12/01/2022
চলে গেলেন ভোগপুর কেনারাম মেমোরিয়াল হাইস্কুলের প্রাক্তন সহকারি প্রধান শিক্ষক মাননীয় রাজীব লোচন মিশ্র মহাশয়:-
আজ দুপুর দুটো 30 মিনিটে কলকাতায় নিজের ছেলের বাড়িতে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে 79 বছর বয়সে পরলোক গমন করলেন ভোগপুর এলাকার সকলের সম্মানীয় শিক্ষক মাননীয় রাজীব বাবু। মৃত্যুকালে উনি রেখে গেলেন স্ত্রী, দুই পুত্র, কন্যা ও নাতি-নাতনিসহ ওনার অগুন্তি গুনমুগ্ধ ও স্নেহধন্য কে। আজ তার স্মৃতি চারনা করতে বসে বহু কথাই মনে পড়ে যাচ্ছে। উনার হাতেই আমার এই বিদ্যালয়ে জয়নিং হয়েছিল। কারণ সেদিন অনাদি বাবু ছিলেন না। উনি রাজীব বাবুকে বলে গিয়েছিলেন। ওনার সাথে কাজ করার অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত বছরের-পর-বছর রুটিনে আমাকে ফাইভ এ সেকশনের অংক ক্লাস দেওয়া, রুটিনে আমার প্রথম পিরিয়ড ফাঁকা থাকলে প্রভিশনাল শেষ করেই নিজের রুম থেকে ও সোমনাথ কতটা হলো বলার পর পাশে এসে বসে আনন্দবাজারের শব্দছক নিমেষের মধ্যে শেষ করে ফেলার যে একটা নেশা জন্মে দিয়েছিলেন উনার অবসরের পর সেটা স্টাফ রুম থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল ❤ উনি ছিলেন বাংলা,ইংরেজি ও সংস্কৃত সাহিত্যের এক বিদগ্ধ পন্ডিত ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে চাকরি পেয়েছিলেন কিন্তু সে চাকরি ছেড়ে উনি ভোগপুরে তাঁর কর্ম জীবন অতিবাহিত করেন। সৈকত বাবুর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ম্যাডামের বাবা যখন মারা যান তখন উনি ভোগপুর থেকে শর্মিষ্ঠার বাবার কাজে গিয়েছিলেন। আমাকে , শম্ভু বাবু, শর্মিষ্ঠা, প্রদীপ ও চঞ্চল কে নিজের ছেলের বয়সী হওয়ায় স্যার প্রচন্ড স্নেহ করতেন। সরস্বতী পূজার প্রীতি ভোজের ভাঁড়ার এর দায়িত্ব কর্ম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সামলেছেন, যা বর্তমানে শম্ভু বাবু সামলান। মানুষকে প্রচুর সম্মান দিতেন এবং উপকারীর উপকার স্বীকার করতে কোনদিনও কোনো শঙ্কা বোধ করেননি। আমার কর্মজীবনের শেষ দিনে স্যারের সাথে দেখা করার খুব ইচ্ছে ছিল কাউকে কাউকে কথাটা বোধহয় বলেওছিলাম, কিন্তু বন্যার জন্য স্যারের সাথে দেখা করতে পারিনি। এই আক্ষেপটা সারা জীবনের মতো রয়ে গেল। একটা অধ্যায়ের শেষ হলো। স্যারের পরিবারবর্গের প্রতি রইল সমবেদনা। স্যারের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।
স্যার আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾
চিত্র সৌজন্য :- সৈকত দাস ঠাকুর