20/06/2026
ভালো স্কুল বলতে আমরা আসলে কী বুঝি?
শুধু বেশি বেশি পরীক্ষা?
প্রতিদিন নতুন নতুন প্রজেক্ট?
কঠোর শৃঙ্খলা?
নাকি এমন একটা পরিবেশ, যেখানে একটা বাচ্চা নিজের স্বাভাবিক গতিতে বড় হতে পারে?
আজকাল আমরা অনেক সময় স্কুল বেছে নিই নাম দেখে, রেজাল্ট দেখে, বাইরে থেকে দেখে। কিন্তু একটা প্রশ্ন কি করি—সেই স্কুলে বাচ্চাটা সত্যিই ভালো আছে তো?
প্রতিদিন পরীক্ষা, প্রজেক্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রতিযোগিতা—এসবের মধ্যে আমরা কি ভুলে যাচ্ছি যে একটা বাচ্চা মানুষ, কোনো মেশিন নয়?
প্রজেক্টের উদ্দেশ্য শেখা, আনন্দ পাওয়া, নতুন কিছু আবিষ্কার করা। কিন্তু যদি প্রজেক্ট বাবা-মায়ের কাজ হয়ে যায়, যদি সেটা শুধু নম্বর পাওয়ার মাধ্যম হয়, তাহলে সেই শিক্ষার মূল্য কোথায়?
আবার অনেক জায়গায় ছাত্রছাত্রীদের “উচ্চমেধা”, “মধ্যম মেধা”, “নিম্নমেধা” বলে ভাগ করা হয়। কিন্তু একটা বাচ্চাকে খুব ছোটবেলায় একটা লেবেল দিয়ে দিলে সে নিজের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে পারে।
সব বাচ্চা একরকম নয়।
কেউ দ্রুত শেখে, কেউ ধীরে।
কেউ অঙ্কে ভালো, কেউ গানে।
কেউ খেলাধুলায়, কেউ ছবি আঁকায়।
একটা মাছকে যদি গাছে ওঠার পরীক্ষায় বিচার করা হয়, তাহলে সে সারাজীবন নিজেকে অযোগ্য ভাববে।
আরেকটা বিষয়—যাতায়াত।
ভালো স্কুলের জন্য যদি একটা বাচ্চা প্রতিদিন ২–৩ ঘণ্টা রাস্তায় কাটায়, তাহলে তার খেলার সময়, পরিবারের সময়, নিজের সময়—সব কমে যায়।
মানসিক বিকাশ শুধু বই পড়ে হয় না।
হয় খেলাধুলায়, গানে, ছবিতে, গল্পে, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে।
আমরা সন্তানকে শুধু সফল নয়, সুন্দর মানুষ হিসেবে বড় হতে দেখতে চাই।
স্কুল কোনো কারখানা নয়, যেখানে ঢুকলেই টপার বেরিয়ে আসবে।
স্কুল এমন একটা জায়গা হওয়া উচিত, যেখানে প্রতিটা বাচ্চা নিজের সেরা সংস্করণ হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।
ভালো স্কুল সেই নয় যেখানে সবাই দৌড়ায়।
ভালো স্কুল সেই, যেখানে সবাই নিজের গতিতে এগোতে পারে।