27/02/2026
ডিভাইন ফেলোশিপ ব্লাইন্ড স্কুল: ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় দৃষ্টিহীন ছাত্রছাত্রীদের দীর্ঘ সংগ্রাম
ডিভাইন ফেলোশিপ ব্লাইন্ড স্কুল, রামচন্দ্রপুর, কবরডাঙ্গা, কলকাতা–৭০০১০৪—এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিহীন ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুতর বিঘ্ন ঘটে। উক্ত দিনে স্কুলের ডিরেক্টর ও প্রিন্সিপাল পস্কো আইনে গ্রেফতার হন। এই ঘটনার পর আইনগতভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অধীন চলে যায়।
এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে, অভিযোগ অনুযায়ী, ডিরেক্টরের ছেলে জয়ন্ত দত্ত এবং ডিরেক্টরের স্ত্রী বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ—যেমন আসবাবপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী—বিক্রি করে দেন। আরও অভিযোগ রয়েছে যে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিদ্যালয়টি “ইন্ডিয়ান পাবলিক স্কুল”-এর নিকট হস্তান্তর করা হয়, যা আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
এই অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং বিদ্যালয়ের ন্যায্য অধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে, ডিভাইন ফেলোশিপ ব্লাইন্ড স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ২০২৫ সালের ১৮ই ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের বিপরীত দিকে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, হরিদেবপুর থানার পক্ষ থেকে এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোনো প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হয়নি।
পরবর্তীতে, ২০২৬ সালের ৪ঠা জানুয়ারি, মহান দৃষ্টিহীন শিক্ষাবিদ লুই ব্রেলের জন্মদিন উপলক্ষে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আয়োজন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রেও হরিদেবপুর থানার পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। ফলে, ছাত্রছাত্রীরা বাধ্য হয়ে লালবাজারের অনুমতি নিয়ে হরিদেবপুর থানার সামনে থেকে ডিভাইন ফেলোশিপ ব্লাইন্ড স্কুল পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল করেন এবং নিজেদের ন্যায্য অধিকারের দাবি তুলে ধরেন।
বিদ্যালয়টি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালে আলিপুর আদালতে একটি ইনজাংশন মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৬ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি মাননীয় বিচারক ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং বিদ্যালয়ের সুরক্ষা ও অধিকার সংরক্ষণের জন্য ইনজাংশন জারি করেন।
কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আদালতের এই স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, “ইন্ডিয়ান পাবলিক স্কুল” কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্ত পক্ষ বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ভাঙচুর, নির্মাণকাজ এবং নতুন ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সমস্ত কার্যকলাপ হরিদেবপুর থানার নিকটবর্তী এলাকায় এবং পুলিশের জ্ঞাতসারেই সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে, ডিভাইন ফেলোশিপ ব্লাইন্ড স্কুলের দৃষ্টিহীন ছাত্রছাত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের একমাত্র দাবি—তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আইন অনুযায়ী পুনরুদ্ধার করা হোক এবং আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর করা হোক।
অতএব, আমরা সমাজের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক, মানবাধিকার সংগঠন, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আন্তরিকভাবে আবেদন জানাচ্ছি, যাতে এই বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এবং দৃষ্টিহীন ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা হয়।