22/02/2026
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার, আমাদের মেয়েদের উচ্চ মাধ্যমিকের ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা ছিলো পার্শ্ববর্তী মুড়াগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ে। আমাদের মেয়েদের অভিযোগ ছিলো যে, পরীক্ষা কেন্দ্রে, ১৮ নম্বর ঘরে দু জন সহ শিক্ষক তাদের সাথে চূড়ান্ত অভব্য আচরণ করেছেন। তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পরীক্ষা চলাকালীন ওড়না খুলে নেওয়া, গায়ে হাত তোলা, পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে রান্না শিখে বিয়ে করে নেওয়ার কথা বলা, পুরুষ শিক্ষকের সামনে সোয়েটার খুলতে বাধ্য করা ইত্যাদি। আমাদের স্কুলের শিক্ষিকাবৃন্দ ছাত্রীদের পড়াশুনো না করিয়ে তাদের চুরি করতে শিখিয়েছেন বলেও অভিযোগ। এমনকি তাদের বাবা মা তুলেও কথা শোনানো হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা শ্রীমতি পারমিতা পুরকাইত মহাশয়া মুড়াগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাষয়কে একাধিক বার অনুরোধ করেন আগামীতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। কিন্তু তথাপি ১৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা বিজ্ঞান পরীক্ষার দিন আবারও মেয়েদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অসহায় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে অভিযোগকারীদের নিয়ে স্কুলের তরফ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয় যে, আগামীতে মেয়েরা সুস্থ পরিবেশে যাতে পরীক্ষা দিতে পারে সে বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে বলি তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত মেয়েরা সুস্থ পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারছে এবং তার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। এবারে আসি এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য ঠিক কী সেই প্রসঙ্গে। পরীক্ষা কক্ষে অসদুপায় অবলম্বন করা বা টোকা পৃথিবীর কোনও শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষই সমর্থন করবেন না আমারও করি না। কিন্তু আমাদের বক্তব্য পরীক্ষা কক্ষে একজন 'ইনভিজিলেটর' এঁর কাজ ঠিক কী? যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই আমাদের কোনও পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করছিল তাহলে তিনি সেই পরিক্ষার্থীর কাছ থেকে এক্সটা কপিটা নিয়ে নেবেন, যদি মনে হয় অনেকটা লিখে ফেলেছে তাহলে উত্তরটা কেটে দেবেন। অপরাধের মাত্রা যদি আরও বেশি বলে মনে হয় তিনি উওর পত্র নিয়ে রেখে দিতে পারেন কিছু সময়ের জন্য। কিন্তু একজন মহিলা পরীক্ষার্থীকে ওড়না খুলতে বা পুরুষ শিক্ষকের সামনে সোয়েটার খুলতে বাধ্য করা যায় কী? একজন পরীক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলা যায়? তাদের বাবা মা তুলে কথা বলা যায়? আমাদের স্কুলের শিক্ষিকাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা তাঁদের চুরি করতে শেখানোর কথা বলা যায়? একটি মেয়েকে রান্না শিখে বিয়ে করে নেওয়ার উপদেশ দেওয়া যায় কী? না বোধহয়! তাই আমাদের একমাত্র অনুরোধ এবং দাবীও বটে মুড়াগাছা হাই স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে, আপনারা অবিলম্বে ইংরেজি পরীক্ষার দিন ১৮ নম্বর ঘরের পরীক্ষা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ বেলা ১২ টা থেকে দুপুর ২:১৫ পর্যন্ত এই সময়ের সি.সি. টি.ভি. ফুটেজ প্রকাশ করুন। কারণ এ লজ্জা আমাদের সমগ্র স্কুলের লজ্জা। আমাদের ধর্মদা সুশীলাবালা হিন্দু গার্লস হাই স্কুলের একটা ঐতিহ্য আছে। মনে রাখতে হবে প্রাক স্বাধীনতার যুগে শুধুমাত্র মেয়েদের শিক্ষার জন্য আস্ত একটি স্কুল যে গ্রামে স্থাপন হতে পারে সেই গ্রাম তথা এলাকাবাসীর ঠিক কতখানি আবেগ জড়িয়ে আছে এই স্কুলের সাথে। পাশাপাশি মুড়াগাছা হাই স্কুলও শতাব্দী প্রাচীন একটি স্কুল। সুদীর্ঘ ইতিহাস সমৃদ্ধ একটি স্কুল। আজ আমাদেরও ভালো লাগে না এহেন একটি স্কুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনতে। তাই আমাদের একটাই অনুরোধ মুড়াগাছা হাই স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে সি.সি. টি.ভি. ফুটেজ প্রকাশ করুন। কারণ প্রকৃত সত্যিটা আমরা জানতে চাই সবাই। কথা দিচ্ছি যদি আমাদের মেয়েদের অভিযোগ মিথ্যে হয় তাহলে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।
আর পরিশেষে আমাদের ধর্মদা সুশীলাবালা হিন্দু গার্লস হাই স্কুলের সকল প্রাক্তন ছাত্রীদের কাছে আমাদের অনুরোধ দয়া করে এই পোস্টটি শেয়ার করে আমাদের এই দাবী আরও বেশি করে সমাজের সামনে তুলে ধরুন। কারণ যে মেয়েদের সম্মানে আঘাত করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ তারা প্রত্যেকেই আপনাদের বোন বা সন্তান সম।।🙏🙏