/v4aFZV7goKY?si=e6xYFblKU14UDB9q
09/10/2024

https://youtu.be/v4aFZV7goKY?si=e6xYFblKU14UDB9q

মুড়াগাছা হাইস্কুলে শিশু উদ্যানের উদ্বোধন করলেন নাকাশিপাড়ার বিধায়ক কল্লোল খাঁ

কবি, নাট্যকার এবং সংগীতস্রষ্টাদ্বিজেন্দ্রলাল রায় (জন্মঃ- ১৯ জুলাই(৪ঠা শ্রাবণ), ১৮৬৩ - মৃত্যুঃ- ১৭ মে, ১৯১৩) (সংসদ বাঙাল...
19/07/2024

কবি, নাট্যকার এবং সংগীতস্রষ্টা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (জন্মঃ- ১৯ জুলাই(৪ঠা শ্রাবণ), ১৮৬৩ - মৃত্যুঃ- ১৭ মে, ১৯১৩) (সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান অনুযায়ী)

প্রায় ৫০০ গান রচনা করেছিলেন দ্বিজেন্দ্রলাল। তাঁর বিখ্যাত গান "ধনধান্য পুষ্প ভরা", "বঙ্গ আমার! জননী আমার! ধাত্রী আমার! আমার দেশ" ইত্যাদি আজও সমান জনপ্রিয়। প্রেমের, নাটকের, হাসির ও স্বদেশি গানই মুখ্য। এর মধ্যে সুর পাওয়া যায় মাত্র ১৩২টি গানের। নাটক লিখেছেন ২১টি - ইতিহাসাশ্রিত, প্রহসন, সামাজিক, পুরাণাশ্রিত। গান-কবিতা মিলিয়ে কিছু গ্রন্থ। ১৯০৫ সালে গড়ে তুলেছিলেন সাহিত্যসভা ‘পূর্ণিমা মিলন’ বা ‘সাহিত্যিকী পৌর্ণমাসী সম্মিলন’। ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকা প্রকাশের ভাবনা আসে তাঁরই মাথায়। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে জীবদ্দশায় প্রকাশিত আর্যগাথা (১ম ও ২য় ভাগ) ও মন্দ্র বিখ্যাত। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য একঘরে, কল্কি-অবতার, বিরহ, সীতা, তারাবাঈ, দুর্গাদাস, রাণা প্রতাপসিংহ, মেবার-পতন, নূরজাহান, সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল-বিজয় ইত্যাদি।

এ সবের পাশাপাশি তিনি ছিলেন এক স্বাধীনচেতা ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। বিলেত থেকে কৃষিবিদ্যার ডিগ্রি নিয়ে আসা দ্বিজেন্দ্রলাল হয়ে উঠলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। মেদিনীপুরের সুজমুঠা পরগনার সেটলমেন্টের দায়িত্বে থাকাকালীন ঘটিয়ে বসলেন এক কাণ্ড। কৃষকদের খাজনা দিলেন কমিয়ে। রক্তচোখ দেখালেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল। আর উল্টো দিকে কৃষকেরা তাঁকে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বদলে ডাকতে শুরু করলেন ‘দয়াল রায়’ নামে। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হল। ছোটলাট এলেন পরিদর্শনে। বাঙালি কবি ছোটলাটকে কী বলেছিলেন? তাঁর ভাষায়— ‘আইন বিষয়ে তাঁহার অনভিজ্ঞতা বুঝাইয়ে দেই’। ফলে যা হওয়ার, তাই হল! বিষয় গড়াল আদালতে। কোনও ক্রমে চাকরি বাঁচলেও পদোন্নতি রুদ্ধ হল। আর দ্বিজেন্দ্রলাল খুশি রইলেন এই ভেবে যে, ‘নিজের পায়ে কুঠারাঘাত করিলেও সমস্ত বঙ্গদেশব্যাপী একটি উপকার সাধিত’ হয়েছে। ইংরেজের চাকরি তাঁর ভাষায় ছিল ‘দাস্য’। শেষ দিকে মাথায় চেপে বসেছিল স্বেচ্ছাবসরের ভাবনা।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। তাঁর পিতা কার্তিকেয়চন্দ্র রায় (১৮২০-৮৫) ছিলেন কৃষ্ণনগর রাজবংশের দেওয়ান। কার্তিকেয়চন্দ্র নিজেও ছিলেন একজন বিশিষ্ট খেয়াল গায়ক ও সাহিত্যিক। এই বিদগ্ধ পরিবেশ বালক দ্বিজেন্দ্রলালের প্রতিভার বিকাশে বিশেষ সহায়ক হয়। তাঁর মা প্রসন্নময়ী দেবী ছিলেন অদ্বৈত আচার্যের বংশধর। দ্বিজেন্দ্রলালের দুই দাদা রাজেন্দ্রলাল ও হরেন্দ্রলাল এবং এক বৌদি মোহিনী দেবীও ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যস্রষ্টা।

দ্বিজেন্দ্রলাল ১৮৭৮-এ প্রবেশিকা পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করেন। এফ. এ. পাস করেন কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে। পরে হুগলি কলেজ থেকে বি.এ. এবং ১৮৮৪ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ (অধুনা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে এম.এ. পাস করেন। এরপর কিছুদিন ছাপরা'র রেভেলগঞ্জ মুখার্জ্জি সেমিনারীতে শিক্ষকতা করার পর সরকারি বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ড যান কৃষিবিদ্যা শিক্ষা করার জন্য। রয়্যাল এগ্রিকালচারাল কলেজ ও এগ্রিকালচারাল সোসাইটি হতে কৃষিবিদ্যায় FRAS এবং MRAC ও MRAS ডিগ্রি অর্জন করেন। ইংল্যান্ডে থাকাকালীন ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর একমাত্র ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ Lyrics of Ind। এই বছরই দেশে প্রত্যাবর্তন করে সরকারি কর্মে নিযুক্ত হন দ্বিজেন্দ্রলাল। কিন্তু তিন বছর বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে প্রায়শ্চিত্ত করতে অসম্মত হলে তাঁকে নানা সামাজিক উৎপীড়ন সহ্য করতে হয়।

ভারতবর্ষে ফিরে তিনি জরিপ ও কর মূল্যায়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, এবং মধ্যপ্রদেশে সরকারী দপ্তরে যোগ দেন। পরে তিনি দিনাজপুরে সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ পান। তিনি প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক প্রতাপচন্দ্র মজুমদারের কন্যা সুরবালা দেবীকে বিবাহ করেন ১৮৮৭ সালে। ১৮৯০ সালে বর্ধমান এস্টেটের সুজামুতা পরগনায় সেটেলমেন্ট অফিসার হিসাবে কর্মরত অবস্থায় কৃষকদের অধিকার বিষয়ে তাঁর সাথে বাংলার ইংরেজ গভর্নরের বিবাদ ঘটে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ১৯১৩ সালে সরকারী চাকরী হতে অবসর নেন।

বাল্যকালে তিনি একটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে লালিত হয়েছিলেন। দ্বিজেন্দ্রলালের দুই অগ্রজ জ্ঞানেন্দ্রলাল রায় ও হরেন্দ্রলাল রায় - দু'জনেই ছিলেন লেখক ও পত্রিকা সম্পাদক। গৃহে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দীনবন্ধু মিত্র প্রমুখের যাতায়াত ছিল। এরকম একটি পরিবেশে কৈশোরেই তিনি কবিতা রচনা শুরু করেন। তিনি পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন, যা দ্বিজেন্দ্রগীতি নামে পরিচিত। ১৯০৫ সালে তিনি কলকাতায় পূর্নিমা সম্মেলন নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৩ সালে তিনি ভারতবর্ষ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। অল্প বয়স থেকেই কাব্য রচনার প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে আর্যগাথা (১ম ও ২য় ভাগ) ও মন্দ্র বিখ্যাত। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য একঘরে, কল্কি-অবতার, বিরহ, সীতা, তারাবাঈ, দুর্গাদাস, রাণা প্রতাপসিংহ, মেবার পতন, নূরজাহান, সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল-বিজয় ইত্যাদি। দ্বিজেন্দ্রলালের সাহিত্যে তাঁর দেশপ্রেমের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।
হাস্যরসেও তিনি অসামান্য পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন।

গ্রন্থতালিকা
কাব্যগ্রন্থ
আর্যগাথা, ১ম খণ্ড (১৮৮৪)
The Lyrics of India (ইংল্যান্ডে থাকাকালীন রচিত) (১৮৮৬ )
আর্যগাথা, ২য় খণ্ড (১৮৮৪)
হাসির গান (১৯০০)
মন্দ্র (১৯০২)
আলেখ্য (১৯০৭)
ত্রিবেণী (১৯১২)
রম্য ও ব্যঙ্গাত্মক রচনা
একঘরে (১৮৮৯)
সমাজ বিভ্রাট ও কাল্কি অবতার (১৮৯৫)
বিরহ (১৮৯৭)
ত্র্যহস্পর্শ (১৯০০)
প্রাশচিত্ত (১৯০২)
পূনর্জন্ম (১৯১১)
গীতিনাট্য
পাষাণী (১৯০০)
সীতা (১৯০৮)
ভীষ্ম (১৯১৪)
সামাজিক নাটক
পারাপারে (১৯১২)
বঙ্গনারী (১৯১৬)
ঐতিহাসিক নাটক
তারাবাঈ (১৯০৩)
রাণা প্রতাপসিংহ (১৯০৫)
দুর্গাদাশ (১৯০৬)
নূরজাহান (১৯০৮)
মেবার পতন (১৯০৮)
সাজাহান (১৯০৯)
চন্দ্রগুপ্ত (১৯১১)
সিংহল বিজয় (১৯১৫)
……………….

দ্বিজেন্দ্রলাল …রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দ্বিজেন্দ্রলাল যখন বাংলার পাঠকসাধারণের নিকট পরিচিত ছিলেন না তখন হইতেই তাঁহার কবিত্বে আমি গভীর আনন্দ পাইয়াছি এবং তাঁহার প্রতিভার মহিমা স্বীকার করিতে কুণ্ঠিত হই নাই। দ্বিজেন্দ্রলালের সঙ্গে আমার যে সম্বন্ধ সত্য, অর্থাৎ আমি যে তাঁর গুণপক্ষপাতী, এইটেই আসল কথা এবং এইটেই মনে রাখিবার যোগ্য। আমার দুর্ভাগ্যক্রমে এখনকার অনেক পাঠক দ্বিজেন্দ্রলালকে আমার প্রতিপক্ষশ্রেণীতে ভুক্ত করিয়া কলহের অবতারণা করিয়াছেন। অথচ আমি স্পর্ধা করিয়া বলিতে পারি এ কলহ আমার নহে এবং আমার হইতেই পারে না। পশ্চিম দেশের আঁধি হঠাৎ একটা উড়ো হাওয়ার কাঁধে চড়িয়া শয়ন বসন আসনের উপর এক পুরু ধুলা রাখিয়া চলিয়া যায়। আমাদের জীবনে অনেক সময়ে সেই ভুল-বোঝার আঁধি কোথা হইতে আসিয়া পড়ে তাহা বলিতেই পারি না। কিন্তু উপস্থিতমতো সেটা যত উৎপাতই হোক্ সেটা নিত্য নহে এবং বাঙালি পাঠকদের কাছে আমার নিবেদন এই যে, তাঁহারা এই ধুলা জমাইয়া রাখিবার চেষ্টা যেন না করেন, করিলেও কৃতকার্য হইতে পারিবেন না। কল্যাণীয় শ্রীমান দেবকুমার তাঁহার বন্ধুর জীবনীর ভূমিকায় আমাকে কয়েক ছত্র লিখিয়া দিতে অনুরোধ করিয়াছেন। এই উপলক্ষে আমি কেবলমাত্র এই কথাটি জানাইতে চাই যে, সাময়িক পত্রে যে-সকল সাময়িক আবর্জনা জমা হয় তাহা সাহিত্যের চিরসাময়িক উৎসব-সভার সামগ্রী নহে। দ্বিজেন্দ্রলালের সম্বন্ধে আমার যে পরিচয় স্মরণ করিয়া রাখিবার যোগ্য তাহা এই যে আমি অন্তরের সহিত তাঁহার প্রতিভাকে শ্রদ্ধা করিয়াছি এবং আমার লেখায় বা আচরণে কখনো তাঁহার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করি নাই।-- আর যাহা-কিছু অঘটন ঘটিয়াছে তাহা মায়া মাত্র, তাহার সম্পূর্ণ কারণ নির্ণয় করিতে আমি তো পারিই না, আর কেহ পারেন বলিয়া আমি বিশ্বাস করি না। [১৩২৪ বঙ্গাব্দ]

ধনধান্য পুষ্পভরা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ধন্যধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা;
তাহার মাঝে আছে দেশ এক- সকল দেশের সেরা;
ওসে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি তিয়ে ঘেরা;
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সে যে- আমার জন্মভূমি।
চন্দ্র-সূর্য গ্রহ তারা, কোথায় উজল এমন ধারা!
কোথায় এমন খেলে তড়িৎ এমন কালো মেঘে!
তারা পাখির ডাকে ঘুমিয়ে, ওঠে পাখির ডাকে জেগে,
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে- আমার জন্মভূমি।
এমন স্নিগ্ধ নদী কাহার, কোথায় এমন ধুম্র পাহাড়;
কোথায় এমন হরিৎক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে।
এমন ধানের ওপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে- আমার জন্মভূমি।
পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখী; কুঞ্জে কুঞ্জে গাহে পাখি
গুঞ্জরিয়া আসে অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে-
তারা ফুলের ওপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে।
ভায়ের মায়ের এমন স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ?
– ওমা তোমার চরণ দুটি বক্ষে আমার ধরি,
আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি-
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে- আমার জন্মভূমি।.................
তথ্য সংগৃহীত - প্রতাপ সাহা (https://www.facebook.com/pratapcsaha)। ধন্যবাদ।.........

স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং অগ্নিযুগের বীর বিপ্লবীশহীদ বসন্তকুমার বিশ্বাস  (জন্মঃ- ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ - মৃত্যুঃ- ১১ মে, ১৯১৫)...
11/05/2024

স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং অগ্নিযুগের বীর বিপ্লবী
শহীদ বসন্তকুমার বিশ্বাস (জন্মঃ- ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ - মৃত্যুঃ- ১১ মে, ১৯১৫)

বসন্ত বিশ্বাস যুগান্তর দলের নেতা অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও রাসবিহারী বসুর নিকট স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র কর্মকান্ডে দীক্ষা নেন। ১৯১১ সালে ভারতের বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জ দিল্লির দরবারে ঘোষণা করেন, ১৯১২ সালে ভারতের সমস্ত প্রভাবশালী ও বিত্তবান ব্যক্তিকে নিয়ে তিনি শোভাযাত্রা করবেন। ঘোষণা অনুযায়ী ১৯১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রাটি কুইন্স গার্ডেন হয়ে চাঁদনীচক দিয়ে দেওয়ান-ই-আমের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রাজ্যের সকল মানুষ এই শোভাযাত্রা দেখছেন। বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জ সস্ত্রীক হাতির পিঠে বসে এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। সেই সময় পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর পাঠানো ষোড়শী ছদ্মবেশী একটি বালিকা লীলাবতী বড়লাটকে মারার জন্য মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক ভবনে বোমা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। অসংখ্য মহিলা সূরম্য পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলায় শোভাযাত্রা দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন। লীলাবতী চাদর গায়ে মহিলাদের মাঝে মিশে গেলেন। ইতিমধ্যে শোভাযাত্রাটি ভবনের প্রায় নিকটে চলে আসে।
ন্যাশনাল ব্যাংক ভবনের সম্মুখের আরেকটি ভবনে রাসবিহারী বসু সবকিছু সর্তকতার সাথে তীক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং লীলাবতীকে বোমা মারার ইঙ্গিত প্রদানের অপেক্ষায় রয়েছেন। লীলাবতীও রাসবিহারী বসুর ইঙ্গিতের জন্য অপেক্ষা করছেন। এমন সময় এক মহিলা লীলাবতীকে জিজ্ঞেস করে "তেরি নাম ক্যা বহিনী?" লীলাবতী রাসবিহারীর দিকে দৃষ্টি রেখে বলেন, "মেরী নাম লীলাবতী'। ততক্ষণে শোভাযাত্রাটি ভবনের একেবারে নিকটে চলে আসে। রাসবিহারী মহিলাদের দৃষ্টি শোভাযাত্রা অথবা তাঁর দিকে ফেরানোর জন্য জোরে বলে উঠেন, বড় আজব, সামনে দেখ বাহিনী। মহিলারা অন্যদিকে তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি লীলাবতীকে ইঙ্গিত দেন। লীলাবতী তৎক্ষণাৎ বড়লাটকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেন। প্রচন্ড শব্দে সবাই এদিক-সেদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। পুলিশ আততায়ীকে ধরার জন্য খোঁজ শুরু করে। রাসবিহারী বসু বসন্তকুমার বিশ্বাসকে লীলাবতীর বেশ পরিবর্তন করিয়ে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে দেরাদুনে চলে যান। ভাগ্যক্রমে বড়লাট বেঁচে গেলেন, মারা গেল তাঁর একজন চৌকিদার (রাজদরবারের পেয়াদা)।
পরিকল্পনা মত মুহূর্তের মধ্যে রাসবিহারী বসু আর বসন্ত বিশ্বাস জনারণ্যে মিশে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে উধাও হয়ে যান। রাসবিহারী চলে যান তাঁর কর্মস্থল দেরাদুনে আর বসন্তকুমার বিশ্বাস লাহোরে। সেখানে পপুলার ডিস্পেনসারি নামের একটা ফার্মেসী তে বসন্ত এই ঘটনার মাস-দুই আগে কম্পাউন্ডার হিসাবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। রাসবিহারীই বসন্তকে দেরাদুন থেকে লাহোরে নিয়ে গিয়েছিলেন। হার্ডিঞ্জকে মারার জন্য যে বোমা ব্যবহৃত হয়েছিল তা চন্দননগরের বিপ্লবী মণীন্দ্রনাথ নায়েক নিজের হাতে তৈরি করেছিলেন এবং নলিনচন্দ্র দত্ত ওরফে পশুপতি সেই বোমা ট্রেনে করে নিয়ে গিয়ে রাসবিহারীর হাতে দিয়ে এসেছিলেন।
এরপর লাহোরের লরেন্স গার্ডেন্স-এর ইংরেজদের নাইট ক্লাবে কুখ্যাত ম্যাজিস্ট্রেট গর্ডন ও অন্যান্য ইংরেজ পুলিশ অফিসারদের মারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবারও এই কাজের ভার পরে বসন্তের উপর। পরিকল্পনা মত ১৯১৩ খ্রীষ্টাব্দের ১৭ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে বসন্তকুমার বিশ্বাস নাইট ক্লাবের রাস্তায় একটা বোমা রেখে আসেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে এবারও সাইকেল চালিয়ে যাওয়া একজন ভারতীয় চাপরাশী তার সাইকেলের চাকার আঘাতে সেই বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে মারা যান।
দিল্লীতে বড়লাটকে মারার জন্য ১৯১২ সালের ২৩ ডিসেম্বরের বোমা আর লাহোরে লরেন্স গার্ডেন্স-এর নাইট ক্লাবের রাস্তায় রাখা ১৯১৩ সালের ১৭ মে-র বোমার উপাদানগুলো পরীক্ষা করে পুলিশ বুঝতে পারে যে দুটোই একই জায়গায় তৈরী। তাছাড়া এগুলোর সাথে কলকাতায় উদ্ধার করা বোমার উপাদান ও চরিত্রগত মিলও জেনে ফেলে। কাজেই পুলিশ নিশ্চিত হয়ে যায় যে বোমাদুটো বাংলায় প্রস্তুত হয়েছে এবং বাংলার বিপ্লবীদের হাত রয়েছে এই দুই ঘটনায়। এর ফলে বাংলায় ব্যাপক তল্লাসী ও ধরপাকড় শুরু হয়। বিপ্লবীদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।
কলকাতায় রাজাবাজারের এক মেসে তল্লাসীর পর পুলিশের হাতে বিপ্লবীদের কিছু চিঠিপত্র আসে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই রাসবিহারী বসু যে উত্তর ভারতের বিপ্লবীদের প্রধান নেতা তা পুলিশের জানা হয়ে যায়। পুলিশ বিপ্লবী বসন্ত বিশ্বাসের কথাও জানতে পারে।প্রিয় শিষ্য বসন্ত বিশ্বাসকে সঙ্গে করে নিয়ে ছদ্মবেশে রাসবিহারী দিল্লী পৌছে দেখেন স্টেশনের ঠিক বাইরে দেওয়ালের গায়ে লাগানো রাসবিহারীর ছবিসহ পুরষ্কার ঘোষণার নোটিস। রাসবিহারী ও অন্যান্যদের সন্ধান দেবার জন্য এক লক্ষ টাকার পুরষ্কার ঘোষণা করেছে সরকার।
রাসবিহারী তাঁর প্রিয় শিষ্য বসন্ত বিশ্বাসকে নিয়ে চলে যান চন্দননগরে। কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার সময় বসন্তকুমার বিশ্বাসের পিতৃবিয়োগ হয়েছে বলে জানতে পেরে তিনি চলে আসেন গ্রামের বাড়ি নদীয়া জেলার পোড়াগাছায়। গ্রামের বাড়িতেই শ্রাদ্ধক্রিয়া করা হবে বলে স্থির হয়। কিন্তু ক্ষৌরকর্মের আগের দিন কিছু বিশেষ কাজে বসন্ত বিশ্বাস কৃষ্ণনগরে কাকা প্রতাপচন্দ্রের বাসায় আসেন। সেদিন ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯১৪। সেই বাসায় সদ্য পিতৃহারা বসন্তের যখন হবিষ্যি গ্রহণের উদ্যোগ চলছিল ঠিক তখনই পুলিশ বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে। নির্ভীক চিত্তে বিপ্লবী বসন্ত বিশ্বাস মাত্র ১৯ বছর বয়সে চলে যান ব্রিটিশের কারাগারে।
১৯১৪ সালের ২৩ মে দিল্লিতে দিল্লি-লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি শুরু হয় এবং ৫ অক্টোবর বসন্তকুমারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়। ঐ দলের দীর্ঘদিনের সহযোগী দীননাথ ও সুলতানচাঁদ নিজেদের জীবন রক্ষার তাগিদে ইংরেজ শাসকদের প্ররোচনায় বিশ্বাসঘাতকতা করে রাজসাক্ষী হয়ে অনেক গোপনীয় কথা আদালতে ফাঁস করে দেয়। দীননাথ ১৯১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর দিল্লীতে বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জ-এর উপর বোমা বিষ্ফোরণে রাসবিহারী বসু, বসন্ত বিশ্বাস ও অন্যান্যদের যুক্ত থাকার কথাও ফাঁস করে দেয়। দিল্লীতে ভাইসরয়ের (বড়লাট-এর) উপর বোমা-নিক্ষেপের দিনকয়েক বসন্ত বিশ্বাস যে লাহোরে ছিলেন না তাও ফার্মেসীর ক্যাশ রেজিস্টার থেকে প্রমাণ হয়ে যায়। কিন্তু শুধুমাত্র লাহোরে অনুপস্থিতির জন্যই তাঁকে দিল্লী বোমা বিস্ফোরণের আসামী বলে আইনগতভাবে অভিযুক্ত বলে প্রমাণ করে না।'দিল্লী-লাহোর ষড়যন্ত্র' মামলায় দিল্লী আদালতের এডিশানেল সেশন্স জাজ মি: এম. হ্যারিসন তার ৫ অক্টোবর ১৯১৪ এর রায়ে তিনজনকে প্রাণদণ্ড আর অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। প্রথমে বসন্ত বিশ্বাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
স্বভাবতই নাবালক প্রধান অভিযুক্তের প্রাণদণ্ড না হওয়ায় প্রতিহিংসাপরায়ণ ইংরেজ শাসকরা এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। ইংরেজ সরকার দিল্লী আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে লাহোরে পঞ্জাব উচ্চ আদালতে আবেদন করে। আরো একবার বিচারের নামে প্রহসনের শেষে ১৯১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিচারক স্যার ডোনাল্ড জনস্টোন ও মি: রেটিগান দিল্লী আদালতের দেওয়া শাস্তিকে পরিবর্তন করে বিপ্লবী বসন্ত বিশ্বাসকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। দিল্লী আদালতের বিচারক হ্যারিসনও এই ঘৃণ্য চক্রান্তে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্যে তিনি ফাইলে বসন্ত বিশ্বাসের বয়স দুবছর বাড়িয়ে ২৩ বছর করেন এবং প্রমাণ করেন তিনি তাঁর কৃত অপরাধের তীব্রতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞাত ছিলেন।
নির্দিষ্ট দিনে বসন্তকুমার বিশ্বাস অত্যন্ত শান্ত ও অবিচলিত মনে ফাঁসির মঞ্চে উঠেন। পাঞ্জাবের আম্বালা জেলে মাত্র ২০ বছর বয়সে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়ে বসন্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অন্যতম সর্বকনিষ্ঠ আত্মত্যাগী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।
জন্ম ও পরিবার
তাঁর জন্ম নদীয়া জেলার অন্তর্গত পোড়াগাছা গ্রামে। তাঁর পিতার নাম মতিলাল বিশ্বাস। নীল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দানকারী প্রধান নেতা দিগম্বর বিশ্বাস তার পূর্বপুরুষ। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাঠ শেষ করে স্বর্গীয় শ্রী রূপলাল খাঁ -এর তত্ত্বাবধানে আবাসিক ছাত্র হিসাবে বসন্ত বিশ্বাস মুড়াগাছা সর্বার্থ সাধক বিদ্যালয়ে (মুড়াগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়) ভর্তি হয়েছিলেন। প্রধানশিক্ষক মহাশয় শ্রী ক্ষীরোদ গঙ্গোপাধ্যায় বসন্তকে খুবই স্নেহ করতেন। ছোট থেকেই বসন্ত ছিলেন বিপ্লবী মনোভাবাপন্ন। ছাত্রাবস্থায় তাঁর শিক্ষক ছিলেন ক্ষীরোদচন্দ্র গাঙ্গুলি, মূলত তার প্রভাবেই বসন্ত বিপ্লবী রাজনীতিতে আকৃষ্ট হন। এরপর যুগান্তর গোষ্ঠীর কর্মী অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এর সাথে বসন্তর পরিচয় হয়| তিনি বসন্ত বিশ্বাসকে বোমা বানানো আর বোমা ছোড়া শেখান। ১৯১১ সালের শেষ দিকে রাসবিহারী বসুর সাথে 'বিশে দাস' ছদ্মনাম নিয়ে তিনি উত্তর ভারত চলে যান | পরে দেরাদুনের ‘টেগোর ভিলা’র বাগানে রাসবিহারী নিজে বসন্তকে আরও পারদর্শী করে তুলেছিলেন।বসন্তের সাহসিকতা, নিষ্ঠা, উদ্যম আর বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ হয়ে বসন্ত বিশ্বাসকে রাসবিহারী বসু পাঁচ-সদস্যের গুপ্তচক্রের অন্যতম সদস্য মনোনীত করেন।

দেশের জন্য তাঁর এই ত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তিনটি আবক্ষ মূর্তি এবং ফলক স্থাপন করা হয়েছে।
১) একটি নদীয়ার মুড়াগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর মাঠে যা উদ্বোধন করেন বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।;
২) দ্বিতীয়টি কৃষ্ণনগরে রবীন্দ্র ভবনের পাশে এবং
৩) তৃতীয়টি টোকিও-র মাদাম তেতসু-কোং-হিওচি-এর বাগানে যেটি বিপ্লবী রাসবিহারী বসু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
এই ফলকটি রাসবিহারী বসু তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মাণ করিয়েছিলেন।
এছাড়া মুড়াগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর ছাত্রাবাসের নামকরন করা হয়েছে ‘বসন্ত ছাত্রাবাস’।
চলচ্চিত্র বহ্নি বালক বসন্ত - https://www.youtube.com/watch?v=eU7tRgc3VFA
https://www.facebook.com/muragachhahighschool
……………………………..
তথ্য সংগৃহীত - প্রতাপ সাহা (https://www.facebook.com/pratapcsaha)। ধন্যবাদ।.........

Address

Muragachha, Nadia
Muragachha
741154

Opening Hours

Monday 10am - 4:30pm
Tuesday 10am - 4:30pm
Wednesday 10am - 4:30pm
Thursday 10am - 4:30pm
Friday 10am - 4:30pm
Saturday 10am - 1:30pm

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Muragachha High (H.S.) School posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category